এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • আমি সম্পূর্ণ আমার চয়েজ হতে পারি না

    Anuradha Kunda লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ | ৪৫৭ বার পঠিত
  • এই "আমির" কনস্ট্রাক্ট কি? প্রত্যেক "আমি" তো অনেকটা এই সমাজের কনস্ট্রাক্ট, সমস্ত ইনডিভিজুয়িলিটি সত্ত্বেও। তাই আমরা জামাকাপড় পরি, কিছু সামাজিকতা পালন করি, ভালো হোক মন্দ হোক, সমাজের কিছু নিয়ম কানুন থাকে। "আমার" "আমার" করে হেঁদিয়ে যাওয়া মানুষ কি ভাবে যে যা কিছু "আমার" বলি সেটার অনেকটাই সামাজিক? এক হয় আমরা সমাজকে মেনে চলি, না হলে শকিং কিছু করে সমাজকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করি। মাই বডি মাই চয়েজ তো বুঝলাম, তবে মাই বডি ডক্টর্স চয়েজও বটে, সিস্টেমের চয়েজও বটে। আলিয়া ভাট বা দীপিকা পাডুকোণে যেমন পোশাক পরেন তেমন পোশাক পরে গড়িয়াহাটার রাস্তায় চলাফেরা করলে কি খুব সুবিধে হবে? একবার রেড রোডের ক্রসিং এ এক নারীকে দেখেছিলাম। হল্টার নেক গাউন। কোমর থেকে কাটা। হাওয়ায় উড়ছে। উবের ড্রাইভার একদৃষ্টে তাকিয়ে একটা অশ্লীল মন্তব্য করলেন। তাঁকে কিছু বলার এক্তিয়ার আমার নেই বা ইচ্ছেও হল না। আমার উপর নাই ভুবনের ভার। তবে লালসাপূর্ণ দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বা সিম্পলি "কাজ হাসিল" করার জন্য পোশাকের ব্যবহার নারী পুরুষ দুইয়ের ক্ষেত্রেই বিরক্তি উদ্রেক করে। এটা ব্যক্তিগত অভিমত।
    উনি দেখলাম যৌনকর্মীদের শ্রদ্ধা জানিয়েই কথাটি বলেছেন। বলেছেন পেশার তাগিদে তারা শরীর উন্মুক্ত করে পুরুষকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। সেটা উনি অশ্রদ্ধা করেন নি।  গ্রামের মেয়েদের কথাও এনেছেন সশ্রদ্ধভাবে। কাজেই ওঁর আদুল গায়ে ফিল্ম সম্পর্কে মন্তব্য করা চলে না। নাচের কস্ট্যুম পরে ওঁর পূর্বপুরুষ পূর্বনারীদের ছবি দেওয়াও অপ্রাসঙ্গিক। নাচের কস্ট্যুম পরে কেউ রাস্তায় হাঁটেন না।

    কোনটা শালীন আর কোনটা অশালীন সবাই জানেন। সিডিউস করার জন্য শাড়ি পরা আর স্বাভাবিক শাড়ি পরার মধ্যে পার্থক্যও সকলের জানা।
    খাজুরাহের ভাস্কর্য্য খাজুরাহোতেই মানায়। সেই নগ্নতা কি শহরের রাস্তায় কাম্য? কিংবা সেকেলে মেয়েদের শাড়ি পরা? তাহলে আর ইভোলিউশন হল কোথায়?
    নারীর নিজস্ব যৌনাকাঙ্খা থাকা আর নিজেকে যৌনআবেদনময়ী হিসেবে প্রকাশ করার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। একজন পুরুষ যদি নিতান্ত স্বল্প বাসে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করেন তবে তা নিতান্ত দৃষ্টিকটু লাগবে। অথচ একজন শ্রমিক নারী বা পুরুষের স্বল্প বাস আমাদের চোখে লাগে না। সেটা তাঁর অর্থাভাব এবং পেশার সঙ্গে জড়িত।

    কিন্তু একজন চিত্রতারকা বা ফ্যাশনমডেল যেভাবে নিজেকে যৌন আবেদনে প্রতিষ্ঠিত করেন, সাধারণ জনজীবনে কি তা গ্রহণযোগ্য হয়? কোনও পুরুষ সলমান খানের মতো শরীর দেখিয়ে বাজারে গেলে আমাদের বোধকরি ঘোর বিরক্তি লাগবে। দুর্যোধন দ্রৌপদীকে উরু দেখিয়েছিলেন বলে নিন্দাযোগ্যই তো বটে। শারীরিক সম্পদ থাকলেই দেখাতে হবে তো বিকিনি পরো। অন্যথা মনোহর আইচের মতো শরীর থাকলেও তা ঢেকে রাখাই কাম্য। প্রদর্শনের মন্চ ছাড়া।

    কোনটা শালীন আর কোনটা অশালীন, সেই জ্ঞানটুকুই যদি না থাকে, তবে বৃথা নিজেদের সভ্য বলে দাবী করা। আর স্থান, কাল, পাত্র বুঝে পোষাক পরাটা বুদ্ধির পরিচয়।

    রাস্তায় বেরিয়ে যখন দেখি পরিচিত বা অপরিচিত মুখ দেওয়ালের দিকে মুখ করে মূত্রত্যাগ করছেন, তাকে অশ্লীলতা বলে মনে করি।

    ভিড়ের রাস্তায় বা নির্জন রাস্তায় আচমকা কোনো মহিলার অঙ্গস্পর্শ করাকে অশ্লীলতা মনে করি। কোনো মহিলাও যদি কোনো পুরুষকে অযাচিতভাবে স্পর্শ করেন তাও অশ্লীল মনে করি।

    শাড়ি পরে যখন মহিলারা অর্ধেক বক্ষ এবং বৃহৎ উদরাংশ প্রকাশ করেন, সেটিও অশ্লীল বলেই বোধ করি।

    লং ডিসট্যান্স ট্রেনে যখন অপরিচিত পুরুষরা যখন সর্বসমক্ষে জামাকাপড় পাল্টান এবং মেয়েরা ট্র্যান্সপেরেন্ট রাতপোশাক পরে অপরিচিত যাত্রীদের সামনে চলাফেরা করেন তাও অশ্লীল মানি।

    যে কোনো দেওয়াল গাত্রে নারীদেহকে অবজেক্টিফাই করে যে বীভৎস রস প্রকাশ পায় তাকে অশ্লীল মনে করি। ইন ফ্যাক্ট "নারীদেহ" শব্দটার কনোটেশনটাই অশ্লীল।
    বায়োলজিক্যালি তাকে দেখার অভ্যেস হয়নি জনমনে।
    "পুরুষদেহ" শব্দটি ব্যবহার কম হয় বা হয় না। কারণ অনিবার্য।

    সাবালক পুত্র কন্যাকে যথোচিত শিক্ষা না দিয়ে তার সোশ্যাল সাইট মনিটরিং করাও অশ্লীল মনে করি।

    যে কোনো মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে অযাচিতভাবে নাক গলানো চূড়ান্ত অশ্লীল মনে করি।

    ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সম্মান না করা অশ্লীল মনে করি।

    ঘোমটার নিচে খ্যামটা নাচ সর্বাধিক অশ্লীল মনে করি।
    ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা অশ্লীল মনে করি।

    পাশের বাড়ির কলিং বেল বাজতে উঁকি মেরে দেখা কে এলো, অশ্লীল বোধ হয়।

    টেক্সট, সাহিত্য, সস্কৃতি, সর্বত্র মেয়েদের প্রতি যে সেক্সিস্ট আচরণ দেখি, ভয়ানক অশ্লীল মনে করি।
    মেয়েরা যখন সেই সেক্সিস্ট কথাবার্তা হেলেদুলে হজম করে সতীসাধ্বী সেজে হে হে করে, সেটাও অশ্লীল বোধ করি।

    পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার জন্য যেকোনো বিকল্প পন্থাকে অশ্লীল মনে করি। চাকরির ক্ষেত্রে, পুরস্কারের ক্ষেত্রেও তাই।
    তৈলায়নশিল্পের প্রতিদানে অতি পক্ষপাতদুষ্ট স্নেহ ময় হাত মাথায় রাখা অশ্লীল। সহ্য করা ততোধিক অশ্লীল।

    চারদিকে এতকিছু অশ্লীল ঘটে চলতে দেখি যে বোধটাই গুলিয়ে যাবে এরপর।

    খাজুরাহো, অজন্তা ইত্যাদি বাদ দিলাম। আর্ট কলেজের মডেলদের সম্মান করি। আর্ট কলেজের ছাত্ররা তাঁদের শিক্ষক মানেন।
    অশ্লীলতা হল অ্যাটিটিউড।
    ভেনাস বা ডেভিডের মূর্তি অশ্লীল নয়।
    তাদের পায়ে জুতো পরালে ব্যাপারটা অশ্লীল।
    সারাক্ষণ যে রিল নাচানাচি করে চোখের সামনে, তাতে যেভাবে শাড়ি পরে মেয়েরা নাচেন তাকে বিকৃতি বলে।
    ছোটবেলা থেকে অরণ্যদেব আর ম্যানড্রেক পড়া, ছবি দেখা চোখ। সাঁতার কাটতে গেলে সাঁতারের পোশাক, ট্রেকিং এ ট্রেকিংএর পোশাক অশ্লীল মনে করি না। বিকিনি বিকিনির মতো করে পরো, ফ্রক ফ্রকের মতো।

    সপরিবারে যে ছবি দেখেন, তাতে কোট পরিহিত নায়ক আর শিফন আর সরু ব্লাউজ পরিহিত নায়িকা। সেই কাল্ট আমরা পুষি। জনহিতার্থে।
    কাজের সময়ের বাইরে ব্যক্তিজীবনকে সম্মান করার শ্লীলতা একপ্রকার শিক্ষা। সমস্ত কাজ ও পেশাকে সমভাবে দেখার চোখ তৈরিও শিক্ষা।
    জীবনেও কাউকে মায়ের "মতো", বাবার "মতো" ভাবি নি। তাইজন্য শ্রদ্ধা ভক্তি কম করিনা তাঁদের।বাবার পাশে, মায়ের পাশে ঘুমাতে পারি, বাবা মায়ের গায়ে ঠ্যাং চাপিয়েও ঘুমাতে পারি। "মতো" দের সঙ্গে সেটা সম্ভব নয়। কাজেই "মতো" "মতো" করাও অশ্লীল মনে করি।
    প্রতিবাদীর হাল হয়েছে, "সব ব্যাটাকে ছেড়ে বেঁড়ে ব্যাটাকে ধর।"
    আচ্ছা জয় গোস্বামী যখন লিখেছিলেন
    "এই তো লক্ষ্মীশ্রী মুছে গেছে
    এইবার জেল্লা মারমার"
    এবং একটি স্লিভলেস ব্লাউজ পরিহিতার গৃহশ্রী মুছে যাওয়া নিয়েই এই কবিতা, খাপ বসেছিল? সত্যজিতের ছবির নারী যখন বলেন হবু জামাই ভাল চাকরি করে বলে মেয়ে বিয়ের পর স্কুলের কাজ ছেড়ে দেবে, (গণশত্রু) খাপ বসেছিল? ঋতুপর্ণর ছবির নায়িকা যখন স্বামীর বহুগামিতা মেনে নেন, (দোসর) খাপ বসে?

    শিক্ষা= লবডঙ্কা।

    পুনশ্চ: এই পোস্টের প্রেক্ষিতে "আমাদের মা ঠাকুমা তো শাড়ি পরেই সাঁতার কেটেছেন, পাহাড়ে চড়েছেন" বলবেন না। তাঁরা লন্ঠনের আলোতে, হাতপাখাতে ও বিনা স্যানিটারি ন্যাপকিনেও জীবন কাটিয়েছেন।

    উনি নিজেও একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন যেখানে এক প্রবল ধনী প্রতাপশালিনী মহিলা গায়ে আঁচল টেনে বেশ্যাবৃত্তি করেন (শাজাহান রিজেন্সি), অভাব মেটাতে নয়। শখ মেটাতে।
    শাঁখা পলা নিয়ে ওঁর উক্তি অত্যন্ত অবজেকশেনেবল, অযৌক্তিক এবং সবচেয়ে বড়ো কথা বৈষম্যসৃষ্টিকারী।

    তবে শাড়ি নিয়ে যা বলেছেন, তা অনেকাংশে সত্য। খামোখা শরীর প্রদর্শনের প্রবণতা নারী স্বাধীনতার বারোটাই বাজায়। সন্দেশখালির মেয়েদের শাঁখা, পলা, ঘোমটা সব আছে। সম্মানহানির অসুবিধে হয়নি তাতে। ইচ্ছাকৃতভাবে শরীর প্রদর্শন করে শাড়ি পরে পুরুষের দৃষ্টিকে তৃপ্ত করাই যদি স্বাধীনতা বা ইকুয়ালিটি হতো তাহলে আর মগজের জায়গা ছিল কোথায়!

    শরীর সর্বস্ব উত্তর আধুনিকতা তো কাম্য ছিল না, মন আর মস্তিষ্কের প্রয়োজন তাতে কমে যায়।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ | ৪৫৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • একক  | 103.175.186.85 | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ১৮:৪৮530380
  • সোজা জিনিস সোজা ব্যাটেই ডিল করা ভালো। অভিনেত্রী বলেছেন বেবুশ্যেরা পেটের দায়ে যেমন (করে)পোশাক পরেন, সেই (রকম করে) পোশাক কেন অন্য মহিলারা পরবেন?? আমি যেটুকু বুঝেচি মূল বক্তব্য তাই। 
     
    এবার এখানে চয়েস নিয়ে প্যাচাল পাকানো যায়। আবার ওই একই ইস্কুলে দাঁড়িয়ে বলা যায় বেবুশ্যেদের এপ্রোপ্রিয়েট করা হচ্চে। অতএব ওই ইস্কুলের বাকবিতণ্ডার সমাধান কী তা ইস্কুলের হাতেই ছেড়ে দেব। দেখা যাক কী উত্তর আসে। 
     
    এর বাইরে কিন্তু আরেকটা প্যাচাল আছে। এই যে অন্য মহিলাদের দিকে আঙ্গুল তোলা হচ্ছে, তাঁরা আঘাট কুঘাটে আঁচল খসাচ্চেন বলে,  তার কারন কী? কিচু সুযোগ সুবিধে পাওয়ার জন্যেই কি? তাহলে এই পাওয়ার স্ট্রাকচার চালাচ্ছে কারা যেখানে কবিতা পাঠ থেকে কর্পোরেট কোথাও শরীর না দেখালে কাজ হয় না?? এই সিস্টেমের ভিকটিম তো মেয়েরাই। তাদের একটা অংশ সিস্টেমের কাছে নতিস্বীকার করছেন আর বাকি মেয়েরা সেটা পারছেন না বলে হতাশায় ভুগচেন। 
     
     
    ঠিক এরকম একটা ঘুণধরা পরিস্থিতীতে দঁড়িয়ে, ভিকটিমদেরকেই ব্লেম করার মানে কী? যদ্দিন বুকের খাঁজ দেখা দাদারা খাঁজ দেখে পুরস্কার দেবেন তদ্দিন কিছু মহিলা সেই পথ বাছবেন। আমি সেই দাদাদের দিকে আঙ্গুল তুলবো না কোনোদিন উল্টে তাদের এলাই হয়ে গম্ভীরমুখে কলা মূলো বাগাবো আর গাল দেবো রিসিভিং এন্ডে থাকা মেয়েদের ---- এইটা প্রচণ্ড প্রবলেম্যাটিক। এই জায়গা থেকেই অভিনেত্রীর বক্তব্য গোলমেলে লেগেছে। এখানে চয়েস কি চয়েস নয় এই তর্কটা এসে পড়ে মূল সমস্যাটা ঢেকে দিচ্ছে, যা সবাই জানে কিন্তু বলা বারণ কারণ এক্স্ট্রা ক্যারিকুলার যোগ্যতা কারো ক্ষেত্রে বংশের পেডিগ্রি - কারো শোয়ার ক্ষমতা সেই চোরাগোপ্তা জানলা দজ্জা গুলো তাহলে বন্ধ হয়ে যায়। 
     
    চয়েসের তর্ক চলতে থাকুক কিন্তু একবার কাঠে কাঠ হওয়া দরকার। কী কেতন চলছে আমরা সবাই জানি। 
  • kaktarua | 2607:fea8:4a9e:7fe0::80d1 | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ১৯:০৩530381
  • খালি দুটো প্রশ্ন। 
    "আর স্থান, কাল, পাত্র বুঝে পোষাক পরাটা বুদ্ধির পরিচয়।"- তাহলে সেটার যখন অভাব দেখা যাচ্ছে তখন সমালোচনাটা শুধু বুদ্ধি আর রুচিতেই কেন সীমাবদ্ধ থাকছে না? চরিত্র বেশ্যা এসব গল্প চলে আসছে ইটা জেনেও যে "slut" "shaming" আমাদের দেশের নারী পুরুষ নির্বিশেষে "favourite" টাইম পাস আর এর সীমারেখা এতই সুক্ষ্ম যে ওই রাস্তায় না হাঁটাই ভালো। এই ভাবনাটাই বেলুনের মতো ফুলতে ফুলতে একসময় "এই মেয়েদের রেপ-ও করে দেওয়া যায় তে পৌঁছে যায়।" অতএব "সাধু সাবধান"। 
     
    "তাঁকে কিছু বলার এক্তিয়ার আমার নেই বা ইচ্ছেও হল না। আমার উপর নাই ভুবনের ভার" - এই "attitude" টা মেয়েটার জন্য-ও খাটলো না কেন? তাহলেই তো ল্যাটা চুকে যায়। 
  • r | 2a0b:f4c2:1::1 | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ১৯:২২530382
  • পুরুষতন্ত্র যখন মেয়েদের বুক দেখানো উপভোগ করে, মমোদিদি তাতে ব্যাগড়া দিবেন কেনো?
  • r2h | 192.139.20.199 | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ২১:০৪530385
  • অশ্লীল ব্যাপারটা যে ঠিক কী সেটাই একটা গোলমেলে ব্যাপার। অমুক জিনিসটা আমার বিচ্ছিরি লাগে, এইটা একটা সাদা সিধে স্টেটমেন্ট।
    তার সঙ্গে পরিমানমত গাম্ভীর্য (কোন অশ্লীল সমাস স্মরণ করবেন না যেন), ঘৃনা, জাজমেন্ট, মোড়লপনা, ঔচিত্যবোধ ইত্যাদি মিশিয়ে শেকেন অ্যান্ড স্টার্ড করে দিলে অশ্লীলতা বিষয়ে একটা গোছানো বক্তব্য হয়।

    সুনীল গঙ্গো একবার সনন্দাতে একটা সাক্ষাতকারে বলেছিলেন প্রকাশ্যে দাঁত মাজা অশ্লীল। তিনি রসিক মানুষ ছিলেন, ব্যাপারটাকে সুন্দর ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন।

    এই লেখাতে যদি লিস্টি ধরি,
    "রাস্তায় বেরিয়ে যখন দেখি পরিচিত বা অপরিচিত মুখ দেওয়ালের দিকে মুখ করে মূত্রত্যাগ করছেন , তাকে অশ্লীলতা বলে মনে করি।

    ভিড়ের রাস্তায় বা নির্জন রাস্তায় আচমকা কোনো মহিলার অঙ্গস্পর্শ করাকে অশ্লীলতা মনে করি।কোনো মহিলাও যদি কোনো পুরুষকে অযাচিতভাবে স্পর্শ করেন তাও অশ্লীল মনে করি।

    শাড়ি পরে যখন মহিলারা অর্ধেক বক্ষ এবং বৃহৎ উদরাংশ প্রকাশ করেন, সেটিও অশ্লীল বলেই বোধ করি।
    লং ডিসট্যান্স ট্রেনে যখন অপরিচিত পুরুষরা যখন সর্বসমক্ষে জামাকাপড় পাল্টান এবং মেয়েরা ট্র্যান্সপেরেন্ট রাতপোশাক পরে অপরিচিত যাত্রীদের সামনে চলাফেরা করেন তাও অশ্লীল মানি।

    যে কোনো দেওয়াল গাত্রে নারীদেহকে অবজেক্টিফাই করে যে বীভৎস রস প্রকাশ পায় তাকে অশ্লীল মনে করি।ইন ফ্যাক্ট " নারীদেহ" শব্দটার কনোটেশনটাই অশ্লীল।
    বায়োলজিক্যালি তাকে দেখার অভ্যেস হয়নি জনমনে।
    " পুরুষদেহ" শব্দটি ব্যবহার কম হয় বা হয়না।কারণ অনিবার্য।

    সাবালক পুত্র কন্যাকে যথোচিত শিক্ষা না দিয়ে তার সোশ্যাল সাইট মনিটরিং করাও অশ্লীল মনে করি।

    যে কোনো মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে অযাচিতভাবে নাক গলানো চূড়ান্ত অশ্লীল মনে করি।

    ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সম্মান না করা অশ্লীল মনে করি।

    ঘোমটার নিচে খ্যামটা নাচ সর্বাধিক অশ্লীল মনে করি।
    ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা অশ্লীল মনে করি।

    পাশের বাড়ির কলিং বেল বাজতে উঁকি মেরে দেখা কে এলো, অশ্লীল বোধ হয়।
    "

    প্রথমটা পাবলিক ন্যুইসেন্স, দ্বিতীয়টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তার পরেরটা ব্যক্তিগত রুচি, অনেক সময় কুদৃশ্য। তবে কেউ যদি স্বচ্ছ রাতপোশাকে অপরিচিত লোকের সামনে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন তবে তাতে কীই বা বলার আছে। ইঙ্গিতপূর্ণ কথা ব্যাপারটার রেঞ্জ খুব বড়, সমূলে বিনাশ করতে চাইলে কবিদের বিষয়ে একুশে আইন প্রয়োগ করতে হবে। তবে ব্যাপারটা যেহেতু ঘোমটার নীচে খ্যামটা - এই লাইনের পর ব্রেক ছাড়া এসেছে সুতরাং ব্যাপারটার পরিসর সীমিত তা বোঝাই যাচ্ছে, স্বভাবদোষে অহেতুক ফুক্কুড়ি করলাম। সাবালক পুত্র কন্যাকে সঠিক শিক্ষা দিয়েও যদি তার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক মনিটর করা হয় তবেও সেটা অশ্লীল, নাকি নয়? আমাদের যেমন চোদ্দ গুষ্টির সবাই ফেসবুকে, সবাই সবাইকে অষ্টপ্রহর ফলো করছে, খুবই বিড়ম্বনার বিষয়। শেষের পয়েন্ট অহেতুক কৌতুহল। এর কোনটাই কাঙ্খিত আচরন না, কিছু তো রীতিমত বাটাম ডিজার্ভ করে।
    কিন্তু অশ্লীল কি হিসেবে? মানে, হতেই পারে, শ্লীল বলতে যদি আমরা রুচিসম্মত, শিষ্ট ইত্যাদি অর্থ ধরি, তাহলে একেবারেই তাই।
    তবে রুচি তো খুবই ব্যক্তিসাপেক্ষ। আবার কলকাতা শহরের রুচির সঙ্গে লবটুলিয়া বইহারের রুচি মিলবে না সেটাও একটা সমস্যা।

    যদিও লেখিকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এগুলিকে তিনি অশ্লীল মনে করেন, সুতরাং ব্যক্তিগত রুচিবোধের ব্যাপার, এই নিয়ে কোন প্রশ্ন চলে না।

    আমি এমনি, ওভারঅল, কুচ্ছিত আর অশ্লীলের মধ্যে তফাত বোঝার চেষ্টা করছি।

    কুচ্ছিত হলে সেই বিষয়ে কোন নিদান দেওয়া যায় না, বড়জোর হাসাহাসি করা যায়। আর অশ্লীল হলে তাকে ডেকে দুটি পরামর্শ দেওয়া যায়... এমন হতে পারে।

    অবশ্য আমরা যদি আম্বানিকে গিয়ে বলি ছেলের বিয়েতে বিত্তের এমন অশ্লীল প্রদর্শনী করা কি আপনার উচিত হলো, তিনি তাতে থোড়াই কেয়ার করবেন।
  • kk | 172.56.33.244 | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:০২530386
  • "আর অশ্লীল হলে তাকে ডেকে দুটি পরামর্শ দেওয়া যায়... এমন হতে পারে।"
     
    সত্যিই কি পারে? অশ্লীলতার ডেফিনিশন তো সবার কাছে আলাদা। ঐ যিনি ট্রেনে সবার সামনে পোশাক বদলাচ্ছেন তিনি নিশ্চয়ই ঘুনাক্ষরেও ওটাকে অশ্লীল কাজ মনে করেননা। এবার তাতে করে সহযাত্রীদের বিরক্তি উৎপাদন হচ্ছে, কিন্তু কারুর ক্ষতি কিছু হচ্ছেনা। তো এখানে পরামর্শ দিতে গেলে উনিও কি সেই নটেগাছটি মুড়োলো ছড়ার নটেগাছের মত "বেশ করেছি, তোর তাতে কী রে ব্যাটা" বলে উঠবেন না?
    ওই যেমন লিখেছো -- "শ্লীল বলতে যদি আমরা রুচিসম্মত, শিষ্ট ইত্যাদি অর্থ ধরি" সেটাই মনে হচ্ছে .
  • r2h | 192.139.20.199 | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:১৩530387
  • হ্যাঁ, মানে আমিও সেরকম মনে করি না, কিন্তু জনগন অশ্লীলতাকে ঢ্যাড়া দিয়ে মার্ক করতে চান - তার কারন, মোটিভেশন কী হতে পারে - সেসব ভাবতে গিয়ে মনে হলো আরকি; শুধু বিচ্ছিরি বললে একে তো লোকে বলবে সুন্দর জামা পরাতে চাইলে কিনে দিন, অথবা বলবে আপনি কে আমার জামা শেমিং করার, আর অশ্লীল বললে বেশ একটা আপার হ্যান্ড - এরকম কিছু কিনা!

    নাহলে আমার ওসবে কোন ইয়ে নেই। আমাদের স্কুলের এক স্যার নিজের প্যান্ট নিজে সেলাই করতেন, আমরা তো তাঁকেও কিছু বলতে যাইনি। তবে তেইশে জানুয়ারির মিছিলে কাদা মাখা নেতাজির স্ট্যচু সাজা ছাত্রকে পরানোর জন্য চট দিয়ে তৈরি নেতাজীর পোষাক কোন দর্জি বানাতে রাজি না হওয়ায় সেই স্যারের বাড়ি যাওয়া হয়েছিল আর্জি নিয়ে, তিনি মহা বিরক্ত হয়ে দূরদূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

    স্যরি স্যরি। মানে ঐ আরকি, আমি নিজে, পরামর্শ বা উপদেশ দেওয়ার দলে নেই।
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৮ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:১৪530388
  • এই অসাম্যময় মানুষদুনিয়ায় যেখানে একটি শ্রেণী ভোক্তা আর আর একটি শ্রেণী ভোগ্যা ---এরকমই করে রাখা হয়েছে বাণিজ্যার দোকানের সুবিধার্থে, সেখানে শ্লীল অশ্লীল শোভন অশোভন ইত্যাদি নিয়ে অনন্ত বিতর্ক চলতেই থাকে। উভয়দলই এক ফুটিং এ দাঁড়ালে সবই তখন----
  • যোষিতা | ০৯ এপ্রিল ২০২৪ ০১:২৮530391
  • উচ্চারণটা চয়েস না চয়েজ?
    উনি ইংরিজির অধ্যাপিকা, নিশ্চয় ঠিকই লিখবেন। কিন্তু আমি জানতাম চয়েস। ভুল জানতাম?
  • বিপ্লব রহমান | ১১ এপ্রিল ২০২৪ ১২:৪১530461
  • বাপ্রে! রীতিমতো অশ্লিলতার লিস্ট!  cool
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন