• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • বৃত্তরৈখিক (১৭)

    শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০১ জানুয়ারি ২০২১ | ৬১২ বার পঠিত
  • ~১৭~

    খাড়িয়াদের বিয়ের বরযাত্রীরা শুধুই পুরুষ, মেয়েদের যাওয়ার রেওয়াজ নেই। জয়ি বললো, বিয়ের দু দিন আগেই বেরিয়ে যাবে ও, নিজে নিজেই পৌঁছিয়ে যাবে অসনকুড়া গ্রামে, ওকে নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।

    এবার জয়ি তৈরি হয়েই এসেছে। পারমিট করিয়েছে, গোটা জঙ্গলটার একটা ম্যাপ যোগাড় করেছে, জঙ্গলের ভেতর যে কয়েকটা বিট রেস্ট হাউজ আছে, সেগুলোতে থাকার অনুমতিও নিয়ে এসেছে, অবিশ্যি যদি খালি থাকে।

    জঙ্গলে ঢোকার মুখেই এবার দেখা হলো এখানকার বিট অফিসারের সাথে, বিক্রম মুণ্ডা। জয়ির কাছে যতরকমের কাগজপত্র আছে সব খুঁটিয়ে দেখলেন ভদ্রলোক, জয়িকে জিজ্ঞেস করলেন, সব বিট রেস্ট হাউজেরই পারমিট নিয়ে এসেছেন, আপনার মিশন কী? কী করতে চান জঙ্গলে?

    চোরোকে দেখিয়ে জয়ি বলে, এসেছি এর বিয়ে দেখবো বলে। কিন্তু খোঁজ-খবর নিয়ে বুঝলাম বিয়ে দেখতে হলে কনের বাড়িতে থাকা দরকার, যা কিছু উৎসব-হৈ হৈ, সবই কনের বাড়িতে। এর বিয়ে যে গ্রামে সেটার নাম অসনকুড়া, কাজেই আমার প্রথম মিশন সেখানে পৌঁছোনো। তারপর বিয়েটা হয়ে গেলে জঙ্গলের ভেতর যতটা পারি, ঘুরতে চাই। তবে, বন্যপ্রাণীর চেয়ে জঙ্গলের মানুষ দেখারই উৎসাহ আমার বেশি।

    বিক্রম মুণ্ডা বললেন, জঙ্গলে তো একা একা ঘুরতে পারবেন না, সম্ভবই নয় আপনার পক্ষে। রাস্তা হারিয়ে ফেলবেন, অসুবিধেয় পড়ে গেলে কোথায় আশ্রয় নেবেন বুঝতে পারবেন না, জংলী জীবজন্তুর কথা না হয় আমি ছেড়েই দিলাম। শুনুন, আপনাকে কী করতে হবে আমি বলে দিচ্ছি। প্রথমত আপনার কাছে যে কাগজপত্রগুলো আছে সেগুলো হারাবেন না। যা যা আপনি যোগাড় করেছেন, দেখলে যে কোন বনকর্মীই বুঝবে আপনি ইনফ্লুয়েনশিয়াল, তা না হলে এতগুলো অবাধ পারমিট ম্যানেজ করতে পারতেন না। বনকর্মীদের সাথে যদি ভালো ব্যবহার করেন, সবাই আপনাকে সাহায্য করবে। আর মনে রাখবেন, এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যাওয়ার জন্যে পায়ে হাঁটবার চেষ্টা করবেন না। একটু ধৈর্য ধরলেই বনকর্মীরাই আপনাকে জীপ ম্যানেজ কোরে দেবে, সঙ্গে থাকবে।

    একটু থেমে বিক্রম বললেন, আপনার প্রথম ডেস্টিনেশন অসনকুড়া, কবে যেতে চাইছেন?

    সবচেয়ে ভালো হয় যদি পরশু যেতে পারি, বললো জয়ি।

    পরশু? – একটু থেমে বললেন বিক্রম – পরশু সকাল আটটা নাগাদ এই চেক পোস্টে চলে আসবেন, জীপের ব্যবস্থা করে রাখবো।

    জয়ি এবার চোরোর বাবা-মার জন্যে নতুন কাপড়-জামা এনেছে, আর বাদালির জন্যে সাজগোজের সরঞ্জাম: ক্রীম, শ্যাম্পু, সাবান, লিপস্টিক, নেল-পলিশ, এমনকী একটা পারফিউমও। ওদের বাড়িতে সবাই খুব খুশি, বিয়ের প্রস্তুতি দেখাতে ব্যগ্র সবাই। বাড়ি পরিষ্কার করা হয়েছে, মাটির দেয়ালে লালচে রং করা হয়েছে এক রকমের, বাদালি বললো ও আর ওর বন্ধুরা মিলে করেছে রংটা। আর বাড়ির ভেতরে, দেওয়ালে আর মেঝেতে, দেওয়া হয়েছে নানারকমের পিটুলি গোলার আলপনা। আলপনাগুলো দেখে অবাক হয়ে গেলো জয়ি। কোন কোনটা অতি উৎকৃষ্ট শিল্প বলে মনে হলো ওর। খোঁজ নিয়ে জানলো, পিটুলি গোলার এই ব্যবহার তিনবার করে পাহাড়ি খাড়িয়ারা। সন্তান জন্মের আট দিন পর এক ধরণের সরলরৈখিক ছাড়া ছাড়া আলপনার ওপর শুইয়ে নবজাতককে শুদ্ধ করে ওরা, বিয়ের সময় বাড়ির ভেতর অলঙ্করণের জন্যে করে, আর মকর সংক্রান্তিতেও একই রকমের অলঙ্করণ হয় বাড়িতে। এই আলপনার ফটো তুললো জয়ি আগ্রহের সাথে, আর অপেক্ষায় রইলো কবে সুযোগ পাবে নবজাতকের আলপনা দেখার।

    আগের বারেই দেহুরির সাথে আলাপ-পরিচয় হয়ে গিয়েছিলো, এবার ঘনিষ্ঠতাটা একটু বাড়লো। নানা রকমের মাঙ্গলিক কাজ করছে দেহুরি, আর দেদার হাঁড়িয়া খাচ্ছে। বিনা প্ররোচনায় খানিকটা হাঁড়িয়া প্রশস্তিও করলো সে, মনে কোরো না মাতাল হবার জন্যে খাচ্ছি আমি হাঁড়িয়া। হাঁড়িয়া পবিত্র, মন আর শরীরকে শুদ্ধ করে, সঙ্গে নিয়ে আসে পূর্বপুরুষের আশীর্বাদ। ছেলেমেয়েরা জন্মায় যখন, অথবা বিয়ে হয় একটা পরিবারে, আমাদের পূর্বপুরুষরা তখন বাড়ির উনুনের আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন, ভাতের থেকে তৈরি হয় হাঁড়িয়া, লক্ষ্য করেন ঠিক ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, আমরা খেলে মার্সি মাসানও খান।

    মার্সি মাসান? – প্রশ্ন করে জয়ি।

    হ্যাঁ, মার্সি মাসান, বুঢ়াবুঢ়িও বলতে পারো। ওঁরা সব সময় আমাদের গ্রামের আশপাশে ঘুরে বেড়ান, খেয়াল রাখেন সব কিছু ঠিকঠাক চলছে কিনা। এই জঙ্গলেই প্রথম জন্মেছিলেন ওঁরা, ময়ূরের ডিম থেকে, এই জঙ্গল থেকে আর বাইরে যান না। এই তো আমি যখন মরবো, এই জঙ্গলেই সবাই মিলে গোর দেবে আমাকে, আর যা কিছু জঙ্গলের, পাথর-গাছ-মাটি, সে সব চাপা দিয়ে ঢেকে দেবে, তারপর জঙ্গলে মিশে গিয়ে, বুঢ়াবুঢ়ির সাথে মিলে গিয়ে, এখানেই ঘুরে বেড়াবো, দেখবো সব ঠিকঠাক চলছে কিনা !

    যেমন কথা ছিলো বিক্রম মুণ্ডার সাথে, দু দিন পর চেকপোস্টের গেটে হাজির হলো জয়ি। জীপ একটা দাঁড়িয়েই ছিলো, বিক্রম বললেন, চা খেয়ে নিন এক কাপ, তারপর বেরোবো আমরা।

    বেরোবো আমরা ! মানে আপনিও আসছেন?

    হ্যাঁ, শুধু ড্রাইভারের ওপর ছেড়ে দিতে পারতাম আপনাকে, তারপর মনে হলো অসনকুড়া পর্যন্ত পৌঁছিয়েই দিয়ে আসি, আর ওখানকার বিট অফিসারের সাথে মুখোমুখি পরিচয়টাও করিয়ে দি। কে জানে কোন্‌ মিনিস্টার-ফিনিস্টারের রেফারেন্সে এসেছেন, ঠিকঠাক দেখাশোনা না করে চাকরিটা খোয়াবো নাকি !

    হেসে ফেললো জয়ি, অসনকুড়ায় বেড়াল পার করে এলেও মিনিস্টারকে বলে দেব না ভাবছেন কেন?

    চেক-গেটের থেকে মিনিট পনেরো পরেই গভীর জঙ্গলের শুরু, কোথাও পড়েছিলো জয়ি এ জঙ্গল নাকি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শাল-জঙ্গল। এত লম্বা আর এত ঘন শালবনের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে বাক্‌স্ফূর্তি হয় না আর, নাক-কান-চোখ এই তিনটে ইন্দ্রিয় এত গভীর ব্যস্ততায় থাকে, অন্য সমস্ত ইন্দ্রিয় তখন অকেজো !

    ঘন্টা দু-আড়াই পর জীপটা থামলো একটা ছোটখাটো বাংলোর সামনে, বিক্রম বললেন অসনকুড়ার সবচেয়ে কাছাকাছি রেস্ট হাউজ এটাই, এখানে থেকে আপনি বিয়ে-টিয়ে যা দেখতে এসেছেন, দেখতে পারেন।

    কিন্তু তা ভেবে তো আসিনি। অসনকুড়ায় কনের বাড়িতে থাকতে পারলেই খুশি হতাম।

    চৌকিদারকে ডাকলেন বিক্রম। এখানকার বিট অফিসারের নাম রাজেন দাস; জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সাহেবকে খবর দেওয়া যাবে?

    রেস্ট হাউজের বারান্দায় দুটো চেয়ার পেতে দিয়ে চৌকিদার গেলো সাহেবকে খুঁজতে। বিক্রম বললেন, কনের বাড়িতে আপনি থাকতে চাইবেন তা আমি জানি। কিন্তু সত্যি-সত্যিই থাকা যাবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। আপনি আমার নামটা যদি খেয়াল করে থাকেন তা হলে বুঝতে পারবেন আমি ঠিক আপনাদের মতো ভদ্দরলোক সমাজের মানুষ নই, আমিও, যাকে আপনারা বলেন ট্রাইবাল, মুণ্ডা। তবে মুণ্ডা আর সাঁওতালরা সংখ্যায় বেশি, অনেক আগেই ক্রিশ্চান মিশনারিদের সংস্পর্শে এসেছে, অনেকেই লেখাপড়া শিখেছে ওদেরই দয়ায় – ইনক্লুডিং মী। কিন্তু খাড়িয়ারা সংখ্যায় অনেক কম। ওদের মধ্যে আবার তিন রকমের ভাগ আছে। যাদের বলে দুধ-খাড়িয়া আর ধেলকি-খাড়িয়া তারা জঙ্গল ছেড়েছে আগেই, এখন চাষবাস করে, সাঁওতাল-মুণ্ডাদের থেকে ওদের চট করে আলাদা করতে পারবেন না। কিন্তু জঙ্গলের খাড়িয়ারা পাহাড়ি খাড়িয়া, সংখ্যায় কম, তথাকথিত সভ্য জীবন এখনো যতটা পারে রেজিস্ট করে। এরাই এখানে আপনার হোস্ট। শুনুন, আমরা মুণ্ডারা হচ্ছি ওদের খুড়তুতো ভাই; বংশপরিচয়ের যে গল্পটা চালু, তা হচ্ছে আমরা যাঁর সন্তান, সেই নাগবংশী রাজা ওদের প্রথম পুরুষের ছোট ভাই। কাজেই আমাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন, আমি ওদের চিনি। ওদের বাড়িতে তো আপনি থেকেইছেন, লক্ষ্য তো করেছেন নিশ্চয়ই যে একটাই ঘর ওদের, বেড-রূম, স্টোর-রূম, লিভিং-রূম, যা-ই বলুন, ওটাই। এই যে আপনার যে বন্ধু, যার বিয়ে অ্যাটেণ্ড করতে এসেছেন আপনি, সে বেচারা কনজুগাল লাইফ শুরুই করতে পারবে না যতদিন না ওর একটা নিজস্ব বাড়ি হচ্ছে। আর মুশকিলটা কী জানেন তো, ওদের গ্রামে আর একটা বাড়ি তৈরি করার অনুমতি সম্ভবত দেবে না ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট।

    তাহলে ও কী করবে? – জানতে চায় জয়ি।

    সম্ভবত প্রথম কয়েক দিনের জন্যে ওকে একটা বাড়ি ছেড়ে দেবে গ্রামের কোন বুড়োবুড়ি, তারা সে কদিনের জন্যে থাকবে ওর বাবা-মার সাথে, তারপর, শহরে যেখানে কাজ করে ও, সেখানে নিয়ে যাবে ওর বৌকে। সরকার তো
    তা-ই চায় ! আর একটি সভ্য, প্রডাক্টিভ পরিবার !

    তাহলে আমি থাকবো কোথায়? এখানে? এখানে থাকলে তো যে জন্যে আমি এলাম সেটাই হবে না।

    এখানেই থাকবেন, আমি তা বলছি না। এটা আপনার শেষ অল্টার্নেটিভ। যদি আর দুচারজন মেয়ের সাথে আপনাকে একটা বাড়ি খালি কোরে দেয় ওরা, তাহলে আপনি ওদের গ্রামেই থাকতে পারবেন। সেটা নির্ভর করছে আপনি কতটা খোলা মনের মানুষ আর ওরা কতটা আপনাকে পছন্দ করছে তার ওপর। কিন্তু অল্টার্নেটিভটা রইলো।

    কথা বলতে বলতে এসে গেলেন রাজেন দাস। বিক্রম পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, আপনার গেস্ট। আসলে কোন্‌ মিনিস্টারের সত্যি সত্যি গেস্ট সেটা কবুল করছেন না কিছুতেই। অসনকুড়ায় একটা বিয়ে-বাড়ি অ্যাটেণ্ড করবেন, তারপর নিজের ইচ্ছেমতো জঙ্গলে ঘুরবেন। ওপ্‌ন্‌ পারমিট আছে, খালি থাকলেই যে কোন গেস্ট হাউজে ঢুকে পড়তে পারেন, না থাকলে কাছাকাছির মধ্যে আর যেটা আছে, সেখানে ! অ্যাটেণ্ড করুন, আপাতত আপনার জীপে বিয়ে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিন। এখানকার সাধ মিটে গেলে পরের ডেস্টিনেশনে পৌঁছিয়ে দেবেন জীপে, বিট অফিসারকে বলে দেবেন আমি যেমন বললাম আপনাকে।

    খেয়ে যাবেন তো দাদা? – রাজেন জিজ্ঞেস করেন বিক্রমকে।

    নিশ্চয়ই, মুরগী কাটা হোক একটা।

    কনের বাপের নাম রামলাল। ঠিকানা বলতে এ টুকুই জানা আছে জয়ির। রাজেন দাসের ড্রাইভার অবিশ্যি এ টুকুর জোরেই ঠিক জায়গায় পৌঁছিয়ে দিলো ওকে, দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো।

    রামলাল ঠিকই চিনলো জয়িকে। চোরোদের গ্রামে যেদিন বিয়ের পাকা কথা বলতে গিয়েছিলো, সে দিন অন্যরকমের চেহারার, অন্যরকমের পোশাকের, ক্যামেরায়-ফটাফট-ছবি-তোলা যে মেয়েটিকে দেখেছিলো, তাকে ঠিকই মনে আছে ওর। জঙ্গলে থাকলেও খানিকটা দূরে সপ্তাহে একদিন যেখানে হাট বসে, সেখানে অনেকেই যায় ওরা। কাজেই ক্যামেরা ব্যাপারটা জানে। হাটে মাঝে মাঝে এক ফটোগ্রাফারও দোকান দেয়, সেখানে ওদের মধ্যে সখ করে অনেকেই ছবি তুলেছে। রামলালের বড়ো মেয়ে দুলারি তো ওর বরের সাথে একসাথে বসে ছবি তুলেছিলো একটা, বাড়িতে সাজিয়ে রেখেছে সেটা।

    জয়িকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি থাকবে এখানে? বিয়ে পর্যন্ত?





    যদি তোমরা দাও থাকতে।

    ব্যবস্থা হয়ে গেলো। এ গ্রামটায় মানুষ অনেক, অতএব বাড়ির সংখ্যাও বেশি। রামলালের বাড়ির পাশের বাড়িটাই নির্দিষ্ট হলো জয়ি আর বারো-তেরো বছরের তিনটে মেয়ের জন্যে। জীপের ড্রাইভারকে ডেকে জয়ি বললো ব্যবস্থা হয়ে গেছে ওর, কাজেই জীপটা ফিরে যেতে পারে এখন। একটু ইতস্তত কোরে ড্রাইভার জানালো আবার আসবে ও সন্ধ্যের মুখে। সাহেব বলে দিয়েছে, অসুবিধে হলে তখনও ফিরে যেতে পারবে জয়ি।

    কনের নাম পাপলা। দুলারিই দেখা গেলো সর্বময়ী কর্ত্রী। সে বেশ খানিকটা বড়ো পাপলার চেয়ে। তার নিজের একটা ছেলে, সে মায়ের সাথে এসেছে। দুলারির বর আসবে বিয়ের দিন, সে বারিপাদায় একটা কারখানায় কাজ করে, সিকিউরিটি গার্ড। দুলারি বললো আমার বোনের এই যে পাপলা নামটা, এ রকম নাম শুনেছো আগে? শোননি তো, কেউ শোনেনি। ধাই-মা ওর নাম দিয়েছিলো নোনিয়া। বিচ্ছিরি নাম ! আমি ওর নাম বদলিয়ে রাখলাম পাপলা। এখন সবাই পাপলা নামেই ডাকে।

    পাপলা মানে কী? – জিজ্ঞেস করে জয়ি পাপলাকেই। পাপলা জবাব দেয় না, হাসে একটু।

    দুলারি বলে, প্রজাপতি। ভালো নাম না?

    হ্যাঁ ভালোই তো, হেসে বলে জয়ি, তবে বরের নাম তো জানো, চোরো। মানে চড়াই পাখি। সাবধানে থেকো বাবা, প্রজাপতির সাথে শুনেছি পাখিদের সম্পর্ক ভালো নয়।

    মেয়েরা সবাই হেসে ওঠে, আর জয়ির সাথে ওদের বন্ধুত্বটাও বেশ পাকা হয়ে যায়।

    পরের দিন সকাল থেকেই আসল প্রস্তুতি শুরু। গ্রামের ছেলেরা সকাল হতেই চলে গেলো জঙ্গলে, নানা রকমের পাতা সংগ্রহ করবে ওরা। বয়স্কা মহিলারা পিটুলি গুলেছে আলপনা দেবে বলে, যে রকমটা চোরোর বাড়িতে দেখেছে, সেরকমই, তবে এবার শুধু একটা বাড়িতে নয়, পাপলাদের বাড়ি ছাড়াও আশপাশের অনেক বাড়িতেই দেওয়া হচ্ছে একই ধরণের আলপনা। আর এই বাড়িগুলোর মাঝখানে যতটা জায়গা, পরিষ্কার করে, গোবর লেপে, ঘন করে আলপনা দেওয়া হলো সেখানে। জয়ি বুঝলো বিয়ের মূল অনুষ্ঠানটা হবে ওখানেই।

    কনের গাত্রবর্ণে জেল্লা আনার সাধনা শুরু হয়েছে ততক্ষণে দুলারির নেতৃত্বে, এক প্রতিবেশীর বাড়িতে। কলাগাছের ক্ষার দিয়ে নাকি এক প্রস্থ গাত্রমার্জনা হয়েছে সকালেই। জয়ির কাছে খবর ছিলো না, সে সময়টা ও আলপনা দেখতেই ব্যস্ত ছিলো। এবার গিয়ে দেখলো নানা রকমের শেকড়-বাকর বেটে রাখা আছে এক জায়গায়, একটা একটা করে সেগুলো ঘসা হলো পাপলার গায়ে। শুকিয়ে করকরে হবার পর মেয়ের দল সবাই মিলে কনেকে নিয়ে চললো গ্রামের পাশ দিয়ে যে ছোট ঝোরাটা বয়ে গেছে সেখানে। তারপর সবাই মিলে হুটোপাটি করে স্নান সারা। খানিকটা ফটো তোলার পর জয়িও যোগ দিলো সেই হুটোপাটিতে।

    দুপুরের মধ্যেই ফিরে এলো ছেলের দল যারা জঙ্গলে গিয়েছিলো। রাশি রাশি পাতা এনেছে তারা। খোলা যে জায়গাটায় বিয়ের জন্যে আলপনা দেওয়া হয়েছে, তার ওপরের আকাশটা প্রায় ঢেকেই দেওয়া হলো পাতা সাজিয়ে। গ্রামে ঢোকার পর যে রাস্তা দিয়ে আসবে বর আর তার দলবল, সে রাস্তার দু ধারও পাতার মালা দিয়ে সাজাতে সাজাতেই দিনের আলো শেষ।

    আবালবৃদ্ধবনিতার নাচগান আর হাঁড়িয়া পানে কেটে গেলো সারা রাত, রাত পোহালেই বিয়ে !

    সকাল থেকেই চলছে নানা রকমের গান, আর কনে সাজানোর ধুম। কাল শুরু হয়েছিলো গাত্রমার্জনের যে প্রক্রিয়া, আজ তা শেষ হবে সকাল সকালই, কারণ বিয়ের জন্যে সন্ধ্যে পর্যন্ত অপেক্ষা করা নয়, বর পৌঁছোলেই বিয়ে ! কনেকে হলুদ-বাটা মাখানো হলো আজ, কিন্তু তার জন্যে বিশেষ কোন অনুষ্ঠান নেই। কাজটা কালকের মতোই সম্পন্ন করলো দুলারি আর তার দলবল। তারপর আবার সবাই মিলে ঝোরাস্নান। চমকটা অপেক্ষা করছিলো এতক্ষণ। ঝোরায় গিয়ে তার পুঁটুলিটা খুলে চিত্রতারকার সৌন্দর্যের গোপন একটি চাবিকাঠি বের করলো দুলারি, তার ফেনায় ফর্সা হবে তার বোন ! বারিপাদায় থাকে সে, শহুরে জীবনে অভ্যস্ত, জয়ি মনে মনে বুঝলো সম্পূর্ণ খাঁটি কোন কিছুই মেলা কঠিন !

    এবার চূড়ান্ত প্রসাধন। সাজানো আর বেশবাসের পর গয়না পরানো। নানা রকমের গয়না, সোনার চুড়ি একটা, সেটাও দুলারির দেওয়া উপহার, এ ছাড়া পেতলের, তামার, পুঁতির, এমনকি প্লাস্টিকেরও। সবশেষে এবার চমকটা জয়ির কাছ থেকে। তার ব্যাগ থেকে বেরোলো একটা সোনার টিকলি। এ জিনিষ কেউ দেখেনি ওরা আগে, জয়িই পরিয়ে দিলো পাপলাকে।

    সাজিয়ে গুছিয়ে তার জন্যে নির্দিষ্ট আসনে বসিয়ে রাখা হয়েছে কনেকে। এখন বরের জন্যে অপেক্ষা। ছেলের দল অপেক্ষা করছে বরের জন্যে, গ্রামে ঢোকবার রাস্তার গোড়ায়। বরযাত্রীরা এলো যখন, গান গেয়ে বাজনা বাজিয়ে সমারোহ করে নিয়ে আসা হলো তাদের, সোজা বিয়ের আসরে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বরের ডান হাতের ওপর কনের ডান হাত রেখে দেহুরি শুরু করলো তার কাজ। সব কিছুর আগে মার্সি মাসানকে স্মরণ করা। তারপর মেয়ের মা আর অন্য বড় আত্মীয়ারা আশীর্বাদ কোরে তাদের উপহার রাখলো বর-কনের সামনে রাখা শালপাতার তৈরি একটা পাত্রে, তারপর বরকে বসিয়ে রেখে সমবয়েসী মেয়েদের সাথে বরকে প্রদক্ষিণ করলো কনে। সঙ্গে মেয়েদের সমবেত গান। ভারি মিষ্টি সুরের একই গান গাওয়া হচ্ছে ক্রমাগত, জয়ি কান খাড়া কোরে শুনে তার মানে বোঝার চেষ্টা করে। কী গাইছে মেয়ের দল?

    একটি কালো ভোমরা ঘোরে এ ফুলে ও ফুলে,
    তাকে দেখে কোন্‌ ভোমরার হৃদয় ওঠে দুলে?
    এত যে ফুল, ভোমরা এত, তোমার জন্যে কে?
    তোমার গানে কোন্‌ ভোমরার হৃদয় কেঁপেছে?
    ভোমরা শোন, এবার থেকে একসাথে দুজনে
    সাবধানে খাও ফুলের মধু, ঝড় তুলো না বনে।

    এখন এ গানের জবাব দেবে কে? বরের সাথে তো মেয়ে আসেনি কেউ। শেষে কনের গাঁয়েরই আর একদল মেয়ে বরপক্ষের হয়ে জবাব দেয়,

    কালো কুঁকড়ো, ঠুকতে আসিস, নেই কী তোদের লাজ?
    দেখ্‌ না তোদের মেয়ে কেমন আমার ঘরে আজ।

    বিয়ে শেষ হবার আগে ঠাকুরাইনের আশীর্বাদ চায় দেহুরি। ঠাকুরাইন মানে পৃথিবী, মাটি। গোবর-লেপা মাটিতে সিঁদুরের তিনটে সমান্তরাল দাগের ওপর বসানো কাঁচা শালপাতার একটা বাটিতে সাদা মুরগির রক্ত দিয়ে ঠাকুরাইনকে খুশি করা হলো। বিয়ের শেষে সাদা ছাগল এবং আরও কয়েকটা মুরগির নিধন, হাঁড়িয়া সহযোগে মহাভোজ, এবং ঠাকুমা-দিদিমা থেকে শুরু করে দশ বছরের বাচ্চা মেয়েটা পর্যন্ত সবাই মিলে নাচ। পুরুষরাও কম যায় না, চাঙ্গু বাজাতে বাজাতে নাচে যোগ দেয় তারাও।

    বিয়ের হুড়োহুড়ির মধ্যেই পাতা আনতে গিয়েছিলো যারা জঙ্গলে সেই ছেলেদের সাথে গল্প করছিলো জয়ি। কথায় কথায় জানা গেলো জঙ্গলে পাতার খোঁজে গিয়ে অনেক মৌমাছির দেখা পাওয়া গেছে, বিয়ের হৈ-চৈটা কেটে গেলেই আবার জঙ্গলে যাবে তারা মধুর সন্ধানে। জয়িও যেতে পারে যদি আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারে।

    এ এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা। হেঁটে হেঁটে অনেক দূর যাওয়ার পর প্রথম মৌমাছিটা দেখা দিলো। চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়লো ছেলের দল। মৌমাছিটা খানিকটা চক্কর কেটে ঘুরলো ওদের মাথার ওপর, তারপর বোঁ কোরে কোথায় যে উড়ে গেলো হদিশ পাওয়া ভার। আবার চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা। কোথা থেকে খানিক বাদে আর একটা মৌমাছি একই কায়দায় এসে আবার মাথার ওপর চক্কর। আগেরটাই কী, নাকি নতুন একটা ! বোঝা গেলো না, কিন্তু কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আর একটা ! দুটো মিলে মাথার ওপর ঘুরছে তো ঘুরছেই, ঘোরার পরিধিটা বড়ো হচ্ছে কখনো, কখনো ছোট হয়ে যাচ্ছে আবার, এই সময় তৃতীয়টি। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আর একটা, তারপর একটা আরও !

    যে ছেলেটা নেতা ওদের মধ্যে, সে এতক্ষণে বুঝেছে ঠিক কোন্‌ দিক থেকে আসছে মৌমাছিগুলো। তার নিঃশব্দ ইঙ্গিতে সেই দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে ছেলের দল একটা লাইনের মতো। একটু যাওয়ার পর বোঝা গেলো আন্দাজটা ঠিকই হয়েছে, কারণ মাথার ওপর মৌমাছির সংখ্যা বেড়েই চলেছে, যদিও না থেমে, না চক্কর কেটে, এই মৌমাছিগুলোও এগিয়ে যাচ্ছে একই নির্দিষ্ট দিকে, ঠিক যেন কম্যাণ্ডারের পেছন পেছন চলেছে সেপাইয়ের দল ফাইল কোরে !

    খানিকটা এ ভাবে যাওয়ার পর বোঝা গেলো, সমতলে হেঁটে আর লাভ নেই, মৌমাছিগুলো আসছে একটা টিলা গোছের পাহাড়ের দিক থেকে। অর্থাৎ, ওদের আস্তানাটা চিনতে হলে উঠতে হবে ঐ টিলাটায়।

    ওঠা শুরু হলো, কিন্তু এবার আক্রমণ ! মৌমাছিগুলো যেন টের পেয়েছে হামলাকারীর দল আসছে ওদের রানির সন্ধানে। অতএব, ওদের সহজাত অস্ত্র প্রয়োগ ! হুলবিদ্ধ হলো এক-একজন ছেলে। বেরোবার আগে জয়িকে ওরা
    মাখা-আটার তালের মতো একটা কিছু খানিকটা দিয়ে দিয়েছিলো, মৌমাছি কামড়ালে সাথে সাথে আক্রান্ত জায়গাটায় লাগানোর জন্যে। ওদের প্রত্যেকের সাথেই আছে সেরকম এক-এক তাল, কাজেই চিকিৎসা এবং আক্রমণ চলেছে একই সাথে। অকুতোভয় ছেলেরা অতএব এগিয়েই চলে মৌমাছির সন্ধানে, মৌমাছি-প্রদর্শিত পথেই !

    এবং অবশেষে মৌচাকের সন্ধান। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, মৌচাকটা কোথায় আছে তা বোঝা গেলেও সেখানে পৌঁছোনো প্রায় অসম্ভব। যেটাকে প্রথমে ছোট টিলা মনে হয়েছিলো জয়ির, সেটা ঠিক অতটা ছোট নয়। মাঝামাঝি উঠতেই হাঁপ ধরে যায়। এবং মাঝামাঝি ওঠার পর একটা বড় পাথরের আড়ালে, প্রায় গুহা গোছের একটা অন্ধকার গহ্বরের মধ্যে মৌচাকটা, সেখান থেকেই বেরিয়ে আসছে মৌমাছির দল।

    গুহাটার সামনে বসে পড়লো তিন-চারটে ছেলে। ওদের ঝোলায় আছে কেন্দু পাতা, এই জঙ্গল থেকেই সংগ্রহ। সেই কেন্দুপাতার মধ্যে, তামাকই সম্ভবত – অথবা তার সাথে মেশানো আছে আরও কিছু – ঠেসে বিড়ি তৈরি করলো ওরা। তারপর মুখ ভর্তি সেই বিড়ির ধোঁয়া ক্রমাগত ছাড়া হলো গুহাটার মধ্যে। হু হু করে বেরিয়ে আসতে লাগলো মৌমাছির দল। যখন মনে হলো মৌমাছি আর নেই, গুড়ি মেরে একজন ঢুকলো গুহাটায়, আসলে পুরোটা ঢোকার প্রয়োজন হলো না, তার আগেই হাতে পাওয়া গেলো মস্ত মৌচাকটা !

    যত ফিল্ম ছিলো জয়ির সাথে, সবই শেষ, অতএব ফেরার পালা এখন। রাজেন দাসকে বলায় বনদপ্তরের জীপ জয়িকে পৌঁছিয়ে দিলো সবচেয়ে কাছের রেলস্টেশনে।

    ফেরার পথে একটা চিন্তা মাথায় আসে জয়ির। বন্যপ্রাণীর সম্পদ চুরি-ডাকাতি কোরে কী ভাবে মানুষ বেঁচে আছে এতদিন ! বুদ্ধিতে ওদের হারিয়ে দিয়ে? এই যে তথাকথিত শ্রমিক মৌমাছিরা – শ্রমিক ! মানুষেরই দেওয়া নাম ! – মৌচাক থেকে একটার পর একটা বেরিয়ে এসে ওদের আক্রমণকারীকে চিনিয়ে দিচ্ছে নিজেদের ঠিকানা, আর ব্যর্থপ্রতিরোধের চেষ্টা করছে নিজেদের হুলাস্ত্র দিয়ে, কয়েকঘন্টা যদি না বেরোতো ওরা, কেমন হতো? পারতো কী মানুষ ওদের ঠিকানা খুঁজে বের করতে?


    (ক্রমশঃ)
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০১ জানুয়ারি ২০২১ | ৬১২ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • মৌলিক মজুমদার | 2409:4066:196:c8f::2370:b8a5 | ১১ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০101605
  • অসাধারণ 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে প্রতিক্রিয়া দিন