ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় ৩০ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৭ জুন ২০২২ | ৩৮৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • যস্মিন দেশে

    এক ভদ্রমহিলাকে দ্বিধাগ্রস্ত পদে আমাদের ড্রাইভের গেট খুলে এগিয়ে আসতে দেখা গেলো।  জানালেন তিনি ইউক্রেনিয়ান হাব থেকে আমাদের ঠিকানা পেয়েছেন ।  তাঁর ইংরেজি খুবই দুর্বল । তাই ফোন করার সাহস হয় নি ।  এটি কি সঠিক ঠিকানা ? রোদিকা বললে অবশ্যই। জানলায় আপনার দেশের পতাকা লাগানো হয়েছে , দেখেন নি? 


    জানালায় নীল হলুদ ইউক্রেনের পতাকা 

    ইউক্রেনিয়ান হাব নামক একটি শরণার্থী সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে নিকটবর্তী উওকিং শহরে । প্রতি  সোম ও বুধবার সারেতে সদ্য আগত ইউক্রেনিয়ানরা সমবেত হন ।  তৈল তণ্ডুল লবণের প্রবন্ধ , স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা, ডাক্তারের খোঁজ, জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পে যোগদানের পন্থা, ইংরেজি আচার আচরণের ব্যাখ্যা সবই তাঁদের দেওয়া হয়।  তার সঙ্গে চলে এক ঘণ্টার ইংরেজি শিক্ষার ক্লাস , বিশেষ করে মায়েদের জন্যে । দেখা যাচ্ছে অল্প বয়েসি ছেলে মেয়েদের ইংরেজির মান চলনসই , তাদের নতুন স্কুলে মানিয়ে নেওয়া খুব শক্ত হবে না।  তবে হয়তো এক দু ক্লাস নিচে ভর্তি হতে হবে । এটাও জানানো হয়েছে  সব ছেলে মেয়ে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পদব্রজে পাড়ার স্কুলে যেতে পারবে এ আশা অবান্তর । স্কুলটা অন্য পাড়ায় জুটতে পারে। একটা সুবিধে এই যে সামনে গরমের ছুটি পড়ছে । বিদ্যাশিক্ষার ব্যাপারটা মুলতুবি রেখে ইউক্রেন ফুটবল  টিমের অগ্রগতির তত্ব তাবাশ করাই শ্রেয় । হিথ হুকে এদেশের দীর্ঘদিনের অধিবাসী সাইমন এবং ইরিনার বাড়িতে এক সন্ধ্যায় ডজন দেড়েক ছেলে মেয়ে কাতারের বিশ্বকাপে যোগদানের যোগ্যতা অর্জনের পালায় ইউক্রেন বনাম স্কটল্যান্ডের খেলা দেখতে একত্র হয় । ইউক্রেন ১-০ গোলে জেতার পরে এক  সমবেত উচ্ছ্বাস, আনন্দ অন্তত কিছুক্ষণের জন্য খারকিভ মারিউপোল খারসন লভিভের ধ্বংসস্তূপ , ঘরছাড়া হবার যন্ত্রণাকে ভুলিয়ে দিলো। পরদিন বাকিংহামশায়ারের  অলনি নামের একটি ছোট শহরে পুরনো বন্ধু অ্যান্ডির সঙ্গে লাঞ্চ খেতে গিয়ে দেখি চতুর্দিকে ইউক্রেনের পতাকা উড়ছে । আগেরদিনে জয়ের সঙ্গে এই পতাকা ওড়ানোর সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা জানি না ।  অ্যান্ডি নিজে স্কটিশ।  সে অবশ্য বললে ইউক্রেন কেন, স্কটল্যান্ডকে যেই হারাক, ইংরেজ খুব খুশি হয়।
     

    পাব অলনি  বাকিংহ্যামশায়ার 

    মনে হল রিওর ফাভেলা হতে প্যারিস মার্সেইএর বানলিউ,  ডাকারের গলি থেকে বরানগরের কাদায় ভরা মাঠ এক হয়ে যায় যার মহিমায় তার নাম ফুটবল।

    কার্ডিফে পরের খেলায় অবশ্য ওয়েলস ১-০ গোলে জিতে ৬৪ বছর বাদে বিশ্বকাপের  টিকিট পেয়েছে।  সে ম্যাচের শেষে স্টেডিয়াম শুদ্ধু ওয়েলশ জনতা দাঁড়িয়ে ইউক্রেনের খেলোয়াড়দের কয়েক মিনিটের সম্বর্ধনা জানিয়েছেন।

    উওকিংএর ইউক্রেনিয়ান হাবে আরও জানানো হয় নিত্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী কোথায় বন্টিত হয়ে থাকে । সেখান থেকে রোদিকার নাম ও নম্বর পেয়ে ভিক্তরিয়া এসেছেন আমাদের বাড়ি । কোন গাড়ি না দেখে জানতে চাইলাম কি ভাবে এসেছেন।  ভাঙ্গা ইংরেজিতে জানালেন ‘  হেঁটে ‘।

    আশ্রয় পেয়েছেন ওরপলসডন নামক গ্রামে । সেটি আমাদের বাড়ি থেকে  পাঁচ কিলো মিটার দূরে , এতোটা পথ হেঁটে এসেছেন!  বললেন বাসের অপেক্ষা করছিলেন ।  শেষটায় একজন বলেন এ পথে কোন বাস চলে না।  অগত্যা।

    কিছু জামা জুতো বেছে নিয়ে ফিরে যাবেন। ভিক্তরিয়া আবার জানতে চাইলেন এখান থেকে কোনো  বাস অন্তত ওরপলসডনের কাছাকাছি  যায় কিনা । আমি বললাম চলুন পৌঁছে দিচ্ছি । তিনি বিড়ম্বিত বোধ করলেন । বললাম  চিন্তার কারণ নেই। আমি নিতান্ত কর্মহীন মানুষ। কারো  কোন প্রকার কাজে লাগতে পারার শুভ উদ্দেশ্য নিয়ে ঘুম থেকে উঠি ।

    গাড়িতে উঠে তিনি বললেন আপনাদের এখানে বাসের ভাড়া খুব বেশি, এমনকি লন্ডনের তুলনায়  । আধ ঘণ্টার দূরত্বে প্রায় চার পাউনড ! সমান যাত্রায়  খারকিভে বড়জোর বিশ পেন্স লাগে।  বলতে বাধ্য হলাম  তুলনাটা মোটে  ঠিক হচ্ছে না । আয়ের সঙ্গে বাস ভাড়ার একটা সামঞ্জস্য হয়তো আছে।   গাড়ি থেকে নামবার সময়ে  বললেন , এই যে আপনি চমৎকার গ্রামের রাস্তা দিয়ে আমাকে নিয়ে এলেন , কাউকে হাঁটতে দেখলাম না কেন ? সবাই কি শুধু গাড়ি চড়ে ?

    প্রায় দেড় দশক ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সবুজ কাউনটিতে আছি । পথে বাস চলতে দেখি । মাঝে সাঝে ব্যবহার করি,  সেটা ওই  উওকিংএ ট্রেন ধরতে যেতে।  বেলা নটা তেইশের পরে বাসে উঠলে ভাড়া লাগে না। আমার বর্ধিত বয়েসের কারণে মহারানি  সেটি মকুব করেছেন।  যতদিন লন্ডনের ব্যাঙ্কে কাজ করেছি প্রথমে পাঁচ শেষে দৈনিক দশ  পাউনড দিয়ে স্টেশনের পারকিং লটে সারা দিনের জন্যে গাড়ি রাখার অনুমতি নিতে হতো। ট্রেন টিকিটের পুরো পয়সা লাগে । সিনিয়র পাস কাটলে ভাড়ার এক তৃতীয়াংশ ছাড়  মেলে তবে সেটাও বেলায় ।  এক বছরের  সেই সিনিয়র পাসের দাম ৩৫ পাউনড । তবে চাকরি জীবনে সকাল সাড়ে ছটার ট্রেন ধরেছি।  নটা তেইশ ধরে সাশ্রয় হতো তবে কাজ থাকতো না ।

    ষাট বছর বয়েস হলে পর লন্ডনের নাগরিকদের আন্ডারগ্রাউনড এবং বাস ফ্রি - নটা তেইশ বাজার অপেক্ষা করতে হয় না । অন্য  নাগরিকদের বাস ভাড়া সাড়ে তিন পাউনডে বাঁধা।  প্রথম তিন দফায় সেই মূল্যের  টিকিট কাটলে পরবর্তী সব যাত্রা ফ্রি, সে লন্ডন শহরের  এপার থেকে ওপার হলেও ।

    সারের তথা ইংল্যান্ডের স্থানীয়  জন পরিবহন ব্যবস্থা সম্বন্ধে আমার জ্ঞান যে কতটা সীমিত এই ভদ্রমহিলা সেটি বুঝিয়ে দিলেন । একে তো বাসরুট কম তায় ভাড়া বেশি। তেলের দাম পঁচিশ শতাংশ বাড়ল তিন মাসে। এবার কি লোকে হাঁটবে বেশি ?

    লিলিয়া নামের একটি মেয়ে মাস তিনেক হল লভিভ থেকে আমাদের গ্রামে এসেছে । তার এক খুড়তুত ভাই এ দেশে দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা।  তাই ভিসা পেতে অসুবিধে হয় নি।  লিলিয়া  ভালো ইংরেজি ও জার্মান বলে।  এ মাসেই  সে কাজ পেয়েছে লন্ডনে, প্রখ্যাত বেখটেল কোম্পানিতে । আজ বিকেল বেলা আমাদের বাড়ি এসেছিল গল্প করতে । ভিক্তরিয়ার কাহিনি  শুনে বলল ইউক্রেনের বাসে ভাড়া কম কিন্তু বাসও কম।  পাঁচ কিলো মিটার পথ হেঁটে তোমাদের বাড়ি এসেছে শুনে অবাক হবার কিছু নেই । আমরা এতেই অভ্যস্ত ছিলাম !

    সিটি ব্যাঙ্ক বুদাপেস্তে  আমার এক সহকর্মী ছিল , আন্দ্রেয়া । সে গ্রাম থেকে চার পাঁচ কিলো মিটার দূরের বাস ধরে স্কুলে গেছে প্রত্যহ ,কি শীত কি গ্রীষ্ম।  বুদায় তার  বাড়িতে গিয়ে আন্দ্রেয়াকে বলেছি মায়াকে সেই গল্পটা শোনাও  দিকি ! রোজ গাড়ি চড়ে  দেড়  কিলো মিটার দূরের স্কুলে আসা যাওয়ার বদভ্যাস নিয়ে মানুষ হচ্ছে!  

    আমার বুলি তোমারও  বুলি ?

    ভারত পাকিস্তান ,  পুরনো প্রাশিয়া অথবা সুদেতেনল্যান্ডের বিভাজনের কারণে যে ছিন্নমূল শরণার্থী অন্য দেশের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁদের ভাষাগত সমস্যা ছিল না।  ইউরোপে ইতিমধ্যে আগত সিরিয়া আফঘানিস্তানের  এবং আজকের  ইউক্রেনিয়ান শরণার্থীদের সেই কঠিনতার মোকাবিলা করতে হচ্ছে।  পোলিশ এবং খানিকটা চেক ইউক্রেইনিয়ানদের মোটামুটি বোধগম্য হয়।   অন্য ভাষার জন্য বয়স্কদের স্লেট পেন্সিল নিয়ে বসার যোগাড় !

    এস্টোনিয়ার যে গল্পটা আমার বন্ধু ক্রিসটার কাছে শুনলাম সেটা একেবারে অন্য রকম !


    তারতু ( জার্মান ডরপাত) টাউন হল  - ১৯২০ সালের চুক্তি অনুযায়ী সোভিয়েত ইউনিয়ন এস্টোনিয়ার স্বাধীনতা মেনে নেয়। ১৯৪৪ সালে স্টালিন এস্টোনিয়া পুনর্দখল করেন। ১৯৯১ সালে আবার স্বাধীন । 
     
     
     
    এস্টোনিয়া দেশটা ছোটো ,  মাত্র তেরো লক্ষ মানুষ বাস করেন  । তার ভেতরে  ২৪% রাশিয়ান। প্রথম বার স্বাধীনতা পাবার সময়ে ২% রাশিয়ান বাস করতেন। ১৯৪৪ থেকে  ষ্টালিন দলে দলে রাশিয়ান পাঠালেন উপনিবেশের   সম্যক  দখল নেবার জন্যে।  কাস্তে হাতুড়ি বিদেয় নিয়েছে , এঁরা থেকে গেছেন।  রাশিয়ান পাসপোর্টের সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নাম লাঞ্ছিত এস্টোনিয়ান পাসপোর্ট রাখেন বুক পকেটে । এঁরা  স্থানীয় ভাষা শেখা প্রয়োজন মনে করেন নি , নিজেদের স্কুল, সুপার মার্কেট,  দাঁতের ডাক্তার সবই আছে । রাশিয়ান বলেন। মহামতি পুতিনের স্পেশাল অপারেশনের তাঁরা ঘোর  সমর্থক,  পুরনো সোভিয়েত ইউনিয়নের পুনর্জন্ম প্রার্থনা করেন । প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে  পারি প্রায় ত্রিশ বছর আগে তৎকালীন এস্টোনিয়ান রাষ্ট্রপতি লেনারত মারির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময়ে  এ ব্যাপারে তাঁর  অবস্থান জানতে চেয়েছিলাম । অত্যন্ত ডিপ্লোম্যাটিক জবাব দিলেন।

    এস্টোনিয়া ইতিমধ্যে চল্লিশ হাজারের বেশি ( ব্রিটেন বাইশ হাজার ) ইউক্রেনিয়ান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে । সেটা নিতান্ত পুতিন বিরোধী পদক্ষেপ , সেখানকার রাশিয়ান নাগরিকরা  মোটে  তার সমর্থন করেন না । কিন্তু সংখ্যা গরিষ্ঠ এস্টোনিয়ানদের বিরোধিতা করাও বৃথা।  


    টালিন - ইউরোপের প্রাচীনতম টাউন হল ( ১৩২২) চত্বরে ইউক্রেনের সমর্থনে জমায়েত জনতা 
     
    আমাদের উওকিঙ  হাবের মতন  এস্টোনিয়ান  শিক্ষার ক্লাস শুরু হয়েছে সর্বত্র ।  এটি একটি বিচিত্র ভাষা যার সঙ্গে ইন্দো ইউরোপিয়ান, স্লাভিক  বা তুরকিক কোন গুষ্ঠির  মিল নেই ।  মেলে একমাত্র ফিনিশের সঙ্গে । নবাগত ইউক্রেনিয়ানরা যখন এই কঠিন সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন অকস্মাৎ কেউ লক্ষ করলেন টালিন তারতুর হাটে  বাজারে রাশিয়ান শোনা যাচ্ছে।  এটি প্রায় আরকিমিদিসের ইউরেকা মুহূর্ত ! ইউক্রেনের সকল বিদ্যালয়ে রাশিয়ান পড়ানো হয়েছে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে । সকলেই মোটামুটি স্বচ্ছন্দ সে ভাষায়।  

    স্থানীয় রাশিয়ান নাগরিকদের একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গতমাস থেকে ইউক্রেনিয়ান ছেলে মেয়েরা এস্টোনিয়ার রাশিয়ান স্কুলে দাখিল হয়েছে।  সেগুলি সরকারি খরচায় চলে । মনে যে আপত্তি সঞ্চিত হয়ে থাক না কেন, রাশিয়ান ভাষীরা বিবাদ বাড়াতে চান না ।  অন্যদিকে ইউক্রেনিয়ান মায়েরা রাশিয়ান সুপার মার্কেটে কাজ পেয়েছেন।  সেখানে অবশ্য মালিকদের কোনো  আপত্তি নেই – দেশের গড়পড়তা মজুরির চেয়ে কম দিয়ে সেই মহিলাদের জীবন ধন্য করেছেন ।

    ক্রিসটা বললেন আমাদের দেশে রাশিয়ান ভাষা ভাষীর সংখ্যা দ্রুত বেগে বৃদ্ধি পাচ্ছে !

    জুন ১৭, ২০২২
  • | রেটিং ৪ (২ জন) | বিভাগ : আলোচনা | ১৭ জুন ২০২২ | ৩৮৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    কবিতা  - Suvankar Gain
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | ১৮ জুন ২০২২ ০২:৩৫509115
  • "ষাট বছর বয়েস হলে পর লন্ডনের নাগরিকদের আন্ডারগ্রাউনড এবং বাস ফ্রি - নটা তেইশ বাজার অপেক্ষা করতে হয় না ।"
     
    লন্ডনের নাগরিকদের ব্যাপারটা কীরকম? 
  • যোষিতা | ১৮ জুন ২০২২ ০২:৪০509116
  • ইউক্রেনিয়ান উদ্বাস্তুদের যে পরিমান সাহায্য করছেন তা নজিরবিহীন। রুয়ান্ডার রিফিউজিদের ইউকে থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন বলুন তো? দুধরণের রিফিউজির জাত আলাদা বলে?
  • হীরেন সিংহরায় | ১৮ জুন ২০২২ ০৩:১১509117
  • পরিবহন ব্যবস্থা স্থানীয় পৌরসভার বিষয়। লন্ডন তার অধিবাসীদের যে সুবিধা দেয় সারে তা দেয় না। অনচল ভেদে তফাত। ষাট পেরুনোর পর আমি যে দুবছর লনডনে ছিলাম কোন টিকিট কাটি নি। আমার বয়সের প্রমান নিয়ে আমি অবশ্য লন্ডনের বাসে বিনা পয়সায় চড়তে পারি। কিন্তু টিউবে নয়। সেটা পারতাম যখন আমি লন্ডনের অধিবাসী ও ভোটার ছিলাম। জানি না ঠিক করে বোঝাতে পারলাম কিনা । 
  • হীরেন সিংহরায় | ১৮ জুন ২০২২ ০৩:১৫509119
  • রুয়ানডা থেকে কোন শরনারথী ইংল্যান্ডে আসেন নি। ফ্রান্স থেকে যে সব আফ্রিকান শরনারথী চ্যানেল পেরিয়ে ইংল্যান্ড আসছেন তাদের রুয়ানডা পাঠানের এক বিরল প্রস্তাব এনেছেন বীর বরিস জনসন যার নিন্দা করেছেন ক্যানটারবেরীর আরচ বিশপ থেকে রাজকুমার চার্লস অবধি । এটা সেই এককালে পূর্ব বাংলার উদ্বাস্তদের দনডকারন্য পাঠানোর মতন। 
  • যোষিতা | ১৮ জুন ২০২২ ০৩:১৯509120
  • সেটাই। গতকাল না পরশু যেন ফ্লাইট উড়বার আগের মুহূর্তে ক্যানসেলড হয়।
    ওরা তো ইংরিজি জানে। ওদেরকে ইন্টিগ্রেট করা তো সহজতর।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৮ জুন ২০২২ ০৩:২৬509122
  • ঠিক । জারমানী দশ লক্ষ সিরিয়ান আফগানকে আশরয় দিয়েছে। অনেক কেঁদে ককিয়ে ২৬০০০ ইউকরেনিয়ানকে দেশে রাখতে রাজী হলেন বীর বরিস। ছোট্ট দেশ মলডোভার আশ্রিত সংখ্যা ২২০০০০। 
    পোল্যানডে প্রায় বিশ লক্ষ
  • যোষিতা | ১৮ জুন ২০২২ ০৩:২৭509123
  • How much will it cost?
    The government says the asylum system costs £1.5bn a year, with more than £4.7m a day spent on hotels to accommodate homeless migrants. Critics say the daily cost is so high because the Home Office backlogs are at a 10-year high - it's taking too long to decide on applications - and asylum seekers are banned from working until they get the green light to do so.
  • যোষিতা | ১৮ জুন ২০২২ ০৩:২৮509124
  • গায়ের রং দেখে এগুলো ঠিক করা হয়।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৮ জুন ২০২২ ০৩:৩০509125
  • এই পদ্ধতি জার্মানীতেও একই। আমরা কিছু সালভাদরের শরনারথীদের সাহায্য করছি। সরকার তাদের রেখেছে সারের হোটেলে দিনে ৫ পাউন্ড হাত খরচা দিচ্ছে কিন্তু কাজ করা মানা । ইউক্রেনিয়ানদের কোন বাধা নেই। বুঝি না
  • যোষিতা | ১৮ জুন ২০২২ ০৩:৩৭509126
  • কাজ করা মানা কেন বুঝলেন না?
    নিশট আনারকান্ট। ওটাই জব্দ করার পদ্ধতি।
    এদেশে প্রায় দু যুগ আছি, তার আগে থেকেছি সোভিয়েত দেশে। গল্পগুলোর মধ্যে ডীপ রুটেজ রেসিজম আছে। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আগতরা আরও সরেস। প্রীতি পাটেল তার উদাহরণ।
  • Kishore Ghosal | ১৮ জুন ২০২২ ১১:৪১509131
  • অনবদ্য লেখা - আশ্চর্য সহমর্মীতা।      
     
    "এই যে আপনি চমৎকার গ্রামের রাস্তা দিয়ে আমাকে নিয়ে এলেন , কাউকে হাঁটতে দেখলাম না কেন?" -  গ্রামের পথে পাঁচ কিলোমিটার চলার মধ্যে কোন পথচারী চোখে পড়েনি !!! আমার এক বন্ধু থাকেন নিউজিল্যাণ্ডে - তার মুখেও শুনেছি এমন কথা। এমন অভিজ্ঞতা আমাদের  মতো ভারতীয়দের পক্ষে খুবই ভয়ংকর পীড়াদায়ক হয়ে উঠবে সন্দেহ নেই। 
     
    ষাটের পর ভারতীয় রেলও বেশ ভাল কনসেশন দিত - কোভিডের সময় এবং পরে সেটা তুলে দিয়েছে। আমার কপালটাই মন্দ - ষাটের গণ্ডি টপকালাম - লকডাউনের কমাস আগে - অতএব সিনিয়র সিটিজেন হওয়ার আনন্দটা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল। smiley
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন