• বুলবুলভাজা  খ্যাঁটন  খানাবন্দনা  খাই দাই ঘুরি ফিরি

  • চাষার ভোজন দর্শন – ৭ম

    সুকান্ত ঘোষ
    খ্যাঁটন | খানাবন্দনা | ১২ আগস্ট ২০২১ | ৯৭৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)

  • হেলদি ব্রেকফাস্ট ভাঁওতার খপ্পরে

    এই ব্রেকফাস্ট জিনিসটাই বেশ গোলমেলে – তার সঙ্গে যদি আবার যুক্ত হয় ‘হেলথি’ শব্দটি তাহলে এই আপাত নিরীহ জিনিসের বেশ ডেডলি হয়ে ওঠার ক্ষমতা আছে! যে ডাক্তারেরা আজ পর্যন্ত মীমাংসা করে উঠতে পারলেন না আপেলে উপকারিতা বেশি নাকি পানিফল, পেয়ারা বা কয়েতবেলের, তেনারা যে সকালের খাবারের গুরুত্ব নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে পোঁছাতে পারবেন সেটা ভাবাই বাতুলতা!

    আমাদের ছোট বেলায় এই নিয়ে কোন টেনশন ছিল না – ব্রেকফাস্ট বলে আলাদা করে কেউ খাবার তৈরি করত না! গত রাতের আটার রুটি বেঁচে আছে, সেই রুটি গোল করে পাকিয়ে চায়ে ডুবিয়ে খেয়ে প্রাইভেট পড়তে ছোটো। আটার রুটি না থাকলে লেড়ো ডুবিয়ে খাও! কেউ বারণ করার নেই – কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করার কেউ নেই দুধ চায়ে কোলস্টেরল আছে বলে! ব্রেকফাস্ট আমাদের জীবনে প্রবেশের পিছনে মনমোহন সিং-এর হাত আছে এটা আজ স্বীকৃত সত্য। মুক্ত বাজার নাকি উন্মুক্ত বাজার কী বলে সে সব শুরু হবার পর একসময় দেখা গেল রাস্তার ধারে দোকানে ‘ব্রেকফাস্ট’ বিক্রি হচ্ছে!

    বড় হতে শুরু করলাম আর কান ঘুষো গুজব কানে আসতে শুরু করল এই মর্মে যে ব্রেকফাস্ট নাকি দ্য মোস্ট ইমপরটেন্ট মিল অব দ্য ডে! কী খেতে হবে সেই সবও শুনলাম – ডিম জিনিসটাই চেনা শুনা ঠেকল। সিরিয়াল না কী বলল খেতে হবে – যা শুনে আমরা আকাশ থেকে পড়ে তা কী জিনিস জানার জন্য আশেপাশের গ্রামের আঁতেলের দ্বারস্থ হতে শুরু করলাম। কারণ তার আগে পর্যন্ত সিরিয়ালের সঙ্গে আমরা টিভিকেই রিলেট করতে পারতাম কেবল – আর জনপ্রিয় সিরিয়াল বললে জননী!

    ব্রেকফাস্টের ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার জায়গা এটা নয় – কিন্তু একটু খোঁজ নিলে দেখবেন, উনবিংশ শতাব্দীর বা অনেক ক্ষেত্রে বিংশ শতাব্দীর আগে এই ব্রেকফাস্ট নিয়ে তেমন বিশাল হই-চই কিছু ছিল না। সারা রাত ঘুমিয়ে ক্লান্ত হয়ে গিয়ে সকালে মানুষের খিদে পাবে সেটা বেশ স্বাভাবিক! খিদে পেয়েছে – খাও! এই বাইরে ব্রেকফাস্ট নিয়ে যে গুজব এবং রাজনীতি তাতে বেশ ইন্ধন ছিল ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল বিক্রি করা কোম্পানি এবং কিছু ধর্ম-নেতাদের। ব্রেকফাস্টের উপকারিতা নিয়ে প্রচুর স্টাডি হয়েছে – অনেকে বলেছে সকালে খেয়ে এই উপকারিতা, সেই উপকারিতা। এবং এর বিপরীতে বেশ কিছু স্টাডিও হয়েছে যেখানে দেখা গিয়েছে – স্বাস্থ্যের উপর ব্রেকফাস্টের যে উপকারিতা দেখানো হয়েছে, তা যত না অ্যাকচ্যুয়ালি ব্রেকফাস্টে কী খাচ্ছি তার কারণে – তার থেকেও বেশি নির্ভর করেছে সেই ব্যক্তির ওভারঅল লাইফস্টাইলের উপর।

    তবে এই নিয়ে আমার বেশি চিন্তা নেই – আমার মোটো হচ্ছে, খিদে পেলে খাও! তা সে মাঝরাতেই হোক বা সকাল ৯টায়! তবে বুকে লাগে যখন পৃথিবীর নানা প্রান্তের হোটেলে গিয়ে আজকাল ‘হেলদি ব্রেকফাস্ট’ নিয়ে মাতামাতি দেখি। তাতেও আমার প্রবলেম হত না যদি না আমি নিজে সেই ভাঁওতাবাজির শিকার হতাম।

    কোন কোন সময় বড় বড় হোটেল গুলোতে নানাবিধ কারণে একটু স্পেশাল খাতিরও পেয়ে থাকি। যেমন ধরুন কোন হোটেলে অপশন দিল যে আগের দিন রাত দশটার মধ্যে জানালে ব্রেকফাস্ট রুমে পৌঁছে দেবে – নীচের রেস্টুরান্টে গিয়ে খেতে হবে না। রুম সার্ভিস আমার খুব প্রিয় একটা বিষয় না হলেও, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে অনেক অনেক দিন রুম সার্ভিসের মাধ্যমে খিদে নিভেয়েছি।

    তো সেদিন কী মনে হল ভাবলাম যে ব্রেকফাস্ট রুমেই অর্ডার করি – রুমের টেবিলে মেনু রাখা ছিল, আর কোন টাইমে চাই সেটাও বেছে নেবার অপশন ছিল। সাধারণত কন্টিনেন্টাল আর লোকাল এমন দুই ভাগে থাকে মেনু – তা সেই হোটেলের মেনু-তে দেখলাম রয়েছে ‘হেলথি চয়েস’ অপশন। ভাবলাম দিন রাত যা খাচ্ছি রেস্টুরান্টে, পেট পুরো কোলা ব্যাঙের মত ফুলে যাচ্ছে – তাই এক্ষেত্রে হেলথি ব্রেকফাস্টই চুজ করলাম। তাতে কী দেবে সে সব আর পড়ে দেখলাম না – সকাল সাড়ে ছয়টায় রুমে যেন ডেলিভারি দেয় সেই মর্মে বক্সে টিক দিলাম।

    পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খিদে পেয়ে গেছে মনে হল – ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্টের জন্য ওয়েট করছি। ছটা বত্রিশের মধ্যে রুমের বেল বাজল এবং খুলে দেখে বিশাল ট্রলি নিয়ে এক ছেলে হাজির। আলাপ হয়ে গেল – মাসুদ নাম, বাংলাদেশের ছেলে। আমি তো ট্রলি দেখে বেজায় খুশি – ভেবেছিলাম যে শুধু ট্রে করে ব্রেকফাস্ট দেবে, কিন্তু তার বদলে এত কিছু সাজানো ট্রলি দেখে মাসুদকে বিশাল ধন্যবাদ দিলাম। বললাম মিনিট কুড়ি বাদে খালি প্লেট নিয়ে যেতে।

    আয়েশ করে বসে এবার ব্রেকফাস্ট খাবার জন্য ঢাকা খুলতে শুরু করলাম – পুরো টেবিল নানাবিধ পাত্র ঢাকায় ভর্তি। ঢাকার সাইজ দেখে ভেবেছিলাম পাত্রের সাইজও হবে বিশাল! একের পর এক ঢাকা সরাচ্ছি আর মাথায় রক্ত উঠছে ক্রমশ। এক ইঞ্চি ব্যাসের একটা বাটি নয় ইঞ্চি ব্যাসের একটা ঢাকনা দিয়ে চাপা দেওয়া! একটা বাটিতে একটু বাটার, একটা প্লেটে একটা বাতাবি লেবুর টুকরো (যাকে এরা গ্রেপফ্রুট বলে), টিকটিকি এর থেকে বেশি হিসি করে এমন পরিমাণ অরেঞ্জ জুস – এবং সবচেয়ে বেশি জ্বলানো হল মুসোলির মাঝে আধখানা করা স্ট্রবেরি!


    এত বড় ট্রলি-তে খাবার কৈ! শুধু তো পাত্র এবং তাদের ঢাকনাতেই ভর্তি!

    মাথা বিশাল গরম – ব্রেড কোথায়, পাগলের মত খুঁজছি, ক্রসো দেয়নি? সেই খেয়েই পেট ভরাতে হবে। শেষে দেখি হাসপাতালে সদ্যোজাত বাচ্চাকে যেমন কাপড়ে জড়িয়ে রাখে তেমন ভাবে তিন-চার পিস ব্রেড রাখা। সেই খেয়ে পেট ভরাচ্ছি এমন সময় ট্রলি ফিরিয়ে নেবার জন্য মাসুদ এল – তাকে দেখে আরো মাথা খারাপ হয়ে গেল – বেশ রাগি মুখে বললাম,
    “বাঙালি হয়ে আরেক বাঙালির মুখের খাবার কেড়ে নিতে লজ্জা করে না?”




    ব্যাস! শুধু এটা দিয়ে ব্রেকফাস্ট! এতো প্রায় স্ক্যাম!

    মাসুদ গেল ঘাবড়ে, বলল - “কী হয়েছে স্যার?
    আমার তখন রাগের চোটে মাথার ঠিক নেই – “এটা ব্রেকফাস্ট দেওয়া হয়েছে? এর থেকে ঢাকা দিয়ে প্লেটের উপর একটা কুপন রাখতে পারতে, আমি রাস্তার কোন দোকানে এক্সচেঞ্জ করে খেয়ে নিতাম”

    মাসুদ বলেই চলে, “স্যার, আপনিই তো হেলদি ব্রেকফাস্ট চ্যুজ করেছেন নিজে”!

    -তা বলে তুমি দেখবে না একটা বাঙালি এটা অর্ডার করেছে? বাঙালির হেলদি মানে কি টিকটিকির হিসির মত পরিমাণ অরেঞ্জ জুস?
    -স্যার, আমাদের ও শুধু রুম নাম্বার লেখা থাকে অর্ডারে – আপনার নাম তো লেখা ছিল না, বাঙালি কী করে বুঝব!

    ভেবে দেখলাম মাসুদের দোষ নেই, তাকে জানালাম এই প্রথম এই শেষ তোমাদের হেলদি ব্রেকফাস্ট খাওয়া আমার। কাল থেকে আমি নিচের রেস্টুরান্টে গিয়ে খাব।


    চারটে ব্রেড/ক্রসো-কে এমন কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে যে হাসপাতালে সদ্যোজাতকে এত যত্ন করে মুড়িয়ে রাখা হয় কিনা কে জানে!

    পরের দিন সকালে সাড়ে ছয়টায় ব্রেকফাস্ট করতে গেছি – অত সকালে কেউ নেই, একদম ফাঁকা। মানে আমি ধীরে সুস্থে যা চাই নিতে পারি – বারে বারে উঠে গিয়ে নিতে পারি। প্রিয় খাবার শেষ হবার চান্স নেই – নেই কম্পিটিশন।

    কিন্তু আমি আর রিস্ক নেবার দলে নেই – বড় প্লেট নিয়ে একদম খাবার ডাম্প করছি। আমার কীর্তি দেখে কাউন্টারের মেয়েটা মনে হচ্ছিল আমাকে আড়চোখে দেখছে। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “মাসুদ-কে চেনো? রুম সার্ভিস দেয়”। মেয়ে হ্যাঁ সূচক ঘাড় নাড়ল।

    আমি বললাম, “তাহলে আর আড়চোখে আমার প্লেটের দিকে তাকাবার দরকার নেই, মাসুদ-কে গিয়ে জিজ্ঞেস করে নাও কারণটা। আর ফেরার সময় একটা ওমলেট দিয়ে যেও আমার টেবিলে”!


    রুম সার্ভিসের দরকার নেই! ফিরে আসা যাক রেস্টুরান্টে বসে খাওয়ায়। প্লেট উপচে যাচ্ছে এবং ওমলেটও যত্ন করে বানিয়ে দিয়েছিল আজ!


  • বিভাগ : খ্যাঁটন | ১২ আগস্ট ২০২১ | ৯৭৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:fccd:10ba:8383:c85f | ১২ আগস্ট ২০২১ ১২:২৬496685
  • ক্রসো এবং মুসোলি — এ দুটো ভুল শব্দ বলে মনে হচ্ছে। সুকির লেখা বলেই ভুল গুলো ধরিয়ে দিলাম।

  • সুকি | 223.191.23.236 | ১২ আগস্ট ২০২১ ১৭:০৯496688
  • সে-দি, বাঙলা বানানে "মুসলি' লেখা উচিত ছিল মনে হয়৷ কিন্তু 'ক্রোসো' কে কি লিখব! 'টি' তো উহ্য! 

  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:fccd:10ba:8383:c85f | ১২ আগস্ট ২০২১ ১৭:৫৫496689
  • মুয়েস্লি (Muesli) এবং ক্রোয়াসঁ (Croissant )

  • সুকি | 223.191.23.236 | ১২ আগস্ট ২০২১ ১৮:০৮496690
  • আমি প্রচুর প্রচুর বিদেশী (নানা দেশের) মুসলি এবং ক্রোসো (চন্দ্রবিন্দু থাকবে) উচ্চারণ করতে শুনি৷ তাই এগুলো ঠিক ভুল মনে হয় বলা যায় না৷  

  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:fccd:10ba:8383:c85f | ১২ আগস্ট ২০২১ ১৮:১৮496691
  • এই দুটো খাদ্যবস্তু নিয়েই আমার একটু ব্যাথা আছে যেহেতু দুটোর মধ্যেই সুইস ব্যাপার রয়েছে। মুয়েস্লি বা আরও গভীরভাবে বললে বির্খের মুয়েস্লি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ততটাই জড়িত, ঠিক যতটা বাঙালির কাছে পান্তাভাত। আবার ক্রোয়াসঁ-কে আমরা বলি গিপফেলি। পয়ে হসন্ত আছে। এ ফরাসী ক্রোয়াসঁর থেকে উন্নত স্বাদে এবং মানে। এর পরতে পরতে সুইস পারফেকশন, পাতলা পাতলা লেয়ার এবং মুচমুচে ক্রাস্ট। পাতি ক্রোয়াসঁকে ডজন ডজন গোল দিতে পারে। এ অনেকটা ওয়াইন টেস্টিং এর মতো। ভালো ওয়াইন এবং খুব ভালো ওয়াইন টেস্ট করে বুঝবার মত সূক্ষ্ম ব্যাপার। গিপফেলিও বিবিধ, অসংখ্য প্রকার। জেনিভা লেকের ওপারেও ক্রোয়াসঁ তৈরী হয়, কিন্তু তাদের ক্রোয়াসঁ আর এই সুইস ক্রোয়াসঁর তুলনা কেবল সমঝদারেই করতে পারে। জারমান ভাষী সুইস আল্পসে এটাই হয়ে যাচ্ছে গিপফেলি। অর্ধচন্দ্রাকার এই খাদ্যের এই নামের পেছনে ইতিহাস আছে। ঘাড়ে ধাক্কা বা অর্ধচন্দ্র দেবার  প্রতীক হিসেবেই এই খাদ্যটির এমন আকৃতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। কোনও এক যুদ্ধের পরের গল্প সেসব। 


    বির্খের মুয়েস্লি ও গিপফেলির সঙ্গে সুইস সেন্টিমেন্ট নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকে। ঠিক যেমন বিভিন্ন চীজ এর সঙ্গে।

  • মায়ূখ দত্ত | 5.107.1.131 | ১৩ আগস্ট ২০২১ ০৯:০৮496715
  •  হা হা .... আগে এটা কোথাও পড়েছি বলে মনে হচ্ছে, তবু আবার পড়লাম, ঠোটের কোনে আবার একটা ছোট হাসি কখন যেন অট্টহাসিতে পরিনত হয়ে গেল!! 

  • Amit | 121.200.237.26 | ১৩ আগস্ট ২০২১ ১০:৫৬496716
  • পরের দিনের ব্রেকফাস্ট ও বেশ হেলদি ই ছিল মনে হচ্ছে। এত স্যালাড সাতসকালে ? 

  • Ramit Chatterjee | ১৩ আগস্ট ২০২১ ১১:০৮496717
  • বাংলায় বেশির ভাগ উচ্চারণ এ দেখি মিউস্লি আর ক্রোসাঁ বলে।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন