• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • দেহ যাঁর গেহ/ পুনশ্চ রামপ্রসাদ

    Simool Sen
    আলোচনা : বিবিধ | ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ৬৩০ বার পঠিত

  • রামপ্রসাদ সেনের কাছে আরও এক বার ফিরে আসা গেল। কার্তিকে যখন পুরোনো বাংলা বছর শেষ হতে চলেছে স্মরণোৎসব আর আকাশপ্রদীপে, সর্বস্বশৃঙ্খলে বাঁধা ইতিহাসের ভেতর থেকে একটি-দুটি ভূত হানা দেয়। ভূত মানে অতীতস্মৃতি যেমন, বিশ্বচরাচরে উপ্ত জীবনদায়ী মৌলও তো, ততটাই। কার্তিকের শেষে মাঠে থরে থরে ধান, দুর্গাসপ্তমীর কলাবউ স্নান থেকে সবুজের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল, তা খানিক পরেই স্মৃতির খাতায় চলে যাবে।

    রামপ্রসাদকে, আবারও, ঠিক এই মোকামেই মনে পড়ে যায়। তাঁর নিদানটি সহজ: মন কৃষিকাজ জানে না। মানবজমিন যদি-বা চষা হত যথাবিহিত, ভারা ভারা সোনা ফলত হয়তো-বা। অথচ বছরের শেষে অন্তিম হিসেব কষতে গিয়ে দেখা গেল, চাষ হয় নি, অতএব সে-শিকেও ছেঁড়েনি। আবাদি জমি ফলত রয়ে গেছে নিষ্ফল।

    বদ্যি বংশের ছেলে রামপ্রসাদ, দু' তিন পুরুষে চাষবাস করেছেন কি সন্দেহ, অথচ তাঁর বয়ানে বার বার এক সাধক কৃষক ছায়া ফেলে। সে' কিসসা অনেকেরই জানা– কলকাতায় দুর্গাচরণ মিত্রের সেরেস্তায় মুহুরির কাজে বিপুল ফাঁকি দিচ্ছেন রামপ্রসাদ, সহকর্মীদের মধ্যে ইতিউতি ফিসফাস, চাকরি থেকে বরখাস্ত করার তোড়জোড় শুরু। নাটকীয় সেই কিংবদন্তি-মোতাবেক, রামপ্রসাদকে চাকরি থেকে সরানো হবে-হবে, এমন মোক্ষম মুহূর্তে মনিবের চোখে পড়ল দলিলপত্রের ফাঁকফোকরে ফুটে-ওঠা শ্যামাসংগীত: 'আমায় দে মা তবিলদারি'। সে' সব পদের ভাবরস আর চমৎকৃতি দেখে রামপ্রসাদের শাস্তি মকুব, মাসে-মাসে নির্দিষ্ট খোরাকিভাতার বিনিময়ে তাঁকে বাপের ভিটে কুমারহট্টে পাঠিয়ে দিলেন ধর্মভীরু মনিব দুর্গাচরণ।

    রামপ্রসাদ জাতে বদ্যি। কিন্তু ধাতে, মনে হয়, তিনি এক নির্বিকল্প কায়স্থ। কায়স্থ শব্দটির ব্যুৎপত্তি ও ব্যঞ্জনা লুকিয়ে আছে কায়ায়, আধারে। মাসখানেক আগে রামপ্রসাদকে ফের মনে পড়ল করণিক শব্দটির উৎস খুঁজতে গিয়ে। করণ মানেও কায়স্থের মতই উৎসগত ভাবে সেই দেহ, কায়া, শরীর, সেই নাছোড় আধারের অবয়ব– যে দ্যোতনার প্রতি ইঙ্গিতে এক দিন লিখেছিলেন তিনি: 'দেহের মধ্যে সুজন যে জন, তার ঘরেতেই ঘর করেছি।' সেই ঘরের ভেতরেই তাঁর আবাস, সেই আধারের ভেতর তার হয়ে-ওঠার সাধনা– যেখানে আশ্চর্য সাধনায় ব্রতী হয়ে এক দিন বলতে পেরেছিলেন: 'কালীনাম কল্পতরু, হৃদয়ে রোপণ করেছি'। নিরন্তর কর্ষণের উপমায় মনোভূমিতে গতর খাটাচ্ছেন শহুরে সেরেস্তায় দলিলপত্রের কারবারি, আদত লক্ষণার্থেই পেশাদার, কর্মী মানুষ কেরানি রামপ্রসাদ।

    জাতের সঙ্গে দেহের সম্পর্ক নিবিড়, আর আপ্তপুরুষের দেহটিই তো সেই সূত্রে বৃত্তি আর কর্মের প্রশস্ত প্রান্তর। ব্রহ্মার হাড় থেকে কায়স্থ জাত, আর যমের দরবারি হিসেবলিখিয়ে চিত্রগুপ্ত কায়স্থের সেই প্রাচীন আধার। সেই দেহভাণ্ডেই তার আবাস। শুধু কর্ম নয়– কায়স্থের আদিপুরুষ চিত্রগুপ্ত ধর্মরাজও বটেন, তিনি পাপপুণ্যের খতিয়ান বাতলান। ধর্ম মানে এসেন্স, সার, গুণ, বা স্বভাব, ধর্ম মানে প্রকৃতি। একই সঙ্গে, ধর্ম মানে কৃত্য বা করণও। প্রকৃতি ব্যক্ত হয়ে ওঠে কার্তিকশেষে। সাংখ্য বিধানে, এই প্রকৃতির বিপ্রতীপে ঠায় দাঁড়িয়ে পুরুষকার– নিরন্তর চর্যা, কর্ষণ আর শারীরিক শ্রমের ব্যঞ্জনা বয়ে। স্বভাব বা নেচারের ভাঁড়ার সীমিত, রামপ্রসাদি বয়ানে তাকে অনূদিত করতে হবে সাধনা ও চর্যায়।

    করণ মানে সুতরাং আধার, করণ মানে পদ্ধতি। রামপ্রসাদ কী উপায় বাতলাচ্ছেন তবে? চর্য়ার কোনও এক নতুনতর উপায়ের দিকে যাত্রা করছেন তা হলে তিনি? কোনও কায়া, বা কোনও আধার-শরীরের দিকে– যে ধ্রুবপদে মন কৃষিকাজ জানে না বলে তাঁর একান্ত অনুযোগ?

    এর উত্তর ঠিক জানা নেই। তবে, মোগল আমলের শেষাশেষি সেই সময়টা বাংলার জাতীয় জীবনে রবরবার। জমি উদ্বৃত্ত, সম্পদের বিচিত্র সব ফিকির, এত কালের অনাবিষ্কৃত চালানের নতুন সব সড়ক খুলে গেছে, হাজির হয়েছে প্রাতীচ্য বণিকের জাদুলাঠি। রামপ্রসাদ, এমতাবস্থায়, ঘোরাফেরা করছেন ব্যক্ত প্রকৃতি আর অর্জনক্ষম পুরুষের দুই বিপরীতমুখো জানলা-বরাবর: 'এক ব্রহ্ম দ্বিধা জেনে মন আমার হয়েছে পাজি।' এক দিকে সেই প্রকৃতিদত্ত, স্বয়ংব্যক্ত গুণ, স্বভাব বা নেচার, অন্য দিকে কালচার, কৃষ্টি– চর্যা, প্র্যাক্সিস, শ্রম আর হয়ে-ওঠার খতিয়ান। 'মানববৃত্তির নিয়ত উৎকর্ষণই ধর্ম', একশো বছর ধর্ম্মতত্ত্বে পরে বলবেন না বঙ্কিম? রামপ্রসাদ সেই উপায় বা রাস্তাকে খুঁজে পাবেন তার আধারে, শরীরে, আর তার অনুষঙ্গে লেপটে-থাকা সাধনা ও চর্যার নিগূঢ় প্রকরণে, যার পরতে পরতে জেগে উঠবে কুলতুরা, কর্ষণ– পরবর্তী সময়ের নিহিতার্থে যা কালচার। এই রামপ্রসাদই তো বলতে পারেন, 'ভবহাটে দেহ বেচেছি'– যে দেহ তাঁর মেধাজীবী হিসেবরক্ষক করণিকযাপনের বহু, বহু দূরের দ্বীপ।

    রামপ্রসাদের কালী ছিলেন তমোগুণের অধিকারিণী কর্মমার্গের সেই দেবী, যার নেতৃত্ব মেনে নেওয়া মানে আধারকে বা কায়াকে করে তোলা অচ্ছেদ্য সাধনার, চর্যার, কৃষ্টির, বা পরবর্তীর বঙ্কিমি অনুশীলনের অংশ। জাতে বদ্যি আর কাজে মুহুরি তিনি যতই হোন, তাঁর ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকে এক আবহমান সাধক চাষির প্রতিরূপ, যে প্রতীকে বেঁচে ছিল বৌদ্ধ তন্ত্র থেকে বাউল দর্শনের শাশ্বত দেশজ সারাৎসার। অথচ ডিক্লাসড হওয়া কাকে বলে, রামপ্রসাদ সেন জানতেন না। দিগন্তে এক নতুন শ্রেণির সম্ভাবনা তখন উদীয়মান, জন্ম আর কাজের পুরোনো ফিরিস্তি শিথিল হয়ে এসেছে যৎকিঞ্চিৎ। ইউরোপ তত দিনে প্রায় অশ্বমেধঘোড়া ছুটিয়ে বাংলায় উপনীত। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর তাঁর জীবৎকালে ঘটে নি, কিন্তু কৃষিব্যবস্থার এত কালের প্রতাপ যেন-বা যায়-যায়। এই পরিস্থিতিতে, রামপ্রসাদ হ্যালুসিনেট করেন আর এক আদিশক্তি অন্নপূর্ণাকে, কারণ রাজা হতে তিনি নাচার, বরঞ্চ ভাতডাল যেন-বা নিয়মিত জোটে, শস্যদায়িনী-সমীপে এ-ই তাঁর নিতান্ত প্রার্থনা। অন্নপূর্ণা আর্ত ভক্তকে কাশীতে দৈব আদেশ পাঠান গান রচনার জন্য, আবার রামপ্রসাদের খেতে এসে বেড়াও দিয়ে যান সেই খিলখিলে হাসির গৃহী তরুণী। শাকম্ভরী অন্নপূর্ণা যেন-বা দেহে স্থিত রামপ্রসাদের সেই কৃষকজীবনের আদিম নক্ষত্র। আর, আজকের এই রামপ্রসাদি অমাবস্যার পূর্বমুহূর্তে, গত কালই কার্তিকের মাঝামাঝি চলে গেল না চোদ্দো শাকের তিথি? এই হেমন্তিকা ঘরে ঘরে বার বার ডাক পাঠিয়ে যায় ভূতের কাছে, প্রাণের জৈব উৎসের কাছে, কৃত্রিম আলোর উল্টো দিকে সেই নগ্ন নিরাবরণ অন্ধকারের কাছে।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ৬৩০ বার পঠিত
আরও পড়ুন
#আমি - Jinat Rehena Islam
আরও পড়ুন
আয়না - ন্যাড়া
আরও পড়ুন
খোপ - রৌহিন
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • বিপ্লব রহমান | 236712.158.566712.199 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৩৮51255
  • অসাধারণ!
  • b | 237812.69.563412.223 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৯ ০৩:৫৬51256
  • লেখাটা চমৎকার হয়েছে।
  • Simool Sen | 237812.69.563412.213 (*) | ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৫:০২51254
  • আমাদের চমৎকার বড়দা ও একটি চমৎকার রাত্রি

    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ছিনিয়ে লাও, ওখানে মন্দির ছিল আর মন্দিরই হবে। দেশসুদ্ধু লোকের অবশ্য এত চমৎকার দিব্যদৃষ্টি ছিল না, তারা মৃদু স্বরে কুঁইকুঁই করে বলতে গেল, ইয়ে মানে চোখে তো দেখলাম না। বড়দা ঠাণ্ডা গলায় বললেন, বাবু, যা বলছি মেনে নে না। মন্দির ছিল, মন্দিরই হবে। ওখানে শান্তিসম্প্রীতিটা বজায় রাখতে হবে না ভাই?

    এই একটি মাত্র ব্যতিক্রম ছাড়া, বড়দা সবই দেখেছেন। বড়দা দেখেছেন কাশ্মীর ভারতের অ-বি-চ্ছে-দ্য অঙ্গ, কাশ্মীরের একটু হাঁপ ধরলে গোটা ভারতের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়, বড়দা দেখেছেন, আরে এই তো সে দিন, মহারাজা শ্রীরামচন্দ্রের স্বর্ণসিংহাসনে এসে গড় করছেন কাশ্মীরের রাজা হরি সিংহ, সব্বাই আকাশ কাঁপিয়ে চ্যাঁচাচ্ছে ভারতমায়ের নামে। বড়দা অবশ্যই দেখেছেন কে ভারতীয়, আর কে অনুপ্রবেশকারী। এখন মেলা বাওয়াল দিলে হবে? কে বলল তুমি অনুপ্রবেশকারী নও? কারণ, এইত্তো, বড়দা দেখেছে।

    বড়দার দৃষ্টি যেখানে যেখানে পৌঁছয় না, সেখানে পেয়াদা পাঠিয়ে বাধ্যত বলপ্রয়োগ করতে হয় অবশ্য। যেমন বড়দা যে হেতু খুব তেতেপুড়ে থাকা দেশের মানুষ, ডিপ ফ্রিজের ভেতর তাঁর নজর যায় না। অবশ্য তাতে কোনও সমস্যা হয় নি, বড়দার উপযুক্ত পাইক-বরকন্দাজ মজুত ছিল, লম্ফ মেরে দুয়োরে সটান হানা দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, হ্যাঁ, বড়দার সন্দেহই তো সঠিক– ফ্রিজের ভেতরে ওটা, থুক্কু, গরুর মাংসই ছিল। বড়দা অবশ্য পেহলু খান তাবরেজ আনসারি প্রমুখকে নিয়ে ভাবার সময় পান নি, উন্নাও-ও দেখেন নি কেন না তখন দুয়োর এঁটে ঘুমোচ্ছিলেন।

    আর আর আর, বড়দা শেষ যেটা দেখলেন সেটা হল একটি আস্ত ধর্ষণ। কারা ছিল, কারা এল, ওই তো স্কুটার থেকে নামল, ওই তো পোড়াল– আহা, বড়দা দেখছিলেন, আর বলছিলেন, এই দ্যাখ এ বার মেয়েটা কাঁপতে কাঁপতে ফোন করবে, এই দ্যাখ চ্যাঁচাবে, আর সেটাই মিলে যাচ্ছিল হুবহু। এ মাহেন্দ্রক্ষণে ভক্তবৃন্দের উদ্বাহু উল্লাস কে ঠেকায়, বড়দা অবশ্য ধর্ষণে বিশেষ বিচলিত হন নি, পুলিশটুলিশকে রাত্তিরবেলা আধ ঘণ্টা ফোন ঘুরিয়ে পাওয়া যায় নি, বড়দা চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমোতে গিয়েছিলেন এর পর। বাকিটা কী হল, বড়দার দৃষ্টি যে কত স্বচ্ছ ও অব্যর্থ, যাঁরা দেখার, তো দেখলেনই!

    ***

    দেশটা ক্রমশ বিকট এক ডিসটোপিয়ার দিকে চলেছে। নাগরিক, পেঁয়াজের দাম, গোলাপি বল, ডেঙ্গু, যাবতীয় উদ্ভূতুড়ে নৈমিত্তিক ঘটনাবলির মাথার ওপর সপ্রতিভ বিরাজমান, একক, অতন্দ্র ও নিত্য: রাষ্ট্র। প্রমাণের কোনও দরকার নেই। রাষ্ট্র তো জানে এর পর এই হয়েছিল, রাষ্ট্র জানে ঘটনাক্রম, রাষ্ট্র জানে অপরাধী ও অনুপ্রবেশকারী, রাষ্ট্র সর্বেশ্বর, সর্বোচ্চ ও সত্য। একটি প্রজাতন্ত্রে দাম থাকে মানুষের ধর্মবিশ্বাসের ও নিজস্ব উপাসনাপদ্ধতির, তা আর নেই, একটি প্রজাতন্ত্রে অপ্রমাণিত অভিযুক্তটিও নির্দোষ– এ-ও নেই, তার সব রকম অধিকার থাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের। বিচারটিচার গুলি মারো ভাই, ন্যায় তো আর পাবে না, তার চেয়ে এসো আমার সুতোর গিঁট হও। সেই আদ্যিকালের বদ্যিবুড়ো গোছের খাবারের দাম আর চাকরি নিয়ে রাজনীতির দিন অস্তগত, একটু সমকালীন হও, এই বার এসো তোমায় নাচাই হিস্টিরিয়ায়। যেখানে পুলিশ পাব, ইচ্ছে হলেই মারব, না পেলে বেসামরিক হিস্টিরিয়ায় সটান নাচিয়ে মারব। চার পাশে কত আনন্দ দেখো বাছাধন, রাতের আকাশে জোনাকির মত বাজি ফাটছে, প্রসাদ হিসেবে শয়ে শয়ে লাড্ডু বিতরণ হচ্ছে আর লোকজন বলছে, এই তো ধর্ষণ আজ থেকে নির্মূল হয়ে গেল, পাদটীকা হিসেবে পুলিশ-মিলিটারির ধর্ষণের কথা যদি-বা ওঠেই, তবে হ্যাঁ সে তো ঠিকই আছে, কারণ বড়দা তো অমনই বলেছে। আর, এই সহাস্য, মহাপাতক ৬ ডিসেম্বরের রাতে চিমটি কেটে আবিষ্কার করছি যে টোট্যালিটারিয়ান রাষ্ট্রের এ-ই হল লক্ষণ: রাষ্ট্র ভগবান। ভগবান যেমন সর্বত্রগামী, ভগবান যেমন সর্বদ্রষ্টা ও সর্বাধিকারী, তেমনই রাষ্ট্র। রাষ্ট্র কখনও ভুল করে না, অতএব আঙুলটা নামিয়ে কথা বোলো ভাই। আর কী।
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত