এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • গুন্ডাদমন

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    ২৮ জুন ২০২৬ | ২৫ বার পঠিত
  • দলীয় রাজনীতি বা কচকচি ছাড়ুন, ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গীর একটা বিরাট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগেই ছিল, কিন্তু গতি ক্রমশ বাড়ছে। একটা সময়, ঢিলেঢালা ভারতীয় ইউনিয়নে দুটো জিনিস প্রায় ধ্রুবসত্য ছিল, ১। কেউ কোনো অভিযোগ আনলে প্রমাণের দায় তার। ২। দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত, সব্বাই নির্দোষ। এই দুটো জিনিসই ক্রমশ উবে যেতে বসেছে। শুধু অপরাধের ক্ষেত্রে নয়, সর্বত্র। মিডিয়ায় দেখুন, কে দোষী আর কে নয়, খাপ পঞ্চায়েতে আগেই ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে, তথ্য প্রমাণ যুক্তি, এসবের আর জায়গা থাকছেনা। আইনে দেখুন, ইউএপিএ বা অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত আইনগুলো এমনভাবেই তৈরি হয়েছে, যে, অভিযোগ এলেই কিছু বছর জেল খেটে নিতে হবে, প্রমাণ-টমান পরের কথা। আর সঙ্গে মিডিয়া ঢাক পেটাবে, যে, ওই দেখো অপরাধী। আদালতের এখানে কিছুই করার নেই, তারা আইন বানায়না। যেখানে আদালতের কিছু করার আছে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে এই প্রবণতা। ২৬০০০ চাকরি বাতিলের কথা মনে করুন, সেখানে নিশ্চয়ই কিছু দুর্নীতি ছিল, কিন্তু নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত না করতে পারায় সব্বাই শাস্তি পেয়ে গেলেন।

    নাগরিকত্বের কথায় আসুন। ২০০৩ এ বা আরও আগে ১৯৮৬ সালে যখন নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী হয়, তখনই একটা ব্যাপার চালু হয়েছিল, যে, একবার ভারতে জন্মে গেলেন মানেই আপনি নাগরিক তা নয়। কিন্তু তখন সুদূরপ্রসারী কল্পনাতেও কেউ এর ফলাফল ভাবেননি। ক্রমশ ব্যাপারটা দাঁড়াল এনআরসি হয়ে এসআইআরে। নাগরিকত্বের মাপকাঠি কী আর জানা যাচ্ছেনা। এমনকি পাসপোর্টও নাকি প্রামাণ্য না। ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এই, যে, রাষ্ট্র আপনাকে কাঠগড়ায় তুলেই রেখেছে। কেউ একবার লজিকাল বা অন্য ডিসক্রিপেন্সির অভিযোগ করে দিলেই আপনি অপরাধী। এবার বিচারে গিয়ে প্রমাণ করুন আপনি অপরাধী নন।

    জনকল্যাণের ক্ষেত্রেও দেখুন। ১০০ দিনের কাজ ইত্যাদি যখন শুরু হয়, আইডিয়াটা ছিল, যে কেউ এই সুবিধা পেতে পারেন। তারপরে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এক এক করে এল স্বাস্থ্যসাথী বা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। সবকটাই সার্বজনীন। কেউ জালি করে কিছু টাকা পেতেই পারেন, কিন্তু একজন যোগ্যও যেন বাদ না যায়, সেটাই ছিল লক্ষ্য। নতুন জমানা এসে সেটা উল্টে গেল। আয়ুষ্মান ভারত সার্বজনীন না, সে জানাই ছিল। অন্নপূর্ণার ব্যাপারটা জানা ছিলনা। কিন্তু মন্ত্রী ঘোষণাই করে দিলেন, ওটা সার্বজনীন না। বহু পাতার ফর্ম তৈরি হল, কিন্তু মজাটা হল পাবার মাপকাঠিটা কী এখনও কেউ জানেনা। কোনো একদিন জানা যেতেই পারে, কিন্তু কথাটা হল, নীতিগতভাবে ব্যাপারটা একই। বলে দিলেই হল, আপনি যোগ্য না। কিংবা জালি করেছেন। এবার আপনি প্রমাণ করতে দৌড়ন, যে, আপনি দুষ্ট না।

    এরপর শুনছি, কিছু একটা গুন্ডা বিল আসছে। বিশদটা জানিনা, কিন্তু আন্দাজ করা যায়, যাকে খুশি গুন্ডা আখ্যা দিয়ে অপরাধী বলে দেওয়া যাবে, যতক্ষণ না সে ব্যাটা প্রমাণ করতে পারছে সে গুন্ডা না। এবার একটা লোক নিজেকে কীকরে 'গুন্ডা-নয়' প্রমাণ করবে কেউ জানেনা। কোন কাগজ দেখাবে, ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট? অবশ্য কাগজের আর কী মূল্য। কোন কাগজে নাগরিক প্রমাণ করা যাবে তাইই কেউ জানেনা, তো গুন্ডা।

    কথা হল, রাজনীতি-টিতি বাদ দিলেও রাষ্ট্রের চরিত্রে এই তফাতটা হচ্ছে, খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে। নাগরিককে সামগ্রিকভাবেই দেখা হচ্ছে সন্দেহের চোখে। এবং বিচারেও দায়টা নাগরিকেরই। পুরোটাই কীরকম ডিমের ন্যায়বিচার ধরণের। আগে তো ডিম ছুঁড়ে নিই। মিডিয়ায় বলে দিই জনরোষ। ধরে নিই। তারপর সে ব্যাটা এসে প্রমাণ করুক, সে অপরাধী নয়। এবং এই পদ্ধতির গতিটা ক্রমশ বাড়ছে, কমছে না।




    বিখ্যাত গুন্ডাদমন আইনের খসড়াটা দেখার সৌভাগ্য হল। পশ্চিমবঙ্গে দুটো জমানা দেখেছি, এর ধারেকাছেও কিছু দেখিনি। এবার অবশ্য অনেক কিছুই নতুন। বাম জমানায় কিছু হলেই শুনতাম ৭২-৭৭ এর সন্ত্রাসের কথা। তৃণ জমানার লব্জ ছিল ৩৪ বছরের অপশাসন। এই বারই প্রথম দেখছি, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে। ডিম ছুঁড়ছেন কেন? জিজ্ঞাসা করলে শোনা যাচ্ছে, জানেন ওরা এলে ক্ষেপনাস্ত্র ছুঁড়ত? কোমরে দড়ি দিয়ে ঘোরানো হচ্ছে কেন? না, ওরা এলে তো গলায় দড়ি দিয়ে দিত। এর পুরোটাই চলছে বীরবিক্রমে, মিডিয়ার সম্পূর্ণ সমর্থন সহ, যেটা আগের কোনো জমানায় দেখিনি।

    এই পুরো যে জিনিসটা চলছে, সেটাকে সারসংক্ষেপ করে সরকারি করে দিলেই পাবেন গুন্ডাদমন বিল, যার পোশাকি নাম হবে 'পশ্চিমবঙ্গ জনসুরক্ষা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল আইন, ২০২৬'। এতে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কাকে বলা হয়েছে? সাতটা জিনিসকে, তার মধ্যে প্রথমটাই হল, "সমাজবিরোধী কার্যকলাপ মানে হল সমাজবিরোধীদের এমন কাজ, যা সরাসরি অথবা ঘুরিয়ে জনসাধারণ বা তার কোনো অংশের মধ্যে সতর্কতা, বিপদ, ভয়, নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে, বা তার সম্ভাবনা থাকে'। ভাবুন। একে তো সমাজবিরোধীতার সংজ্ঞার মধ্যেই সমাজবিরোধী ঢুকে বসে আছে। জ্যান্ত জিনিসের কার্যকলাপকেই বলে জীবন - ধরণের ব্যাপার। কিন্তু তার চেয়েও বড় ব্যাপার হল, জনতার কোনো অংশ, ধরুন জনতার একাংশ, ধরুন শাসক দলের মধ্যে আপনার কার্যকলাপে সতর্কতা তৈরি হল, বা হবার সম্ভাবনা হল। ব্যস, আপনি সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হয়ে গেলেন। অতএব সমাজবিরোধীও।

    "গুন্ডা"রও একটা সংজ্ঞা আছে প্রস্তাবিত বিলে। গুন্ডা চার রকম ভাবে হওয়া যেতে পারে। তার মধ্যে একটা হল, "সাধারণভাবে জনসমাজে মরীয়া এবং বিপজ্জনক বলে সুপরিচিত"। মরীয়া হওয়ায় কী সমস্যা বুঝিনি। কিন্তু তার চেয়েও বড় হল, শুনে মনে হবে, টিভির "জনরোষ"এর খবর দেখছেন।

    এই দুটো যোগ করলেই আপনি পেয়ে যাবেন, ভবিষ্যৎকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার আইন। তিনটি ছেলে কারো বাড়িতে চড়াও হলে টিভিতে এখন কী বলে? "অমুক খুব বিপজ্জনক হতে পারে, ছাড়া থাকলে কী করবে বল মুশকিল, তাই জনরোষ আছড়ে পড়েছে", এই তো মোটামুটি। এখন আইনেই পাচ্ছেন, অমুক মরীয়া এবং বিপজ্জনক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত, তাই গুন্ডা। আর অমুককে দেখে অমুকের আতঙ্ক হচ্ছে, তাই অমুক সমাজবিরোধী।

    কিন্তু এ তো শুধু চিহ্নিত করা। তারপর কী হবে? অনেক লম্বা লম্বা ক্লজ আছে। কে কাকে চিহ্নিত করতে পারবেন, কে কী করতে পারবেন। কিন্তু মোদ্দা কথাটা হল, রাজ্য সরকার চাইলে একজন ডিএম বা এসপির নির্দেশানুসারে এই ধরণের লোকজনকে সংশোধনাগারে "ডিটেন" করে রাখা যেতে পারে। সেটা এক বছর অবধি হতে পারে। যেহেতু গ্রেপ্তার নয়, তাই কোর্ট-টোর্টের কোনো উল্লেখ দেখলামনা। একটা অ্যাডভাইসারি বোর্ড তৈরি করবে সরকার, সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখার জন্য তাদের কাছে যেতে পারে। এছাড়াও, গুন্ডা সন্দেহ হলেই, যেকোনো জায়গায় ঢোকা, সার্চ করা, সিজার, এসবও করা যাবে, ওয়ারেন্ট টোয়ারেন্টের কোনো উল্লেখ নেই। কোনো এলাকা থেকে এলাকাছাড়াও করা যেতে পারে।

    ফলে মোদ্দা ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে, জনতার একাংশ, ধরুন, শাসক দলের মনে হল আপনি বিপজ্জনক। তারপর সরকার চাইলেই, আপনাকে গুন্ডা আখ্যা দিয়ে যেখানে খুশি সার্চ করতে পারে, যেকোনো এলাকায় ঢোকা নিষিদ্ধ করতে পারে। এবং ১ বছর অবধি জেলে ভরে রাখতে পারে। বিচারের ব্যাপারই নেই, কারণ, জেলে থাকলেও আপনি গ্রেপ্তার তো হননি। ভাবুন, কী অসাধারণ উদ্ভাবন। জঙ্গলের রাজত্বকে আইনে পরিণত করার এর থেকে সুবন্দোবস্তো পাওয়া কঠিন।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন