এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় ৪০ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৬ আগস্ট ২০২২ | ৫৮৫ বার পঠিত | রেটিং ৩ (১ জন)
  • দূরে কোথায় ৪০

    স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়

    চব্বিশে আগস্ট  সারের উওকিং নগরীর স্পোর্ট হলে এই প্রথম বার ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হলো । গানের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে  হলের বাইরে। দিনটি রৌদ্রময় – একটি  ইউক্রেনীয় ব্যান্ড কোথা থেকে হাজির  সামনের মাঠে । যদিও এটি কাজের দিন , বুধবার,  অনেক মানুষ জড়ো হলেন তাদের বাদ্য শোনার বাসনায় । সারে জেলায় সরকার দু হাজার দুশো  শরণার্থীর ভিসা ও বাসস্থানের অনুমোদন দিয়েছেন । তার মধ্যে বেশির ভাগ উওকিং ও গিলডফোরড ( জেলা সদর ) এলাকায় এসে পৌঁচেছেন।


    কেক হাতে নেত্রী ইরিনা 
     

    এবং আরো অনেকে 
     
     
    ইউক্রেনের স্বাধীনতা এক দিনে আসে নি । ইরিনা মনে করিয়ে দিলেন যে বার্লিন দেওয়াল ভাঙ্গার অনেক আগে থেকেই কমিউনিজমের লাল দুর্গের ইট এক এক করে খসে পড়েছে  সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহৎ ধনী  রিপাবলিক ইউক্রেনে। কলকাতার মেয়ে সেরিনা জাহান ১৯৮৯ সালের আগস্টে  ইউক্রেনের পথে পথে স্বাধীনতার দাবিতে  জনতার নীরব  মিছিল দেখেছেন। ঠিক সে সময়  ‘ বালটিকের পথ “  বা “ স্বাধীনতার মালা” নামে একটি অসাধারণ প্রতিবাদী আন্দোলন হয় ।  তেইশে আগস্ট উনিশশো  উনচল্লিশে স্বাক্ষরিত মলোটভ / রিব্বেনত্রপের ঘৃণিত গোপন চুক্তির পঞ্চাশ বছর পূর্তির স্মরণে লিথুয়ানিয়া(ভিলনিউস ) থেকে  লাতভিয়া (রিগা) হয়ে এস্টোনিয়া ( টালিন ) পর্যন্ত  কুড়ি লক্ষ মানুষ ঠিক সন্ধে সাতটার সময়ে পনেরো মিনিট হাত ধরাধরি করে চারশ মাইল ব্যাপী একটি মানুষের রিং  তৈরি করে দাঁড়িরে ছিলেন।গোটা ১৯৯০ ইউক্রেনে স্বাধীনতার দাবি জোরদার হয়েছে । তার পূর্ণ পরিণতি হল আগস্ট ১৯৯১ ।

    গরবাচভ গেছেন  ক্রিমিয়াতে তাঁর দাচায় ছুটি কাটাতে । এমন সময় সহ রাষ্ট্রপতি ইয়ানায়েভ  কে জি বির সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে রাষ্ট্রশক্তি দখলের পরিকল্পনা কাজে রূপায়িত করার প্রচেষ্টায় নামলেন ।  তাঁদের আশঙ্কা গরবাচভ সোভিয়েত ইউনিয়নের  সর্বনাশ করতে বদ্ধ পরিকর , তাঁকে গদিচ্যুত করা দরকার । ঘটনা মোড় নিলো দ্রুত। মস্কোর বেলি দোম বা হোয়াইট হাউসের সামনে ট্যাঙ্কের ওপরে দাঁড়িয়ে বরিস ইয়েলতসিন  বক্তৃতা দিলেন – কমিউনিস্ট পার্টির অভুথান হলো না, ইয়েলতসিন অচিরে পার্টিকেই নির্বাসন দিলেন  । ঠিক সেই দিনে গরবাচেভ পদত্যাগ করলেন , ইউক্রেন ঘোষণা করে তার স্বাধীনতা – ২৪শে আগস্ট ।  জনগণের কাছে জানতে চাওয়া হলো তাঁদের কি মত । আজ আবার মনে করা প্রয়োজন পূর্ব ইউক্রেনের প্রধানত রাশিয়ান ভাষা ভাষী মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ।লিলিয়াকে একবার বলেছিলাম ইউক্রেন আসলে দুটো দেশ , তোমাদের দুটো ভাষা । পূবে রাশিয়ান মধ্যে ও পশ্চিমে ইউক্রেনিয়ান । লিলিয়া সেটা মেনে নিয়েও বলে রেফারেনডামের সময় লুহান্সক দনেতস্ক ৮০% এর বেশি ভোট দিয়েছিল মুক্ত ইউক্রেনের পক্ষে , সবচেয়ে কম সমর্থন ছিল ক্রিমিয়ায়  তবু সেটা ৫৪%।


     
    ২১ শে জানুয়ারি ১৯৯১ 
    মুক্ত ইউক্রেনের দাবিতে তিরিশ লক্ষ মানুষের সারি 
     
    স্বাধীনতা  উৎসবে   দেখলাম  অনেক তরুণ উজ্জ্বল মুখ । তারা বাড়ির কাছে না হলেও স্থানীয় স্কুলে জায়গা পেয়েছে।   গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হলে পুরো দমে লেখা পড়া শুরু হবে,  ইংরেজি শেখানোর স্পেশাল ব্যবস্থা সহ। ইতিমধ্যে কোন কোন স্কুল বা পৌর সভা তাদের নানান ক্যাম্পে নিয়ে গেছে – সমুদ্রের ধারে অথবা বনের ভেতরে  সেখানে তারা এ দেশের ছেলে মেয়েদের সঙ্গে মেলা মেশা করার সুযোগ পায় বাধ্য হয় ইংরেজিতে বাক্যালাপ করতে । তারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। মায়েরা সংসারের । এই কলরব মুখরিত হলঘরে , ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে  অনুপস্থিত পুরুষেরা । স্বামী বাবা ভাই কাকা ইউক্রেনের কোথাও অস্ত্র হাতে বনে বাদাড়ে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছেন , কেউ ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া গাড়ি চালাচ্ছেন।  নিয়মিত খবর জোটে না। তবে ওয়াই ফাই নামক অসাধারণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের দৌলতে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়েছে। আমাদের পরিচিত অনেক শরণার্থী ইউক্রেনীয় মোবাইল টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করেন –কোন প্রযুক্তিতে সেটি সম্ভব হয় জানি না । আমি সর্বশ্রী গেটস টিম বারানারস-লি এবং জবের  অনেক আগে জন্মেছি বটে কিন্তু নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিবত্তা অর্জন করা আমার পক্ষে অসম্ভব।

    উত্তর পশ্চিম ফ্রান্সে আমাদের  গ্রামে এবং তার  আশে পাশে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অনেক ব্রিটিশ কানাডিয়ান সমাধিক্ষেত্র দেখেছি ( একটিও জার্মান স্মৃতি নেই ) । সমের লড়াই বা ব্যাটল অফ দি সমের অকুস্থল এই গ্রাম থেকে চল্লিশ কিলো মিটারের মধ্যে । সেই নৃশংস , অর্থহীন যুদ্ধে যারা লড়েছেন তাঁদের মা বাবার সঙ্গে একমাত্র যোগাযোগ ছিল চিঠির মাধ্যমে । সে চিঠি হয়তো যখন পৌঁছেছে ততদিনে লেখক আর বেঁচে নেই ।  যুদ্ধের বর্বরতা না হোক , ওয়াই ফাই অন্তত আজকের সৈনিক ও তার পরিবারের মাঝের দূরত্বকে কমিয়ে দিয়েছে ।

    সম্ভব হলে ক্রিস্তিয়া কারিওঁ পরিচালিত জয়ু নোয়েল ( মেরি ক্রিসমাস/ ফ্রহে ভাইনাখটেন  ) ছবিটি দেখবেন । ১৯১৪ সালে ট্রেঞ্চ যুদ্ধের মধ্যে বড়দিনের সময় সাময়িক  যুদ্ধ বিরতি হয় – জার্মান এবং ফরাসি ইংরেজ সৈন্য একত্রে পরব পালন করে। যুদ্ধের বর্বরতার মধ্যে মানবিকতার অশ্রু সজল চিত্র।

    আমাদের বাড়ি থেকে ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহের পরে কোন কোন শরণার্থীকে তাঁদের আশ্রয় দাতাদের বাড়ি পৌঁছুতে গিয়ে অনেক সময় চমৎকৃত হয়েছি। এই সেদিন তার নির্দেশ অনুযায়ী আনাস্তাসিয়াকে সেন্ড নামক গ্রামে পৌঁছুতে গিয়ে উপস্থিত হলাম একটি বৈদ্যুতিক গেটের সামনে – এক বিশাল বাড়ি , তার পেছনে হয়তো একশো একর জমি।  এই অট্টালিকায় বাস করো নাকি ? আনাস্তাসিয়া সলজ্জে বললে,  না পেছনের একটা আলাদা কটেজে । কোনো  মন্ত্রবলে সেই গেট খুললে অট্টালিকার পেছনে যে কুঁড়ে ঘরটি দেখলাম সেখানে আমি  বাকি জীবন সানন্দে অতিবাহিত করতে রাজি আছি ! এ অঞ্চলে অনেক বড়ো বাড়িতে বয়স্ক দম্পতি মাত্র বাস করেন -তাঁদের অনেকেই দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন ইউক্রেনের শরণার্থীদের জন্য।  সে কেবল মাত্র মাসিক সাড়ে তিনশ পাউনড সরকারি অনুদানের জন্য নয় । বিসলি গ্রামের হাওয়ারড বললেন , সন্ধেবেলা গল্প গুজব করার লোক পেয়েছি ! ভাষাটা খানিক বাধা তবে অল্প বয়েসিরা মোটামুটি কাজ চালানো ইংরেজি বলে ।

    সেটি একান্ত সত্য।  দশ থেকে ষোল বছরের ইউক্রেনীয় ছেলে মেয়েরা  ইংরেজি বেশ বলে ও বোঝে । গতকাল আমাদের বাড়ির কাছাকাছি ফক্স কর্নার গ্রামে ওডেসার ভেরা এবং তাঁর ছেলে সাশাকে বাড়ি নিয়ে গেলাম -সাশা  চমৎকার ইংরেজি বলে।  এই সুযোগে শাখতার দনেস্ক বনাম  মেতালিস্ত খারকিভ দলের সাম্প্রতিক খেলার গল্প হলো । এ বছরের ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাশিয়ান আক্রমণ শুরু হবার  দিন ফুটবল লিগের খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল । তার ছ মাস বাদে ২৩শে আগস্ট সে দুটি দল নতুন বছরের লিগের প্রথম খেলায় অংশ নেয় । খেলাটি হয় ক্যিভের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে। যে কোনো সময়ে খেলার মাঠে রকেটের বেশে রাশিয়ান অভিনন্দন এসে পৌঁছুতে পারে এই আশঙ্কায় মাঠের দুয়ার বন্ধ রাখা হয়েছিল।


    শূন্য এ মাঠে খেলা মোর 
     
    রাশিয়ানরা ক্রিমিয়া দখল করার সঙ্গে সঙ্গে শাখতার কয়েক বছর আগেই রাশিয়ান অধিকৃত দনেস্ক ছেড়ে চলে এসেছে -খেলা বন্ধ হয় নি, কেবল মাঠ বদল হলো । এ বছর তারা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলবে । রাশিয়ান বোমাবাজিকে তুচ্ছ করে চলুক ফুটবল। স্বাভাবিক জীবনের অংশ এই খেলা। দনেতস্ক বনাম মেতালিস্ত 0-0 অমীমাংসিত ভাবে শেষ হলে প্রেসিডেন্ট জেলিন্সকি বললেন ফুটবলের জয় হলো । পরের দিন লুহান্সক তিন গোলে হারায় ভরস্ক্লা রিভনে দলকে । এটাও লক্ষণীয় যে লুহান্সক অঞ্চল রাশিয়ার দখলে গেছে । সেখানকার ফুটবল দল আপন ঠিকানা ছেড়ে এখন খেলছে চারশো কিলো মিটার পশ্চিমে জাপরিঝঝিয়া শহরে ।

    ইউক্রেনিয়ান ফুটবলে আমার গভীর জ্ঞান নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় সাব্যস্ত হলো যখন সাশা বিনীতভাবে জানালো সে ফুটবলের খবর রাখে বটে কিন্তু তার প্রথম প্রেম ভলিবল । সাশাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম  এ দেশে থাকতে  গেলে কোন না কোন ফুটবল দলের সমর্থক হওয়াটা একান্ত  প্রয়োজনীয় । ইংল্যান্ডে ফুটবল ঠিক কোন ক্রীড়া নয় – এটি একটি দলগত সংগ্রাম শিবির। আত্মরক্ষার্থে সকলের কর্তব্য কোন একটা দলের তাঁবুতে  ঢুকে পড়ে অপর সকল প্রজাতিকে পুরনো দিনের কায়দায় গদা দিয়ে নয় , আধুনিক বাক্য ও সঙ্গীত দিয়ে আক্রমণ করা । একদিন ওকে আর্সেনালের খেলা দেখাতে মাঠে নিয়ে যাব স্থির করেছি।

    জর্জ মিকেশের হাউ টু বি এ ব্রিট বইটি তাকে পড়াতে হবে।

    আরেক স্বাধীনতা উৎসব

    ২৪শে আগস্ট রাশিয়ান অভিযান বা মহামতি পুতিনের বিশেষ সামরিক অপারেশনের ছ মাস পূর্ণ হলো । এ যাবত রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রনের বিশ শতাংশ জমি কব্জা  করতে সক্ষম হয়েছে। এর অর্ধেক সময়ে নাৎসি জার্মানি দখল করেছিল পোল্যান্ড ফ্রান্স বেলজিয়াম নরওয়ে হল্যান্ড । এইরূপ ধীরগতি অভিযানের পেছনে মহামতি পুতিনের কোনো গোপন উদ্দেশ্য নিহিত আছে নির্ঘাত।


    রাশিয়ান অস্ত্র 
     
    যে কোন মৃত্যু দুঃখের,  শোকের। তবু   যুযুধান দুই শক্তি  যখন হতাহতের পরিসংখ্যান পেশ করে , তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যায় । তাই  এ বছরের স্বাধীনতা দিবসে আপন বাহিনির বিজয় বার্তা সাক্ষ্য প্রমাণ সহ হাজির করার উদ্যোগ নিয়েছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেন্সকি।


    পোড়া যন্ত্র 
     
    ২৪শে আগস্ট  কিভ শহরের সদর চত্বরে প্রদর্শিত হয়েছে অধিকৃত, বিধ্বস্ত , আধ পোড়া রাশিয়ান ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি। তিনি জানিয়েছেন  ইউক্রেনের বিধান কাটবেন এমন শক্তিমান পুতিন  নন।  

    ২৪শে আগস্ট  ২০২২

     
  • আলোচনা | ২৬ আগস্ট ২০২২ | ৫৮৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | ২৭ আগস্ট ২০২২ ০৩:৫৭511386
  • "ইরিনা মনে করিয়ে দিলেন যে বার্লিন দেওয়াল ভাঙ্গার অনেক আগে থেকেই কমিউনিজমের লাল দুর্গের ইট এক এক করে খসে পড়েছে  সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহৎ রিপাবলিক ইউক্রেনে।"
    ভুল তথ্য। দ্বিতীয় বৃহৎ কাজাখস্তান।
  • যোষিতা | ২৭ আগস্ট ২০২২ ০৪:০৩511387
  • গরবাচেভ  নয়, গর্বাচভ
    বেলি নয়, বিয়েলি
  • যোষিতা | ২৭ আগস্ট ২০২২ ০৪:১৯511388
  • "গোটা ১৯৯০ ইউক্রেনে স্বাধীনতার দাবি জোরদার হয়েছে । তার পূর্ণ পরিণতি হল আগস্ট ১৯৯১ ।"
    এটা গল্প। ঐভাবে ইউক্রেন স্বাধীন হয় নি। তবে তারা যদি অমনটা ভেবে নিয়ে থাকে, তবে তা সত্যের বিপরীত। 
  • হীরেন সিংহরায় | ২৭ আগস্ট ২০২২ ০৭:২৮511390
  •  
    ধন্যবাদ । কাজাক আকারে দ্বিতীয় , ইউক্রেন অর্থে। ধনী  শব্দ বাদ পড়ে গিয়েছিল। 
     
    লাইনটি সংশোধন করে দিয়েছি-
     
    ' সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহৎ ধনী  রিপাবলিক ইউক্রেনে'  
     
    স্লিপ অফ দি ম্যাকবুক!  
  • Amit | 120.22.232.224 | ২৭ আগস্ট ২০২২ ১০:৫৮511395
  • ""  এইরূপ ধীরগতি অভিযানের পেছনে মহামতি পুতিনের কোনো গোপন উদ্দেশ্য নিহিত আছে নির্ঘাত।""
     
    - খুব দরকারি অবসেরভেশন এইটা। গত কদিন ধরে ওয়েস্টার্ন মিডিয়াতে লেখালেখি হচ্ছে রাশিয়ান আর্মির ক্যাপাবিলিটি নিয়ে। পুতিন কি প্ল্যান করছে খোদাই জানেন। 
  • Abhyu | 97.81.101.181 | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:২৪511612
  • রাশিয়ার এই রকম ল্যাজে গোবরে হওয়ার পিছনে মহামতি পুতিনের গোপন উদ্দেশ্য খোঁজার দরকার আছে কি? ডিকটেটররা অনেকসময়ই হিসেবে মারাত্মক ভুল করে, আর নিজেদের ইগোর কারণে ভুল বুঝতে পারলেও সেটা শুধরানোর কোনো চেষ্টা করে না।
  • সিএস | 49.37.32.92 | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৪১511614
  • পুতিনকে overestimate সবাই করেছিল। নিজে তো করেছিলই, ন্যাটো - আমেরিকা ইত্যাদিরাও ভেবেছিল খুব তাড়াতাড়ি রাশিয়া ইউক্রেনের জায়গা - জমি জিতে যাবে। এখন বলা হচ্ছে রাশিয়া দ্বিতীয় শ্রেণীর মিলিটারি শক্তি, আমেরিকা ইত্যাদির সাথে তুলনায় আসে না। তবে ইউক্রেনে ঢুকে বসে থাকবে, stalemate situation চলবে হয়ত, গেরিলা - চোরাগোপ্তা আক্রমণ চলবে ইউক্রেনের দিক থেকে, ক'দিন আগে দেখলাম ক্রিমিয়া অঞ্চলে মনে হয়, রাশিয়ার বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ হয়েছে।
     
     
  • dc | 2401:4900:1f2b:6ecb:a870:e5c4:7526:9913 | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২২:৩১511616
  • হ্যাঁ, এখন দেখা যাচ্ছে সবাই পুতিন বা রাশিয়ান আর্মিকে ওভারএস্টিমেট করেছিল। হয়তো তার কারন এতোদিনকার রাশিয়ান আর্মির ইমেজ, হাজার হলেও কোল্ড ওয়ারের কিছু লেগেসি তো আছেই! যার জন্য সবাই ধরে নিয়েছিল, পুটিন নিজেও মনে করেছিল ইউক্রেন দখল একেবারে কেকওয়াক হবে, দশ থেকে কুড়ি দিনের মধ্যে বা বড়োজোর এক মাসের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। নেটো বা য়ুরোপ সেভাবে রিয়্যাক্ট করার আগেই রাশিয়ার বর্ডার ওয়েস্টের দিকে অনেকটা এগিয়ে যাবে। সে তো হলোই না, ছ মাস হয়ে গেল, এখনও ইউক্রেনের আর্মি রেসিস্ট করেই চলেছে। বছরখানেকের মধ্যে যদিও বা পুটিন ইউক্রেন দখল করতে পারে, বোঝাই যাচ্ছে ধরে রাখতে পারবে না, আফগানিস্তানের মতো পিছিয়ে আসতে হবে। মাঝখান থেকে নেটো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলো, লং রানে য়ুরোপে যা কিছু রাশিয়ান ইনফ্লুয়েন্স তৈরি হচ্ছিল সেও গেল। এতো বড়ো স্ট্র‌্যাটেজিক ব্লান্ডার পুটিন এর আগে করেনি। 
  • Abhyu | 97.81.101.181 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১০511637
  • রাশিয়ার হাল দেখলে এতো খারাপ লাগে। অঙ্ক থেকে শিল্প সাহিত্যে - মানব সভ্যতায় এরকম অবদান, তার এই সুপারহিরো ইমেজ চলে যেতে দেখে আরো খারাপ লাগে।

    আর অস্ত্র ব্যবসা। ভারত যে অস্ত্র কেনে সেগুলো দিয়ে কি কাগও মারা যাবে? :) ওদিকে ন্যান্সি দেবীর তাইওয়ান সফরের পরে আমেরিকা নাকি অনেক টাকার অস্ত্র বেচবে ওদের।
  • dc | 2401:4900:1cd0:4789:3c2f:aa47:300e:2f28 | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:০০511639
  • ওহ অভ্যুর পোস্ট পড়ে কতোজনের নাম মনে পড়লো! লেভ ল্যান্ডাউ, পাভেল চেরেংকভ থেকে হাল আমলের গ্রিগোরি পেরেলম্যান। আর আমাদের ছোটবেলার সেই টিমোশেংকো আর ইয়াকভ পেরেলম্যান? আমার পড়া সেরা ফিজিক্স বইগুলোর মধ্যে পেরেলম্যানের সেই বই, ফিজিক্স ক্যান বি ফান। 
  • সিএস | 2401:4900:110b:c8c:ec45:c7fb:7357:fe3d | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯:৩৫511640
  • রাশিয়ার অবদান এখনো আছে তো, তেলের গরমের অবদান। সৌদি ইত্যাদি দেশগুলো যেমন, তেলের পয়সায় রবরবা, পুতিনও সেই দিকে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন