• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  শনিবারবেলা

  • বৃত্তরৈখিক ৪

    শেখরনাথ মুখোপাধ্যায়
    ধারাবাহিক | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২৫৬ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • এগারো ক্লাশের পর আই-এস-সি। পাশ করলো জয়মালিকা; পাশই, এমন কিছু নয়। সবাই কলেজে ভর্তি হবে, নানান তোড়-জোড়। রেজাল্ট যেদিন পাওয়া গেলো, বাবা ছিলো না বাড়িতে, ফিরলো দিন দুই পর। জিজ্ঞেস করলো, কলেজে ভর্তি হবি না?

    না বাবা।

    না কেন রে? এখানকার কলেজেই তো সায়েন্স পড়ানো হচ্ছে আজকাল। ভর্তি হয়ে যা, পাশ করলে চাকরি পেয়ে যাবি।

    আমার যা বুদ্ধি তাতে সায়েন্স পড়ে লাভ নেই কোন, নিজেকে ওভার-এস্টিমেট করার কোন মানে হয় না। এখানে একটা আর্ট কলেজ থাকলে সেখানে পড়তে পারলে কিছু লাভ হতো হয়তো, কিন্তু নেই সে রকম কলেজ এখানে। আর তা ছাড়া কলেজে ভর্তি না হয়েও নিজে নিজেও তো অনেকটাই শেখা যায় ছবি আঁকা-টাঁকা।

    তা হয়তো যায়, কিন্তু সবাই কলেজে পড়বে, আর তুই বাড়িতে বসে থাকবি, খারাপ লাগবে না তোর?

    খারাপ লাগবে কেন, আর তা ছাড়া আমি বাড়িতেই বসে থাকবো তা-ই বা ভাবছো কেন? সকাল বেলায় বেরিয়ে যাবো রোজ, তারপর মাঠে ঘাটে ছবি এঁকে বেড়াবো যেমন খুশি। ভালোই থাকবো আমি, তুমি দেখে নিও।

    তুলিকার সঙ্গে সেই যে বন্ধুত্ব হয়েছিলো জয়ির, সেটা এই ক' বছরে জোরদার হয়েছে আরও, প্রায় রোজই কয়েক ঘন্টা তুলিকার বাড়িতে কাটায় সে। স্থানীয় কলেজেই ভর্তি হয়েছে তুলিকা, আর্টস নিয়ে পড়বে সে, ওর বাবা বলেছেন আর্টসে পরিশ্রম কম, কম খেটেও পাশ করা যাবে, উদ্বৃত্ত সময়টা ছবি আঁকা প্র্যাকটিস করলে কাজে দেবে, বি-এ পাশ করার পর কলকাতার আর্ট কলেজে ভর্তি হবে ও।

    তুলিকার মাসতুতো বোনরা রাঁচিতে থাকে, কাছাকাছি বয়েস, অরুণিমা আর শ্যামলিমা, ওরা প্রায়ই আসে, ওদের সঙ্গেও জয়ির বন্ধুত্ব। রাঁচিতে থাকলেও ওরা ওখানকার বাংলা মীডিয়ম স্কুলে পড়েছে, কলেজে বাংলায় অনার্স পড়ে শ্যামলিমা, আর অরুণিমা ইংরিজিতে, ওদের নাটকের দল আছে, দুজনেই অভিনয় করে, গানও গাইতে পারে ভালো। এ ছাড়া আশপাশের বাংলো থেকে আসে সুজয়, সে ওদের সঙ্গে স্কুলেই পড়তো; ভাই-বোন অনলাভ আর জুঁই, ওদের চেয়ে একটু বড়, দুজনেই ইঞ্জীনিয়ারিং কলেজে পড়ে, থার্ড ইয়ারে এক জন আর অন্য জন ফোর্থ ইয়ারে। ওদের আড্ডায় মাঝে মাঝেই তুলির বাবাও যোগ দেন; আর কাকিমা, তুলির মা, ঘন ঘন এটা ওটা খাবার পাঠাতে থাকেন। তুলির বাবার পরামর্শে একটা হাতে লেখা পত্রিকা বের করেছে ওরা, শাম্ব। কবিতা গল্প এসব থাকে শাম্বতে, আর হাতে আঁকা ছবি। গত সংখ্যা থেকে ফটোগ্রাফও থাকছে; জয়ির বাবার অফিসে মাঝে মাঝে আসেন এক ভদ্রলোক, এখানে থাকেন না, রামদয়াল কিস্কু, তিনিই প্রতিটি সংখ্যাতে দেবেন তাঁর তোলা ফটো।

    এর মধ্যে একটা কাণ্ড ঘটে গেলো, এক দুপুরবেলা। বাইরের ঘরে বসে ছিলো তুলিকা আর জয়ি, দুজনে মিলে প্ল্যান করছিলো কেমন হবে পরের সংখ্যা শাম্বর প্রচ্ছদ। তুলির সামনে একটা বড় সাদা কাগজ, হাতে পেনসিল, একটা দুটো আঁচড় পড়েছে কাগজটায়, আর গলা ছেড়ে গাইছে জয়ি, মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে ডেকেছে কে, এমন সময় বাইরের থেকে জোরে জোরে দরজায় ধাক্কার শব্দ, আর তার সাথে উচ্চকিত কণ্ঠ: কে গায় আমার গান, আমার গান গাইছে কে! থেমে যায় জয়ি, একটু ঘাবড়িয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসু চোখমুখে তাকায় তুলির দিকে। ঠোঁট উলটিয়ে, বিস্ফারিত চোখে, দুটো হাতের কব্জি ঘুরিয়ে বোঝায় তুলি সে-ও বুঝছে না কিছু। এমন সময় আবার দরজায় ধাক্কা: কে গাইছে আমার গান?

    উঠে এসে আস্তে আস্তে দরজাটা খোলে তুলি। দরজার বাইরে একটা লোক, ফতুয়া আর প্যান্ট পরা, এক মুখ দাড়ি।দরজার ফ্রেমটা ধরে লোকটা যেন নিজের ভারসাম্য রক্ষা করছে, ছেড়ে দিলেই পড়ে যাবে বুঝি ! তুলিকে জিজ্ঞেস করে লোকটা ধমকের সুরে, অ্যাই, আমার গান গাইছিলো কে, তুমি? একটা উগ্র গন্ধ হঠাৎ এসে আঘাত করে তুলিকে। এ গন্ধ সে চেনে, এ অঞ্চলের মেয়ের এ গন্ধ ভুল হবে না, এক পেট মহুয়া খেয়ে এসেছে লোকটা।

    না, মানে, কোথা থেকে আসছেন আপনি, কী চান?

    উত্তর না দিয়ে তুলিকে প্রায় ঠেলেই ঘরে ঢুকে পড়ে লোকটা, আর কারোর অনুমতির জন্যে অপেক্ষা না করে বসে পড়ে একটা ছোট সোফায়।

    হতবাক হয়ে বসে আছে জয়ি, বুঝতে পারছে না কী করা উচিত এ অবস্থায়, কাকিমাকে ডাকবে নাকি ! কিন্তু কাকিমাকে ডাকতে হলে তুলিকে একা রেখে ভেতরে ঢুকে যেতে হয়, সেটাও কতটা ঠিক হবে স্থির করতে পারে না সে।

    ওদের দুজনের অসহায়তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হঠাৎ গেয়ে ওঠে লোকটা, বল কী করি, আমায় বাঁশিতে ডেকেছে কে......

    এখানে শুরু। তারপর ফিরে যায় লোকটা প্রথম লাইনে, মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে ডেকেছে কে।

    গলায় যাদু আছে নাকি লোকটার ! স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে ওরা দুজন !

    …...ভেবেছিলেম ঘরে রব, কোথাও যাব না – ওই-যে বাহিরে বাজিল বাঁশি......

    ওই-যের পর যেন এক মুহূর্তের জন্যে একটু থামে লোকটা, এক পলের বিরাম যেন। তার পর লোকটার চোখ অনুসরণ করে ওদের দুজনের চোখও কি জানলার বাইরে চলে যায়! গা ছম ছম করে ওঠে কি একটু !

    …...বল কী করি।

    এতক্ষণে পুরুষ কণ্ঠের আওয়াজ বোধ হয় ঢুকেছে ভেতরে, কাকিমা এসে দরজার সামনে দাঁড়িয়েছেন, তিনিও স্তব্ধ, চোখ বুজে গেয়েই চলেছে লোকটা, একই লাইন ঘুরে ফিরে আসছে বারবার। এক জন গায়ক, তিন জন নিঃশব্দ শ্রোতা।

    তুমি এখানে বসে গান গাইছো, আর আমরা খুঁজে খুঁজে সাড়া, বলতে বলতে এক মহিলা, ঠিক মাঝবয়েসী বলা যায় না, কিন্তু তুলি-জয়ির চেয়ে অনেকটাই বড়ো, সাধারণ একটা শাড়ি পরনে, আঁচলটা একটু সঙ্কোচের সঙ্গে টেনে ধরে সোজা ঘরের ভেতর ঢুকে আসেন। তুলির মাকে দেখে বলেন, আপনি আমায় চিনবেন না দিদি, আমরা থাকি
    ডি-ফোর-এ, গলার আওয়াজ শুনে খুঁজে পেলাম।

    সচকিত হয়ে উঠে দাঁড়ায় লোকটা, ওঃ তুমি এসে গেছো, চলো চলো, বলে মহিলাকে প্রায় ঠেলে নিয়েই চলে যায় যেমন এসেওছিলো হঠাৎ।

    আশ্চর্য মানুষ, বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ ঘরে ঢুকে গান গাইতে শুরু করলো, আবার হঠাৎই চলে গেলো; তিনজনের মনের কথা এক সঙ্গে উচ্চারণ করে তুলি।

    ডি-ফোর তো বেশ দূর এখান থেকে, তুলির মা বলে ওঠেন, অত দূর থেকে এখানেই বা এলো কেন !

    জয়মালিকা আর তুলির কাছ থেকে পুরো ঘটনাটা শুনে চিন্তিত মুখে সাবধান করেন তিনি, এবার থেকে দেখে শুনে খুলো দরজা-টরজা, কে জানে কার মনে কী আছে ! খানিকটা যেন ঘাবড়িয়েই গেছেন এমন মুখ করে জয়িকে বলেন, তোর আজ এখনই যাওয়ার দরকার নেই, বুঝলি জয়ি, কাকু ফিরে এলে তোকে পৌঁছিয়ে দেবার ব্যবস্থা করবে।

    বিকেল চারটে নাগাদ ফোন আসে তুলিকার বাবার, তুলিকাকে বলে, মাকে বলে দিস খুব ইম্পর্ট্যান্ট একজন আসবেন আজ সন্ধ্যেবেলা আমাদের বাড়িতে, আপ্যায়নের ব্যবস্থা যেন থাকে ঠিকঠাক।

    ভালো লাগে না তুলির, বাবার এই ইম্পর্ট্যান্ট লোক মানেই বাড়িতে চেঁচিয়ে কথা বলা বন্ধ, নিজেদের বাড়ি যেন নিজেদের বাড়িই নয়, ভদ্রভাবে মেপেজুকে কথা বলো, আস্তে আস্তে চলো, বইপত্তর এলোমেলো কোরে রেখো না, দূর, ভাল্লাগে না !

    তুমি আর দিন পেলে না বাবা ইম্পর্ট্যান্ট লোককে নেমন্তন্ন করার, আমরা আজ নেক্সট ইশ্যু শাম্বর প্রচ্ছদটা ফাইনালাইজ করবো ঠিক করেছিলাম, জয়িও এসেছে, আর আজই তুমি...

    জয়ি এসেছে, ও, ভেরি গূড। ওকে বলিস ও যেন থেকে যায়, একেবারে রাত্তিরে খেয়ে-টেয়ে যাবে, আমি ড্রাইভারকে দিয়ে ওর বাড়িতে খবর পাঠাবার ব্যবস্থা করছি। মাকে বলে দিস কিন্তু মনে করে, আর শোন্‌, দিস গেস্ট উইল বী ভেরি ডিফারেন্ট, বোদ অব য়্যু উইল লাইক হিম।

    কে বাবা?

    উঁহু, বলা চলবে না এখন, লাইনটা কেটে দেয় বাবা।

    একটু তাড়াতাড়িই বাড়ি ফেরে বাবা আজ, মনে হয় মূড খুব ভালো, বহুদিন পর গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে আবৃত্তি করতে করতে ঢোকে বাড়িতে,

    শুয়ো না কখনো দিনে মৃত ঝরা বাতিটার পাশে।
    ও কার চোখের জল ও কার মুখের মত ম্লান;
    প্রতিকূল হাওয়া এসে দাঁড়ালেই শুরু বালি খসা
    খুঁজি সে সোনালি চুল চুল চুল তখনও আকাশে।
    পাই না; ঘুরায়ে তালু মুছে দেব চোখের আভাস
    হে বিষণ্ণ মর্মরের ফোঁটা যেন নীরবে সাজানো
    দেবতা, সুদূর স্মৃতি; প্রতিমা কি প্রচ্ছায়া তোমার।
    পুরানো ধুলায় খুঁজি, ধুলা হতে পুরানো হৃদয়ে।

    ওঃ, খুব যে ভালো মূড বাবা, আবৃত্তি করছো কতদিন পর, তুলি বলে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে।

    হ্যাঁ বহুদিন পর অনেক স্মৃতি খুঁজে, পুরানো ধুলায় খুঁজি, ধুলা হতে পুরানো হৃদয়ে।

    কার কবিতা বাবা, জীবনানন্দ? তোমার হৃদয়ে তো শুধুই জীবনানন্দ।

    তুই আর আমার হৃদয়ের চিনলি কতটুকু মা, তোর মা-ই চিনতে পারলো না।

    সে কথাই মেয়েকে বোঝাও, বলতে বলতে তুলিকার মা ঢোকেন ঘরে, কে আসছে গো আজ, কোন্‌ ইম্পর্ট্যান্ট লোক?

    সে এক আশ্চর্য লোক, শুনলে অবাক হয়ে যাবে। বিজন সরকারকে চেনো? মাইনস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হেড ক্লার্ক। সে বোধ হয় প্লান্টে শুনেছে বাংলা কবিতা ছবি এ সব ব্যাপারে আমার ইন্টারেস্ট আছে। সে আজ সকালে আমার অফিসে হাজির, তার বাড়িতে এক কবি এসেছেন, সে তাঁকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসতে চায়। কে কবি আন্দাজ করতে পারো?

    কে?

    শক্তি চট্টোপাধ্যায়। আসলে শক্তি চট্টোপাধ্যায় বেশ কিছুদিন চাইবাসায় ছিলেন। হাংরিয়ালিস্ট মুভমেন্ট নামে শিল্প-সাহিত্যের এক আন্দোলনে কিছুদিন আগে তিনি জড়িয়ে পড়েন। এই আন্দোলনের এক জন অত্যন্ত ইম্পর্ট্যান্ট লোকের বাড়ি চাইবাসায়। সেই সূত্রে অনেকদিন চাইবাসায় ছিলেন শক্তি, জায়গাটাও তাঁর খুবই ভালো লেগেছিলো নিশ্চয়ই। পরে অবিশ্যি ঐ আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়, আর তার পর থেকেই চাইবাসায় যাওয়াটা একটু ডিফিকাল্ট হয়ে যায় শক্তির পক্ষে।

    আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হলে জায়গাটার সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন হবে কেন? – হঠাৎ প্রশ্ন করে ওঠে জয়ি।

    তোর প্রশ্নের উত্তর আমার পক্ষে দেওয়া একটু শক্ত, সেটা শক্তিই দিতে পারবেন। তবে আমাদের বুঝতে হবে চাইবাসা তো ছোট জায়গা, মূলত ট্রাইবাল হ্যাবিট্যাট; আর ট্রাইবালরা ছাড়া যারা থাকে তাদের অনেকেই বাঙালি। ছোটখাটো জায়গায় যা হয় আর কী, সবাই সবাইকে চেনে। সেখানে শক্তির পক্ষে আবার যাওয়াটা একটু অস্বস্তিকর।

    এ আবার কী কথা বাবা, বলে উঠলো তুলি, মতবিরোধ হয়েছে, তার মধ্যে অস্বস্তির কী আছে?

    হুঁ – একটু অস্বস্তি বোধ হয় বাবারই হয় – মানে মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত ব্যাপারটা গড়িয়েছিলো শুনেছি, আর তা ছাড়া, তা ছাড়া, আমি যতদূর জানি – তোরা তো বড় হয়েছিস, তোদের বলা যায় – ঐ যে হাংরিয়ালিস্টদের নেতা ভদ্রলোক, ওঁর কোন আত্মীয়ার সঙ্গে বোধ হয় একটু বিশেষ সম্পর্কও তৈরি হয়েছিলো শক্তির।

    তার মানে ভদ্রলোককে সুবিধের মনে হচ্ছে না, মতবিরোধ আত্মীয়ের সাথে, তার জন্যে মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ !–
    মন্তব্য তুলির।

    তুলির মা কথা বলে এ বার, ব্যস ব্যস, অনেক হয়েছে, এটা ভদ্রলোকের ব্যক্তিগত বিষয়, নিতান্তই ব্যক্তিগত, এ নিয়ে আমরা মাথা ঘামাবো কেন?

    সরি মা, ভুল করেছি, মেনে নিলাম।

    যাই হোক, যা বলছিলাম সেটাই বলি। বিজনবাবু আমাকে বললেন ওঁর বোনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিলো সেই মহিলার। সেই বোন এতদিন কলকাতায় ছিলো, এখন আমাদের এখানে ইস্পাত পাবলিক স্কুলে চাকরি পেয়েছে, দাদার সঙ্গেই থাকে। তার সঙ্গে শক্তির সম্প্রতি দেখা হয়েছিলো কলকাতায়, এ জায়গাটাও সারাণ্ডা রেঞ্জের কাছাকাছি শুনে এখানে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন শক্তি; ও-ও বলেছে আসুন না, প্রায় চাইবাসার মতোই লাগবে কোন কোন অঞ্চল। তাই শক্তি এসেছেন। বিজনবাবু আবার কবিতা-টবিতা ভয় পান, তাই আমাদের এখানে নিয়ে আসবেন, লোহা-লক্কড়ের মিস্তিরী-মজুররাও কেউ কেউ যে কবিতা পড়ে, সেটা দেখিয়ে দেবেন।

    তার মানে কাকু, তুমি যে কবিতাটা আবৃত্তি করছিলে সেটা শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা? স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে ঝেড়ে নিজেরই হারিয়ে-যাওয়া হৃদয় পুনরাবিষ্কার করছিলে?

    সবাই যোগ দিলো হাসিতে, আর এত কিছু গল্প, এক জন জলজ্যান্ত বিখ্যাত কবির সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা, সবটা মিলেমিশে উত্তেজনায় দুপুরের কাণ্ডটা নিয়ে কোন কথাই হলো না আর।

    তু্লি এখন রান্না করতে শিখেছে, আবদার করলো, মাংসটা ও আর জয়ি মিলে রাঁধবে।

    হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য নামের একটা পাতলা বই বইয়ের আলমারি থেকে প্রায় খুঁজে খুঁজেই বের করলো বাবা। তুলি বললো, একটাই বই! এই কটা মাত্র কবিতা, তাতেই বিখ্যাত কবি!

    কবিতা এই কটা নয়, অজস্র পত্র-পত্রিকায় শক্তির কবিতা ছড়িয়ে আছে। আসলে কী জানিস তো, কলকাতার বাইরে থাকি আমরা, কটা পত্রিকার আর খবর রাখি! এ বইটা শক্তির প্রথম, এর পর আর বেরিয়েছে কিনা জানিনা, তবে এটা জানি শক্তি প্রলিফিক। একটা সময় ছিলো যখন একই দিনে সাত-আটটা লিখেছেন। ঐ হাংরিয়ালিস্ট মুভমেন্টের সময় কয়েকটা কবিতা লিখেছিলেন কিছু কিছু অপ্রয়োজনীয় বাজে বাজে শব্দ ব্যবহার করে। সেটা একটু অ্যাবারেশন গোছের ছিলো, কিন্তু তার পরেই আবার নিজের ছন্দে ফিরে এসেছিলেন।

    সাতটা নাগাদ ডোর-বেল বাজলো, তুলির বাবা দরজাটা খুললেন। ফাইল করে দাঁড়িয়ে তিনজন, প্রথমে বিজনবাবু, তারপর তাঁর বোন, একেবারে শেষে শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

    আরে, এই মহিলাই তো দুপুরে এসেছিলেন, আর চান-টান করে পরিষ্কার পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে চুল-টুল আঁচড়িয়ে এলেও, এই ভদ্রলোক, নির্ভুলভাবে এই ভদ্রলোক দুপুরে গান গেয়ে গেলেন! বিস্মিত দু জোড়া চোখের চোখাচোখি শেষ হতে-না-হতেই, হাত মুছতে মুছতে মা এসেই হতবাক। এক মুহূর্ত! অতিথি ভদ্রমহিলা হাত জোড় করে বললেন, দিদি, তখন কথা বলতে পারিনি, আপনার বাড়িতেই আজ আবার আসবো কে জানতো তখন!

    শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মৃদু মৃদু হাসি, আর বাকি দুজনের বিস্মিত, বিস্ফারিত চোখ। কী হলো ব্যাপারটা!

    শক্তিই কথা বললেন প্রথম: যাঁরা এখনও বোঝেননি, আমিই বুঝিয়ে দিচ্ছি তাঁদের। আপনাদের বাংলোর সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম দুপুরবেলায়, খুব একটা প্রকৃতিস্থ ছিলাম না তখন, পেটে মহুয়া পড়েছিলো। আপনাদের বাড়ির থেকে হঠাৎ ভেসে এলো মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে ডেকেছে কে। এ গানও আমার মাদক, অতএব দুই মাদকের সমাহার। আমি আর থাকতে পারলাম না। জোর করে দরজা খুলিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লাম, তারপর গেয়েওছিলাম বোধ হয়, আমার ঠিক ঠিক মনে নেই, একটু পর এই নীলিমা, আমার স্থানীয় স্বেচ্ছানিযুক্ত অভিভাবক, আমাকে টেনে নিয়ে যায়। আমি ছাড়াও ঘরে যে চারজন সুন্দরী আছেন, সবাই এ ঘটনার সাক্ষী। বাকি দুজনের কৌতূহলের নিবারণ হলো আশা করি।

    সমবেত হাসি আর হৈ-হল্লার মধ্যে কেটে গেলো সন্ধ্যেটা। স্কচ হুইস্কির একটা বোতল ছিলো, মহুয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছিলো, শক্তি পান করতে রাজি হলেন না। বললেন, আজ শুধু চা-কফি, আর দিদি যদি নিজে তৈরি করে আনেন, নিরামিষ সরবত। তুলি আর জয়ি রান্না করেছে শুনে অনেকটা মাংস খেলেন, খেয়ে বললেন, আজ থেকে মাংস খাওয়া ছেড়ে দেবো ভেবেছিলাম, তোরা ছাড়তে দিলি না, দেখি কবে ছাড়তে পারি।

    অনেক রাত অবধি আড্ডা হলো, কবিতা পড়া হলো, হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য থেকে শক্তি নিজেও কয়েকটা কবিতা, উনি বললেন পদ্য, পড়লেন। তুলির বাবা বললেন, কলকাতার বাইরে থাকি, খবর রাখতে পারি না। আপনার হে প্রেম আর কুয়োতলা আমার সংগ্রহে আছে। হে প্রেমের পরেও কী আপনার আর কোন কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছে? শক্তি বললেন, হ্যাঁ, বেরিয়েছে তো, কেন জিরাফ, ধর্মে আছো জিরাফেও আছো! আর সুভাষদা আর অলোকরঞ্জনের সঙ্গে তিন তরঙ্গ। আরে পদ্যের বই ছাপবে কে, বিক্কিরী হবে কটা? ঠিক আছে ভাই, এবার থেকে তো আসবই মাঝে মাঝে, একটা একটা করে সব পদ্যের বই এনে দেব আপনাকে।

    জয়ি কলেজে পড়ে না শুনে বললেন, কলেজে পড়িস না কেন?

    কী হবে পড়ে? আঁকবো তো ছবি, কলেজে তো তা শেখাবে না। কাকুর কাছে অনেক বই আছে, সেগুলো পড়ছি, ছবি দেখছি আর রাস্তা-ঘাট-বন-জঙ্গল-কুকুর-বেড়ালের কাছে আঁকা শিখছি।

    আর মানুষ?

    এখনো মানুষ ধরিনি।

    থাক রে বেঁচে, বেঁচে থাক রে মেয়ে আমার – কাল থেকে পদ্য-লেখা-হাতের কাছ থেকে ছবি আঁকা শিখবি তুই।

    ফেরার সময় তুলি আর ওর বাবাও গেলো। ড্রাইভারকে ছুটি দেওয়া হয়েছিলো, বাবাই ড্রাইভ করলো। জয়িকে নামানো হলো প্রথম। শক্তি বললেন, কাল দশটায় বন্ধুর বাড়িতে আসিস, আমিও আসবো। ছবি আঁকতে বেরোব দুজনে।

    পরের দিন থেকে এটাই রুটিন। সকালবেলা তুলির বাড়িতে চলে আসে জয়ি কাগজপত্তর সঙ্গে নিয়ে, শক্তিদা আসেন কিছুক্ষণের মধ্যেই, হাঁটতে হাঁটতে কত দূর যে চলে যায় ওরা দুজন, কোন কোনদিন তুলিও যায় সঙ্গে, আর যেখানে মনে হয় সেখানেই বসে পড়ে জয়ি কাগজপত্তর নিয়ে। আগ্রাসী ছবি আঁকে জয়ি তখন, ভেতর থেকে কিছু একটা ধাক্কা দেয় মনে হয় ওকে, দ্রুত জোরে জোরে স্ট্রোক দেয় কাগজের ওপর, কিছুক্ষণ পর অবয়ব পায় ছবিটা। শক্তিদা এ-ধার ও-ধার ঘোরে, কোন দিন জোরে জোরে গান গাইতে গাইতে চলে যায় কতদূর, ফেরার সময় একেবারে মাতাল হয়েও ফেরে কখনও কখনও। সেই দিনগুলোয় ডি-ফোরের কোয়ার্টারে পৌঁছিয়ে দিয়ে আসে জয়ি শক্তিদাকে। বিজনবাবুর স্ত্রী বেরিয়ে আসেন, বিরক্তমুখে দরজা খোলেন, শক্তিদা ভেতরে ঢুকে গেলে দরজা বন্ধ হয়ে যায়; কখনো ভেতরে ডাকেন না ওকে বিজনবাবুর স্ত্রী, কথাও বলেন না। নীলিমাদি থাকে যেদিন, একটু হেসে বলে, সাবধানে থেকো জয়ি, নিজের ভালো নিজে বুঝো। কে জানে কেন বলে!

    রাঁচিতে খবর চলে গেছে, শনিবার সকালেই এসে গেলো শ্যামলিমা আর অরুণিমা, শক্তিদার সঙ্গে আলাপ করতে হবে। সুজয়কেও ডেকে নেওয়া হলো, অনলাভ-জুঁইও ওদের দুজন বন্ধুকে নিয়ে হাজির। শক্তিদা বললেন, ব্যাপার কী, কলকাতা থেকে এত দূরে পালিয়ে এসেও পদ্যের হাত থেকে মুক্তি নেই ! শাম্বর পুরোনো সংখ্যাগুলো থেকে বেছে বেছে কবিতা আর নানা লেখা শোনালো ওরা শক্তিদাকে, ছবি দেখালো, অনেক আড্ডা হলো। শাম্বর আগামী সংখ্যার জন্যে একটা কবিতাও লিখে দিলেন শক্তিদা।

    তারপর সবাই যখন চলে গেলো একে একে, শুধু তুলি আর জয়ি বসে, তখন খুব সীরিয়াস মুখ করে জয়িকে হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন শক্তিদা, খেতে না পেলেও ছবি আঁকতে রাজি আছিস?

    এ রকম একটা আচমকা প্রশ্নের জন্যে তৈরি ছিলো না জয়ি, একটু থতমত হয়ে, তারপর ধীরে ধীরে বললো, খেতে পাবো না কেন? ছবি এঁকেই খাব।

    ওরে গাধা মেয়ে, ভ্যান গগ পর্যন্ত খেতে পায়নি ছবি এঁকে, কোন সাহসে বলিস তুই ছবি এঁকেই খাবি?

    খাব খাব, তুমি দেখে নিও, ছবি এঁকেই খাবো আমি, এই প্রথম নিজের অজান্তেই শক্তিদাকে তুমি সম্বোধন করলো জয়ি, বড়ই আপন হয়ে গেছে শক্তিদা এই কদিনে, আর যদি না পারি ছবিই খাবো আস্ত। বললো জয়ি, কিন্তু কী ভেবে বললো কে জানে!

    তাহলে শোন্‌, আজ শনিবার, কালকের দিনটা আছি আমি, সোমবার ফিরবো। সামনের বিষ্যুদ্‌বার কলকাতায় আসবি তুই। কলকাতায় গেছিস কখনো আগে?

    না। তুমি চিন্তা কোর না, ঠিক পৌঁছে যাবো আমি।

    ঠিক আছে, শুক্কুরবার বেলা বারোটায় এলিট সিনেমার সামনে দাঁড়াবি, ওর ঠিক উল্টো দিকে বেঙ্গল লেদার প্রডাক্টসের অফিস, ওদের অ্যাডভার্টাইজিং ম্যানেজার ভূদেব মুকুজ্যে আমার বন্ধু, তোর একটা ব্যবস্থা ভূদেবই করবে। কিন্তু কলকাতায় গিয়ে থাকবি কোথায়?

    জানি না।

    কী সাঙ্ঘাতিক মেয়ে রে তুই, কোথায় থাকবি জানিস না !

    ও থাকবে আমার জেঠুর বাড়িতে, বলে উঠলো তুলি।

    তোর কথায়? গাধার বন্ধু গাধা, অচেনা-অজানা একটা মেয়েকে থাকতে দেবে তোর জেঠু?

    কে অচেনা-অজানা? আমার বন্ধু তো। এই তিন মাস আগেও ওকে দেখে গেলো, বলে অচেনা-অজানা ! দাঁড়াও, বাবাকে ডাকছি।

    বাবা ছিলো বাড়ির ভেতরে, তুলির ডাকাডাকিতে এলো। সব কথা শোনার পর বললো, পার্মানেন্টলি থাকার হয়তো অসুবিধে হতে পারে, কিন্তু আপাতত আমি বলে দিলে দাদার বাড়িতে থাকতে পারবে না কেন? জয়ির সমস্ত ব্যাপারটাই আমি জানি, আমি বুঝিয়ে দেবো দাদাকে। আপনি ওর ব্যবস্থা যদি সত্যিই করে দিতে পারেন একটা থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে ঠিক।

    জয়ি যখন বাড়ি যাওয়ার জন্যে উঠছে, শক্তিদা বললো, কাল আসিস। আমার কাছে ট্রেনিঙের তোর কাল শেষ দিন।

    বাড়ি গিয়ে জয়ি দেখে বাবা এসেছে। বাবাকে সবটা বললো জয়ি। হেমন্ত বললো, হ্যাঁ, একদিন না একদিন তো বেরোতে হবেই তোকে, এমন একজন লোক যদি সাহায্য করে, আমি তোকে আটকাবো কেন? শুধু মনে রাখিস, আমি যতদিন বেঁচে আছি, এ বাড়িতে ফিরবি মনে করলেই। যখন তখন। মনে করলেই ফিরবি। আর আমাকে জানাবি সব, চিঠি লিখে। আমার চিঠিতে কেউ হাত দেবে না। আর একটা কথা, তোর তো কিছু টাকার দরকার।

    টাকা আমার আছে বাবা, আমি তো রোজ সকালে পড়াতে যাই। তিনজনকে পড়াই আমি, আশি টাকা আয় করি মাসে। সে টাকার কিছুই তো খরচ হয়নি।

    হেমন্তর চোখে জল এসে যায়। এত ছেলেমানুষ, নিজের পায়ে দাঁড়াতে একা একা চলে যাবে সে ! এই কটা টাকা যে কিছুই নয়, তা-ও যে বোঝে না, সেই মেয়ে ! মেয়েকে চোখের জল দেখাতে চায় না হেমন্ত, কয়েক মিনিট চুপ করে থেকে নিজেকে সামলিয়ে নেয় সে। তারপর একটা ট্রাঙ্ক খুলে তার ভেতর থেকে বের করে আনে একটা চামড়ার ব্যাগ। মেয়েকে দেয়; বলে, এতে পাঁচ হাজার টাকা আছে, কলকাতায় গিয়েই একটা ব্যাঙ্কে যেন অ্যাকাউন্ট খুলে নেয় সে। তারপর কী ভেবে বলে, তোর তো আঠের বছর বয়েসই হয়নি রে, তোর অ্যাকাউন্ট তো কোন ব্যাঙ্ক খুলবে না। তুই একটা কাজ করিস। তুলিকার জেঠুকে দিস টাকাটা, বলিস রেখে দিতে, তোর দরকার হলে কিছু কিছু করে নিবি। আর শোন্‌, এই পাঁচ হাজারেই শেষ মনে করিস না, এ টাকা কিছুই নয়, টাকা কমে এলেই জানাবি আমাকে, আমি যে ভাবেই পারি পৌঁছিয়ে দেব টাকা তোকে। আমি মরার আগে তোকে দাঁড়াতেই হবে নিজের পায়ে।

    পরের দিন তুলিদের বাড়িতে পৌঁছোলো যখন, কাকু বললেন আগের দিন রাত্তিরেই তিনি কথা বলেছেন জেঠুর সঙ্গে। জেঠু খুবই রাজি। কোনই অসুবিধে হবে না ওর। শক্তিদা এলো একটু দেরিতে। তারপর তুলিদের বাড়িতে দুপুরের খাওয়া সেরে বেরোলো ওরা। অনেকটা হেঁটে একটা শুকনো ঝর্ণার পাশ দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ কেমন যেন মনে হলো শুকিয়ে যাওয়া ঝর্ণার বড় বড় বোল্ডারগুলো কেমন করুণ চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে, অনেক কেঁদে কেঁদে কান্না শুকিয়ে যাওয়া করুণ চোখ ! শক্তিদাকে বললো জয়ি, শক্তিদা, তুমি এগিয়ে যাও। আমি এই ঝর্ণাটাকে আঁকবো।
    তেরছা একটা কোনে ঝর্ণাকে সামনে রেখে বসলো সে। তারপর প্রবল আক্রোশে প্রবল করুণায় প্রবল ভালোবাসায় একটা একটা করে বোল্ডার আঁকতে শুরু করলো জয়ি।

    ছবি শেষ হতে হতে বেলা পড়ে এসেছে। শক্তিদা কোথায়? গলাও শোনা যাচ্ছে না তো, কোথায় গেলো? খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে একটা পাথরের উপর বসলো জয়ি। ঐ তো, ক্ষীণ একটা শব্দ না ! শব্দটা লক্ষ্য করে হাঁটতে শুরু করে সে, আওয়াজটা ক্রমশ স্পষ্ট হতে হতে তাকে বুঝিয়ে দেয় সে ঠিকই আসছে। তারপর দেখতে পায় জয়ি। সূর্যাস্তের সময়। সূর্যটা ডুবেছে অর্ধেক, পশ্চিম আকাশ কালো মেঘ-গোধুলি লালে মিলে অপরূপ। আর সে দিকে মুখ করে একটা বোল্ডারের ওপর বসে উদাত্ত কণ্ঠে গান গাইছে শক্তিদা: হৃদয়ে তোমার দয়া যেন পাই/ সংসারে যা দিবে মানিব তাই...

    চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে জয়ি। ঘুরে-ফিরে একই কথা আসে বারবার: ..তব দয়া মঙ্গল-আলো/জীবন-আঁধারে জ্বালো...

    শেষবার যখন দুঃখে সুখে সম্পদে বিপদে ফিরে আসে আবার, জয়ি ডাকে, শক্তিদা –

    কে? পিছন ফিরে জয়িকে দেখে শক্তিদা, তার এক হাতে একটা বোতল, সেই হাতটা তুলে ধরে গানের সঙ্গে দুলিয়ে বলে: তোমারি দয়া-পানে চাই।

    তারপর এগিয়ে আসে শক্তিদা, জয়ির হাতটা ধরে বলে, চল্‌ যাই। একটু এগোবার পর বোতলটা মুখে দিয়ে খানিকটা গিলে নিয়ে জয়িকে বলে, খাবি?

    না, বলে জয়ি। কোন কথা না বলে এগিয়ে চলে তারা।

    শক্তিদা কি টলছে? শক্তিদার হাত ধরে সাবধানে হাঁটতে থাকে জয়ি।

    তুলিদের বাড়িতে পৌঁছোয় তারা। ভয় করছে রে তুলি, আমার সঙ্গে যাবি? শক্তিদাকে পৌঁছিয়ে দিয়ে আসি ডি-ফোরে।


    ক্রমশ:
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২৫৬ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Urmi Mala | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩:৪২96975
  • অপূর্ব... 

  • Urmi Mala | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:৩০96976
  • এটা কি সত্যি ঘটনা অবলম্বনে? অদ্ভুত সুন্দর৷ বিশেষত কুরুকের গ্রামে মিশে যাওয়া আর স্টীল প্ল্যান্টের জায়গাটা৷ শক্তি চাটুয্যের নাম না আসা পর্যন্ত কল্প উপন্যাস  মনে হচ্ছিল।   সত্যি ঘটনা হলে  জয়মালিকা সেন তবে কে? 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত