ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় ৩১ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৪ জুন ২০২২ | ৪৯৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কেবলি জাহাজ এসে ফসল নিয়ে উপনীত হয়

    ক্যামেরায় ছবিকে বড়ো করে দেখার যে টেকনিক সেটাকে বলে জুম।  চিত্র পরিচালকেরা তার ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত।  এ অবধি তাই জানতাম। কোভিডের কালে আমার জ্ঞান বৃদ্ধি হলো। প্রযুক্তি বিদ্যার এক নতুন আবিষ্কারের নাম জুম । স্মার্ট ফোন বা ম্যাকবুকের সামনে বসে ক্যামেরা চালু করলে আমার খাপসুরত চেহারা এবং বাণী নরওয়ের হামারফেসট থেকে আর্জেন্টিনার উশাআইয়া ( টিয়েরা দেল ফুয়েগো ) অবধি বিস্তৃত হবে।  অকল্যান্ডে কেউ হয়তো চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিচ্ছেন , সিয়েনায় কারো বাড়িতে কুকুর ডাকছে – কিছুই গোপনে রবে না । কথায় কথায় বিজনেস ট্রাভেল বাতিল হয়েছে , এয়ারলাইনের দুর্দিন আসন্ন । যে কোন প্রয়োজনীয় বিষয়ে মহা বিচার বিমর্শ চলে আপনার আমার বসার ঘর থেকে।  সম্প্রতি লক্ষ্য করেছি জুমের ক্যামেরার সামনে যারা বসেন তাঁদের সবার মাথার পেছনে বই সাজানো । সে সব বই সকলে পড়েন কিনা জানি না । আমাদের দেশে এক সময় অনেকের বাড়ির কাচের আলমারিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বদান্যতায় পঁচিশ খণ্ডে প্রকাশিত রবীন্দ্র রচনাবলীর সুলভ সংস্করনকে ধুলো আহরণ করতে দেখেছি ।


    ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেন্সকি জুম নামক টেকনোলজির চূড়ান্ত সদ্ব্যবহার করছেন । লন্ডনের ব্রিটিশ পারলামেনট থেকে ব্রাসেলসের ই উ , ওয়াশিংটনের সেনেট সর্বত্র তিনি দেখা দিচ্ছেন টেলিভিশনের পরদায় , তুলে ধরছেন তাঁর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের ছবি, সত্বর সাহায্যের প্রার্থনা জানাচ্ছেন । জুমের কল্যাণে ইউক্রেনের ছবি পৌঁছে দিয়েছেন বিশাল পৃথিবীর বহু মানুষের ঘরে ঘরে । অর্জন করেছেন  মানুষের  সমবেদনা , সহায়তার মৌখিক প্রতিশ্রুতি ।

    এবার এই  ছবিটি বদলাতে দেখলাম।  ১৮ জুন  তিনি আফ্রিকান ইউনিয়নের সামনে যে আবেদন রাখলেন সেটি শুনলেন এবং দেখলেন আফ্রিকার মাত্র চারটি দেশের প্রধান । বাকি পঞ্চাশ জন অনুপস্থিত। ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপ আমেরিকায় হুলুস্থুল, তেলের গ্যাসের দাম আকাশ ছোঁয়া । আফ্রিকায় কারো হুঁশ নেই ? এই অনীহার কারণটা  কি ? মহামতি পুতিনের প্রোপাগান্ডা? 

    উত্তরটা কি অন্যত্র নিহিত ?  রাশিয়ান তেল বা গ্যাস নয়, আফ্রিকার প্রয়োজন খাদ্য তার বিশাল অংশ আসে রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে । ইউরোপ না হয় জ্বালানির জন্য বেশি  দাম দিতে প্রস্তুত, আফ্রিকা তার মানুষকে  আজকের রুটি থেকে বঞ্চিত করতে চায় না।

    আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথা একটু বাখানিয়া বলতে হচ্ছে এখানে !

    লাল বনাম নীলের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব দেখা গেছে অনেক আফ্রিকান দেশে । এঙ্গোলা মোজাম্বিক কঙ্গো ব্রাজা -  সেখানে এসেছে সোভিয়েত সৈন্য , প্রযুক্তি বিদ্যা , অর্থ সাহায্য।  রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর অন্তত পঞ্চাশ হাজার ছাত্র ছাত্রী পড়তে গেছেন নিখরচায় ।  অন্যদিকে লাল জুজুর ভয় দেখিয়ে জাইরের মোবুতু সেসে সেকো আমেরিকান অর্থ ( সাব সাহারান আফ্রিকায় সিটি ব্যাঙ্কের একমাত্র শাখা ছিল কিনশাসায় মোবুতুকে নিরন্তর অর্থ সরবরাহের জন্য ) , ইউরোপিয়ান অস্ত্র বিশেষ করে ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের অকুণ্ঠ ভালবাসা আদায় করেছেন । সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেলে তিনি আর লাল নীলের খেলাটা খেলতে পারলেন না।  হঠাৎ ইউরোপ আমেরিকা গণতন্ত্রের হুজুক তুললো । নিজে একদিন পালালেন । কঙ্গো নিক্ষিপ্ত হল ইতিহাসের আবর্জনায় । আমাদের কিনশাসা ব্রাঞ্চ তখন একটি বিড়ম্বনার মতন।  সিটি ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ খোলা শুরু হল সেই সব দেশে যাদের কথা আমাদের আগে মনে পড়ে নি , এই যেমন কেনিয়া , উগান্ডা , তাঞ্জানিয়া , ক্যামেরুন , এমন কি দক্ষিণ আফ্রিকা !

    গোটা নয়ের দশকে রাশিয়ান অর্থনীতি বিপর্যস্ত । আফ্রিকায় সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল ঝাণ্ডা নেমে গেছে।  সেখানে লাল নীল সাদা পতাকা তুলে প্রভাবের ক্ষেত্র ( স্ফিয়ার অফ ইনফ্লুয়েন্স) বাড়ানোর  গরজ বা সাধ্য কোনটাই ছিল না  । রাশিয়া তার মুখ ফেরালো ।

    এমনি চলল দুই দশক।  

    সিটি এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্ক কাজ করার সূত্রে আফ্রিকার  সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রায় তিরিশ বছরের।  বার্লিন দেওয়ালের পতন আর তার চার মাসের মধ্যে নেলসন ম্যানডেলার মুক্তি দেখেছি ।  ঐতিহাসিক পালা বদলের প্রভাব সেদিন হয়তো বুঝি নি , ব্যাঙ্কিং ব্যবসার বিস্তারের সুযোগ নিয়েছি ষোল আনা । কর্মন্যেবাধিকারস্তে  ( বোনাস রূপী ফলটির আশা অবশ্য ত্যাগ করি নি )।
     

    আফ্রিকা মহাদেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের সুবিধার্থে  ১৯৯৪ সালে কয়েকটি আফ্রিকান দেশ মিলে একটি আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করে । তার নাম আফ্রিকান এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক, সংক্ষেপে আফ্রেক্সিমব্যাঙ্ক। সিটি ব্যাঙ্ক তার অন্যতম শেয়ার হোল্ডার । এই উপলক্ষে লন্ডন অফিসে আমরা এক বিরাট অনুষ্ঠান করি – আফ্রেক্সিমব্যাঙ্কের নাম খোদাই করা মঁ ব্লাঁ কলম বিতরণ করা হয় সেদিন।  ক্রিস্টিয়ান এদোরদু ছিলেন  প্রথম সি ই ও । তাঁর পকেটে সেই কলম দেখলাম হালে, মস্কোয় !

    সিটি ছেড়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কে এসেছি – এখানেও আমাদের শেয়ার ছিলো ।  ফলত সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলতে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অনেক ঋণ সংগ্রহ করেছি আফ্রেক্সিমব্যাঙ্কের জন্য । তারপর একদিন কর্ম হতে অবসর নিয়েছি।  কিন্তু এই ব্যাঙ্কের সঙ্গে একটা আত্মিক সম্পর্ক থেকে গেছে । তাদের নানা অনুষ্ঠানে ডাক পড়ে , বিশেষ করে বাৎসরিক শেয়ার হোল্ডারদের মিটিঙে ! আমার কোন শেয়ার নেই,  যে ব্যাঙ্কের ছিল সেখানে কাজ করি না , তবুও!

    ডক্টর ওরামা এই ব্যাঙ্কে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।  তিনি এখন সি ই ও ।  ১৯৯৪ সালের সেই দিনটিতে যে পরিচয় হয়েছিলো , সেটি আজও অক্ষুণ্ণ আছে । একদিন ফোন করলেন , ‘ এবার বাৎসরিক মিটিং মস্কোয় , অবশ্যই আসবেন ‘।

    আফ্রেক্সিমব্যাঙ্কের বাৎসরিক অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে আফ্রিকার কোনো  দেশে নয়, মস্কোয় ?
     

    ডক্টর ওরামা বললেন ,  এটা আমাদের  ব্যাঙ্কের স্থাপনার  রৌপ্য জয়ন্তী !  আফ্রিকায় রাশিয়ান গম আর ভোজ্য তেল আমদানি হয়। লুয়ানডায় একটি রাশিয়ান ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ আছে , সে ছাড়া আফ্রিকাতে রাশিয়ান সরকারের কোন ভূমিকা চোখে পড়ে না । তাঁরা একটি সেতু বন্ধনের বাসনা প্রকাশ করেছেন , এমনকি এবারের অনুষ্ঠানের খরচা অবধি তাঁরা দেবেন!

    জুন ২০১৯ সালে মস্কোয় বিশাল মহোৎসবে যোগ দিয়েছি । মস্কভা নদীর ধারে  রাশিয়ান হোয়াইট হাউসের  ঠিক উল্টো দিকে মস্কো রাডিসন  হোটেলের এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন  চুয়ান্নটি দেশের শীর্ষ নেতা , সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক গভর্নর , ব্যাঙ্ক প্রধান , অজস্র মন্ত্রী , নানান বিদেশি শেয়ার হোল্ডার ব্যাঙ্ক – যাকে বলে এ কাস্ট অফ থাউজেন্ড ।  ক্রিমিয়া দখল করার পরে রাশিয়ার ওপরে  স্যাঙ্কশন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে বাধা বন্ধ চালু হয়েছে সে বিষয়ে কোন শঙ্কার ছায়া  অবধি দেখা গেলো না

    ডকটর ওরামা সি ই ও আফ্রেকসিমব্যাংক
     
    এই অনুষ্ঠানে অনেক পরিচিত জনের সঙ্গে দেখা ,  নতুন বন্ধুত্বের সূচনা হলো । আফ্রিকাকে ভালবেসেছি,তার বাঁধন থেকে  থেকে মুক্তি নেই এই জন্মে !


    রুয়ানডার অর্থ মন্ত্রীর সংগে 

    তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভিইয়েদেভ এলেন মহা সমারোহ এবং কয়েক ডজন সাঙ্গ পাঙ্গ সহকারে।  সাদা পোষাকে কতজন রক্ষী এলেন তার হিসেব নেই । একসঙ্গে এতো টেলিভিশন ক্যামেরা তখন অবধি দেখি নি । পরে দেখবো, সোচিতে যখন মহামতি পুতিন দেখা

    দিমিত্রি মেদভিইয়েদেভ তাঁর পনেরো মিনিটের বক্তৃতায় যা বললেন তার সারাংশ নিম্ন রূপ :

    সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকা মহাদেশের সম্বন্ধ  দীর্ঘদিনের কিন্তু গত প্রায় তিরিশ বছরে রাশিয়ার সঙ্গে পরিচয় তেমন হয়তো হয় নি।  বর্তমান রাশিয়ান সরকার আফ্রিকার সকল দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার  ও  রাশিয়া ও আফ্রিকার পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির মানসে আফ্রেক্সিমব্যাঙ্কের সঙ্গে গাঁট ছড়া বাঁধতে মনস্থ করেছেন  এ ব্যাঙ্ক কোন এক দেশের নয়, সারা আফ্রিকা এর মালিক । তাই এই ব্যাঙ্কের সঙ্গে কাজ করে তাঁরা সারা আফ্রিকার কাছে  পৌঁছুতে চান।  রাশিয়া সরবরাহ করে এক বিশাল পরিমাণ খাদ্য শস্য   আফ্রিকার প্রয়াস হোক তাদের রপ্তানি বাড়ানোর । অন্য দেশের মতন ( তির্যক মন্তব্য চিনের প্রতি !) রাশিয়া টাকার থলি নিয়ে আফ্রিকা এসে সম্পত্তি ও প্রভাব কিনতে আগ্রহী নয় । আমাদের অর্থ সঙ্গতি সীমিত এ কথা বলতে আমার কোন দ্বিধা নেই ।  তবে আমরা আগের প্রথাকে পুনরুজ্জীবিত করে প্রতি বছরে  চল্লিশ হাজার আফ্রিকান  ছাত্র ছাত্রীকে  বিনা বেতনে বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে রাশিয়ান বিশ্ব বিদ্যালয় ও টেকনিকাল প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার সম্পূর্ণ সুযোগ দিতে চাই । আমাদের পারস্পরিক শুভেচ্ছার প্রতীক স্বরূপ চলতি বছরের শেষ নাগাদ আফ্রিকায়  একটি বাণিজ্য মেলার ( ট্রেড ফেয়ার ) আয়োজন করতে আমরা আগ্রহী । আজ অবধি পিরামিড দেখি নি তাই আমার প্রস্তাব প্রথম বাণিজ্য মেলা কাইরোতে অনুষ্ঠিত হোক।  

    তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে তিনি পোডিয়াম ত্যাগ করলেন।  প্রশ্নোত্তরের সুযোগ পাওয়া গেলো না ।

     
    দিমিত্রি মেদভিয়েদেভ ২২ জুন ২০১৯
     
    ভোজ্য তেল সহ প্রায় ৯০% খাদ্য শস্য আসে রাশিয়া ও ইউক্রেন মিলিয়ে । মিশর সুদান কেনিয়া নাইজেরিয়া আলজেরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার মতন জনবহুল দেশ রাশিয়ান শস্যের ওপর নির্ভরশীল । বিনিময়ে আফ্রিকা বিক্রি  করে প্রধানত ফল ও খনিজ পদার্থ।  আফ্রিকার  যা রপ্তানি  তার আট গুণ আমদানি করে । ঘর গরম করার জন্য গ্যাসের প্রয়োজন নেই  । গাড়ি চালানোর পেট্রোল আর ডিজেল আফ্রিকার ভাঁড়ারে আছে,  যার অভাব সেটি খাদ্য ।

    আগের এক পর্বে বলেছিলাম জেমস হ্যামনড নামক দক্ষিণের  এক সেনেটরের কথা । উনবিংশ শতাব্দীর  আমেরিকান গৃহ যুদ্ধ তখনও হয় নি শুরু।  দক্ষিণের বিশাল তুলোর ক্ষেতের ভরসায় চলে উত্তরের কাপড়ের মিল।  হ্যামনড বলেন “ খাপের তলোয়ার না খুলে , বন্দুকের একটি গুলি খরচা না করেই আমরা এ লড়াই জিতব কারণ তুলোই রাজা ‘।

    মহামতি পুতিন জানেন ইউরোপে গ্যাস রাজা, আফ্রিকায় শস্য ।

    জুন ২৩ , ২০২২

     
  • আলোচনা | ২৪ জুন ২০২২ | ৪৯৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | ২৪ জুন ২০২২ ১২:৫৭509330
  • মাস্কভা নদী।
     
     
  • যোষিতা | ২৪ জুন ২০২২ ১৩:০০509331
  • দ্মিত্রি। যদিও লেভ তালস্তয় তাঁর আন্না কারেনিনা গ্রন্থে এই নিয়ে রসিকতা করেছেন।
  • হীরেন সিংহরায় | ২৪ জুন ২০২২ ১৩:১২509332
  • আমি বাংগালির কানে যেটা সহজ শোনায় সেভাবেই লেখার চেষ্টা করি! অতএব দিমিত্রি বা মসকো লিখি! 
    রোমানিয়ান ( ক্রমশ প্রকাশ্য !) বা অন্য পূর্ব ইউরোপীয় ভাষাতেও একই পথ অনুসরন করছি  ব্যাকরন না মেনে!
  • যোষিতা | ২৪ জুন ২০২২ ১৩:২৩509333
  • মস্কো লিখুন তবে। মস্কভা লিখবেন না। নইলে মাস্কভা নদী।
    দিমিত্রি না লিখে দমিত্রি লিখুন। দ্মিত্রি নাহয় না লিখলেন বাঙালীরা পারবে না বলতে। বাঙালীরা সব বিদেশী ভাষার উচ্চারণ ইংরেজি থেকে বাংলা ক'রে করে। এর জন্য দায়ী বাংলা আকাদেমি এবং পবিত্র সরকারের দলবল। 
    আপনি যে কোনও একটা নিয়ম/ধারা মেনে নিয়ে চলুন, অনুরোধ। তখন মেদভিয়েদেভ চলবে না, যদিও ওটাই সঠিক উচ্চারণ। তখন ইংরিজি থেকে বাংলা করে মেদভেদেভ লিখতে হবে। ভালর জন্যই লিখলাম। আমি ঠোঁটকাটা লোক, দুমদাম ক্রিটিসাইজ করি।
  • যোষিতা | ২৪ জুন ২০২২ ১৩:২৬509334
  • ইংরেজরা তো অনেক কিছুই উচ্চারণ করতে পারে না। নেলসন মান্ডেলার নাম নইলে ক্ষমতার জোরে নেলসন বানিয়ে দেয়? :-)
  • যোষিতা | ২৪ জুন ২০২২ ১৩:৩৭509335
  • বাঙালীরা উচ্চারণ সবই প্রায় পারে। বলালেই বলবে। সঠিকটা না জানলে কেমন করে বলবে? ভুল শিখতে শিখতে ভুলটাকেই সঠিক ভেবে নেয় হয়তো।
  • হীরেন সিংহরায় | ২৪ জুন ২০২২ ১৩:৩৭509336
  • শিরোধারয । বইতে লিখব। সেখানে উপসংহারে বিশেষ সুযোগ থাকে ব্যাখ্যা সহকারে অনেক কথা বলা যায় । আমার ব্লগ কলামে সেটি অনুসরন করা শক্ত ।  ভার বাডবে পাঠকের ওপরে ।
     
    ইহুদি রসিকতা বই আকারে বেরুচ্ছে। সেখানে এই সুযোগটা নিয়েছি যা নিয়মিত লেখার পাতায় পারি নি। 
     
    আপনি রাশিয়ান জানেন যথাযথ মন্তব্য করেন। চেক হাংগেরিয়ান রোমানিয়ান সারবিয়ান বুলগারিয়ান ইত্যাদি ভাষার  শব্দের শিক্ষক কোথায় পাবো ? সেগুলো যে ক্রমশ দেখা দেবে! 
  • যোষিতা | ২৪ জুন ২০২২ ১৩:৪০509337
  • হয়ত সেসব ভাষার জন্য অল্প বিস্তর হেল্পাতে পারি। আমাকে আন্ডারএস্টিমেট কৈরেন না দাদা। পাশে আছি। 
  • ... | 2401:4900:1043:9ceb:0:2:bb89:c601 | ২৪ জুন ২০২২ ১৩:৫২509338
  • এই প্রতি পর্বের শেষে যোষিতা দেবীর উচ্চারন আর নাম নিয়ে পোস্ট গুলি এবার বিরক্তির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।
  • Kishore Ghosal | ২৪ জুন ২০২২ ২০:২৮509345
  • অসাধারণ - আপনি নিজে এবং আপনার বিশ্লেষণ। 
    এত দেশ-বিদেশ ঘুরে, এতদিন বিদেশে থেকেও বাংলাটা ভুলতে পারলেন না, স্যার, ছ্যাঃ। দু বছর মুম্বাইতে থাকা কেষ্টপুরে আজন্ম লালিত বাঙালীকে ভাঙা ভাঙা বাংলায় কথা বলতে শুনেছি, আর আপনি...।   
  • Amit | 193.116.79.121 | ২৫ জুন ২০২২ ০৩:৩৪509352
  • এই পর্ব গুলোর জন্যে সারা সপ্তাহ তাকিয়ে থাকি। অসাধারণ এস ইউসুয়াল। 
     
    লিখবো না ভাবছিলাম। কিন্তু এই বানান আর উচ্চারণ নিয়ে প্রতিটা পর্বে অত্যাধিক সেনসিটিভিটি কি এতই দরকার যে প্রতিটা পর্বে ভুল ধরতে হয় ? এতে কি মূল লেখাটার কোয়ালিটি একটুও কম হচ্ছে ? 
     
    বিদেশিরা কি সব বাংলা বা ভারতীয় শব্দ ঠিকঠাক উচ্চারণ করে ? তাহলে তো বাকি সব কাজ ছেড়ে সবাইকে গ্রামার বই নিয়ে বসে থাকতে হয়। 
  • যোষিতা | ২৫ জুন ২০২২ ০৪:১৪509353
  • অত্যধিক
  • যোষিতা | ২৫ জুন ২০২২ ০৪:২০509354
  • অমিত
     
    হীরেনবাবু নিষেধ করলে কমেন্ট করব না আর। আমি তো কারও পেছনে লাগছি না। আপনার বিরক্ত লেগেছে আপনি বলেছেন। সেটা আপনার অভিরুচি। আমারও আপনার মন্তব্য বিরক্তিকর লেগেছে জানিয়ে দিলাম। নিন, এখন লড়ুন। no
  • shAntanu | 122.163.84.97 | ২৫ জুন ২০২২ ১০:০৫509356
  • অসাধারন! আপনার লেখনী মুজতবা আলীর মতো, সহজ, সাবলীল, witty, ছবির মতো
  • guru | 103.135.229.7 | ২৬ জুন ২০২২ ০৬:৫৪509417
  • হীরেনবাবু যুদ্ধের পিছনের রাজনীতি খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন | এখন শোনা যাচ্ছে পোল্যান্ড কে আম্রিকা বাধ্য করবে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে LVOV অঞ্চলটি ছিনিয়ে নিতে যেটি স্তালিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিয়েছিলেন | সেইরকম কিছু হলে উক্রাইনের মানুষ কাকে সমর্থন করবে পুতিন না পোল্যান্ড ?
  • হীরেন সিংহরায় | ২৬ জুন ২০২২ ১৩:৩১509425
  • এ  ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়ারও একটা মতামত থাকতে পারে। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন