ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় ২৭ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৮ জুন ২০২২ | ৫৮২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)

  • মাইন নদী মেশে রাইনের সংগে - মাইনতস 

    রব নীরবে

    হাইন্তস-পেটার হোফমান আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু । আলাপটা কর্মসূত্রে । মাইন্তসের  লান্দেসবাঙ্ক রাইনলানড ফালতসে কাজ করত । পরে জার্মানির বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজার ডেকা বাঙ্ক থেকে অবসর নিয়েছে ।  বাণিজ্যের বার্তালাপ শেষ : হৃদয়ের যোগ থেকে গেছে।

    মাইন নদী ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে চল্লিশ কিলো মিটার বয়ে এসে তার যাত্রা সমাপন করে  পিতা রাইনের ( ফাটার রাইন ) কোলে আশ্রয় নেয়  এই মাইন্তসে । পেটারের আদি  বাড়ি  রাইন ধরে আরেকটু বেয়ে গিয়ে বাঁ ধারের ছোট্ট গ্রাম   বাখারাখ । এই নামটি আপনাদের অনেকের চেনা মনে হতে পারে – রেনড্রপস কিপ ফলিং অন মাই হেড গানটি লিখেছিলেন বার্ট বাখারাখ , অস্কার পান ।  জন্মসূত্রে ইহুদি,  তাঁর পূর্ব পুরুষ বহুকাল আগে জার্মানি ছেড়ে আমেরিকা গেছেন , বাখারাখ পদবি ত্যাগ করেন নি !
     

    বাখারাখ 
     
     
    পেটারের স্ত্রী  মারিনা মাইন্তসের তসে ডে এফ ( তস্বাইতেস ডয়েচেস ফ্যারনজেহেন বা দ্বিতীয় জার্মান দূরদর্শন ) নামক সরকারি মালিকানাধীন  বিশাল টি ভি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন । সেই সূত্রে টি ভি নিয়ে অনেক গল্প গুজব হতো।আটের দশকের মাঝামাঝি অবধি আমার জার্মান প্রবাস।  টেলিভিশন ছিল অসম্ভব ক্লান্তিকর , বোরিং । সেটা বললে তাঁদের  জাতীয়তাবাদে আঘাত লাগত না- অনস্বীকার্য তথ্য তারা বলতেন ডাচ টিভি নাকি আরেক কাঠি সরেস!


    বাখারাখের সোনালী ওয়াইন পান করুন 
     
     
    তখন জার্মানিতে দুটি জাতীয় চ্যানেল,  একটি স্থানীয় । সবই সরকারি সন্ধ্যে ৭.১৫ থেকে ৭.৩০ অবধি কার্টুনে কিছু বিজ্ঞাপন দেখানো হতো । প্রাইম টাইমে  হ্যার নোভোতনি নামক এক ব্যক্তি “ বনার রুনডে “ বলে  এক রাজনৈতিক কচকচির অনুষ্ঠান করতেন। সন্ধে ছটায় ভেঁপু বাজিয়ে শুরু, রাত্তির এগারোটায় শেষ । ব্যঙ্গ কৌতুকের স্থান সীমিত, সরকারকে নিয়ে কদাচ।

    সেটা বদলে গেছে  পরের দুই দশকে । এখন জার্মান টেলিভিশন ( ফ্যারনজেহেন – তার সরাসরি বাঙলা অনুবাদ দূরদর্শন !) শুধু যে দিন রাতের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাই নয় , এক নির্মম জার্মান সেন্স অফ হিউমরকেও  সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে । সাংবাদিক  স্বাধীনতায়  সকল নরডিক দেশ এমনকি জামাইকার তলায় হলেও ব্রিটেন বা আমেরিকার  অনেক অনেক ওপরে জার্মান প্রেস । এঁদের আক্রমণ থেকে কেউ নিরাপদ নন।

    ইউক্রেন যুদ্ধ আরম্ভ হতেই জার্মান সংবাদ মাধ্যম  খুঁজে পেলো এক অনন্য খলনায়ককে  – চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস !

    অথ শলৎস ব্যাখ্যান

    রেডেন ইসট  জিলবারন
    শোয়াইগেন ইসট শলৎস

    বাক্য হয়  রৌপ্য ময়
    নীরবতার নাম শলৎস

    অনুবাদে এই দুরন্ত কৌতুকের ধার কমে যায় ! জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর শলৎস বাক  সংযমে  বিশ্বাসী। হামবুর্গের মেয়র হিসেবে এবং ফ্রাউ মেরকেলের ক্যাবিনেটে ডেপুটি চ্যান্সেলর পদে থাকাকালীন তিনি কম কথা বলে জনসংযোগের  এক অনবদ্য ঐতিহ্য স্থাপনা করেছেন । প্রশ্নের উত্তরে কখনো থাকেন নির্বাক অথবা তাঁর জবাব সম্পূর্ণ ভিন্ন দিশায় চলে যায়। সেদিন জার্মান টেলিভিশনে এক সাংবাদিক জানতে চাইলেন  শলৎস শেষ কবে মিথ্যা ভাষণ করেছেন।  তিনি খানিক ভেবে বললেন সেটা তাঁর মনে পড়ে না। এটি চ্যান্সেলর  শলৎসের আরেক চমৎকার – তিনি ভুলে যান  খুব সহজেই ।

    প্রায় হরশাদ মেহতার স্টাইলে জার্মান শেয়ার ট্রেডিঙের ইতিহাসে হয়তো সবচেয়ে বড়ো ট্যাক্স ফাঁকি দেবার চক্রজাল ফাঁদে  হামবুর্গের কুমইক্স নামক এক প্রতিষ্ঠান।   এর বিজনেস মডেল একটু শক্ত – কোনো কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণার একদিন আগে তিনজনের  একটি বৃত্ত তৈরি হয়।  তাঁদের মধ্যে একজন সত্যিকারের শেয়ারের ওপর ডিভিডেন্ড পান,  তার ওপরে কর দেন, একজন সেই একই শেয়ার শর্ট সেল করেন তৃতীয় জনকে।  প্রথম জন পরের দিন শেয়ার বেচেন তৃতীয়কে । ফলত তাঁরা ডিভিডেন্ডের ওপরে দেয় ২৬% ট্যাক্স ফাঁকি দিতে সক্ষম হন।  নাটের গুরু ছিল এম এম ওয়ারবুরগ ব্যাঙ্ক ( পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক ) । চার কোটি  ইউরো জরিমানা দিয়ে তারা ছুটকারা পেয়েছে । হামবুর্গের তৎকালীন  মেয়র শলৎস বলেছেন তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না । বোর্ডের রেকর্ডে তার উপস্থিতির প্রসঙ্গ  মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন তাঁর সে কথা মনে পড়ছে না।

    আজকাল একটি নতুন ক্রিয়াপদের আবির্ভাব হয়েছে – শলৎসেন ।  তার প্রয়োগের একটি দৃষ্টান্ত

    ইখ শলৎসে -আমি ঠিক মনে করতে পারছি না অথবা আমি কি বলছি ঠিক জানি না ।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকে চ্যান্সেলর শলৎসের  স্মৃতি ভ্রম, সাময়িক  নীরবতা এবং বিভ্রান্তিকর মন্তব্য তাঁর ক্যাবিনেটের কোয়ালিশন মেম্বারদের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে  ট্রামপোলিনে লম্ফ ঝম্ফ করে মেডেল জিতে যিনি রাজনীতিতে উচ্চ স্থানে পৌঁছেছেন সেই আনেলেনা বেয়ারবক , জার্মানির বিদেশ মন্ত্রী,  অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়েছেন -  ‘ পরিষ্কার করে বললে ভালো হয়”।  

    যখন বরিস জনসন থেকে শুরু করে একাধিক ইউরোপিয়ান প্রধানমন্ত্রী যেমন পোল্যান্ডের মারিভিয়েচকি , চেকের ফিয়ালা, স্লোভেনিয়ার ইয়ান্সা এমনকি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডের লাইয়েন  নিয়মিত কিইভের পথ পরিক্রমা অন্তত মৌখিক সহানুভূতি নিবেদন করছেন  , জার্মানি সেখানে অনুপস্থিত ।

    এপ্রিল মাসে  ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলিনসকি  বললেন জার্মানদের রাশিয়ার প্রতি বড়োই  পিরিতি, তারা গ্যাস কিনছে রুবেলে,  তেলের পাইপ বন্ধ করে নি । তাহলে তাঁদের নেতাদের আর কিভে এসে কাজ নেই । পাশের দেশ পোল্যান্ডে গিয়ে  প্রেসিডেন্ট স্টাইনমায়ার বললেন আমাদের ভুল হয়েছে । আমরা পুতিনের মতি গতি ঠিক বুঝি নি। নরডস্ট্রিম পাইপলাইনের কাজটা হাতে নেওয়া ঠিক হয় নি ( যদিও তার কর্ণধার ছিলেন আরেক রিটায়ার্ড চ্যান্সেলর গ্যারহার্ড শ্রয়েডার)।

    শলৎস তাঁর কোয়ালিশনের গ্রিন পার্টি ও ফ্রি ডেমোক্রাট দলের দুই সদস্যকে পাশে নিয়ে প্রেসের সামনে বললেন রাষ্ট্রপতির এই অবহেলা জার্মানির কাছে এক সমস্যার সৃষ্টি করেছে । অতঃ তিনি একদিনের জন্য  টোকিও  গেলেন। ।সেখানে  সাতাশটি মিটিং করে ঘায়েল হয়ে দেশে ফিরেছেন । অদম্য শলৎস এর পরে দেখা দিলেন সেনেগাল, নিজের , দক্ষিণ আফ্রিকায় এমনকি সুইজারল্যান্ডে । কিভ থেকে তাঁর পথ অনেক দূরে গেছে বেঁকে 

    একটি পুরনো বাঙলা গানের দুটো লাইন  মনে পড়ে- 

    এইতো বেশ এই নদীর তীরে বসে গান শোনা
    একটি দুটি কথা , একটু  মাঝে মাঝে আনমনা 

    সবচেয়ে বেশি দিন বিদেশ মন্ত্রীর পদে বহাল থাকার রেকর্ড আন্দ্রে গ্রোমিকোর । জন্ম সূত্রে বেলা রুশিয়ান, গ্রোমিকো  সোভিয়েত ইউনিয়নের বৈদেশিক দফতরের ভার বহন করেন  আঠাশ বছর যাবত ( ১৯৫৭ – ১৯৮৫)।  ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সময় তিনি বিশ্বের সকল আন্তর্জাতিক সভায় দৃশ্যমান: শব্দ ব্যবহারে তাঁর সংযম  প্রবাদ স্বরূপ। রাষ্ট্রপুঞ্জে পশ্চিমের সব প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন বলে দুষ্টু লোক তাঁকে  মিস্টার নিয়েত আখ্যায় বিভূষিত  করেছিল।  কিন্তু  তাঁর আসল দক্ষতা ছিল হ্যাঁ বা না কোনটাই না বলা । মানে সেই অ্যাও হয় ,  ওয়াও হয়। শোনা যায় তাঁর মুখ থেকে ইতি বা নেতি বাচক শব্দ শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে হেনরি কিসিঙ্গার একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করেন – আপনার আজকের প্রাতরাশ কি ভালো ছিল ?

    একটু ভেবে গ্রোমিকো বলেন , “ সম্ভবত “ ( পারহ্যাপস ) ।

    এই  যুদ্ধে ইউরোপের বহু দেশ ইউক্রেনকে অস্ত্র সহ অন্যান্য সাজ সরঞ্জাম সরবরাহ করছে । জার্মানির উপহার এ অবধি হ্যান্ড গ্রেনেড । জার্মানির রাইন মেটাল বানায় লেওপারড ট্যাঙ্ক । সরকারের কথা মত তারা একশো ট্যাঙ্ক রেডি করে রেখেছে – পাঠাতে গেলে প্রতিরক্ষা দফতরের অনুমতি লাগে।  ছ সপ্তাহ সেই কাগজ বার্লিনের কোন আফিসের ধুলায় হচ্ছে ধূলি। মারডার নামক আরেক শক্তিশালী ট্যাঙ্ক পাঠানোর আবেদন পেয়ে শোলৎস বললেন, ‘ ওগুলো ইউক্রেনকে দিলে জার্মানির নিজস্ব প্রতিরক্ষা বিপন্ন হতে পারে । ‘

    আক্রমণের আশঙ্কা কোথা থেকে ? রাশিয়া ?

    শলৎসের  পরের প্রস্তাব আরও আকর্ষণীয় – জার্মানি স্লোভেনিয়াকে মার্ডার  ট্যাঙ্ক পাঠাতে পারে।  লুবলিয়ানা না হয় রাশিয়াকে পৌঁছে দিক । সাংবাদিকরা বললেন, ‘ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলি বলছে এই যুদ্ধে ইউক্রেনের জয় হোক। আপনি কি বলেন ‘ ?

    শোলৎস বললেন ‘ আমি চাই ইউক্রেনের সীমান্ত অপরিবর্তিত থাকুক (বেশটেহেন ব্লাইবেন ) “

    “লুহান্সক দনেতস্ক ডনবাস ক্রিমিয়া  বাদে না তাদের নিয়ে ? “

    শলৎস নীরব।

    যুদ্ধে হার জিত থাকে । আপনি কি অমীমাংসিত খেলার অপেক্ষা করছেন ?

    শলৎস নীরব।

    অনেকদিন আগে চেলসি ফুটবল দলের একটি শার্টে লেখা দেখেছিলাম –
    সাম ইউ উইন সাম ইউ লুজ
    আদারস ইউ ড্র

    সেখানে এক পয়েন্ট মেলে !

    জার্মানি গাজপ্রম ব্যাঙ্কে রুবেল আকাউনট খুলেছে । মহামতি পুতিন প্রসন্ন। তেল ও গ্যাসের ধারা জার্মানিতে আজ হোক না হারা । আশ্চর্যের বিষয় এই যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের স্যাঙ্কশন প্রস্তাবে গাজপ্রম ব্যাঙ্কে  আকাউনট খোলার বাধা নেই ।

    একি মায়া, একি ছলনা ? বোঝা গেলো না ।

    রুবেল নাহি দিব ঘোষণা করায় পোল্যান্ড বুলগারিয়া এবং ফিনল্যান্ডের গ্যাস  পাইপলাইনে তালা মেরে দিয়েছে রাশিয়া । এই দেশ গুলি জানিয়েছে হাম কুছ না কুছ প্রবন্ধ করলেঙ্গে । অতএব আমেরিকান এল এন জি বহনকারী  ট্যাংকারের আগমন আসন্ন।

    আঙ্গেলা মেরকেলের ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রাটিক ইউনিয়নের এক প্রবীণ সদস্য নোরবারট রুইটগেন সম্প্রতি বলেছেন ”  আমরা চালাচ্ছি স্রেফ আউট সোরসিং করে - আমাদের গ্যাস ও তেল দ্যায় রাশিয়া, মাল সরবরাহ করে চিন আর প্রতিরক্ষার কাজটা দেখে আমেরিকা “।

    ডাক্তারের  ব্যামো

    দেড়শ রাজা রাজড়া আর শ দুয়েক  জমিদার একত্রিত হয়ে নতুন জার্মান রাষ্ট্রের যে পতাকাকে স্যালুট করলেন সেটি আসলে লাল সাদা কালো প্রাশিয়ান ঝাণ্ডা।  প্রাশিয়ান সম্রাট হলেন সকল জার্মানের প্রভু । দেশটা চালাতেন  কিছু জেনারাল ,  অভিজাত সম্প্রদায় এবং বড়ো চাষিরা  ( ইউঙ্কারস )। নামের পেছনে ফন না থাকলে জুতসই কাজ পাওয়া শক্ত ছিল ।  রাজতন্ত্রের অবসানে অভিজাত সমাজের সুদিন ফুরুলো । আগস্ট ১৯১৯ সালে লিখিত ভাইমার সংবিধানে অভিজাত মানুষদের খেতাব, সুবিধা এবং আইন থেকে বাঁচোয়া ( ইমিউনিটি ) বাতিল হলো – ১৯৬৯ সালে ভারতে প্রিভি পার্স বন্ধ করে দেওয়ার মতন । ফন খেতাবটি ছিল ব্রাহ্মণের পইতের মতন , ওইটি দেখালে সর্ব সুবিধা মিলত ।  তবে তাঁদের প্রতাপ সহজে বিলীন হয় নি। হিটলারের জেনারালরা প্রায় সবাই ছিলেন ফন অমুক ফন তমুক । আবার অধিকন্তু ন দোষায় বিধে একই নামে ফন এবং তসু দেখা গেছে – এমুড়ো থেকে ওমুড়ো অভিজাত !  সামাজিক সম্মানের ভোল পালটালো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে । ফন খেতাব বিড়ম্বনার বস্তু  হয়ে দাঁড়ায় । আমার এক বস ছিলেন ফন ভাঙ্গেনহাইম । তাঁকে নিয়ে আড়ালে আবডালে প্রচুর রসিকতা হতো ।

    সৈয়দ মুজতবা আলী জার্মান ডক্টরদের বিস্তারিত বয়ান দিয়েছেন  । এটাও জানিয়েছেন একজনের দুটো ডক্টর উপাধি থাকলে তাঁকে হ্যার ডক্টর ডক্টর বলে সম্বোধন করাটা নিয়মসিদ্ধ, অন্যথায় তাঁর অপমান হয়। । প্রাশিয়ান আমলের ফন খেতাবধারীরা ডক্টর হবার পরিশ্রমকে পণ্ডশ্রম মনে করেছেন- নামের পেছনে ফন তাবিজটা থাকলে বিদ্যে বাড়িয়ে আর কি লাভ ? সিসিল রোডস  যেমন বলেছিলেন ইংরেজ হয়ে জন্মালেই মনে করো লটারির পয়লা প্রাইজ পেয়ে গেলে।

    ১৯৪৯ সালে নতুন সংবিধান  চালু হলে দেখা গেলো ডক্টর পদবির দাম অসম্ভব বেড়ে গেছে - এককথায় এই নতুন সমাজে ডক্টর হলো ফনের বিকল্প, এরসাতস , কৌলীন্যের প্রতীক, বামুনের পইতে ।
    ডাক্তার হবার ব্যামোতে  ক্রমশ জার্মান সরকারের মন্ত্রীরা অবধি  আক্রান্ত হয়েছেন। খেটে খুটে বিদ্যে বাড়িয়ে কোন মন্ত্রী যদি ডক্টর খেতাব অর্জন করতে চান অথবা সেই এলেম হাসিল করে তবে মন্ত্রী হতে চান সে অতি সাধু প্রস্তাব। সমস্যা তখনই দেখা দেয় যখন এই প্রয়াসটি সৎপথে সাধিত না হয়।  

    দুনিয়ার মহা মানবরা  কখনো পরীক্ষায় টোকাটুকি করেন নি  এ কথা যেমন সত্য তেমনি আমাদের মতন একাধিক বালখিল্য সর্বদা সত্যের পথে চালিত হয় নি সেটাও সত্য। নিজের কথাই বলি- একটা সোজা লাইন টানতে পারি না । ক্লাস নাইনে উড ক্রাফটের শেষ পরীক্ষার প্রশ্ন  এলো – একটি জলচৌকি আঁকো ।  মনে মনে আমাদের শিক্ষক উডুকে  ( পিতৃদত্ত নাম বিশ্বনাথ মণ্ডল ) গালমন্দ করেছি।  সতু  সেটা নিখুঁত এঁকে আমার খাতার সঙ্গে পিন দিয়ে জুড়ে না দিলে উড ক্রাফট পরীক্ষায় আমার পাশ করার কি কোন সম্ভাবনা ছিল ?

    নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দিরে ক্লাস নাইনের পরীক্ষায় টোকা এক রকম  । কিন্তু  জার্মান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট বা বার্লিনের মেয়র যদি সেটা করেন তাহলে কি বলবেন ? সাধে কি বলছি ডাক্তারের ব্যামো ?

    কার্ল থিওডোর য়োহান ইয়াকব ফিলিপ য়োসেফ  ফ্রিডরিখ বুল ফ্রাইহের ফন উনড তসু গুটেনবেরগ-   
    এই  লম্বা নাম একটা  মানুষের । তবে তিনি ভদ্রতা সহ লোকের জিহ্বা এবং স্মৃতিশক্তির ওপরে কর না চাপিয়ে নিজেকে কার্ল থিওডোর তসু গুটেনবেরগ বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।  ২০০২ থেকে দশ বছর তিনি জার্মান পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন।  তার মধ্যে এক বছর অর্থনীতি ও টেকনোলজি ও দু বছর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী । এই হাজার  কাজের মধ্যে তিনি ২০০৭ সালে বাইরয়েথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকান এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সংবিধানের ওপরে থিসিস লিখে ডকটর অফ ল পদবিতে বিভূষিত হলেন।  ২০১১ সালে কোন দুষ্টু লোক সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জানাল কার্ল থিওডোর এটি স্রেফ টুকেছেন । তদন্ত হলো , ডিগ্রি ফেরত নেওয়া হল।  প্রতিরক্ষা  মন্ত্রিত্ব থেকে বিতাড়িত হয়ে কার্ল থিওডোর মনের দুঃখে আমেরিকা চলে গেলেন । অভিজাত পরিবারে জন্মেছেন , পৈত্রিক প্রাসাদসম দুর্গ  আছে,  অর্থের কোন সীমা নেই।  প্রাশিয়ান আমলে এটাই যথেষ্ট ছিল কিন্তু এই জার্মানিতে ডকটর আখ্যায় ভূষিত হওয়াটা  তার চেয়েও জরুরি ।


    কার্ল থিওডোর তসু গুটেনবেরগের পৈত্রিক দুর্গ - গুটেনবেরগ 
     
    আঙ্গেলা মেরকেলের মন্ত্রীসভায়  ডকটর ফ্রান্তসিস্কা গিফি নারী শিশু এবং পরিবার দফতরের মন্ত্রী ছিলেন।  একদিন জানা গেলো তিনি এখান ওখান থেকে টুকে বার্লিন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর থিসিস সাবমিট করেছিলেন।  তিনি কান্নাকাটি করে বললেন তাঁর ডিগ্রি যদি ফেরৎ নেওয়া হয় তিনি মন্ত্রিত্বে পদাঘাত করবেন। ডক্টরেট দেবার এগারো বছর বাদে বার্লিন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর ডিগ্রি বাতিল করেছে । ফ্রাউ গিফি তাঁর কথা রেখেছেন তিনি মন্ত্রিত্ব  ত্যাগ করেছেন ।

    ফ্রান্তসিস্কা গিফি এখন বার্লিনের মেয়র।

    জার্মানির বিদেশ মন্ত্রী, গ্রিন পার্টির  আনালেনা বেয়ারবক গত বছর সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে একটি কেতাব প্রকাশ করেন – “ এখনি । আমরা কিভাবে দেশকে নতুন করে তুলব “ । তৎক্ষণাৎ সামাজিক মাধ্যম তাঁর পেছনে লাগলো – একটা বই লিখতে তিনি বারোটা জায়গা থেকে টুকেছেন । স্বীকৃতি দেন নি কোন সূত্রকে।  তিনি সে বইটি বাজার থেকে তুলে নিয়ে এখন জার্মান বিদেশ মন্ত্রক দেখেন  ।

    মেরকেলের আমলে এক শিক্ষামন্ত্রী আনেতে শাভান তাঁর ডিগ্রি হারালেন ২০১৩ সালে।  মত্রিত্ব গেলো ।

    ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিলভানা কখ - মেহরিণ একই ভাবে ডিগ্রি ও চাকরি হারান ।

    ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বর্তমান প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লাইয়েনের ডকটর পদবিতে গোঁজামিল আছে শোনা গিয়েছিল।  ওদিকে তাঁর জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রিত্বের সময়ে কাজে কর্মে এবং ঘোর দুর্নীতির  কারণে একাধিক মামলা ঝুলছে। তবে তিনি একেবারে টেফলন ।  তাঁর কাজ যায় নি।  তিনি বললেন উদ্ধৃতিতে কিছু ভুলভাল হয়েছে।   গভীর  দুঃখ প্রকাশ করেছেন।  

    জার্মানির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার স্টাইনমায়ারের ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে অনুরূপ বিতর্ক ওঠে।

    তবে ওহ ভি বচ গয়ে ।

    পেটার  সেদিন বললে “ আমরা খেটে খুটে একটা ডিগ্রি ডিপ্লোমা যোগাড় করে কাজে ঢুকি – তারপরে পড়াশোনার দিকেও যাই না । আর এঁদের দেখো-  চাকরি , বাড়ি , ড্রাইভার শুদ্ধু গাড়ি সব জুটেছে মুফতে তবু তাঁরা ডক্টর হতে চান !  আগের রক্ষা মন্ত্রী খাতা জাল করলেন , পরের জন করেও বেঁচে গেলেন আর বিদেশ মন্ত্রী টুকে বই লেখেন! এঁরা সামলাবেন ইউক্রেন সমস্যা ? “  

    এটাকেই বলি ডাক্তারের  ব্যামো !

    জুন , ২০২২ 
     
    পু: শলৎস বাল্টিক সফরে গিয়ে ভিলনিউসে গতকাল ঘোষণা করেছেন জারমানী নাটোর পূর্ব ফ্রন্টকে শক্তিশালী করবে। 
    ৭.৬.২২
  • আলোচনা | ০৮ জুন ২০২২ | ৫৮২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit | 121.200.237.26 | ০৯ জুন ২০২২ ০৪:২০508634
  • জার্মানি র মতো অনেক দেশই মনে হয় শুধু মুখেই যত  গণতন্ত্র হিউমান রাইটস ইত্যাদি ভারী ভারী জ্ঞান দেয়। কাজের বেলায় আগে চুপচাপ নিজের আখের টা গুছিয়ে নেয়- বাকিরা চুলোয় যাক। কোথাওই পলিটিক্স টা কোনো প্রিন্সিপল মেনে হয়না। ওসব শুধু আদতে প্লেয়িং টু দা গ্যালারি। তফাৎ বলতে শুধু কেও কেও স্যুটবুট পরে পলিশড ভাবে টুপি পরায়। আর কেও কেও এসব পালিশ টালিশ র ধার ধারে না। 
  • Ranjan Roy | ০৯ জুন ২০২২ ১০:২২508659
  • আহা,  তালাত মামুদের সেই সোনালী দিনের গানগুলো!
      আমাকে বরাহনগর মিশনের Wood Craft টেস্টে  পায়ের আরাম  আর একটা Tenon Saw আঁকতে হয়েছিল। 
     
     
     
    অমিত
     একদম ঠিক, সবাই আগে নিজের দেশের স্বার্থ দেখে।  বাকিটা ঢ প!
     
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ০৯ জুন ২০২২ ২০:০৬508705
  •  “ আমরা খেটে খুটে একটা ডিগ্রি ডিপ্লোমা যোগাড় করে কাজে ঢুকি – তারপরে পড়াশোনার দিকেও যাই না । আর এঁদের দেখো-  চাকরি , বাড়ি , ড্রাইভার শুদ্ধু গাড়ি সব জুটেছে মুফতে তবু তাঁরা ডক্টর হতে চান !  আগের রক্ষা মন্ত্রী খাতা জাল করলেন , পরের জন করেও বেঁচে গেলেন আর বিদেশ মন্ত্রী টুকে বই লেখেন! এঁরা সামলাবেন ইউক্রেন সমস্যা ? “  
    সেই একজনকে মনে করে বলি - কচু-হাতি-ঘন্টা।
  • হীরেন সিংহরায় | ০৯ জুন ২০২২ ২২:৫৪508709
  • সেই জনই আমার বান্ধব দার্শনিক পথ প্রদর্শক । আমার নিত্য স্মরনীয় গুরু মুফতি মৌলা - তিনি আরো বলেন: কশু হাটি গনটা! 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ১০ জুন ২০২২ ১৭:৩২508723
  • হীরেনদা, মুফতি মৌলা সম্পর্কে কিছু জানা নেই। একটু আলোকিত করবেন কি? 
  • হীরেন সিংহরায় | ১০ জুন ২০২২ ১৮:০৭508725
  • মুফতি আইনের পথ মৌলা জ্ঞানের জীবনের পথ প্রদর্শক - আলী সায়েবের ভাষ্য ধরে 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ১০ জুন ২০২২ ১৮:৫৬508727
  • মুফতি আইনের পথ মৌলা জ্ঞানের জীবনের পথ প্রদর্শক - তাই ত, একেবারে ঠিক। আলী সাহেব তুলনাহীন। এই সুযোগে আমার মুগ্ধতাটুকু জানিয়ে রাখি, ওনার লেখা থেকে যে তৃপ্তি পেতাম আজ কতযুগ বাদে আপনার লেখা থেকে আমি সেই স্বাদ পাচ্ছি। এক বিরল ঘরানার উত্তরাধিকারী আপনার উপর গুরুর আশীর্বাদ আরো বর্ষিত হোক।
  • guru | 103.211.20.198 | ১১ জুন ২০২২ ১৭:১২508799
  • @রঞ্জনবাবু আপনিও কি বরাহনগর মিশনের পাস আউট নাকি ? কোন বছরের ?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন