বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় ৪৩

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৩৬৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৩ (৩ জন)
  • দূরে কোথায় ৪৩

    আগমন

    মার্ক টোয়েন  বলেছিলেন,  জমি কেনো। এ বস্তুটি  আর তৈরি হয় না ।

    রাবো ব্যাঙ্ক উটরেখটের পাকো দেন দুপ এই মন্তব্যটি উল্লেখ করে একদিন আমাকে বলেন, হয় মার্ক টোয়েন কখনো হল্যান্ডে আসেন নি নয় এ দেশটার সম্বন্ধে পড়াশোনা করেন নি । তাহলে জানতেন ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন আর আমরা ডাচরা হল্যান্ড সৃষ্টি করেছি !

    গত সপ্তাহে  হল্যান্ডের  আলমেরে শহরে বন্ধু সন্দর্শনে গিয়েছিলাম । লেনডার্ট ( লেওনারড ) ও উইলিকের সঙ্গে গল্প করতে গিয়ে সেই পুরনো কথাটি মনে পড়লো । আমরা সবাই জানি ডাচ জাতি সমুদ্রের বক্ষ থেকে ছিনিয়ে এনেছে তাদের বাসভূমি।  কিন্তু কতটা ?  লেনডার্ট অঙ্ক এবং অর্থনীতি পড়েছেন । বাজে গল্প করেন না । তিনি বললেন  মার্ক টোয়েনের  পরের একশো বছরে  হল্যান্ড যে জমি জল থেকে উদ্ধার করেছে শুধু তার পরিমাণ দেড় হাজার বর্গ কিলোমিটার !  এখানে  সান মারিনো, অ্যান্ডোরা, জিব্রালটারকে বসিয়ে দিলেও অনেক জায়গা খালি  পড়ে থাকবে। লুক্সেমবুরগের অর্ধেক তার সাইজ।

    তুলনা করতে গেলে এটি বৃহত্তর কলকাতার সমতুল।

    পঞ্চাশ বছর আগে আজকের আলমেরে শহর  ও শহরতলি ছিল জলের তলায়।  বাঁধের ওপাশে আইজেলমের নামক হ্রদের জলের লেভেল   দু লক্ষ মানুষের শহর আলমেরের আঠারো ফুট উঁচুতে!  বাঁধে একটা ফুটো হলে ভেসে যাবে শহর!  পরের বার যখন আপনার বিমান আমস্টারডামের স্কিফোল বিমান বন্দরে অবতরণ করবে মনে রাখবেন আপনি পাশের সমুদ্রের জলরেখার চার মিটার নিচে চলে গেলেন। একদা ছিল হ্রদ – আক্ষরিক অর্থে স্কিফোল মানে জাহাজের ফাঁপা গর্ত।

    বাঁ দিকে আলমেরে - ডানদিকে সমুদ্র  ১৮ ফিট  উঁচুতে  
     
     
    আলমেরে শহর একশো কুড়ি বর্গ কিলোমিটার পরিব্যাপ্ত। লেনডার্ট ও উইলিকে দুশ্চিন্তায় নিদ্রাহীন রাত্রি যাপন করেন না । সমগ্র খালে ( ঘ্রাখট ) ,  নদীতে  জলধারা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা  রয়েছে তিনটি স্বতন্ত্র  ধাপে। ১৯৫৩ সালের পরে হল্যান্ড কোন প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি।

    ডাচরা সমুদ্র শাসন করেছে এক কালে । এখন শাসন করে জলকে ।
     

    আলমেরে - বাঁধের এপারে 

    ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা হল্যান্ডে আসছেন এপ্রিল থেকে। আলমেরের প্রধান পথের পাশেই  ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য তৈরি হচ্ছে প্রকাণ্ড আবাস শিবির । উইলিকে বললেন সরকারি মতে এটি সাময়িক আস্তানা , তিন বছরের মেয়াদে । কিন্তু আমরা জানি ডাচদের সাময়িক কথাটার কোন মাত্রা নেই- পঁচিশ বছরও টিকে থাকতে পারে ! যতদূর জানি ফরাসিতে একটা প্রবাদ আছে, ‘সেটাই সাময়িক যার আয়ু  দীর্ঘদিন ‘।  আইফেল টাওয়ার তৈরি হয়েছিল একটি শিল্প মেলার সুবাদে। নির্দিষ্ট সময়ের পরে  সেটি খুলে নেওয়ার কথা ছিল – আজও সেই টাওয়ার সেখানে দাঁড়িয়ে আপনার আমার আনন্দ বর্ধন করে।

    শরণার্থী সেবায় উইলিকের অভিজ্ঞতা আছে । আটের দশকে পল পটের নির্মম অত্যাচার থেকে পলায়মান নাগরিকদের জন্য থাইল্যান্ড / কামবোদিয়া সীমান্তে  একটি শরণার্থী শিবিরে তিন বছর কাজ করেছেন তিনি।  মানুষের প্রতি মানুষের নির্মম আচরণের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। ইউক্রেনের মানুষদের কষ্ট বোঝেন।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের মত হল্যান্ড দ্বার উন্মুক্ত করেছে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য।   বসবাসের,  কাজের,  স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সম্যক অধিকার সহ মাথা পিছু আড়াইশো  ইউরো এবং বিনামূল্যে বাসস্থান তাঁদের প্রাপ্য। যে সকল ডাচ পরিবার আপন গৃহে শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছেন,  তাঁরা পাবেন প্রাপ্তবয়স্কদের মাথা পিছু দু শো পনের এবং শিশুদের জন্য পঞ্চান্ন ইউরো।

    একই প্রকার সুযোগ সুবিধে এবং সরকারি ভাতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় সকল দেশে বরাদ্দ। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, সুইডেনে দেওয়া হয় তিনশো ইউরো বা তার  কাছাকাছি।  গ্রিস,  স্পেনে কিছু কম । কোন অজ্ঞাত কারণে বেলজিয়ামে প্রায় নশো ইউরো দেওয়া হয় । ইউক্রেনের যে কোন নাগরিক বিনা বাধায় বিনা ভিসায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে  প্রবেশ করতে পারেন,  অন্তত এক বছরের জন্য । যুদ্ধের কারণে অনেকের পাসপোর্ট ভস্মীভূত হয়েছে অথবা হারিয়ে গেছে ।ইউনিয়ন তাঁদের একটি নির্দিষ্ট সময় দেবে নতুন বাওমেট্রিক পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য। তাই কোন ইউক্রেনীয় আপন দেশে স্বল্প সময়ের জন্য যেতে পারেন, তাঁদের ভিসার কোন ব্যত্যয় হবে না। সুইজারল্যান্ডে ব্যবস্থা আরও অনেক উদার- বলকান যুদ্ধের পর থেকে সে দেশ স্বাগত জানিয়েছে অজস্র ছিন্নমূল মানুষকে । সুইস জাতীয় ফুটবল টিমে ছ জন আলবেনিয়ান খেলেন।  

    সংযুক্ত রাজ্যে সব কিছুই আলাদা হবার  কথা,  বিশেষ করে আমরা যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে এসেছি।  এ দেশে ইউক্রেনীয়রা ভিসা পেয়েছেন শর্ত সাপেক্ষে -  যদি তাঁদের কোন চেনা মানুষ আমন্ত্রণ জানান অথবা কোন ব্রিটিশ পরিবার তাঁদের আশ্রয় দিতে  চান তবেই। সেক্ষেত্রে সরকার  সেই আশ্রয়দাতাকে ৩৫০ পাউনড অনুদান দেবেন প্রতিমাসে- তিনি একজনকে আশ্রয় দেন অথবা চার জনকে , অঙ্কটা একই। আশ্রয়দাতা নির্ধারণ করতে পারেন কতদিনের জন্য তিনি কোন ইউক্রেনীয় পরিবারকে আপন গৃহে বসবাসের অধিকার দেবেন – ন্যূনতম ছ মাস অথবা এক বছর।

    রাষ্ট্রসঙ্ঘের হিসেব অনুযায়ী  যুদ্ধের শুরু থেকে দেড় কোটি ইউক্রেনিয়ান ঘরছাড়া হয়েছেন, পঞ্চান্ন লক্ষ দেশ ছাড়া ।  যুদ্ধের গোলা গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে অন্তত পনেরো লক্ষ গেছেন  রাশিয়ায় । তাঁদের কোথায় কি ভাবে রাখা হয়েছে তার কোন সঠিক খবর পাওয়া শক্ত।  তবে তিনটি বালটিক দেশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় কিছু  সংখ্যক ইউক্রেনীয় রাশিয়া থেকে বালটিক দেশ গুলির  ভেতর দিয়ে পোল্যান্ড হয়ে  ইউক্রেনে প্রবেশ করে হাতিয়ার তুলে নিয়েছেন।

    কোন দেশে কত জন শরণার্থী এলেন?

    ইউক্রেন থেকে ইউরোপের  আসার প্রধান দ্বার পোল্যান্ড ।  লভিভ হতে মাইদেকের দূরত্ব মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার ।  কিভ- ওয়ারশ ট্রেন চলে । এককালে এই লভিভ  ( প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগের অস্ট্রিয়ান লেমবেরগ ,  যেটি আমার ইহুদি রসিকতায় বারংবার উল্লিখিত হয়েছে )   ছিল পোলিশ – নাম লুবভ । তার মালিকানা নিয়ে পোল্যান্ড বনাম ইউক্রেনের দ্বন্দ্ব চলেছিল বহুদিন । এখন সেটি স্থগিত ! পোল্যান্ডের বিলগোরাইতে আমার পরিচিতা মালগোরজাতা অথবা  ইউক্রেন থেকে সারেতে উপস্থিত লিলিয়া দুজনেই বলেছেন,  লভিভ  কার সে তর্ক মুলতুবি থাকুক ।  আমাদের এখন একই শত্রু - তার নাম  রাশিয়া।

     মার্চ থেকে পোল্যান্ড তার সীমান্তে সাদরে সম্বর্ধনা জানিয়েছে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের । এক সময় কুড়ি লক্ষ স্থান পেয়েছিলেন সে দেশে তারপরে অনেকে গেছেন অন্যত্র  । আমরা কিছু পরিবারের দেখা পেয়েছি যারা পোল্যান্ড থেকে সুইডেন ফ্রান্স অস্ট্রিয়া হয়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছেছেন।  ছোট্ট দেশ মলদোভা (জনসংখ্যা পঁচিশ লক্ষ ) গ্রহণ করেছে পাঁচ লক্ষ -সেখান থেকে রোমানিয়া হয়ে নানান দেশে গেছেন কিছু শরণার্থী। শরণার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে উঁচুতে  পোল্যান্ড - বারো লক্ষ ।  তারপরে জার্মানিতে প্রায় দশ লক্ষ  , চেক ইতালি ফ্রান্স তুরস্ক ব্রিটেন মিলিয়ে পাঁচ লক্ষ ।

    প্রসঙ্গত : গত দু বছরে এগারো লক্ষ সিরিয়ান শরণার্থী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় পেয়েছেন । আফঘান শরণার্থীর সংখ্যা এক লক্ষের বেশি।

    প্রত্যাবর্তন

    যূথবদ্ধ মানুষের দেশ থেকে দেশান্তরে যাত্রার ইতিহাস হাজার হাজার বছরের । বনের  ফল ফুরুলে বা প্রাণীর সংখ্যা কমে এলে মানুষ হেঁটেছে আরেক অরণ্যের  সন্ধানে । আকালে দুর্ভিক্ষে রাষ্ট্র বিপ্লবে সেই যাত্রা অব্যাহত ।

    সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় জনযাত্রা একটি ব্যতিক্রম । সঙ্ঘবদ্ধ ছিন্নমূল মানুষের  পদযাত্রা নয় – এখানে হাঁটলেন নারী এবং শিশুরা। পুরুষেরা পিছনে থেকে গেলেন মাতৃভূমি রক্ষার্থে । এটি ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। আমাদের ছ মাসের অভিজ্ঞতায় সারেতে তিনজন পুরুষ শরণার্থী দেখেছি – তাঁদের বয়েস যথাক্রমে  ৮৬, ৭২, ৭০। আধখানা সংসার রয়ে গেলো ইউক্রেনে।

    আকস্মিক এতো শরণার্থীকে ঠাই দেওয়া ইউরোপের পক্ষে সহজ হয় নি , সহজ হবার কথা নয় । এঁদের বাসস্থানের  ব্যবস্থা করতে ফুটবল স্টেডিয়াম , শপিং সেন্টার খুলে দিয়েও পোল্যান্ড  মলদোভা বিপর্যস্ত।  জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে সর্বত্র ইউনিয়নের ২৭টি  দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার দশ থেকে পঁচিশ শতাংশের ঘোরাঘুরি করছে। সাড়ে তিনশো পাউনডের সরকারি অনুদান যথেষ্ট বলে মনে করেন না অনেক ব্রিটিশ আশ্রয় দাতা । ছ মাসের কড়ারে বহু পরিবার শরণার্থীদের গ্রহণ করেছিলেন । এখন কেউ কেউ  সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কাল অন্ত হলে এই শরণার্থীদের অন্যত্র আশ্রয় দেওয়া হোক । এটি একান্ত ব্রিটিশ সমস্যা কেন না এখানে তাঁদেরই ভিসা জুটেছে যারা এ দেশে কোন আত্মীয় স্বজন অথবা আশ্রয়দাতার হদিশ দিতে পেরেছেন।  লাটভিয়া থেকে সার্বিয়া অবধি বাকি ইউরোপে শরণার্থীদের গ্রহণ করার দায়িত্ব সেই সব সরকারের , কোন শর্তাধীন নয়। সরকার বাসস্থানের আয়োজন করেছেন কোথাও হোটেলে এমনকি জাহাজে।  কিন্তু তাঁদেরও  কোষাগার সীমিত – গৌরী সেনেরা অদৃশ্য।  

    ইউরোপের প্রয়োজন কর্মী বাহিনির।  বহু দেশে কাজ আছে লোক নেই ।  জার্মানিতে স্কুল শিক্ষকের এমন অভাব যে ৪৫ মিনিটের ক্লাসকে ৩০ মিনিটে নামিয়ে আনার কথা উঠেছে।এপ্রিলে  পর্তুগাল থেকে হিথরো বিমান বন্দরে প্লেন নামলো – চল্লিশ মিনিট বসে আছি সবাই । এয়ার ব্রিজ প্লেনের সঙ্গে লাগানোর লোক পাওয়া যায় নি । করোনা কালে ব্রিটিশ এয়ার দশ হাজার লোককে বরখাস্ত করেছিল- কেউ ফিরে আসতে চান না । জুন মাসে গ্রিসের সানতোরিনি  থেকে আসার সময়ে সেই এক অভিজ্ঞতা হলো।  এটি ইউরোপের সকল এয়ারপোর্টের গল্প।

    ইউক্রেনের শরণার্থী ইউরোপের এই অভাব মেটাতে অক্ষম। অর্ধেকের বেশির বয়েস ষোলোর কম – সব মায়েরা সংসারের কাজ ফেলে পুরো সময় কাজে যোগ দিতে পারেন না । ভাষার ব্যবধান আছে।  

    আগের এক ব্লগে আমি লিখেছিলাম -  বস্ত্র সংগ্রহের জন্য এপ্রিল মাসে আমাদের গৃহে আগত আনা বললেন শীতের জামা কাপড় তিনি চান না । ততদিন তাঁরা এ দেশে থাকবেন না।  রোদিকা বলেছিল ফিরবেন  কোথায় ? তিনি বলেছিলেন , দেশে, আমাদের নিজেদের দেশে।

    ইউক্রেনের বিশ শতাংশ জমি রাশিয়ান দখলে । বাকি অংশে মাঝে মধ্যে মিসাইল বা পেটো পড়ে – এমন কি  দূর তেরনোপিল ,  ব্রিয়ান্সক,  সুমিতে। অনেক বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে জানালা নেই । কিন্তু জীবন থেমে থাকে না । কিভের কফি হাউস , লভিভের লাইব্রেরি তাদের দরোজা খুলেছে ।  দেশের বিশাল অংশ শত্রু সৈন্য মুক্ত। লুহান্সক দনেতস্ক ফেরবার কথা অবশ্যই কেউ মনে আনেন না।  দনেতস্কের জনসংখ্যা ১৭ লক্ষ থেকে তিন লক্ষে নেমে এসেছে।

    ভিয়েতনামের যুদ্ধ দশ বছর চলে।  সতেরো লক্ষ মানুষ দেশ ত্যাগ করেন তার  অর্ধেক বোট পিপল ।

    এবার কি ঘরে ফেরার দিন ?

    আমাদের পরিচিত ইউক্রেনীয়দের  মধ্যে কেউ এখন অবধি  দেশে ফরেন নি , তবে সে বিষয়ে ভাবছেন অনেকে। এঁদের চেনা মানুষ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে পোল্যান্ডের পথে চলেছেন- সীমান্ত অতিক্রম করে ইউক্রেনে যাবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশে তাঁদের জন্য  ট্রেন যাত্রা এখনও ফ্রি অথবা স্বল্প মূল্যের।
     

    ক্রাকাউ ( ক্রাকুভ) থেকে লভিভের বাস - চার ঘন্টার পথ
     
     
     
    এই দুঃসময়ে ইউক্রেনে মোবাইল টেলিফোন ব্যবস্থা প্রায় অটুট। দেশ ত্যাগীরা নিয়মিত খবরাখবর পান – আশা জাগে।

    গত দু মাসে লাখ দশেক মানুষ – ৯০% মহিলা এবং শিশু – পোলিশ সীমান্ত দিয়ে ইউক্রেনে ফিরলেন। বেশির ভাগ যাচ্ছেন পশ্চিম থেকে পূবে , পূব থেকে পশ্চিমে নয়। দেশত্যাগীর সংখ্যা কম।  


    ট্রেনের অপেক্ষা জারমানি 
     
     জার্মানির ওবাররোটভাইলে  আশ্রিতা এক মহিলা যখন জানালেন তিনি ফিরতে চান, গ্রামের মেয়র বাড়ি এসে বলেছেন , ‘ মাথা খারাপ ? কোথায় যাবেন ?’

     তিনি সেই উত্তর দিয়েছেন যে রকম  রোদিকা শুনেছিল আনার কাছে।

     ’আপন দেশে । ঝড় ঝঞ্ঝা বিপদ আপদ তো লেগেই থাকে । সামলাবো একত্রে ‘।

    ১৬ সেপ্টেম্বর , ২০২২  
     
  • আলোচনা | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৩৬৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit | 115.64.210.171 | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৩:১১511968
  • হয়তো যুদ্ধের মোড় সত্যি সত্যি ঘুরছে। আরো বেশি লোকে নেক্সট কয়েক হপ্তায় বা মাসে ফিরে যাবেন। গিয়ে কি দেখবেন কে জানে। হয়তো ঘর উড়ে গেছে বোমায় , চেনা অনেকেই রাশিয়ান দের বানানো গনকবরে। তবুও ফিরবেন। 
  • dc | 2401:4900:1cd1:c5d4:548d:5482:1853:3f5c | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৭:১৯511971
  • কিন্তু অনেকেই আর ঘরে ফিরতে পারবেন না। ইউক্রেনের আর্মি যেসব জায়গা রাশিয়ান আর্মির থেকে লিবারেট করছে তার বেশ কিছু জায়গায় গণ কবর, অত্যাচারের নমুনা পাওয়া যাচ্ছে। যেমন খার্কিভ এর ইজিয়াম এ চারশো জনের বেশী মাস গ্রেভ পেয়েছে। রাশিয়ান আর্মির ওয়ার ক্রাইম ডকুমেন্টেড হচ্ছে, হয়তো একদিন বিচার হবে, হয়তো হবে না। 
  • niemo | 103.135.229.46 | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৯:৫০511972
  • @ডিসি @অমিত 
     
    দেখুন আমি কয়েকটি বিষয়ে এইখানে বলতে চাই |
     
    ১ | ইউক্রেইন্ এর ক্ষেত্রে দুটি বিষয় আছে | এক ভূ রাজনীতি ও দুই মানবিকতা | ইউক্রেইন্ এর রেফিউজি দের ব্যাপারে যে কাজ করছেন হীরেনবাবু আমি তাকে আগেও অকুন্ঠ সমর্থন করেছি এখনো করছি এবং আবার করবো |
     
    ২ | এটিও এখন প্রমাণিত সত্য যে আম্রিকা ও ইউরোপ এর রাষ্ট্রযন্ত্র গাত্রবর্ণ দেখে মানবত্ৰাণ করে | এর হাতে গরম নজির হলো যে যুদ্ধ করতে আম্রিকা ইউক্রেইন্ কে ৩ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে ও একই সময়ে পাকিস্তানকে বন্যাত্রান বাবদ মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডলার | অথচ পাকিস্তানের বন্যাতে গৃহহীন মানুষ এর সংখ্যা ইউক্রেইন্ এ যুদ্ধের গৃহহীন সংখ্যক মানুষের প্রায় দুইগুণ | আরেকটি কথা ইউক্রেইন্ কে অস্ত্র এর মধ্যেই কিনে দেওয়া হয়েছে অথচ পাকিস্তানকে শুধুমাত্র প্লেজ বা প্রতিশ্রুতি করা হয়েছে |  অর্থাৎ ইউক্রেইন্ এর যুদ্ধের অস্ত্রের দাম বেশি আম্রিকি মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স এর কাছে পাকিস্তানের বন্যাপীড়িত মানুষের তুলনাতে |
     
    এই দ্বিতীয় বিষয়ে আমার কথাকে সমর্থন স্বয়ং হীরেনবাবুর লেখাতেই পাওয়া যায় | আমি নিচে নামিবিয়া তে হলোকাস্টের প্রসঙ্গে হীরেনবাবুকে quote করলাম |
     
    "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বর্বরতা ও সামগ্রিক ইহুদি নিধনের জন্য জার্মানি বারবার ক্ষমা চেয়েছে বিশ্বের কাছে |  জেরুসালেমের yaad ভাশেম জার্মান রাষ্ট্রপতি চ্যান্সেলর হাঁটু গেড়েছেন বিনীত দুঃখে | ক্ষমা চেয়েছেন বিশ্বের কাছে | হলোকাস্টের জন্য শোক ও দুঃখ প্রকাশ করতে বিলম্ব হয়নি | আমার দীর্ঘ জার্মান প্রবাসে জেনেছি কি বিস্তারিতভাবে তারা আপন অপরাধ স্বীকার করেছেন | কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পের বন্দির সংখ্যা , তাঁদের জাতিগত পরিচয় কবে কে বিদায় নিলেন তার সব কিছুর নিখুঁত পরিসংখ্যান দিয়েছেন তাঁরা | কাগজ পত্রে হিসাবে কোনো ভুলচুক নেই |
     
       এরা যে সব শ্বেত ককেসিয়ান | কিন্তু নামিবিয়ার নৃশংসতার জন্য ক্ষমা চাইতে একশ বছরের বেশি লাগলো কেন ? তাঁরা কি কালো বলে ?"                 
     
    (সোর্স : "আমার আফ্রিকা" ,  হীরেন সিংহ রায় , দে পাবলিকেশন , অধ্যায় ৩ নামিবিয়া , পৃষ্ঠা ৫৫ 
     
    ৩ | আচ্ছা আরো একটি ব্যাপার দেখুন আম্রিকা ৩ বিলিয়ন ডলার দেবার জন্যই আসলে ইউক্রেইন্ এখনো অস্ত্র কিনছে , যুদ্ধ এখনো চলছে ও উক্রাইনের মানুষকে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দেশ ছাড়তে হচ্ছে | কাজেই এরপর থেকে যত উক্রাইনের মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে ও  হতাহত হতে হবে তার সম্পূর্ণ দায় বিডেন ও আপনাদের জেলেনস্কি এর |                                                                               
     
    আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম |
  • niemo | 103.135.229.46 | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০:০০511974
  • @হীরেনবাবু 
     
    আপনি যেইভাবে বাঙালির কাছে একেবারে বিশ্বের জ্বলন্ত ঘটমান ইতিহাস তুলে আনছেন একেবারে সাধারণ লোকের মুখের কথার ভাষাতে তার জন্য আপনার বাংলা সাহিত্যে অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে | আমার কাছে আপনি পথিকৃৎ যিনি বাঙালির কাছে ভূ রাজনীতিকে এতো সহজ সরল ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন |
     
    একটি জিনিস জানার খুব ইচ্ছে আছে আমার হিরেনবাবুর কাছে | একজন সাধারণ ইউরোপিয়ান এর কাছে একজন ইউক্রেইন্ রেফিউজি ও একজন আফগান বা সিরীয় রেফিউজি কে একই ভাবে দেখবে ? ইউরোপিয়ান রাষ্ট্র যন্ত্র কি একজন ইউক্রেইন্ রেফিউজি ও একজন আফগান বা সিরীয় রেফিউজি কে একই ভাবে দেখবে ?
     
     
  • :|: | 174.251.161.224 | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০:০১511975
  • দেখুন মতামতের কিছু নাই। যুদ্ধ আর বন্যা যে দুটো আলাদা ডিসাস্টার সেটা কি আপনি মানেন? যদি মানেন তবে দুটোর ত্রাণ নিয়ে একই প্রশ্ন বারবার করবেননা। বারবার করলেই বোকা প্রশ্ন বুদ্ধিদীপ্ত হয় না। 
    আর যদি যুদ্ধ আর বন্যা দুটি ব্যাপারের মধ্যে ডিস্ক্রিমিনেট  না করতে পারেন তবে সেই ফ্যাকাল্টিটা ডেভেলাপ করুন গে যান। যত্তসব!  
  • dc | 2401:4900:1cd1:c5d4:548d:5482:1853:3f5c | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০:১৮511976
  • এনার সাথে এনগেজ না করলেই বোধায় ভালো হয়। 
  • niemo | 146.196.44.218 | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৫৬512020
  • @চার চোখো 
     
    "যুদ্ধ আর বন্যা যে দুটো আলাদা ডিসাস্টার সেটা কি আপনি মানেন? যদি মানেন তবে দুটোর ত্রাণ নিয়ে একই প্রশ্ন বারবার করবেননা।"
     
    আপনি আমার লেখার মানে বোঝার মতো ইন্টেলেকচুয়াল ফেকাল্টি ডেভেলপ করেননি বলেই এইধরণের মন্তব্য করলেন | আমি মনে করি যে ডিসাস্টার যাই হোক না কেন তাতে আক্রান্ত মানুষের উপর same compassion দেখানো উচিত | আমি বলতে চেয়েছিলাম যে ইউরোপ ও আম্রিকার রাষ্ট্রযন্ত্র ইউক্রেইন্ ও পাকিস্তানে তাদের নিজেদের racical বায়াস অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন রেসপন্স করেছে |
    ইউরোপ ও আম্রিকা তে এখন অনেকেই আমি যা বলছি সেই একই কথা বলছেন |  আপনাদের মতো আইভরি টাওয়ার ইন্টেলেকচুয়াল যাদের কখনই সাধারণ মানুষের মধ্যে মেশার সুযোগ ঘটেনি এর পক্ষে এইসব বোঝা সম্ভব নয় | আপনারা বাঙালির নাম কলংকিত করছেন |
     
    সবচেয়ে বড়ো কথা হীরেনবাবু স্বয়ং তার বই আমার আফ্রিকা তে নামিবিয়া অধ্যায়টিতে যা বলেছেন এই প্রসঙ্গে তার সঙ্গে আমার বক্তব্যের পুরোপুরি মিল | আশা করি আপনি হিরেনবাবুকে ইন্টেলেক্চুয়াল্ ফ্যাকাল্টি underdeveloped বলার মতন ধৃষ্টতা করবেননা |
  • এইত্তো | 2a03:e600:100::83 | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০৯512022
  • ছাগুটার নখ শিঙ বেরিয়ে পড়েছে।
     পাকি স্তানে প্রকৃতির ন্যাচারাল সিলেকশানে সন্ত্রাসবাদী ঝাঁকবেধে মরলে ক্ষতি নেই বরং পৃথিবীর জন্য ভাল হবে। সুস্থভাবে বাঁচতে জানে নাকি পাকুগুলো? এদিক ওদিক বোমা মেরে বেড়াবার চেয়ে নিজেদের ঘটি বদনা সামলাক বসে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন