• বুলবুলভাজা  খ্যাঁটন  খানাবন্দনা  খাই দাই ঘুরি ফিরি

  • চাষার ভোজন দর্শন – ১৭শ

    সুকান্ত ঘোষ
    খ্যাঁটন | খানাবন্দনা | ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ৯৯১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • বিলেতি ব্যাপার, বিলেতি কারি

    বিলেতি কারি

    মাঝে মাঝেই লোকজন জিজ্ঞেস করেন – বিদেশে ইন্ডিয়ান রেস্টুরান্টের ব্যাপার-স্যাপার কি রকম, এবং সেই প্রসঙ্গে আমার কোনো অভিজ্ঞতা আছে কি না। বিদেশে ইন্ডিয়ান রেস্টুরান্টে খেতে যাওয়ার আমার কোনোকালেই প্রবল বাসনা ছিল না – কিন্তু প্রায়শই যেতে হয়েছে – বন্ধুদের এবং পরবর্তীকালে কলিগদের পাল্লায় পড়ে। ইংল্যান্ডে তো সন্ধ্যে থেকে পাবে বিয়ার পান করে, একটু রাত হলে ‘কারি’ খেতে যাওয়া খুবই জনপ্রিয় এবং আমার মনে হয়, এটা প্রায় ‘নিয়ম’ বলেই মেনে চলা হয় ছাত্রসমাজে। পরবর্তীকালে, মঙ্গলবার আর বৃহস্পতিবার অফিস-শেষে, রাতে ইন্ডোর ফুটবল খেলে, পাব ফেরত হয়ে, ইন্ডিয়ান রেস্টুরান্টে কারি খাওয়ার চল প্রায়শই চলেছে – অবশ্য সেটা অন্য দেশে।

    এটা আজকাল প্রায় সবাই জানেন যে ইংল্যাণ্ডের ন্যাশনাল ডিশ কিন্তু ফিশ অ্যান্ড চিপস্‌ নয়, ওটা হল চিকেন টিক্কা মশালা। ভারতীয় সভ্যতায় ইংরেজদের অবদান নিয়ে জাদুঘর-ভর্তি বই আছে এবং ইদানীংকার পণ্ডিতরা প্রায় সবাই একমত হয়েছেন যে, বৃটিশ সভ্যতায় আমাদের মূল অবদানই হল নানাবিধ ‘কারি’। যেটুকু দ্বিমত, তা ওই টিক্কা মশালা নাকি চিকেন মাদ্রাস – কোনটা ন্যাশনাল ডিশ হওয়া উচিত – তা নিয়ে!

    আমি এত রকমের ‘কারি’র নামই শুনিনি ইংল্যাণ্ড আসার আগে, আমাদের ছোটবেলায় ছিল শুধু মাংসের ঝোল! তবে ব্যাপার হল গিয়ে, অন্য যে কোনো বিষয়ের মতই, এর ভিতরেও প্রচুর জল আছে। এমন সব খাবার ভারতীয় বলে চালানো হয়, যার সাথে ভারত তো দূরের কথা, এশীয় ভূখণ্ডেরই কোনো সম্পর্ক নেই! যেমন ধরেন, ‘চিকেন ভিন্ডালু’ – এটা তো আর ক্লাসিক ভারতীয় খাবার নয়, পর্তুগিজ – গোয়া মিলে মিশে তৈরি হয়েছে, তবে ইন্ডিয়ান বলে দেদার বিকোচ্ছে। আর ইংল্যান্ডই বা বলি কেন, এই ভারতেই ‘চিকেন ভিন্ডালু’ কিছু কিছু জায়গায় বেশ ভালই বিক্রি হয়।

    ‘কারি’ শব্দটি তামিল – অধুনা অক্সফোর্ড অভিধানে ঠাঁই পেয়েছে। কোনো এক অজ্ঞাত কারণবশত, ইন্ডিয়ান রেস্টুরান্টগুলি ‘বালটি’ রেস্টুরান্ট নামেই পরিচিত – বিশেষ করে লিভারপুল, বার্মিংহাম, ম্যাঞ্চেস্টার এবং লন্ডনের কিছু এলাকায়। আমার মনে হয়, কোনো বাঙালিই এ হেন নামকরণের পিছনে নিজের দেশপ্রেমের ছাপ রেখেছেন। হয়তো অভ্যস্ত হওয়ার আগে, প্রথমদিকে বৃটিশদের কারি খেয়ে পরের দিন যে অবস্থা হত, তাতে করে ওই ভদ্রলোক নিজের দেশের বালতি হাতে করে একটি বিশেষ জায়গার দিকে দৌড়োবার সিমিলারিটি খুঁজে পেয়েছিলেন! তবে কোনো কোনো রেস্টুরান্ট-এ এখনো ছোট্ট পিতলের বালতি করেই খাবার পরিবেশন করা হয়। মেনুকার্ড দেখলে আপনার মাথা ঘুরে যাবে – পাতিয়ালা, মাদ্রাস, হায়দরাবাদ সহ স্বাধীনতা-পূর্ব প্রায় সব রাজকীয় স্টেটগুলোই খাদ্যতালিকায় ঠাঁই পেয়েছে!

    তবে আপনি পৃথিবীর যেখানেই যান, সেখানে যদি ইন্ডিয়ান রেস্টুরান্ট থাকে, তাহলে কিছু নামও কমন পাবেন – যেমন মোতিমহল, তাজমহল, জাইকা, তন্দুর হাট/হাউস ইত্যাদি। বার্মিংহামে আমাদের ইউনিভার্সিটির সামনেই বেশ কতকগুলো ইন্ডিয়ান রেস্টুরান্ট ছিল – যাদের মধ্যে একটার নাম আমার খুব পছন্দের ছিল – ‘সুন্দরবন’। বার্মিংহাম এলাকার কিছু রেস্টুরান্ট মালিকের সাথে চেনাশোনা থাকার জন্য, রান্নার অন্দরমহলে উঁকি দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। এঁরা প্রায় সবাই সিলেটি – ফলত দুই প্রকার বাংলা বলতেন – আমার সাথে একরকম এবং নিজের পরিবারের সাথে অন্যরকম। তো যাই হোক, যেটা বলার – মেনু কার্ডের ৯০টা কারি ডিশে‌র মূল সারবস্তু কিন্তু তিনটি প্রাইমারি ডাব্বা থেকেই লব্ধ। লাল, সবুজ ও নীল প্রাথমিক রঙের মতোই ওই তিনটি ডাব্বার ঝোল থেকেই সবের উৎপত্তি। এরপর দাও ছড়িয়ে কিছু লঙ্কা, ধনে, জিরে বা এলাচদানা। সব খাবারই কিন্তু কাস্টমাইজড্‌ ইউরোপিয়ান পাবলিকদের জন্য। আমার এক্সট্রা-স্পাইসি অর্ডারে এক্সট্রা বলতে থাকত পেট চেরা কিছু সবুজ কাঁচালঙ্কা বা রকমফেরে, কিছু ছেটানো লঙ্কার গুঁড়ো।



    মাজার ঝামেলা কমিয়ে দিয়েছে, শুধু একটু জল বুলিয়ে নিলেই হবে এবার!

    ইংল্যান্ডের ভারতীয় রেস্টুরান্টে স্পেশাল একটা জিনিস পাওয়া যেত, তা হল – ‘ফ্যামিলি নান’। অন্য দেশে ইন্ডিয়ান রেস্টুরান্টে এ জিনিস আমি খুব একটা দেখিনি – আর এই নান আমি খুব মিস করি। এই ফ্যামিলি নান যে কত বড়, তা আপনি সাথের ছবি দেখে ঠিক বুঝতে পারবেন না। একটা ছবিতে লক্ষ্য করলে দেখবেন, যে সবার খাবার শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু নান তখনো শেষ হয়নি। মানে বলব কি, পুরো টেবিল জুড়ে থাকত সেই জিনিস! পাশাপাশি বসে তিনজনের কোলে একটা নান বেছানো আছে – এমন ভাবেও খেয়েছি।



    তবে ভ্যাগিস ঠাকুমা ইংল্যান্ডে ইন্ডিয়ান রেস্টুরান্টে খাওয়ার এই ছবি দেখে যেতে পারেনি – না হলে নির্ঘাত বলত,
    “হ্যাঁরে, তুই বিলেতে গিয়ে ধান-সিদ্ধর কড়াই করে পয়সা দিয়ে খাবার খাচ্ছিস! আর কড়াইয়ের তলাগুলো তো কতদিন মাজেনি মনে হচ্ছে! সাহেবদের নিয়ে আমার কি ধারণাই না ছিল!”



    লন্ডন আই

    সেদিন বেশ সন্ধ্যে হয়ে এসেছে – আমি এক বন্ধুর সাথে হাঁটছি লন্ডনের থেমস নদীর ধার-বরাবর, ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজটা পেরিয়ে, নীচের দিকে নেমে, লন্ডন আই-এর সামনে দিয়ে। যাঁরা এদিকে গেছেন, তাঁরা জানবেন, যে এই এলাকাটা সারাদিনই ট্যুরিস্ট বা সাধারণ লোক-চলাচলের জন্য ব্যস্ত। আর পাশের জুবিলি পার্কের ধার ঘেঁশে, মাঝে মাঝেই টুকটাক মেলার মত বসে – ফুড-স্টল ইত্যাদি থাকে।

    তা, সেদিন হাঁটার সময় দেখলাম, কি একটা উৎসবের মত হচ্ছে – নানা দেশের খাবারের স্টল। সারাদিন মনে হয় ভালোই ভিড় ছিল, কিন্তু এই পড়ন্ত সন্ধ্যেবেলায় তেমন ভিড় নেই খাবারের দোকানে, বেশি ভিড় ড্রিঙ্কসের স্টলগুলিতে। আর তা ছাড়া, বেশ ভালো ঠান্ডা পড়ে গেছে – তাই এই খোলা হাওয়ায় দাঁড়িয়ে/বসে খাওয়া ঠিক জমবে না, দিনের বেলায় রোদ পোয়াতে পোয়াতে খেয়ে সেই মজাটা আসে।



    বেশ খিদে পেয়ে গিয়েছিল বলে টম-কে বললাম, ট্রাই করবি নাকি এই স্টলের খাবার? টম জানাল, কোনো অসুবিধা নেই। দেখলাম, একটা ইন্ডিয়ান স্টল রয়েছে, তার একপাশে থাই আর একপাশে মেক্সিকান। আমরা দু’জনাই ঠিক করলাম, মেক্সিকান ট্রাই করব। কাছে এগিয়ে যেতে দেখি, দুই ছেলে মাথায় মেক্সিকান বা ওই কাউবয়-জাতীয় হ্যাট লাগিয়ে গল্প করছে, খদ্দের নেই কেউ। পাশে থাই স্টলটাতেও – না বিক্রেতা, না খদ্দের – কেউ নেই। সেক্ষেত্রে আমাদের চয়েসটা প্রায় অটোমেটিক হয়ে এল। টম দূর থেকে এদের টুপি দেখে বলল, “মনে হচ্ছে অথেন্টিক হবে”। আমি বললাম, হলেই ভালো!

    কিন্তু কাছে এগিয়ে আমার কেমন যেন সন্দেহ হল – বিশাল কিছু আলো জ্বলছিল না বলে ঠিক ভালোভাবে দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু তবুও, মেক্সিকান এদের তো মনে হচ্ছে না! একদম কাছে গিয়ে খাবারের লিষ্টে চোখ বোলাচ্ছি, মনে হল যে বাংলা ভাষা শুনলাম! আরো ভালো করে বলতে গেলে, আমাদের কলকাতার উচ্চারণে বাংলা নয়, বাংলাদেশের বাংলা। লন্ডনে বাংলাদেশী বাংলা শুনতে পাওয়া কোনো অবাস্তব ব্যাপার নয়, কিন্তু টুপি পরে মেক্সিকান স্টলে খাবার বিক্রি করছে – এমনটাও চট করে দেখা যায় না! আমি জিজ্ঞেস করলাম, “ভাই, বাঙালি নাকি”? একগাল হেসে উত্তর এল, “জি দাদা, আপনে কোথাকার?”



    ব্যস, লাইনে চলে এল কেস। এদিকে টম পুরো কনফিউজড – স্প্যানিশ যে নয়, সেটা টের পেয়েছে, কিন্তু কি ভাষায় আমরা কথা বলছি সেটা বুঝতে পারছে না। এক্ষেত্রে আমি হলে ঝাঁপিয়ে পড়তাম, “কি বলছে, কি বলছে?”, “কোথায় বাড়ি এর?”, “টুপিটা কোথায় কিনেছে আর দাম কত?”, “বাবার নাম কি?” – এই সব বলে। কিন্তু বিদেশীদের আদবকায়দা আজব – আমার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়েট করছে।

    এদিকে যতই খিদে পাক, বাঙালির রান্না করা রাস্তার স্টলে মেক্সিকান খাওয়ার মত ইচ্ছে জাগেনি তখনো! আমি সেই স্টলের ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলাম – তোমরা এই টুপি পরে মেক্সিকান স্টল চালাচ্ছ? তারা একগাল হেসে বলল, সারাদিন তো অনেক বিক্রি করলাম – অসুবিধা হয়নি। এবার জিজ্ঞেস করলাম, পাশের থাই দোকানটার ছেলে কোথায়? তারা বলল, দাদা – এই তিনটে স্টলই আমাদের মালিকের – ইন্ডিয়ান, থাই আর মেক্সিকান। টুপি খুলে নিয়ে আমরাই থাই স্টল চালাই, আর টুপি পরে মেক্সিকান!

    আমি দেখলাম কেস কেলো – তখন টম-কে দেখিয়ে বললাম, “ভাই, এটা আমার বস্‌। সাথে করে সন্ধ্যেবেলা ঘুরতে বেরিয়েছি – খেতে খুব ভালোবাসে মেক্সিকান। কিন্তু খাবার খারাপ হলে আমার উপর কোপ পড়বে। এমনকি প্রোমোশন আটকে যেতে পারে। তা তোমাদের খাবার ভালো হবে তো?”

    আমার প্রশ্ন শুনে, কাউন্টারের ছেলেটা মুখ বাড়িয়ে বলল, “দাদা কাছে আসেন, একটা কথা বলি”। আমি কাছে গেলে জানালো, খাবারের উপর প্রমোশনের ব্যাপারটা ঝুলে থাকলে, এখানে না খাওয়াই ভালো!



    ওদের ধন্যবাদ দিয়ে টম-কে বললাম, চলো, অন্য জায়গায় যাওয়া যাক – এরা কাউন্টার বন্ধ করে দিচ্ছে। মেক্সিকান খাওয়ার ইচ্ছে চেপেছে মাথায় – খানিক আশেপাশে ঘুরে, মেক্সিকান রেস্টুরান্ট না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত একটা স্প্যানিশ তাপস বার-এ ঢুকে খাওয়াদাওয়া হল। মিট সব ভালো ছিল, কিন্তু ব্রেড এমন ফালতু দিয়েছিল, যে এর থেকে বাংলাদেশী ভাইয়ের হাতে মেক্সিকান খাবার খুব একটা খারাপ হত না বলেই আমার বিশ্বাস!

     

  • বিভাগ : খ্যাঁটন | ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ৯৯১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit | 203.0.3.2 | ২৮ অক্টোবর ২০২১ ১২:১১500327
  • খাসা হয়েছে সুকি। সত্যি বলতে বাইরের দেশে ইন্ডিয়ান রান্না খাওয়া খুব ফ্রাস্ট্রেটিং আমাদের কাছে। এমন লোকালাইজড আজব সব টেস্ট বানিয়ে ফেলে সব কিছুর  যে আসল স্বাদের থেকে কয়েক মাইল দূরে চলে যায়। আমরা যত টা পারি এভোয়েড করি , কিন্তু তাও মাঝে সাঝে খেতেই হয় নানা নেমতন্নের দায়ে পড়ে। 
     
    বালটি রান্নাটা আমি আবার ইউকে তে গল্প শুনেছিলাম যে ওটা নাকি পিওকে মানে পাক অকুপাইড কাশ্মীরের বাল্টিস্তান জায়গাটা থেকে এসেছে। সেখান থেকে নাকি গুচ্ছ লোক ইউকে তে মাইগ্রেট করেছিল ৪০-৫০ -৬০ র দশকে। সত্যি মিথ্যে জানিনা। 
  • কৌশিক ঘোষ | ২৮ অক্টোবর ২০২১ ১৩:২২500337
  • এই সিরিজটা এমনিতেই ফাইভ স্টার। ভাষা, লেখার স্টাইল, সব মিলিয়ে। আলাদা করে আর রেটিং দিলাম না। 
    পড়তে বেশ কষ্ট হয় অবশ‍্য। এই যেমন এখন আমার ঐ গামছার সাইজের নান খেতে ইচ্ছে করছে।
  • কৌশিক ঘোষ | ২৮ অক্টোবর ২০২১ ১৩:৩৯500339
  • আমার  এক বাঙালি বন্ধু চেন্নাই আর ব‍্যাঙ্গালোর ঘুরে এসে খুব বিরক্তির সাথে বলেছিলো, "ওদের সবই ভালো। কিন্তু দোসা যেন কেমন একটা। আমাদের কোলকাতার মতো বানাতে পারে না।" 
  • ময়ূখ | 5.107.126.122 | ২৮ অক্টোবর ২০২১ ১৭:৫৪500350
  • প্রতিটা পর্বই দারুন!!  বাংলাদেশের মানুষদের adaptibility ব্যাপার টা সত্যি ই প্রশংসা যোগ্য, যে কোনো দেশে, পরিস্থিতিতে তে মানিয়ে নেওয়া বা কাজ চালিয়ে নেওয়ার ব্যাপার টা আমি ও দেখেছি... তাই টুপি পরে মেক্সিক্যান আর টুপি খুলে থাই - ব্যাপার টা মজার কিন্তু খুব স্বাভাবিক!! জিজ্ঞাসা করলে হয়ত দেখা যেত যে ওরা দুটো বিদেশী ভাষাতেই বেশ পারদর্শী!!
  • সম্বিৎ | ২৮ অক্টোবর ২০২১ ২১:৪১500360
  • মাঝে ফাঁকিবাজি করছিল। এখন আবার হাত খুলে লিখছে। ভাল লাগছে পড়তে।
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৮ অক্টোবর ২০২১ ২২:৩৯500363
  • দারুন হয়েছে এবারের পর্বটা। ওখানকার খাবার যা দেখি এবং শুনি ভারতের তুলনায় ভীষন হালকা। ক্রিম বেশি। আর অদ্ভুত এক কারি পাউডার ইউস করে। সেটা কি জিনিস ভগবান ই জানে। আর বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট প্রচুর। 
     
     
    @কৌশিক ঘোষ কোলকাতার মতো সাউথ ইন্ডিয়ান, মুঘলাই ডিশ, হাক্কা চাইনিজ এসব আগে খুব অল্প জায়গাতেই পাওয়া যেত।
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:393e:3fcf:8909:8bfa | ২৮ অক্টোবর ২০২১ ২২:৪৯500364
  • লন্ডনে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট প্রচুর। এরকম অভিজ্ঞতা আমাদেরো হয়েছিল। 
  • lcm | ২৮ অক্টোবর ২০২১ ২২:৫২500365
  • উল্টোটাও দেখেছি। ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে একজন মেক্সিকান মাঝবয়েসী লোক লুচি ভাজছে, আর একটি মেক্সিকান ছেলে সার্ভ করছে। মালিক বা ম্যানেজার গোছের একজন ভারতীয় (খুব সম্ভবত পাঞ্জাবী) কাউন্টারে বসে ব্রাউজ করছে, এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়াতে।
  • kk | 68.184.245.97 | ২৯ অক্টোবর ২০২১ ০০:০৫500367
  • 'বালটি'র ইতিহাস আমিও অমিতের বলা ইনফোটাই জানি। ভালো লাগলো এই পর্বটা পড়তে।

    ল্যাদোষদা, আমিও ক্যালিফোর্নিয়াতে দেখেছিলাম ফ্রেঞ্চ ক্রেপারীতে মেক্সিকান লাইন কুকরাই কাজ করছিলেন। আমি অনেকটা সল সিলভারস্টাইনের মত কমপ্লেন করেছিলাম যে ক্রক মাদামের ওপরে ডিমটার কুসুম পুরো শক্ত সলিড হয়ে গেছে। তাইতে খুব রাগ করে বলেছিলেন "তাহলে কাঁচা খেলেই তো হয়"।
  • aranya | 2601:84:4600:5410:99cc:ca0f:cf3a:5d29 | ২৯ অক্টোবর ২০২১ ২১:৫২500395
  • সুন্দর লেখা। ফ্যামিলি নান -এর কথা ​​​​​​​এই ​​​​​​​প্রথম ​​​​​​​শুনলাম 
    ভারতীয় রেস্তোরায় মেক্সিকান কুক, এদিকেও দেখছি আজকাল 
  • দীপক দাস | 103.31.189.32 | ৩০ অক্টোবর ২০২১ ১৪:১৮500428
  • খুব ভাল লাগল। শুধু একটি অনুরোধ, ছবিগুলোর ক্যাপশন দিলে ভাল হয়। অন্তত খাবারের ছবিগুলোয়। ফুটপাতের স্টলে বাঙালি চাউমিন আর কাজিরো খাওয়া পাবলিক। একটু বিলিতি কারি চোখে চাইতাম। 
  • দীপক দাস | 103.31.189.32 | ৩১ অক্টোবর ২০২১ ২২:৪৮500506
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় স্যার, 
    কাজিরো হইল মোবাইল টাইপের ভূত। অটো অপশনের কামাল। লিখতে গিয়েছিলাম কাঠি রোল। 
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ০১ নভেম্বর ২০২১ ০১:০০500511
  • হা হা, এটা চমৎকার।  সত্যি ছাপাখানার ভূতরা এবার ফোনেও ঢুকে গেছে। 
    স্যার ট্যার এসব একদম বলবেন না কাউকে, দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। :-))
  • সুকি | 117.214.46.132 | ০১ নভেম্বর ২০২১ ০৮:৪৮500518
  • সবাই-কে ধন্যবাদ। বিলেতের ভারতীয় রেষ্টুরান্টের ইতিহাস লিখতে হলে সে এক জটিল জিনিস হবে। আর তা ছাড়া এই নিয়ে বেশ কিছু বই আছে। বালটি/বালতি-র উৎপত্তি নিয়ে ওই বালটিস্তান মতটির দাপট বেশী - কিন্তু যে সাহেব (প্যাট চ্যাপম্যান) এই মত দিয়েছিলেন, তাঁর সাথে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন আজকাল। সেই সব নিয়ে তা হলে অন্য এক সময় লিখতে হবে।
     
    বেশীর ভাগ সময়েই ক্যাপশন দিই তো ছবিতে! কিন্তু এখানে মনে হয় ভুলে গেছি - আসলে কিছু নিয়ে লিখে তার নীচেই ছবি দিয়ে দেওয়াতে আর আলাদা করে ক্যাপশনের কথা ভাবা হয় নি অনেক সময়। পরের বার খেয়াল রাখতে হবে।
     
    ন্যাড়াদা, ফাঁকিবাজি আর বাকি যা কিছু সবই হাতে থাকা সময়ের উপর নির্ভর করে :) আর নির্ভর করে লেখার মুডের উপর :) 
  • দীপক দাস | 103.31.189.32 | ০১ নভেম্বর ২০২১ ১১:৪৭500524
  • রমিত চট্টোপাধ্যায়, 
    আচ্ছা মহাশয়। এবার? প্রাক ব্রিটিশ পর্বে গেলাম। 
  • দীপক দাস | 103.31.189.32 | ০১ নভেম্বর ২০২১ ১২:১১500526
  • সুকি মহাশয়, 
    উত্তরের জন্য ধন্যবাদ। শুধু একটি কথা, ব্লগ ও ওয়েবসাইটে বর্ণনার সঙ্গে ছবি দেওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই ক্যাপশন দিলে পাঠকের সুবিধা হয়। যেমন শেষের ছবিতে পাউরুটি আর মাংসের সঙ্গে ফলগুলো কী জানতে ইচ্ছে করছে। জলপাইয়ের মতো লাগছে। 
  • kk | 68.184.245.97 | ০১ নভেম্বর ২০২১ ২২:২৪500561
  • দীপক দাস সায়েব,
    ঐ ফল গুলি কেপার্স। কেউকেউ কেপার বেরী ও বলেন। লেখক নিশ্চই আমার সাথে সহমত হবেন? না সুকি?
    এগুলোর অনেকটা জলপাইয়ের মতই স্বাদ। টক নোন্তা।

    সুকিকে অনুরোধ, ঐ 'বালতি' নামকরণ নিয়ে একদিন সময় করে বিশদে লিখুন না। আমার এসব জানতে খুব ভালো লাগে।
  • দীপক দাস | 2402:3a80:1f14:f47e:a06b:9145:5e17:fd0f | ০২ নভেম্বর ২০২১ ১২:১১500587
  • Kk মহাশয়, 
    ধন্যবাদ। জিজ্ঞাসার ফল পেলাম। নতুন ফল। 
    বিলেতে ভারতীয় কারির কারিকুরি নিয়ে তপন রায়চৌধুরী মহাশয়ের একটা লেখা পড়েছিলাম মনে হয়। দেশ পত্রিকায়। তাতে কি বালতি ছিল? 
     
    সাহেব সম্বোধনটা বেশ লাগছে। ফিলিং কেউকেউ। 
  • Dipak Das | ০২ নভেম্বর ২০২১ ১৯:৫৬500609
  • Kk মহাশয়, 
    ফিলিং কেউকেটা বলতে চেয়েছি। মোবাইল টাইপের ভূত তো ছাপাখানার থেকে বেশি রসিক দেখছি। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন