• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • এট্টু সাইড করে দাঁড়ান

    Simool Sen
    বিভাগ : আলোচনা | ১৫ জানুয়ারি ২০২০ | ৭৪৯ বার পঠিত
  • কার্যত সিংহের সাহস সঞ্চয় করে লিখছি, মানে অনেক জড়তা কাটিয়ে ঠিক করলাম শেষমেশ, কথাগুলো লেখাই যায়। বিরোধে, চ্যুতিতে, এবং বিসংবাদে রাজনীতির তো বস্তুত কোনও ক্ষতি হয় না, উত্তরপক্ষের অবস্থিতি পূর্বপক্ষকেই আরও জোরালো করে তোলে। বিষয়: হালফিল, ভারত, আন্দোলন।

    গত ডিসেম্বর আমাদের সামনে কোনও ম্লান মেলানকোলিয়া, পরাজয় বা শৈত্য হাজির করে নি, বরং নিয়ে এসেছে উত্তাপ। গনগনে, অগ্নিগর্ভ আঁচ যা ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ কাল, না কি তাৎক্ষণিকতার উত্তেজনা-সংক্রামক শ্রেষ্ঠত্বে হাত না ডুবিয়েই বলব কোনও দিনই অদৃষ্টপূর্ব এক রাজনৈতিক সংঘটনকে: সাধারণ মানুষ। আমাদের দেশের স্বাধীনতা আজকের লব্জে আজাদি ছিল কতখানি, আর কতখানি ক্ষমতা হস্তান্তর ছিল, এই নিয়ে দিস্তে কাগজ খরচা হয়েছে, কলমও। স্বাধীনতা বলে যাকে ঠাউরাই, তা কি আসলে ছিল রাজনৈতিক হাতবদলের ঢ্যাঁড়াপেটানো প্রপঞ্চমায়া, এক এলিট থেকে আর এক এলিট, গোরা সাহেব থেকে কালা সাহেবে ক্ষমতার নিঃসরণ, সে সব চর্চিত তর্ক। সন্দেহাতীত, এই দুস্তর পারাবার ক্রমেই ঘন করেছে ফাটল, বাড়িয়ে তুলেছে শাসক ও শাসিতের ব্যবধান, সত্তর বছরের অভিশপ্ত টোটেমে ক্রমাগত ব্যবহৃত হওয়ার চমৎকার খোরাকে সে নিজেই পর্যবসিত হয়েছে।

    ইতিহাস আমাদের সুযোগ দিয়েছিল। সুযোগ: আত্মসংশোধনের। ভ্যানগার্ডীয় ভ্যানতারা আর কোনও ভাড়াটে মুখপাত্রের একচ্ছত্র মহিমাদাপটে যখন সাধারণ মানুষ, যার মর্জিতে রিপাবলিক চলার কথা, তার বলার পরিসর শীর্ণ হয়ে আসে, জনপরিসরে সে মূক হয়ে পড়ে, সে আর নিজের মত রাজনীতিকে ব্যক্ত করতে পারে না, সেই রক্তশূন্য জঘন্য স্থিতাবস্থা ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ কাল বিরাজমান ছিল। এমন রাজনীতি, যা কেবল অধিকার, চাওয়া, বা দাবি নিয়ে ভাববে না, সব মিলিয়ে এক বার দেশকালের দিকে তাকাবে, এক চমৎকার স্বার্থ নির্মাণ করবে জাতিরাষ্ট্রের বিধিতন্ত্রের বাইীে দাঁড়িয়ে। তার নাম দেশ বলো আর সমাজই বলো, তার অভাব ছিল, বিক্ষিপ্ত নমুনায় দেশ গর্জমান হয়েছে বটে সরোষে, কিন্তু সে নেহাতই টুকরোদর্শন– রাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রাধান্যকামী নিরেট মহাবয়ানের উল্টো দিকে যে স্থাপিত হতে পারে অন্য একটি মহাবয়ান, তার অন্তর্লীন সৌন্দর্যে, সামগ্রিকতায়, এমন জিনিস হয় নি। দেশ জাগ্রত ছিল নতনয়নে অনিমেষে, আর দুম করে প্রতিক্রিয়ার খেলায় সে ব্যক্ত হল, এমনটা তো হয় না স্বাভাবিক বুদ্ধিতে– বরং তার নির্মাণ হয়, যে নির্মাণ আমরা দেখছিলাম– লোকগুলোকে দেখছিলাম রাস্তায় নেমে পড়েছে, কী করবে, কাকে মারবে, কোথায় মিছিল করবে, সাফল্য কী হবে, কিছুই জানে না, তবু তার আকুতি, ছটফটানি, মর্মর। নিজে ভাষা খোঁজা, কিংবা বহু কালের জাবরকাটা সেই সংগুপ্ত ভাষাকে চালিত করা নয়া সংলাপে। ভাষা কাঁপে, ছোটে, নাচে।

    ফলে, এই এমন এক দৃষ্টান্ত, যেখানে গণতন্ত্র, সম্প্রীতি, সংবিধান, উদারতা, সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষতা, যাবতীয় রাষ্ট্রনৈতিক টার্ম যা কেউ ছুঁয়েও দেখে না, রচনায় আসে, আর নয়তো ওপর থেকে দৈব বিধানের মত ক্ষমতার গা বেয়ে চুঁইয়ে পড়ে এই মর্মে যে সকলকে হতে হবে, হয়ে উঠতে হবে আক্ষরিক সেকুলার, তাহা হইবে সুদৃশ্য ও শোভন, মিলে সুর মেরা তুমহারা, অতএব সে-মোতাবেক গড়ে উঠবে নতুন এক প্রাধান্যকামী প্রভুরাষ্ট্র। তার নাগরিক সেকুলার হয়েছে, রাষ্ট্র তার পাঠ শিখিয়েছে নাগরিককে। গোটা প্রকল্প ম-ম করছে নিখুঁত যথার্থতায়, অহো রে। অথচ, এই এক আন্দোলন, যার লক্ষ্যমুখ ধাবিত রাষ্ট্রীয় বিরোধিতায়, অথচ সে বর্ম হিসেবে পরেছে সংবিধান, সেকুলার, গণতন্ত্র – ধারণা সমস্ত উঠে এসেছে, এমন কী, ব্যক্তিগত চর্যার অঞ্চলে৷ সাতচল্লিশের প্রতি তলানির এমন গণস্বীকৃতি অকল্পনীয়। আরও ভাবুন, হিন্দু এলিট সোফাসেট জনতা যেখানে হোয়াটসঅ্যাপ চুটকির ক্যাক্যাছিছিতে মশগুল, রাজনীতির বিনোদনচপল উদভ্রান্ত দর্শকে অবনমিত, রিপাবলিকে প্রতিশ্রুত প্রতিনিধিত্বমূলক নিত্য লেনদেনে রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে অনাগ্রহী ও অসম্মত, বরঞ্চ খাপ খাওয়াচ্ছে পণ্যরতিতে, কর্পোরেট রাষ্ট্রে, ভুবনগ্রামে, তার ভবিষ্যৎ এনারাই, সিঙ্গাপুর, হংকংয়ের চরকিপাকে প্রদক্ষিণরত, তখন এই কাগজবিহীন, বৈধতাবাতিল, গরিবগুর্বো লোকগুলো, এমন কী মার্জিনেরও চরম মার্জিনে অনাদৃত এঁদো মুসলমান মেয়ে পর্যন্ত সাহস করে রুখে দাঁড়াচ্ছে, তদুপরি, কেন্দ্রের হালচাল নিয়ে তার কনসার্ন সর্বোচ্চ– এমন ঘটনা আগে হয় নি। গাঁধীতেও, এমন কী গাঁধীতেও ব্যারিস্টারি মুখ লেগেছিল, বলতে হয়েছিল পূর্বদিগন্তে ঝলমলে রামরাজ্যের ইঙ্গিতময় বিকল্প, আর ওপর থেকে মোবিলাইজ করতে হয়েছিল। যখন সে কাহিনির কাঠামোর বাইরে পা রেখেছে চৌরিচৌরায়, তখন সে বাতিল হয়ে গেছে রূপকথার চৌহদ্দিতে৷ আজ যা দেখছি, আগে কোনও দিন ঘটে নি।

    সত্যি কথা, ফ্যাসিজম কখনও বড় উপকার করে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আমাদের আধুনিকতার সম্ভাব্য নঞর্থক চড়াই-উতরাইকে চিনিয়ে দিয়েছিল। ভারতের মত বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় আরএসএস কায়েম না হলে আমরা কি জানতাম, এলিটবিরোধী তুমুল ক্ষোভ, কী সেই গহিন উপাদান, যা এলিট বুদ্ধিজীবী, এলিট বিশ্ববিদ্যালয়, এলিট মিডিয়ার বিরুদ্ধে নাগাড় ক্ষোভ উদগীরণ করে? নিন্দিত সত্তর বছরেও তো এর জীবাণু নিহিত ছিল, এ' কথা গিলে ফেলা অনৃতভাষণ, এই মুখরিত সত্যকামী পরিবেশে এটুকু স্বীকারোক্তি এই হিংস্র শক্তির কাছে ঋণস্বীকার-মারফত বলাই যায়। তাই বলছিলাম কী, দাদারা ও দিদিরা, এত কাল যারা রাজপথে 'ছিলেন', প্লিজ, একটু সাইড করে দাঁড়ান। ইতিহাস এমন সুযোগ চট করে দেয় না৷ যাঁরা আজ কথা বলতে পারছিলেন একটু একটু করে, তার ভাষ্যকে বেনামে ছিনতাই করে নিজের পরত চাপাবেন না। আপনাদের সুশীল হারমোনিয়াম গিটার ও বিবেকদীর্ণ উচ্চারণ একটু থামান, কাংস্যবিনন্দিত রবীন্দ্রগান এট্টু মুলতুবি থাক, বাতিল হোক অন্য পরিসরে লম্ফ মেরে ঝাঁপ দিয়ে আজ সন্ধের বিচিত্রানুষ্ঠান৷ পরিসর দখল করলে গণতন্ত্রকে সত্যিই স্বরাজে পরিণত করার এই মোক্ষম সুযোগ আমরা হারাব, গাঁধীও যেমন বলতেন, স্বরাজ আসবে এমন কী সব চেয়ে তলানির লোকটিরও অচ্ছে দিন হয়ে। ময়দানে সন্ধেবেলার মৈত্রীটি ভণ্ডুল হোক, বরং আদত মৈত্রী ও সহযুদ্ধে আমরা মিলিত হই, সংশোধিত ইতিহাসের সামনে। প্লিজ, একটু সাইড হোন। ব্লগ সকলে তো পড়েন না। এই ধরনের বাংলা সেই অনেকে দিব্যি মাড়িয়ে যাবেন। তা ব্যতীত, যাঁরা পড়েন, ধরে নিন, সেই সমষ্টির নব্বই শতাংশকে বললাম কথাটা। বলছি, আজাদির নামে একটু সাইড হয়ে দাঁড়ান।
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৫ জানুয়ারি ২০২০ | ৭৪৯ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • বাপ্রে | 106.193.241.156 | ১৫ জানুয়ারি ২০২০ ২৩:১১45395
  • আপুনি কে গ? নাম নাই শুধুই নম্বর। এদিকে প্যারা নাই ব্রেক নাই একদমে এক কিমি নামিয়ে দিছেন যে।
  • test | 162.158.58.222 | ১৬ জানুয়ারি ২০২০ ০০:৫৪45396
  • নাম ও ফরম্যাটিং ঠিক হয়েছে
  • palaash | 162.158.166.146 | ১৬ জানুয়ারি ২০২০ ১৭:২৬45398
  • বেণুবনে মুক্তো ছ্ড়ালেন ভাই, এদের খালি মুখে গণতন্ত্র, বিরুদ্ধমত দেখলেই এরা দাঁত, নখ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
  • বিপ্লব রহমান | 162.158.166.254 | ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ১২:১৮45408
  • "এই কাগজবিহীন, বৈধতাবাতিল, গরিবগুর্বো লোকগুলো, এমন কী মার্জিনেরও চরম মার্জিনে অনাদৃত এঁদো মুসলমান মেয়ে পর্যন্ত সাহস করে রুখে দাঁড়াচ্ছে, তদুপরি, কেন্দ্রের হালচাল নিয়ে তার কনসার্ন সর্বোচ্চ– এমন ঘটনা আগে হয় নি।"  

    নতুন করে ভারতবর্ষের  ইতিহাস লেখা হচ্ছে।  আজাদী!      

  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত