ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় - ১৪ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৪ এপ্রিল ২০২২ | ৮৩৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • সত্যি মিথ্যে

    ওকিং মেল নামক যে সাপ্তাহিক পত্রিকাটি আমাদের অঞ্চলে প্রকাশিত হয় তার মালিক ও প্রকাশক ন্যাপহিলের জন ডেভিস আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। খবরের কাগজে যা ছাপা হয় তার কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে এ নিয়ে বাদ বিসংবাদের অন্ত নেই। প্রশ্ন করলে জন বলে, 'শোনো,  শুধু সত্যি আর মিথ্যে নয়, আছে তিনটে সম্ভাবনা (অপশন)।  তোমার কথা,  আমার কথা এবং সত্য কথা!' 

    গ্রামের চার রাস্তার মোড়ে জনের বাস ভবন কাম অফিস।  পোস্ট অফিসে একটা কাজে গিয়েছিলাম, সামনেই তার দফতর।   গতকাল কাগজ ছাপা হয়েছে।  আজ জনের অখণ্ড অবসর। বুচার বুচারি নিয়ে কথা হচ্ছিল তার  অফিসে। আমরা তিন পক্ষের কাছে চার রকমের ব্যাখ্যান শুনছি! জন বললে-
    "আকিরো কুরুসাওয়ার রশোমন ছবি মনে পড়ে? জঙ্গলের পথে সামুরাই  আর তার স্ত্রী পড়লো ডাকাতের হাতে।  সামুরাই মৃত, স্ত্রী অত্যাচারিত, ডাকাত পলাতক? সত্যি কথাটা কে বলেছিল? সামুরাইয়ের আত্মা, তার স্ত্রী, ডাকাত না আদালতে উপস্থিত কাঠুরে? কোনটা সত্যি?" 

    জানি সত্যজিৎ রায় জাপানি ছবি রশোমনকে সর্বকালের সেরা দশটি ছবির মধ্যে উচ্চ স্থান দিয়েছেন কিন্তু  ইউক্রেনের বুচা প্রসঙ্গে এই ছবির উল্লেখ ঠিক আশা করি নি।  ব্যাখ্যা প্রয়োজন।  

    পরশু দিন বেলারুশিয়ান রাষ্ট্রপতি আলেকজান্দার লুকাশেনকো  রাশিয়ার পূর্ব প্রান্তে, আমুরে ভসতখনি কসমোদ্রোমে  মহান মহাশূন্য দিবস উদযাপন মানসে শ্রী পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  তাঁদের  দুই দেশ মহাশূন্যে উড্ডয়নের  ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড স্থাপনা করেছে।   

    সেথায়  অনুষ্ঠিত একটি প্রেস কনফারেন্সে তিনি জানিয়েছেন দু সপ্তাহ আগে কিইভের নিকটবর্তী  বুচা জনপদে যে  নৃশংস নরহত্যাকাণ্ড  ঘটেছে সেটি একটি গুপ্ত  ব্রিটিশ অপারেশন। রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি  (ফেডারাল রিজার্ভ সার্ভিস – কেজিবির নতুন অবতার) জানিয়েছে ব্রিটিশ এজেন্টরা অজস্র বন্দুক ও গুলি গোলা নিয়ে কিইভ শহর থেকে দ্রুতগামী বুলেটপ্রুফ গাড়িতে বুচা পৌঁছয়।  অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে এই নিশংস ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করে প্লেনে চড়ে ইংল্যান্ড ফিরে গেছে তারা। এফ এস বির কাছে তাদের  সবার নাম, ঠিকানা, গাড়ির মেক, মডেল, ফোন নম্বর, পাস ওয়ার্ড সব কিছু মজুদ আছে। ব্রিটিশ এজেন্টদের এই অ্যাকশন আর তার পদ্ধতি সম্পর্কে সমবেত সাংবাদিকদের মনে যদি অতিরিক্ত জিজ্ঞাস্য থাকে, এফ এস বি তাদের ফাইল খুলে সে সংশয় মোচন করার জন্য প্রস্তুত।

    সবশেষে লুকাশেনকো বলেন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পশ্চিমের ক্রূর চতুর দেশগুলি মহামতি পুতিন এবং মহান রাশিয়ান জনগণের বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

    আপামর জনতার জ্ঞাতার্থে রাশিয়ান বিদেশ মন্ত্রী লাভরভ জানিয়েছেন রাশিয়ান  সৈন্যগণ  মার্চের তিরিশ তারিখে বুচা পরিত্যাগ করেছিল। সেদিন অবধি রাস্তায় কোন মৃতদেহ দেখা যায় নি। তার চারদিন বাদে এতো কাণ্ড?  রাশিয়ান সৈন্য  কখনো কোন নিরস্ত্র নাগরিকের ওপরে গুলি চালায় নি। তারা সে কাজ কখনো করে না। রাশিয়ানরা বুচা ছেড়ে চলে যাবার চার দিন বাদে ইতস্তত ছড়ানো যে মৃতদেহ দেখা গেছে সেগুলি সাজানো।  সিনেমার সেটের মতো।  ফিল্ম ক্যামেরা থেমে গেলেই তারা উঠে পড়ে। আপন অভিনয়ের জন্য প্রাপ্য দক্ষিণাটি নিয়ে হাওয়া হয়। নাটকীয়তার চূড়ান্ত।  এ সব কেবলই রাশিয়ার বদনাম ছড়ানোর অপচেষ্টা।  রাশিয়ান নেতৃত্ব এবং তাদের সৈন্যের নৈতিক মানদণ্ড অবক্ষয়ী পশ্চিমের তুলনায় অনেকটাই  উঁচু মানের। লাভরভ এই তথাকথিত 'মৃত' মানুষদের পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার কার্ড ইত্যাদি সর্বসমক্ষে পেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    মহামতি পুতিন বুচা হত্যাকাণ্ডকে সম্পূর্ণ সাজানো ফেক নিউজ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন  অবরুদ্ধ মারিউপোলের যে বারো হাজার মানুষ মারা গেছেন বলে পশ্চিমের প্রেস চেল্লাচেল্লি করছে সেটাও ঘোর অন্যায় অপবাদ।  এই নাগরিকরা মারা গেছেন ইউক্রেনের সৈন্যদের হাতে। তারা নিজের দেশের  লোককে মেরে আর বাড়ি ঘর ভেঙ্গে চুরে রাশিয়ার বদনাম করছে। ইউক্রেনের দুষ্কৃতিকারীদের হাতে নিহত সেই সব মানুষের পরিজনের  প্রতি শ্রী পুতিন হার্দিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

    এটা হয়তো নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ করার রাশিয়ান ভার্শন। এক্ষেত্রে নাক নয়, প্রাণ।  

    ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেন্সকি  নিজে গেছেন বুচায়। রাশিয়ান সৈন্যরা নিরস্ত্র ইউক্রেনীয় মানুষকে হত্যা করে মৃতদেহের সারি সাজিয়ে গেছে। এটা  গণহত্যা। পশ্চিমের কাছে তিনি আবেদন জানালেন – এই ঘৃণ্য কাজটি যুদ্ধ অপরাধ এবং তার সম্যক বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয়।  

    পশ্চিমি সংবাদ পত্রগুলি বুচার আকাশে দ্রোন উড়িয়ে ছবি তুলে সত্য মিথ্যা যাচাই করার চেষ্টা করেছেন। তাতে দেখা গেছে  ঘটনার দু দিন বাদে আকাশ থেকে তোলা ছবিতে মৃত দেহের অবস্থান মিলে যায় সাংবাদিকদের রাস্তায় তোলা ছবির সঙ্গে।

    সত্যের খোঁজ দেবে কে?

    পুঃ নাৎসি জার্মানির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব পোল্যান্ডের দখল নিলো  ১৯৩৯ সালে। ১৯৪০ সালের মে মাসে স্মলেন্সকের অন্তর্গত কাতিন অরণ্যে স্টালিনের আদেশে আট হাজার পোলিশ অফিসার, ছ হাজার পুলিশ ও আট হাজার বুদ্ধিজীবীকে গুলি করে মারা হয়। রাশিয়ান অভিযানের সময় জার্মানি এই বিশাল গণ সমাধি আবিষ্কার করে ১৯৪৩ সালে। সোভিয়েত ইউনিয়ন জানায় এটা নির্ঘাত ওই বদমায়েশ  নাৎসিদের কাজ। তাদের গুণের সীমা  নেই।  দলিল দস্তাবেজ সহকারে  নাৎসিরা জানায় যে তাদের রাশিয়ান আক্রমণ ১৯৪১ সালে জুন মাসে শুরু হয়েছিল। অতএব  এক বছর আগে কাতিনে সেই হত্যাকাণ্ড সুচারু রূপে সম্পন্ন করা তাদেরও অসাধ্য কাজ। নুরেমবেরগ বিচারে রাশিয়াকে যুদ্ধ অপরাধী আখ্যা দেওয়ার সাহস  ইংরেজ আমেরিকানদের ছিল না। ততদিনে চার্চিল ও রুজেভেলট নতমস্তকে গোটা পূর্ব ইউরোপের মালিকানা ইওসেফ ভিসারিওনোভিচ জুগাসভিলি উরফ স্টালিনের নামে লিখে দিয়েছেন।   

    পুরো পঞ্চাশ বছর বাদে সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ বিদায় বাঁশি বাজলে পরে রাশিয়ানরা জানালেন তদন্ত করে জানা গেছে এটা জার্মানদের দুষ্কৃতি নয়, রাশিয়ান গোয়েন্দা বিভাগের কাজ। ওই সব পোলিশ ব্যক্তি শ্রমিক কৃষকের স্বর্গরাজ্যের পক্ষে বিপজ্জনক ছিলেন এই বিবেচনায় তাদের হত্যা করা হয়েছিল। আমরা অবশ্যই এই হত্যা কাণ্ডের নিন্দা করি।

    রায় গুণাকর বলেছিলেন –

    নিত্য তুমি খেল যাহা
    নিত্য ভাল নহে তাহা
    আমি যে খেলিতে চাই
    সে খেলা খেলাও হে।

    সাপ্লাই লাইন

    কোনো  দেশ দখলের মহান ব্রতে যখন সৈন্য বাহিনী পথে নামে তাদের পিছু পিছু চলে সরবরাহ বাহিনী – রাঁধুনি খানসামা থেকে আরম্ভ করে মুচি মেথর। সৈন্যরা যেমন যেমন দুর্বার বেগে এগিয়ে যায় তার সঙ্গে তাল রেখে ডাল ভাত এমনকি দাঁত খোঁটার খড়কে কাঠিটি পর্যন্ত যোগান দেবার কনভেয়র বেল্টটি চালু থাকে। অভুক্ত সৈন্য বাহিনী যুদ্ধ জেতে না।  আপন আপন রাশিয়া অভিযানের কালে নাপোলেওঁ এবং হিটলার এই সার  সত্যটি অনুভব করেছিলেন। ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে  শূন্যের পনেরো ডিগ্রি নিচে নেমে যাওয়া ঠাণ্ডায় যে জার্মান বাহিনী স্টালিনগ্রাদে লড়াই করছিল, তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের দশ শতাংশ পৌঁছু দিতে  অক্ষম হয় গোয়েরিঙের লুফতভাফে। ফলাফল আমাদের জানা। জার্মান ইতিহাসে  কোনো   ফিল্ড মার্শাল শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করেন নি। অভুক্ত শীতার্ত রুগ্ন সৈন্য দল নিয়ে ৩১শে জানুয়ারি ১৯৪৩ ফিল্ড মার্শাল পাউলুস রাশিয়ানদের ক্যাম্পে গিয়ে অস্ত্র সংবরণ করলেন।

    ইউক্রেনের যুদ্ধে সাপ্লাই লাইনের একটা নতুন অর্থ পাওয়া গেলো।  

    কিইভ থেকে পূব দিকে পশ্চাদপসরণের সময় অনেক রাশিয়ান সৈন্য পাশের দেশ বেলা রুশের মজির শহরের পোস্ট অফিসে গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যেমন এয়ার কন্ডিশনার, আই ফোন, টেলিভিশন ইত্যাদি পার্সেল পোস্টে আপন দেশ গাঁয়ে পরিবারের কাছে পাঠালেন। তিন ঘণ্টার সি সি টি ভি তে দেখা গেছে ইউনিফরম পরিহিত রাশিয়ান সৈন্য ইউক্রেনের লুঠের মাল প্যাক করে নানান রাশিয়ান ঠিকানায় পাঠাচ্ছেন।  তাদের সবার নাম, টেলিফোন নম্বর সেই পোস্ট অফিসে নথিবদ্ধ করা হয়েছে।



    এই রাশিয়ান সৈন্যদের জন্য কোন সরবরাহ ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। কঙ্গোর জেনেরাল মবুতু সৈন্যদের বলেছিলেন – দেব্রুই এ ভু (আপনার ধান্দা আপনি দেখো)।

    ইউক্রেনের লুণ্ঠিত সামগ্রী দিয়ে রাশিয়ান সৈন্যগণ  আপন দেশের জন্যে সাপ্লাই লাইন খুলেছেন। রিভার্স আরেঞ্জমেনট।



    পরহিতে বিয়ার পান

    লভিভের  প্রাভদা ব্রুয়ারির সঙ্গে মিলে ওয়েলসের লান্দেইলো শহরের এভান এভান্স ব্রুয়ারি বাজারে এনেছে একটি নতুন ব্র্যান্ডের বিয়ার – ইউক্রেন গোল্ড। এভান এভান্স জানিয়েছে এ বিয়ার হতে লাভের কড়ি ইউক্রেন সহায়তা তহবিলে যাবে। অতএব মুক্ত মনে এক মহত উদ্দেশ্যে এই বিয়ার পান করুন।



    দারিয়া ও ভ্যালেরিয়ার আগমন



    পরমজিত এবং হরবীর সিং ধিলোন দীর্ঘকাল ক্যালিফোরনিয়াতে ছিলেন।  ভাই বোন এবং পরিবারবর্গের কাছাকাছি থাকার অভিলাষে এই হালে সারের ফ্রিমলি গ্রামে বাসা বেঁধেছেন। ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে গৃহত্যাগ করেছে! ইউক্রেনের লড়াইয়ের খবর পেয়েই তাঁরা উদ্বাস্তু আশ্রয়দাতার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। গতকাল  দারিয়া ও ভ্যালেরিয়া নাম্নী ইউক্রেনের দুই কিশোরী অনেক বিপদ আপদ কাটিয়ে প্লাটফর্মে ট্রেনে রাত কাটিয়ে কোনমতে এক বস্ত্রে এদেশে তাঁর বাড়ি এসে  পৌঁছেছে। এদের দুজনের বাড়ি কিইভের কাছে উজিন গ্রামে বা শহরে। মায়েরা ভিসা পান নি এখনো।  পরমজিত এলেন মেয়ে দুটির জন্য জামা কাপড় কম্বলের খোঁজে।  রোদিকা তাদের যথারীতি সাজিয়ে গুজিয়ে পরমজিতের  গাড়িতে তুলে দিয়েছে আজ বিকেলে। ভ্যালেরিয়া বেড়াল ভালবাসে।  ত্রাণ সামগ্রীর সঞ্চয় থেকে যত গুলো বেড়াল পুতুল পাওয়া গেছে সেগুলি সব তাকে দেওয়া হলো। মা কোথায়, কবে দেখা হবে কে জানে। রোদিকাকে জড়িয়ে ধরল ভ্যালেরিয়া। কান্না লুকিয়ে।

    এপ্রিল ১৩, ২০২২
  • আলোচনা | ১৪ এপ্রিল ২০২২ | ৮৩৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নাইটো - একক
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • যোষিতা | ১৪ এপ্রিল ২০২২ ১৩:৫৮506371
  • লুফ্ট্ভাফে। ওয়াফে হয় না। জার্মানে W এর উচ্চারণ ভে।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৪ এপ্রিল ২০২২ ১৪:১০506372
  • ত্রুটি ধরিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ ! আমার জার্মান শিক্ষকরা দেখলে আমাকে দু ঘা  দিতেন ! 
  • যোষিতা | ১৪ এপ্রিল ২০২২ ১৫:০৪506376
  • হ্যাঁ। ইংরিজির সঙ্গে এখানেই ফরাসী এবং জারমানের তফাৎ। বর্ণমালা দেখতে প্রায় একইরকম অথচ উচ্চারণ এবং বর্ণগুলোর নাম বেশ আলাদা।
    যে কারণে ফোল্কস্ভাগেন কে সচরাচর ইংরিজি উচ্চারণে ভক্সওয়াগন পর্যন্ত বলে ফেলে কেউ কেউ :-))
  • Amit | 120.22.36.6 | ১৪ এপ্রিল ২০২২ ১৫:২৬506377
  • উচ্চারণ বা বানান নিয়ে এতো কানিং হওয়ার দরকার কি ? লুফৎওয়াফে শুনলেও তো কারোর বুঝতে অসুবিধা হয়েছে বলে মনে হয়না। 
  • হীরেন সিংহরায় | ১৪ এপ্রিল ২০২২ ১৫:৪০506378
  • একাদশ শতকে দেশটা দখল করে ফরাসীরা একটা মোটামুটি ফোনেটিক ভাষার সর্বনাশ করে গেলো। তাদের নিজেদের ভাষায় সাতটা অক্ষর লিখে দুটোর উচচারন করে - ইংরেজীতে কোন অক্ষরের কি উচচারন হবে জানতে সুনীতি বাবুর প্রয়োজন হয়।  এর কোন তুলনীয় উদাহরণ ইউরোপে  কম - নরওয়ের ওপর ডেনিশ ভাষার উৎপাত বাদে। 
  • dc | 122.174.73.17 | ১৪ এপ্রিল ২০২২ ১৫:৫৮506381
  • পুটিন মনে হয় স্কর্চড আর্থ পলিসি নিয়েছে। মারিউপোল এ সব সিভিলিয়ান শেষ করে, সমস্ত ঘর বাড়ি ফ্ল্যাট করে তারপর রাশিয়ান আর্মি কিছুদিন দখল করে রাখবে। 
     
    আর হীরেনবাবু সাপ্লাই চেন প্রসংগে স্টালিনগ্রাডের লড়াই এর উল্লেখ করলেন, এটা ভারি ইন্টারেস্টিং মনে হলো। সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার এর নানান দিক নিয়ে দীর্ঘ গবেষনা হয়েছে, প্রচুর ডকুমেন্টারি তৈরি হয়েছে, বই লেখা হয়েছে। ইউটুবেও চমৎকার সব ভিডিও আছে, যেমন ধরুন মার্ক ফেল্টন প্রোডাকশানস। তো ইস্টার্ন ফ্রন্টে জার্মান আর রাশিয়ান সাপ্লাই চেন নিয়ে বহু বহু লেখা হয়েছে। স্ট্যালিনগ্রাডে প্রথমদিকে কিন্তু লুফৎওয়াফে এয়ার সুপিরিয়রিটি এস্টাব্লিশ করেছিল, যার ফলে প্রথমদিকে বম্বিং করে শহরটা প্রায় ফ্ল্যাট করে দিতে পেরেছিল। সেটা কাউন্টার করতেই চুইকভ তাঁর বিখ্যাত হাগ দি এনিমি স্ট্র‌্যাটেজি তৈরি করেন। পরের দিকে অবশ্য অপারেশান ইউরেনাস লঞ্চ হওয়ার ফলে জার্মান এয়ার সুপিরিয়রিটি আর ছিল না, শেষ পর্যন্ত ফ্রিডরিখ পাউলাস আত্মসমর্পণ করেন। আর পাউলাসকে ফিল্ড মার্শাল বানানোও হিটলারের চাল ছিল, যাতে পাউলাস জ্যান্ত ধরা না দেন। 
  • Debanjan Banerjee | ১৬ এপ্রিল ২০২২ ২০:৪৪506483
  • @dc পুতিনের হাতে এখন একটা বড় তাস আছে l খবর আছে বিশ্বস্ত ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র থেকেই যে , মারিওপোলে এক বা একাধিক আম্রিকি ন্যাটো জেনারেল অলরেডি রাশিয়ান চেচেন সৈন্যদের হাতে ধরা পড়েছে l এই যুদ্ধবন্দীদেরকে পুতিন সাহেব লুবিয়াঙ্কাতে রেখে দিতে চান এই যুদ্ধের স্মারক হিসেবে l আম্রিকা যে কোনো মূল্যে এটা আট্কাতে চাইবে বলাই বাহুল্য কিন্তু পুতিন সাহেব অলরেডি এই ন্যাটো যুদ্ধবন্দীদেরকে বিশ্বের দরবারে দেখাতে চান l যদি আম্রিকা এটা আটকাতে চায় তাহলে এখনই পুতিন সাহেবের রুবল কূটনীতি মেনে নিতে হবে l এটাই খুব সম্ভবত পুতিন সাহেবের এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড়ো জয় l 
  • বিপ্লব রহমান | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ০৯:১২506492
  • শোনো,  শুধু সত্যি আর মিথ্যে নয়, আছে তিনটে সম্ভাবনা (অপশন)।  তোমার কথা,  আমার কথা এবং সত্য কথা!' 
     
    মিডিয়া নিয়ে পর্যবেক্ষণটি ভাল  yes
  • Amit | 120.22.115.70 | ১৭ এপ্রিল ২০২২ ১১:৪০506498
  • হায়। পুতিন যদি জানতো ইন্ডিয়া তে তার কিছু অন্ধ ভক্ত এতো সিক্রেট সব খবর রাখে যেটা সম্ভবত তার নিজের স্পাই রাও জানে না , হয়তো তাদেরকেই ধরে ধরে জেনারেল বানিয়ে দিতো। 
  • guru | 115.187.51.192 | ১৮ এপ্রিল ২০২২ ১২:২৮506638
  • @অমিত এই লেখাটি MK ভদ্রকুমার যিনি ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ছিলেন তার লেখা | আমার মনে হয় MK ভদ্রকুমার অন্তত আপনার আমার থেকে ভূ রাজনীতিটা অনেকটাই ভালো বোঝেন | এখন একেও কি পুতিনের অন্ধ ভক্ত মনে হয় ?
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১৮ এপ্রিল ২০২২ ১৬:৪৫506656
  • মাননীয় ভূরাজনীতিক শ্রী ভদ্রকুমার উত্তর পূর্ব রোমানিয়ার যে গ্রামটির নাম করেছেন সেখানে আমার শ্বশুর মশায় মধু সংগ্রহে যেতেন। গ্রামটির নাম Jurilovca ( রোমানিয়ানে z বা k ব্যবহার হয় না) Zhurilovka নয়। সেটি ওডেসার সন্নিকটে নয় চারশ কিলোমিটার দূরে। মাঝখানে মলডোভা নামক দেশটি পড়ে । 
  • dc | 182.65.238.18 | ১৮ এপ্রিল ২০২২ ১৭:৩৩506657
  • যাতা খোরাক laugh
  • Amit | 121.200.237.26 | ১৯ এপ্রিল ২০২২ ০৪:২২506676
  • laughlaughlaugh
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন