• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  শনিবারবেলা

  • বৃত্তরৈখিক (৭)

    শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়
    ধারাবাহিক | ০৩ অক্টোবর ২০২০ | ১১০৩ বার পঠিত
  • ~৭~

    দু-চার ঘর যজমান কালিকাপ্রসাদের, পুকুর দুটো, বসত বাড়ির সঙ্গে সংলগ্ন ছোট ফলের বাগানটাতে এক আধটা করে আম-কাঁঠাল-জামরুল-জাম, এবং গোটা আষ্টেক নারকোল গাছ। চাষের জমি কয়েক বিঘে, চাষ হয় ভাগে, খাওয়ার জন্যে ধান জুটেই যায় খানিকটা। ভালোই আছেন তিনি, এরকমটাই ভাবেন কালিকাপ্রসাদ। তাঁর অখণ্ড অবসর, এবং সেই অবসরে তিনি কবিতা লেখেন, সঙ্গীতচর্চা করেন, পালা রচনা করেন, এবং সখের যাত্রার দল চালান একটা। দিব্যি আছেন, ভগবানের কাছে চাইবার তাঁর কিছুই নেই আর ! সবচেয়ে বড় কথা হলো তাঁর স্ত্রীর কোল আলো করে তিনটি পুত্রসন্তান, আর কীই বা বয়েস, বেঁচে থাকলে আরও কত হবে ! কালিকাপ্রসাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান যদুগোপাল, বার বছর বয়েস এখন, তিন বছর আগে তার পৈতে দিয়েছেন, পাশের গ্রামের হরিসাধন কাব্যবিশারদের চতুষ্পাঠীতে সে পড়ে। এই একটি জায়গাতেই কালিকাপ্রসাদের ভগবানের উপর অভিমান। এমন সুদর্শন এবং মেধাবী পুত্রটির ভাবনাচিন্তা বুঝতেই পারেন না তিনি।

    সপ্তাদুয়েক আগে কাব্যবিশারদ এসেছিলেন তাঁর কাছে। তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন যতটুকু তাঁর নিজের পড়াশোনা, সবটাই তিনি শিখিয়েছেন যদুগোপালকে, নতুন করে তাকে শেখাবার তাঁর আর কিছুই নেই। এখন দু-চার দিন পিতার সহযোগী হয়ে যজমানদের বাড়িতে যাতায়াত করলেই স্বাধীনভাবে পৌরোহিত্যের বৃত্তি নিতে পারে সে। সে সুকণ্ঠ, তার উচ্চারণ স্পষ্ট, এবং সে গৌরবর্ণ। সুদর্শন ও বুদ্ধিমান ছেলেটি বিনা আয়াসেই যজমানের সংখ্যা বাড়াতে পারবে। আর তিন বছর পর কৈশোর পেরিয়ে বিবাহযোগ্য যুবক হয়ে উঠবে সে। কাব্যবিশারদের একটি ভাইঝি আছে, এখন পাঁচ বছরের, অতীব সুন্দরী, ততদিনে সে গৌরীদানের উপযুক্ত হয়ে উঠবে। এমন যুগল, যেন হরপার্বতীর মিলন হবে তখন !

    কাব্যবিশারদের প্রস্তাবের উত্তর না দিয়ে দ্রুত পায়ে অন্দরে চলে যান কালিকাপ্রসাদ, বেরিয়ে আসেন একটি ছাপানো পুস্তিকা হাতে: এই রকম বই কখনো দেখেছেন আগে, বিশারদ মশাই?

    বইয়ের আবার রকম কী, বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য আছে এ বইয়ের?

    হ্যাঁ, এর নাম পত্রিকা, এটি প্রবাসী, মাসিক, অর্থাৎ প্রতি মাসে একটি করে প্রকাশ করা হয়। পত্রিকার বৈশিষ্ট্য হলো শুধুমাত্র এক জন ব্যক্তি এর লেখক ন'ন, অনেকে লেখেন, নানা বিষয়ে। আপনি হয়তো মনে করছেন আর পাঁচটা ছাপানো বইয়ের মতো প্রবাসী পত্রিকাটিও কলকাতা থেকে এসেছে। তা নয়। প্রয়াগ, প্রয়াগ জানেন তো, সঙ্গমস্নানে যেখানে যান কোন কোন ভাগ্যবান। ইংরিজিতে প্রয়াগের নাম এলাহাবাদ। সেই এলাহাবাদ থেকে প্রতি মাসে প্রকাশিত হয় প্রবাসী। এই পত্রিকায় আমাদের জগত্তারিণী যাত্রা দলের কৃষ্ণার্জুন পালার সম্বন্ধে লিখেছে। সাকুরি গ্রামের প্রমথ বিশ্বেস কলকাতা গিয়েছিলো, সে পত্রিকাটি ওখানেই দেখে। আমাদের পালার কথা পড়ে সে কিনে এনেছে এটি। পড়ে দেখুন।

    পাঁচ-ছ লাইনের লেখাটুকু পড়লেন কাব্যবিশারদ: এই সংখ্যায় কলিকাতা নহে, যশোহর জেলার সারিখোল গ্রামের জগত্তারিণী যাত্রা দল অভিনীত কৃষ্ণার্জুন পালা আমাদের আলোচনার বিষয়। পালাটির বৈশিষ্ট্য হইল, শেষ পর্যন্ত এই পালায় স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বহু যুক্তিজাল এবং মায়াজাল বিস্তার করিয়াও অর্জুনকে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে প্রবৃত্ত করিতে পারেন না। উপসংহারটি অসমাপ্ত থাকিয়া যায়। ভাঙা-পয়ারে সম্পূর্ণ পালাটি গ্রথিত, পালাকার জগত্তারিণী যাত্রা দলের প্রাণস্বরূপ স্বয়ং কালিকাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়। অর্জুনের ভূমিকায় তিনি নিজেই অভিনয় করিয়াছেন, শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকায় শ্রীসাক্ষীগোপাল কর্মকার ভাল গাহিয়াছেন।

    এ তো কোন নতুন কথা নয় বাঁড়ুজ্জে মশাই, পত্রিকার লেখাটি পড়ে মন্তব্য করেন কাব্যবিশারদ, কিন্তু যদুগোপালের ভবিষ্যতের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?

    সম্পর্ক বুঝলেন না আপনি? দেখুন, ব্রাহ্মণসন্তান হয়েও আমি প্রায় মূর্খ। আমার পিতৃদেবের যাবতীয় উপদেশ অগ্রাহ্য করে আমি পড়াশোনায় এতটুকুও মন দিই নি। ভঞ্জচৌধুরিদের সভাপণ্ডিত ছিলেন আমার পিতৃদেব, কিন্তু আমি সংস্কৃত প্রায় শিখলামই না, শৈশব থেকেই পালাগানই আমার একমাত্র আকর্ষণ। সেই পালাগানের খ্যাতি, আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন, এখন বঙ্গের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু যৌবন অতিক্রম করার পর থেকেই আমি অনুভব করেছি সংস্কৃত কাব্যের সঙ্গে পরিচয় থাকলে আমার রচনা আরও কতো সমৃদ্ধ হতে পারতো। যদু আমার প্রথম সন্তান, তাকে আমি শৈশব থেকেই সংস্কৃত শেখাবার চেষ্টা করেছি, আর সে ব্যাপারে আপনার আশীর্বাদ এবং শিক্ষা তাকে যে কতটা সাহায্য করেছে আপনিই তার সবচেয়ে বড়ো সাক্ষী। আপনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন তার উচ্চারণ স্পষ্ট। যদুর শরীর সুগঠিত, মুখাবয়ব আকর্ষক এবং কণ্ঠস্বর সুললিত। আপনি নিজেই বলেছেন আপনার কাছে যা শেখার তা সে সম্পূর্ণ করেছে। পৌরোহিত্য নয়, বিবাহের চিন্তাও নয়, এখন যদু আমার জগত্তারিণী যাত্রা দলে অংশ নিতে শুরু করবে, কালক্রমে সে ভারতবিখ্যাত পালাকার, সঙ্গীত রচয়িতা এবং গায়ক হয়ে উঠবে। আপনি তাকে আশীর্বাদ করুন।

    এ আপনি বলছেন কী বাঁড়ুজ্জেমশাই, আপনার জীবন তো কেটেই গেলো, কিন্তু এমন মেধাবী ব্রাহ্মণসন্তান শেষ পর্যন্ত পেশাদার গায়ক হবে? যাত্রার দলে?

    এই আমার চিরকালের স্বপ্ন বিশারদমশাই, আমি অন্য কিছু ভাবতেও পারি না।

    আপনি উন্মাদ, উন্মাদ আপনি বাঁড়ুজ্জেমশাই, বলতে বলতে চলে গেলেন কাব্যবিশারদ।

    যে কটি নারায়ণশিলা এবং শিবলিঙ্গ আছে বাড়িতে, প্রতি সন্ধ্যায় তাদের শীতল দেওয়ার দায়িত্ব যদুগোপালের, পৈতের পর থেকেই এই দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। আজ শীতল দেওয়ার পর সে বাবার কাছে গেলো। তাদের বসত বাড়িটি খুব বড় নয়, দু-তিনটি ঘর মাত্র, কিন্তু এই বাড়ির বাইরে আর একটি ঘর আছে, মূল বাড়ির সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্করহিত। দিনের বেশির ভাগ সময় এখানেই কাটান কালিকাপ্রসাদ, এবং তাঁর জগত্তারিণী দলের মহড়াও এখানেই হয়। ঘরটি সাধারণত এড়িয়ে চলে যদু। আজ এখানেই সে এসে সোজা বাবার সাথে দেখা করলো। কালিকাপ্রসাদ একটি চৌকিতে বসে সেজের আলোয় তাঁর সাম্প্রতিক পালাটি সংশোধন করছিলেন, যদুকে দেখে হেসে বললেন, আয়, বোস।

    মেঝেতে বসে পড়লো যদুগোপাল। কোন ভূমিকা না করে সে বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, বাবা, আমি এখন কী করবো?

    কী করবি, কী করবি মানে?

    পণ্ডিতমশাই বলেছেন তাঁর কাছে আমার পাঠ শেষ হয়েছে, এখন কী করবো আমি?

    হ্যাঁ, বিশারদমশাই এসেছিলেন আমার কাছে, তোর খুব প্রশংসা করলেন, বললেন তোর উচ্চারণ খুব ভালো। আমাদের পরের পালা হবে কৈকেয়ী সমাচার, তাতে কৈকেয়ীর ভূমিকায় অভিনয় করবি তুই।

    আপনি কী বলছেন বাবা, কৈকেয়ীর ভূমিকায় অভিনয় করবো আমি!

    হ্যাঁ, সাক্ষীর খুব নামডাক হয়েছে কৃষ্ণার্জুনে অভিনয় করে। ও হবে দশরথ আর তুই কৈকেয়ী। যা মানাবে না তোকে!

    বাবা, আপনি যা বলছেন এ মেনে নিতে আমি অপারগ। নিম্ন বর্ণের মানুষদের সঙ্গে ওঠাবসা আপনি করেন, এ আমি জানি। কিন্তু এ আমার রুচিবহির্ভূত। আমি আরও অধ্যয়ন করতে চাই। পাঠান্তে ব্রাহ্মণের উপযুক্ত পেশাই আমি গ্রহণ করবো।




    ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো যদু।

    পাথরের মতো বসে রইলেন কালিকাপ্রসাদ। তাঁর সন্তান। সুদর্শন, বুদ্ধিমান, মেধাবী। প্রাণাধিক প্রিয়। কিন্তু এ কী রূঢ় ভাষণ!

    সকালের নিত্যপূজার পর বেরিয়ে যায় যদু, কোন কোন দিন দুপুরে ফেরে, ফেরেও না কখনো কখনো। সন্ধ্যায় তার শীতল দেওয়ার কাজটি ঠিক সময়েই করে সে, এ নিয়মের ব্যতিক্রম হয় না। বাবার সঙ্গে তার দেখা হয় কদাচিৎ, কখনো মুখোমুখি পড়ে গেলে অতি সামান্য বাক্যব্যয় হয়। মার সাথেও কথা হয় কমই।

    মাসখানেক এ ভাবে চলার পর ছোট একটি চিরকুট জাতীয় চিঠি লিখে গৃহত্যাগ করে সে। সে শিক্ষার্থে গৃহত্যাগ করছে, কোথায় যাবে ঠিক ঠিক জানা নেই, তবে সম্ভবত নবদ্বীপধাম। তার খোঁজ করে লাভ নেই, এ গৃহে সে আর ফিরবে না কখনো। সন্ন্যাস নেবার কোন বাসনা তার নেই, ব্রাহ্মণোচিত অধ্যয়ন শেষ করে ব্রাহ্মণোচিত বৃত্তিই গ্রহণ করবে সে।

    এ ঘটনা ১৯০২ সালের। নবদ্বীপে গুরুচরণ বিদ্যার্ণবের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে আরও পাঁচ বছর অধ্যয়ন করলো যদুগোপাল, তার মেধায় নবদ্বীপ মুগ্ধ। হরিসাধন কাব্যবিশারদের কাছে যেটুকু ব্যাকরণ এবং কাব্য পড়া হয়েছিলো তার পর আরও খানিকটা পড়িয়ে তাকে স্মৃতিশাস্ত্র এবং ন্যায়ের পণ্ডিত করে তোলেন গুরুচরণ। নানা বিচারসভায় তাঁর সঙ্গে যেতে শুরু করে যদুগোপাল, যেখানেই সে যায় তার সূক্ষ্ম যুক্তিজাল আচ্ছন্ন করে রাখে উপস্থিত সবাইকেই।

    এর মধ্যে অনেক খোঁজ করে যদুর সন্ধান পান কালিকাপ্রসাদ, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু সে কোনমতেই আর সারিখোল গ্রামে ফিরে যেতে রাজি হয় না। যদুর গৃহত্যাগের পর সখের যাত্রাদলটি ভেঙে দিয়েছেন তিনি, তাঁর স্বাস্থ্যও ভেঙে গিয়েছে অনেকটা, এর মধ্যে আরও দুটি সন্তান এসেছে তাঁর স্ত্রীর কোলে, একটি পুত্র এবং একটি কন্যা। যদু তাঁকে স্পষ্টতই জানিয়ে দেয় জ্যেষ্ঠ সন্তানের সমস্ত কর্তব্যই সে পালন করবে, শাস্ত্রনির্দিষ্ট কোন কর্তব্যই তার অপালনীয় নয়, কিন্তু ত্যক্ত গৃহে আর কোনদিনই ফিরবে না সে।

    অপুত্রক পিতার সম্পত্তিতে লগ্নভ্রষ্টা একমাত্র কন্যার অধিকার বিষয়ক এক বিতর্ক সভায় তরুণ যদুগোপালের যুক্তিগ্রথিত বক্তৃতা শুনে শশধর বেদান্তবাগীশ নামের এক পণ্ডিত গুরুচরণ বিদ্যার্ণবের সঙ্গে দেখা করেন। শশধর হাওড়ার লোক, প্রতিষ্ঠিত পণ্ডিত, নিয়মনিষ্ঠ ব্রাহ্মণ। তাঁর পুত্রেরা যদিও শিক্ষিত এবং উপযুক্ত, তারা সবাই বিলিতি বিদ্যায় পারদর্শী এবং পিতার পেশা গ্রহণে অনিচ্ছুক। তাঁর দেহান্তে তাঁর অজস্র যজমানের কী হবে ভেবে তিনি শঙ্কিত। যদুগোপাল যদি সহযোগী হয়ে তাঁর সাথে কিছুদিন কাজ করে সব শিখে-বুঝে নেয়, এই যজমানদের তার হাতে সঁপে দিয়ে তিনি নিশ্চিন্তে মরতে পারেন।

    গুরুচরণ যদুকে বলেন, ব্রহ্মচর্যের পর গার্হস্থ্য। শিক্ষান্তে বৃত্তিগ্রহণ। ব্রাহ্মণের শাস্ত্রনির্দিষ্ট ষট্‌ কর্মের প্রথম দুটিই হলো যজন এবং যাজন। এ ফলিত জ্ঞান। বেদান্তবাগীশ মশাই তোমার জন্যে ঈশ্বরপ্রেরিত, তুমি তাঁর সঙ্গে যাও। এর মধ্যে আমার শেষ কর্তব্যটি আমি করবো। তোমার বাবার কাছে খবর পাঠাতে হবে তোমার বিবাহের উদ্যোগ করতে, কন্যা নির্বাচন করতে, এ তাঁর অধিকার। একটু ইতস্তত করে যদুগোপাল বলে, একটা অনুরোধ করবো। এ যদি শাস্ত্রবিরোধী হয়, প্রথমে আমাকে ক্ষমা করবেন, তার পর উপেক্ষা। আমার প্রথম আচার্য হরিসাধন কাব্যবিশারদ মশাই তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রীর সঙ্গে আমার বিবাহের সম্বন্ধ করতে চেয়েছিলেন, বাবাকে তিনি বলেওছিলেন সে কথা। সে কন্যা যদি এখনো অবিবাহিতা থাকে, তিনি হয়তো তার সঙ্গে আমার বিবাহের জন্য পীড়াপীড়ি করবেন। মেয়েটিকে আমি কৈশোর থেকে চিনি, তাকে নিজের বোনের মতো দেখেছি। তার সঙ্গে যেন বাবা আমার বিবাহসম্বন্ধ না করেন।

    হুঁ, বলে গুরুচরণ যদুকে বিদায় জানান।

    হাওড়ায় এক নতুন জগতের মধ্যে এসে পড়লো যদুগোপাল। এতদিন পর্যন্ত সারিখোল গ্রাম আর নবদ্বীপের বাইরের জগৎ সম্বন্ধে কোন ধারণাই ছিলো না তার, এই তার প্রথম নাগরিক জীবন। শশধর বেদান্তবাগীশের বাড়িটি পাকা, চওড়া রাস্তার উপর ত্রিতল ইমারত। বাড়ির নীচের তলার সামনের অংশে, একেবারে রাস্তার উপর তাঁর দু কামরার চতুষ্পাঠী বা টোল। সাইনবোর্ডে লেখা শশধর শাস্ত্রীয় সংস্কৃত শিক্ষালয়। ঘর দুটোয় দুটো করে দরজা, কোনাকুনি। একটার সামনে দাঁড়ালে অন্যটা পেরিয়ে চোখ যায় না। একটা রাস্তার সঙ্গে সংযোগ করে, অন্যটা অন্দরের সঙ্গে। সেই দরজা পেরিয়ে অন্দরে ঢুকলে দেখা যাবে আরও তিনটে ঘর, সামনে টানা বারান্দা। বারান্দার সামনে উঠোন, পেরিয়ে রান্নাঘর। এই ঘর তিনটের একটা ব্যবহার করা হয় টোলের আবাসিক ছাত্রদের বাসস্থান হিসেবে, টানা চৌকিতে যেখানে শুতে পারে পাঁচ-ছ জন ছাত্র। বাকি ঘর দুটোর মধ্যে একটার ব্যবহার ভাঁড়ার ঘর হিসেবে, যে ভাঁড়ার উল্টো দিকের রান্নাঘরে ব্যবহৃত হয়। আর একটা ঘর এতদিন ব্যবহার করা হতো না, এখন সেটা নির্দিষ্ট হলো যদুগোপালের থাকার জন্যে।

    প্রথম দিন বিশ্রাম নেবার পর পরের দিন থেকেই কাজে নেমে পড়লেন বেদান্তবাগীশ মশাই। বললেন, এখন থেকে যদু নিয়মিত চতুষ্পাঠীর ছাত্রদের পড়াবে, সে-ই দ্বিতীয় অধ্যাপক। তারপর প্রায় নিজেকে সংশোধন করার ভঙ্গীতে বললেন, দ্বিতীয় মানে কিন্তু গৌণ নয়, তোমার পাণ্ডিত্য সম্বন্ধে আমার কোনই সন্দেহ নেই। তুমি বয়েসে তরুণ, প্রায় কিশোর বললেই চলে। অনেক ছাত্র আছে যারা বয়েসে তোমার চেয়ে বড়ো। তারা যাতে তোমাকে মানিয়ে নিতে পারে তাই আমি প্রথম কয়েকদিন তোমার অধ্যাপনার সময় বসে থাকবো।

    ভালো আবৃত্তি করে যদুগোপাল তার স্পষ্ট উচ্চারণ আর সুললিত কণ্ঠে। বয়েসে বড় ছাত্ররাও মন্ত্রমুগ্ধের মতো শোনে তার অধ্যাপনা। নিশ্চিন্ত হলেন শশধর বেদান্তবাগীশ।

    চতুষ্পাঠীর ছাত্ররা অনেকেই এখানেই আহারাদি করে। আবাসিক যারা, তারা তো নিশ্চয়ই, এমনকি যারা নয়, তাদের মধ্যেও অনেকে। নীচের তলার টানা বারান্দায় তাদের এক সঙ্গে খেতে দেওয়া হয়, যদুগোপাল লক্ষ্য করে বাড়ির মেয়েরাই এদের পরিবেশন করে খাওয়ান। শশধরের তিন পুত্রই অন্য পেশায় রত, তারা সকাল সকাল খাওয়াদাওয়া করে বেরিয়ে যায়। সকাল থেকেই শশধর ব্যস্ত থাকেন। কখনো কখনো শিষ্য-যজমানদের বাড়িতে যেতে হয় তাঁকে। তা ছাড়া তিন তলায় তাঁর বিরাট ঠাকুরঘর। সেখানে অনেক বিগ্রহ। সমস্ত পুজোই তিনি নিজের হাতে সারেন, এ ছাড়াও নিত্য হোম এবং যজ্ঞ করেন তিনি। সময় পেলেই যদু যোগ দেয় সেখানে, তাঁকে সাহায্য করে, এবং তার অধীত বিদ্যার বাইরেও অনেক কিছুই শিখে নেয়। বেলা গড়িয়ে যায় দুপুরের খাওয়ার সময় হতে হতে, শশধর এবং যদুগোপালের আসন পাতা হয় পাশাপাশি, শশধরের স্ত্রী যাঁকে যদু জ্যাঠাইমা সম্বোধন করে তাঁরই নির্দেশে, নিজের করা রান্না নিজের হাতে পরিবেশন করে খাওয়ান দুজনকে। তারপর শশধরের পাত্রে নিজের খাওয়া সারেন।

    কিছুদিন পর যদুগোপালকে আলাদা করে ডেকে শশধর কুড়িটা টাকা দিলেন তার হাতে। সঙ্কোচে কুঁকড়ে গেলো যদু, এ সব কিসের জন্যে? শশধর হেসে বললেন, এ টাকা তোমার প্রয়োজন এবং প্রাপ্য। প্রয়োজন এই জন্যে যে যা-ই তুমি চাও তোমাকে কিনতে হবে টাকার বিনিময়ে, সে তোমার পরিধেয়, বাসস্থান, খাদ্য, সবই। টাকাই একমাত্র সর্বসম্মত বিনিময় যন্ত্র। আর এ টাকা তোমার প্রাপ্য এই জন্যে যে তুমি পরিশ্রমের বিনিময়ে এ অর্জন করেছো। এই যে আমরা চতুষ্পাঠী চালাই, ছাত্ররা অনেকে থাকে এখানে, এর জন্যে রাজকোষ থেকে টাকা দেওয়া হয় আমাদের, পারিশ্রমিক এবং খরচ হিসেবে। সব ছাত্রের খাদ্যের সংস্থান হয়তো হয় না সেই টাকায়, কিন্তু লক্ষ্য করে থাকবে আমার চতুষ্পাঠীর অনেক ছাত্র আমার যজমানদের বাড়িতে পূজাপাঠ করে। পুরোহিতের প্রাপ্য অংশ যজমানরা পাঠিয়ে দেন আমার বাড়িতে, ছাত্রদের বাড়িতে নয়। কিন্তু শ্রম তো সে-ই দিয়েছে, অতএব জেনে রেখো তার অন্ন সে নিজেই অর্জন করেছে, কারোর দয়ার ঊপর সে নির্ভরশীল নয়। আর অধ্যাপনায় নিয়মিত যোগ দিচ্ছ তুমি, ফলত রাজকোষের অর্থে তোমারও অংশ আছে।

    কিছুদিন পর থেকে শিষ্য-যজমানদের বাড়িতে যদুগোপালকে নিয়ে যেতে শুরু করলেন শশধর। সবাইকেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হলো এ বিষয়ে শশধরের উত্তরাধিকারী কে। যেখানেই যায় যথেষ্ট সম্মান পায় যদু, যেখানে পুজো করে শাস্ত্রোক্ত বিধি যথাসম্ভব পালন করে সে, তার উদাত্ত মন্ত্রোচ্চারণ প্রায় বিমোহিত করে যজমানকে। এক সময় তার মনে হয় ভক্তেরা উচ্চারণের ঝঙ্কার এবং কণ্ঠস্বরের কুহকেই মুগ্ধস্তব্ধ বুঝি; সে সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিটি মন্ত্রের অর্থ সরল বাংলায় বুঝিয়ে দেবে। এর পর থেকে ভক্তের সংখ্যা তার বেড়েই যেতে থাকে, শশধরের কাছে বিশেষ করে যদুগোপালেরই পৌরোহিত্যের অনুরোধ আসতে থাকে বারবার।

    একটা ব্যাপার বুঝে উঠতে পারে না যদু। শশধরের যজমানদের মধ্যে জ্ঞানী পণ্ডিত ভক্তের অভাব নেই, তাঁদের অনেকের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্মিত হয়েছে সে। এত ভক্তি, এত জ্ঞান, তবুও নিজের বাড়ির পূজাপাঠ নিজে না করে পুরোহিত নিয়োগ করতে হয় কেন তাঁদের? আর কেনই বা তাঁরা অন্য পেশায় রত, এমন কী তাঁদের পুত্র-পৌত্ররাও পৌরোহিত্য বা প্রাচ্য বৃত্তিতে উৎসাহী না হয়ে ওকালতি, ডাক্তারি, স্কুল শিক্ষকতা বা অফিস-আদালতে কাজ করাই কেন পছন্দ করে? এ ব্যাপারে একদিন শশধরকে প্রশ্ন করলো সে। শশধর বললেন, বেশি দূর যেতে হবে কেন, আমার পরিবারের দিকে তাকিয়ে দেখো। আমার তিন পুত্রই মেধাবী, তারা সংস্কৃত পড়েছে, তোমার মতো এত গভীর না হলেও ভারতীয় এবং হিন্দু শাস্ত্রও অ্রধ্যয়ন করেছে তারা। পৌরোহিত্য এবং অধ্যাপনার বৃত্তিই শুধুমাত্র অবলম্বন করে তাদের পিতাও জাগতিক সাফল্য কিছু কম পায়নি, বোধ হয় ডাক্তার বা উকিলের তুলনায় খারাপ নেই সে। তবুও তার পুত্রেরা কেউই তাদের পিতার বৃত্তিতে আসতে সাহস পেলো না কেন? তোমাকে বুঝতে হবে রাজা বিধর্মী। সে যতটা প্রজাবৎসল তার চেয়েও বেশি পটু শান্তিরক্ষায়। প্রজাদের অশান্ত করতে চায় না সে, তাই আদালতেও সে জজ-পণ্ডিত নিয়োগ করে। কিন্তু রাজার ধর্মই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়; প্রথমে আচার-আচরণ, তার পর ধর্ম। উচ্চ বর্ণের বাঙালির পোশাকের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছো? আমার পুত্ররাও কোট-প্যান্টালুন পরিধান করছে। বুদ্ধিমান, ধার্মিক কিন্তু সাবধানী ব্রাহ্মণ জানে প্রাচ্যবৃত্তির দিন শেষ, তাই এই বৃত্তির জন্যে তৈরি না করে সে তার পুত্র-পৌত্রাদিকে অন্যরকম ভাবে শিক্ষিত করছে। চোখ কান যদি খোলা রাখো, তাহলে লক্ষ্য করবে আমাদের বৃত্তিতে এখন যারা আসছে তারা ব্রাহ্মণ সমাজের মেধাবী অংশ নয়, মধ্যমেধা অথবা আরও নীচের অংশ। এদের অনেকেই শাস্ত্র অধ্যয়ন করেনি, নিয়মনিষ্ঠ নয়, যজমানের স্বার্থের চেয়েও নিজের অর্থাগমই এদের কাম্য।

    একটু চুপ করে থেকে সোজাসুজি যদুগোপালের দিকে তাকিয়ে আবার বলতে শুরু করেন শশধর, নবদ্বীপের বিতর্ক সভায় তোমার আলোচনা যখন শুনলাম, আমি বুঝলাম আজকের ব্রাহ্মণ সমাজে তুমি এক বিরল প্রতিভা। আমার স্বার্থবুদ্ধি জাগরিত হলো। হুগলির এক গ্রাম থেকে আমার পিতা হাওড়ার শিবপুরে এসেছিলেন, অতি কষ্টে মানুষ করেছেন আমাকে। আমি এখন প্রতিষ্ঠিত, সম্মানিত। আমার বহু শিষ্য-যজমান, আমার চতুষ্পাঠীর ছাত্ররাও অনেকে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। কিন্তু কিছুদিন ধরেই আমি দুশ্চিন্তায় ভুগছি, আমার মৃত্যুর পর কী হবে। আমার পুত্রদের অন্য বৃত্তি, নিজের নিজের জায়গায় তারা প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু কী হবে আমার চতুষ্পাঠীর, কী হবে এই বিপুল সংখ্যক ভক্তের এবং তাদের পরিবারের যারা এতদিন নির্ভর করে এসেছে আমার উপর? গুরুচরণ বিদ্যার্ণব মশাই যখন কৃপা করলেন, এবং তাঁর উপদেশে তুমি এখানে আসতে সম্মত হলে, আমার মনে হলো তুমি ঈশ্বরপ্রেরিত, ঈশ্বর স্বয়ং আমাকে কৃপা করেছেন। আমার স্বার্থসিদ্ধি হলো, কিন্তু আমি জানি না তোমার হলো কিনা।

    তুমি তো জানো যদুগোপাল, আমি অব্রাহ্মণের পৌরোহিত্য করি না, জলগ্রহণও করি না তাদের কাছে; তুমি নিয়মনিষ্ঠ এবং স্মৃতিশাস্ত্রে অগাধ জ্ঞান লাভ করেছো, মনু-পরাশরের সাক্ষাৎ প্রতিভূ তুমি, তুমিও সেই পথই নেবে। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে অতি দ্রুত, অপণ্ডিত এবং আচারভ্রষ্টের আপাতবিজয় সূচিত হচ্ছে নানাভাবে। এরই মধ্যে বুদ্ধি স্থির রেখে চলতে হবে তোমাকে। শুধু একটিই উপদেশ আমার, বস্তুপৃথিবীর দাবিকে অগ্রাহ্য কোর না।

    নবদ্বীপ থেকে খবর এলো কয়েকদিন পর, বিদ্যার্ণব মশাই পাঠিয়েছেন, যদুগোপালের সেখানে যাওয়া দরকার একবার। গেলো সে, এবং খবর পেলো পাত্রী স্থির করেছেন তার বাবা, মেয়েটি পাশের জেলা ফরিদপুরের, স্বচ্ছল ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের কন্যা, নিজের পিতার কাছে মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ পড়েছে, সুলক্ষণা, ডাগর মেয়ে, বয়স চোদ্দ, গৃহকর্মনিপুণা, এখনই যদুগোপালের সংসারের হাল ধরতে সক্ষম। কালিকাপ্রসাদের অনুরোধে স্বয়ং গুরুচরণ বিদ্যার্ণবও সে কন্যাকে দেখে এসেছেন, এবং পছন্দও করেছেন। এখন বিয়ের দিন স্থির করতে হবে। কালিকাপ্রসাদের একান্ত ইচ্ছে বর সারিখোল গ্রাম থেকেই যাত্রা করুক, এবং বিভিন্ন স্ত্রী-আচার ও পাকস্পর্শ যদুর পিতৃগৃহেই অনুষ্ঠিত হোক। পিতৃগৃহে আর কোনদিন না ফেরার যে প্রতিজ্ঞা যদুগোপাল করেছিলো বিদ্যার্ণব অবহিত ছিলেন সে ব্যাপারে। তিনি কালিকাপ্রসাদের অভিলাষের কথাই জানালেন শুধু, সম্পূর্ণ নৈর্ব্যক্তিকভাবে।

    প্রতিজ্ঞাভ্রষ্ট হলো না যদুগোপাল। মলিনমুখ, ভগ্নস্বাস্থ্য, অকালবৃদ্ধ কালিকাপ্রসাদ অবশেষে নবদ্বীপ থেকে যাত্রা করলেন বরকর্তা হিসেবে। বরযাত্রীদের মধ্যে যদুগোপালের কয়েকজন সহপাঠী, এবং বৃদ্ধ শশধর বেদান্তবাগীশ। সারিখোল গ্রাম থেকে কন্যাগৃহে বিবাহে যোগ দেবার জন্যে রওনা দিলেন কালিকাপ্রসাদের জ্ঞাতি কয়েকজন, যদুর দুই কনিষ্ঠ ভ্রাতা, এবং হরিসাধন কাব্যবিশারদ। ভেঙে যাওয়া জগত্তারিণী যাত্রা দলের কেউই ছিলো না তাঁদের সঙ্গে।


  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৩ অক্টোবর ২০২০ | ১১০৩ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Moulik Majumder | ০৯ নভেম্বর ২০২০ ০১:১৪99783
  • প্রাঞ্জল লেখা মুগ্ধ 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন