• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • বৃত্তরৈখিক (৮)

    শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১০ অক্টোবর ২০২০ | ২৮১ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • ~৮~

    জরুরি তলব বাড়ি থেকে। তুলিকাকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছে জয়ির বাবা। ও যেন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসে। জেঠুই আবার টিকিটের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, সেই রাত্তিরেই ট্রেনে উঠলো জয়মালিকা।

    বাবা বাড়িতেই ছিলো। বললো, চান-টান করে কিছু খেয়ে সি-ব্লকে ইউনিয়নের অফিসে চলে যা। ওখানে প্রাণকিশোর সাহু আছে, দেখা করবি। সঙ্গে তোর আই-এস-সি পরীক্ষার মার্কশিটটা নিয়ে যাবি।

    কেন বাবা?

    শুনেছি আমাদের চাকরি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করেছিলো ইউনিয়ন, তার রায় বেরিয়েছে। ইউনিয়ন জিতেছে মামলায়। আমার কেসটা একটু গণ্ডগোলের হয়ে গেছে, কারণটা বেশ কমপ্লিকেটেড। তোকে বলছি বুঝিয়ে, তোর বোঝা দরকার।

    ম্যানেজমেন্ট বলেছিলো যারা বিভিন্ন কন্ট্রাক্টরের আণ্ডারে কাজ করছিলো প্লান্ট কনস্ট্রাকশনের সময়, তাদের সবাইকে নিজের নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী প্লান্টে চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু চাকরি দেওয়ার সময় ম্যানেজমেন্ট হঠাৎ বলে বসে যাদের বয়েস তখন চল্লিশ পেরিয়ে গেছে তাদের নেওয়া হবে না। ইউনিয়নের সঙ্গে এই পয়েন্টেই ডিসপিউট, ইউনিয়ন মানেনি ম্যানেজমেন্টের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত, এটাকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে ইউনিয়ন। জি-এম-পার্সোনেলের আমার ওপর রাগ ছিলো। আমার বয়েস তো তখন চল্লিশ হয়নি, কাজেই আমার চাকরি আটকাতে পারছিলো না সে। তুই তো জানিস, আমি কখনো কোন পরীক্ষা পাশ করিনি। কুরুখ মায়ের ছেলে আমি, আমার বয়েসের কোন রেকর্ডও নেই। ও তখনই আমার বয়েস দেখিয়ে দিয়েছিলো পঞ্চাশ। সেটা নিয়ে লড়াই করতে হলে আমাকে নিজেকে করতে হতো, ইণ্ডিভিজুয়ালি। সে করা সম্ভবও ছিলো না আমার পক্ষে, তা ছাড়া বয়েস প্রমাণ-টমাণ করাও অনেক কঠিন ব্যাপার। এখন মামলায় ইউনিয়ন জেতার ফলে আমি ছাড়া আর যার যার চাকরি হয়নি তখন, তারা সবাই চাকরি পেয়ে যাবে। তখনকার বয়েস পঞ্চাশ ধরে ম্যানেজমেন্টের হিসেবে যেহেতু আমার রিটায়ারমেন্টের বয়েস এখন হয়েই গেছে, ইউনিয়ন তাই ঠিক করেছে আমার বদলে তোর চাকরির দাবি করবে। ওরা ম্যানেজমেন্টকে শাসিয়েছে, যদি তোর চাকরির দাবি না মানা হয়, তাহলে ইউনিয়ন আমার বয়েসের ইস্যুটা নিয়ে মামলা শুরু করবে এবার। আমাকে তো সবাই চেনে, সবাই আন্দাজ করতে পারে সত্যিকারের বয়েস কতো আমার। কাজেই ম্যানেজমেন্ট বোধ হয় এ সব ঝামেলায় যাবে না। যাই হোক্‌, তোর সবটা জানা রইলো, এখন সাহুর সঙ্গে দেখা কর, কী বলে ও দেখা যাক্‌।

    সাহু আঙ্কল বললো, হ্যাঁ, চাকরি তো তোমার হবেই, কথা হয়ে গেছে জি-এম-পার্সোনেলের সঙ্গে, এ লোক ভালো, আগেরটার মতো নয়, আর তা ছাড়া তোমার বাবার ব্যাপারটা কে না জানে প্লান্টে!

    বাবার ব্যাপারটা কী আঙ্কল? – বাবা যেটা বলবে বলবে করেও কখনো বলেনি, সেটা শোনার আশায় উৎসুক জয়মালিকা।

    সবটা তো আমি জানিনা, লোকের মুখে যা শুনেছি। আর তা ছাড়া তোমার বাবা বলেনি তোমাকে, কী ভাবে প্রথম দফায় যখন সবায়ের চাকরি হলো তখন তোমার বাবাকে বাদ দিয়েছিলো তখনকার জি-এম-পার্সোনেল?

    হ্যাঁ, বাবা বলেছে বাবার বয়েস অনেক বাড়িয়ে পঞ্চাশ করে দিয়েছিলো সেই লোকটা; চল্লিশের মধ্যে যারা, তাদের চাকরি হয়েছিলো, কিন্তু পঞ্চাশ করে দেওয়ার ফলে বাবার হয়নি। কিন্তু কেন করেছিলো লোকটা? বাবার ওপর তার রাগ কিসের?

    দেখো, সেই গোড়ার আমলে যখন কন্ট্রাক্টরের লোকদের চাকরি দেওয়া হয়েছিলো, তখন তো আমরা কেউ কাউকে চিনতাম না। আমি কাজ করতাম বোণ্ডামুণ্ডায় রেলের ইয়ার্ড থেকে মাল নিয়ে আসার যে কন্ট্রাক্টর ছিলো তার কাছে, আর হেমন্তদা কাজ করতো কন্সট্রাকশন কন্ট্রাক্টরের কাছে। জর্মনরা যখন একে একে সব চলে যাচ্ছে – আমরা যখন জয়েন করেছি তখন তো মাত্র জনাপঞ্চাশেক অবশিষ্ট ছিলো – লোকজন সব নেওয়া হবে প্লান্টে, তখন প্রথমে দিল্লী থেকে পাঠালো দুজন অফিসার, এক জন জি-এম-টেকনিকাল আর এক জন জি-এম-পার্সোনেল, এরাই সবাইকে নেবে-টেবে আর কী। তো, জি-এম-টেকনিকাল দখল করলো জর্মন কলোনির একটা বাংলো আর পার্সোনেল কোন বাংলো-টাংলো না নিয়ে চলে গেলো ক্লাবে, সেখানেই থাকতো প্রথম প্রথম, ফ্যামিলি-ট্যামিলি আনেনি তো। আর ঐ ক্লাবেই থাকতো জর্মনদের যে বস ছিলো সেই সাহেব, আর তোমার বাবা, হেমন্তদা। কিছু একটা গণ্ডগোল সে সময়েই হয়েছিলো হেমন্তদার সঙ্গে ঐ পার্সোনেলের। তারই প্রতিশোধ নিলো ও।

    কী ব্যাপারে গণ্ডগোল?

    সেটা খুব ক্লীয়ার নয়। যাই হোক, ও সব অনেকদিন আগের ব্যাপার, ছেড়ে দাও।

    জয়মালিকাকে সাহু আঙ্কল একটা ছাপানো ফর্ম দিলো, তাতে লেখা ডিটেল্‌স্‌ অব দী অ্যাপ্লিক্যান্ট ফর কনসিডারেশন ফর এমপ্লয়মেন্ট। ফর্মটায় কতকগুলো জায়গায় ঢ্যারা কাটতে কাটতে বললো, যে পয়েন্টগুলোয় দাগ দিয়ে দিলাম সেগুলো নিজের হাতে ফিল আপ করবে, বাকিটায় কিছু করতে হবে না। আর একেবারে নীচে সিগনেচার অব দী অ্যাপ্লিক্যান্ট যেখানে লেখা আছে সেখানটায় তোমার পুরো নাম সই করবে, পুরো নাম। আর এ ছাড়া একটা প্লেন পেপারে অ্যাপ্লিকেশন দিতে হবে, আমি একটা ড্রাফট দিয়ে দিচ্ছি, ওটা দেখে দেখে কপি করে দিও। একেবারে যেমন লেখা আছে, তেমন। নো অ্যাডিশন-নো অল্টারেশন, ঠিক আছে? আর হ্যাঁ, তোমার স্কুলের শেষ পরীক্ষার মার্ক-শীটটা এনেছো? ওতে তো ডেট অব বার্থও দেওয়া আছে, তাই না? ওটা আমাকে দিয়ে যাও, আমি অ্যাটেস্টেড কপি করে রাখবো। তারপর নিজের চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, যা যা বললাম সব কাল সকাল দশটার মধ্যে দিয়ে যাবে, আমার সব বলা আছে, কালই প্রসেসিং হয়ে যাবে, পরশু দিন অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পেয়ে যাবে।

    জয়ি বললো, কী চাকরি হবে আঙ্কল, কী পোস্ট?

    পোস্ট তো ঠিক করাই আছে, তুমি তো গ্র্যাজুয়েট নও, তাহলে অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রেড টূ পেতে, এখন অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রেড ওয়ান পাবে, তবে কোন্‌ ডিপার্টমেন্ট বলতে পারবো না।

    পরের দিন ফর্মটা দেখে সাহু আঙ্কল বললো, এ কী, তোমার সারনেম লেখোনি, তারপর এস-সি-এস-টি কিনা যেখানে জানতে চেয়েছে, সেখানে এস-টিতে টিক করেছো, কী ব্যাপার?

    আমি তো এস-টিই, সেটাই তো ঠিক কথা।

    মানে?

    আপনি জানতেন না আমার ঠাকুমা, বাবার মা, কুরুখ ছিলেন?

    একটা এ রকম উড়ো কথা শুনেছিলাম বটে, কিন্তু তাতে কী হলো? বাবা-মা তো বাঙালি?

    মা বাঙালি ঠিকই, কিন্তু বাবাকে আপনি কি ঠিক ঠিক বাঙালি বলতে পারেন?

    তোমার বাবা কী বলেন?

    আমি যতদূর বুঝেছি, আমার বাবা মনে মনে কু্রুখ-মায়ের ছেলে হবার জন্যে যথেষ্ট গর্বিত। নিজেকে কুরুখ বলতে বাবার খারাপ লাগবে না।

    কিন্তু জয়মালিকা, তুমি যদি নিজেকে শিডিউল্‌ড ট্রাইব বলে ডিক্লেয়ার করতে, তুমি তো আগেই চাকরি পেয়ে যেতে, ইউনিয়নের রূটের তো দরকারই হতো না। আর তা ছাড়া এই চাকরিটার ক্ষেত্রে, এখন যেহেতু তুমি স্পেশাল কোটাতেই চাকরি পাচ্ছো, শিডিউল্‌ড ট্রাইব হবার কোন বেনিফিটই পাবে না তুমি। তাহলে কেন অনর্থক এ সবের মধ্যে যাচ্ছো?

    আপনাকে সত্যি কথা বলবো আঙ্কল? আপনি কি জানেন বছর তিনেক হলো আমি কলকাতায় থাকি, এটা-ওটা করে ম্যানেজ করি, জানেন আপনি?

    হ্যাঁ, শুনেছি।

    কলকাতায় এখন আমার অনেক বন্ধুবান্ধব। তাদের মধ্যে যারা চাকরি খুঁজছে, কেউ পাচ্ছে না। চাকরির বাজার খুব খারাপ এখন; ঘরে ঘরে বেকার, ইণ্ডাস্ট্রির অবস্থা মোটেই ভালো নয়, গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনীয়াররা চাকরি না পেয়ে নিজেদের সার্টিফিকেট পোড়াচ্ছে। তবুও, এ রকম অবস্থাতেও, যেটুকু চাকরি আছে সেগুলো সরকারি অথবা পাবলিক সেক্টর ইণ্ডাস্ট্রিতে। শিডিউল্‌ড ট্রাইব যারা, তারা কিন্তু চাকরি পাচ্ছে এর মধ্যেও। ইন ফ্যাক্ট যত পোস্ট রিজার্ভ আছে শিডিউল্‌ড ট্রাইবদের জন্যে, তত জন অ্যাপ্লিকান্টও নেই। আমি তো পাবলিক সেক্টরে জয়েন করতে যাচ্ছি, শিডিউল্‌ড ট্রাইব বলে যদি অফিশিয়ালি পরিচিত হই, অনেক সুযোগ পাবো ভবিষ্যতে। ছাড়বো কেন?

    শুধু শুধু জটিল করছো ব্যাপারটা জয়মালিকা। এই স্টেজে তুমি এমন একটা ফ্যাকড়া তুলছো, জানি না কী হবে ! আর তা ছাড়া তোমার নিজের ডিক্লারেশন বোধ হয় ভ্যালিডও হবে না। তোমাকে প্রমাণ করতে হবে তুমি শিডিউল্‌ড ট্রাইব। সার্টিফিকেট চাই। পাবে কোথায়?

    সে আমি যোগাড় করে নেবো।

    যোগাড় করে নেবে? কে জানে বাবা, আমি তো বুঝতেই পারছি না। তুমি একটা কাজ করো। আজ থাক, তুমি কাল এসো, আমি একটু কথা-টথা বলি সবায়ের সঙ্গে।

    হেমন্ত বললো, এমন একটা জেদ করছিস কেন? হাতের চাকরিটা নিয়ে ছেলেমানুষি হচ্ছে না?

    দেখো বাবা, এই যে আমি কলকাতায় গিয়ে স্ট্রাগ্‌ল করছি, ওখানে তো কাউকে এসব কথা বলতে যাইনি আমি। আমি স্ট্রাগ্‌ল করছি কিসের জন্যে, একটা কেরিয়ারের জন্যে তো! ছবি-আঁকিয়ের কেরিয়ারে শিডিউল্‌ড ট্রাইব হয়ে লাভ নেই, অসুবিধেই আছে। আমাদের দেশে শিল্পী-সাহিত্যিকরা এখনো প্রায় সবাই তথাকথিত উঁচু জাতের লোক, আর মনে মনে প্রায় সবাই জাত কনশাস, মুখে যা-ই বলুক না কেন! কিন্তু এখানে ব্যাপারটা আলাদা। পাবলিক সেক্টরে যদি চাকরি করতে ঢুকি, অফিশিয়ালি শিডিউল্‌ড ট্রাইব থাকলে অনেক সুবিধে পাবো, নেবো না কেন?

    হেমন্ত অবাক হয়ে যায়। নিজের মেয়ে! সে চিনতেই পারে না প্রায়! এত কিছু ভেবে কাজ করে মেয়েটা! এই তো সেদিনও কলকাতায় যাওয়ার সময় তিন-চারশো টাকা মাত্র নিজের সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলো! বাবাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলো, তুমি ভেবো না বাবা, আমার কাছে টাকা আছে! সেই মেয়ে এই কয়েক বছরেই এত বড়ো হয়ে গেলো! এত ভবিষ্যত ভেবে কাজ করে!

    মুখে বললো হেমন্ত, বেশি লোভ করতে গিয়ে সবটাই না ডোবে। দেখেইছিস তো কেমন ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছে সাহু। ইউনিয়নের কেসটায় অন্য কোন রিজার্ভেশনের কথা ছিলো না তো, এখন তুই তো ডবল রিজার্ভেশনের কথা বলছিস!

    তা বলছি না বাবা, আমি আলাদা করে কোন সুবিধে চাইছি না এখন, শুধু রেকর্ডে রাখতে চাইছি আমি শিডিউল্‌ড ট্রাইব, রেকর্ডেই শুধু।

    সাহু আঙ্কল বললো পরের দিন, অসুবিধে নেই কিছু, তুমি জয়েন করতে পারো। কিন্তু তোমার অ্যাপয়েন্টমেন্টটা হবে প্রভিশনাল। তিন মাসের মধ্যে যদি সার্টিফেকেট যোগাড় করতে না পারো, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইনভ্যালিড হয়ে যাবে। ভেবে দেখো জয়মালিকা। আরও দুয়েকদিন সময় নাও, তাড়া কী?

    আমি তো এসব কিছুই বুঝি না রে জয়ি, ভাবিইনি কখনো, চিন্তিত মুখে বললো হেমন্ত, এ সব সার্টিফিকেট দেয় কারা, জানিস কিছু?

    ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট, এস-ডি-ও, এম-এল-এ, এম-পি, এরা সব দেয় বলে শুনেছি। কলকাতা হলে আমি ঠিক যোগাড় করে নিতাম, এখানে তো কাউকে চিনি না, কন্ট্যাক্ট তৈরি করতে সময় লাগবে একটু। ও তুমি ভেবো না বাবা, আমি ঠিক একটা কিছু করে নেবো।

    দেখি, অগতির গতি আমার এক্স-বস দরবেশ শাহ্‌, বোণ্ডামুণ্ডায় গিয়ে দেখি ওকে পাই কিনা।

    দরবেশ শাহ্‌ হেমন্তকে দেখে খুব খুশি, ওর ধারণা ছিলো হেমন্ত বুঝি স্টীল প্লান্টেই চাকরি করছে, সেরকমই তো কথা ছিলো, তাই বুঝি যোগাযোগ রাখার সময় পায় না। জয়মালিকাকে দেখে অবাক ও, হেমন্তর মেয়ে এত বড়! তারপর অবিশ্যি হিসেব-টিসেব করে বললো, না এমনই তো হবার কথা! ও যে নিজেই বুড়ো হয়ে গেছে সেকথা ওকে মনে করিয়ে দেবার কেউ নেই, তাই ওর সব কিছু গুলিয়ে যায় এখন! কী প্রয়োজনে এসেছে জয়মালিকার কাছে শুনে ও পিঠ চাপড়ে দিলো জয়মালিকার। এ-হি তো চাই, খুব স্মার্ট তোমার মেয়ে হেমন্ত, কোথায় কোথায় সুযোগ আছে দু চোখ মেলে দেখতে জানে! এমনটা যদি তুমি হতে আমার পুরো কারবারটা আজ তোমারই হতো! বললো, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে কী হবে, এ দেশে যার যা তকলিফ আছে সবকুছুর মুশকিল আসান হলো কোর্ট আর উকিলবাবুরা। আমি ব্যবস্থা করে দেব। তোমরা এখানে বোসো এক ঘন্টা। নাশতা করো, চায় পিও, আমি আসছি।

    ঘন্টাখানেক পর দরবেশ ফিরলো, সঙ্গে একজন। হেমন্তকে বললো, চিনতে পারো একে? হেমন্ত ঠিক চিনলো না, কিন্তু লোকটা চিনলো হেমন্তকে, একটু লজ্জিত লজ্জিত হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে সে হেমন্তর দিকে। দরবেশ বললো এর নাম বুধন, টেনসায় যেখানে তোমার জন্ম, সেখানকারই ছেলে এ। তুমি যখন বারশুয়াঁ ছেড়ে আমার কাছে কাজ করতে এলে, তখন এ বাচ্চা ছিলো, তোমাকে দেখে চিনতে পেরে এ-ই প্রথম খবর দিয়েছিলো তোমার বাবা-মার কাছে।

    হেমন্ত বুধনকে জিজ্ঞেস করে, আমার মা বেঁচে আছে, বুধন?

    বুধন মাথা নেড়ে জানায়, না, বেঁচে নেই।

    জানা গেলো, আবার কুরুখ হয়ে গেছি বলা সত্ত্বেও কীবা রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়তে পারেনি। মাঝে মাঝেই একা একা জঙ্গলের ভেতরে কোথাও বসে আপন মনে সে গাইতো রবীন্দ্রনাথের গান; নিজে গাইতো, নিজেই শুনতো। কাউকে আসতে দিতো না কাছে। তাকে একদিন একা একা জঙ্গলে বসে থাকতে দেখা যায়, বসেই ছিলো, চুপচাপ। ডাকলে সাড়া দিচ্ছিলো না। কাছে গিয়ে গায়ে হাত দিয়ে ডাকতে গেলো তার কাছে থাকতো একটা মেয়ে, সে। বসে থাকা কীবার নিথর শরীরটা এক পাশে ঢলে পড়লো।

    ছেলেটিকে দরবেশ বললো হেমন্তকেও চেনে আর ওর মাকেও চেনে এমন আর দুজনকে যেন ও টেনসা থেকে ধরে আনে দু-তিনদিনের মধ্যে, কী করতে হবে ও বলে দেবে। হেমন্তকে বলে দিলো তিন-চার দিন পর ও যেন আসে, জয়িকেও নিয়ে আসতে হবে। তবে আসার আগেই জয়ি স্বচ্ছন্দে প্রভিশনাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে নিতে পারে, নেওয়াই উচিত।

    হেমন্তরা যখন পৌঁছোলো তিন দিন পর, বুধন, বীজবেরা আর চান্দো বসে আছে। একটু দূরে দরবেশের টেন্টে বসে আছে দরবেশ, ধুতির ওপর কালো কোট পরা একটি বয়স্ক লোক, উকিলই হবে, আর তার ঠিক পাশেই কোলের ওপর টাইপ মেশিন রেখে বসে আছে আর একজন।

    পাঁচটা আলাদা আলাদা কাগজে কিছু লেখা টাইপ করা হলো, হেমন্ত আর জয়মালিকা একটা করে কাগজে সই করলো। বাকি তিনটে কাগজে টিপছাপ দিলো বুধন, বীজবেরা আর চান্দো। উকিল ভদ্রলোক পাঁচটি কাগজেই সই করলেন, ছাপ লাগালেন, তারপর জয়ির কাগজটা জয়িকে আর হেমন্তর কাগজটা হেমন্তকে দিয়ে বললেন, এই দুটো তোমাদের অ্যাফিডেভিট, এগুলোই সার্টিফিকেটের কাজ করবে। অরিজিনালটা কোথাও দিয়ে দিও না, কপি চাইলে অ্যাটেস্টেড কপি দেবে। তারপর বাকি তিনটে কাগজ হেমন্তকে দিলেন, বললেন, এগুলো যত্ন করে রেখো। তোমাদের যারা সাক্ষী তাদের টিপছাপ আছে এতে।

    সাহু আঙ্কল বললেন, তাহলে ফাইনাল তো? পরে কিন্তু আফসোস কোরো না। জয়িকে সঙ্গে নিয়ে আঙ্কল গেলেন সোজা পার্সোনেল ডিপার্টমেন্টে, সই করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিলো জয়ি, অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রেড ওয়ান, জেনারাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট, জয়েন করতে হবে সামনের মাসের এক তারিখ থেকে, এখনো পাঁচদিন বাকি আছে তার। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটায় পুরে সোজা তুলিকাদের বাড়ি, চল্‌, তোকে সিনেমা দেখাবো আজ।

    এখানকার সিনেমা হলে হিন্দী সিনেমাই হয়, বাংলা বা হলিউডি সিনেমা যা হয় তা ক্কচিৎ-কদাচিৎ, তা-ও মর্ণিং শো-য়ে। হিন্দী সিনেমাই সাধারণত দেখে ওরা, আর জয়ি তো রীতিমত দুয়েকজন বলিউডি হিরোর ফ্যান !
    প্যারাডাইসে সপ্নো কা সদাগর দেখে, সেক্টর পাঁচ-এর মার্কেট থেকে একটা আস্ত চিকেন রোস্ট আর সেক্টর নাইনের উৎকলিকা থেকে কাকিমার জন্যে একটা কটকী শাড়ি কিনে তুলিদের বাড়িতে পৌঁছিয়ে কাকুকে প্রায় হুকুমের স্বরে বললো জয়ি, আমার মার কাছে একটা খবর পাঠিয়ে দাও আজ রাত্তিরে ফিরবো না, তোমাদের বাড়িতে থাকবো। সারা রাত তুলি আর জয়ি কী যে গল্প করলো এত ! পরের দিন সকাল হতেই বড় একটা টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার-টাবার ভরে, দুজনের কাঁধের ব্যাগে কাগজ আর ছবি আঁকার সরঞ্জাম নিয়ে, বেরিয়ে গেলো দুজন।

    বাবাকে জিজ্ঞেস করলে সহজেই জানতে পারতো জয়ি ক্লাবটা কোথায়, কাকুও বলতে পারতো, কিন্তু না, কারোর জানার দরকার নেই। তুলি, একমাত্র তুলিই তার সাক্ষী থাকুক।

    তবুও, যেখানে যেতে চায় তার রাস্তাটা তো জানতে হবে, না হলে পৌঁছোবে কিভাবে? স্টীল প্লান্টে যে কেউই বলতে পারবে সাহেবদের ক্লাবটা কোথায়, কিন্তু সেটা জিজ্ঞেস করা চলবে না।

    স্থানীয় লোক! কোয়েল নদীর রাস্তা জিজ্ঞেস করে ওরা স্থানীয় লোকজনকে।

    কোয়েল নদীর ধারে? ধারে কোথায়?

    যেখানে কোয়েল মিলেছে শঙ্খের সাথে, কাছে একটা পাহাড় আছে, আর পাহাড়ে আছে একটা শিব মন্দির।

    পৌঁছে যায় ওরা। নদীর ধারে বসে কিছুক্ষণ। বাবার কাছে জর্মন সাহেব কাইয়ের প্রথম দেখা নদীটার যে বিবরণ শুনেছিলো মিলিয়ে নেয় তার সাথে জয়ি। নীল জল, মাঝে মাঝে সোনালি বালির চর, আর বালির চরে নদীর ঢেউ লেগে রাশি রাশি সাদা ফেনা। একটু দূরে দূরে বসে ওরা দুজন, তার পর ব্যাগ থেকে কাগজ বের করে ছবি আঁকে দুজনেই। আঁকা হয়ে গেলে যে যার ব্যাগে ভরে রাখে নিজের নিজের আঁকা ছবি, কেউ কাউকে দেখায় না। টিফিন ক্যারিয়ার খুলে খাবার নিয়ে খায় দুজন তারপর। খাওয়া হয়ে গেলে মন্দিরের দিকে হাঁটতে থাকে।

    সাবিত্রীর মেয়ে? – জয়িকে জিজ্ঞেস করে পুরোহিত।

    কী ভাবে জানলেন?

    কতদিন ধরে তোর অপেক্ষায় আছি দিদি, কী ভাবে জানলাম কিরে?

    আমার অপেক্ষায় ছিলেন? কেন?

    যার আসার কথা ছিলো, সে না এলে লোকে কী করে? কী করতে পারে? অপেক্ষাই করে শুধু, তাই না? তা ছাড়া বয়েস বাড়ছে, কবে মরে যাবো হঠাৎ করে, কী হবে তা হলে?

    জয়ি বলে, কেন আসার কথা ছিলো আমার?

    তুই কি জানিসনা সেটা? তা হলে এলি কেন? যাক্‌ গে ছাড়, এসে যখন পড়েইছিস, সব কথারই উত্তর পেয়ে যাবি। সঙ্গে তো কিছু নেই তোদের, দুজনকে দুটো কাপড় দিচ্ছি, আর গামছা। যা, নদীতে চান করে আয়। তারপর প্রসাদ দেবো, আর তারপর সব কথার উত্তর পেয়ে যাবি।

    কিন্তু আমরা তো খেয়ে নিয়েছি, খাবার এনেছিলাম সঙ্গে।

    ঠিক আছে, চান কর্‌ না, আবার খিদে পেয়ে যাবে।

    নদীতে চান করেনি কখনও আগে, আর তা ছাড়া পুরোহিত যে কাপড় দিয়েছে চান করার সময় তা পায়ে জড়িয়ে জড়িয়ে যায়। বেশি দূর যেতে সাহস হলো না ওদের। জলের মধ্যে প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো ওরা, নদী নিজেই ঢেউ পাঠিয়ে ছলাৎ ছলাৎ করে গায়ে আছড়ে পড়ে চান করিয়ে দিলো ওদের, আর আঁজলা করে জল তুলে দুজনে দুজনের গায়ে ছুঁড়ে ছুঁড়ে দিয়ে মজাও হলো খানিকটা। তারপর হেঁটে হেঁটে মন্দিরে ফিরতে ফিরতে খিদেও পেয়ে গেলো ওদের।

    গরম ভাত, ঘি আর চেনা-অচেনা নানারকমের শাকপাতা দিয়ে একটা তরকারি। গরম খাবার বেড়ে দিলেন পুরোহিত ওদের, কাঁচা শালপাতায়। শিব ঠাকুরের প্রসাদ এই? এই সব খান আপনার ঠাকুর রোজ?

    ঠাকুর কী আর খায় রে? যা খাব বলে নিজে ভাবি, সেগুলোই ঠাকুরকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাই; সে ভাত-তরকারি-আলু-কাঁচকলা, খাসি-খরগোস, আর গাঁজা-মহুয়া যা-ই হোক্‌! যেদিন যা জুটে যায়!

    মহুয়াও খায় আপনার ঠাকুর? – একসাথে জিজ্ঞেস করে তুলি আর জয়ি।

    পেলেই। ওই দেখ্‌ না ওখানে বোতল রাখা আছে।

    তাহলে আজ আমরা ঐ প্রসাদ খাব, বলে জয়ি।

    খাবিই তো, এক দিনের জন্যে এসেছিস, খাবি না?

    ওদের দুজনের খাওয়া হয়ে গেলে পুরোহিত খেয়ে নেয় নিজেও। তারপর এঁটো পাতাগুলো ফেলে দিয়ে জায়গাটা মুছে পরিষ্কার করে একটা খেজুর পাতার চাটাই পাতে। বলে, বোস্‌। আমি বলে যাই। যা তোর জানবার আছে, সবই বলবো। আর তার পরেও যদি বাকি থেকে যায় কিছু, জিজ্ঞেস করিস তখন। শোন্‌।

    যে নদীটায় চান করে এলি তোরা, সেটার আসল নাম ব্রাহ্মণী নয়, কোয়েল নয়, এমনকি শঙ্খও নয়। আসলে ওটা সরস্বতী, বেদে আছে। সেকালের সেই সরস্বতীই টুকরো টুকরো হয়ে আমাদের এই বিরাট দেশটায় এখানে ওখানে আলাদা আলাদা নাম পেয়েছে। যেটাকে এখানে লোকে বলে শঙ্খ, সেটা আসলে শুক্তি, শুক্তিমতী, মহাভারতের কালে সেটাই নাম ছিলো। আসলে শুক্তি কাকে বলে জানেনা তো এখানকার লোক, ঝিনুককে মনে করে ছোট শাঁখ; সেই থেকে শঙ্খ। আর ওই যে পাহাড়টা, যেটার কোলে এই শুক্তি নদী আজও শুয়ে আছে, ওটার নাম কোলাহল। শান্ত, নিস্তব্ধ পাহাড়ের নাম কোলাহল লোকে মানবে কেন বল্‌। ওই কোলাহল নামটাই ভাঙতে ভাঙতে লোকের মুখে কোয়েল হয়ে ঐ নদীটারই একটা অংশের নাম হয়ে গেছে এখন। কিন্তু আসলে কোলাহল ঐ পাহাড়টা, আর শুক্তি এই নদীটা। এতদিন ধরে কোলে শুয়ে থাকতে থাকতে শুক্তির গর্ভে কোলাহলের বাচ্চা হলো একটা, ফুটফুটে এক মেয়ে, চোখ জুড়োনো শ্যামলা তার গায়ের রং। পাহাড়ের ঠিক পেছনে যে রাজ্যটা, ওখানে রাজত্ব করতো যে রাজা তার নাম উপরিচর। যেমন তার চেহারা, তেমনই সে বীর। সোনার মতো তার গায়ের রং, দেবতাদের চেয়েও বেশি তার গায়ের জোর। উপরিচর, বুঝতে পারলি তো, যে উপরে চারণ করে, মানে আকাশে চলতে পারে। আসলে দেবতাদের রাজা ইন্দ্র তাকে খুশি করার জন্যে বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলো তার সঙ্গে, আর ঠিক নিজের পুষ্পক রথটার মতো একটা রথও উপহার দিয়েছিলো তাকে। ঐ রথের জোরেই সে আকাশে চলতে ফিরতে পারতো। এই নদীটা খুব প্রিয় ছিলো রাজার, নদীটার ওপর চক্কর মারতো প্রায় রোজই। একদিন চক্কর মারতে মারতে বাচ্চাটাকে দেখতে পেলো রাজা। তুলে নিয়ে গেলো তাকে। পাহাড়ের মেয়ে তো, তার নাম হলো গিরিকা। গিরিকা বড় হলো যখন রাজা উপরিচর তাকে বিয়ে করলো, আর সে হলো রাজার পাটরানি।

    পাটরানিকে একদিন ভারি ভালবাসতে ইচ্ছে হলো রাজার, বললো, রানি, চলো। শুক্তিমতী আমার প্রিয় নদী, চলো, সেখানে যাই, সেখানে গিয়ে খুব ভালোবাসি আমরা দুজনে দুজনকে। তো, নদীর মাঝখানে নদীকে উত্তাল করে নিজেদের ভালোবাসলো তারা, আর সেই ভালোবাসার উদ্দামতা এক প্রবল ঘূর্ণি তৈরি করলো নদীর বুকে। আজও যদি ঐ নদীর মাঝামাঝি দেখিস তো ঘূর্ণিটা দেখতে পাবি, আর দেখতে পাবি সোনার বরণ রাজা সোনার বরণ বালির চড়া হয়ে উদ্দাম ভালোবাসছে শ্যামলা নদীকে, আর তাদের ভালোবাসার ফেনা ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে, নদীর মধ্যে। তা-ই হলো, রানি গিরিকার গর্ভসঞ্চার হলো না, হলো ওই নদীর এক মাছের।

    সেই মাছ একদিন ধরা পড়লো এক মাছ-ধরিয়ের জালে। মাছটা কাটতেই তার পেট থেকে বেরোলো ভাইবোন, ফুটফুটে এক মেয়ে, গিরিকার চেয়েও গাঢ় শ্যামলা তার গায়ের রং, আর ঝাঁকড়া চুলের অপরূপ স্বাস্থ্যবান এক ছেলে, বোনের মতই শ্যামলা। খবর পেয়ে রাজা বললো মাছ-ধরিয়েকে, ছেলেটা আমাকে দাও, আর মেয়ে তোমার। সেই ছেলে বড় হয়ে হলো রাজার সেনাপতি, মাছের পেটে হয়েছিলো তাই তার নাম মৎস্য, ধনুর্বিদ্যায় তার সমকক্ষ কেউ হয়নি আজ পর্যন্ত, অর্জুন হিংসে করেছিলো তারই এক বংশধরকে। আর মেয়েটার কী হলো? বাপ-সোহাগী মেয়েকে তার মাছ-ধরিয়ে বাপ চোখের আড়াল করতো না কখনো। তার নাম দিলো সে সত্যবতী, আর নিজের নৌকোতেই সব সময় সঙ্গে রাখতো তাকে, আর মাছ ধরতো এই শুক্তিমতীতেই।

    যেখানে বসে এখন গল্প করছি আমরা, এই পাহাড়ের এই গুহাটাতেই তখন সাধনা করতেন এক ঋষি, নাম পরাশর। তিনি একদিন সত্যবতীকে নৌকোতে দেখে পাগল হয়ে গেলেন, ওই মেয়েকে চাই তাঁর। কিন্তু বাপ তো আগলে রাখে মেয়েকে সর্বক্ষণ, তাকে আলাদা করে পাওয়া যায় কী করে ! একদিন সুযোগ পাওয়া গেলো। বাপের কাজ ছিলো কোথাও, মেয়েকে বললো আমি একটু আসছি, যদি পারাপার করতে চায় কেউ, কাজ চালিয়ে নিস। নৌকোতে উঠলেন পরাশর, নিজের ইচ্ছের কথা বললেন সত্যবতীকে। এমন ঋষিকে কোন্‌ মেয়ে না চায় বল্‌ ! কিন্তু লোকে যে দেখতে পাবে, বললো সত্যবতী। পরাশর বললেন, নৌকো নিয়ে চলো সামনের ঐ চড়ায়। চড়ার চারদিকে জল, যেন ছোট একটি দ্বীপ। সেই দ্বীপে কুজ্ঝ্বটিকা সৃষ্টি করলেন পরাশর মায়াবলে, সত্যবতীর গর্ভসঞ্চার হলো। যে সন্তানের জন্ম দিলো সত্যবতী, সে মায়ের চেয়েও কালো। দ্বীপে হয়েছিলো তাই সে দ্বৈপায়ন, কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। মহাভারত রচয়িতা কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস নামে সারা ভারত তাকে চেনে। এই গুহাতেই সে সাধনা করতো, তাই এই গুহার নাম বেদব্যাস।

    এই পর্যন্ত বলে মহুয়ার একটা বোতল খুলে একটুখানি মহুয়া দিয়ে গলা ভিজিয়ে নিলো পুরোহিত, তারপর বললো, এখানকার মানুষ যারা, যারা এখানে সেই মহাভারতের কাল থেকে আছে তাদের দিকে তাকিয়ে দেখিস। অন্ধকারের মতো কালো এখানকার মেয়েগুলোর দিকে ভালো করে তাকিয়েছিস কখনো? সত্যবতীর মেয়ে ওরা সব, বড় বড় মুনি-ঋষির মাথা ঘুরিয়ে দেয় ওরা ! আর যাদের দিকে তাকিয়ে মাথা ঘোরে ওদের নিজেদের, তাদের দেখেছিস? ঝাঁকড়া চুলের কালো কালো ছেলেগুলো সবাই এক একটা সেনাপতি হবার ক্ষমতা রাখে, এমন অব্যর্থ লক্ষ্য ওদের তীর ধনুকের। কত রাজার, কত দেবতার, কত মুনিঋষির রক্ত ওদের গায়ে ! ওদের জাত নেই, কতো রাজা-রাজরা তো চেষ্টা করলো, ওদের কালো রঙের শরীরগুলোকে বদলাতে পেরেছে কেউ !

    তারপর সোজাসুজি জয়ির দিকে তাকিয়ে বলে চলে পুরোহিত, তোর মা সাবিত্রীর বাপ ছিলো বামুন। আমারই মতো বামুন, কিন্তু বামুন তো! তার নাম চৈতন্য পণ্ডা, পণ্ডা বলে কথা! হেমন্তকে দেখে ভারি পছন্দ তার। হবে না পছন্দ, সত্যবতীর আর এক মেয়ে যার মা! কিন্তু ঐ, জাতের বাধা! বলে, বামুনের মেয়ের কি যার তার সাথে বিয়ে হয়! তো মহাভারতের কাহিনীটা বললাম তাকে। শুনে খুব খুশি। এমন ভালো জামাইটা হাতছাড়া হচ্ছিলো! আর তোর বাপকে বলতে তো এক পায়ে খাড়া! তোর মার যা রূপ তখন! বিয়েটা তো আমিই দিলাম, এই মন্দিরে।

    কী ভালোবাসতো তোর বাপ আর মা দুজনে দুজনকে। দেখে সবাই খুশি। দুবছর পরে যখন তুই এলি, সুখের আর অন্ত নেই। তারপর এলো তোর ভাইটা। বোন্টি।

    অতটা ছেলেমানুষ তুই নেই আর যে বোন্টিকে নিয়ে একটা গণ্ডগোল যে আছে সেটা বুঝিস না। কিন্তু হলো কী ভাবে? কেন? আর তার পরেই বা কী হলো?

    আমি যতটা জানি, হেমন্ত কিছু বলেনি সাহেবকে। বলবে কেন? শুনেছি সে যার ছেলে সে রীতিমতো ইংরিজি-টিংরিজি বলা মানুষ। বাঙালি ভদ্দরলোক। সাহেবকে বলে লাভ কি? তাতে নিজেরই মান-সম্মান নিয়ে টানাটানি।

    তোর মাকে আলাদা করে কিছু বলেছে কিনা জানে শুধু সে আর তোর মা। চেঁচামেচি করেনি, মারধোরের কোন ব্যাপার হয়নি, এ সব আমরা জানি। সে শুধু একটাই শাস্তি দিয়েছে তোর মাকে। চরম শাস্তি। অনবরত গর্ভ হয়েছে তার, ছুটি দেয়নি। আঁতুড় থেকে বেরোতে-না-বেরোতে আর একটা! তারপর আর একটা! চার নম্বরটা জন্মাবার পর এক সপ্তা' বাদে মারা গেলো, তার ঠিক পরেই আর একটা! তোকে আর বোন্টিকে বাদ দিলে যে চারজন বেঁচে আছে এখন, তাদের পরেও একটা হচ্ছিলো; সেটা পেটের মধ্যেই মরে, তোর মা-ও মরছিলো, এখানকার ডাক্তারবাবু শুধু অনেক চেষ্টায় তোর মাকে বাঁচিয়েছেন তা-ই নয়, তার পেটের সবকিছু কেটেকুটে বাদ দিয়ে দিয়েছেন, আর কখনো বাচ্চা হবে না!

    এত রাগ! এমন ঠাণ্ডা মাথার প্রতিশোধ! এমনকি সাহেবের সাথেও তার ব্যবহার বদলায়নি একটুও। তারই গাড়িতে একসাথে বেরোয়, সব কাজ হাসিমুখে করে!

    একটা ক্ষমা চাইবার সুযোগও দিচ্ছিলো না সাহেবকে। সাহেব একদিন আমাকে বললো, এক দিনের ভুল! তখন সাবিত্রীর চেহারা যা ছিলো, পরাশর মুনিরও মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারতো। আর, সাহেব নিজে! তার চলন-বলন-চেহারা, সে তো রাজার মতোই! এক দিন, এক মুহূর্তের ভুল দুজনেরই! সাহেব আমার হাত ধরে বলেছিলো, তুমি ওকে বোলো সাবিত্রীকে যেন ভুল না বোঝে ও। আর, ছেলেটাকে তো নিয়েই যাবে ঠিক করেছিলো, নিজের নামটাও দিতো তাকে।

    এর মধ্যে প্লান্ট প্রায় হয়ে এসেছে। জর্মন সাহেবরা একে একে চলে যেতে শুরু করেছে। দুজন বড় বড় ম্যানেজারকে পাঠিয়ে দিয়েছে দিল্লী থেকে সব কিছু বুঝে নেওয়ার জন্যে। তাদের মধ্যে একজন, সেনাপতি বোধ হয় নাম, ফ্যামিলি আনেনি, সে ক্লাবে ঘর নিয়েছে একটা। তখন তো ঠিক ছিলো তোর বাপকে ম্যানেজার করবে ক্লাবে, জর্মন সাহেব নিশ্চয়ই সেনাপতিকে বলেও দিয়েছে সে কথা। তো, তোর বাপের সঙ্গে খুব জমে গেলো তার। কাজের অবসরে দুজনে গল্প করে, ঘুরে বেড়ায়, দিব্যি!

    লোকটা শুনেছি এ দিকেরই লোক, এখানে চেনে-টেনে অনেক কিছু। একদিন আমার মন্দিরে পুজো দিতে এলো, দেখলাম গুহার নাম বেদব্যাস কেন তা জানে, নদীর ঘূর্ণিটার ব্যাপারে যে গল্পটা এখানে চালু, তা-ও জানে, ওরাওঁরা কোথায় থাকে, মুণ্ডাদের গ্রাম কোনটা, জানে অনেক কিছুই। কিন্তু লোকটাকে আমার ভালো লাগলো না। এমনিতে বোন্টির মাথার চুলটা দেখলে যে কোন লোকেরই একটু ধন্দ লাগবে, কিন্তু, আমি ওর বাপের বয়েসি, আর তোর বাপের সঙ্গেও ওর ভাবসাব আছে, সেখানে তোর মাকে নিয়ে আমার কাছে একটা বাজে রসিকতা করারও চেষ্টা করলো! আমি অবিশ্যি পাত্তা দিলাম না, বলিওনি কাউকে, কিন্তু ভালো লাগলো না আমার। আর তার ঠিক কয়েকদিন পরেই, হেমন্তকে বোধ হয় কোথায় একটা পাঠিয়েছে জর্মন সাহেব, রাতে সে ফেরেনি, পরের দিন ভোরবেলায় তোর মা কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছে হাজির। ওর নিজের বাপ তো মারা গেছে কয়েক বছর আগে, আমিই ওর বাপের মতো তখন, আমাকে বললো ভোরবেলা সবায়ের জন্যে বেড-টি তৈরি করছিলো ও, সেনাপতি হঠাৎ রান্নাঘরে ঢুকে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করছিলো। ও কোনরকমে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আমার কাছে দৌড়ে এসেছে। আমি ওকে আমার কাছে বসিয়ে রাখলাম কিছুক্ষণ। আমি তো জানি তোর বাপকে কী ভয় করে তোর মা, সে ফিরলেও তাকে বলতে সাহস পাবে না ও। আমি বোঝালাম, ও যেন কিছুতেই এটা চেপে না যায়, হেমন্ত এলে তাকে বলে যেন। আমি নিজে বলতে পারতাম, কিন্তু ওরই বলা ভালো।

    আমি জানিনা তোর মা বলেছিলো কিনা। দেখলাম তোর বাপের ব্যবহারে কিছুই বোঝা গেলো না, সেনাপতির সঙ্গে আগের মতোই কথাবার্তা, ঘোরাঘুরি, সবই।

    তার পরের রোববারেই একটা ভয়ঙ্কর কাণ্ড হলো এখানে। সকালে জলখাবার খাওয়ার পর নদীতে চান করতে গিয়েছিলো ঐ জর্মন সাহেব আর হেমন্ত। খুব যে নির্জন ছিলো নদীর ধারটা তা-ও নয়। চান-টান করছিলো দুয়েকজন, হাঁটাহাঁটিও করছিলে কেউ কেউ। হঠাৎ দেখা গেলো সাহেব খুব জোরে সাঁতার কেটে নদীর মাঝখানে চড়াটার দিকে যেতে যেতে, হঠাৎ বাঁ দিকটায় ঘুরে সোজা ঘূর্ণিটার মাঝখানে গিয়ে পড়লো। কয়েক পাক ঘুরেই তলিয়ে গেলো সে। তোর বাপ অনেকটা দূরেই ছিলো, সে তাকিয়েই রইলো দৃশ্যটার দিকে। যারা চান করছিলো, তারাও। কিছুই করা গেলো না। পরে পুলিশ এসেছিলো, দুদিন পর দেহটাকে পাওয়া গেলো। কাটাছেঁড়া করে সন্দেহের মতো কিছু পেলো না পুলিশ। দুর্ঘটনা বলে ব্যাপারটাকে মেনে নিলো সবাই।

    আমি শুনেছি মানে নি একজন। সেনাপতি। সে অনেককে বলেছে তোর বাপই খুন করেছে সাহেবকে। আর ঘটনাটা যেদিন ঘটেছে সেদিনই ক্লাব ছেড়ে জর্মন কলোনিতে একটা বাংলোতে গিয়ে উঠেছে ও। ক্লাবের ম্যানেজারিটাও তোর বাপ পায়নি, আর আমি শুনেছি প্লান্টেও তোর বাপকে চাকরি পেতে দেয়নি ও।

    পুরোহিত থামতে জয়ি বললো, আপনার কী মনে হয়, সাহেবের মৃত্যুর জন্যে বাবা দায়ী?

    ও তো ঘূর্ণির থেকে অনেক দূরে ছিলো, নদীতে যারা ছিলো তারা সবাই যা বলেছে তাই বললাম তোকে। কী করে
    বলি!

    সাহেব জানতো বাঁ দিকে একটা ঘূর্ণি আছে? সেনাপতি তো জানতো, কিন্তু সাহেব?

    আমি কী করে বলি বল্‌।

    পুরোহিতের কথা শেষ হবার পর জয়ি বললো, মহুয়াটা কিন্তু আমরা খাবো দাদু, দুজনেই খাবো।

    কোন কথা না বলে মহুয়ার বোতলটা এগিয়ে দেয় পুরোহিত, বলে, আস্তে আস্তে খাস, তাড়াহুড়ো করিস না।

    নিঃশব্দে মহুয়ার বোতলটা শেষ করে দুজন, তারপর হাঁটতে হাঁটতে আবার নদীর ধারে।

    কিছুক্ষণ কোন কথা বলে না কেউ, তারপর প্রায় আপন মনেই বলে জয়ি, তাহলে আমাকে আমার মার মতো দেখতে!

    তুলি বলে, তোর বাড়িতে তো কখনো নিয়ে যাসনি আমাকে, কাকিমাকে দেখিনি কখনো। তবে, কাকুর মতো দেখতে নোস তুই একেবারেই।

    সেই তো, সত্যবতীর লেশটুকুও নেই আমার মধ্যে, আজ তার প্রমাণ পেলাম, অচেনা দাদুটা দেখেই বললো সাবিত্রীর মেয়ে। তুই লক্ষ্য করেছিলি, বাবার কথা বলতে গিয়ে বললো সত্যবতীর মেয়ের ছেলে, আমি সত্যবতীর কেউ নই তাহলে! তবুও জোর করে সরকারি কাগজে সত্যবতীরই পরিচয়!

    তুলি জবাব দিলো না। চুপ করে বসে রইলো নদীর দিকে তাকিয়ে। কিছুক্ষণ পর শুনলো জয়ি গাইছে, প্রায় গুনগুন করে, ঘাটে বসে আছি আনমনা যেতেছে বহিয়া সুসময়/ সে বাতাসে তরী ভাসাব না যাহা তোমা পানে নাহি বয় !

    দুটো লাইনই বারবার করে গাইছে জয়ি, বারবার! তারপর হঠাৎই তুলিকার দিকে ফিরলো, একটা গান গা তুলি। তুলিকে যেন ভাবতেই হলো না, গেয়ে উঠলো, আমার গোধূলিলগন এল বুঝি কাছে গোধূলিলগন রে/বিবাহের রঙে রাঙা হয়ে আসে সোনার গগন রে। তুলি যখন গাইছে, আমার দিন কেটে গেছে কখনো খেলায়, কখনো কত কী কাজে/এখন কী শুনি পূরবীর সুরে কোন্‌ দূরে বাঁশি বাজে, হঠাৎ তুলির হাত চেপে ধরে জয়মালিকা, আর গাস না তুলি, গাস না আর। পূরবী হোক আর যাই হোক, নতুন বাঁশির সুর শুনেছি আমি, আমার ঠাকুরদা বাঁশির সুরে সত্যবতীকে পেয়েছিলো, দেখি এই বাঁশি কোথায় নিয়ে যায় আমাকে!

    (ক্রমশঃ)

    আলোকচিত্র, গ্রাফিক্সঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক, সায়ন কর ভৌমিক
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ১০ অক্টোবর ২০২০ | ২৮১ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রঞ্জন | 122.176.242.150 | ১০ অক্টোবর ২০২০ ১০:২৬98221
  • পড়ছি। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন