• বুলবুলভাজা  খ্যাঁটন  খানাবন্দনা  খাই দাই ঘুরি ফিরি

  • চাষার ভোজন দর্শন – ৯ম

    সুকান্ত ঘোষ
    খ্যাঁটন | খানাবন্দনা | ২৬ আগস্ট ২০২১ | ২৩৩৫ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)

  • হাম্পির আশেপাশে

    আজকাল আমি পারতপক্ষে ব্যুফে (বা বাফে, যেমন বলবেন)–তে খাওয়া দাওয়া এড়িয়ে চলি। এর প্রধান কারণ নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পারা। ভাবুন একবার, কেউ বলল - যাই খাও বা যতটা পরিমাণেই খাও না কেন, বিলের পরিমাণ একই! এই প্রলোভন জয় করা – আমি তো ক্ষুদ্র মনুষ্য, বড় বড় মহাপুরুষের মানসিক জোরে কুলায় না। বহু সচেতন পাবলিক দেখেছি, যারা, এমনিতে যাকে বলে পুষ্টি এবং ক্যালোরি, হিসেব করে খায় – কিন্তু ব্যুফে-তে গিয়ে অন্য মানুষ হয়ে ওঠে। আমারও প্রায় অনুরূপ অবস্থা, ভিতর থেকে একটা কম্পিটিটেটিভ মনোভাব চাড়া দিয়ে ওঠে। ও খাচ্ছে আর আমি পারব না! বা পয়সা যখন দিয়েছি, তখন খেয়ে শোধ তুলতে হবে – এই চক্করে পড়ে মাঝে মাঝে এত খেয়ে ফেলেছি যে শেষে টেবিল থেকে ওঠার অবস্থা থাকে না!

    এবার বলতেই পারেন, কে মাথার দিব্যি দিয়েছিল, যে ব্যুফে খেতেই হবে! আলা-কার্ট নিলেই হয়! আজকাল তাই করি – মানে ওই যে বলছিলাম ব্যুফে এড়িয়ে চলি। কিন্তু মাঝে মাঝে এমন অবস্থায় পড়তে হয়, যে ব্যুফে ছাড়া অন্য অপশন থাকে না! কনফারেন্স অ্যাটেন্ড করতে গিয়ে তো এই জিনিস হামেশাই হয়। আর একটা সময় হয় – তা হলে পিক সিজনে কোন জনপ্রিয় জায়গায় বেড়াতে গেলে বিশেষ দিনে সেখানে রেষ্টুরান্টে পছন্দমত খাবার সার্ভ করার ক্ষমতা থাকে না তাদের – সেদিনগুলিতে ওরা ব্যুফের ব্যবস্থা করে কেবল।

    তেমনই এক পাল্লায় পড়তে হয়েছিল গতবছর বড়দিনের সময় হাম্পি বেড়াতে গিয়ে। একে তো করোনার জন্য পাবলিক বহুদিন বেড়াতে যেতে পারে নি, তারপর আবার বড়দিনের ছুটি – তাই ২৪-২৬ তারিখ হাম্পিতে চরম ভিড় ছিল, বিশেষ করে নাম-করা হোটেল গুলোতে। আমরা ছিলাম ‘হাম্পি হেরিটেজ রিসর্ট’ – এটা মনে হাম্পির সবচেয়ে কাছের সবচেয়ে ভালো রিসর্টগুলোর একটা। এরা করেছিল কি – এই সময়টাতে, অর্থাৎ ২৪শে ডিসেম্বর থেকে ১ তারিখ পর্যন্ত, মূলত কেবল প্যাকেজ রুম টাইপের ব্যবস্থা রেখেছিল। রুম প্যাকেজের মধ্যেই ব্রেকফাষ্ট-লাঞ্চ-ডিনার ধরে নিয়েছিল। এই রিসর্টের জায়গার আশে পাশে কিছু ভালো রেষ্টুরান্ট নেই – আর সারাদিন হাম্পি হেঁটে ঘুরে রাতের বেলায় রেষ্টুরান্ট খুঁজতে বেরুবার মতন এনার্জি থাকত না। তাই হয়ত ডিনার না ধরে নিলেও এখানেই রাতে খেতাম। লাঞ্চ প্যাকেজের মধ্যে ধরা থাকলেও কোনদিন খাইনি – বাইরেই খেতাম।

    রিসর্ট কিন্তু বেশ সুন্দর – অনেক গাছ গাছালি – পিছনের দিকে এদের নিজেদের অর্গানিক মশলা এবং শাক-সবজির বাগান আছে। ২৫ তারিখ সন্ধ্যেবেলা হাম্পি ঘুরে ফিরছি – দেখি, হোটেলের কম্পাউন্ডে একটা ছোট ট্রলিতে, অনেক সাদা খাবারের প্যাকেটের মত নিয়ে, একটা ছেলে টানতে টানতে যাচ্ছে। মনে কেমন সন্দেহ হল, জিজ্ঞেস করলাম, “ভাই কি আছে এতে?” বলল রিসর্টের তরফে গিফট, এতে কেক (প্লাম কেক) আছে, আর আছে এদের বাগানের লবঙ্গ, দারুচিনি, এলাচ এবং কফি – ছোট প্যাকেটে ভরা! বেশ ভালো জিনিস তো! ছেলেটা বলল, “স্যার, রুম নাম্বার বলুন দিয়ে আসছি পরে” – আমি দেখলাম, পাগল নাকি, যদি পরে ভুলে যায়! সেখানেই ওকে থামিয়ে গিফট বুঝে নিলাম। ফ্রি জিনিস একদম হাতছাড়া করতে নেই!

    হোটেলের সুইমিং পুলটাও বেশ ভালো, সেখানে বিকেলে চা-ও দিচ্ছিল ফ্রিতে। তবে বিকেলে কোনদিন হোটেলে ছিলাম না বলে ট্রাই করা হয়নি। রেষ্টুরান্টের পাশে একটা পাবও আছে। যে ক’দিন ছিলাম, আমরা ছাড়া সেই পাবে অবশ্য কাউকে বসতে দেখিনি - এই সময়টাইয় বেশির ভাগই ফ্যামিলি ট্যুরিষ্ট থাকার জন্য মনে হয়।

    সাড়ে সাতটায় ডিনার শুরু হলে, সাতটা উনত্রিশে হাজির হওয়া আমার বহুদিনের অভ্যেস। আর ব্যুফে টাইপের হলে তো কথাই নেই! প্লেট হাতে আমাকে সবার প্রথমে দেখার সম্ভাবনা!

    সেই মত সাতটা উনত্রিশে হাম্পি হেরিটেজের রেষ্টুরান্টে হাজির হয়েছি। বলাই বাহুল্য, আমরা ছাড়া কেউ নেই। সাতটা উনত্রিশে যে কেউ আসতে পারে খেতে, সেটা মনে হয় এরা ভাবেনি। একজন বলল, স্যার বসুন, প্রায় রেডি হয়ে গেছে। তার কথায় বিশ্বাস না করে ব্যুফের ঢাকনাগুলো তুলে দেখে এলাম। দেখলাম কিছু স্টার্টার দেওয়া হয়েছে। আমি সেই দেখে ছেলেটা ডেকে বললাম, ভাই, গুল দিলে কেন? এই তো খাবার রয়েছে। সে বলল, স্যার, আমি মেন কোর্সের কথা বলছিলাম।


    বললাম, মারো গোলি তোমার মেন কোর্স – এখন এই শুরু করি – তোমরা ধীরে-সুস্থে আনো মেন কোর্স। জোলাপের মতন যেটা স্ট্রবেরি ফ্লেভার ড্রিঙ্কস বলে চালায় সেটা গ্লাস ভরে – আর সাথে যা যা স্টার্টার ছিল সব নিয়ে বসলাম। বলতে নেই খাবারের অপশন অনেক ছিল – কারণ, খাবার না এলেও, তাদের নেম-কার্ডগুলো দেখে এসেছিলাম।

    ঘুরতে ঘুরতে ডেসার্ট সেকশনে গিয়ে বেশ ভালো লাগল – অনেক অপশন দিয়েছে। আমি তাই মেন-ডিশ খেয়ে পরিমাণ-মত স্থান খালি রাখলাম পেটে – এই সব ডেসার্ট খাব বলে।
    একসময় মেন কোর্স খাওয়া শেষ হলে এগিয়ে গেলাম ‘স্নো-ম্যান’ কেকটার দিকে। এটার প্রতি আমার টার্গেট ছিল অনেকক্ষণ। এঁর কাছে গিয়ে ভাবলাম, কেটে ফেলার আগে একটা ছবি তুলে রাখি।




    ছবি তুলে ডান হাতের দিক চেপে নামালাম। সেই দেখে ম্যানেজার এসে বলল,
    - এ হে, কেটে ফেললেন!
    - কোথায় কাটলাম, মাথা টাচ করি নি তো!
    - তবুও, কেউ তো দেখতেই পেল না এটা এখনও! আপনিই সবচেয়ে প্রথমে খেতে এলেন, প্রথমে খাওয়া শেষ করেই এটাকে কেটে ফেললেন!
    - কাটা যাবে না সেটা তো লেখেননি!
    - সেটা লিখিনি, তবে প্রতি বছরই তো করি, কেউ প্রথমেই কেটে নেয়নি আজ পর্যন্ত...
    - প্রতি বছর তো আমি আসি না!
    ম্যানেজার আমাকে আর ঘাঁটালো না। তার ফালতু বকার শাস্তি-স্বরূপ আমি হাতটা শেষ করে উঠে গিয়ে মাথাটা কেটে আনলাম!

    পরের বার, ২৫শে ডিসেম্বর, হাম্পি হেরিটেজ রিসর্টে গিয়ে রেষ্টুরান্টে স্নো-ম্যান কেকের পাশে যদি লেখা দেখেন - “রাত দশটার আগে একে কাটবেন না দয়া করে” – তাহলে সেটা জানবেন আমার জন্য!

    যাই হোক, পরের দিন হাম্পি ঘুরতে বেরিয়ে ভাবলাম, এমন রেষ্টুরান্টে আর ঢুকব না যেখানে ব্যুফে আছে – এবার থেকে শুধুই আলা-কার্ট। তবে এর সাথে আবার মনে পড়ে গেল, যে বন্ধুরা পই পই করে বলে দিয়েছে হাম্পি গেলে ‘ম্যাঙ্গো–ট্রি” রেষ্টুরান্টে খাওয়া নাকি মাস্ট! এই ম্যাঙ্গো-ট্রি রেষ্টুরান্ট নাকি আগে তুঙ্গভদ্রা নদীর ধারে এক সিনিক-সিটিং এর মধ্যে ছিল, কিন্তু এখন সেটা উঠে এসেছে একদম বিরুপাক্ষ মন্দিরের গায়ে। হাম্পির বিরুপাক্ষ মন্দির নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই নতুন করে – আমার তরফে এটুকুই বলার, যে সেই মন্দিরের কাছাকাছি এসে আমি ম্যাঙ্গো-ট্রি রেষ্টুরান্টের টান বেশি অনুভব করলাম, মন্দিরের আধ্যাত্মিক ব্যাপারের থেকে! কিন্তু ম্যাঙ্গো-ট্রি রেষ্টুরান্ট খুঁজতে গিয়ে, বাইরে থেকে দেখে একদম ভক্তি হল না! কিন্তু ভিড় দেখলাম প্রচুর – জুতো খুলে ভিতরে ঢুকলাম। দুই রকম ভাবে বসার ব্যবস্থা আছে – মাটিতে বসে খাওয়া এবং চেয়ার টেবিলে। সাথে টম ছিল বলে আর মাটিতে বসে খাওয়ার রিস্ক নিলাম না – পা ভাঁজ করে খেতে বসে এত কষ্ট হবে বেচারার, যে এই রেষ্টুরান্টের স্পেশাল খাবারের মাধুর্যই অনুভব করতে পারবে না।

    ভিতরটা কিন্তু বেশ সাজানো - টেবিলে বসে ড্রিঙ্কসের অর্ডার দিলাম, সাথে কিছু স্টার্টার। যে ছেলে অর্ডার নিতে এল, তাকে বললাম, ‘ভাই তোমাদের স্পেশাল স্টার্টার কি’? সে বলল গোবি-মাঞ্চুরিয়ান নাকি বেশ ফেমাস, এবং তার সাথে আরো কি সব বলল। সেই সব অর্ডার করে জিজ্ঞেস করলাম, “এখানে চিকেন কাবাব টাইপের কিছু নেই?” আমার প্রশ্ন শুনে সে ছেলে বার-দুয়েক মাথায় হাত ঠেকাল – “এই মন্দিরের পাশে বসে আপনি নন-ভেজ চাইছেন”! আর কথা বাড়ালাম না।

    একসময় স্টার্টার এল – মিথ্যে বলব না, সেই স্টার্টার কিন্তু খেতে দারুণ ছিল। এবার যখন মেন ডিশ অর্ডার দেবার পালা এল, ভাবলাম সেই ছেলেটারই পরামর্শ নেওয়া যাক আবার, কেন না, তার কথা শুনে স্টার্টার ভালো পেয়েছি। এবার এই ছেলে মেন ডিশ হিসাবে পরামর্শ দিল ‘থালি’ নিতে, স্পেশাল সাউথ-ইন্ডিয়ান থালি – যেটা এখানে খুব জনপ্রিয়। আমার কাছে এই থালি ব্যাপারটা অনেকটা ব্যুফে আর আলা-কার্ট এর মাঝামাঝি – তাই কোনো কোনো বার নিয়ে থাকি। সেই ছেলে বলল, সেখানে নর্থ ইন্ডিয়ান থালিও আছে। কি মনে হল, সাউথ ইন্ডিয়ান থালি অর্ডার করলাম। এক বিশাল মাপের ঐতিহাসিক ভুল করে বসলাম – যার আশেপাশেও আসে না জ্যোতি বাবুর সেই ভুল!

    সাউথ-ইন্ডিয়ান থালি হিসাবে এই জিনিস এসে পোঁছলো। প্রাচীন সভ্যতা, সংস্কৃতি, যত্ন, আবেগ সব ঢালা আছে পর্যাপ্ত – এই নিয়ে কোন সন্দেহ-র অবকাশই নেই। কেবল খাওয়া যায় না – এটাই যা একটু হালকা প্রবলেম!


  • বিভাগ : খ্যাঁটন | ২৬ আগস্ট ২০২১ | ২৩৩৫ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ramit Chatterjee | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৪:০১497119
  • হ্যাম্পি জায়গাটা ভীষন সুন্দর। খুব ভিড় হলে ভালো লাগে না, আবার খুব ফাঁকা হলে স্থাপত্য গুলোয় ঢোকার সময় বুকটা ছ‍্যাঁত করে ওঠে। আমি গেছিলাম হ্যাম্পি ফেস্টিভ্যাল এর সময়। সব মনে পড়ে গেল এই লেখাটা পড়ে। 
    আর থালি নিলে সব সময় নর্থ ইন্ডিয়ান। তখন অন্তত রুটি বা ভাত দিয়ে ডাল টা খাওয়া সম্ভব হয়। আর সাউথ ইন্ডিয়ান বেশির ভাগ তরকারি এমন বিদঘুটে লাগে আমার রীতিমতো দূরত্ব বজায় রেখে চলি।
  • র২হ | 2405:201:8005:9078:e93b:6ed1:ea2e:519c | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৪:২৭497121
  • আমার এই সাউথ ইন্ডিয়ান থালি জিনিসটা চমৎকার লাগে। 
    মাইসোর রোড বাস টার্মিনালের কদম্ব রেস্টোরেন্টে গিয়ে মাঝেমাঝেই খেয়ে আসি লুরু থাকলে।
  • র২হ | 49.37.37.120 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৪:৩৩497122
  • আরেকটা কী যেন আমার পছন্দের খাবার দোকান আছে জেপি নগরে, রাজরাজেশ্বর না কী বড় রকমের নাম। 
    আর আমার পছন্দ হলো অন্ধ্র মেসগুলি। পুরনো কাঠের বেঞ্চি অথবা মেয়েকে আসন পেতে কলাপাতায় অন্ধ্র নিরামিষ খাবার।
     
    একটা জিনিস আমি ভাবি। স্বাদ তো অ্যাকোয়ার্ড। আমরা ফরাসী বৃটিশ আমেরিকান সব খেয়ে নিই, কিন্তু বেশিরভাগ বাঙালী দক্ষিন ভারতীয় বা গুজরাটি খাবার খেতে চান না। সেসব কি সত্যি এতই বিটকেল না এর মধ্যে কিছু কলোনিয়াল ব্যাপার আছে?
  • র২হ | 2405:201:8005:9947:5449:be24:2a1a:9ca0 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৪:৩৮497123
  • দূর, মেঝেয়, মেয়েকে না। বাংলায় অটোকারেক্ট উপদ্রবতর।
  • Tapobrata Mukherjee | 2409:4060:2d94:2d34:c8bf:a6c7:3f85:d264 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২০:১৫497132
  • ওসব সচিন, সৌরভ, নীরজ, কাউকে না, হিংসা হলে আপনার ওপরেই হয়। 
  • kk | 68.184.245.97 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২০:৩৩497133
  • হুতোর প্রশ্নটা আমারও। সেই সাথে এটাও মনে হয় যে খাবারদাবারের ব্যাপারে মানুষের বায়াস বোধহয় একটু বেশিই থাকে। কিছু বিশেষ অঞ্চল (যেমন দক্ষিণ ভারত), কিছু বিশেষ টার্ম (যেমন হেলথি), কিছু বিশেষ ইনগ্রেডিয়েন্ট (যেমন ভেজিটারিয়ান) শুনলেই আগে থেকেই মনটা একটু শক্ত হয়ে বসে। সেটুকু হয়তো অবচেতনেই হচ্ছে। এটা বাদ দিতে পারলে হয়তো খাবারগুলো ভালোই লাগতে পারতো। কী জানি!

    এই লেখার বিষয়ে তপোব্রত'র সাথে আমি একমত। এই সিরিজটা খুব উপভোগ করছি। রেড ভেলভেট কেকের ওপরে শুগার ওয়ার্কটা বেশ লাগলো।
  • | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২০:৩৪497134
  • অন্ধ্র থালি গরম ভাতে ঘি আর গানপাউডার দিয়ে মেখে -- আহাহা ওইটে বড় ভালবাসি।
  • dc | 122.164.111.43 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২০:৩৬497135
  • সাউথ ইন্ডিয়ান থালি আমারও ভারি ভাল্লাগে। তবে এই থালি কিন্তু নানারকম হয়, আমি তো অন্তত দশ বারো রকমের খেয়েছি। সারাভানা ভবনের থালি একরকম, সঙ্গীতার থালি একরকম, রত্না কাফে একরকম, মুরুগান ইডলি শপ একরকম। অনেক ছোট ছোট ভেরিয়েশান থাকে। আবার চেন্নাইএর বাইরে গেলে আরও নানারকম ভেরিয়েশান মেলে - কোয়েমবাতুরে একরকম তো সালেমে আরেকরকম, কন্যাকুমারিতে আরেকরকম। বেশ কয়েকটা ​​​​​​​দোকানে আনলিমিটেড ​​​​​​​থালি ​​​​​​​দেয়, ​​​​​​​যতো ​​​​​​​খুশী ​​​​​​​রাইস, ​​​​​​​সাম্বার ​​​​​​​আর ​​​​​​​রসম ​​​​​​​নাও, ​​​​​​​কেউ ​​​​​​​কিছু ​​​​​​​বলবে ​​​​​​​না। ​​​​​​​
     
     
  • dc | 122.164.111.43 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২০:৪৭497137
  • আর বুফে খেতেও ভালো লাগে, তবে সাধারনত হোটেলের ব্রেকফাস্ট বুফে খেতে সবচাইতে ভাল্লাগে। আমি সাধারনত ফ্রুট জুস, ক্রসোঁ, নানারকম চিজ, আর ক্রিস্পি হ্যাম খাই। আর এগ বেনেডিক্ট বানিয়ে দিতে বলি। আগে একগাদা ডেসার্ট খেতাম, ডায়বেটিস হওয়ার পর সে গুড়ে বালি পড়েছে :-( অনেক হোটেলে বুফে খেয়েছি, হায়াট আর পুলম্যানের ব্রেকফাস্ট সবচাইতে ভালো লেগেছে। পুলম্যানের সার্ভিস অসাধারন, একবার এমনকি আমার মেয়ে কি একটা নুডল খেতে চেয়েছিল যেটা ওদের মেনুতে ছিলো না, কিন্তু শেফ বানিয়ে দিয়েছিল। 
  • r2h | 2405:201:8005:9947:c8bc:b2fd:862:77cf | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২১:০৩497139
  • এইখানে এই সিরিজটার এই এক অসুবিধে, পাঁচতারার নিচে কোন কথা হয় না - পুলম্যান কী জিনিস সেটা দেখার জন্যে আবার গুগল করতে হবেঃ)।

    সে যাগ্গে, পরে করবো, কেকের কথায়, হ্যাঁ, এইটা তো খুব, আর আজকাল তো বড় রকম রাজনৈতিক কনটেশনও জড়িয়ে গেছে, ভেজ টেজের সঙ্গে।
    তবে চেন যদি না হয়, এমনি দোকান হলে আমার বাজি সবসময় স্থানীয় খাবারের ওপর। লুরুতে নর্থ ইন্ডিয়ান বা পাঞ্জাবী শুনলেই মনে হয় ওরে বাবা সে একগাদা অস্বাস্থ্যকর তেল মশলা। আবার নয়ডায় থাকাকালীন লম্বা ড্রাইভে বেরিয়ে রস্তার ধারের ধাবায় ঘি দিয়ে মকাইয়ের রুটি আর তড়কা আর তার পরে দই বা ছাঁচ চমৎকার ব্যাপার।
    অবশ্য নয়ডায় আমাদের লক্ষমী ক্যাফের হালুয়াও চমৎকার ছিল।

    আমার খুব মনে পড়ে ছোটবেলায় মহবলীপুরম গিয়ে বিশাল থালার চারদিকে ছোট ছোট অসংখ্য বাটিতে নানান জিনিস আর গরম ঘি।
  • r2h | 2405:201:8005:9947:c8bc:b2fd:862:77cf | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২১:০৯497140
  • স্যরি, কেকের কথায় মানে কেকে-র কথায়, কেক-এর কথায় না।

    এইটা খুব মুশকিল। কেকে যদি কেক নিয়ে লেখেন তাহলে লোকে যায় কই।
  • dc | 122.164.111.43 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২২:০১497142
  • পুলম্যান মানে হলো পুলম্যান হোটেল, আর গুগল করতে হবে না :-) তবে তারা টারা কোন ব্যপার না, খাবারের স্বাদ হলো আসল। লং ড্রাইভে গিয়ে ধাবায় খেতে বা রাস্তার ধারের কোন দোকানে মাছভাজা খেতে আমারও ব্যপক লাগে (এটা চেন্নাই-পন্ডিচেরি রুটের স্পেশালিটি)।  
  • শিবাংশু | ২৭ আগস্ট ২০২১ ১৩:৩২497229
  • ওহে, আমি পুরোনো 'ম্যাঙ্গো ট্রি'তে জমিয়ে মদ্রাসি খানা খেয়েছিলুম। বেশ উমদা ছিলো তো... 
    হাম্পিতে এই রিসর্টটা তখনও তৈরি হয়নি মনে হয়। হসপেটে ছিলুম। সেটার খাবার-দাবারও দারুণ , 
  • শঙ্খ | 103.217.234.133 | ২৮ আগস্ট ২০২১ ০০:৫০497275
  • দূর, ভ্যাজ মানে হলো ওয়েস্টেজ অফ টাইম, মানি অ্যান্ড এনার্জি। জাতকের গল্পের মত ওসব নিচের ফুড চেনের গল্প। ওসব পেরিয়ে এসে এখন শুধু একটাই প্রশ্ন দ্যাট ম্যাটার্স, কাকে খাই কাকে খাবো।
  • সম্বিৎ | ২৮ আগস্ট ২০২১ ০১:৫৭497276
  • আমার স্ত্রী অতি থালিভক্ত। আমিও বার কয়েক ওই 'অন্দ্রা তালি' নিয়েছি। ভাত, দই, পাঁপড়, পুরি আর আচার ছাড়া বিভিন্ন বাটিতে যা থাকে তারা এরকম -
     
    ১) হাল্কা হলদে-সব্জেটে একটা বিস্বাদ তরকারি
    ২) আরেক ওই
    ৩) গাঢ় রঙের ঘন ঝাল তরল
    ৪) আরেক ঐ
    ৫) সম্বার
    ৬) রসম
     
  • সুকি | 49.207.198.106 | ২৮ আগস্ট ২০২১ ০৯:০৫497286
  • সবাইকে ধন্যবাদ -
     
    হাম্পি খুবই সুন্দর জায়গা। আগে শুনেছিলাম, এবং গিয়ে খোঁজ খবর করে দেখলাম, এখানে বিদেশী টুরিষ্ট তো অনেক আসে, কিন্তু তার মধ্যে আবার জার্মানদের সংখ্যা বেশী। এর কারণ কি হতে পারে সেই নিয়ে ধারণা আছে - একদিন লিখব।
     
    বাকি সবার সাথে আমি একমত - খেতে ভালো বা খেতে ভালো নয় - দুই মতামত বিষয়েই।
     
    এখানে লেখার জন্য কিছু লিবার্টি নিয়েছি - সত্যি কথা বলতে কি, আমি প্রায় সব কিছুই খেতে পারি, অসুবিধা হয় না কিছুতেই। প্রায় লিখলাম এই কারণে যে - জ্যান্ত জিনিস খেতে এখনো হালকা মানসিক বাধা চলে আসে না চাইলেও। তা না হলে বিন্দাস - এনিথিং ডেড এই ফিলসফিতে প্রবল বিশ্বাসী। এই থালিতেও প্রবলেম নেই - কিন্তু ট্যাক্সি/গাড়ি করে গিয়ে খেতে লাইন দেব এমন প্রীতিও নেই।  তা সে বর্ধমানের ছেলে হয়ে মুড়ি বা আলু-পোস্ততেও নেই! 
     
     
     
  • Ramit Chatterjee | ২৮ আগস্ট ২০২১ ০৯:৪০497288
  • @sambit আমারও সাউথ ইন্ডিয়ান থালির অভিজ্ঞতা একই রকম। :-))
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন