• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • বৃত্তরৈখিক (৪৬)

    শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৭ আগস্ট ২০২১ | ৩৫৪ বার পঠিত
  • ~৪৬~

    সেই যে উৎপলকে পৌঁছিয়ে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে চলে গিয়েছিলো নিলীন তারপর এতদিন বাদে এলো আজ। নজরুল মঞ্চে খুশিঝোরা স্কুলের ছেলেমেয়েদের সাফল্যের খবর একাধিক খবরের কাগজে পড়ে স্বভাবতই সে পুলকিত এবং উৎসাহিত। শনি আর রবিবার মিলিয়ে পরপর কয়েকদিন ছুটি পেয়ে যাওয়ায় সে চলে এসেছে খুশিঝোরায়।

    কিন্তু এ কী ! খুশিঝোরাকে তার প্রায় অচেনা লাগে। ঢোকবার মুখে গেটের উল্টোদিকে চোখে পড়বার মতো বড়ো, অ্যাসবেস্টস শীটের চাল, একটা ইঁট-সিমেন্টের লম্বা টানা শেডের মতো কিছু। কী এটা ! আর তার পাশেই ছোট একটা পাকা বাড়ি। পাকা বাড়ি ! কবে হলো এসব ! ইশ্‌ ! খুশিঝোরার সামনেই ! ঢোকবার মুখেই মনটা খারাপ হয়ে যায় তার ! কে করলো এসব !

    গেট দিয়ে ঢোকে নিলীন। কিন্তু ও জানতো না গেটের ওপারে আর একটা বিস্ময় অপেক্ষা করছিলো তার জন্যে।
    বাঁ দিকের ঘরগুলো ছাড়িয়ে যে হলঘর দুটো ছিলো, যেখানে জয়ির ছবির এগজিবিশন হয়েছিলো, সেটা আবার দোতলা হলো কবে? ওপরের ঘরগুলোর সামনের দিকে যে চারটে জানলা দেখা যাচ্ছে সেগুলোয় সুদৃশ্য পর্দা। কবে হলো এসব?

    জয়িদি ! উৎপল ! হাঁক পাড়ে নিলীন। প্রথম কিছুক্ষণ কেউ শুনতে পেয়েছে বলে মনে হয়না। তারপর রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে রঘুনাথ।

    আরে, নিলীনদা, কতোদিন পর এলে !

    কী খবর তোমাদের? সবাই কোথায়?

    সবাই তো ইশকুলে, ইশকুল চলছে তো।

    রঘুনাথের সঙ্গে স্কুলের দিকে হাঁটতে শুরু করে নিলীন, ছোট দরজাটা পেরিয়ে অবাক হয়ে সে স্কুলের বাড়িটার দিকে তাকায়। বাপন বটব্যালের সৌজন্যে কীভাবে স্কুলের বাড়িটা হলো জয়ি তাকে বলেছিলো টেলিফোনে, কিন্তু দোতলা এতো বড়ো বাড়িটা তার কল্পনায় ছিলো না। নিলীন দাঁড়িয়েই থাকে বাইরে, স্কুল চলছে ভিতরে – সে অযথা বিরক্ত করতে চায় না কাউকে, ছুটি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে সে। রঘুনাথকে নিলীন বলে তুমি তোমার কাজে যাও রঘুনাথদা, আমি একটু ফলের গাছ-টাছগুলো ঘুরে দেখি।

    স্কুলের ছুটি হয়ে যায় কিছুক্ষণ পর, ছেলেমেয়ের দল লাইন কোরে পাশের মাঠটায় চলে যায়, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে থাকে তারা, তিন-চারজন উঁচু ক্লাসের একটু বড়ো ছেলেমেয়ে দৌড়িয়ে চলে যায় ছোট দরজাটা পেরিয়ে।

    ছেলেমেয়েদের পেছনেই আসে শিক্ষকরা দুজন – প্রতুলবাবু আর উৎপল – আর তাদের পেছনেই জয়ি। নিলীনকে দেখে খুশি জয়ি, তার চোখেমুখে উচ্ছ্বাস, দ্রুত এগিয়ে আসে সে, কেমন আছেন? কখন এলেন?

    এলাম সকালে। ইস্পাতে। খুশিঝোরা দেখে তো চেনাই যায় না, এসব দোতলা-টোতলা কবে হলো? তারপর উৎপলের দিকে চোখ পড়ে তার।

    কেমন আছো, নীলুদা? – বলতে বলতে নিলীনের সামনে এসে দাঁড়ায় উৎপল।

    আরেঃ, এমন বিশ্রী মোটা হলি কী কোরে? খেলাধুলো সব বন্ধ? – স্বতঃস্ফুর্ত বিরক্তিমিশ্রিত বিস্ময় নিলীনের গলায়, ছেলেদের খেলা শেখাচ্ছিস না? তারপর প্রতুল বাবুর দিকে ফিরে হাত তুলে নমস্কার কোরে বলে, আপনি তো প্রতুলবাবু, আপনার কথা শুনেছি আমি জয়িদির কাছে টেলিফোনে, আমার নাম নিলীন। নিলীন মিত্র।

    কথা বলতে বলতে এগিয়ে যায় ওরা, একটু পরেই ওদের সাথে দেখা হয় যে বড়ো ছেলেমেয়েগুলো দৌড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছিলো ছোট দরজাটা পেরিয়ে, তাদের সাথে। বড়ো বড়ো কড়া লাগানো পাত্র, সাধারণত নৌকো বলা হয় যাকে, সেই ধরণের পাত্রে ধরাধরি করে বড়ো ছেলেমেয়েরা নিয়ে আসছে খিচুড়ি। স্কুলের দিকে যাচ্ছে তারা, বাচ্চাদের খাবার।

    জলধর কোথায়? জলধর আসে না আজকাল? – নিলীন প্রশ্ন করে জয়িকে।

    জয়ির কাছে শোনে নিলীন জলধর আসে প্রায় রোজই, কিন্তু ঠিক স্কুলের সময় অনুযায়ী নয়, আসে সাধারণত একটু দেরি কোরে; আজও এসেছে, কিন্তু স্কুলে যখন ছুটি হয় ঠিক তখনই বেরোতে পারেনা ও আর ওর ক্লাস ফাইভের ছাত্রছাত্রীরা, পড়াশোনা চলতেই থাকে, খাবার পৌঁছিয়ে গেলে ক্লাস ফাইভের দশটা বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে ও বেরিয়ে আসে একবার, ওদের খাওয়া হয়ে গেলেই আবার ফিরে যায় ক্লাসে, আরও এক-দেড় ঘন্টা পড়িয়ে চারটে বাচ্চাকে মোটর সাইকেলে বসিয়ে বেরিয়ে যায়। সেদিন আর ফেরে না।

    বান্দোয়ান থেকে আসে নাকি বাচ্চাগুলো?

    না, বাচ্চারা বান্দোয়ানের নয়, জয়ি পুরোটাই বলে, কীভাবে ক্লাস ফাইভের দশটা বাচ্চাকে পড়ানোর দায়িত্ব পালন করছে জলধর, সবটাই ! এবং পড়ানো হয়ে গেলে যে চারজন হোস্টেলে থাকে না, তাদের বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেওয়া পর্যন্ত।

    কথাবার্তা চলতে চলতেই রঘুনাথ চা হাজির করে, বাগানের ধারে বসতে বসতে নিলীন বলে, হোস্টেল বললেন? হোস্টেল হয়েছে বলেননি তো আগে, কোথায় করেছেন? কতোজন থাকে হোস্টেলে?

    হ্যাঁ, সারপ্রাইজ দেবো বলে এটা চেপে রেখেছিলাম, চা-টা খেয়ে নিন, তারপর দেখে আসবেন হোস্টেলটা। মেয়েদের হোস্টেল হয়নি এখনো, তিনটে মেয়ে আমার পাশের ঘরটাতেই থাকে, যেখানে আগে ডাক্তারখানা ছিলো। ছেলেদের হোস্টেলে তেরো জন।

    এই সব কথা চলতে চলতেই ছোট দরজা থেকে এক এক করে বাচ্চারা বেরোতে থাকে লাইন করে, ওদের খাওয়া হয়ে গেছে, ওরা এখন বাসে উঠবে। নিলীনকে ওরা আগে দেখেনি কেউ, গূড মর্ণিং বলে ওরা; নিলীনের কাছ থেকে উত্তর পেয়ে খুশিতে ভরপুর বাচ্চারা হাসতে হাসতে এগিয়ে যায় গেটের বাইরে রাস্তায় অপেক্ষমান বাসের দিকে, একটু সাহসী কেউ কেউ পিছন ফিরে হাতও নাড়ে।

    হাত নাড়ার উত্তরে হাত নাড়ে নিলীনও, তারপর উঠে দাঁড়ায়। চলুন, বলে নিলীন, বাচ্চাগুলোকে সী অফ কোরে দিয়ে আসি। নিলীন সামনে, ওর পিছনে জয়ি আর উৎপল। রাস্তায় বাসের সামনে এসে দাঁড়ায় ওরা, বাচ্চারা একে একে বাসে ওঠে, হাত নাড়তে নাড়তে হাসতে হাসতে নিলীনের বাই-বাইয়ের উত্তরে বাই-বাই বলতে বলতে জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখতে থাকে, বাস স্টার্ট দিয়ে এগিয়ে যায়।

    বাসটা বেরিয়ে যাওয়ার পর উল্টো দিকে আবার চোখ পড়ে নিলীনের, অ্যাসবেস্টসের চালের শেডটা আর তার পাশের বাড়িটাকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে জয়িকে, এগুলো? এগুলো কাদের?

    আমাদেরই, জবাব দেয় জয়ি, বড়ো টানা শেডটা গোয়াল আর পাশের বাড়িটা ছেলেদের হোস্টেল। গোরুর সংখ্যা বেড়েছে, ভেতরের ঐ ছোট গোয়ালটায় আর ধরছিলো না, তাই বাইরে বের করে আনা হলো। এখন তো মোষও হয়েছে দুটো।

    নিলীন হেসে বলে, গোরু তো বেড়েছে, ছাত্রছাত্রী? ছাত্রছাত্রী কী এই কজনই? একটা বাসেই সবাইকে ধরে গেলো?

    না, হেসে ফেলে জয়ি, এই ট্রিপটা গেলো পাতাপাড়া আর ডাংলাজোড়ায়। ওখানকার বাচ্চাদের নামিয়ে ফিরে আসবে। তারপর আবার বাকিদের নিয়ে যাবে।

    বাকিরা কোথায়? এই কজনই তো লাইন দিয়ে বেরোলো দেখলাম।

    ওরা মাঠে, খেলছে-টেলছে বোধ হয়।

    ও, বাচ্চারা আছে এখনো স্কুলে? চলুন চলুন, ওদের সাথেই আলাপ করা যাক।

    আপনি যান, জয়ি বলে, বাচ্চারা সব মাঠেই আছে, আমি একটু রঘুনাথদা কী করছে দেখি। থাকবেন তো এখন?

    হ্যাঁ, দিন তিন-চার আছি, বলতে বলতে নিলীন এগোয় স্কুলের মাঠের দিকে, সঙ্গে সঙ্গে আসে উৎপলও।

    বাচ্চারা দৌড়োদৌড়ি করছে মাঠে, নিজেদের মধ্যেই বয়েস অনুযায়ী ভাগ-টাগ কোরে নিয়েছে, চলছে নানারকমের খেলা। নিলীনকে দেখতে পেয়ে দুয়েকজন দৌড়িয়ে আসে গূড মর্ণিং স্যর বলার জন্যে। নিলীন বোঝে এটাও একটা খেলা। বাচ্চাদের উত্তর দেওয়ার পর নিলীন জিজ্ঞেস করে উৎপলকে, এটা কে শেখালো ওদের?

    আমিই শিখিয়েছি, উৎসাহ পেয়ে বলে উৎপল। সবাইকে। যতো ছোট বাচ্চাই হোক, সবাই বলে।

    কিন্তু তোর ফুটবল শেখানোর কী হলো, ছেলেদের মধ্যে একটু বড়ো যারা তাদের দেখায় নিলীন, এরা তো বেশ বড়ো হয়ে গেছে, এদের শেখাচ্ছিস না?

    এখনো ধরিনি, অন্য কাজ করেই সময় পাওয়া যায় না !

    সময় পাওয়া যায় না কী রে, একটা বল তো ওদের অন্তত দিবি, বলের সঙ্গে দৌড়োতে তো শিখুক।

    এইসব কথা চলতে চলতেই ড্রাইভারের সহযোগী ছেলেটা এসে দাঁড়ায়, প্রথম ব্যাচের বাচ্চাদের নামিয়ে দিয়ে বাস ফিরে এসেছে, উৎপলকে সে বলে, ওদের এবার নিয়ে যাই উৎপলদা?

    খেলা ছেড়ে বাচ্চারা আবার লাইনে দাঁড়ায়, এক এক কোরে ছোট দরজাটা পেরিয়ে বাসের দিকে এগিয়ে যায় তারা,
    ওদের পেছনে নিলীন আর উৎপলও, গেটের বাইরে বাসে উঠতে শুরু করে বাচ্চারা। নিলীন বাই-বাই হাত নাড়ে, বাচ্চারা প্রত্যুত্তর দেয়, জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে হাসিমুখে হাত নাড়ায়, নিলীনের মুখে প্রাইজ-পাওয়া হাসি !

    গেটের ভিতর আবার ঢুকতে সামনেই জয়ি, আপনার জন্যে নতুন গেস্ট হাউজে ব্যবস্থা করছি।

    নতুন গেস্ট হাউজ? বলতে বলতেই হল ঘরের ওপরে সুদৃশ্য পর্দাগুলোর দিকে নজর যায় তার, আঙুল দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে, ঐগুলো নাকি?

    হ্যাঁ, সুকান্তদার পরামর্শে তৈরি হলো ওগুলো। কার্পেট-টার্পেট পেতে একটু বেটার-ফার্নিশ্‌ড্‌ ঘর। এখন তো সবই খালি, ঠিক করেছি অ্যাভেলেব্‌ল্‌ থাকলে মেম্বারদের ঐগুলোই দেবো, তাদেরও তো দাবি আছে একটা !

    নিলীন উত্তর দেয় না। পায়ে পায়ে জয়ির সাথে এগিয়ে চলে নতুন গেস্ট হাউজের উদ্দেশে। ভেতরে ঢুকে বলে, এ তো রয়্যাল ব্যাপার জয়িদি, এ ঘরের ভাড়া কতো?

    আপনার জন্যে ফ্রী, বাইরের লোকদের হাজার টাকা।

    হাজার টাকা ! বাপ রে ! কিন্তু আমার জন্যে ফ্রী কেন?

    আপনার একার জন্যে নয়, সব মেম্বারদের জন্যেই, অবিশ্যি যদি অ্যাভেলেব্‌ল্‌ থাকে। মেম্বারদের থাকা ফ্রী, খাওয়ার জন্যে শুধু পার পার্সন আড়াইশো টাকা পার ডে।

    হাজার টাকা দিয়ে লোকে থাকে? পার ডে হাজার টাকা !

    এগুলোরই বেশি ডিমাণ্ড, না পেলে লোকের মন খারাপ হয়ে যায়। এ কদিনে একটা কথা বুঝেছি, লোকের হাতে পয়সা আসছে প্রচুর, উদ্বৃত্ত থাকছে অনেকটাই, আর খরচ করার ইচ্ছেও বাড়ছে। মিড্‌ল্‌ ক্লাস এখন চ্যারিটিতেও খরচ করতে চায়, সবাই তো আর অ্যাক্টিভিস্ট হতে পারে না। যদি মনে হয় একটা ভালো কাজ হচ্ছে লোকে টাকাপয়সা ডোনেট করে। দেখুন না, আমরাই তো কতো পাচ্ছি।

    নীচের থেকে জলধরের গলা শোনা যায় হঠাৎ, নিলীনদা, খবর পেয়েছি, বিকেলে দেখা হবে, এখন বাচ্চাগুলোকে বাড়ি ফেরাবার তাড়া আছে। তারপরেই মোটর সাইকেলের আওয়াজ।

    বিকেলে চায়ের সময় জয়ি বলে, কাল থেকে ক্লাস নেবেন তো স্কুলে? যে কদিন আছেন?

    হ্যাঁ, স্কুলে তো যাবোই, তা ছাড়া আর কী কাজ আছে এখানে !

    কিছুক্ষণ পর জলধর আসে, হাতে ল্যাংচা। জয়ি বলে, ল্যাংচাটা বুঝি নিলীনদার অনারে, আমরা এতগুলো প্রাণী পড়ে আছি এখানে, একদিনও তো জলধরকে ল্যাংচা নিয়ে ঢুকতে দেখি না !

    জলধর হেসে বলে, ঘরকা মুরগী ডাল বরাবর, নিলীনদা অনার্ড গেস্ট, ছমাসে-নমাসে একবার আসেন, খাতির করতে হবে না !

    নিলীন বলে, চলো জলধর, বান্দোয়ান যাবো। অনেকদিন তোমার প্রেসে যাওয়া হয়নি, রঘুনাথের জন্যে একটা লেখা নিয়ে এসেছি, জয়মালিকা সেন-অনুপ্রাণিত, করম উৎসবের দর্শন।

    মানে? – জয়ির গলায় বিস্ময়।

    বৃহত্তর বাঙালিকে করম উৎসবের সাথে আপনিই তো পরিচয় করিয়ে দিলেন, কাগজে আপনার সচিত্র লেখাটা পড়েছি আমি।

    মোটর সাইকেল থেকে নেমেই নিলীন বলে, একটা কথা বলে নিই জলধর, এ কথাটা না বলা পর্যন্ত স্বস্তি হচ্ছে না। আমি সেদিন তোমাকে কষ্ট দিয়েছি, অপমান করেছি। যখন করেছি তখন বুঝিনি, বুঝিনি যে সেটা আরও বড়ো অপরাধ, একটা পুরো দিন আমার লেগেছে বুঝতে। তুমি যখন আমাদের খুশিঝোরায় নামিয়ে দিয়ে একটুও না বসে চলে গেলে হাতির উপদ্রবের অছিলায়, ঠিক তখনই বুঝলাম। কানে ধরে না বুঝিয়ে দিলে আমরা বুঝি না ! আমাকে তুমি ক্ষমা করো জলধর।




    প্রেসে ঢুকতে হলে যে গলিটা পেরোতে হয় সেইটা দিয়ে মোটর সাইকেলটা নিঃশব্দে ঠেলে ঠিক প্রেসের মুখটায় রাখলো জলধর। দুজনে ঢুকলো প্রেসে। টেবিলের ওপর থেকে পালকের ঝাড়নটা নিয়ে টেবিল চেয়ার বেঞ্চিগুলো ঝেড়ে জলধর বললো, বসুন নিলীনদা, দাঁড়িয়ে রইলেন কেন?

    নিলীন বসে। জলধর বলে, আপনার কাছে অনর্থক মিথ্যে কথা বলবো না নিলীনদা, আমার সত্যিই খারাপ লেগেছিলো। বিশেষত রসিকতাটা আপনি করেছিলেন বলে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, দিন সাতেক আগে একটা ঘটনায় আমার সমস্ত অভিমান, সমস্ত খারাপ লাগা, চলে গেলো। যে দোকানটা থেকে ল্যাংচা কিনি, সেখানে বসে চপ-মুড়ি খাচ্ছিলাম। আমি দোকানের ভেতরে, আর বাইরের বেঞ্চে বসে দুজন লোক, তারাও চপ-মুড়িই খাচ্ছে। ওদের মধ্যে একজন ওর সাথীকে শোনাচ্ছে ও কী ভাবে একজনকে জব্দ করেছিলো। পুরো ব্যাপারটা আমি জানিনা, আমার জানার কোন আগ্রহও ছিলো না। কিন্তু ওদের মধ্যে বেশি কালো যে লোকটা সে হঠাৎ বলে উঠলো, বলে উঠলো বেশ গর্বের সাথেই, গলাটা জোর করে, ...আর আমিও তো কালো বামুন, শয়তানের শয়তান, আমি কী ছাড়বার লোক নাকি !

    এইটুকুই আমার কানে গিয়েছিলো। কালো বামুন, শয়তানের শয়তান বলে প্রায় দম্ভই করছিলো যে লোকটা, সে যে কালো সে বিষয়ে তো কোন সন্দেহ নেই ! এ দম্ভ যে করতে পারে সে কী সত্যিই বিশ্বাস করে যে সে কালো বামুন বলেই শয়তান ! অথবা সে নিজে শয়তান এই কথাটাই কী আদৌ বিশ্বাস করে লোকটা ! করে না। প্রচলিত একটা গ্রাম্য রসিকতাকে জুতসই সাজিয়ে মজা করছিলো সে। মজা করছিলো কিসের জোরে? নিজে ওপর আস্থার জোরে ! কালো বামুনকে শয়তান বললেই কালো বামুন শয়তান হয় না সে এটা জানে, আর তাই নিজের কথাকে ইন্টারেস্টিং করার জন্যে নিজেকে নিয়েই রসিকতা করতে পারে।

    আমার তখন মনে পড়লো আপনার রসিকতাটা।

    উৎপলের বাবা আসলে একজন আদিবাসী, কিন্তু তথাকথিত উচ্চবর্ণে বিয়ে করার জন্যে নামে একটা হ লাগিয়ে বাঘসিঙ্গি হওয়ার চেষ্টা করছে এই রসিকতা তো আপনিই করবেন ! স্বাভাবিক ভাবেই করবেন, কারণ আপনি তো নিজেই একজন অবিমিশ্র ঝাড়খণ্ডী ! ঝাড়খণ্ডীদের আবার বর্ণবিভাগ কী ! সেখানে তো কোন দ্বিধা নেই আপনার, রসিকতাকে রসিকতা হিসেবেই আপনি নিতে পারেন, কারণ আপনি জানেন এই রসিকতা আপনার নিজেকে নিয়েই ! আমার খারাপ লেগেছিলো আমার ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্সের জন্যে ! কালো বামুন আমাকে ঘাড় ধরে শিখিয়ে দিলো !

    তুমি উদার জলধর, বলে প্রসঙ্গান্তরে যায় নিলীন, স্কুল কেমন চলছে?

    গোড়ার দিকে যেমন চলার কথা তেমনই চলছে স্কুল, কিন্তু আমার চিন্তা স্কুলকে নিয়ে নয় নিলীনদা, আমার চিন্তা খুশিঝোরাকে নিয়ে। আপনি নতুন গোয়ালটা আর হোস্টেলটা দেখেছেন?

    হ্যাঁ, বাইরে থেকে দেখলাম।

    জমিটা কার?

    কার? সত্যি তো, খুশিঝোরার তো নয়। তাহলে কী জমিটা কেনা হলো? কে কিনলো? কবে?

    সেটাই কথা নিলীনদা। আমাদের এই জঙ্গলভূমে গত কয়েকশো বছর ধরে যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে এখানকার মানুষ, সে সব তো শুরু হয়েছে জমি থেকে মানুষকে উচ্ছেদ কোরে। আমরাও মানুষকে উচ্ছেদ কোরে জমি দখল করছি না তো?

    উচ্ছেদ কোরে? তুমি জানো জমিটা কার?

    জানতাম না, এখন জেনেছি। লকি আর শুকি নামে দু বোন কাজ করে আমাদের খুশিঝোরায়, বাল্য বিধবা দুজনেই। ওদের নিজের বলতে শুধু নিজেরাই। আর ঐ জমিটুকু। খুশিঝোরার মেন গেটের উল্টোদিকের তিন-চার বিঘে জমি। আমি বলছি না খুশিঝোরা ওদের জমি কেড়ে নিয়েছে, ওদের উচ্ছেদ করেছে। সে সব হয়তো করেনি। খুশিঝোরা করেনি, কিন্তু অন্যরা করতে পারতো। এরকমটা এখানে প্রায়ই হয়। নিরাত্মীয় অল্পবয়েসী দুই বিধবা বোন, ওদের ডাইনী বলে অপবাদ দিয়ে দাও। দিয়ে দেওয়া সহজ, খুবই সহজ। ওদের বর যারা তারা মারা গেলো কেন? ওদের আত্মীয়-স্বজন সবাই মারা গেলো কেন? কারণ ওরা তাদের খেয়েছে, ওরা ডাইনী। ওদের মারো, মেরে ফেলো, নিদেন তাড়িয়ে দাও গ্রাম থেকে, লোকালয়ের থেকে। তারপর দখল করে নাও ওদের জমিজমা-বাড়িঘর।

    খুশিঝোরা এসব কিছুই করেনি। খুশিঝোরা ওদের কাজ দিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে। হয়তো খুশিঝোরাই ওদের রক্ষা করবে। কিন্তু তাহলে ওদের জমিতে দখলদারি কেন? ওদের জমিতে হোস্টেল, ওদের জমিতে গোয়াল, বিনিময়ে ওদের রক্ষা? আমি বুঝি না নিলীনদা, উচ্ছেদের কায়দা তো এরকম হলেই সুবিধের !

    আরও আছে। আমাদের পুকুরটার কথা মনে আছে তো? কাল আপনাকে দেখতে নিয়ে যাবো। পুকুরটার পাড় ধরে চারদিকে আজকাল সবজি ফলানো হচ্ছে। কাজটা কঠিন ছিলো, কিন্তু করা গেছে, উৎপলই করেছে। এই পর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু তারপরেই নজর পড়লো পাশের জমিটায়। কার জমি জানা নেই, কিন্তু কারো তো হবেই। এই জমিতেও সবজির চাষ শুরু হয়ে গেলো। কিছুদিন পর গিয়ে দেখি তার পাশের জমিটাতেও হচ্ছে ! কার জমি জানা নেই, কিন্তু আমাদের কী রাইট? আমি অস্বস্তিতে আছি নিলীনদা। আসলে লোভ বাড়ছে। আমরা সবাই মিলে ঠিক করেছিলাম নিজেদের খরচ যাতে উঠে আসে সেরকম কিছু কিছু ইকনমিক অ্যাক্টিভিটি আমরা করবো। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে আমরা ঠিক কতোটুকু চাই। টাকার পেছনে দৌড়োবার কী প্রয়োজন আমাদের?

    কিন্তু টাকা আসছে। যা প্রয়োজন, বোধ হয় তার থেকে বেশিই আসছে। এই টাকা আসা নিয়েই আমার ভয়। সরকার টাকা দিচ্ছে, ফিল্ম প্রোডিউসার টাকা দিচ্ছে, কলকাতার মানুষরা টাকা দিচ্ছে। আপনার কী মনে হয় নিলীনদা, আদিবাসী গ্রামের খেতে-না-পাওয়া শিশুর শিক্ষার জন্যে এরা সত্যি সত্যিই টাকা দেবে? যে দেয় সে তো তার পাউণ্ড অব ফ্লেশ আদায় করবেই, কী সে পাউণ্ড অব ফ্লেশ?

    আর টাকা বা জমিই নয় শুধু, আরও আছে। জয়িদি নিজে বলেননি আমাকে, কিন্তু ক্লাশ ফাইভের ছেলেমেয়েদের পড়াতে গিয়ে কথায় কথায় জানলাম। শুনে মন খারাপ হয়ে গেলো। ওই যে হোস্টেলটা তৈরি হয়েছে লকিশুকিদের জমিতে, ওটা তৈরি হয়েছে গ্রীষ্মের ছুটিতে। এখানকার গ্রীষ্ম, কী সে গ্রীষ্ম আপনি তো জানেন নিলীনদা। সেই গরমে বাড়ি তৈরিতে কুলির কাজ করেছে লেখাপড়ায় পিছিয়ে থাকা ছেলেমেয়েরা। ওদের বাবা-মা কিছু বলেনি। তারা মেনেই নিয়েছে লেখাপড়া আহার-বাসস্থানের বদলে তাদের ছেলেমেয়েদের কায়িক পরিশ্রমের ব্যাপারটা। ছেলেমেয়েরাও হয়তো ভাবেনি কিছু। কিন্তু আমি মানতে পারছি না নিলীনদা। অতটুকু ছেলেমেয়েরা মে মাসের গরমে খোলা আকাশের নীচে করছে কুলির কাজ! খাওয়া-থাকা আর লেখাপড়া শেখার বিনিময়ে!

    জয়িদির সাথে তুমি আলোচনা করেছো? – জিজ্ঞেস করে নিলীন।

    করিনি। সেটা নিয়েই একটু সংশয়ে আছি।

    কিসের সংশয়?

    দেখুন, স্কুলটা যে জয়িদি বাড়াবার চেষ্টা করছেন এটা তো ঠিকই – বাস নিয়ে কতো গ্রামের ভেতরে গিয়ে আমরা তিরিশজন ছাত্র যোগাড় করলাম – এখানকার ছেলেমেয়েরা শিক্ষার একটা সুযোগ যে পাচ্ছে সে বিষয়ে তো কোন সন্দেহ নেই। এখন যদি আমরা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করি, যেটুকু কাজ হচ্ছে সেটাও যদি বন্ধ হয়ে যায়...

    সে তো ঠিকই। ঠিক আছে, তিন-চার দিন আছি তো, স্কুলেও যাবো, ভেবে দেখা যাক।

    পরের দিন ক্লাস ফোরে গেলো নিলীন। জয়ির অনুরোধে। জয়ি বললো, ক্লাস ফোরটাই বোধ হয় সবচেয়ে নেগ্লেক্টেড। ওদের পড়ানোর কথা আমার। আর এদিকে আমার ভালোই লাগে না পড়াতে। আমি গিয়ে ছবি আঁকা শেখাই, গান শেখাই, কিন্তু ওদের পড়াশোনার খুব ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।

    ক্লাস ফোর-এ বসেই পাশের ঘর থেকে প্রতুলবাবুর কণ্ঠস্বর শোনা যায়। ক্লাস টূ আর ক্লাস থ্রী একসাথে বসিয়ে পড়াচ্ছেন তিনি। শোনা যায় ছেলেমেয়েদের সমবেত কণ্ঠস্বরও। তারা মুখস্থ করছে কিছু একটা। সম্ভবত ইংরিজির পাঠ। এ-এন-টি অ্যান্ট, অ্যান্ট মানে পিঁপড়ে, তারপরেই এ-জি-ই এজ, এজ মানে বয়স, এবং পরেরটাই এ-ডবল এস অ্যাস, অ্যাস মানে গাধা। ছেলেমেয়েরা কী শিখছে বোঝা যায় না, কিন্তু ছাত্রশিক্ষকের সমবেত পরিশ্রমকে শ্রদ্ধা না কোরে পারা যায় না ! নিলীন স্থির করে এবার মেদনীপুর ফিরে গিয়ে ও নিজে যে স্কুলে পড়েছিলো সেখানকার শিক্ষকদের সাথে একটু আলোচনা করবে।

    পরের দিন জলধরের ক্লাসে গেলো নিলীন। এ এক আশ্চর্য ক্লাস। জয়ির কাছেই নিলীন শুনেছে ক্লাস ফাইভের দশজন ছাত্রছাত্রীর তিনজন ভর্তি হয়েছে পরে, এরা তথাকথিত মাওবাদী অধ্যুষিত পাহাড় অঞ্চলের গ্রাম থেকে এসেছে। বয়েস দশ থেকে বারোর মধ্যে, তাই ক্লাস ফাইভেই ভর্তি করা হয়েছে যদিও এটাই এদের প্রথম স্কুল। ভালো ভাবে এরা অক্ষরও চিনতো না ভর্তির সময়। এরা সবাই এখন হোস্টেলে থাকে। বাকি সাতজন অন্য স্কুলে পড়তো। এই সাতজনের মধ্যে তিনজন থাকে হোস্টেলে, বাকি চারজন ডাংলাজোড়া আর পাতাপাড়ায়, নিজেদের বাড়িতে। ক্লাসে ঢুকতেই ছাত্রছাত্রীরা উঠে দাঁড়িয়ে জলধরের দিকে তাকিয়ে বলে, গূড মর্নিং স্যর।

    গূড মর্নিং চিলড্রেন, উত্তর দিলো জলধর। তারপর নিলীনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো ছেলেমেয়েদের, ইনি নিলীন স্যর। ইনি আজ তোমাদের ক্লাসে থাকবেন, তোমাদের পড়াশোনা দেখবেন। এর পরেও মাঝে মাঝে আসবেন। তোমরা স্যরকে উইশ করো। ছেলেমেয়েরা বললো, গূড মর্নিং স্যর, নিলীনও জবাব দিলো।

    জলধর বললো, এবার আমরা ইংরিজি পড়বো। তার আগে রোজকার মতো তোমাদের শপথ বলো তোমরা। ছেলেমেয়েরা উঠে দাঁড়িয়ে সমবেত কণ্ঠে বলে ওঠে, আমরা ঝাড়খণ্ডী। আমরা ভারতের প্রাচীনতম জাতিদের অন্যতম। আমরা ঝাড়খণ্ডীদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবো। এবার পড়া শুরু হলো। নিলীন অবাক হয়ে দেখে, ইংরিজির পাঠ্য বইএর থেকে সেদিনের পাঠ প্রতিটি ছাত্র পড়তে পারলো। এদের মধ্যে পাঁচজন রীতিমতো ভালো পড়লো, যথাস্থানে যতির এবং কণ্ঠস্বরের ওঠানামার নিয়ম রক্ষা কোরে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে চারজন কারো সাহায্য ছাড়াই ধীরে ধীরে, কখনো কখনো বানান কোরে পড়লো। একটি মাত্র ছেলেকে সাহায্য করতে হলো খানিকটা। ইংরিজির পর বাংলা। মোদের গরব মোদের আশা আজ পাঠ্য। মুখস্থ বলতে পারলো সবাই, তারপর সবাইকে কবিতাটা লিখতে হলো নিজের নিজের খাতায়। অভিনব উপায়ে ক্লাসেই ভুল সংশোধন করা হলো। জলধর জানে ক্লাসে সবচেয়ে দুর্বল কে। তার খাতাটি খুলে একটি একটি ভুল বানান ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে সমস্ত ছাত্রছাত্রীর সাহায্যে সংশোধন করা হলো ভুল বানানগুলো। এরপর অঙ্ক, এবং তারপর টিফিন। টিফিনের পর মুখে মুখে বিজ্ঞান খানিকটা পড়িয়ে তারপর কিছুক্ষণ অলচিকি লেখা এবং পড়া শিখিয়ে ক্লাস শেষ করলো জলধর। ক্লাসের শেষে জলধর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করে না। চারজন বাচ্চাকে মোটর সাইকেলে চাপিয়ে বেরিয়ে যায় সে।

    সেদিন খাওয়ার সময় নিলীন বলে জয়িকে, আপনি বলছিলেন না ক্লাস ফাইভের তিনজন বাচ্চা অক্ষরই চিনতো না স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময়?

    হ্যাঁ, ওরা কখনো স্কুলে যায়নি আগে, আর বাড়িতে পড়ার প্রশ্নই তো আসে না।

    আমি আজ ক্লাস ফাইভে গিয়েছিলাম, দশজন বাচ্চাই ক্লাস ফাইভের ইংরিজি টেক্‌স্ট পড়তে পারলো, আর সবাই মোদের গরব মোদের আশা মুখস্থ বলে লিখতেও পারলো।

    জলধরকে তো জানি, বলে জয়ি, ও অসাধ্য সাধন করতে পারে। শুধু ডেডিকেশন আর সিনসিয়ারিটি নয়, ওর মতো বুদ্ধি আর প্ল্যানিং কজনের আছে ! দেখেছি তো আমার এগজিবিশনটার সময়, এমনকী করম পুজোর সময়ও !

    তাহলে ওর বুদ্ধি ধার নিচ্ছেন না কেন? আমি নিজে তো আজ অনেক শিখলাম।

    ধার? নেবে কে? নিয়ে ধারণ করবে কে? আমি? আমাকে দিয়ে পড়ানো হবে না, আমি বড় জোর গান আর ছবি আঁকা শেখাতে পারি। বাকি রইলেন প্রতুলবাবু, উনি আর এই বয়েসে শিখবেন কী? আর উৎপলের কথা না-ই বললাম !

    কিছুক্ষণ চুপচাপ খায় দুজন। তারপর জয়ি বলে, আপনি তো ওর ক্লাসে গেলেন আজ। ওর সিক্রেট কী?

    সব সিক্রেট বলতে পারবো না, ওর সাথে তো কথা বলারই সুযোগ পেলাম না আজ। ক্লাসের পরেই ও মোটর সাইকেলে ছেলেমেয়েদের চড়িয়ে বেরিয়ে গেলো। এটাই ওর কমিটমেন্ট। অতএব আমার সাথে যতই আড্ডা মারতে ভালো লাগুক সময় নষ্ট করা চলবে না। জানেন জয়িদি, এই হচ্ছে জলধরের ক্যারেকটার ! এ-ই শিক্ষক ! যা করবে বলছে সেটা করে! ঠিক সময়ে করে! সত্যি সত্যিই ছেলেমেয়েদের রোল-মডেল হতে পারে ও ! যাই হোক, যা বলছিলাম। ওর ক্লাসে গিয়ে আমার মনে হলো ও ছেলেমেয়েদের মধ্যে একটা স্পিরিট তৈরি করতে পেরেছে। সেটাই বোধ হয় ওর সিক্রেট। ঝাড়খণ্ডী স্পিরিট। এবং ঝাড়খণ্ডী প্রাইড। ওরা শপথ নিয়েছে ওদের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনার। এবং ওরা বিশ্বাস করে লেখাপড়া শেখাই সেই হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনার উপায়। ওর নিজের ইমোশন ও ছেলেমেয়েদের মধ্যে সংক্রমিত করছে। এটাও হয়তো ওর সিক্রেট।

    কিন্তু সেই ইমোশন আর প্রাইড সবায়ের মধ্যে থাকবে তার কী মানে আছে? তাহলে তো আমাদের ধরে ধরে শুধু সাঁওতাল টীচার রাখতে হয়। অত সাঁওতাল টীচার পাবো কোথায়?

    আমি আজ ওদের বাংলা পড়ার সময়ও ছিলাম। মোদের গরব মোদের আশা আবৃত্তি করার সময়ও ওদের ইমোশনের কিছু ঘাটতি দেখলাম না আমি। নিজের ভাষাকে সত্যি সত্যিই ভালোবাসলে অন্যের ভাষাকেও ভালোবাসা যায়। আমি যদি আমার দেশকে ভালোবাসি অন্যের দেশ আমার দুশমন হবে কেন? নিজের ভালোবাসা দিয়ে আমি অন্য দেশের মানুষের দেশপ্রেমকেও ভালোবাসতে শিখবো, শ্রদ্ধা করতে শিখবো। আর আপনাকে তো আমার এত কিছু বোঝাবার দরকার নেই জয়িদি ! মনে আছে এই খুশিঝোরার জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় আমরা সবাই মিলে পুরুলিয়ায় গিয়ে রাত কাটিয়েছিলাম? আপনার বন্ধু তুলিকাদি আর আপনি সেদিন আপনাদের দুজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার গল্প শুনিয়েছিলেন। নিজের বাবাকে ভালোবেসেও তুলিকাদির বাবাকে একই রকমের ভালোবাসতে আপনার তো কোন অসুবিধে হয়নি !

    পরের দিন একই কথা বললো জলধর। নিলীন ওকে বলে রেখেছিলো বিকেলে আসতে। পরের দিনই নিলীন ফিরে যাবে, ওকে নিলীন তাই রাত্তিরে খেয়ে যাওয়ার কথাও বলে রেখেছিলো। খেতে খেতেই কথা হচ্ছিলো তিন জনের মধ্যে। প্রথম সপ্তাহটা আমি ওদের কিছুই পড়াইনি জয়িদি, জলধর বলে, আমি শুধু ওদের সবাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওদের বাবা-মা আর পিতামহ-পিতামহী মাতামহ-মাতামহীদের নাম। বাবা-মার নাম সবাই জানে, যদিও
    মা-র পদবী জানেনা বেশির ভাগই ! ওদের জেনে আসতে বললাম। জেনে এলোও সবাই, শুধু তিনজন বাদ দিয়ে। কোন্‌ তিনজন বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই, পরে ভর্তি হওয়া তিনজন। আমি আপনাকে বলতে পারতাম একদিনের জন্যে ওদের বাড়ি যেতে দিতে, বলিনি। বলিনি, তার কারণ আমি একটা সুযোগ পেলাম ওদের সঙ্গে ওদের বাড়ি যাওয়ার। আপনি বিশ্বাস করবেন, তিনজনের মধ্যে একজনেরও বাবা-মা ওদের মাতামহ-মাতামহীর নাম বলতে পারেনি? পিতামহীর নামও নয় ! ওরা অবাক হয়ে গিয়েছিলো আমরা এসব খোঁজ করছি দেখে। আমি ওদের সাথে অনেকক্ষণ গল্প করেছিলাম সেদিন, ওদের কী উপকার হয়েছিলো সেদিন আমি জানিনা, আমার হয়েছিলো ! কোন মানুষের নিজের অস্তিত্ব সম্বন্ধে বোধের এতো অভাব আমি আগে দেখিনি। পূর্বপুরুষের কী খোঁজ রাখবে, নিজেরা বেঁচে আছে কিনা সেটাই কী জানে ! সেদিন যখন বাচ্চাদের মোটর সাইকেলে চড়িয়ে ফিরে আসবো, ওদের বাবা-মার চোখে জল দেখেছিলাম আমি ! আমার আনন্দ হয়েছিলো !

    কিন্তু একটা কথা বলি, জয়ি জলধরকে থামিয়ে দিয়েই বলে, তোমার জন্যে আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছে জলধর। একা একা মোটর সাইকেলে শুধু বাচ্চাদের নিয়ে ওইসব গ্রামে তুমি যেও না। ঐ গ্রামগুলো পুলিশের খাতায় মাওবাদী গ্রাম।

    মাওবাদী গ্রাম তো আমার কী জয়িদি? ওদের ছেলেমেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা করছি, কোন মাওবাদী আমাকে ওদের শত্রু বলে মনে করবে না।

    তা হয়তো করবে না, জয়ি বলে, কিন্তু আমার কেমন ভয় করে ! তারপরেই প্রসঙ্গটা প্রায় ঘুরিয়ে দেবার মতো কোরে বলে জয়ি, নাম তো সংগ্রহ করলে, তার পর?

    যখন এই সব নাম ওরা সংগ্রহ করছে তখন স্কুলে আমি কী পড়াচ্ছি? যে জাতিটা আর্যরা এ দেশে আসার আগে থেকে, বেদ-বেদান্ত-রামায়ণ-মহাভারতের আগে থেকে, এখানে বাস করছে আর নিজেরাও সেটা বেমালুম ভুলে গেছে, তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের মনে জাতির অভিমান তৈরি করার চেষ্টা করছি আমি। এই অভিমানই এদের লেখাপড়া শেখাতে চাইবে। আমি কিন্তু পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো গল্প বলিনি এদের, সে সব যদি বড় হয়ে পড়তে চায় ওরা, পড়বে। আমি বলেছি আজ থেকে আড়াইশো-তিনশো বছর আগে যে খোরোয়ালরা আত্মাভিমান দেখিয়েছিলেন তাঁদের নানা গল্প। তিলকা মাঁঝির কথা, শুনিয়েছি ভূকন সিঙের পালামৌএর লড়াইয়ের কাহিনী, বলেছি রুদু কোন্তা সিংরাই আর গঙ্গানারায়ণের কথা, সিদহু কানহু আর সিপাহী বিদ্রোহের খোরোয়াল বীরদের আত্মত্যাগ থেকে আজকের লড়াই পর্যন্ত। ওদের জিজ্ঞেস করেছি ওরা ওদের জাতির নবজন্মের শরিক হতে চায় কিনা, আপন ভাগ্য জয় করার অধিকার আপন হাতে চায় কিনা। চাইলে, ওদের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে, লেখাপড়া শিখতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে। নিজেরা পিছিয়ে পড়লে যেমন চলবে না, অন্যকেও তেমন পিছিয়ে পড়তে দেওয়া যাবে না। ক্লাসে একজনেরও যদি পড়তে আর শিখতে অসুবিধে হয়, অন্যদের এগিয়ে এসে তাকে সাহায্য করতে হবে। আপনি বিশ্বাস করবেন জয়িদি ঐ নতুন তিনজন ছাত্রকে পড়তে আর লিখতে শিখিয়েছে ওদেরই ক্লাসের হোস্টেলে-থাকা বাকি তিনজন, আমি নই ! আমি ওদের মধ্যে শুধু একটা সংকল্প তৈরি করিয়ে দিচ্ছি, বাকিটা ঠিক হয়ে যাবে। আমরা পড়াশোনা শুরু করার আগে রোজ সেই সঙ্কল্পকে মনে করি, ছেলেমেয়েরা রোজ তাদের শপথের কথা বলে ক্লাস শুরু করে।

    শপথ? – জয়ি জিজ্ঞেস করে, কী শপথ?

    তিনটি বাক্য, বলে জলধর। আমরা ঝাড়খণ্ডী। আমরা ভারতের প্রাচীনতম জাতিদের অন্যতম। আমরা ঝাড়খণ্ডীদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবো।

    এটা কী স্কুলের ছেলেদের বলাটা ঠিক হচ্ছে? পোলিটিকাল হয়ে যাচ্ছে না?

    পোলিটিকাল? কোন্‌টা পোলিটিকাল?

    ঐ প্রাচীনতম জাতি, হারানো গৌরব..., অস্বস্তির সাথে বলে জয়ি।

    জলধর জবাব দেওয়ার আগেই নিলীন বলে ওঠে, প্রাচীনত্ব নিয়ে সংশয় আছে নাকি? আমার তো মনে হয় না কারোরই আছে। আর হৃতগৌরব ফেরাবার অধিকার তো সবায়ের জয়িদি ! রবীন্দ্রনাথের ভাষায় জলধর যেটা বললো, আপন ভাগ্য জয় করার অধিকার, এ তো বিধাতাদত্ত ! আর শুধু বিধাতাদত্তই নয়, ভারতের সংবিধানদত্তও। স্কুলে না শিখলে এ সব শিখবে কোথায়?

    আপনিও ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছেন নিলীন, বলে জয়ি, কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে খুশিঝোরা আমাদের নতুন প্রতিষ্ঠান, কাউকে অ্যান্টাগোনাইজ করাটা আমাদের পক্ষে ভালো হবে না।

    কাকে অ্যান্টাগোনাইজ করার কথা বলছেন আপনি জয়িদি? – জলধর প্রশ্ন করে।

    এই তো সরকারী পয়সা পেলাম আমরা স্কুলটার জন্যে ! মিনিস্টারের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিলো উনি আমাকে মনে করিয়ে দিলেন আমাদের প্রধান দায়িত্ব হবে সংখ্যাগুরুর সাথে আদিবাসীদের একটা, একটা, সুষম মিলন ঘটানোয় সাহায্য করা। সেখানে ঝাড়খণ্ডীদের নিজস্ব গৌরবের কথাটা কী ঠিক হচ্ছে?

    নীরবে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে জলধর। তারপর বলে, আমি এ নিয়ে তর্কে যাবো না। আপনাকে শুধু মনে করিয়ে দেবো ক্যালকাটা ক্লাবে অরুণ চৌধুরিদের সাথে আপনাদের মীটিঙের পর খুশিঝোরায় আমাদের নিজেদের মধ্যে যে মীটিং হয়েছিলো সেটার কথা। আমি সেদিনও আপনাদের কাছে খোরোয়াল জনজাতির চার কোটি মানুষের স্বাভাবিক দেশটার ভূগোল ব্যাখ্যা করেছিলাম। সেখানে তারাই সংখ্যাগুরু। সংখ্যাগুরুর সাথে আদিবাসীদের নয়, আদিবাসীদের সঙ্গে অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সুষম মিলন অতএব আদিবাসীদেরই দায়িত্ব। ভারতের সংবিধান এ দায়িত্বই তাদের দিয়েছে। সেই দায়িত্ব আজকের প্রজন্মের আদিবাসী ছেলেমেয়েদের পালন করতে হলে তাদের অতীত তাদের জানতেই হবে। সেই দায়িত্ব যাতে ঠিক ঠিক পালন করতে পারে ওরা সেই শিক্ষা দেওয়াই আমার শপথ।

    জয়ি বলে, আমি তোমার মতো করে ভাবতে পারিনা জলধর, আর তোমার যুক্তিও খণ্ডন করতে পারবো না। আমি শুধু এটা বুঝি যে এখন তো আমরা পশ্চিমবঙ্গেরই অধিবাসী, কাজেই এখানকার নিয়ম মেনেই আমাদের চলতে হবে।

    মানছি তো, নিয়ম মেনেই তো চলছি, বলে জলধর, সেকেণ্ড ল্যাঙ্গুএজ ইংরিজি আর ফার্স্ট ল্যাঙ্গুএজ বাংলা পড়াচ্ছি তো। ওরা যাতে একটুও অস্বস্তি বোধ না কোরে মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা নির্দ্বিধায় বলতে পারে, তাই বাংলার সাথে সাথে ওদের অলচিকি লিখতে পড়তেও শেখাচ্ছি। এখন ওদের আর আ মরি বাংলা ভাষা বলতে গিয়ে ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভুগতে হবে না।

    অলচিকি পড়াচ্ছো? – প্রায় আঁতকে ওঠে জয়ি, আমি যে মিনিস্টারকে কথা দিয়েছি আমরা শুধু ইংরিজি-বাংলাই পড়াবো, অলচিকি নয় !

    আমি পারবো না জয়িদি, খোরোয়াল জনজাতির নতুন প্রজন্মর শিক্ষার সাথে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবো না !


    (ক্রমশঃ)

    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৭ আগস্ট ২০২১ | ৩৫৪ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৭ আগস্ট ২০২১ ১৯:৪৫496533
  • কাহিনী একটি ইন্টারেস্টিং বাঁকের মুখে। প্রতীক্ষায় রইলাম।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন