এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় ৩৯ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২০ আগস্ট ২০২২ | ৬৪৪ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • মহান পিটার ,  মহামতি পুতিন

    এবারের সংগ্রাম উত্তরের সংগ্রাম



    ক্রিসটা বললেন আগামী রবিবার একটি গ্রুপ নিয়ে নারভা  যাওয়ার কথা । কিন্তু পুরনো দিনের শাসকদের স্মারক সরানো নিয়ে বেজায় গোলমাল বেধেছে।

    ক্রিসটা পিসুকে এস্টোনিয়ার তারতুতে ইংরেজি পড়ান। ছুটিছাটাতে টুরিস্টদের  এস্টোনিয়া তথা ইউরোপ পরিভ্রমনে গাইডের কাজ  করে অতিরিক্ত  দু পয়সা অর্জন করে থাকেন । এমনি ভাবে  একবার  লন্ডনে তাঁর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল যেটি আজও বজায় আছে।

    আমি বললাম  ‘ ঘোড়ায় চড়া ব্রিটিশ শাসকদের মূর্তি আমরা কবেই সরিয়ে ফেলেছি। এ নিয়ে ব্রিটেন কেন, সেই সব পরলোকগত ঘোড়সওয়ারদের পুত্র কলত্র অবধি আমাদের সঙ্গে কোন বিবাদ করেন নি ‘।


    টি-২৪
     
    ক্রিসটা বললেন, “  ইংরেজ আপনাদের দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে অনেকটা  দূর অতীতে । তাঁরা আবার এসে রাজ্যপাট  বসাবেন এমন ধারণা কি কেউ পোষণ করেন ? আমাদের  রাশিয়ান প্রভুরা ফিরে গেছেন নিতান্ত অনিচ্ছা সহকারে, এই  তিরিশ বছর আগে।  এস্টোনিয়ার সারা সীমান্ত বরাবর আর বিশেষ করে উত্তরে একটি নদীর অপর পার থেকে আমাদের নিরন্তর পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন।


    পথের নিশানা 

    ইতিহাস এবং রাজনীতির বিচিত্র মিশ্রণে  উত্তর এস্টোনিয়ার নারভা গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র শহর যেখানে রাশিয়ানদের প্রাধান্য । চল্লিশ শতাংশ নাগরিকের এস্টোনিয়ান পাসপোর্ট , বাকিদের রাশিয়ান পাসপোর্ট। নব্বুই  শতাংশ  মানুষ রাশিয়ান বলেন । দোকানে বাজারে আর কোন ভাষা শোনা যায় না।   ক্রিসটা কমিউনিস্ট যুগে স্কুলে কলেজে গেছেন,  রাশিয়ান শেখা আবশ্যিক ছিল ।এখন নারভায় , তাঁর   আপন দেশে সেই বিদেশী ভাষাটি ব্যবহার করে গাইডের কাজ করেন।  নিজ বাসভূমে পরদেশি ?

    আমাদের কাছে সেটা নিতান্ত স্বাভাবিক। চেন্নাই গেলে আমরা পুরনো রাজার ভাষায় কথা বলি। মোবিন ভাই বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত কোম্পানির উচ্চপদস্থ মানুষ ছিলেন । মনে পড়ে  বহু বছর আগে আমাকে বলেছিলেন– “ দাদা কলকাতা গেলে বাংলা বলার কোন প্রয়োজন হয় না “ ।

    ক্রিসটা আরও বললেন , “  দৈনিক ভিসার ভিত্তিতে অনেক রাশিয়ান নারভা শহরে কেনা কাটা করতে আসেন ।  তাদের দেশে অনেক কিছুই অমিল। ফেরেন সন্ধ্যে বেলা। কোনদিন যদি তাঁরা গাড়ির বদলে ট্যাঙ্কে চড়ে বাজার  করতে আসেন, তাদের ফেরানো শক্ত হবে।

    এস্টোনিয়ার উত্তর প্রান্তে নারভা নদী গিয়ে মেশে গালফ অফ ফিনল্যান্ডে ।একটি সেতুর এক দিকে রাশিয়ান ইভানোগরোদ অন্যদিকে এস্টোনিয়ান নারভা শহর । রাজধানী টালিন বাগড়া না দিলে নারভা হানসা লিগের সদস্য হতে পারতো । রাশিয়ার সঙ্গে এস্টোনিয়ার প্রথম সাক্ষাতকার ঘটে ১৭১৪ সালে যখন জার মহান পিটার তাঁর উত্তরের যুদ্ধে জয়ী হয়ে , সুইডেনকে খেদিয়ে এমন এক দেশের দখল নিলেন যাদের ভাষা,  অক্ষর আলাদা । এমনকি ধর্মটাও ঠিক মেলে না। পরের দু শো বছর সে দেশটাকে দাবিয়ে রাখলো  সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া,  মহান অক্টোবর বিপ্লবে তার  অবসান ঘটলেও পুরনো জমিদারি ছেড়ে দেওয়ার কোন সংগত কারণ মহামতি লেনিন দেখেন নি।  পাঠালেন তাঁর সৈন্য সামন্ত।  নব গঠিত সোভিয়েত ইউনিয়নের দৌড় তখন সীমিত। -  ভুঁইফোঁড় এস্টোনিয়া ঘোষণা করল আপন স্বাধীনতা ( তারতু /দরপাত চুক্তি ১৯২০) ।

    এস্টোনিয়ার স্বাধীনতা স্থায়ী হয়েছিল মাত্র বিশ বছর – নাৎসি জার্মানি এবং  সাম্যবাদী সোভিয়েত ইউনিয়নের মৈত্রী চুক্তি অনুযায়ী হিটলার মিত্র   স্টালিনকে জানালেন তিনি স্বচ্ছন্দে  লড়কে এ দেশ দখল করতে পারেন তাঁর সঙ্গে লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া ফাউ পরের ধনে পোদ্দারি করার এই মহাসুখ । বাড়তি সুব্যবস্থা হিসেবে লাখ খানেক  বালটিক জার্মানকে  স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করার আদেশ দিলেন। তারপর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ । হিটলারের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক মহামতি স্টালিন তাঁর পাওনা গণ্ডা বুঝে নিলেন- ভার নিলেন এস্টোনিয়ার।  ১৯৪১ সালে  বন্দুকের নল ঘুরলে জার্মানরা এ দেশে প্রকট  হলেন  - লাল জুজুর হাত থেকে তিন বছরের জন্য নিষ্কৃতি মিললো । বন্দুকের নল আরেকবার ঘুরলে ১৯৪৪ সালে লাল ফৌজ দেখা দিলো মুক্তিদাতা রূপে -  বিধ্বংসী বোমা বর্ষণে একদা গোটা ইউরোপে খ্যাত পুরনো ব্যারক শহর নারভা ছাই করে দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন এক  নতুন শহর স্থাপনা  করে ।  প্রাচীন অট্টালিকার কিছু দেওয়াল তখনও কোনমতে দাঁড়িয়েছিল,  তাদের সেই  টিকে থাকাটাকে শেষ করে দিয়ে চললো বুলডোজার ।  তৈরি হলো সারিবদ্ধ দশ তলা এপার্টমেন্ট ভবন। নতুন উপনিবেশে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে রাতারাতি আমদানি  হলেন  লাখ খানেক মানুষ।  তাঁরা কেউ  এস্টোনিয়ান শিখলেন না – আজ সত্তর বছর বাদেও  নয়।  



    ব্যারক এবং বিধস্ত নারভা 
     
     
    ১৯৯১ সালের ২০শে আগস্ট এস্টোনিয়া তার দেশ থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পতাকা থেকে কাস্তে হাতুড়ি দূর করে দিলে পর দুই দেশের সীমান্ত নির্ধারিত হলো নদী বরাবর – এই কূলে আমি আর ওই  কূলে তুমি / মাঝখানে নারভা ঐ বয়ে চলে যায় । এস্টোনিয়ার তৃতীয় বৃহৎ শহর  ( আশি হাজার নাগরিক ) রয়ে গেলো তার আদ্যোপান্ত রাশিয়ান চেহারা নিয়ে - জাতিগত বিশুদ্ধিকরণের আশ্চর্য বিপরীত উদাহরণ রূপে।

    ক্রিসটা অনেকবার অপর পারের  রাশিয়ান শহর ইভানোগরোদ গেছেন । নারভা ও ইভানোগরোদ  এই দুই শহরের সৌন্দর্যবৃদ্ধির অভিলাষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম পরিমাণ অর্থদান করেন – আজ নারভাতে নদী ও দুর্গ বরাবর এক কিলোমিটারের ভব্য প্রমেনাদ, বৈদ্যুতিক লন্ঠন,  বাঁধানো পথ বসার বেঞ্চ।  ইভানোগরোদ দুর্গের সামনে একশ মিটারের প্রমেনাদ , চলার পথ ভাঙ্গাচোরা ।  স্থানীয় লোকেরা বলেন সব ইউরো চুরি হয়েছে । ক্রিসটা বলেন  মন্দের ভালো এই যে নদীর পাড়ে বসে ইভানোগরোদের মানুষ  নারভার সুন্দর ছবি দেখার সুযোগ পান !

    প্রশ্ন তুলেছেন মহামতি পুতিন।  

    তাঁর এক সাম্প্রতিক ভাষণে তিনি বলেছেন: জার মহান পিটার যখন উত্তরের যুদ্ধে জয়ী হলেন,  তিনি এমন  কিছুর অধিকার নেন নি যা অন্যায্য ছিল । সেন্ট পিটারসবুরগ প্রতিষ্ঠার পরে বহু ইউরোপীয় শক্তি মনে করেছিল  পিটার সুইডেনের অংশ দখল করেছেন । সেটি অসত্য । এই অঞ্চলে বহু বছর যাবত স্লাভিক মানুষ বসবাস করেছেন। এখন যদি প্রশ্ন ওঠে কেন মহান পিটার  নারভা অভিযান করেন ? এর উত্তর সহজ। তিনি তারই দখল নিয়েছেন যা স্লাভিক যা একান্তই রাশিয়ার নিজভূমি  । “

    একশ বছর আগে আরেকজন মহামানব পূর্ব ইউরোপে  তাঁর দেশবাসীর জন্য  চেয়েছিলেন , ধন নয় মান নয় , একটুকু বাসা ।  বাঁচার জায়গা - লেবেনসরাউম।

    বাকিটা ইতিহাস।

    পুতিন  আরও বললেন -

    “ সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে মনে হয় আমাদের উচিত এই সকল জমি ফিরিয়ে নিয়ে তার সংরক্ষণ করা। যে মৌল বিচারে একদা রাশিয়ার অস্তিত্ব স্থাপিত হয়েছিল তার ভিত্তিতে আমাদের কর্তব্য পুরনো সীমানা পুনঃস্থাপন করা “।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হবার তিন মাস বাদে, এক চমৎকার রৌদ্রময় দিবসে মহামতি পুতিনের কণ্ঠনিঃসৃত এই বাণী গোটা বালটিক, বিশেষ করে সওয়া কোটি মানুষের ছোট্ট দেশ এস্টোনিয়াকে মনে করিয়ে দেয় অদূর অতীতের বেদনাময় দিনগুলি - জারের শাসন , লেনিনের গ্রাস, নাৎসি রাজত্ব  এবং পঞ্চাশ বছরের সাম্যবাদী  প্রশাসন।

    আজ সকালে ক্রিসটা আমাকে বললেন সারা জীবন তিনি রাশিয়ান বলেছেন , কাজে অকাজে, ভ্রমণে কিন্তু আজ এই প্রথম তাঁর মনে হচ্ছে তিনি এ ভাষা বলতে বা  শুনতে চান না আর ।

    ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক কর্মযজ্ঞের বাসনায় রাশিয়ান ফৌজ মাঠে নেমেছিলো । সেটি শেষ হবার অপেক্ষা না রেখেই মহামতি পুতিন হাজার কিলোমিটার দূরে উত্তরের তিন দেশে অগ্নিতে ঘৃত সংযোগের কর্মটি সুসম্পন্ন করলেন ।  

    এস্টোনিয়ার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হয়েছে।

    প্রাক্তন  অত্যাচারী দুঃশাসকের  হুমকি কানে আসা মাত্র সোভিয়েত ইউনিয়নের নামো নিশানকে  উড়িয়ে দেবার সকল্প নিয়েছে সে দেশ । প্রতিদিন চলতে ফিরতে হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগানো আর নয় -  সোভিয়েত শাসনকালের যাবতীয় ঐতিহাসিক স্মৃতি চিহ্নকে  আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে তারা সাদা পাতায় নতুন দিনের কাহিনি লিখতে চায়। যেমন কবে  আমরা কলকাতার ময়দানে ঘোড়ায় চড়া আউটরামের মূর্তিকে আউট করে দিয়েছি ।

    এস্টোনিয়ার নজর পড়ল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নারভা শহরকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের প্রতীক স্বরূপ  নারভা নদীর তীরে বেদিতে সসম্মানে সজ্জিত একটি রাশিয়ান টি ৩৪ ট্যাঙ্কের ওপরে ( এককালে কলকাতার ময়দানে যেমন ছিল যুদ্ধ বিজয়ের  প্রতীক একটি প্যাটন ট্যাঙ্ক  )। স্বাধীনতা দিবসের চার দিন  দিন আগেই  সেটিকে নির্বাসিত করা হলো  কোনো গোপন দুর্গে। এস্টোনিয়ান সরকার জানিয়েছেন এইতো সবে আরম্ভ । দেশ থেকে সোভিয়েত শাসনের সকল চিহ্ন লোকচক্ষুর বহু দূরে  নির্বাসিত করা হবে।


    ট্যাংকের নির্বাসন যাত্রা 

    প্রতিবাদে নারভার রাশিয়ান ভাষী নাগরিক পথে নেমে স্বজন হারানোর হাহাকার করেছেন  -  হারানো ট্যাঙ্কের বেদিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই স্বর্ণময় সোভিয়েত যুগকে স্মরণ করেছেন প্রত্যহ।
     


     


    স্বজন হারানো শ্মশানের বাতি
     
     
    ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আকাশ সীমায় রাশিয়ান প্লেনের আগমন নিষিদ্ধ । অতএব তাঁরা স্থলপথে ফিনল্যান্ড সহ তিন বালটিক দেশে ঢুকে প্যারিস বার্লিন লন্ডন যাচ্ছিলেন। লাটভিয়া ও এস্টোনিয়া ইতিমধ্যে খিড়কির দরোজা দিয়ে রাশিয়ানদের ঢোকা বন্ধ করতে চায়- রাশিয়ানরা ভিসা পাবেন না। নারভা নদী পার হয়ে নারভার বাজারে কলা মুলো কেনার সুযোগও হারাবেন  ইভানোগরদের বাসিন্দা।

    জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলতস যথারীতি দ্বিধান্বিত । তিনি বললেন আমাদের লড়াই পুতিনের সঙ্গে , রাশিয়ার আম জনতার সঙ্গে নয়।  তাই এই ঢালাও ভিসা ব্যান করাটা ঠিক হচ্ছে কি ? জার্মান টেলিভিশনে ব্যঙ্গের  ঝড় বয়ে গেলো – শলতস ঠিকই বলেছেন,  ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ  একমাত্র পুতিন ও তাঁর সৈন্য বাহিনির প্রতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত । তবে তাঁরা কেউ কি বার্লিনের কুডামে কফি পান করতে আসবেন এই বাজারে ?  

    এবার কি ?

    পুতিন ইতিহাসের একনিষ্ঠ পাঠক । তাঁর আপন ইতিহাস বইতে তিনি ইচ্ছে মতন স্থান কাল পাত্র ম্যাপের রঙ  পরিবর্তন করে তাকে বর্ণময় করে তোলেন । প্রায় পাঁচশ বছর আগে মহান পিটারের পদরেখা অনুসরণ করে মহামতি পুতিন উত্তর ইউরোপ দখলের লড়াই শুরু করবেন?

    কেন রে এই হাজার কিলোমিটার পার হতে সংশয় ?
     
    ১৯ আগস্ট , ২০২২ 
     
    পু: ক্রিসটা আজ টুরিস্টদের নিয়ে নারভা গিয়েছিলেন। নগরীতে অশান্তি দেখা যায় নি। দোকানে বাজারে এসটোনিয়ানরা শীতল অভ্যর্থনা পেয়েছেন।  
     
    তাঁর পাঠানো আজকের কিছু ছবি
    এস্টোনিয়া থেকে দেখা রাশিয়া
     
     
    সেতু থেকে এস্টোনিয়ান উপকুল 
     
    সেতুর ওপারে রাশিয়া 
  • আলোচনা | ২০ আগস্ট ২০২২ | ৬৪৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kishore Ghosal | ২০ আগস্ট ২০২২ ২৩:২২511211
  • আমরা ততদিন থাকবো না, তবে আজ থেকে ৫০/৬০ বছর পরে, আমাদের নাতি-পুতিদের সম্রাট পুতিনের সাম্রাজ্য বিস্তারের ইতিহাস মুখস্থ করতে হবে? আমরা যতই সভ্য (?) হচ্ছি, চাঁদে মঙ্গলে জমি-টমি বিক্রি হচ্ছে - ততই কী পিছিয়ে যাচ্ছি - প্রাচীনতার দিকে?
  • যোষিতা | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৪:১১511217
  • শোল্ত্স, তালিন।
    ইভানোগোরাৎ
  • যোষিতা | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৪:১২511218
  • থুড়ি, ইভানগোরৎ।
  • যোষিতা | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৪:৩৬511219
  • "তবে তাঁরা কেউ কি বার্লিনের কুডামে কফি পান করতে আসবেন এই বাজারে ?  "
    এইটে বুঝিয়ে না লিখলে বাংলা পাঠক কিস্যু বুঝবে না।
    আরেকটা পর্যবেক্ষণ— সোভিয়েতদের নিন্দা করতে গিয়ে মহামতি হিটলারের জয়ধ্বনির মত খানিকটা লাগছে লেখাটা পড়লে। আশা করি সেটা উদ্দেশ্য নয়।
  • Amit | 118.210.105.53 | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৪:৪৪511220
  • সবই তেল আর গ্যাসের একুয়েশন। জার্মানি রাশিয়ার গ্যাসের ওপর গলা অবধি নির্ভর করে আছে। শুধু জার্মানি কেন , গোটা ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীল। রেনেয়াবলস এনার্জি শুনতে যতই ভালো হোক , ভিয়াবল আর রেলিয়াবল হতে এখনো অনেক দূর। গ্যাসের  অল্টারনেট সাপ্লাই চেন লাইন আপ আর ইনফ্রা সেট আপ করতে বিশাল ইনভেস্টমেন্ট দরকার , যেটা করতে সবাই হেজিটেট করছে যদি কালকে সব ঠিক হয়ে যায়। আবার সেই ইউরোপিয়ান ​​​​​​​ইউনিয়ন ​​​​​​​বাকিদের ​​​​​​​চাপ ​​​​​​​দিচ্ছে ​​​​​​​রাশিয়ান ​​​​​​​অয়েল ​​​​​​​ইমপোর্ট ​​​​​​​না ​​​​​​​করতে। ​​​​​​​অদ্ভুত ​​​​​​​হিপোক্রেসি ​​​​​​​চলছে ​​​​​​​দুনিয়া ​​​​​​​জুড়ে। 
     
    মাঝের থেকে ইউক্রেন দেশটা উজাড় হয়ে গেলো পুতিনের মতো একটা ডিক্টেটর এর ইগোর জন্যে। রাশিয়ান মিলিটারি ও হেভি লস খাচ্ছে। কিন্তু লড়াই টা হচ্ছে অলমোস্ট ভাল্লুকের সাথে খরগোশের। 
  • যোষিতা | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৪:৫৯511221
  • আরেকটা পর্যবেক্ষণ। ওলাফ শোল্ৎস্ বুদ্ধিমান। অন্ততঃ ব্যবসাটা বোঝেন। রুশ ক্রেতারা বাজার করতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে এলে, তাতে করে বিক্রেতাদেরই আখেরে লাভ। রাশিয়ানরা প্রচুর জিনিস কেনে। পাগলের মত কেনে। ওরা শপোহলিক জাত। তাই ইমোশনাল হয়ে ওদের আটকে লাভ নেই, বরং ক্ষতি। 
    এটা জেনে বুঝেই  বলছি। আমরাও জারমানি যাই সস্তায় জিনিসপত্র খরিদ করতে। জিনিস পত্রের দাম ওখানে অর্ধেক থেকে এক তৃতীয়াংশ। আমাদের সঙ্গে ওরা রাজকীয় রকম আপ্যায়ন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সেটা পছন্দ নয়। সেই কারনে তারা ব্যাজার হয়ে থাকে। দলে দলে সুইস বর্ডারের শহরে গ্রামে প্রত্যেক দিন শপিং করতে যায়, ট্যাক্স ফ্রি শপিং। স্থানীয়দের রোষ থাকলেও সরকারের লাভ। সেই শহর এবং গ্রামগুলোরও লাভ হয়। ক্রমশঃ দোকানগুলোর চাকচিক্য বাড়ে, রাস্তাগুলোর সংস্কার হয়, নতুন নতুন দোকান রেস্টুরেন্টে ভরে ওঠে জায়গাগুলো। বেচে সামাল দিতে পারে না। অনেকের কর্মসংস্থান হয়। ইকোনমিতে এর প্রভাব পজিটিভ। আবেগের বশে আমাদের কেনা কাটা বন্ধ করলে ওদেরই ক্ষতি। এই একই রকম ঘটনা পার্শ্ববর্তী ইতালি, ফ্রান্স এবং অস্ট্রিয়ার ক্ষেত্রে সত্য।
  • যোষিতা | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৫:০১511222
  • জারমানি পেট্রল ডিজেলের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। এখন গাড়িতে তেল ভরতেও আমরা জারমানি যাব।
  • হীরেন সিংহরায় | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৬:৩৪511223
  • যোষিতা 
     
    "তবে তাঁরা কেউ কি বার্লিনের কুডামে কফি পান করতে আসবেন এই বাজারে ?  "
    এইটে বুঝিয়ে না লিখলে বাংলা পাঠক কিস্যু বুঝবে না।
     
    উত্তর: আমার বাঙালি পাঠক মুজতবা আলীর চাচা কাহিনি পড়েছেন ! তাঁরা ঠিক বুঝবেন । 

    আরেকটা পর্যবেক্ষণ— সোভিয়েতদের নিন্দা করতে গিয়ে মহামতি হিটলারের জয়ধ্বনির মত খানিকটা লাগছে লেখাটা পড়লে। আশা করি সেটা উদ্দেশ্য নয়।
     
    মলোটভ রিব্বেনত্রপ চুক্তি অনুযায়ী হিটলার  তিনটে বালটিক দেশের  ( মেমেল লানড বাদে , যেটা কখনোই লিথুয়ানিয়ার অংশ ছিল না ) ওপর পুরনো কায়েমি সত্ত্ব ছেড়ে দিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে । বিনিময়ে  স্টালিন পশ্চিম ইউরোপে  নাৎসি জার্মানির  কাণ্ড কারখানায় নাক গলাবেন না !  বালটিক দেশ গুলিতে জার্মানরা বাস করেছেন সাতশো বছর যাবত, সেই টিউটোনিক নাইটদের আমল থেকে।   আমরা তাদের বালটডয়েচেন বলে জানি । রিগা বাদে  প্রত্যেকটি শহরের জার্মান নাম আছে - যেমন রেভাল ( টালিন ) চারশোর বেশি জার্মান জমিদারদের বাড়ি আছে যেগুলো এখন টুরিস্টরা দেখতে যান। । ১৯২০  থেকে  দেশ গুলো স্বাধীন ছিল । ১৯৩৯ সালের আগস্টে   হিটলার স্টালিনকে বললেন আমাদের লোকজন সরিয়ে নিচ্ছি , আপনি এই জমিদারির দখল নিতে পারেন  । সঙ্গে সঙ্গে লাল ফৌজ ঢুকে পড়লো । এটা ইতিহাস। এটিকে কারো জয়ধ্বনি মনে করার  অধিকার পাঠকের , দায় লেখকের নয় ! 
     
    ( উত্তরের আলোয় অচেনা ইউরোপ বইতে এই তিন দেশের কথা লিখেছি - বিজ্ঞাপন করার সুযোগ কি ছাড়া যায় ! ) 
     
    শোল্ত্স, তালিন।
     
    আমি সুইস উচ্চারণের কথা বলতে পারি না । সঠিক জার্মান উচ্চারণে এটি শলৎস ( একবার আ এর ডে  বা এক্সট্রা দ্রাই দেখে নিন)।
     
    এস্টোনিয়ান বন্ধুদের কাছে টালিন শুনে এসেছি তিন দশক । তাদের ভাষায় হার্ড কনসোনানট আছে।   আবার ব্যতিক্রমও আছে যেমন তারতু । ফিনিশ ও এস্টোনিয়ান গ্রামার একই গতের। ওয়েলকাম বলতে টেরভে কিন্তু হেলসিঙ্কির শহরতলি ভানতা । 
     
    জারমানি পেট্রল ডিজেলের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। এখন গাড়িতে তেল ভরতেও আমরা জারমানি যাব।
     
    লুক্সেমবুরগে যান না কেন ? ঐতিহাসিক ভাবে লুক্সেমবুরগের তেলের দাম ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে কম ! শনি রবিবারে জার্মান বেলজিয়ান এমনকি ডাচদের লাইন লাগাতে দেখেছি !  
     
    আরেকটা পর্যবেক্ষণ। ওলাফ শোল্ৎস্ বুদ্ধিমান। অন্ততঃ ব্যবসাটা বোঝেন। 
     
    এ বিষয়ে জার্মানরা একমত। তিনি নিজের ব্যবসাটা বোঝেন । কুমইক্স সহ হামবুর্গে যে কটা দুর্নীতির মামলা চলছে সবগুলোতে   তাঁর ভূমিকা প্রকট । 
     
    তবে সেটা তাঁর ব্যাপার । আমার এ লেখার বিষয় নয় । 
     
    জুন থেকে আগস্ট  মাত্র নয় ইউরোতে জার্মানির  সর্বত্র ট্রেনে যাতায়াত করা যায় । বাসেল থেকে  ভাইল আম রাইন পৌঁছুতে পারেন সামান্য খরচায়।  সেখান থেকে  আপনি ফ্লেনসবুরগ  সুলট আখেন খেমনিতস আসা যাওয়া করতে পারেন ওই নয় ইউরোতে ! 
     
    ।  
     

     
  • যোষিতা | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৬:৪৫511224
  • লুক্সেমবুর্গে গিয়ে তেল ভরলে যাতায়াতেই তেল শেষ হবে। লাভ নেই।
    বাসেল যাব কেন? জুরিখে থাকি। বেস্ট শহর। জারমানিতে গাড়িতে যাওয়া সহজ এবং সুবিধের। ট্রেনের ঐ নটাকার পাসের কথা জানি। তবে সম্ভবত জারমানদের জন্য। সঠিক জানি না। ভাইল আম রাইন গিয়ে গিয়ে পচে গেছে। বোধয় শখানেক অতিথিকে রাইনফালসে নিয়ে গেছি। কাছেই। বাসেল অনেক দূর। আগে বাসেলে রোজ যেতে হতো চাকরির কারনে। পোষায় না। বিদঘুটে শহর।
  • যোষিতা | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৬:৪৭511225
  • বাই দ্য ওয়ে, আমিও সুইস জারমান বলি না। 
    বের্লিনের জার্মান সবচে সুন্দর। সেরকম উচ্চারণই করি। 
  • যোষিতা | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৬:৫৩511226
  • উহ চোখ গেছে আমার। আমি ভেবেছি ষ্টাইন আম রাইন। সরি।
    ভাইল আম রাইন ও গেছি, সবই নদীর পাশ দিয়ে দিয়ে। ইয়োরোপের সৌন্দর্য একঘেঁয়ে। ভাইল আম রাইনের কাছেই ল্যোরাখ, একেবাারে হাটে বাজারে।
  • dc | 2401:4900:1cd1:d25b:4863:62b:fdba:2ee2 | ২১ আগস্ট ২০২২ ০৮:১৭511228
  • " প্রতিদিন চলতে ফিরতে হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগানো আর নয় -  সোভিয়েত শাসনকালের যাবতীয় ঐতিহাসিক স্মৃতি চিহ্নকে  আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে তারা সাদা পাতায় নতুন দিনের কাহিনি লিখতে চায়"
     
    এটাই সবচেয়ে বড়ো ট্র‌্যাজেডি। পুটিনের ইউক্রেন আক্রমনের ফলে যে যুদ্ধ এখন চলছে সে তো এখনকার যুদ্ধ। রাশিয়ান আর্মির ক্ষয়ক্ষতি তো হচ্ছেই, এর পর যখন রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্ট শুরু হবে তখন আরও দশ বছর পনেরো বছর ধরে ব্লিডিং হতে থাকবে। এক সময়ে রাশিয়ান আর্মি পিছিয়ে যাবে, যেমন আফগানিস্তানে পিছিয়ে গেছিল, যেমন আমেরিকাও ভিয়েতনামে, আফগানিস্তানে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ান আর্মির ইউক্রেন ইনভেশানের সবথেকে ক্ষতিকর দিক হলো, ইউক্রেনবাসীদের মনে রাশিয়ানদের প্রতি যে ঘৃনা তৈরি হলো। অন্তত একটা বা দুটো জেনেরারেশান লাগবে এই ঘৃনা শেষ হলে। হিটলার যেমন নিজের জার্মানিকেই শেষ করে দিয়ে গেছিল, পুটিন তেমন রাশিয়াকেও উপহার দিয়ে যাবে ইউক্রেন নামের একটা বিরাট বড়ো দগদগে ঘা। যার ফল দুটো দেশেরই মানুষ বহুকাল ভুগবে। 
  • Kishore Ghosal | ২১ আগস্ট ২০২২ ১০:৩৮511230
  • dc বাবু, একদম ঠিক কথা বলেছেন, অহং সর্বস্ব নেতারা তাৎক্ষণিক লাভের আশায় যে সব কুকীর্তি করে থাকে, তার কুফল হয় সুদূর প্রসারী। 
  • Debanjan Banerjee | ২৩ আগস্ট ২০২২ ২২:৪৭511300
  • এই দুদিন আগে মস্কোতে পুতিনের একজন বড়ো সমর্থক ও রাশিয়ান দার্শনিক আলেক্সেন্ডার ডুগিনের উপর কার বম্বিং হয়েছিলো যেটাতে তার মেয়ে দুনিয়া মারা গেছে |
     
    এর ধরণধারণ দেখে তো ইস্রায়েল এর কাজ বলেই মনে হয় |
     
    আপনারা কি বলেন ? কে এরকম করবে এবং কেন ?
  • Amit | 121.200.237.26 | ২৪ আগস্ট ২০২২ ০০:১৬511303
  • ওয়ার এডভাইজার রা আজকাল দার্শনিক ই হচ্ছে বটে। কালকে হয়তো এই দাবিও শোনা যাবে হিটলার আর গোয়েবলস কে মরণোত্তর শান্তির নোবেলের জন্যে নমিনেট করা হোক । 
  • Debanjan Banerjee | ২৪ আগস্ট ২০২২ ০৭:০০511306
  • @অমিত Alexander ডুগিন ওয়ার advisor আপনাকে কে বললো দাদা ? https://www.indianpunchline.com/erdogan-repairs-syria-ties-with-eye-on-eurasianism/             এই আর্টিকেল টি ভারতীয় প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতের লেখা পড়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন ডুগিন আসলে কে ? 
  • Amit | 121.200.237.26 | ২৪ আগস্ট ২০২২ ০৭:২৬511307
  • আপনিও আল জাজিরা র এই রিপোর্ট টা পড়লেই বুঝবেন ডুগিন আসলে কে। আরো অনেক আছে এমন আর্টিকল। লিঙ্ক দিয়ে দেব। ওসব মোস্টলি পার্টিজান আর করাপ্ট ইন্ডিয়ান রাষ্ট্রদূতের ​​​​​​​লেখা থেকে ​​​​​​​এগুলো ​​​​​​​আমার ​​​​​​​কাছে অনেক ​​​​​​​বেশি ​​​​​​​রেলিয়াবল। 
     
    অবশ্য পুতিনের থেকে ফ্রি তে পাওয়া চশমাটা খুলে পড়া দরকার। 
     
  • guru | 115.187.51.62 | ২৪ আগস্ট ২০২২ ১৩:০৪511315
  • ধন্যবাদ অমিতবাবু আমি লেখাটি আগেই পড়েছি | কিন্তু এই লেখাটির মধ্যে ডুগিন এর সম্বন্ধে যা বলা হয়েছে তা আগেই আমি জানি | কিন্তু তার সঙ্গে তাকে কে এখন খুন করতে চাইবে হঠাৎ এইভাবে সেটাও জানা খুবই দরকারী | ইস্রায়েল এই ধরণের কান্ড বারবার ইরানে ঘটিয়েছে | আমি আমার প্রথম পোস্টে সেটাই বলতে চেয়েছি |
     
    এই লেখাটিতে কিন্তু কোথাও ডুগিন যে দার্শনিক নন সেটা বলা হয়নি | হতে পারে তার geopolitical ফিলোসফি এর সঙ্গে আপনি একমত নন |
     
    তাছাড়া ডুগিন যে নতুন একটি রাশিয়ান সাম্রাজ্য স্থাপনের জন্য বলছেন এটা আমি অনেক আগে থেকেই জানি | হীরেনবাবু তো অনেক আগে থেকেই পুতিনের উত্থানের পিছনে নব্বই দশকে রাশিয়ান আর্থিক বিপর্যয় কে দেখিয়েছেন | ডুগিন সেই সময়েরই প্রতিচ্ছবি | সেই সময়কে না বুঝলে ডুগিনের দর্শনকে বোঝা যাবেনা |
     
    আসলে সব যুদ্ধকেই নরম্যানডি আর আম্রিকা বিরোধী সব রাজনৈতিককেই হিটলার ভাবাটা জাস্ট আপনি ওভারসিমপ্লিফিকেশন করছেন |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন