এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • জীবন তরঙ্গ পর্ব ৩৭ 

    Sukdeb Chatterjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ মে ২০২৪ | ৮১ বার পঠিত
  • জীবন তরঙ্গ  পর্ব ৩৭

    কচিদার বাড়ি থেকে বেরিয়ে নয়ন রাস্তায় একটু এদিক ওদিক দেখছিল।

    --কি খুঁজছিস?

    --দেখছিলাম, যদি একটা রিক্সা পাওয়া যায়। 

    --চট করে পাবি না। এদিকটায় সব আমার মত ভি আই পি লোকজন বাস করে। খুব ঠেকায় না পড়লে এরা হেঁটেই যাতায়াত করে। চিন্তার কিছু নেই, চল আমি তোকে স্টেশন পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসছি।  

    ---আরে না না, তুমি এই একটু আগে বাড়ি এলে।  আবার একবার যাবে আসবে! তোমাকে আর কষ্ট করে যেতে হবে না। ক্লান্ত হয়ে আছ, বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম কর।

    ---পাকামো করিস না, চল।

    রাস্তায় আলো অনেকটা দূরে দূরে। ফলে চারপাশটা বেশ অন্ধকার। কচিদা সাথে না এলে অচেনা জায়গায় নয়নের একটু অসুবিধেই হত। পাশাপাশি হাটতে হাটতে অনেকক্ষণ ভেতরে  গুলোতে থাকা প্রশ্নটা করে ফেলল---কচিদা সত্যি করে বল তো, বৌদির কি হয়েছে।   

    ---কি আবার হবে, বললাম না...

    নয়ন থামিয়ে দিয়ে বলল--- একদম বাজে বকবে না, কি হয়েছে আমায় বল। পাশ কাটাবার চেষ্টা কোরো না। তুমি যে সত্যি কথা বলছ না, সেটা একটা বাচ্চাও বুঝতে পারবে।  

    নয়নের চাপাচাপিতে আর থাকতে না পেরে প্রকৃত ঘটনাটা বলতে শুরু করল--- বিয়ের পর প্রায় বছর খানেক ভালই ছিল রে। রান্নাবান্না, ঘরের কাজ, সবই করত। দরকার পড়লে দোকান বাজারেও যেত। ওর বাপের বাড়িতেও একাই যাতায়াত করত। ও আসার পর মাও একটু  বিশ্রাম পেয়েছিল। চলছিল একরকম। সারা দিনই কিছু না কিছু করত। ওকে শুয়ে বসে থাকতে খুব একটা দেখিনি। একদিন সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে দেখি চম্পা চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। মা বলল যে, দুপুর থেকে ওর শরীরটা ম্যাজম্যাজ করছে।  হাত দিয়ে দেখলাম, গাটা একটু গরম মনে হল। সামান্য জ্বর, সকলেরই হয়। পরের দিন ডাক্তার দেখিয়ে  ওষুধ খাওয়ালাম। উপকার  যে হল না তা নয়। জ্বরটা কমল।  কিন্তু শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ল। শরীরে কোন জোর নেই। একটু হাঁটাহাঁটি করলেই মাথা ঘোরে।  ভাবলাম কড়া অ্যান্টিবায়োটিকের অ্যাকশন, কয়েকদিন একটু ভালভাবে খাওয়া দাওয়া করলেই ঠিক হয়ে যাবে। খিদেটাও একেবারে চলে গিয়েছিল। মা জোর করে যতটুকু যা খাওয়াত। কিন্তু সময় যত গড়াল, শরীরের  ক্ষমতা আরো কমে  গেল।  প্রথম  দিকে ধরে ধরে চলাফেরা করত, পরে তাও পারত না। আর এখন তো বিছানাতেই সব। আমার ক্ষমতায় যতটা কুলোয় ডাক্তার দেখিয়ে চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোন  লাভ হয়নি। চম্পার কি হয়েছে, সেটাও ডাক্তার পরিষ্কার করে বলতে পারল না। কোলকাতার আরো নামী ডাক্তার দেখালে হয়ত কিছু উপকার হত, কিন্তু সে তো ভাই আমার ক্ষমতা নেই।  বুড়িটার দেখভালের জন্য বিয়ে করলাম‌, কিন্তু এমনই কপাল যে, বুড়িটাকেই এই বয়সে   চম্পার সবকিছু  সামলাতে হচ্ছে। আমি আর কতক্ষণ বাড়িতে থাকি। যাক্ বাদ দে ওসব কথা,  দেখতে  দেখতে এখন সব সয়ে গেছে। রোগ হয়েছে বলে মন খারাপ করলে হবে! কারো শরীর  খারাপ না হলে ডাক্তারদের চলবে কি করে বলত!  ওদের দিকটাও তো ভাবতে হবে।

    এত ঝড়ঝাপ্টা , অনটন, কষ্টের মধ্যেও কি অদম্য প্রাণশক্তি। নয়নের কাছে হাজার খানেক  টাকা ছিল। ওটা কচিদার পকেটে জোর করে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল--- এটা রাখ।  আমি আরো টাকা দিয়ে যাব। বৌদির ভাল করে চিকিৎসা করাও। বৌদিকে সারিয়ে তুলতেই হবে।

    দিনান্তে ক্লান্ত সূর্য বিদায় নিয়েছে। দূরের অন্ধকার চিরে ছুটে আসা শেয়ালদাগামী বজবজ   লোকালের হেডলাইটের আলো বড় থেকে আর বড় হচ্ছে।

    ট্রেনে ওঠার আগে নয়নের হাতটা চেপে ধরে কচিদা বলল---ঠিক বলছিস ভাই! চম্পা ভাল  হয়ে যাবে?  

    ---সবাই মিলে দেখিনা একটু চেষ্টা করে।

    কচিদার চোখে জল। হয়ত ঘোর অন্ধকারে ক্ষীণ আলোক শিখা দেখতে পাওয়ার আনন্দে।

    ট্রেনে ওঠার সময় জড়িয়ে ধরে বলল---আবার আসিস ভাই।

    আসতে তো হবেই। জীবনের চরম দুঃখ-দুর্দশা অবিশ্বাস্য ক্ষমতায় হাসি, ঠাট্টা, মস্করা করে   উড়িয়ে দিয়ে যে মানুষ সকলকে আনন্দে রাখে তার আনন্দ এভাবে ফুরিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।  নয়ন অত্যন্ত ভারী মনে বাড়ি ফিরল।

     

    নয়ন বন্ধু বান্ধবদের কচিদার অবস্থার কথা সবিস্তারে জানাল। সকলেই একমত, কিছু একটা করতে হবে। বন্ধুরা সকলে উদ্যোগ নিয়ে টাকা সংগ্রহ করতে শুরু করল। কচিদাকে সকলেই চিনত, ভালোবাসত, ফলে চেনা লোকেরা প্রায় প্রত্যেকেই তাদের সামর্থ্য মত সাহায্য করল।  দিন পনেরোর চেষ্টায় ভাল টাকাই উঠল। পরের রবিবার নয়ন, শোভন আর নিতাই কচিদার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল। আক্রায় নেমে তিনজনে রিক্সয় উঠল, কিন্তু কোথায় যাবে সেই জায়গার নাম কেউ বলতে পারছে না। নয়নই একমাত্র ওর বাড়িতে গেছে। কিন্তু সে তো কচিদার সাথে গেছে,  আবার ওর সাথেই ফিরে এসেছে। জায়গার নাম জানার দরকার হয়নি। নয়ন জায়গা আর  বাড়ির বর্ণনা দিতে রিক্সওয়ালা কিছুটা আন্দাজ করল। রাস্তাটা নয়ন চেনে, ফলে পৌঁছতে অসুবিধে হয়নি। দরজা দিয়ে আগের মতই প্রায় হামা দিয়ে ওরা বাড়িতে ঢুকল। নিতাই রীতিমত আশ্চর্য হয়ে বলল—এই গাছ গাছড়ায় ভরা পোড়ো বাড়িতে থাকে কি করে? সাপখোপ তো আছেই, বাঘ ভাল্লুক থাকাও বিচিত্র নয়। তাছাড়া বাড়ির যা অবস্থা দেখছি, যে কোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। এই বাড়িতে কোন মানুষ থাকতে পারে!  

    নয়ন বলল-- একেবারেই নিরুপায় হয়ে থাকে। ওর কাছে এর একটাই বিকল্প আছে, রাস্তার ধারে  খোলা আকাশ।

     

    কচিদা বাড়িতেই ছিল। দুবার ‘কচিদা’ বলে হাঁক পাড়তেই বেরিয়ে এল।

    --নিতাই, শোভন,  কতদিন পর তোদের দেখলাম। আয় ভেতরে আয়।

    নয়ন বলল—ভেতরে যাওয়ার আগে এগুলো তুমি রাখ।

    --এগুলো কি?

    --এই খামটায় বৌদির চিকিৎসার জন্য  কুড়ি হাজার টাকা আছে। আর ওগুলো একটু ফল,  মিষ্টি আর টুকটাক কিছু জিনিসপত্র। বড় ডাক্তার দেখাও, টাকার জন্য চিন্তা কোরো না। আমরা ব্যবস্থা করে দেব।

    --তোদের বৌদি থাকলে তো চিকিৎসা করাব। মা বুড়ো মানুষ, তার সাধ্যের বাইরে গিয়ে বৌমার দেখাশুনা করছিল। আমিও আমার সাধ্যমত চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তোর  বৌদির সইল না, চলে গেল। এসব মেয়েকে কি বলবি বল!

    কচিদা যে কি বলতে চাইছে  তা কিছুই বুঝতে না পেরে সকলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকল। নয়নের এটা মাথায় আসছে না, যে মহিলা বিছানা থেকে নামতেই পারত না, সে কি করে চলে যায়।

    --কিরে সবাই চুপ করে আছিস কেন?

    শোভন জিজ্ঞেস করল—বৌদি কোথায় চলে গেছে?

    --না ফেরার দেশে। আজ ষোল দিন হল।

    কচিদার চোখের কোনটা চিকচিক করছে।

    নয়ন গিয়ে জড়িয়ে ধরতে কচিদা কেঁদে ফেলল।

    --রাখতে পারলাম নারে। আমার মত আধা ভিখারির পক্ষে যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারলাম না। রহড়ায় থাকতে আমি আর মা দুজন ছিলাম, আবার আমদের সেই দুজনের সংসার হয়ে গেল। চল তোরা ভেতরে চল।

    আধো অন্ধকার ঘরে তিনজনে এক এক করে ঢুকল। চৌকিটা ফাঁকা। নয়নের অবচেতন মন  খাটের কোনায় এক অশক্ত নারীকে খুঁজছিল। কচিদার মা ঘরেই ছিলেন। আগের দিন নয়নের সাথে কত  গল্প করেছিলেন। সেদিন সেই ইচ্ছেটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন। ওরা টাকা আর সাথে আনা জিনিসপত্র গুলো মাসিমার হাতে একপ্রকার জোর করেই দিল।

    চলে আসার আগে নয়ন অনেক অনুরোধ করে করল—কচিদা, তোমরা রহড়ায় ফিরে  চল। আমরা সব ব্যবস্থা করে দেব। কোন অসুবিধে হবে না। তুমি তো এখন আর চাকরি করনা  যে, এদিকেই থাকতে হবে। এই জঘন্য পরিবেশে তোমায় আর থাকতে হবে না। ফিরে চল কচিদা, আবার আমরা  একসাথে আগের মত আনন্দে দিন কাটাব।

    কচিদা হেসে বলেছিল—তোরা আমার জন্য এখনো কত ভাবিস। পুরনো দিনগুলো ফিরে পেতে   আমারও বড় লোভ হয় রে।  

     
    চলবে
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন