ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় ২৯ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৪ জুন ২০২২ | ৪১৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • একটি সমান্তরাল পৃথিবী

    তিন বছর বাদে  বার্লিন থেকে দেশে ফিরেছি,  আমার বড়ো চেনা  সেন্ট পিটারসবুরগে ।

    আমার দিদিমা নিয়মিত রাশিয়ান টেলিভিশন দেখেন । তিনি জানেন জেলিন্সকির নাৎসি ভাবাপন্ন সৈন্য নানান যুদ্ধ  অপরাধে লিপ্ত।  পথে ঘাটে ইউক্রেনিয়ানদের  মেরে রাশিয়ানদের ওপরে দোষ চাপায়।  দিদিমা জিজ্ঞেস করলেন এই বিশেষ রাশিয়ান অপারেশন নিয়ে জার্মানিতে বা দুনিয়ার অন্যত্র লোকে কি বলছে ?

    আমি দিদিমাকে বলবার চেষ্টা করলাম  এটা  কোন স্পেশাল অপারেশন নয়, একটা বীভৎস যুদ্ধ । এর ফলে সত্তর লক্ষ মানুষ গৃহহারা হয়েছে ।  খাবার জল বিজলি দুষ্প্রাপ্য । রাশিয়ান সৈন্য সমানে লুঠ এবং বলাৎকারে ব্যস্ত।  আমরা আমাদের বার্লিনের ফ্ল্যাটে চার জন ইউক্রেনিয়ানকে আশ্রয় দিয়েছি।  

    দিদিমা বাক্যহারা । একটু পরে বললেন , “ তুমি আর তোমার স্বামী নিজেদের ঘরে নাৎসিদের ঠাই দিয়েছ ? জানো নাৎসিরা কি ধরণের লোক ? তুমি দেখো নি , তখন জন্মাও নি । আমার বয়েস অল্প ছিল কিন্তু দেখেছি শুনেছি তারা বীভৎস প্রকৃতির লোক, দানব।

    আমি বলবার চেষ্টা করলাম – নাৎসি কারা দিদিমা ? এরা তোমার আমার মতন সাধারণ মানুষ । তাদের আজ কিছুই নেই তাই আমরা সাহায্য করছি, মানুষের যেমনটা  করা উচিত।

    দিদিমা চুপ করে রইলেন । আমার মনে হল কোন কথাই বিশ্বাস করেন নি


    পুশকিন কাফে - যেখানে তিনি বসতেন 
     
    পরের দিন সেন্ট পিটারসবুরগে বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে দেখা , আগের মতন পুশকিন কাফেতে গল্প গুজব ।  সেদিন বুঝলাম রাশিয়ান টি ভি ও প্রচার যন্ত্র কেবল  আমার দিদিমার মস্তিষ্ক শোধিত করে নি , নেভস্কি প্রসপেকতে  হেঁটে বেড়ানো , কফি হাউস গুলজার করা যুবক যুবতিরা কেউ মনে করে না ইউক্রেনে কোন অন্যায় যুদ্ধ হচ্ছে – তাদের সহজ সত্য হল ইউক্রেন রাশিয়া একই দেশ । কিছু নাৎসি ইউক্রেনের মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে , না  মানলে তাদের মেরে ফেলছে।  রাশিয়ান সৈন্য তাদের বাঁচাতে গেছে তাই এর নাম স্পেশাল অপারেশন। 
     

    নেভসকি  প্রসপেকত
     
    বার্লিনে আমার স্বামী সাশাকে  লিখলাম – সমান্তরাল পৃথিবীর ( পারালেল উনিভেরস ) কথা পড়েছিলাম । এবার চোখে দেখলাম ।

    আনাস্তাসিয়া

    কৃতজ্ঞতা স্বীকার

    জার্মান টেলিভিশন এন টে ফাউ (N-TV) -  বার্লিনে কর্মরতা এক রাশিয়ান মহিলার বিবৃতির সংক্ষিপ্ত বাঙলা অনুবাদ। ১২ জুন ২০২২


    অতীতকে ভুললে তার মাশুলটি  দিতে হয় 
     
    অটো ফন বিসমার্ক

    আলেকসান্দারইনকাটুর অফিসে বসে আছি হেলসিঙ্কির ম্যাপ নিয়ে। সিটি ব্যাঙ্কের সেবায় নরডিক দেশগুলিতে আমার আসা যাওয়া শুরু হয়েছে সবে।  আজকের মিটিং শেষ হলে চক্কর লাগাবো শহরে । গ্রীষ্ম কাল,  সূর্যদেব অস্তে যান না। ।

     হেলসিঙ্কি বিজনেস স্কুল থেকে সদ্য পাশ করা, সিটি ব্যাঙ্ক ফিনল্যান্ডের  তরুণ  সদস্য আন্তেরো রান্তা পাশে এসে দাঁড়ালো ।
     
    • দেখুন একটা কথা বলি।  হেলসিঙ্কির টুরিস্ট ম্যাপ হাতে নিয়ে ঘোরাঘুরি করবেন না । এ শহরে কিছু দেখার নেই । এককালে ছিল মেছুরের গ্রাম । বাড়িঘর কাঠের । সুইডিশরা বিদেয় নেবার পরে একদিন আগুন লেগে পুড়ে গেলে নতুন রাশিয়ান রাজা  এক জার্মান ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে সেন্ট পিটারসবুরগের স্টাইলে হেলসিঙ্কি শহরটা বানিয়েছে ( ফিনিশে হেলসিঙ্গিন , সুইডিশে হেলসিংফরস ) । তারাই প্রথম হেলসিঙ্কিকে রাজধানীর সম্মান দেয়  এই মাত্তর দুশো বছর আগে। 

    ফিনিশ ভদ্রতা নয়,  একেবারে সত্যি কথা।  খানিকটা জানা ছিল । আইসল্যান্ড সহ উত্তরের আর তিনটে দেশের স্থাপত্যের সঙ্গে হেলসিঙ্কি একেবারে মেলে না । একশো বছরের জারের  রাজত্বের শ্রেষ্ঠ প্রতীক সেনেট স্কোয়ারের উঁচু গিরজে আর ট্রেন লাইন যার গেজটি রাশিয়ান মাপ অনুযায়ী বাঁধা ।  যেখানে গিয়ে এই লাইন সমাপ্ত হয় সেই সেন্ট  পিটারসবুরগের   স্টেশনের নামই   ফিনলিয়ান্দস্কি ! পশ্চিম দিকে  ট্রেনে চড়ে সুইডেন যেতে হলে কেমি স্টেশনে ট্রেন বদলাতে হয় – সুইডিশ তথা বাকি ইউরোপিয়ান ট্রেনের  গেজ আলাদা ।  যখন টুরিস্ট ছিলাম  আর্কটিক সার্কেল পার হবার পরে এই পথেই  আমি সুইডেন যাই ।  আরেক মহামানব আমার অনেক আগেই এই যাত্রা উলটো দিক  থেকে সম্পন্ন করেছেন।  তাঁর কথা পরে।
     

    হেলসিংকি ক্যাথিড্রাল সেনেট স্কোয়ার
     
    এই নাতিদীর্ঘ ভূমিকাটি করে আন্তেরো প্রস্তাব দিলে চলুন আপনাকে পুরনো হেলসিঙ্কি দেখিয়ে আনি । সেটা অবশ্য রাশিয়ানদের নয় , আমাদের আগের প্রভু সুইডিশদের বানানো ।

    জনান্তিকে বলে রাখা ভালো অন্য তিনটি  স্ক্যানডিনেভিয়ান দেশের মধ্যে যে ভাই বেরাদর সুলভ ভাব ভালবাসা আছে , ফিনিশ এবং সুইডিশদের ভেতরে সেটি অনুপস্থিত । কয়েকশ বছরের সুইডিশ রাজত্বকালে ফিনল্যান্ড নামক কোন দেশ ভূগোলের পাতায় ছিল না  ফিনিশদের স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচিতি মাত্র একশ বছরের। রাশিয়ান জার দেশটাকে অন্তত নামের সম্মান দিয়েছিলেন ।

    সুযোগ পেলে সুইডেন বনাম ফিনল্যান্ডের আইস হকি খেলা দেখবেন। টেলিভিশনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে খেলাটিও কিছু কম উত্তেজনার সঞ্চার করে না অবিশ্যি।   ভারত পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচের আমেজ পাবেন ।

    এসপ্লানাদির বন্দর থেকে পনেরো মিনিটের ফেরিতে চড়ে যেখানে উপনীত হলাম সেটি গোটা সাতেক দ্বীপের সমষ্টি ,  নাম সুওমেনলিনা,  ফিনল্যান্ডের দুর্গ । সুইডিশ নাম স্বভেয়াবর্গ বা সুইডিশ দুর্গ ! দ্বীপগুলি  বেশির ভাগ ব্রিজ দিয়ে জোড়া। দুর্ভেদ্য প্রাচীর পরিবৃত কেল্লা আমরা অনেক দেখেছি। এখানে  বাইরের সেই দেওয়ালটা  নেই- শহরটা  একটা দুর্গ বিশেষ । চারিদিকে জল – সেটাই দেওয়াল !  এই দুর্গ শহরকে উত্তরের জিব্রালটার বলা হয়ে থাকে । ১৮ শতাব্দীতে  এটি বানানো হয় এক বিশেষ শত্রুর আক্রমণের হাত থেকে সুইডেন ও তার কলোনি গুলিকে বাঁচানোর প্রথম প্রতিরোধ বৃত্ত হিসেবে।


    সুওমেনলিনা ফিনল্যান্ডের দুর্গ । সুইডিশরা বলেন স্বভেয়াবর্গ। দুটো নামই চালু। 
     
    মাত্র দুশ কিলোমিটার দূরে  গালফ অফ ফিনল্যান্ডের অপর  পারে বসে এক  শত্রু অস্ত্র শানাচ্ছে। 
     
    তার নাম রাশিয়া।

    উত্তরের মহান যুদ্ধে  ( দি গ্রেট নর্দার্ন ওয়ার  ১৭০৭-১৭১৭ ) সুইডিশ শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ী পিটার দি গ্রেট নতুন শহর পত্তন করেছেন  – সেন্ট  পিটারসবুরগ ।  খানিকটা পিছু হটে গিয়ে  বাকি সম্পত্তিটুকু বাঁচানোর চেষ্টায় সুইডেন স্থাপনা করে এই দুর্গ শহর । ন্যাটোর জন্ম হতে অনেক দেরী । প্রতিরক্ষার কাজটা ডেলিগেট করে দেবার সুবিধে তখন ছিল না।  

    শেষ রক্ষে অবশ্য হয় নি ।  স্বভেয়াবর্গ প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছরের মধ্যে নাপোলেওঁর সঙ্গে সমঝোতা করে জার আলেকসান্দার গালফ অফ ফিনল্যান্ড উজিয়ে এসে সুওমেনলিনা আক্রমণ করলেন । তিন মাসের মধ্যেই স্বভেয়াবর্গ আত্মসমর্পণ করে , জার আলেকসান্দার ফিনল্যান্ডের রাজা হলেন । পশ্চিম উপকূলের অবো (ফিনিশে তুরকু ) থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল হেলসিঙ্কিতে।  উত্তর ইউরোপের নবীনতম এই রাজধানী শহরে অনেক খুঁজলেও একটা রোমান আর্চ,  গ্রিক কলাম নিদেনপক্ষে বাইজান্তাইন কারুশিল্প বা দুটো ভাঙ্গা ফুলদানি দেখতে পাবেন না । এ এক বিরল শহর যেখানে  পুরনো শহর এলাকা এমনকি কোন রাজবাড়ী অবধি নেই।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ান রাজ টলোমলো । তাকে শেষ ধাক্কাটি যিনি দেবেন সেই ভ্লাদিমির ইলিইচ উলিয়ানভ ওরফে লেনিন  সুইজারল্যান্ড থেকে রাশিয়া যাবেন । সেখানে তাঁর নামে গ্রেফতারি পরওয়ানা ঝুলছে। হাওয়াই জাহাজে  টিকিট কেটে যাওয়া যায় না । একমাত্র উপায় লুকিয়ে চুরিয়ে  রাশিয়া অধিকৃত ফিনল্যান্ডের মধ্যে দিয়ে সেন্ট পিটারসবুরগ পৌঁছানো । শোনা যায় জার্মান বদান্যতায় মতান্তরে চক্রান্তে (জারের শত্রু আমার মিত্র ) তসুরিখ থেকে রাশিয়া অধিকৃত ফিনল্যান্ডের ভেতর দিয়ে একটি সিলড রেলওয়ে কমপার্টমেনটে  চড়ে  কেমিতে ট্রেন বদল করে সেন্ট পিটারসবুরগের ফিনলিয়ান্দস্কি  স্টেশনে নামলেন । সেদিন ১৬ই এপ্রিল ১৯১৭

    পরের বছর তেসরা মার্চ ১৯১৮ ব্রেস্ত – লিতভস্কের চুক্তিতে বলশেভিক রাশিয়া রণাঙ্গন পরিত্যাগ করল। ফিনল্যান্ড নামক একটি স্বাধীন  দেশের আবির্ভাব হলো।

    একত্রিশ বছর বাদে মহামতি স্টালিন এই ঐতিহাসিক ত্রুটি সংশোধনের বাসনায় হিটলারের সঙ্গে অনাক্রমণ সন্ধিবলে ফিনল্যান্ড বিজয়ে সৈন্য সামন্ত পাঠালেন।   ফিনল্যান্ডের সৈন্যবল রাশিয়ার এক চতুর্থাংশ ।কিন্তু এক অসম যুদ্ধে শক্তিশালী লাল ফৌজ মোটামুটি বেধড়ক মার খেয়ে মস্কো মুখে প্রস্থান করে ।এটি ১৯৩৯ সালের শীত কালীন যুদ্ধ নামে পরিচিত। মস্কোর সন্ধিতে  অবশ্য ফিনল্যান্ড কারেলিয়া প্রদেশের দশ  শতাংশ  ছেড়ে দিতে বাধ্য হল। অস্ত্রবলে দরিদ্র ফিনল্যান্ড একটি নতুন জিনিস পৃথিবীকে উপহার দেয়  – কাচের বোতলে দাহ্য পদার্থ ভরে অগ্নি সংযোগ সহকারে সেটি শত্রুর পানে ছুঁড়ে দেওয়া এক অগ্নিময় শস্ত্র যার  নাম দেওয়া হয় মলোটভ ককটেল।  এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের বরেণ্য বিদেশ মন্ত্রী  ভিয়াচেস্লাভ মলোটভের নামে – যিনি জার্মান বিদেশ মন্ত্রী রিব্বেনত্রপের সঙ্গে রুশ জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষর করে হিটলারের যুদ্ধের পথটি পরিষ্কার করেন।  রিব্বেনত্রপ ফাঁসিতে ঝুললেন।  মলোটভ নব্বুই বছর বয়েসে আপন শয্যায় মরদেহ ত্যাগ করেন।

    আবার পালা বদল হল ১৯৪১ সালে- নাৎসি বাহিনির সঙ্গে মিলে ফিনল্যান্ড রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে হারানো এলাকা বিশেষ করে কারেলিয়া উদ্ধারের উদ্দেশ্যে।  এবার বিজয়ী লাল ফৌজ – কারেলিয়া ভিয়াপোরি (আজকের রাশিয়ান ভিবরগ যেখান থেকে নরডস্ট্রিম পাইপ লাইন শুরু হয় ) রয়ে গেল কাস্তে হাতুড়ির ছায়ায়।

    গত সপ্তাহে মহামতি পুতিন বলেছেন  মহান উত্তরের যুদ্ধে পিটার দি গ্রেট কারো জমি জায়গা অপহরণ করেন নি , যা ছিল রাশিয়ার সেটারই  দখল নিয়েছেন। পতাকার রঙ যাই হোক না কেন, সাম্রাজ্যবাদী জার থেকে  সর্বহারা নেতা স্টালিন অবধি  সকল রাশিয়ান শক্তি সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে লড়াই করেছে ।

    রাশিয়ান অর্থোডক্স গিরজের প্রধান মহান কিরিল এককালে কে জি বির পদাধিকারী ছিলেন । পুতিনের দাক্ষিণ্যে  করমুক্ত তামাক ও অ্যালকোহলের ব্যবসা করে তিনি এখন বিলিওনেয়ার এবং প্রকাশ্যে জানিয়েছেন মহামতি পুতিন ঈশ্বরের বরদান । দু দিন আগে কিরিল এক বিবৃতিতে জানান : রাশিয়া এক বিশাল দেশ, শক্তিশালী দেশ । কিন্তু রাশিয়া কখনো কোন দেশ অধিগ্রহণ করে নি ।

    পিটার দি গ্রেটের আধুনিক  অবতার পুতিন আজ রাশিয়ার আপন ভাগ বুঝে নেবার সঙ্কল্পে ব্রতি । ন্যাটোর সদস্যপদ গ্রহণ করে কোন দেশ যদি তাঁর এই শুভ বাসনায়  বাদ সাধে তাহলে মহামতি পুতিন নিতান্ত অপ্রসন্ন হবেন, গোলা গুলি ছুঁড়তেও  পিছ পা হবেন না । এই সার সত্য আপামর জনগণকে  তিনি জানিয়েছেন।

    হয়তো তাঁর বেখেয়ালে রাশিয়ার  পশ্চিম প্রান্তে তিনটি বালটিক দেশ ন্যাটো নামক কেলাবে ঢুকে পড়েছে। সেই ভ্রান্তির পুনরাবৃত্তি তিনি করতে চান না। ইউক্রেনকে শায়েস্তা করে   অন্যদের শেখাতে চান। 

    রাশিয়ান ভল্লুকের অবাঞ্ছিত আলিঙ্গনের আশংকায় এবং বিসমার্কের সাবধানবানী স্মরণ করেই হয়তো শঙ্কিত চিত্তে  দুই প্রধানমন্ত্রী , সুইডেনের মাগদালেনা আন্ডারসন ও ফিনল্যান্ডের সানা মারিন দীর্ঘদিনের লালিত নিরপেক্ষতা নীতি শিকেয় তুলে ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করলেন।

    এতো বড় রঙ্গ জাদু এতো বড়ো রঙ্গ 
     
    এবার কি উত্তরের পালা ?
    জুন ১৪, ২০২২

    পু: ইউক্রেন যুদ্ধের বা স্পেশাল অপারেশনের পনেরো সপ্তাহ পূর্ণ হলো । লুহান্সক দনেতস্ক ডনবাস মিলিয়ে ইউক্রেনের সোয়া লক্ষ বর্গ কিলো মিটার রাশিয়ার অধীনে । 

    নাৎসি  জার্মানি ১৯৪০ সালের মে মাসে লড়াই শুরু ক'রে ছ সপ্তাহের মধ্যে যে দেশগুলি দখল করে তাদের নাম – ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফ্রান্স, বেলজিয়াম , হল্যান্ড , লুকসেমবুরগ, চ্যানেল আইল্যান্ড  । এই দেশগুলির সম্মিলিত আয়তন ইউক্রেনের প্রায় দ্বিগুণ। তার  কয়েকমাস আগে পোল্যান্ড দখল করতে জার্মানির  পাঁচ সপ্তাহ লেগেছিল । সে দেশের আয়তন ইউক্রেনের অর্ধেক। 

     
  • আলোচনা | ১৪ জুন ২০২২ | ৪১৩ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নাইটো - একক
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kishore Ghosal | ১৫ জুন ২০২২ ২২:১৪509038
  • "বিশেষ রাশিয়ান অপারেশন"  বা "ধর্মযুদ্ধ"  - ভয়ংকর যুদ্ধকে এমনই সব নাম দিয়ে বিজিত বা শক্তিশালী জাতি এবং গোষ্ঠী নিজেদের স্বপক্ষে ঝোল টানে।   সভ্যতার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশব্দগুলিই পালটায় - মানসিকতার কোন বদল হয় না। 
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ জুন ২০২২ ২২:২৯509040
  • কিশোর 
    যথার্থ , একেবারে সঠিক !  দৃষ্টান্ত ভুরি ভুরি।  
     
    " এতো বড়ো রঙ্গ জাদু এতো বড়ো রঙ্গ /চার রঙ্গ দেখাতে পারো যাবো তোমার সঙ্গ "। 
  • Ranjan Roy | ১৬ জুন ২০২২ ১৪:০২509061
  • Helsinki তে  দেখেছি  সমস্ত সাইন বোর্ডে,  রেল স্টেশন,  ট্রাম সর্বত্র,  নামগুলো ওপরে फिनिश  নীচে সুইডিশ ভাষায় লেখা। 
     তার রহস্য এবং দুই দেশের  সম্পর্কের কথা আপনার লেখায় জানলাম। 
       তবে রাশিয়ানদের প্রতি রাগ খুব স্পষ্ট।  ট্যাক্সি চালক  বলছিলেন-- ওরা আমাদের খানিকটা জায়গা এখনও দখল করে রেখেছে। 
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১৬ জুন ২০২২ ১৪:৫৪509063
  • ঠিক। পশ্চিম এবং দক্ষিনে সুইডিশ ও ফিনিশের সহাবস্থান লক্ষনীয়। উত্তরে বা পূর্বে একেবারেই নয়। যদিও প্রথম ভাষা হিসেবে সুইডিশ বলেন মাত্র ৭% মানুষ। বিস্তারিত লিখেছি "উত্তরের আলোয় অচেনা ইউরোপ" বইতে। শ্রাবন মাসে দেখা হলে আপনার করকমলে তুলে দেবো । সম্ভব হলে বা কলকাতায় থাকলে  ১০.৮.২০২২ প্রেস ক্লাবে আসুন! ইহুদি রসিকতার প্রকাশ ।
     
    কারেলিয়ার অংশ হারানো একমাত্র ক্ষোভ নয়। সুদূর উত্তরে তাদের বন্দর লিনহামার এবং কপার বেল্ট পেতসামো রাশিয়া দখল করেছে - জারের নয়, স্টালিনের! 
     
     
  • Ranjan Roy | ১৬ জুন ২০২২ ১৫:১৩509065
  • আবার Helsinki down town এ  গেলাম লেনিন কাফে দেখতে,  যেখানে underground থাকার সময় লেনিন ও অন্যান্য बोल्शेविक নেতারা আড্ডা দিতেন,  মিটিং করতেন।
    আসবাবপত্তর, টেবিলে সেই সময়ের পত্রিকা,  সব  একই ভাবে  গুছিয়ে রাখা।  দেয়ালে বিশাল দুই ফটোগ্রাফ ফ্রেমে বাঁধানো--  গোঁফ দাড়ি साफ़,  টুপি টেনে নামিয়ে টাক ঢেকে রাখা মানুষটি লেনিন। 
     
    আপনার আমন্ত্রণে সম্মানিত বোধ করছি।  দেখি। 
  • হীরেন সিংহরায় | ১৬ জুন ২০২২ ১৬:৪১509066
  • স্টালিনের সংগে লেনিনের প্রথম দেখা সেখানে। ১৯০৫! 
  • guru | 115.187.51.189 | ১৬ জুন ২০২২ ১৬:৫৩509067
  • অসাধারন হয়েছে হীরেনবাবু | 
     
    "উত্তর ইউরোপের নবীনতম এই রাজধানী শহরে অনেক খুঁজলেও একটা রোমান আর্চ,  গ্রিক কলাম নিদেনপক্ষে বাইজান্তাইন কারুশিল্প বা দুটো ভাঙ্গা ফুলদানি দেখতে পাবেন না" |
     
    এই ব্যাপারটি খুবই খারাপ | কেননা আমি যতদূর জানতাম রুশ সভ্যতা নিজেদের "থার্ড রোম" বা বাইজান্তাইন সভ্যতার উত্তরসূরী হিসাবেই দেখতে চায় তাহলে বাইজান্তাইন কারুশিল্প তারা নষ্ট করলো কেন ? সত্যি যুদ্ধ বড়োই নিষ্ঠূর |
     
     
  • guru | 115.187.51.189 | ১৬ জুন ২০২২ ১৭:১৪509068
  • "রাশিয়ান ভল্লুকের অবাঞ্ছিত আলিঙ্গনের আশংকায় এবং বিসমার্কের সাবধানবানী স্মরণ করেই হয়তো শঙ্কিত চিত্তে  দুই প্রধানমন্ত্রী , সুইডেনের মাগদালেনা আন্ডারসন ও ফিনল্যান্ডের সানা মারিন দীর্ঘদিনের লালিত নিরপেক্ষতা নীতি শিকেয় তুলে ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করলেন।"
     
    এইখানেও সমস্যা আছে | পুতিন সাহেবের বন্ধু এরদোগান সাহেব আটকে দিয়েছেন এই প্রকল্পটি | তার দাবি সিরিয়া ও ইরাকের কুর্দীস্তান পুরোটাই আম্রিকাকে তার হাতে তুলে দিতে হবে নাহোলে তিনি সুইডেনের ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদনপত্র দুটি অনিশ্চিত কালের জন্য ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেবেন | দেখা যাক এখন বিডেন সাহেব কি করেন ?
  • guru | 115.187.51.189 | ১৬ জুন ২০২২ ১৭:১৬509070
  • "But neither Biden nor Stoltenberg anticipated a worm in the apple would spoil the party. They didn’t pay due attention that a week earlier, even as news was breaking out about another NATO expansion, Turkish President Recep Erdogan sounded a mildly dissenting note, “We are following developments concerning Sweden and Finland, but we are not of a favourable opinion.” "
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১৬ জুন ২০২২ ১৭:১৭509071
  • শ্রী গুরু 
     
    ১৮১২ সালে রাশিয়ানরা তুরকু হতে হেলসিংকিতে রাজধানী সরিয়ে আনে। ওই সুইডিশ দুর্গ ছাড়া কিছুই ছিলো না। কয়েকটা মেছুরের গ্রাম । সুইডেনের কোন আগ্রহ ছিলো ন একটা কলকাতা শহর বানানোর !  আমাদের সুতানুটি গোবিন্দপুর মিলে কলকাতা হেলসিংকির চেয়ে একশো বছরের বড়। এমনকি ফিনিশ ভাষার প্রথম ব্যাকরন লেখা হয়েছে হ্যালহেড সাহেবের দেড়শ বছর বাদে। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন