• বুলবুলভাজা  খ্যাঁটন  খানাবন্দনা  খাই দাই ঘুরি ফিরি

  • চাষার ভোজন দর্শন – ১১শ

    সুকান্ত ঘোষ
    খ্যাঁটন | খানাবন্দনা | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০৫২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)

  • আরো ফ্রেঞ্চ

    ওয়াইল্ড মাশরুম

    ছোট্ট, কোজি এবং আঁতেল টাইপের রেষ্টুরান্টে খেতে যাওয়ার একটা হালকা সমস্যা হচ্ছে, খাওয়ার মাঝে অনেক সময়, রান্নাঘর থেকে শেফ বেরিয়ে এসে, টহল মেরে, জিজ্ঞেস করে – রান্না কেমন হয়েছে। এটা আরো বেশি দেখা যায়, যদি সেই শেফই রেষ্টুরান্টটার মালিক হয়। এর মধ্যে খারাপ কিছু নেই – মার্কেটিং স্ট্র্যাটিজি থাকলেও, অনেক শেফ-এর মুখোমুখি হয়েছি, যারা সত্যি করেই আন্তরিকতার সাথে খোঁজ নেন – খাবার কেমন লাগল। এনাদের প্যাশন দেখেই বোঝা যায়।


    ছোট্ট কিন্তু দুর্দান্ত ভালো ফ্রেঞ্চ রেষ্টুরান্টে

    ধরুন, এমন একদিন আপনি খেতে গেলেন, যেদিন কোনও কারণে আপনার মুড ভালো নেই বা সারাদিন ঘোরাঘুরি-কাজকর্ম সেরে আর ফালতু হ্যাজানোর মন নেই – রেষ্টুরান্ট এসেছেন খেতে, খেয়েই বেরিয়ে যাবেন। সাথে বান্ধবী বা বউ থাকলে, তাদের সাথেই কথা বললেন – এর মধ্যে থার্ড পার্টি নাক না গলালেই ভালো। কিন্তু এগুলো এমন আঁতেল রেষ্টুরান্ট, যে আপনি গলা তুলে কিছু বলতে পারবেন না! আমাদের ট্রেনে/বাসে/রাস্তায় ভিক্ষা করতে এলে অনেক সময় শুধু কপালে হাত ঠেকিয়ে দিই, সেও বুঝে যায় এখানে সুবিধা হবে না – এগিয়ে যায় পাশের জনের কাছে। বা অনেক সময় একহাতে চা, অন্য হাতে বিড়ি থাকলে, মুখে বলি “আগে দেখ” – এ সব রেষ্টুরান্টে করার উপায় নেই শেফকে। তবুও –

    মানুষ অভ্যাসের দাস – সেবারে ফ্রেঞ্চ আঁতেল রেষ্টুরান্টে খেতে গিয়ে মেন ডিশের মাংসটা চিবোচ্ছি, এমন সময় সেই শেফ বেরিয়ে এসে আমাদের টেবিলের কাছে এল। মুখ ভরা খাবার ছিল বলে প্রায় অটোমেটিক হাত উঠে যাচ্ছিল কপালে! পরেই সম্বিত ফিরল! এ কি করছি আমি? তবে সেই ফ্রেঞ্চ শেফ এ সব কিছু বোঝেনি – জিজ্ঞেস করল ডিশটা কেমন? আমি মুখের মাংসটা শেষ করে জবার দিলাম – খুব ভালো।

    ব্যস, আমি ভাবলাম কেস খতম। এবার এ শেফ চলে যাবে। কিন্তু না! আর মনে হয় অন্য কোন অর্ডার পেন্ডিং নেই কিচেনে – তাই আমাদের টেবিলে ভাটানোর সিদ্ধান্ত নিল। ব্যাখ্যা করা শুরু করল – এই স্টেকটা কেমন স্পেশাল কাট, কোথা থেকে এসেছে, কেমন করে রান্না হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার মাথা গরম হচ্ছে – অমৃতাকে বাংলায় বললাম – “মনে হচ্ছে যার মাংস খাচ্ছি, সেই প্রাণীটির জন্মদিন পালনের সময় এই শেফকে ডেকেছিল”! শেফ আমার কথা বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করল, কি বলছি আমি। কি আর বলি! ওদিকে শেফ যে প্যাশন নিয়ে সেই প্রাণীর জীবনী বর্ণনা শুরু করেছে, মনে হচ্ছে মাধ্যমিকের ২০ নম্বরের রচনা “এঁড়ে গরুর জীবনকাহিনী” লেখা এর কাছে কোনও ব্যাপারই নয়!


    এই ডিশে সেই ওয়াইল্ড মাশরুম দেওয়া! দারুণ খেতে এই ডিশটা। অবশ্য আগে জানা না থাকলে সন্দেহ হতে পারে – আমাদের স্টেশনের ধারের চাউমিন স্টলগুলোতে, ঝুড়িতে কুচানো সকালের তরকারি-বাজারের ফেলা দেওয়া সবজি কি না!

    এক সময় সেই গরুর জীবনী শেষ হল – ভাবলাম ছাড়া পেলাম। ওমা, এবার দেখি জিজ্ঞেস করছে – “আচ্ছা সঙ্গের মাশরুম কেমন লাগল”? খাবারের অর্ডার করার সময় ওয়েট্রেস অবশ্য বলেছিল – এগুলো খুব দামী মাশরুম, স্পেশাল ওয়াইল্ড প্রজাতি নাকি! আমার অত ইন্টারেস্ট নেই ছাতা নিয়ে! খড়ের পালুই-এ ছাতা দেখে আর তুলে অনেক সময় কেটেছে – তাই আর বন্য ছত্রাক নিয়ে জানার কোনওই আগ্রহ নেই। কিন্তু আমি কমলি-কে ছাড়তে চাইলেও, কমলি নেহি ছোড়তা আমাদের!

    শেফ একবুক দম নিয়ে এবার শুরু করলেন মাশরুমের জন্মকথা – দুর্গম জায়গায় গিয়ে খুঁজে আনতে হয়, একদম সকালে গিয়ে তুলতে হয়, ভাগ্য ভালো থাকতে হবে খুঁজে পেতে ইত্যাদি ইত্যাদি। এবার আর থাকতে না পেরে শেফকে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম,
    “আচ্ছা বাসি কাপড়ে মাশরুম তুলতে যায় না তো? আমার ঠাকুমা একদম বাসি কাপড়ে, বিশেষ করে যদি হেগো কাপড় হয়, তাহলে সেই কাপড় না পালটে, পুজোর ফুল তুলতে যেতে দিত না সকাল বেলা। বলত, শুভ কাজে হেগো কাপড় ভালো নয়। তাই জানতে চাইছিলাম মাশরুম তুলতে যাবার মত শুভ কাজে তেমন কাপড় পরে যায় না তো”?

    এর পর কি হল আপনারাই অনুমান করে নিন! আর যারা ভাবছেন এমন ভাবে আমি জিজ্ঞেস করতেই পারি না, তাঁদের সাথে আমার নিশ্চিত আলাপ নেই!



    অ্যাসপারাগস ইত্যাদি

    তখন সবে নতুন নতুন একটা ইংরাজি গালাগাল শিখেছি। শিখেছি বললে মনে হয় ঠিক মর্যাদা দেওয়া হবে না, আসলে শিখেছিলাম আগেই – তখন ভালো করে প্র্যাকটিস করা শুরু করেছি। “হোয়াট দ্য ফাক”। তক্কে তক্কে আছি, কখন বলা প্র্যাকটিস করা যায় – এমন নয়, যে ঠিক কি প্রসঙ্গে এই গালাগাল প্রয়োগ হয় তা জানি – কিন্তু নতুন কাক গু খেতে শেখার মত, বারে বারেই বলতে ইচ্ছে করছিল সেই ইংলিশ গালাগাল। বিদেশে গিয়ে বাংলা গালাগাল দিয়ে ঠিক জমছিল না – যাকে দিলাম সে যদি বুঝতেই না পারল, তাহলে আর বৃথা বাক্যব্যয় কেন! সেই সব ভেবেচিন্তেই সিলেক্টেড ইংরাজি জিনিস প্র্যাকটিস শুরু করেছিলাম।



  • তো, সেদিন রেষ্টুরান্টে খেতে গিয়ে, অ্যাপেটাইজার হিসাবে এই ডিশটা সামনে যখন নামিয়ে দিয়ে গেল, মুখ দিয়ে আপনা আপনিই বেরিয়ে গেল “হোয়াট দ্য ফাক”! সেদিন না জেনে ওয়েটারের সামনে এটা বললেও – পরে জানার পর বুঝতে পেরেছিলাম, এর থেকে জুতসই গালাগাল আর হয় না এই ডিশের জন্য!

    এই সব হচ্ছিল ‘ভ্যান স্পিক’ রেষ্টুরান্টে বসে। আমষ্টারডাম সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে যদি শহরের ভিতরের দিকে ডান দিক-চেপে হাঁটতে শুরু করেন তাহলে একটা রাস্তা পাবেন – স্পুই স্ত্রাট। এবং এই রাস্তার মাঝামাঝি সেই বিখ্যাত ডাচ ব্রাসেরী ভ্যান স্পিক – তবে এদের খাবার-দাবারে ডাচ জিনিসপত্রের সাথে ফ্রেঞ্চ ছোঁয়াও আছে। বুঝতেই পারছেন, একেবারে ডেডলি কম্বিনেশন – একে ফ্রেঞ্চে রক্ষা নেই, তার সাথে আবার ডাচ। তবে সৌভাগ্য এটাই, যে রান্না করা খাবারে ডাচ লোকজন আলু এবং সিদ্ধ জিনিস পত্রের বেশি উঠতে পারেনি। ফলে আপনি যা কিছু কারুকাজ দেখবেন খাবারে এবং খাবারের প্লেটে – তার প্রায় সবটায় ফরাসিদের অবদান!


    ‘ভ্যান স্পিক’ রেষ্টুরান্ট, আমস্টারডাম

    তবে বলতেই হবে এই রেষ্টুরান্টের আবার সেটিংটা খুব ভালো – ১৬৫৯ সালের একটা পুরানো গোডাউন নতুন করে সারাই টারাই করে সাজিয়ে গুছিয়ে এখন এই রেষ্টুরান্ট বানিয়েছে। এই রেষ্টুরান্টের ভিতরে ঢুকলে সর্বপ্রথম যেটা চোখে পড়বে, তা হল প্রায় ৪-৫ মিটার উঁচু সিলিং এবং দেওয়ালে এদিক সেদিকে অ্যান্টিক ছাপ আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে গোটা ব্যাপারটিকে।

    কয়েকজন বন্ধু/কলিগের সাথে খেতে গিয়েছিলাম সেদিন – অফিস থেকে সরাসরি চলে গিয়েছিলাম বলে ডিনারের সময় হিসাবে একটু তাড়াতাড়িই ছিল ব্যাপারটা। রেষ্টুরান্ট তখনও খালি – জুত করে টেবিলে বসে ড্রিঙ্কস ইত্যাদি খাওয়া হচ্ছিল। অ্যাপাটাইজার আমি নিজে অর্ডার করি নি – ঠিক হল, নানাবিধ অ্যাপাটাইজার নিয়ে শেয়ার করা হবে – আর তারপর নিজের নিজের মেন-ডিশ এবং ডেসার্ট। তো সেই নানাবিধ অ্যাপেটাইজারের ডিশের মধ্যে আমার সামনে যেটা নামিয়ে দিয়ে গেল, সেটা দেখেই আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল সদ্য প্র্যাকটিস করা গালাগালি -


    আমার পাশে যে বসে ছিল তাকে বললাম, “এ তো গামা গাছের ডগাগুলো কেটে দিয়ে গেছে মনে হচ্ছে! সাদা প্লেটে চিজ ছড়িয়ে দিলেই কি গরুর খাবার মানুষের হয়ে যায় নাকি!”

    পাশের জন বলল “হোয়াট ইজ গামা?”
    তাকে অনেক কষ্টে আমার বিখ্যাত ইংরাজিতে বোঝালাম, যে এর সাথে ভাস্কো-দা-গামা-র কোন সম্পর্ক নেই। বাড়ির গরুতে খাওয়ার জন্য আমরা জমিতে গামা (বাংলায় অনেক জায়গায় একে গমা বা গ্যামা বলা হয়) চাষ করতাম। এমনি সবুজ লকলকে ডাঁটির মত গাছ জমি থেকে কেটে এনে বাড়িতে খড় কাটার বঁটিতে ঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচ করে কুচাও।

    আমাকে বলা হল এগুলোকে নাকি ‘অ্যাসপারাগস’ বলে! গামা গাছের ডাঁটির বিজ্ঞান সম্মত নাম যে অ্যাসপারাগস, সেটা কে আর জানত!

    তবে অ্যাপাটইজারের এই হাল দেখে নিজের পছন্দ মতন মেন ডিশের অর্ডার দেব ঠিক করলাম। পরের বুদ্ধিতে রাজা হবার থেকে নিজের বুদ্ধিতে ফকির হওয়া ভালো! চোখ বুজে মেনু পেজটার উপর থেকে আঙুল বোলাতে শুরু করে নীচের দিকে নামতে থাকলাম, পাঁচ গোনার পর থেমে, যে ডিশের নামটায় আঙুল ঠেকেছে, সেটাই অর্ডার করলাম। সেটা ছিল – স্টেক, সাথে হালকা ওয়াইল্ড স্পিনাচ, কিছু স্মোকড সিলভার ওনিয়ন, পোরচিনি মাশরুম গ্রেভি।


    এই ডিশ দেখতে যেমনই হোক, খেতে ব্যাপক ছিল – ব্লাইন্ড পদ্ধতিতে অর্ডার করে অভূতপূর্ব সাকসেস পেয়ে ডেসার্ট-ও একই ভাবে অর্ডার করব ঠিক করলাম। কিন্তু এদের ডেসার্টে মাত্র পাঁচটা অপশন, এখানে আঙুল বুলানো পদ্ধতি চলবে না। তাই ঠিক করলাম, মাঝের ডিশটা নেওয়া যাক, মানে তিন নম্বরেরটা। খেয়ে দেখলাম সে জিনিস মারাত্মক – সলটেড ক্যারামেল, চকোলেট ম্যুস এবং ব্লাড অরেঞ্জ সরবে।


    এত সুন্দর মেন ডিশ এবং ডেসার্ট খেয়ে শুরুতে গামা গাছের ডগা খাওয়াবার অপরাধ মার্জনা করে দিলাম এদের -


  • বিভাগ : খ্যাঁটন | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০৫২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ramit Chatterjee | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:৫০497875
  • শেষ দুটো ডিশ নামে আর দেখেই খেতে ইচ্ছে করছে। আর এপেটাইজার টাই সবচেয়ে আন আপেটাইজিং দেখতে।
  • kk | 68.184.245.97 | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:৫১497876
  • এই যাঃ, আমি আবার ঐ গামা গাছের ডগা খুবই পছন্দ করি :-))
    ওর সাথে ঐ সামান্য ড্রিজলটা কী তা লেখেননি তো? কিছুর রিডাকশন? আর মেন ডিশে স্টেকের নীচে কিছু একটা পিউরেও আছে মনে হয়, সাদা রঙের? দেখুন, আপনার লেখা দিয়ে দর্শনে অর্ধ-ভোজন করি তো, তাই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব না জানলেই আমার চলে না!
  • Kuntala Lahiri-Dutt | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:৪৯497886
  • Asparagus একটা অসাধারণ জিনিস, এটি খাওয়ার  অভ্যাস করতে হবে আপনাকে
  • Amit | 203.0.3.2 | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:৫৯497888
  • ইয়ে ওই কাপড়ের প্রসঙ্গটা র ইংলিশ ট্রান্সলেশন টা একটু দিয়ে দাওনা। কোথাও এরকম ফেঁসে গেলে কাজে আসবে। ডাইরেক্ট গালাগাল দেওয়া যায়না বলে কত জায়গায় এরকম ফালতু হ্যাজ সহ্য করে যেতে হয় কি আর বলবো। 
  • সুকি | 49.207.225.186 | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:৩২497892
  • ধন্যবাদ সবাইকে - 
     
    অ্যাাস্পারাগস খুবই সাংঘাতিক জিনিস সেই বিষয়ে কোন সন্দেহই নেই :) 
     
    কেকে, ওই সাদা পিউরেটা ছিল যতদূর মনে পড়ছে পোরচিনি মাশরুমের। তবে অ্যাসপারাগসের সাথে কিসের ড্রিজল দিয়েছিল ঠিক মনে আসছে না। বালসেমিক ভিনিগার-এর রিডাকশন কি! বাই দি ওয়ে, গামা গাছের ডগা আমারও খুব প্রিয় জিনিস :) 
     
    অমিতাভদা, অভিজাত লোকেদের ওটাই সমস্যা, গালাগাল দিতে পারবে না ঠিক ঠাক :) নিমোর ছেলে হিসাবে এই বিষয়ে কোনই চাপ নেই :) 
  • Amit | 203.0.3.2 | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:২৪497894
  • দুত্তেরি অভিজাত। আমার ইংরেজিটা নেহাতই কাঁচা  আসলে। এসব সিচুয়েশনে চাপে পড়ে যাই। মনে মনে বাংলায় বাপান্ত করি শালাদের। কিন্তু সেগুলো ঠিক্ঠাক সার্কাজম এনে ট্রান্সলেট করে উঠতে পারিনা কাজের সময়।
     
     :)  :) 
  • সম্বিৎ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:২৪497895
  • অ্যাসপেরাগাস ভাল। আর্টিচোক নেহি চলেগা। মুজতবা আলী অ্যাসপেরাগাস খেতে খুব ভালবাসতেন। একটা লেখায় ("ভিন কোনারের মা"?) ছিল যে ওনাকে এত পরিমাণ অ্যাসপেরাগাস খেতে দিয়েছিল যে আলীসাহেবের চোখ সকেট থেকে ঠিকরে বেরিয়ে মাটিতে পড়ে গেছিল। তখনও অব্দি অ্যাসপেরাগাস খাইনি, দেখতে কীরকম তাই জানতাম না। 
     
    আমার খেতে ভালই লাগে, গ্রিলড বা স্টিমড। আর পেছনের মোটা অংশটা বাড়িতে মাছের ঝোলে ডাঁটার সাবস্টিটিউট হিসেবে দেওয়া হয়।
  • dc | 122.164.237.43 | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:২৯497896
  • দুর্দান্ত লেখা, শেফের অ্যানেকডোটটা খুব মজার :-) অ্যাসপারাগাস দুয়েকবার খেয়েছি, সেরকম ভাল্লাগেনি, শুধু ডগাটুকু খাওয়া যায়। তার চেয়ে ব্রাসেল স্প্রাউট গ্রিল করে বালসামিক ভিগার আর অল্প চিজ ড্রিজল করে খেতে অনেক বেশী ভাল্লাগে। 
  • | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:১৮497928
  • দুকির এই পর্বটে ঠিকঠাক হয়েছে।  আগের দুটো কেমন হাফ কুকড ছিল।
  • বিপ্লব রহমান | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:১১498055
  • এই রকম দামী রেঁস্তোরা আর 'অ্যাসপারাগস’ শুনলেই সমার সেট মমের " দি লাঞ্চন" গল্পের কথা মনে পড়ে! 
    হেগো কাপড়ে দুর্লভ মাশরুম সংগ্রহ!! হা হা হা... :)) 
  • Abhyu | 47.39.151.164 | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:২৪498056
  •  

    দ্বিতীয়বারে বুড়ি অতটা বিচলিত হলেন না। এবারেও কাঁদিলেন তবে জার্মানি বিজ্ঞানের দেশ বলে তার একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দিলেন; বললেন, চোখের কাছের যে স্যাক থেকে জল বেরোয়, বুড়ো বয়সে মানুষ নাকি তার উপর কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলে। হবেও বা, কিন্তু বিদেশে ছেলের কথা ভেবে মা যদি অঝোরে কাব্দে। তবে তার জন্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার কি প্রয়োজন?


    শুধালেন, ‘এসপেরেগাস খাবেন-একটুখানি গলানো মাখনের সঙ্গে?


    আমি তো অবাক। এসপেরেগাস মানুষে খায় পশ্চিম বাংলায় যে রকম আসল খাওয়া হয়ে গেলে টক খাওয়া হয়। বলা নেই কওয়া নেই, সকাল বেলা দশটার সময় সুস্থ মানুষ হঠাৎ টিক খেতে যাবে কেন?


    মজাটা সেইখানেই। আমি এসপেরেগাস খেতে এত ভালোবাসি যে রােত তিনটের সময় কেউ যদি ঘুম ভাঙিয়ে এসপেরেগাস খেতে বলে তবে তক্ষুনি রাজী হই। ভারতবর্ষে এসাপেরেগাস আসে টিনে করে-তাতে সত্যিকার সোয়াদ পাওয়া যায় না।–তাজা ইলিশ নোনা ইলিশের চেয়েও বেশি তফাৎ। সেই এসপেরেগাসের নামেই আমি যখন অজ্ঞান তখন এখানকার তাজা মাল!


    মাই বললেন, ‘আমি যখন এর্নস্টের কাছ থেকে খবর পেলুম, আপনি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন, তখন বউমাকে লিখলুম, আপনি কি খেতে ভালোবাসেন সে খবর জানাতে। বউমা লিখলে পুরো লাঞ্চ খাওয়াতে হবে না, শুধু এসপেরেগাস হলেই চলবে। সৈয়দ সাহেব মোষের মত এসপেরেগাস খান—বেলা-অবেলায়।’


    বুড়ি মধুর হাসি হেসে বললেন, ‘পুরো লাঞ্চ এখন আমি আর রাঁধতে পারি নে, বউমা জানে। তাই আমার মনে কিন্তু-কিন্তু রয়ে গিয়েছে, হয়ত আমাকে মেহন্নত থেকে বাঁচাবার জন্য লিখেছে আপনি বেলা-অবেলায় এসপেরেগাস খান।’।


    আমি বললুম, ‘আপনাকে দেখিয়ে দিচ্ছি।’


    ‘দেশের চতুর পাঠকদের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখে আর কস্য লভ্য যে আমি পেটুক। উল্টে তাঁরা বুঝে যাবেন, মিথ্যেবাদীও বটে।


    এসাপেরেগাসের পরিমাণ দেখে আমার চোখ দুটো পটাং করে সকেটু থেকে ছিটকে বেরিয়ে গেল। মহা মুশকিল। সেগুলো কাপেট থেকে কুড়িয়ে নিয়ে সকেটে ঢুকিয়ে এসাপেরেগাস গ্রাস করতে বসলুম।


    জানি, এক মণ বললে আপনারা বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু প্লীজ, আধা মণ না মানলে আমাকে বড় বেদনা দেওয়া হবে। সুকুমার রায়ের ‘খাই-খাই খানেওয়ালাও সে-খানা শেষ করতে পারত না।


    আমি ঐ এক বাবদেই আমার মাকে খুশি করতে পারতুম—গুরুভোজনে। ধর্মসাক্ষী, আর সব বাবদে মা আমাকে মাফ করে দিয়েছেন। কোন-ভিনারের মা পর্যন্ত খুশি হলেন, তাতে আর কিমাশ্চৰ্যম!


    হায় রে দুর্বল লেখনী-কি করে কোন-ভিনারের মায়ের এসপেরেগাস রান্নার বর্ণনা বতরিবৎ বয়ান করি। অমিত্ৰাক্ষর ছন্দে শেষ কাব্য লিখেছেন মাইকেল, শেষ এসপেরেগাস রোধেছেন কোন ভিনারের মা।

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন