ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় ১৯

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৭ মে ২০২২ | ৯৮০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম

    রাশিয়ান আক্রমণ শুরু হয়েছিলো পূর্ব দিকে, ব্রিয়ান্সক, বেলগরোৎ থেকে। প্রথমে ক্রিমিয়া তারপর লুহান্সক দনেতস্ক  ডনবাস অঞ্চল দখল করে সেখানে তারা  স্থাপনা করল  রাশিয়ান ভাষা ভাষী মুক্তাঞ্চল।  পতন হলো ইউক্রেনের দ্বিতীয় শহর খারকিভের। এবার তাদের লক্ষ্য রাজধানী কিইভ। আক্রান্ত  কিইভ শহর থেকে ইউক্রেন সরকার সরিয়ে ফেলেন  নারী ও শিশুদের।  লড়াই করলেন সাধারণ মানুষ।  এমনকি পাঁচশ স্কুলের ছাত্র তৈরি করল এক রক্ষী বাহিনি ।  পশ্চিম থেকে এলো অস্ত্র সাহায্য।  কিইভ থেকে বহিষ্কৃত হল রাশিয়ান ফৌজ  যদিও  তাদের অত্যাচার  ও সন্ত্রাস চলতে থাকল  পূর্ব ইউক্রেনে।
     
    পাঠক, ২০২২ সালের নয়, এটা একশো বছরের বেশি পুরনো এক  যুদ্ধের বিবরণ।
     
    ১৯১৭ সালের মহান অক্টোবর বিপ্লবের পরে রাশিয়ান ফৌজ ইউক্রেন দখল অভিযানে অবতীর্ণ হয়। তাঁদের মতে এটি রাশিয়ার অংশ  – ১৬৫৪ সালের এক চুক্তিতে নিপার নদীর বাম তট জারের বশ্যতা স্বীকার করেছিল, একত্রিত হয়েছিল এমন কথা দুর্জনেও বলেন না।

    দীর্ঘদিনের  পোলিশ/ লিথুয়ানিয়ান এবং হাবসবুরগ শাসনের শেষে ইউক্রেন তখন সদ্য স্বাধীন এক দেশ – হলুদ নীল পতাকাটি উঁচু করে সেই বার্তা দিকে দিকে  ছড়িয়ে দিতে চায়। সাধ ছিল, সাধ্যে কুলোয় নি।   শ্রমিক কৃষকের স্বর্গরাজ্যে তাদের অন্তর্ভুক্তির জন্য মহান লেনিন গুলি গোলা সহ সোভিয়েত সৈন্য, গোলন্দাজ, অশ্বারোহী পাঠালেন পশ্চিম পানে – তিনি চান ডনবাসের ধাতু, নিপার নদী উপত্যকার শস্যের সম্ভার। যতদিন পর্যন্ত সে দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে এক  চিরস্থায়ী মৈত্রী চুক্তিতে স্বাক্ষর করে উপনিবেশে পরিণত না হয় ততদিন আক্রান্ত,  অবরুদ্ধ এবং বিধ্বস্ত হতে থাকবে ইউক্রেন।
     
    ১৯২২ সালে কাস্তে হাতুড়ি লাঞ্ছিত নতুন পতাকা উঠলো সারা ইউক্রেনে।
     
    আগের কালে রাজারা যুদ্ধ করে প্রজার বশ্যতা আদায় করতেন - তাঁরা শান্তি ও মৈত্রী চুক্তির মতন ফেক নিউজে বিশ্বাসী ছিলেন না।
     
    ইউক্রেনের যে সব চাষি যৌথ খামারে আপন দু বিঘে জমি দিতে অরাজি ছিলেন, তাঁদের শায়েস্তা করার জন্য মহামতি স্টালিন এক প্রকল্প শুরু করলেন । তার নাম হলদমোর,  ক্ষুধায় মৃত্যু ( ভুখা মারো ।  আমাদের পঞ্চাশের মন্বন্তরের তুল্য । ১৯৩০ -৩২ সালে অন্তত পঞ্চাশ লক্ষ ইউক্রেনিয়ান মারা গেলেন।
     
    শতবর্ষ পরে, সেই  ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। এই জন্যেই তো ফরাসিরা বলে, 'প্লু সা শঁঞ্জ, প্লু সে লা মেম শোস'। যতই বদলাও, কিছুই বদলায় না।
     
    মহামতি পুতিন  ইতিহাস পড়েন, আপন সুবিধেমত তার ব্যাখ্যাও  করে থাকেন।  তিনি হালে  বলেছেন  ইউক্রেন ও রাশিয়া একই বৃন্তের দুটি ফুল। ইউক্রেন এবং রাশিয়া এক দেশ, এক জাতি, এক প্রাণ। অতএব এক হও।  থাকো একত্রে একই পতাকার তলায়।
     
    পুতিন  সোভিয়েত ইউনিয়নকে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন দিতে চান, যে সোভিয়েত ইউনিয়ন একদিন শুধু জারের সাম্রাজ্যকে এক পতাকার তলায় ফিরিয়ে আনে নি, তাকে বহুগুণ বর্ধিত করেছিল। ইউক্রেন,  কাজাকস্তান বা লিথুয়ানিয়া পুরোটা জারেরা দখল করতে পারেন নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন পেরেছিল, গায়ের জোরে চিরস্থায়ী শান্তি মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরে তাদের বাধ্য করে।

    নয়ই নভেম্বর উনিশশ উনননব্বুই : কাস্তে নয়, হাতুড়ি দিয়ে এমনকি খালি হাতে জনতা যখন বার্লিন বিভাজক প্রাচীরটি ধ্বংসের প্রয়াসে উন্মত্ত, ভ্লাদিমির পুতিন নামক এক কে জি বি অফিসার পূর্ব জার্মানির গোয়েন্দা এজেন্সি স্টাজিকে ফোন করে পাঁচ ট্রাক ভর্তি ফাইল আনিয়ে পেট্রল সহ তাতে অগ্নি সংযোগ করছেন।  তার আগে অবিশ্যি (আপন ভাষ্য অনুযায়ী) মস্কোয় ফোন করেছিলেন। গভীর বেদনার সঙ্গে পুতিন বলেন, মস্কো নিশ্চুপ ছিল সেদিন।  সেই পুতিন দশ বছরের ভেতরে রাষ্ট্রপতি হয়েই বলেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিনাশ বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড়ো ভূরাজনৈতিক বিপর্যয়।

    এই বাক্যটি কি সেদিন অসম্পূর্ণ রেখেছিলেন?  পুরনো সোভিয়েত ইউনিয়নের পুনঃ প্রতিষ্ঠা কি তাঁর লক্ষ্য? ১৯১৮ সালে কে যেন বলেছিলেন মহাযুদ্ধে পরাজয়ের শোধ নিতে হবে?  ফিরিয়ে আনতে হবে জার্মানির  মর্যাদা? জন গণেশের ভোটে হিটলার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গদিতে আসীন হবার দু মাসের মধ্যেই পার্লামেন্ট ও সংবিধান দুটোকেই কলা দেখিয়ে  আপন কর্মে ব্রতী  হলেন। সুদেতেনলানডের  মানুষ জার্মান বলে, তারা জার্মানির অংশ হবে না কেন? হাইম ইনস রাইখ ! তেমনি পূর্ব ইউক্রেনের মানুষ রাশিয়ান বলে তারা রাশিয়ার অংশ হবে না কেন? ১৯৩৮ সালে সর্ব সম্মতি ক্রমে সুদেতেনলানড জার্মান পতাকা ওড়াল তেমনি ২০১৪ সালে রাশিয়ান পতাকা উড়ল ক্রিমিয়ায়।

    গণতান্ত্রিক প্রথার প্রতি পূর্ণ আস্থা সহকারে রাশিয়ান সংবিধানের যথাযোগ্য পরিবর্তন করেছেন মহামতি পুতিন। সংবিধান সম্মতভাবে তাঁর গদি  ২০৩৫ অবধি পাকা। হাতে সময়, সৈন্য,  গ্যাস,  তেল ও রুবেল আছে। মা ভৈ! 
     
    ইউক্রেন আর রাশিয়া কি এক দেশ?


    অনিশ্চিতের খোঁজে

    পাঁচশ বছরের বেশি রাশিয়ানরা জেনে এসেছেন এক জার, এক ভাষা, এক দেশ, একতা। ভ্লাদিভস্তক থেকে রিগা অবধি তাঁর শাসন, তাঁর গুপ্তচরদের অবাধ আনাগোনা, সেনা বাহিনির মার্চপাস্ট। এক জার যদি কোতল হয়েছেন জনতার রোষে,  পরবর্তী জার  দরবার চালিয়েছেন যথা পূর্বং  তথা পরং ভেবে নিয়ে। আম জনতা ফিরে গেছে আপন কুটিরে, ভদকার আশ্রয়ে। গণতন্ত্র?  সে তো কেবল কল্পমায়া! মহান অক্টোবর বিপ্লবের পরে লেনিন মনে করিয়ে দিলেন, পার্লামেন্ট হল  শুয়োরের খোঁয়াড় (আমরা সাতের দশকে কলকাতার দেওয়ালে এই বাণীটি নিয়মিত দেখেছি)। এখন এক জাতি,  এক ভাষা,  এক দেশ,  এক দল।
     
    আইন ফোলক, আইন রাইখ,  আইন ফুয়েরার।

    কমিউনিস্ট রাশিয়ায়  সর্বাধিনায়কের  বা পার্টি জেনেরাল সেক্রেটারির পদচ্যুতি হয়েছে একবার।  সোভিয়েত ইউনিয়নের সত্তর বছরে ছ জন এ পদে ছিলেন, একজন মাত্র পদচ্যুত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় নেতা, নিকিতা  ক্রুশভ।
     
    গোটা ইউক্রেন কোনদিন জারের শাসনে বা অধিকারে ছিল না। জার্মান পোলিশ রোমানিয়ান ইদিশের পাশাপাশি ছিল রাশিয়ান ভাষা, একছত্র হিসেবে নয়। অরথদক্সির পাশে ইহুদি, ক্যাথলিক,প্রটেস্টাণ্ট । সিরিলিক লিপির পাশাপাশি রোমান হরফ।  ইউক্রেনের মানুষ ব্যক্তিবাদী, প্রতিবাদী। ১৯৯১ সালের পর থেকে ইউক্রেনের জনতা পথে নেমেছেন – দেশ  দেখেছে কমলা বিপ্লব (অরেঞ্জ রেভলুশন), ময়দান আন্দোলন।  ইউক্রেনে চারশো রাজনৈতিক দল। সরব বিরোধিতা করার, প্রতিবাদ জানানোর প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস আছে।  যে সরকার ক্ষমতায় আসুন না কেন, পথ বিপ্লবের তোয়াক্কা করেন। 
     
    পুতিন তাঁদের জেলে ভরেন।জারের আমলে, শ্রমিক কৃষকের স্বর্গরাজ্যে অথবা কমিউনিস্ট উত্তর রাশিয়াতে সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামার সদিচ্ছা থাকলেও হিম্মত ছিল না কারোর।   
    পুতিন যতকাল যাবত প্রেসিডেন্ট পদে  আসীন আছেন, সেই সময়ে  ইউক্রেন পেয়েছে পাঁচজন রাষ্ট্রপতি। রাশিয়া দেখেছে একজন প্রতিবাদী -নাভালনি যিনি বেশির ভাগ সময় জেলের হাওয়া ও সেখানকার অখাদ্য খাবার খেয়ে থাকেন।  বাকিরা বিশ্বাস করেন সরকারি প্রচারে, সত্য  (প্রাভদা) নামধারী সংবাদ পত্রে।


    আরেক দিন

    গত সপ্তাহে নিকিতিন নামের এক যুবক লেভ (সিংহ) তলস্তয়ের একটি উক্তি  কাগজে লিখে মস্কোর রাস্তায় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল – "অন্ধ দেশপ্রেম এক দাসত্ব। মানুষের চিন্তা,  সম্মান এবং চেতনার বিসর্জন"।

    পুলিশ তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করেছে। অপরাধ? নিকিতিন বর্তমান সরকারের প্রতি অবিশ্বাস প্রকট করেছেন।
     
    লেভ তলস্তয়ের প্রপৌত্র পিওতর (পিটার) তলস্তয় গতকাল একটি বিবৃতিতে মহামতি পুতিনের প্রতি তাঁর সার্বিক সমর্থন জানিয়েছেন –
     
    "পশ্চিম যে সাহায্যই পাঠাক না কেন, আমাদের অভিযান ততদিন চলবে যতদিন না আমরা পোলিশ সীমান্ত অবধি পৌঁছুচ্ছি।"

    আন্দ্রি কুরকভ  একজন  ইউক্রেনিয়ান উপন্যাসিক ও সাংবাদিক। তাঁর স্ত্রী ও দুটি ছেলেকে নিয়ে আপাতত লভিভে আছেন।  গত সপ্তাহে তিনি লিখেছেন : 
     
    "আশা করি এই যুদ্ধের শেষে এক মুক্ত ইউক্রেন দেখা দেবে। অথবা ইউক্রেনের অস্তিত্ব মিলিয়ে যাবে চিরতরে। ইতিহাসের বইতে লেখা হবে ইউরোপ এবং পৃথিবীর নীরব সম্মতি সহকারে ইউক্রেনের স্বাধীনতা এবং অস্তিত্বের বিনাশ সম্ভব হয়েছিল।"

    আজ সারি সারি মানুষ হাঁটছেন সেই বিনষ্টির পথে।


    শেষ সম্বল

    ৭ মে, ২০২২
  • | রেটিং ৫ (২ জন) | বিভাগ : আলোচনা | ০৭ মে ২০২২ | ৯৮০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • Amit | 103.6.116.9 | ১০ মে ২০২২ ০৭:৪৯507478
  • কিন্তু ট্রোলিং সত্ত্বেও একটা খুব সত্যি কথা বলেছেন উনি মানতেই হবে। ঠিকঠাক জিনিস ​​​​​​​আপনারা খুঁজে ​​​​​​​পান ​​​​​​​না মশাই। 
     
    "পাকিস্তানী বা আফগান বা বাংলাদেশি মুসলমান কাউ বেল্টের হতদরিদ্র , সহায় সম্বল হীন মুসলমান নয়"- একদম ১০০-% সত্যি  কথা। সেখানকার  এবং আরো বহু সখ্যাগুরু ইসলামিক দেশের বাহুবলে বলীয়ান মুসলিম রা সেসব দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কি হাল করেছেন সেতো গোটা দুনিয়া দেখতেই পাচ্ছে। 
     
    অবশ্য এটারও প্রেক্ষিত এলো বলে। যেমন আগেরবার এসেছিলো সিভিল ওয়ার এ ছারখার হয়ে যাওয়া শান্তিপূর্ণ লেবানন এর উদাহরণ। :) :) 
  • &/ | 151.141.85.8 | ১০ মে ২০২২ ০৭:৫৮507479
  • সন্দেহ হয় এই লোকই অন্য নামে মৌলবাদী ইসলামিস্ট লেখাগুলো লেখেন।
  • Sobuj Chatterjee | ১০ মে ২০২২ ০৭:৫৯507480
  • আমি আপনার ইহুদি রসিকতা পড়ে আপ্লুত। এমন লেখা বোধকরি বাংলা সাহিত্যে অভিনব আলোড়ন সৃষ্টি করবে। বই আকারে প্রকাশ পেলে একটি কপি উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে খরিদ করতে চাই। চাতকের মতো চেয়ে রইলাম। 
  • &/ | 151.141.85.8 | ১০ মে ২০২২ ০৮:০১507481
  • আমার আগের পোস্ট 'গুরু' নিক নিয়ে যে ট্রোলটি আসেন তার ব্যাপারে।
  • Ranjan Roy | ১০ মে ২০২২ ১৪:৩৯507486
  • আমার একটা জিজ্ঞাসাঃ আমি টেকনিক্যালি অজ্ঞ। আপনারা কী করে নিশ্চিত হচ্ছেন যে 'গুরু' নিক আসলে একজন ট্রোলের? বলছি এই জন্যে যে উনি ট্রোলদের মত লেবেলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে তথ্য দিয়ে ( সেটা সিলেক্টিভ হতে পারে) একটি বিশিষ্ট দৃষ্টিকোণএর বক্তব্য রাখছেন। সে বক্তব্য আমার মনোমত না হতে পারে। কিন্তু ডিসির মত লিবার্তাইন ( সদর্থক) মানুষও এনাকে ট্রোল বলছেন?
    কিঞ্চিৎ আলোকিত করুন।
  • guru | 146.196.45.20 | ১২ মে ২০২২ ০৯:৫৩507536
  • @রঞ্জনবাবু ,
     
                     দেখুন আমি অনেক কিছু আন্তর্জাতিক খবর দেখে নিজের মতামত সাজাতে চেষ্টা করি মাত্র | 
     
    ইউক্রেইন্ এ হিরেনবাবুর লেখা গুলিতে দুটি দৃষ্টিকোণ আছে | এক , যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের দুর্দশা ও দুই যুদ্ধের পিছনের ভূ রাজনীতি | প্রথম ব্যাপারটিতে আমি হিরেনবাবুর সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবেই একমত ও তার আর্তের প্রতি সেবার কাজকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি | দ্বিতীয় ব্যাপারটি নিয়ে এই ফোরাম এর বেশিরভাগ মানুষ যেমন ডিসি , অমিত ইত্যাদি ওয়েস্টার্ন মিডিয়ার বক্তব্যটিকেই নিজের বক্তব্য হিসেবে গ্রহণ করে পুতিন সাহেবের উপর এই যুদ্ধের সব দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন | আমার মনে হয় এটা খুব তাড়াতাড়ি নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত | আমাদের অনেক কিছু পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ওয়েস্টার্ন মিডিয়ার কোনো একটি অংশের মতকে ধ্রুব সত্য মানা উচিত নয় | 
     
    আমি খোদ ওয়েস্টার্ন মিডিয়ার এমন অনেকের লেখাই জানি যারা বর্তমান যুদ্ধ নিয়ে অন্য রকম ভাবেন | আপনারা গত কয়েক মাসের ডেভিড পি গোল্ডম্যান এর লেখা গুলি পড়ে নিতেই পারেন | আমি তিনটি লিংক নিচে দিলাম| এখন এগুলি পড়ে মতামতের সিদ্ধান্ত আপনাদের | ডেভিড পি গোল্ডম্যান হংকং নিবাসী একজন ওয়াল স্ট্রিট এর ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার ছিলেন |
     
     
     
     
    শেষ লেখাটিকে নিয়ে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ হিরেনবাবুর একটা মতামত জানার খুবই আগ্রহ রইলো আমার | 
  • guru | 146.196.45.20 | ১২ মে ২০২২ ০৯:৫৮507537
  • @অমিত ও ডিসি , দেখুন মদন মিত্র অনেক রকম ভাবেই হওয়া যায় | আপনারা তো উক্রাইনের যুদ্ধ নিয়ে পুতিনকে যত পারেন গালাগাল করছেন কিন্তু পাকিস্তানের ইমরান খানের নির্বাচিত সরকার কে আম্রিকা যে উৎখাত করলো তাকে নিয়ে একটি কথাও বলছেননা | এটাকেও আমি "মদন মিত্র সিনড্রোম " বলেই মনে করি |
  • dc | 182.65.213.57 | ১২ মে ২০২২ ১০:২৩507538
  • ওহো রঞ্জনদা প্রশ্ন করেছিলেন দেখছি, টইটা নীচে চলে গেছিল বলে দেখতে পাইনি। সিম্পুল আন্সার হলো গুরু নিকের পোস্টগুলো ফলো করুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কিভাবে ট্রোলিং হচ্ছে। অবফাসকেশান বা নজর ঘোরানোর চেষ্টা, হোয়াটঅ্যাবাউটারি, ভুল ইনফরমেশান, সব কিছুরই উদাহরন পাবেন :-)
  • গাঁজাগুরু | 2405:8100:8000:5ca1::165:f6f6 | ১২ মে ২০২২ ১০:৩৭507539
  • গাঁজাখোর গুরু বলেছেন যে পাকিস্তানে ইমরান খানের সরকার ফেলে দিয়েছে ইউএস। শ্রীলংকায় প্রধানমন্ত্রীর ঘরে আগুনও জ্বালিয়েছে এইউএস, মমতাকে আকাদেমি দিল তো আসলে ইউএস।
    গাঁজাগুরু কি জয়! ব্যোম ভোলে !
  • Amit | 120.16.28.53 | ১২ মে ২০২২ ১০:৪৫507540
  • ওহ , এটা আমারও চোখে পড়েনি। যদ্দুর মনে পড়ছে রঞ্জনদা তো সেই তালিবান র টোয়ি টাতে বেশ কিছু কমেন্ট করেছিলেন। যার কথা জিগালেন , তেনার পারফরমেন্স আর হোয়াটঅ্যাবাউটারি র টপ ক্লাস নমুনা দেখতে হলে ওখানে একবার উঁকি মারতে পারেন। 
  • ঋতুপর্ণ বসু | 117.226.146.98 | ১৩ মে ২০২২ ১৪:৩৫507572
  • এ যাবৎকালের  সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ লেখা
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন