• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • বৃত্তরৈখিক (২৮)

    শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৩ এপ্রিল ২০২১ | ৮৭৪ বার পঠিত
  • ~২৮~

    যখন ঘড়িতে ঠিক চারটে, জয়ির ফোনটা এলো।

    এমনিতেই উসখুস করছিলো সুদেশ, অফিসে ভালো লাগছিলো না। জয়িও বললো, অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ো। অ্যাকাডেমী পর্যন্ত চলে এসো একটা ট্যাক্সিতে। আমি ততক্ষণে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাবো।

    অ্যাকাডেমীতে প্রাইভেসি পাওয়া মুশকিল। ঠিক জয়ির চেনা কেউ-না-কেউ বেরিয়ে পড়বে। গত কয়েকদিনের খবরের কাগজের কল্যাণে এখন ও একটু বেশিই প্রমিনেন্ট। সুদেশ বললো, চলো গঙ্গার ধারে যাই।

    প্রিন্সেপ ঘাটের সিমেন্টের বেঞ্চে বসতে-না-বসতেই জিজ্ঞেস করে জয়ি, নন্দলাল পুরস্কারের ব্যাপারে কিছু শুনেছো তুমি?

    নন্দলাল পুরস্কার?

    হ্যাঁ, এই কদিনে শুনলাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার নাকি শিল্পে নতুন একটা বার্ষিক পুরস্কার চালু করছে নন্দলালের নামে। খুব প্রেস্টিজাস অ্যাওয়ার্ড হবে।

    হ্যাঁ, সরকারি অ্যাওয়ার্ড, তা-ও নন্দলালের নামে, প্রেস্টিজাস তো হবেই।

    এ বছর ঐ অ্যাওয়ার্ডটা আমার চাই।

    চাই মানে?

    চাই মানে চাই। এই এগজিবিশনে আমার বেশ নামডাক হয়েছে এই কদিনে বুঝতে পারলাম। এখন আমার নাম রেকমেণ্ড করলে আমি পেয়ে যাবো।

    কিন্তু কে রেকমেণ্ড করবে?

    সেটাই তোমাকে বলছি। আমি শুনেছি যে কমিটি তৈরি হয়েছে তাতে শুভেন্দুদা আছেন, আরও যাঁরা আছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভূদেবদার বন্ধু। তুমি ভূদেবদাকে রিকোয়েস্ট করো আমার নাম রেকমেণ্ড করতে।

    মানে? আমি করবো? আর আমি করলে ভূদেবদা মানবেনই বা কেন?

    ভূদেবদা মানবেন না, না তুমি বলবে না?

    কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে সুদেশ। তারপর একটা বড়ো শ্বাস ছেড়ে বলে, সম্ভবত দুটোই।

    তুমি বলা সত্বেও ভূদেবদা মানবেন না – এই বাক্যে সম্ভবত শব্দটা জুড়ে দিলে তবুও একটা অর্থ আছে, কিন্তু তোমার বলার ব্যাপারটায় সম্ভবত কথাটা যে একেবারেই অর্থহীন সেটা তুমি মানবে আশা করি। হয় তুমি বলবে, না হয় তুমি বলবে না। কোন্‌টা ঠিক?

    তোমার এই প্রশ্নটার সরাসরি উত্তর দেওয়ার আগে ভূদেবদার মানা অথবা না-মানার ব্যাপারটা সেরে ফেলি। ভূদেবদা অত্যন্ত ভালোভাবে চেনেন আমাকে। আমি কী পারি কী না-পারি, কী বুঝি কী না-বুঝি, এসব ব্যপারে ভূদেবদার সম্যক ধারণা এবং স্পষ্ট মতামত আছে। ভূদেবদা জানেন আমি শিল্প-সাহিত্যের কিছুই বুঝি না, কাজেই শিল্প-সাহিত্যে কে কতোটা পারদর্শী, কার কতোটা উৎকর্ষ, এসব ব্যাপারে কোন কথা বলার এক্তিয়ার আমার নেই। এবং সেই যে আঠেরো বছর বয়েসে পাস কোর্সে বি-এ পাশ করার পর বেঙ্গল লেদার্সে ঢুকে গিয়েছিলুম আর আজও ভূদেবদার মতো বিদগ্ধ এবং সৃষ্টিশীল মানুষের আস্থাভাজন হয়ে কাজ করছি, এর প্রাথমিক শর্তটাই হলো এক্তিয়ার-বহির্ভূত বিষয়ে নাক না-গলানো। এখনো যদি তোমার উত্তরটা পাওনি বলে মনে হয়, তাহলে এবার স্পষ্ট করেই বলছি, আমি এ ধরণের রিকোয়েস্ট করতে পারবো না।

    তুমি রিকোয়েস্ট না করলে আমি কী অ্যাওয়ার্ডটা পাবো না বলে তুমি মনে করো?

    ঠিক তার উল্টো, জয়ি। আমি জানি কেউ-না-কেউ তোমার জন্যে কোথাও-না-কোথাও রিকোয়েস্ট করবেই, আর অ্যাওয়ার্ডটা তুমি সম্ভবত পেয়েও যাবে।

    মানে? তুমি কী ব্যঙ্গ করছো নাকি?

    জয়ির এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সুদেশ বলে, আমিই তোমাকে একটা প্রশ্ন করি জয়ি। তোমাকে প্রধান চরিত্র করে কেউ যদি একটা উপন্যাস লেখে, তাহলে উপন্যাসটা কেমন দাঁড়াবে বলে তুমি মনে করো?

    আমি তোমার এইরকম খাপছাড়া অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের অর্থ বুঝতে পারছি না।

    খাপছাড়া নয়। আমি যতজনকে চিনি তার চেয়ে অনেক বেশি সাহিত্যিককে তুমি চেনো। বড়ো বড়ো ঔপন্যাসিকরা যখন উপন্যাস লেখেন তখন অনেক সময় তাঁদের আশপাশের চেনা মানুষরা চরিত্র হিসেবে তাঁদের উপন্যাসে ঢুকে পড়ে; কখনো কখনো কোন চেনা ইন্টারেস্টিং মানুষকেই প্রধান চরিত্র বানিয়ে উপন্যাস লেখেন ঔপন্যাসিকরা। ভালো ভালো উপন্যাস তো আসলে জীবনেরই ছায়া। জীবনের অজস্র বাঁক, না-জানা হাজার রকমের জটিলতা, ব্যক্তি-মানুষের নানারকমের দ্বন্দ্ব, জীবনের নানা ওঠাপড়া, উপন্যাসটায় তখন প্রাণ এনে দেয়। আমি ভাবছি তোমাকে ঘনিষ্ঠ ভাবে যাঁরা চেনেন, তাঁরা যদি তোমার কাহিনীকে উপন্যাসের রূপ দিতে চান তাহলে কেমন দাঁড়াবে উপন্যাসটা?

    তোমার চোখে কী আমি খুব জটিল? খাপছাড়া? হঠাৎ হঠাৎ আচমকা বাঁক তৈরি করে নিজের জীবনকে প্রবাহিত করে চলেছি?

    ঠিক তার উল্টো জয়ি। তোমার মতো এমন ওঠাপড়াহীন, মসৃণ-সমতল, জল ঢেলে দিলে ঠিক ঠিক যতটুকু চাই জলের ততটাই বিস্তার – বাস্তবে এরকম চরিত্র দেখাই যায় না প্রায়। যিনি তোমাকে নিয়ে উপন্যাস লিখবেন তিনি অবাস্তবতার দায় সামলাতে পারবেন না।

    মানে?

    বলছি জয়ি, বলবো। কথাটা উঠলোই যখন, বলে ফেলাই ভালো। ধরো, শৈশব থেকেই শুরু করা যাক। তোমার বাবার জীবনটা তো সংগ্রামে ভর্তি। আদিবাসী-বনে-যাওয়া ভদ্রলোকের সন্তানের ভবিষ্যত যে অনিশ্চিত হবে সেটাই তো স্বাভাবিক। যৌবনের শুরুতে বারশুঁয়ায় অনিশ্চিত জীবন শুরু করে জর্মন সাহেব কাইয়ের সাথে বন্ধুত্ব পর্যন্ত
    হাতের-কাছে-যা-পাই-ধরণের নানারকমের কাজ করতে করতে মোটামুটি থিতু হবার একটা অবস্থা যখন প্রায় নিশ্চিত, তখন আবার অনিশ্চয়তার শুরু নতুন করে। এ সব নিয়ে ফেনিয়ে লাভ নেই, তোমার কাছ থেকেই শুনেছি আমি। কিন্তু দেখো, স্টীল প্লান্টের শহরে যেমন-তেমন যা-ই হোক, মোটামুটি স্থায়ীভাবে থাকার একটা জায়গা পাওয়া গেলো। তোমার বাবার জন্যে নয়, তাঁর জীবন সংগ্রাম চললো অবিরত নানা ঘাটে, কিন্তু তোমাদের জন্যে। আর, আশ্চর্যের আশ্চর্য, তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে একটা ভালো, বড়লোকি স্কুলে পড়া দিয়ে জীবন শুরু করলে তুমি, যে স্কুলের পড়া ভবিষ্যতে যে-কোন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে প্রত্যয়ী কথা বলার দক্ষতা তৈরি কোরে দেবে তোমার মধ্যে। কাউকে এ স্কুলের ও স্কুলের দরজায় দরজায় ঘুরতে হলো না, এ-কোচিং সেন্টার সে-কোচিং সেন্টারে ঘোরাঘুরির টেনশন নয়, মোটা মাইনের স্কুলের খরচ কে দেবে এ-সব ব্যাপারে কোন দুর্ভাবনা নয়, জীবনের শুরুর প্রথম পদক্ষেপটা তোমার বেশ দৃঢ়ই হলো। সহজেই। তুমি ছবি আঁকার প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলে, হয়তো পিতৃসূত্রও ছিলো তার পেছনে, সেটা আবিষ্কার করলেন স্কুলের ড্রয়িঙের টীচার। স্টীল প্লান্টের শহরে তোমার পারিবারিক অবস্থান সম্ভবত জানতেন তিনি, তাঁর ভালোলাগার কথাটা তোমাকে বলার প্রয়োজনও মনে করেননি তিনি। কিন্তু বললেন যাকে, তোমার একজন-হয়ে-ওঠার প্রয়াসে এযাবৎ তার এবং তার পরিবার-আত্মীয়স্বজনের কী অবদান তা কী ভেবে দেখেছো কখনো?



  • বন্ধুকে বন্ধু এবং তার পরিবার সাহায্য করবে না – এটাই হওয়া উচিত ছিলো তুমি বলতে চাও?

    কোনরকমের ঔচিত্য নিয়ে আমি কোন কথাই বলতে চাইছি না জয়ি। আমি যেটা বলতে চাইছি সেটা হলো বাস্তবে সাধারণত কী হয়, আর তোমার ক্ষেত্রে কী হলো ! দেশী-বিদেশী নানা আর্টের বইয়ের সাথে তোমার প্রথম পরিচয় যিনি করিয়ে দিলেন, সত্যি করে বলতে গেলে আর্টের প্রথম সীরিয়স পাঠ যিনি তোমাকে দিলেন, তিনি তুলির বাবা ! তাঁর কাছে তুমি পৌঁছিয়ে গেলে কী করে ! কোন্‌ ম্যাজিকে ! তোমার প্রতিভার কথা মিসেস পাণ্ডের তুলির কাছে বলাটাই তো একটা লাকি অ্যাকসিডেন্ট ছিলো, আর সেই অ্যাকসিডেন্টের জোরে তোমার পক্ষে তুলির বাবার আর একটি মেয়ে হয়ে ওঠা তো রূপকথার গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয় !

    শুধু শুরুটাই নয়, যখন তোমার বন্ধুরা কলেজে ভর্তি হয়েছে, আর তুমি নিজের খুশিমতো ছবি এঁকে চলেছো, ঠিক সে সময়ে, কলকাতা থেকে অত দূরে তোমার অতি আশ্চর্য পরিচয় ঘটে গেলো এমন এক জনের সাথে, যাঁর নামও তুমি তখন পর্যন্ত শোননি, কিন্তু তোমার ভবিষ্যত গড়ার প্রথম কাজটাই কোরে দিলেন তিনি। কখনো ভেবে দেখেছো শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো বাংলার একজন শ্রেষ্ঠ কবি এবং শ্রেষ্ঠ ভালোমানুষের সাথে তোমার পরিচয় ঘটে গেলো কীভাবে? আবার বলছি, কোন্‌ ম্যাজিকে? কেউ জানে না। শুধু এটাই লক্ষ্য করার, তোমার জীবনের এই সন্ধিক্ষণে এই প্রয়োজনটা খুব জরুরি ছিলো, অতএব, হয়েও গেলো !

    কলকাতায় এলে তুমি ওই কচি বয়েসে, একা একা। জীবনের নিয়মে তোমার তখন লড়াই করার কথা মাথার ওপর একটা ছাদের জন্যে। শক্তিদার মতো অগোছালো মানুষও প্রথম এই কথাটাই জিজ্ঞেস করেছিলেন, থাকবি কোথায়? জীবন-না-দেখা তোমার বয়েসী একটা মেয়ে একা-একা কলকাতায় ধ্বংসও হয়ে যেতে পারতো। ধ্বংস না হয়ে জীবনসংগ্রামে লড়েও যেতে পারতো কেউ কেউ, আর সেই লড়াইয়ে যারা জেতে, সেই মুষ্টিমেয়দের কাউকে কাউকে জীবন শেষ পর্যন্ত পুরস্কার দেয় প্রতিষ্ঠায়। কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে কী হলো জয়ি? ওই লড়াইটা দেখতেই হলো না তোমায় ! তুলিকার জেঠু-জ্যাঠাইমা হাজির !

    তোমার প্রতিভা ছিলো, বারবার বলছি জয়ি। প্রতিভা না থাকলে ভূদেবদার মতো অমন খুঁতখুতে লোক তোমার প্রথম ছবিটাই কিনে নিতেন না। আর শুধু ঐটুকু কেনাই তো নয়, কলকাতার লিট্‌ল্‌ ম্যাগাজিন ওয়র্ল্ডে আর বিজ্ঞাপন-ইলাস্ট্রেশনের জগতে তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে কতো মানুষের সাথে কথা বলেছেন শক্তিদা আর ভূদেবদা, তা তো তোমার চেয়ে বেশি কেউই জানেনা। শুধু ঐটুকুই নয়, তোমার প্রতিভার স্ফুরণের জন্যে বোধ হয় ঠিক ঐ সময়টায় একজনের প্রয়োজন ছিলো, এমন একজন যে তোমাকে ঠিক ঠিক দিশা দেখাতে পারবে, যে তোমার দক্ষতার পরের ধাপটায় তোমাকে নিয়ে যেতে পারবে হাত ধরে। নিখিলেশদার মাধ্যমে তোমাকে বিকাশ ভট্টাচার্যর কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন শক্তিদা। বিকাশ ভট্টাচার্যর মতো এ যুগের শ্রেষ্ঠ চিত্র-প্রতিভাদের একজন নিজে তোমার সাথে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন ছবি আঁকার পাঠ দিতে। এ কথা তুমিই আমাকে বলেছো জয়ি যে তোমার তা পছন্দ হয়নি। পালিয়েছিলে তুমি। বিকাশদা অবিশ্যি হাল ছেড়ে দেননি। আরও একবার পাকড়াও করেছিলেন তোমাকে, কিন্তু সে কথায় পরে আসছি। আসলে সে সময়ে ঠিক যে মানুষটাকে প্রয়োজন ছিলো তোমার – তুমি হয়তো নিজেও জানতে না সে কথা – সে মানুষটা এসে গিয়েছিলো, আবার বলছি, আশ্চর্য এক ম্যাজিকেই যেন ! তুমি অবিশ্যি মানুষটাকে কাজে লাগাওনি, কিন্তু সেটা অন্য গল্প !

    এর পরের দুবছর তুমি নিষ্ফলা ছিলে একথা বলবো না। কিন্তু সত্যি সত্যিই তেমন কিছু হচ্ছিলো না। এক-আধটা ছবি আঁকা এধার-ওধার, শাম্বর জন্যে বিজ্ঞাপন যোগাড় করা, আর অফুরন্ত আড্ডা। তুমি জনসংযোগও বলতে পারো, কিন্তু সে কথা থাক। অনেক, অনেকদিন পর বোম্বেতে মহেশের কাছে ওর রুনুপিসির কথা শুনতে শুনতে আমার, তোমার জীবনের এই সময়টার কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো। রুনুপিসিকে তাঁর বাবা জে-জে স্কুলের পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্যে পাঠিয়েছিলেন। কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা নয়, শুধু গ্রেট মাস্টার্সদের ছবি দেখা ! আমার তখন আফশোস হয়েছিলো তোমার ঐ দু বছরের কথা ভেবে। শুধু বিকাশদার মতো গাইডের সাহায্য তুমি যে নিলে না তা-ই নয়, যখন কফি হাউজে আর খালাসিটোলায় সময় নষ্ট করছো তুমি, তখন, গ্রেট মাস্টার্স না হোক, কলকাতাতেও যেসব কাজ দেখা যেত, দেখে শেখা যেত, সেগুলোর কাছাকাছিও যাওয়ার ইচ্ছে হলো না তোমার। কলকাতা শহরে কোন বড়ো শিল্পীর কোন এগজিবিশন কখনো তুমি দেখতে গিয়েছো বলে শুনিনি ! নিজের ওপর অখণ্ড আস্থা তোমার নিশ্চয়ই ছিলো, কিন্তু সচেতন শিক্ষাগ্রহণ হয়তো উপকারই করতো তোমার !

    যাই হোক, ঠিক এই সময়ে তোমার জীবনের একটা প্রধানতম ঘটনা ঘটবে যার খবর তোমার কাছে এসে গেলো হঠাৎই, টেলিফোনের তার-এ। যে চাকরিটা তোমার বাবার হওয়া উচিত ছিলো কিন্তু হয়নি, সেটা হলো তোমার। এতদিন তোমার ক্ষীণ ট্রাইবাল জন্মসূত্রটা, যা কেউ জানতোই না প্রায়, সেটাকেই নথিবদ্ধ করার জন্যে লড়ে গেলে তুমি। কেন লড়েছিলে বলতে পারবো না।

    সে তো বলতে পারবেই না তুমি। বলতে হলে আমার দূরদর্শিতার কথা স্বীকার করে নিতে হবে তো।

    হ্যাঁ, পিছিয়ে দেখলে মানতেই হবে ওটা তোমার দূরদর্শিতাই ছিলো। যদিও তখন তুমি জানতে কিনা আমি নিশ্চিত নই। কিন্তু মজাটা দেখো। যা চেয়েছিলে তুমি সেটা হয়ে গেলো কতো সহজেই। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পাওয়া গেলো তোমার বাবার এক্স-বস দরবেশ শাহ্‌কে, সে বেঁচেও ছিলো, বাইরেও যায়নি, তোমার জন্যেই অপেক্ষা করছিলো যেন। সাক্ষীর অভাব হলো না, তোমার বাবা যাকে চিনতেও পারেননি সেই বুধনের আবির্ভাব হলো ঠিক প্রয়োজনীয় মুহূর্তটায় ঠিক যেখানে দরকার, আর তারই সাহায্যে বীজবেরা আর চান্দোর নিশ্চিত সাক্ষ্যে জুটে গেলো এস-টি সার্টিফিকেট – তোমার বাবার আর তোমারও। তোমার বাবার নামটা বিশেষভাবে উল্লেখ করলুম তার কারণ আছে। এই প্রথম তোমার বাবার জীবনে প্রায় বিনা আয়াসে একটা কাজ হয়ে গেলো। এটাও যদি পিছিয়ে গিয়ে ভাবি, তাহলে দেখতে পাবো, তুমি যেটাকে দূরদর্শিতার ফল বলছো, সেই ফলপ্রাপ্তিটা তোমার যাতে সহজে হয় তাই বোধহয় তোমার বাবার ভাগ্যে এই শিকেটা ছিঁড়েছিলো !

    ভালো চাকরি, এতদিনে একটা মধ্যবিত্তসুলভ ভালো বাড়িও। কিন্তু তিন বছরের উপর কলকাতায় কাটানো, শাম্বর মতো একটা দাঁড়িয়ে যাওয়া লিট্‌ল্‌ ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠিত সম্পাদিকা, এবং উঠতি চিত্রশিল্পীর জীবনে এই স্টীল প্লান্টের নির্বাসন ! আবার দেখো, ঠিক সময়ে ঠিক লোকটি হাজির ! প্লান্টের পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টে নতুন একটা পোস্ট, পোস্টের অধিকারী ইচ্ছে করলেই কলকাতায় এসে কয়েকটা দিন কাটিয়ে যেতে পারে, এবার আর জেঠু-জ্যাঠাইমার বাড়িতে কিছুটা-হলেও-রেস্ট্রিক্টেড-মুভমেন্টের চিন্তা নেই, আরামদায়ক কোম্পানি গেস্ট হাউজে স্বাধীন জীবন ! সর্বোপরি, পকেটে যথেষ্ট পয়সা ! কে এক কাপ কফির দাম দেবে তা নিয়ে চিন্তার প্রয়োজন নেই !

    একটু কী একপেশে বিবরণ হয়ে যাচ্ছে না সুদেশ? প্লান্টের পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টের অ্যাসাইনমেন্টটা আমি পেয়েছিলাম আমার ছবির জোরে, সেই ছবি দেখে মিস্টার উপাধ্যায় যদি ইম্প্রেসড না হতেন, কাজটা কী হতো? ঠিক সময়ে কোন ব্যক্তি যদি সুপারিশ করেই থাকেন তিনি আমার বস, কিন্তু সামান্য হলেও আমার কন্ট্রিব্যুশনও ছিলো বোধ হয় ! তিনি যা করেছেন আমার কাজ দেখেই করেছেন।

    এই বিভ্রমটাই ঘটার কথা জয়ি। ঐ ঠিক সময়ে যে ঠিক লোকটার কথা বলছিলুম বারবার, কিছুদিন পর ঐ লোকটাকে আর দেখতে পাওয়া যায়না। তখন মনে হয় সবটাই আমি করেছি। আমার ট্যালেন্ট, আমার যোগ্যতা এতদিনে মূল্য পেতে শুরু করেছে, যা হচ্ছে সব আমারই সাধনার ফসল ! একবারও কী ভেবে দেখেছো এক-মানুষের পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টে এক কথায় আর একজনকে নিয়ে আসার মতো এতো বড়ো একটা সিদ্ধান্ত তোমার বসও, মানে মিস্টার উপাধ্যায়ও – অবিশ্যি তখনো তিনি তোমার বস হননি – নিতে পারতেন না? একজন জেনারাল ম্যানেজার যিনি এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন, তিনি কাজটা করেছিলেন আর একজন জেনারাল ম্যানেজারের অনুরোধে। এই দ্বিতীয় জেনারাল ম্যানেজারটি তুলির বাবা, তোমার কাকু ! ঠিক সময়ে উপস্থিত ঠিক মানুষটি ! হ্যাঁ, তোমার ছবিও নিশ্চয়ই ভালোই ছিলো। কিন্তু ঐ ঠিক মানুষটি ঠিক জায়গায় বলে না দিলে তোমার ছবি কী দেখতো কেউ?

    তুমি বোধ হয় আমাকে ভুল বুঝছো জয়ি, আমি তোমাকে একটুও ছোট করতে চাইছি না। তোমার জীবন তো আমি খুব কাছ থেকে দেখছি, তোমার সম্বন্ধে যতটুকু জানি সবটাই হয় আমার নিজের দেখা, আর নয় তোমার কাছ থেকে শোনা। ঘটনাগুলো পরপর সাজিয়ে দিলে একটা প্যাটার্ণ দেখা যায়, সেই প্যাটার্ণটাই তোমাকে দেখাতে চাইছি আমি। চাকরি পেয়ে এই যে দ্বিতীয় পর্যায়ে কলকাতায় এলে তুমি, তোমার সঙ্গে একটা সাধারণ কাগজে আঁকা না-বাঁধানো ছবি। ছবিটা মনে আছে তোমার? মার্কেট স্কোয়ারের আর্ট ফেয়ারে ওটা দেখাবার সখ তোমার। দেরি করে ফেলেছো, মাউন্ট করা নয়, বাঁধানো নয়, অর্গানাইজারদের কাউকে চেনোনা। তবু তোমার ছবিটা শেষ পর্যন্ত দেখানো হলো। প্রশংসা হলো খুব, বিক্রিও হয়ে গেলো। একই কথা বারবার শুনতে খারাপ লাগছে তোমার, কিন্তু হলো কীভাবে? কলকাতার শ্রেষ্ঠ চিত্রকর যিনি তখন, গণেশ পাইন, তোমাকে চেনেনই না, তোমার ছবিটা রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন নিজের ছবিগুলোর মধ্যে ! ঠিক সময়ে যেন কোন্‌ যাদুমন্ত্রে ঠিক মানুষটা হাজির হলেন !

    এই গণেশ পাইন আর বিকাশ ভট্টাচার্য তোমার মধ্যে নিশ্চয়ই বড়সড়ো প্রতিভার মুকুল দেখেছিলেন, ওঁরা চেয়েছিলেন সেটা ফুটুক। বিকাশদা তো জোর করে নিজের কলেজেও ভর্তি করে দিয়েছিলেন তোমাকে। তোমার প্রতিভা বিকশিত হবার জন্যে, আমার মনে হয়, ওঁরা দুজনেই ছিলেন ঠিক সময়ে হাজির ঠিক লোক দুজন। হয়তো তুমি ওঁদের দেখতে চাওনি, তোমার তাড়া ছিলো বড্ড। মুক্তমেলার ঘটনার কথা আমি মনে করিয়ে দিতে চাইনা তোমাকে, কিন্তু শক্তিদা আর কমল মজুমদার, দুজনেই তুমি যাতে দেখতে পাও তার চেষ্টা করেছিলেন, তোমার মনে আছে বোধ হয়। তোমার জীবনের এই জায়গাটাতে এসেই আমি বারবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি জয়ি। ভালো শিল্পী হওয়ার পণ ছিলো তোমার, তাই না ! অথচ, তোমার মধ্যে ভালো শিল্পীর সম্ভাবনা দেখে যে দিকপালরা এগিয়ে এলেন সাহায্য করার জন্যে, তাঁদের তুমি প্রত্যাখ্যানই করলে প্রায় !

    এর পর তুমি পাহাড়ি খাড়িয়াদের ছবি আঁকলে। লোককে ধরাধরি নয়, কারোর সুপারিশ নয়, এবার নিজেই নিজের ছবির এগজিবিশন করবে। তোমার কনফিডেন্স ছিলো ভালো কাজ হয়েছে, এই এগজিবিশনে তোমাকে চিনতে পারবে মানুষ। তোমাকে নিয়ে ভূদেবদার কাছে গিয়েছিলুম, ভূদেবদা উৎসাহ দেননি, কিন্তু পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছেন। যেমনটা ভাবা ছিলো, হলো না। তুমি আপসেট। আমিই তোমাকে তুলির কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলুম তখন।

    তোমার ঠিক সময়ের ঠিক লোক। তুলি আর তার বর মহেশ। ঝাঁপিয়ে পড়লো ওরা। শুভেন্দুদা পরে তোমাকে বলেছেন অ্যাগ্রেসিভ গ্যালারি-ওনার। কতোটা অ্যাগ্রেসিভ তা তো তুমি-আমি নিজেরাই দেখে এসেছি। বোম্বের এগজিবিশন উতরোলো না বলতে আমি রাজি নই। কিছু বিক্রি হয়েছে, প্রচুর পাবলিসিটি হয়েছে। একই কথা বলেছেন ভূদেবদাও। তুমি কিন্তু মনে মনে খুশি হওনি। এক তো, যতোটা বিক্রি হলে, হৈ হৈ হলে, তুমি খুশি হতে ততোটা হয়নি। কিন্তু আরও একটা কারণ ছিলো। ঐ ঠিক সময়ের ঠিক লোকটাকে দেখা যাচ্ছিলো। তোমার মনে হচ্ছিলো মহেশেরই শো। লোকটাকে, আসলে, এখনো দেখা যায়; তা না হলে এতদিন পরেও শুভেন্দুদার জহুরীর চোখ ঠিক লোকটাকে দেখতে পায় কী করে !

    এ সব কথা ছেড়ে দাও, এখন তো তুমি নিশ্চয়ই মানবে মহেশের গ্যালারির শো তোমাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে। নিলীনবাবু তো তোমাকে চিনতেনই না যদি না সর্বভারতীয় ইংরিজি কাগজটায় তোমার ছবি ছাপা হতো। নিলীনবাবুর বই আর সেই বইয়ের রিলীজের প্রেস কনফারেন্স এক লাফে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে তোমাকে। এস-টি স্টেটাসে খুশিঝোরার জমি-বাড়ি তো আগেই কেনা হয়ে গেছে তোমার, নিলীনের যোগাযোগে জলধর মুর্মু নামে এক অতি সক্রিয় যুবক তোমাদের সহযোগী হয়েছে; খবরের কাগজ পড়ে বুঝলুম ওরা, আর তোমার ছোটবেলার বন্ধুরা ঠিক সময়ে হাজির হয়ে প্রায় অবিশ্বাস্য গতিতে খুশিঝোরাকে এক অতি আকর্ষণীয় লোক-সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে প্রেজেন্ট করতে পেরেছে। তোমার জীবনের মসৃণতার কথা বলছিলুম আমি। আমার মা জীবনে পোড়-খাওয়া লোক। মা আমাকে প্রায়ই মনে করিয়ে দেয়, জীবনে যে মানুষের জন্যে তার বন্ধুরা সাধ্য অনুযায়ী বা প্রয়োজন হলে সাধ্যাতিরিক্ত টাকা-পয়সা খরচ করতে রাজি থাকে – এই টাকা-পয়সার ওপরেই বিশেষ কোরে জোর দেয় মা – সে-ই ভাগ্যবান, সে-ই প্রকৃত বন্ধু পেয়েছে। এই প্রকৃত বন্ধুদেরই আমি ঠিক সময়ের ঠিক মানুষটা বলি।

    আমি খুশিঝোরায় তোমার এগজিবিশন দেখতে যাইনি, ওখানে আমার প্রয়োজন ছিলো না। ঠিক যে যে মানুষের যে সময়টায় ওখানে প্রয়োজন ছিলো, তারা হাজির ছিলো যথাসময়ে। এই এগজিবিশন আর তার সাফল্য তোমাকে প্রায় সেলিব্রিটির স্তরে নিয়ে গেছে। গত একমাসের খবরের কাগজগুলো তার প্রমাণ। আকাশবাণীর কথাও আমি বলেছি তোমায়। তোমার এই সাফল্যে তোমার নিজের পরেই যার সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা, সে তো আমি। কিন্তু আমি কেমন একটা অস্বস্তিতে আছি জয়ি।

    কী অস্বস্তি জানো? সুয়োরানির ছেলে শেষ পর্যন্ত রূপকথায় হিরো হয়না, হিরো হয় দুয়োরানির দুঃখী ছেলেটা। যে রূপকথায় যেটা শেষ পুরস্কার, সেই সাত রাজার ধন এক মানিকটা অচিনপুরে যে সিন্দুকের মধ্যে লুকোনো আছে, তার কাছাকাছি তরতর করে পৌঁছিয়ে যায় সুয়োরানির ছেলে। কোন বাধাই তার কাছে বাধা নয়। বাধাগুলো অতিক্রম করতে গিয়ে, যে বাধাটির কাছে যে যাদুমন্ত্রটি দরকার, সেই যাদুমন্ত্র তার হাতের কাছে পৌঁছিয়ে দেবার জন্যে ঠিক ঠিক সময়ে ঠিক ব্যক্তিটি হাজির। দুয়োরানির ছেলে কিন্তু বহু কষ্টে, জীবনকে বাজি রেখে, লড়াই করতে করতে এক সময়ে পৌঁছোয় শেষ ধাপটার কাছে। আর এই শেষ ধাপে এসেই হেরে যায় সুয়োরানির ছেলে। যে অভিজ্ঞতা তার কখনো হয়নি জীবনে, সেই অভিজ্ঞতা হয় এইবার। কেউ নেই আশপাশে। তার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে গুপ্তিমন্ত্রটা বলে দেবে কে?

    এদিকে দুয়োরানির দুঃখী কিন্তু বীর ছেলেটা প্রত্যেকটা ধাপে মন্ত্র আহরণ করেছে লড়াই কোরে। লড়াইটা তার গা-সহা হয়ে গেছে এতদিনে। শেষ ধাপের লড়াইটাও সে বীরের মতোই করে, ছিনিয়ে নেয় শেষ পুরস্কারটা।

    নন্দলাল পুরস্কারটা তুমি পেয়ে যাবে জয়ী। হয়তো তার পরেও আরও কতকগুলো। ঐ পুরস্কারটা পাওয়ার জন্যে যে ব্যক্তিটিকে প্রয়োজন ঠিক যে মুহূর্তে, তুমি দেখো, সেই মুহূর্তে ঠিক সেই ব্যক্তিটি হাজির হয়ে যাবে। সে ব্যক্তিটি হয়তো ভূদেবদা ন'ন, অথবা হয়তো ভূদেবদা-ই ! কে জানে ! তুমি সরাসরি কথা বলে দেখতে পারো।

    কিন্তু আমি তো নই-ই ! – একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে সুদেশ।

    অনেকক্ষণ একটাও কথা না বলে শুনছিলো জয়ি, এবার উঠে দাঁড়ায়। তোমার প্রত্যক্ষ সাহায্য ছাড়াও এগজিবিশনটা যে উতরিয়ে গেলো, জয়ি বলে, এটা মেনে নিতে পারছো না? নাকি, কয়েকদিন ধরেই যে কথা ভাবছিলাম সেটাই সত্যি?

    কী ভাবছিলে?

    নিলীন যেদিন তোমার বাড়িতে এসেছিলো প্রথম আমার ছবিগুলো দেখতে, মনে আছে তোমার? কফি হাউজ থেকে ওকে ছেড়ে দিয়ে আমরা এসে বসেছিলাম কলেজ স্কোয়ারে, আমি ফিরে যেতে চেয়েছিলাম তোমার বাড়িতে, খেয়াল আছে? তুমি সেদিন আমাকে নিয়ে যেতে চাওনি। আমার কাছে তুমি একশো ছাপ্পান্নো – ঠিকই বললাম আশা করি – একশো ছাপ্পান্নো নম্বর সার্পেন্টাইন লেনের বাড়িটার বিস্তৃতি সম্বন্ধে একটি নাতিদীর্ঘ লেকচার দিয়েছিলে। প্রায় একশো বছর আগে তোমার যে পূর্বপুরুষ বাড়িটা হাঁকিয়েছিলেন তাঁর কথা উল্লেখ করেছিলে তুমি। নীল রক্তের দাপট কী এতই সহজে যাওয়ার সুদেশ? আদিবাসীর বংশধর, তোমাদের ভাষায়, সেলিব্রিটি স্টেটাসে পৌঁছিয়ে গেলে, অস্বস্তি তো হতেই পারে ! আর তা-ও যদি অন্তত তোমার অ্যাকটিভ সাহায্যে হতো ! ঠিক আছে, গুড বাই !

    সুদেশ উঠে দাঁড়ায়, ব্যাপারটা এতটা নাটকীয় হওয়ার দরকার নেই জয়ি। এখন তুমি উত্তেজিত আছো, ফলত কোন কথাই আমি বলবো না এখন। তোমাকে যে কাগজগুলো দিয়েছি, তার মধ্যে দিগন্ত নামের একটা সাপ্তাহিক পত্রিকা আছে। সেখানে তোমার ছবিসহ তোমার এগজিবিশনের একটা আলোচনা বেরিয়েছে। ওই আলোচনাটি আমি হাইলাইটার দিয়ে মার্ক কোরে রেখেছি। ওটা পোড়ো। চলো, আমরা এগোই।


    (ক্রমশঃ)

    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৩ এপ্রিল ২০২১ | ৮৭৪ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৩ এপ্রিল ২০২১ ১৮:৫৬104449
  • পড়ছি , একটা বাঁকের সামনে দাঁড়িয়ে।

  • Jol Dip | ০৯ এপ্রিল ২০২১ ১৬:২৩104557
  • টানা পড়ে গেলাম। অপূর্ব অপেক্ষায় রইলাম 

  • moulik majumder | ০৪ মে ২০২১ ২৩:২০105468
  • বিচক্ষণ লোক থাকতে হয় পাশে। ভেসে গেলে হয় না। অপূর্ব। 

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন