এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • জীবন তরঙ্গ - ২৪ 

    Sukdeb Chatterjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১১ মে ২০২৪ | ৮৫ বার পঠিত
  • জীবন তরঙ্গ - পর্ব ২৪

    নয়নের বাগবাজারে থাকাটা নির্ধারিত সময়ের থেকে কিছুটা বেড়ে গেল। কলেজ খুলে গিয়েছিল, ফলে শেষ দু দিন মামার বাড়ি থেকেই কলেজে গেল। নয়ন এদিক ওদিক গেলেও আড্ডার টানে দু এক দিন বাদেই ফিরে আসত। বাইরে বেড়াতে যাওয়া ছাড়া এতদিন রহড়ার বাইরে খুব কমই থেকেছে। আড্ডার টানকে উপেক্ষা করে এবারে রইল। কারণ একটাই, ঈজা। মেয়েটা স্মার্ট, বুদ্ধিমতী, কথা বলে আনন্দ আছে। ওর সঙ্গ, সংসর্গ নয়ন উপভোগ করছে।

    বাগবাজারে আসার তৃতীয় দিন সকালে নন্দ স্কুলে বেরিয়ে যাওয়ার পর ঈজা এল। চলুন, মা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আর মা বলে দিয়েছে, দুপুরে আমাদের ওখানে খাবেন।

    -- এরকম তো কথা ছিল না। আমাদের খাবারগুলোর কি হবে?

    -- রাতে খাবেন।

    ঈজার মা শান্ত প্রকৃতির ভাল মানুষ। খুব যত্ন করে খাওয়ালেন। বাড়ির সকলের খোঁজ খবর নিলেন। তিনজনে মিলে অনেক গল্প হল। খানিকটা সময় কাটিয়ে, আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, নয়ন ওপরে চলে এল।

    কলেজ খুলে যাচ্ছে তাই পরের দিন নয়নের রহড়ায় ফিরে আসার কথা। দুপুরে একটা লম্বা ঘুম দিয়ে উঠে ব্যাগে জামাকাপড়গুলো গুছিয়ে রাখছিল। দরজায় টোকা পড়তে খুলে দেখে ঈজা।

    -- এস এস ভেতরে এস। আজ তোমাদের ঘর থেকে খেয়ে এসে, সলিড একটা ঘুম দিয়ে এইমাত্র উঠলাম।

    -- ব্যাগ গোছাচ্ছেন! আপনি কি চলে যাবেন?

    -- হ্যাঁ, কাল একেবারে ভোরে রহড়ায় ফিরে যাব। কাল কলেজ খুলে যাচ্ছে, বাড়ি গিয়ে আবার কলেজে আসতে হবে।

    -- কাল না গেলেই নয়!

    -- কেন, কাল কি আছে?

    -- কিছুই নেই, এমনি বলছি। আপনি থাকলে আমার ভাল লাগবে।

    -- এখানে তো পাকাপাকিভাবে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, আমার নিজের বাড়ি আছে, বাবা, মা আছে।

    -- সে আমিও জানি। পাকাপাকিভাবে থাকতে বলছি না। আর দুটো দিন থেকে যান।

    -- আমার কলেজ কামাই হয়ে যাবে।

    -- এখান থেকে কলেজ যাওয়া যায় না বুঝি!

    -- কিন্তু বই খাতা তো সব রহড়ায় পড়ে আছে।

    -- দোকান থেকে একটা খাতা কিনে নিন, আর পেন কাকুর কাছে অনেক আছে। ওরকম করছেন কেন? থেকে যান প্লিজ।

    -- ঠিক আছে ম্যাডাম থাকব। একটা কথা জিজ্ঞেস করি?

    -- বলুন।

    -- দুদিন আগে আমাকে চিনতে না। আগে কখনো দেখোনি। এইরকম একটা সদ্য চেনা ছেলেকে এতবার করে থাকার জন্য অনুরোধ করছ কেন?

    -- ওই তো আগেই বললাম, আমার ভাল লাগবে।

    -- আর একটু পরিষ্কার করে বল।

    -- এর থেকে আর পরিষ্কার করে কি বলব!

    -- মাত্র দুদিনেই আমার মত সাদামাটা একটা ছেলেকে তোমার ভাল লেগে গেল। কি দেখলে আমার মধ্যে?

    -- সব কিছু কি আর হিসেব করে হয়? এবার আমি একটা কথা জিজ্ঞেস করি?

    -- কর।

    -- আমার এই ভাললাগাটায় কি আপনার অনুমোদন আছে?

    -- কঠিন প্রশ্ন। উত্তর কি এখনই দিতে হবে?

    -- উত্তর পেলে আমার ভাললাগাটা পূর্ণতা পাবে।

    -- তোমার প্রস্তাবে না বলার তো কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

    ঈজা উৎসাহে লাফিয়ে উঠে বলল—থ্যাঙ্ক ইউ নয়নদা। আজ আমার জীবনের রেড লেটার ডে।

    -- আমারও। তোমাকে দেখার পর থেকেই আমার মধ্যেও একটা ভাললাগার অনুভুতি আসে। তুমি প্রকাশ করেছ, আমি সংকোচ করেছি। ঠিকই বলেছ, সব কিছু অংকের নিয়মে হয় না। আর একটা কথা, দাদার সাথে তো প্রেম করা চলে না, নয়নদা বলে আর ডেক না। আর ‘আপনি’ নয় ‘তুমি’।

    -- কি বলে ডাকব?

    -- সেটা তুমিই ভেবে ঠিক কর। তবে লোকেদের সামনে যেমন ডাকতে তেমনই ডেক, না হলে সমস্যা বাড়বে।

    -–ঠিক আছে, তাই হবে। এবার চলি, অনেক দেরি হয়ে গেল।

    -- এত বড় একটা ঘটনার কোন উদযাপন হবে না।

    -- বুঝলাম না।

    -- একটু আগে তুমি বললে যে আজ তোমার জীবনের একটা বিশেষ দিন। পালা পার্বণ থেকে আরম্ভ করে জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী, যে কোন বিশেষ দিন নিজস্ব রীতিতে উদযাপিত হয়। না হলে দিনটা গুরুত্ব হারায়।

    ইঙ্গিত বুঝতে পেরে একটু লজ্জা পেয়ে ঈজা নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল—আজ কিভাবে উদযাপিত হবে?

    -- কাছে এস, বুঝিয়ে দিচ্ছি।

    ইজা গুটি গুটি পায়ে নয়নের কাছে এগিয়ে গেল। নয়ন ইজাকে বুকে টেনে নিল। ঈজার ভেতরটা তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। ঈজাও নয়নকে আঁকড়ে ধরল। নয়ন দুহাতে ঈজার মুখটা তুলে ধরে চুমু খেতে লাগল। ঈজাও চরমভাবে প্রতিদান দিল। বেশ কিছুক্ষণ দেওয়া নেওয়ার পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সমাপ্ত হল।

    একটু আদর করে দিয়ে নয়ন বলল—আজকের এপিসোড এখানেই শেষ। এবার নিচে যাও, না হলে মায়ের কাছে বকা খাবে।

    -- একটা অনুরোধ করছি। এই দুটো দিন কলেজ যাওয়া চলবে না। কলেজ গেলে আপনাকে আর একা পাব না। কাকু এসে যাবে।

    -- এতগুলো চুমুর পরেও আপনি!

    -- একটু সময় লাগবে, দু একদিন বাদে ঠিক হয়ে যাবে। আর ঐ কথা রইল কিন্তু , আগামী দুদিন কলেজ কামাই করতে হবে।

    -- এতকরে বলছ যখন, তাই হবে।

    একবুক ভালবাসা নিয়ে একটা ঘোরের মধ্যে পাক খেতে খেতে ঈজা নিচে এল। কেমন যেন রূপকথার মতো মনে হচ্ছে। একটা অজানা অচেনা ছেলে দুদিনে, মাত্র দুদিনে মনটার দখল নিয়ে নিল। ঈজা ঘরে চেয়ারে বসে খানিক আগের সুখ স্মৃতির জাবর কাটছিল।

    “এই মেয়ে।”

    মায়ের ডাক শুনে ঈজার আচ্ছন্নভাব কাটল।

    ঈরা একটু চিন্তিত হয়ে বলল-- কিরে ডাকছি, সাড়া দিচ্ছিস না। চুপচাপ বসে রয়েছিস! ওপরের ছেলেটার সাথে কিছু হয়েছে নাকি?

    ঈজা মনে মনে হাসে। ভাবে, ‘হয়েছে মা, তোমার মেয়ের আজ চরম প্রাপ্তি হয়েছে।”

    নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বলে-কি আবার হবে? কিছু হয়নি তো।

    -- চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে ছিলিস, তাই জিজ্ঞেস করলাম। শরীর ঠিক আছে তো?

    -- একদম।

    -- কি জানি বাপু, আমার তোকে দেখে কেমন কেমন লাগছে। এ ভাবে চুপচাপ বসে থাকার মেয়ে তো তুই নয়।

    ঈজা বুঝতে পারে, মায়ের চোখকে ফাঁকি দেওয়া অত সহজ নয়।

    সেদিন রাতেই ঈজার বাবা উদয়নের সাথে নয়নের পরিচয় হল। উদয়ন একটা মাঝারি মাপের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কাজ করে। নিপাট ভাল মানুষ। গল্প করতে ভালবাসে, তবে নিজে শ্রোতার ভূমিকায় থাকতেই পছন্দ করে। সকলে মিলে জোর আড্ডা হল। নন্দও নিচে এসে যোগ দিয়েছিল সেই আড্ডায়। অনেকটা সুন্দর সময় কাটল। নয়ন অনুভব করল, ভালবাসার মেয়েটার বাড়িটাও একটা ভাল বাসা।

    নয়নের বাগবাজারে থাকার বর্ধিত দুদিন একেবারে মাঠে মারা গেল । প্রথম দিন ছোটমামার স্কুল কোন কারণে বন্ধ ছিল। দ্বিতীয় দিনও পরীক্ষার খাতা দেখবে বলে স্কুলে গেল না। ছোটমামার স্কুল কামাইয়ের ফলে নয়ন আর কলেজ কামাই করল না। যে কারণে থাকা সেটাতেই যখন ছাই পড়ে গেছে, তখন আর ঘরে বসে থেকে লাভ নেই। একবার ভেবেছিল যে রহড়ায় ফিরে যাবে, কিন্তু ফাঁক ফোকরে যদি একটু কাছে পাওয়া যায়, সেই আশায় থেকে গেল। ওপরের কাকুর এই অশুভ সিদ্ধান্তে ঈজারও মাথায় হাত। সব দুষ্টু মিষ্টি ভাবনা গুলোয় জল ঢেলে দিল। এই সময়েই খাতাটা না দেখলে চলছিল না!

    নয়ন দু একবার নিচে গিয়ে মেয়েটাকে একটু চোখের দেখা দেখেছিল। দু একটা সাদামাটা কথা হয়েছিল। ওই পর্যন্তই, এর বেশিএগোনর সুযোগ আসেনি। একেবারে হয়নি বললে ভুল হবে। ঈজার মর্নিং কলেজ, ভোরে বেরোতে হয়। সময় অ্যাডজাস্ট করে নয়নও বাড়ি ফেরার জন্য একই সময় বেরিয়েছিল। পাড়া ছাড়িয়ে একটু এগিয়ে, হাতে হাত রেখে, হয়েছিল মনের প্রাণের কিছু কথা। হয়েছিল পরবর্তী মুলাকাতের পরিকল্পনা। হাতে হাত রেখে ঘোরার জন্য হাতে বেশিসময় ছিল না। এক সময় হাত ছাড়তে হল। বিরহী দুই কপোত কপোতি রওনা দিল বিপরীত দিকে, একজন উত্তর, অন্যজন দক্ষিণ। নয়ন বাড়ি এসেই কলেজ যাওয়ার জন্য তৈরি হতে শুরু করল। যোগমায়া দেবী কলেজ ছুটি হওয়ার আগেই পৌঁছতে হবে, ঈজা অপেক্ষা করবে।

    চলবে
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন