• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • বৃত্তরৈখিক (৫৮ - শেষ পর্ব)

    শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৬ নভেম্বর ২০২১ | ৩৯৫ বার পঠিত | রেটিং ৩ (১ জন)
  • গ্রন্থের শুরুতে ভূমিকা লেখার একটা রেওয়াজ আছে, কোন কোন গ্রন্থের ক্ষেত্রে সেটা প্রয়োজনীয়ও। ধারাবাহিক প্রকাশের ক্ষেত্রে অবিশ্যি ভূমিকা বিরল। ধারাবাহিক তো গ্রন্থ নয় – গ্রন্থি কোথায়? – সে শুধু গ্রন্থসুলভ একটা টানা রচনার টুকরো টুকরো কিস্তি। সে ক্ষেত্রে যদি শুরুর আগে কোন লেখা থাকেও, সেটা লেখেন অ্যাডমিন বা প্রকাশক। কিন্তু সম্পাদক করেছেন শেষ কিস্তির সঙ্গে একটু কিছু লিখতে। তাঁর আদেশ শিরোধার্য।

    বৃত্তরৈখিককে উপন্যাস বলেছি, কিন্তু হয়তো ইতিহাসও বলা চলতো। মোটামুটি বিশ শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে সত্তরের দশকের গোড়ায় যাঁদের যৌবনের শুরু এবং পরবর্তী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে বেড়ে ওঠা, বাংলাভাষী সেই মধ্যবিত্তদের একদলের ইতিহাস এই রচনার রসদ। পাঠযোগ্যতার খাতিরে একটা গল্পের বুননের চেষ্টা এতে আছে – উপন্যাস নামের আকাঙ্খা সেখানেই – সেটা কতটা মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে পাঠকই তা বলতে পারবেন। কাহিনীর পাত্রপাত্রীদের পুর্ববর্তী প্রজন্মের কথা কোন কোন ক্ষেত্রে গল্পের খাতিরে এসে পড়লেও এই ইতিকথার প্রধান চরিত্ররা মোটামুটি ভারতের স্বাধীনতার সমবয়েসী। এবং এই স্বাধীনতার মতই আশাবাদিতা এবং নৈরাশ্য, আদর্শ এবং আদর্শচ্যুতি, মেধানিষ্ঠা এবং নিম্নগামী মেধা এখানে পাশাপাশি উপস্থিত।

    এতদিন ধরে এই ধারাবাহিকের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ।

    - শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়
    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক


    ~৫৮~

    ছেলেমেয়েরাই খাটিয়েছে সামিয়ানা। স্কুলের প্রতিটি অনুষ্ঠানে যেমন হয়, সামিয়ানার নীচে লম্বা টেবিল সাজিয়ে সারি সারি চেয়ার পাতা গণ্যমান্যদের জন্যে। শীতের শুরু, এখন খুশিঝোরার দুটো গেস্ট হাউজই ভর্তি। টেবিলের বাইরে সামিয়ানারই নীচে আরও কতকগুলো চেয়ার পাতা হয়েছে গেস্ট হাউজের অতিথিদের জন্যে। এ ছাড়া সামিয়ানার বাইরে বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে ত্রিপল পাতা, ছাত্রছাত্রীদের পরিবারের লোকদের জন্যে। গণ্যমান্যদের টেবিলের পাশে আরও গোটাকয়েক টেবিল জুড়ে সাইজ অনুযায়ী সাজানো জুতোর বাক্স।

    স্কুলের যে কোন অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাধারণত আসে উৎপল। জয়মালিকা শুরু করিয়ে দেওয়ার পরেই মাইকটা চলে আসে উৎপলের দখলে। আজ উৎপল আসেনি। আই-আই-টির প্রফেসররা ছাড়াও টেবিলের সামনে বসে আছেন ঝাড়খণ্ডের দুজন অতিথি। জয়মালিকা বিশেষ কোরে নিমন্ত্রণ করেছে এঁদের। সোমেশ্বর-সম্ভৃতা আজ কিছুতেই গণ্যমান্যদের মধ্যে বসতে রাজি হয়নি, ওরা বসেছে গেস্ট-হাউজের অতিথিদের সাথে।

    জয়মালিকা অনুষ্ঠান শুরু কোরে দিলো। উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কখন কবে স্কুলের ছেলেমেয়েদের এবং খুশিঝোরা প্রতিষ্ঠানকে কী সাহায্য করেছেন তার উল্লেখ করা হলো এবং হাততালি দিয়ে সকলকে অভিনন্দিত করা হলো। এর পর আজকের অনুষ্ঠানের মূল কর্মসূচী কী তা ব্যাখ্যা করলো জয়মালিকা এবং মুজফ্‌ফর সাহেবকে ডেকে তাঁর হাতে একটা লিস্ট দিয়ে দিলো। লিস্ট অনুযায়ী একটি একটি ছেলের বা মেয়ের নাম ঘোষণা করবেন মুজফ্‌ফর সাহেব। এই কাজটি সাধারণত করে উৎপল। অত্যন্ত অস্বস্তির সাথে অনিচ্ছুক মুজফ্‌ফর সাহেব ঘোষণার কাজ শুরু করেন এবং গণ্যমান্য একজন অতিথির হাত থেকে নির্দিষ্ট জুতোর বাক্সটি সংগ্রহ করে ক্ষুদে প্রাপকটি। বাক্সটি হাতে পেয়েই উল্লসিত সেই বালক বা বালিকা জুতোটি পরার চেষ্টা করে তৎক্ষণাৎ, প্রায়শই পারে না, এবং দেখা যায় সম্ভৃতা মাটিতে বসে তাকে জুতোটি পরতে সাহায্য করছে।

    এভাবে প্রায় ঘন্টাখানেক চলার পর উৎপলকে গম্ভীর মুখে সামিয়ানার নীচে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাকে দেখেই হাতের লিস্টটি টেবিলের ওপর রেখে অতি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন মুজফ্‌ফর সাহেব। স্বচ্ছন্দভঙ্গীতে লিস্টটি হাতে তুলে নেয় উৎপল, এবং অনুষ্ঠানটি চলতে থাকে।

    এই অনুষ্ঠান শেষ হবার পর জয়মালিকা ঘোষণা করে এবার স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ডাকঘর নাটকটি অভিনয় করবে। চেয়ার টেবিল টানাটানি শুরু হয়ে যায়, এবং উৎপলকে সামিয়ানা ছেড়ে অফিস ঘরের দিকে যেতে দেখা যায়। এমন সময় ছোট একটি মেয়ে দৌড়িয়ে সামিয়ানার দিকে আসতে থাকে, সে বোধ হয় উৎপলের চলে যাওয়ার জন্যেই অপেক্ষা করছিলো। মেয়েটি এসেই আই-আই-টির এক প্রফেসরকে বলে, প্লীজ স্যর, ক্যান উই রিসাইট আ পোয়েম? আদিবাসী চেহারার ছোট মেয়েটিকে দৌড়িয়ে এসে হঠাৎ ইংরিজি বলতে শুনে এক মুহূর্তের জন্যে ঘাবড়িয়ে যান ভদ্রলোক, তারপর সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বলেন, ও ইনডীড, ইনডীড য়্যু ক্যান, কিন্তু উই মানে কে? তুমি আর কে?

    আমরা সবাই স্যর, বলে মেয়েটি।

    পাশে-বসা জয়মালিকা এতোক্ষণে ব্যাপারটা বুঝতে পারে, সে বলে, তুই ইংরিজি বলছিলি?

    হ্যাঁ ম্যাম, মেয়েটি বলে, আমরা এখন ইংরিজি ক্লাসে ইংরিজিই তো বলি, স্যর তো বাংলা বলতে বারণ করেছেন।

    গণ্যমান্য অতিথিদের সবায়েরই চোখ এখন মেয়েটির দিকে। মেয়েটির ম্যাডামের বদলে ম্যাম বলাও লক্ষ্য করে অনেকে। একজন জিজ্ঞেস করে, তোর নাম কী রে?

    গুলাছি, মেয়েটি বলে, আয়্যাম ইন ক্লাস থ্রী।

    তোরা কী আবৃত্তি করবি? কে কে? – জিজ্ঞেস করেন একজন প্রফেসর।

    বেশ কিছু বাইরের লোক জড় হলেই আজকাল খুশিঝোরায় ডাকঘরের অভিনয় দেখানো হয়। ক্লাস ফাইভের নীচে যারা পড়ে তারা কেউ ডাকঘরে অভিনয় করেনি। অভিনয় যারা করে তাদের এতো প্রশংসা পেতে দেখে নীচের ক্লাসের ছেলেমেয়েরাও দেখাতে চায় তারা কী শিখেছে। ক্লাস টূ থেকে ফোরের ছেলেমেয়েদের সোমেশ্বর মাতৃভাষার মতো কোরে ইংরিজি শেখাবার চেষ্টা করছে, যাকে বলে ডাইরেক্ট মেথড। ইংরিজি ক্লাসে সে শুধু ইংরিজিতেই কথা বলে, ছেলেমেয়েদেরও বাংলা প্রায় বলতেই দেয় না। তা ছাড়া এই তিনটে ক্লাসেই সে খানিকটা মজার জন্যে আর শরীরের নানা অঙ্গ চেনাবার জন্যে হাত-পা নাড়িয়ে, অঙ্গ নির্দেশ কোরে এইট লিট্‌ল্‌ ফিঙ্গার্‌স্‌ স্ট্যাণ্ডিং আপ টল সমবেত আবৃত্তি করতে শিখিয়েছে। বাচ্চারা তাদের সেই বিদ্যে প্রদর্শন করতে চায়। ওরাও চায় ওদের প্রশংসা হোক।

    মূলত প্রফেসরদের ইচ্ছেতেই ডাকঘর অভিনয়ের আগেই তিনটে ক্লাসের প্রায় সত্তরটা ছেলেমেয়ে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে সমবেত আবৃত্তি কোরে চমক লাগিয়ে দিলো। হাততালির শব্দে মুখরিত খুশিঝোরার প্রাঙ্গণ। শেষ হলে মাইকটা তুলে নিলেন প্রফেসরদের একজন। তিনি মাইকে জিজ্ঞেস করেন, কে তোদের শিখিয়েছে এই আবৃত্তি?

    সোম স্যর, সমবেত উত্তর আসে।

    স্যরকে তোরা ভালোবাসিস?

    হ্যাঁ বাসি, স্যরকেও ভালোবাসি, ম্যামকেও ভালোবাসি।

    বাসবিই তো, বলেন প্রফেসর, যে ম্যাম মাটিতে বসে তোদের জুতো পরতে শিখিয়ে দেন, তাঁকে ভালো না বেসে যাবি কোথায় ! শোন্‌, স্যর আর ম্যামের সব কথা তোরা শুনিস, তোরা মানুষ হবি। তোদের নিয়ে সব সময় ওঁরা চিন্তা করেন, শুধু তোদের লেখাপড়া নয়, সব কিছু। তোদের পড়াশোনা, তোদের আনন্দ, তোদের স্বাস্থ্য। তোদের যাতে স্বাস্থ্য ভালো থাকে তাই নিয়ে কতো যে ভাবেন ওঁরা তোরা তা জানিসও না। স্যর আর ম্যাম আমাদের বলেছেন তোদের প্রত্যেককে রোজ সকালে একটা করে ডিম খাওয়াবার চেষ্টা করছেন ওঁরা। তোরা ভাগ্যবান। তোরা যেমন স্যর আর ম্যাম পেয়েছিস আমাদের ছোটবেলায় আমরা পাইনি। ওঁদের কথা শুনিস, তোদের ভালো হবে।

    আবার হাততালি। হাততালি আর থামেই না। মিনিট দু-তিন পর ওই প্রফেসরই আবার বলেন মাইকে, হাততালিটা থামুক। ডাকঘর দেখতে হবে তো।

    ডাকঘরের অভিনয় হয়। ভালোই হয় অন্যদিনের মতো, কিন্তু আজ আর ডাকঘরে মন নেই কারো।

    পরের দিন ভোরবেলায় জয়মালিকার ঠক ঠক নক সোমেশ্বরের ঘরে। দরজা খোলে সোমেশ্বর, গূড মর্ণিং, কী ব্যাপার?

    গূড মর্ণিং, একবার বাইরে আসবেন?

    সোমেশ্বর বাইরে এলে জয়মালিকা তাকে নিয়ে ডাইনিং হলে আসে। বসার পর বলে, আপনাকে সকাল সকাল তুলে আনলাম, কিন্তু কোন উপায় ছিলো না। যা বলতে চাই সেটা যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়িই বলা দরকার। আপনার ডিমের পরিকল্পনাটা শুনলাম। ওটা চলবে না। আমরা আদিবাসী ছেলেমেয়েদের আদিবাসী হিসেবেই মানুষ করতে চাই, এটা মনে রাখতে হবে।

    আদিবাসী হিসেবে মানুষ করতে চান? তাই তো চাওয়া উচিত, আমিও তো তাইই চাই। তাহলে ডিম খাওয়াতে অসুবিধে কোথায়? আদিবাসীরা ডিম খায় না বুঝি?

    আপনি ওদের জীবনযাত্রার মানটা হঠাৎ অনেক ওপরে তুলে দিতে চাইছেন। প্রায় আপনার কর্পোরেট স্ট্যাণ্ডার্ডে। ডিম ছাড়া ব্রেকফাস্ট হয় না এটা ভালো শিক্ষা নয়।

    আজকের দিনে ডিমটা সবচেয়ে সস্তায় সবচেয়ে ভালো প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টির সোর্স। সারা পৃথিবী এটা মেনে নিয়েছে। ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তুলনামূলকভাবে দাম কমে যাওয়াটা একটা বিপ্লব প্রায়। যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়ে সেই ডিম আপনার স্কুলের ছেলেমেয়েদের কেউ খাওয়াতে চাইলে আপনি আপত্তি করবেন ! এ তো অবিশ্বাস্য ! এ আমি ভাবতেই পারছি না ম্যাডাম !

    ওদের বাড়িতে ওরা কী খেতে পায় সেটা তো ভাবতে হবে। যার পক্ষে যেটা স্বাভাবিক তাকে সেখানে রাখাই ভালো। সেখানে রাখা ! নিজের জায়গার রাখা !

    ঠিক, ঠিক, ঠিকই বলেছেন। ওদের পক্ষে স্বাভাবিক কোন রকমে এক পেট ভাত খেতে পেলেই কৃতজ্ঞ থাকা। আর সেই কৃতজ্ঞতায় যে বয়েসে যা করা উচিত – মানে স্কুলে এসে পড়াশোনা করা, ঠিক ঠিক মতো বেড়ে ওঠার জন্যে স্বাস্থ্যকর খাওয়া আর খেলাধুলো করা – সে সবের বদলে গোয়াল পরিষ্কার করা খড় কেনা আর রাজমিস্ত্রীর যোগাড়েগিরি করা ! স্বাভাবিক ! এটাই স্বাভাবিক ! এটাই ওদের নিজের জায়গা !

    এটা স্বাভাবিক নয় তো কোন্‌টাকে আপনি স্বাভাবিক মনে করেন? হঠাৎ কোন বাচ্চার মনে হওয়া সে যা ইচ্ছে করতে পারে? আমি তো ভাবতেই পারছি না গুলাছির মত একটা একরত্তি মেয়ে কোন্‌ সাহসে উৎপল বা আমার কাছে অনুমতি না নিয়ে সোজা গিয়ে আই-আই-টির প্রফেসরদের সাথে কথা বলে ! এতো অকৃতজ্ঞতা ওদের শেখালো
    কে !

    অকৃতজ্ঞতা? একটা বাচ্চা কী শিখেছে পাঁচজনকে সেটা দেখাতে চাওয়া অকৃতজ্ঞতা?

    এতো কথায় গিয়ে লাভ নেই মাষ্টারমশাই, এখানে যদি থাকতে হয় আপনাদের, তাহলে মনে রাখতে হবে স্কুলটা উৎপলের, আর ওর কথা মতোই চলতে হবে।

    ঠিক আছে, জানা রইলো, বলে উঠে আসে সোমেশ্বর।

    সাতটার সময় স্কুলের অ্যাসেমব্লি। জলধরের শেখানো সাঁওতালি গানটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই অ্যাসেমব্লিতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সম্ভৃতা আর সোমেশ্বর। আজ সোমেশ্বর সাতটায় গিয়ে প্রতুলবাবুকে জানিয়ে আসে ওরা আজ স্কুলে আসবে না।

    কেন, কী হলো? – জিজ্ঞেস করেন প্রতুলবাবু।

    পরে বলবো, বলে সোমেশ্বর, আজ আপনারা চালিয়ে নিন।

    চান-টান কোরে তৈরি হয়ে সকালেই বান্দোয়ান যায় ওরা। স্টেট ব্যাঙ্কে গিয়ে অ্যাকাউন্টটা বন্ধ করে। মিষ্টির দোকানে কিছু খেয়ে নেয় দুজন, আর তারপর সারাদিনের কিছু শুকনো খাবার এ দোকান-ও দোকানে গিয়ে সংগ্রহ কোরে ফিরে আসে খুশিঝোরায়।

    কী করবে এবার? – জিজ্ঞেস করে সম্ভৃতা।

    কী করতে চাও?

    জানিনা, সম্ভৃতার চোখে জল, এ চোটটা সামলাতে সময় লাগবে, বড্ডো মায়া পড়ে গেছিলো ছেলেমেয়েগুলোর ওপর।

    দেড়টার সময় দুপুরের খাওয়ার ঘন্টা পড়লে ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দাটায় দাঁড়ায় সোমেশ্বর। বারান্দার বাঁ দিকেই ছোট দরজাটা, স্কুল থেকে বেরোবার সেটাই একমাত্র পথ। কিছুক্ষণ পর প্রতুলবাবু আর মুজফ্‌ফর সাহেব দরজাটা পেরোন। চোখ পড়ে সোমেশ্বরের দিকে। হাসে সোমেশ্বর। ওরা দুজন এগিয়ে আসে, ওদের অবয়বে প্রশ্নের ছাপ।

    কোন কথা না বলে বারান্দার নীচ থেকে মুখ তুলে তাকায় ওরা। সোমেশ্বর বলে, কাল সকালেই যাচ্ছি।

    কোন কথা না বলে মাথা নীচু কোরে দাঁড়িয়ে থাকে ওরা দুজন। মুজফ্‌ফরের ডান পা-টা হাওয়াই চটি থেকে বেরিয়ে এসে বুড়ো আঙুল দিয়ে মাটি খুঁড়তে থাকে, এটা ওর মুদ্রাদোষ।

    সোমেশ্বর বলে, যান খেয়ে নিন, ফিরে এসে ক্লাস নিতে হবে আপনাদের।

    প্রায় ঘন্টাখানেক পর ওদের দরজায় ধাক্কা। দরজা খোলে সোমেশ্বর। বাইরে নিমাই আর সুনীল। আপনারা খাবেন না স্যর?

    আজ থাক ভাই।

    নতমস্তক দুটি মানুষ কথা বলে না আর।

    বিকেল থেকে ছেলেমেয়েদের ভীড়। কেউ কাঁদে। কেউ কথাই বলে না, চুপ কোরে দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ বা রাগ দেখায়, স্কুল ছেড়ে দেবো।

    সোমেশ্বর বলে সম্ভৃতাকে, ভালোই হলো। একেবারে বাচ্চা যেগুলো, তাদের সাথে দেখা হবে না। ইংরিজি বলতে শিখেছে এখন একটু একটু, গর্বে ফেটে পড়ছে। সেই মুখে কান্না দেখতে ভালো লাগতো না।

    ওদের জামা কাপড় আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব কিছু নিয়ে গোটা চার-পাঁচ স্যুটকেস আর ব্যাগ। এতো জিনিস এখানকার ছোট ঘরে ধরে না। গোটা কয়েক স্যুটকেস থাকে গাড়িতেই। গাড়ি থেকে সেগুলো নিয়ে এসে সন্ধ্যেবেলা প্যাকিং শুরু করলো ওরা। এমন সময় দরজায় আবার ধাক্কা।

    দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে সুপ্রকাশ আর তার বাবা। সুপ্রকাশের বাবার হাতে দুটো মাটির পায়রা। বললো, আপনারা চেয়েছিলেন, তৈরি কোরে রেখেছিলাম। ছেলে বিকেলে হঠাৎ বাড়ি ফিরে এসেছে। বলছে, আর ইশকুলে যাবে না। আপনারা নাকি চলে যাচ্ছেন। বললাম, পায়রা দুটোর কী হবে? বলে, চলো দিয়ে আসি।

    পায়রা দুটো নিয়ে সম্ভৃতাকে দেয় সোমেশ্বর। পকেট থেকে ওয়ালেটটা বের করে। সুপ্রকাশের বাবা দেখতে পায় ওয়ালেটটা, বলে, ওটা কী করছেন বাবু? পয়সা নিতে পারবো না।

    পয়সা নেবেন না কেন, আপনার পরিশ্রমের জিনিস, বলে সোমেশ্বর।

    পাপ হবে বাবু, ও নিতে পারবো না, নরকেও ঠাঁই হবে না তাহলে।

    একরাশ অস্বস্তি নিয়ে চুপ কোরে দাঁড়িয়ে থাকে সোমেশ্বর, বুঝতে পারে না কী করবে। তারপর দেখে, সুপ্রকাশ ঠেলছে ওর বাবাকে, বলো না।

    ছোটমুখে একটা বড়ো কথা বলবো বাবু? – অপরাধ নেবেন না তো? – বলে সুপ্রকাশের বাবা।

    কী বলবেন, বলুন না।

    আমাদের গেরামে সাঁওতাল পাড়া আছে একটা। সেখানে এক বুড়ো মানুষ আছে, গেরামের সব ছেলেমেয়ের সে দাদু। মানুষটা আসলে আমাদের গেরামের নয়, ছ-সাত বছর আগে কোথা থেকে যেন এই গেরামে এসে পড়ে। ডান পায়ের হাঁটুতে একটা জখম নিয়ে লোকটা এসে সাঁওতাল পাড়ায় উঠেছিলো। কোথাকার লোক জানিনা, কিন্তু চেহারাটা ঐ সাঁওতালদেরই মতো, আমাদের কুম্ভকার বা কায়েতদের মতো নয়। লেখাপড়া জানে বেশ, ইংরিজি-বাংলা। গেরামের সব ছেলেমেয়েকে পড়ায় সে। ইশকুল-টিশকুল কিছু নয়, কিন্তু পড়ায়। যারা ইশকুলে পড়ে, তারাও ওর কাছে পড়তে আসে, ও দেখিয়ে দেয়। যারা ইশকুলে পড়ে না তাদেরও পড়ায়। এই ইশকুলের ছেলেমেয়েরাও অনেকে যায়। তাদের কাছে আপনাদের কথা শুনেছে ও। অনেক ছেলেমেয়ে আসে তো, ও বুড়ো হয়েছে, একা আর পেরে ওঠে না। ওর এখন ইচ্ছে হয়েছে আপনারা আমাদের গেরামে গিয়েই থাকুন। ও নিজেই হয়তো আসতো, কিন্তু হাঁটুর ব্যথা নিয়ে আসবে কী কোরে বলুন। ও বলেছে, আপনারা নাকি ওর চেয়ে অনেক ভালো লেখাপড়া জানেন। আপনারা যদি আসেন তাহলে এ গেরামের সব ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখে যাবে। যারা অন্য ইশকুলে যায় তারাও শিখবে, যারা ইশকুলে যাবে না তারাও। যাবেন বাবু? আমাদের গেরামে থাকবেন বাবু? আপনাদের কোন কষ্ট হবে না। আমরা একটা ঘর দিয়ে দেবো, আর আপনাদের সব কাজ কোরে দেবো। রান্নাবান্না সব। যাবেন বাবু? গেরামের সব ছেলেমেয়ে পড়বে।

    এরকম একটা অদ্ভুত আবেদন ভাবতে পারে না সোমেশ্বর। কিন্তু কী আকুতি লোকটার চোখে মুখে !

    সম্ভৃতার দিকে তাকায় সোমেশ্বর। সে মাথা নাড়িয়ে ইঙ্গিতে জানাচ্ছে রাজি নয়, রাজি নয় সে।

    হাত জোড় করে সোমেশ্বর, আমাদের মাপ কোরে দিন, আমরা পারবো না। আমরা কাল সকালে কলকাতায় চলে যাবো।

    সে তো জানি বাবু, জানি। কিন্তু হাত জোড় করবেন না, পাপ লাগবে আমাদের। তবে ভালো হতো। এলে ভারি ভালো হতো। কোন কষ্ট দিতাম না আমরা। সব কাজ কোরে দিতাম।

    অপরাধীর মতো মুখে দাঁড়িয়ে থাকে সোমেশ্বর। হঠাৎ, সে কিছু বোঝার আগেই, লোকটা পায়ে হাত দেয় তার।

    লাফিয়ে পিছিয়ে আসে সোমেশ্বর, না না, এসব করবেন না।

    করবো না মানে কী – রুখে ওঠে লোকটা – করবো না মানে? পাপ লাগবে না আমাদের? তারপরেই কেউ কিছু বোঝার আগেই ঘরে ঢুকে সম্ভৃতাকেও প্রণাম। দেখাদেখি সুপ্রকাশও। আর একটাও কথা বলে না ওরা। চলে যায়।

    চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে সোমেশ্বর। তার মুখটা থমথমে। সম্ভৃতা পিঠে হাত দেয় তার, জানি, তুমি ওদের সাথে গেলেই ভালো থাকতে। কিন্তু আমি পারবো না আর। আমারও তো বয়েস হচ্ছে, আমার কথাটা ভাবো একবার। আর আমি পেরে উঠবো না, এবার আমার শান্তি চাই।

    জানি, বলে সোমেশ্বর, কতো আর কষ্ট দেবো তোমায় !

    পরের দিন সকাল সাতটা নাগাদ সোমেশ্বরের গাড়ি বেরিয়ে যায় খুশিঝোরার প্রধান গেট দিয়ে। রেডিওটা চালিয়ে দেয় সম্ভৃতা, পায়রা দুটো ওর হাতে।

    একটু পর সম্ভৃতার উত্তেজিত কণ্ঠস্বর, শুনলে?

    কী? – একটু বোধ হয় আনমনা হয়ে গেছিলো সোমেশ্বর – কী শোনার কথা বলছো?

    রেডিওয় শুনলে না? – হাতটা তুলে একটু বোধ হয় অপেক্ষা করতে বলে সম্ভৃতা – শোন আবার।

    শেষ করার আগে বিশেষ বিশেষ সংবাদ আর একবার, রেডিও থেকে ভেসে আসে কণ্ঠস্বর: প্রধানমন্ত্রী এক সপ্তাহের সফল য়্যোরোপ সফরের পর গতকাল রাত দশটায় নয়াদিল্লী পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের সাথে বিদেশমন্ত্রীর আলোচনার সম্ভাবনা আগামী মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে। কাশ্মির উপত্যকায় প্রবল তুষারপাতের ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত। ভারতীয় সংস্কৃতির পুনর্বিন্যাসে নজিরবিহীন অবদানের জন্য আগামী ছাব্বিশে জানুয়ারী রাষ্ট্রপতি ভবনে বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও সমাজসেবী শ্রীমতী জয়মালিকা সেনকে বিশেষ সম্মানপ্রদানের সিদ্ধান্ত...

    হো হো কোরে হেসে ওঠে সোমেশ্বর। বড়ো বাঁচা বেঁচে গেছি, বলে সে, ভাবো তো আজ খুশিঝোরায় থাকলে কেমন হতো।

    কেমন আর, সম্ভৃতাও হাসে, দুজনে মিলে অভিনন্দন জানাতাম জয়মালিকা সেনকে, হয়তো ফুল-টুলের সাথে।

    খানিকটা হালকা মনেই এগিয়ে যায় ওরা। একটু এগোবার পর রাস্তার ওপরে বেশ কিছু লোক, ছোটখাটো একটা জনতা প্রায়। হর্ণ দেয় সোমেশ্বর, জনতা দাঁড়িয়েই থাকে। গাড়ি থামায় ওরা। ডানদিকের রাস্তাটায় পাতাপাড়ার শুরু। জনতার মধ্যে সুপ্রকাশকে দেখা যায়, ওর বাবাকেও। আরও অনেক মানুষ। হাত তুলে ওদের দাঁড়াতে বলে তারা।

    কেউ কথা বলে না। গতিহীন গাড়িতে সম্ভৃতা আর সোমেশ্বর। ডানদিকে চোখ পড়ে ওদের। একটা রিকশ-ভ্যান থেকে ধরে ধরে এক যুবক নামাচ্ছে দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধকে। লুঙ্গি পরনে বৃদ্ধটি একটা লাঠি হাতে যুবকটির কাঁধে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে গাড়ির দিকে। কেমন যেন চেনা লাগে সোমেশ্বরের বৃদ্ধকে, মনে করতে পারে না কোথায় দেখেছে। বৃদ্ধটি কাছে এসে বলে, চলে যাবেন মাষ্টারমশাই? পড়াতে তো এসেছিলেন, চলে যাবেন পড়ানো শেষ না করেই? কাজটা যে শেষ হলো না মাষ্টারমশাই ! কাজটা, দেখতে পাচ্ছেন না ডাকছে আপনাদের দুজনকে?

    আর কোন কথা বলে না বৃদ্ধ। পেছন ফেরে, যুবকটির কাঁধে ভর কোরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় রিকশ-ভ্যানটির দিকে।

    সোমেশ্বর তাকায় সম্ভৃতার দিকে, লোকটাকে চেনা চেনা লাগছে না? দেখেছো আগে?

    দেখেছি, বলে সম্ভৃতা। জয়মালিকার ঘরে। জয়মালিকার এগজিবিশনের ছবিতে। এক সাঁওতাল যুবক আর এই বৃদ্ধ। তখন দাড়ি ছিলো না, বয়েস আরও পনেরো বছর কম ছিলো।

    চিনতে পারে সোমেশ্বর, কোন কথা না বলে আবার গাড়িতে স্টার্ট দেয়।

    সম্ভৃতা বলে, কোন দিকে যাচ্ছো? আমাদের রাস্তা ডান দিকে।

    সম্ভৃতার দিকে এক পলক তাকায় সোমেশ্বর। ওর চোখ পড়ে যায় সম্ভৃতার হাতে-ধরা পায়রা দুটোর দিকে। ভালোবাসার প্রতীক।


    ~ শেষ ~

     

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৬ নভেম্বর ২০২১ | ৩৯৫ বার পঠিত | রেটিং ৩ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৬ নভেম্বর ২০২১ ১৭:২৩500797
  • নমস্কার! মন ভরে গেল।
  • আপলোড পাবলিশ | 2405:201:8005:9947:ccc1:cbd2:b81a:75d8 | ০৬ নভেম্বর ২০২১ ১৭:৪৬500799
  • সংকোচের সঙ্গে স্বীকার করি, আমার অবস্থা আজকাল অনেকটাই রামধনের বৃদ্ধ গাধার মত হয়েছে; পাঁচখানা ধুতি সাতখানা শাড়ির হিসেব রাখি বটে, কিন্তু একখানা ধুতি প্যান্ট পরিতে না পাই। লেখা আপলোড আর পাবলিশ লাইন ব্রেক যতি চিহ্নের আগে স্পেস এইসবই দেখতে দেখতে লেখা পড়ার অবকাশ কম হয়ে গেছে। সামনে কয়েকটা লম্বা লম্বা ফ্লাইট আছে, তখন বসে পুরোটা পড়ে নেবো বলে ভেবে রেখেছি।

    কিন্তু যে কথাটা বলার, এই আটান্ন পর্বের ধারাবাহিক পাবলিশ করার সময় এমন একদিনও হয়নি যে শুক্রবার রাতে আবিস্কার করলাম - এই যাহ, লেখা তো আসেনি! সব সময় অন্তত তিন কিস্তি হাতে থাকতো - আগে থেকে প্ল্যান করে লেখা তুলে সময় মত পাবলিশ বাটন চেপে দিতে কখনো কোন অসুবিধে হয়নি। প্রতিটি পর্বের ইমেল সযত্নে সময় মত পেয়ে গেছি।

    লেখককে অনেক ধন্যবাদ। আশা করি আপনার লেখা ভবিষ্যতে আবার পাবো।
    ভালো থাকবেন।
  • ইন্দ্রাণী | ০৬ নভেম্বর ২০২১ ১৭:৫০500800
  • আগাগোড়াই সঙ্গে ছিলাম।
    লেখককে ধন্যবাদ। নমস্কার।
  • JollY Dipankar | ০৮ নভেম্বর ২০২১ ১৫:৫৩500923
  • শেষটা এমনটাই আশা করছিলাম ভালো লাগল। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন