• হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • জর্জ সোরেল এবং ভারতীয় বামপন্থা : এক অসমীকরণের বীজসমূহ 

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৪ নভেম্বর ২০২১ | ৩৮১ বার পঠিত
  • আমাদের রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রথম পর্বের (যে পর্বে মমতা বন্দোপাধ্যায় ভবানীপুরে প্রার্থী ছিলেন) ফলাফল বেরোনোর দিন যখন তিনটি কেন্দ্রেই বামপন্থী প্রার্থীদের জামানত জব্দের খবর আসছে তখন আমার এক ফেসবুকবান্ধব, যিনি আদতে বিভিন্ন এম–এল গোষ্ঠীর রাজনীতির ঘনিষ্ঠ এবং স্বাভাবিকভাবেই সিপিআইএম বিরোধী তিনি ফেসবুকের এক পোস্টে লেখেন যে সিপিআইএম বা সংসদীয় বাম দলের এই চূড়ান্ত পরাজয়ে অন্য কোনো বাম দলের, তা তারা যতই শুদ্ধাচারী হওয়ার দাবি করুক না কেন, উল্লসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই । কারণ জনগণের দরবারে ভোট চাইতে গেলে বা অন্য কোনো ভাবে জনসমর্থন যাচাই করতে গেলে সেই দলগুলির হাঁড়ির হাল আরো করুণভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়বে। যখন জনসমর্থন একটি সাম্প্রদায়িক, উগ্র বাজারপন্থী আর একটি আঞ্চলিক স্বৈরতান্ত্রিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত দলের মধ্যেই দ্বিধাবিভক্ত থাকে, তখন তাকে সামগ্রিকভাবে বামপন্থার সংকট হিসেবেই দেখা ভালো।

    এইরকম স্থিতপ্রজ্ঞ ভাবনা চট করে আমাদের মাথায় আসে না। পশ্চিমবঙ্গে পুরোনো বামফ্রণ্টকে কেউ আর পছন্দ করছে না , তার কারণ তাদের ‘৩৪ বছরের অপশাসন’এর স্মৃতি –এরকম একটা সহজ ব্যাখ্যা যাঁরা দেবেন তাঁরা কিছুতেই বলতে পারবেন না বামপন্থীরা যে নির্বাচনে ক্ষমতা হারায় সেই ২০১১ সালের ভোটেও তারা প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পায় কি করে? সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম বামদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ কিন্তু একমাত্র কারণ বলে যাঁরা দাবি করেন তাঁরাও পুরোটা ঠিক বলেন না। তাহলে কি কবি কথিত সেই ‘ক্ষমতামদমত্ততা” ? কিন্তু ক্ষমতার মদ খেয়ে শুধু বামপন্থীরাই মত্ত হন, বাকিরা ‘শান্তম, শিবম, অদ্বৈতম’ ভাব ধারণ করেন এমনটাও তো নয় । আর এ সমস্ত কিছুই এস ইউ সি, নকশাল প্রভৃতি বাকি বামদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় কারণ তাঁরা ক্ষমতায় যান নি কখনও। কিন্তু তাঁদের রাজনীতিও প্রতিষ্ঠিত বামপন্থীদের মতই জনগণের ওপর প্রভাব বিস্তারে অক্ষম। তাহলে এমন নয়তো যে বামপন্থী রাজনীতির সার্বিক চলন ও কার্যধারার মধ্যেই এমন কিছু আছে যেটা সাধারণ মানুষের মধ্যে আকর্ষণ তো দূরের কথা, বিকর্ষণের জন্ম দিচ্ছে ? আমার ফেসবুকবান্ধব এতদূর বলেন নি বটে কিন্তু এ ব্যাপারে আত্মসমীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। আমি তাঁর সঙ্গে একমত। সংযোজন হিসেবে বলতে চাই , ক্ষমতার বাইরে থাকলেও দেখা গেছে ভারতের বামদলগুলির জনপ্রিয়তা একবার নিম্নগামী হতে শুরু করলে আর চট করে নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। উদাহরণ হিসেবে দুটি রাজ্যের কথা আপাতত বলা যায় – অন্ধ্র আর আসাম। অন্ধ্রে যেমন ১৯৬২ সালের বিধানসভার নির্বাচনে ১৩৬ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫১ টি আসনে জয়লাভ করে অবিভক্ত ভারতের কম্যুনিস্ট পার্টি দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। বর্তমান বিজেপির পূর্বসূরী ওই নির্বাচনে ৭০ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬৯ টিতে জামানত হারায়। আসামে ১৯৭৮ সালের বিধানসভার নির্বাচনে সি পি আই এম ২৭ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১১ টি আসনে জয়লাভ করে আসনসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকে।এছাড়াও সি পি আই পাঁচটি আসন পায়। সেখান থেকে সাম্প্রতিক কালের নির্বাচনে এই দুটি রাজ্যে বাম দলগুলির সাফল্য যদি বিচার করা হয় তাহলে রীতিমত শিউরে উঠে ভাবতে হয় এই অধোগতির ব্যাখ্যা কি? ‘ক্ষমতামদমত্ততার অভিযোগ দিয়ে তো এখানে বিশেষ কিছু ব্যাখ্যা করা যাবে না। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিচ্যুতিগুলির কথা যদি বলা হয় সেক্ষেত্রেও দেখা যাবে বাকি বুর্জোয়া দলগুলির তুলনায় এই দলগুলির জনপ্রতিনিধিদের খামতি অনেক কম। তাহলে অসুখটার উৎস কী? এখানে কেরলের উদাহরণ না টানাই ভালো কারণ এত কম শতাংশের ভোট সুইংয়ে কেরলে সরকার পরিবর্তন হয় যে আমার এক কেরলবাসী বন্ধু একবার মজা করে বলেছিলো কেরলে এলডিএফ আর ইউডিএফ—কেউই কোনো নির্বাচনে হারে না।

    কিছুদিন আগে গত শতাব্দীর অন্যতম বিশিষ্ট রাজনৈতিক তত্ত্ববিদ ঈশাইয়া বার্লিনের লেখা একটি বই ‘Against the Current : Essays in the History of Ideas’ বইটি নাড়াচাড়া করছিলাম। সেখানে ইওরোপীয় আলোকায়ন (Enlightenment) নির্মিত ভাবধারার বিরুদ্ধে ইওরোপেই যে চিন্তাবিদরা পালটা ভাবধারা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তাদের কয়েকজনকে নিয়ে আলোচনা আছে। এরকমই একটি দীর্ঘ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছেন ফরাসী রাজনৈতিক চিন্তাবিদ জর্জ সোরেল (১৮৪৭- ১৯২২)। এই সোরেল নিজে প্রভাবিত হয়েছিলেন মার্কস, লেনিনের সঙ্গে নীটশের দ্বারা। আর আশ্চর্যের হলেও সত্যি প্রভাবিত করেছিলেন ফ্যাসিবাদী মুসোলিনির সঙ্গে ঐ দেশেরই মান্য মার্কসবাদী আন্তোনিও গ্রামশ্চিকে। আর হবে নাই বা কেন ইজরায়েলের প্রাবন্ধিক শ্লোমো স্যাণ্ড সোরেল প্রসঙ্গে তাঁর বই ‘Twilight of History’র ভূমিকায় লিখেছেন সোরেল ১৮৮০র দশকে ছিলেন রক্ষণশীল, ১৮৯০র দশকে মার্কসবাদী, ১৯১০ এ সামান্য সময়ের জন্য অতি দক্ষিণপন্থীদের কাছাকাছি গিয়েও অচিরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জাতীয়তাবাদ বিরোধী, ১৯১৭র বলশেভিক বিপ্লবের সোচ্চার সমর্থক। ইতালির ফ্যাসিস্ট বুদ্ধিজীবীরা তাঁর লেখায় মতাদর্শগত বৈধতা খুঁজলেও স্যাণ্ডের মতে সোরেলের চিন্তায় ফ্যাসিবাদের প্রতি এক ছটাক সমর্থনও মেলে না। কিন্তু আমরা হঠাৎ বেশ প্রাচীন এবং খাপছাড়া এই স্বনির্বাচিত মার্কসবাদীকে নিয়ে আলোচনা করছি কেন? সেটা কি শুধু এই কারণে যে গ্রামশ্চি, ঈশাইয়া বার্লিন এবং সম্প্রতি শ্লোমো স্যাণ্ড সোরেলের গুরুত্বের কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন? নাকি আমরা আমাদের সময়ে বামপন্থার দুরারোগ্য অসুখের নিদান খুঁজতে সোরেলের দ্বারস্থ হচ্ছি? ঠিক, আমরা অন্ধকারে পথ হাতড়াচ্ছি, তবে স্থবিরতার চেয়ে জরুরী বলে মানছি তাকে। এ ব্যাপারে বার্লিনের ওই প্রবন্ধটিকে সামনে রেখেই এগোতে চাইছি আমরা।

    সোরেলের মার্কসবাদ স্বনির্বাচিত। কিন্তু তারই মধ্যে যেগুলি তিনি মার্কসবাদের ঘাটতি হিসেবে মনে করেছেন সেটা বলেছেন। তার মধ্যে একটা বড় জিনিস হল যুক্তির পরিসীমার বাইরে মানুষের এবং ইতিহাসের চলনকে চিহ্নিত করা। মার্কসবাদের মধ্যে যে ঘাটতিকে তিনি দেখেছেন তা হল কোনো পরম (absolute) মূল্যবোধের অনুপস্থিতি। মানুষ বিদ্রোহ করে কেন, বিশেষত অন্যের ওপর সংঘটিত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে কেন তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সোরেল এরকমই এক পরম বোধ হিসেবে ন্যায়বিচার বোধ (justice) কে চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে মানুষ বীরত্ব প্রদর্শন করে (বীরত্ব সোরেলের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ গুণ যার অভাবে ম্যাদামারা মানুষ অবক্ষয়িত হয়), আত্মত্যাগ করে এবং নিজেকে মহনীয় উচ্চতায় নিয়ে যায়। এর সঙ্গে রোমান্টিক মানবতাবাদের কিন্তু কোনো সম্পর্ক নেই যার তীব্র বিরোধী ছিলেন সোরেল।

    (১) কিন্তু সোরেল সবসময় মনে করেছেন যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কোনো টেকনিকাল তত্ত্ব নয় যা সেই অভিজ্ঞতাজাত প্রতিবাদকে যুক্তির তত্ত্ব বা মতাদর্শের দ্বারা চালিত করার চেষ্টা করে। মার্কসের যা সবচেয়ে বড় আবিষ্কার বলে সোরেল মনে করেন তা হল শ্রেণী এবং শ্রেণী সংগ্রামের ধারণা। যৌথ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শ্রমিকরা যখন সমষ্টিচেতনায় উদবুদ্ধ হয়, সাধারণ ধর্মঘটের মত কর্মসূচীতে অংশ নেয় যা কোনো আংশিক দাবীদাওয়ার লক্ষ্যে নিজেকে সীমিত রাখে না, তখনই শ্রমজীবী শ্রেণী মানবতার উচ্চস্তরে উন্নীত হয়। সোরেল কিন্তু শ্রেণীর ধারণাকে আঁকড়ে চললেও শ্রমিকের নিজস্ব পার্টিতে বিশ্বাস করতেন না। এমনকি এরকমও বোঝাতে চেয়েছেন, মার্কস নিজেও নাকি আসলে তাই চাইতেন।শ্রমজীবী মানুষকে সোরেল সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন সে উৎপাদক শ্রেণী বলে। তিনি মনে করতেন মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য খেয়ে পড়ে সুখে শান্তিতে থাকা নয়, উৎপাদক এবং সৃষ্টিশীল থাকা। এটা শুধু উৎপাদনের ক্ষেত্রেই সত্য বলে তিনি মনে করতেন তা নয় , রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সত্য বলে মনে করতেন। তাই পার্টির বিরুদ্ধে, মতাদর্শের বিরুদ্ধে, টেকনিকালিটির বিরুদ্ধে , রাজনীতিকে যাঁরা টেকনিকে রূপান্তর করেন এবং সেই টেকনিকের চাবিকাঠি নিজেদের হাতে রাখেন সেই বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর বিরুদ্ধে সোরেলের জেহাদ। সোরেল মনে করতেন মানুষ নিজেকে তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে আবিষ্কার করতে পারে যখন সে তার ‘ অনিচ্ছুক প্রতিবেশ’ এর ওপর নিজের ব্যক্তিত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে পারছে। ‘To act and not be acted upon, to choose and not be chosen for’ --- প্রতিবেশ এবং ভাবধারার জগতের যে বিশৃঙ্খলা তার ওপর একটা আকার দান করাই মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কিন্তু তা হতে হবে স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ, ইচ্ছাশক্তিপ্রণোদিত, প্রকাশের অনন্যতা এবং আত্মশক্তিতে ভরপুর। তাকে দাঁড়াতে হবে একরূপত্ব, একঘেঁয়েমি, অভ্যাস, প্রথা, ব্যক্তিস্বরূপহীনতা আর শেষাবধি বিলুপ্তির বিরুদ্ধে। কারণ সোরেল মনে করেন এই শর্তগুলি লংঘিত হওয়ার মানে অস্তিত্বের অবলুপ্তি।

    (২) সোরেল মার্কসের ইতিহাসবাদের (historicism) বিরোধী ছিলেন। ইতিহাস সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে ধাবমান, এই তত্ত্বে তার বিশ্বাস ছিলো না। তার কাছে ইতিহাস হচ্ছে একটা নাটক যেখানে মানুষ হল স্রষ্টা আর অভিনেতা। এখানে লড়াই হল জীবনের শক্তির সঙ্গে অবক্ষয়ের, সক্রিয়তার সঙ্গে নিস্ক্রিয়তার, গতিশীল উৎসাহের সঙ্গে কাপুরুষতা এবং আত্মসমর্পণের। কোনো সুনির্দিষ্ট গন্তব্য যা তত্ত্ব দ্বারা নির্ণীত, তাতে কোনো উৎসাহ নেই সোরেলের ।তাঁর মতে সংগ্রামটাই গুরুত্বপূর্ণ। আবার সোরেলের বিপরীত মননের এমিল ডুর্কহাইমের মত তাঁর কাছেও সামাজিক মিথের গুরুত্ব খুব কারণ এই মিথই হল শক্তি এবং প্রেরণার চালিকা শক্তি। মিথ যুক্তির অধীন নয় বলেই তা বেশি শক্তিশালী, যৌক্তিক সমালোচনার উর্ধ্বে তার স্থান। মিথকে পরিপুষ্ট করে কতগুলি ইমেজ এবং মানুষকে প্রভাবিত করে । যুক্তি, শিক্ষা, প্রত্যয় বা ওপরওয়ালার নির্দেশ কিন্তু তা করতে পারে না। কারণ মিথ ‘আত্মা’র মন্থন ঘটায় যা উৎসাহ, কর্মপ্রেরণা এবং প্রয়োজনে প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি করে। মিথ ঐতিহাসিক বাস্তবতার অধীন নয়। মিথ মানে ইওটোপিয়াও নয়। কারণ সোরেলের মতে ইওটোপিয়া হল বুদ্ধিজীবীদের মস্তিষ্কপ্রসূত ভবিষ্যতের অসম্ভাব্য অবস্থার বর্ণনা ।তাঁরা এটা গড়ে তোলেন বাস্তব থেকে পালিয়ে তত্ত্ব এবং বিমূর্ততার আশ্রয়গ্রহণ করে। সোরেলের মতে মিথ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে একটা নতুন মাত্রা দেয় যার মাধ্যমে সে একটা নতুন দৃষ্টি দিয়ে জগতটাকে দেখে, এইটুকুই। ইউটোপিয়া সেখানে সর্বোপরি একটা মডেল, একটা ইনটেলেকচুয়াল নির্মাণ। মিথের মধ্যে যে রাজনৈতিক আকাঙ্খা থাকে সেগুলির ইমেজগুলি সবল অনুভূতি দ্বারা ‘উষ্ণ’ হয়ে ওঠে। মানুষ এর প্রভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো অভিন্ন লক্ষ্যর বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে পারে, তার সুপ্ত সম্ভাবনাগুলি বিকাশলাভ করতে পারে। শ্রমজীবী মানুষ তার নিত্য যাপনের অকিঞ্চিৎকরতা থেকে মুক্ত হয়ে এক বীরত্বপূর্ণ মর্যাদা লাভের সম্ভাবনার সামনে দাঁড়ায়।

    এবার আমরা ভারতীয় বামপন্থার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ভারতের যে কোনো কম্যুনিস্ট পার্টি এবং তাদের প্রভাবিত সংগঠনের একটা প্রধান সীমাবদ্ধতা হল এই নির্দেশাত্মক বা কমাণ্ড ভিত্তিক পরিচালন ভিত্তি যা ‘গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা’ ইত্যাদি দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের কথা বললেও একটা নির্দেশাত্মক কেন্দ্রের অস্তিত্ব সবসময়ই টের পাওয়া যায়। যাঁরা এই নীতিকে অপরিহার্য মনে করেন , এই নীতির মধ্যে কাজ করতে করতে সেটাতেই অভ্যস্ত হয়ে যান, তাঁদের ক্ষেত্রে হয়তো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, কিন্তু সাধারণ একজন মানুষ প্রথমেই এটা টের পান তিনি ‘will not act but be acted upon, will not choose but be chosen for.’ এটা ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের প্রশ্ন নয়, ব্যক্তিত্বের স্ফূরণের প্রশ্ন। এখানে আমি একটা সামাজিক পরিবেশের প্রসঙ্গও মনে করিয়ে দিতে চাই। আজ থেকে চল্লিশ পঞ্চাশ বছর আগে আমাদের সমাজে পারিবারিক ক্ষেত্রে পিতৃতন্ত্রের যে আজ্ঞাকারী ভুমিকা ছিলো এবং সেই সময়ের নবীন প্রজন্ম যে বাধ্যবাধকতায় অভ্যস্ত ছিলেন তার সঙ্গে আজকের নবীন প্রজন্মের সামাজিক প্রতিবেশের অনেক তফাত আছে। ব্যতিক্রম তখনও ছিলো, এখনও আছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বর্তমান নবীন প্রজন্ম অনেক স্বাধীনতা ভোগ করেন তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে। সেখানে সাবেক বামপন্থী দলগুলির নির্দেশাত্মক উল্লম্ব (vertical) নীতি গ্রহণ ও প্রয়োগ তাদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে সেটা বিবেচ্য। এটা শুধু মহানগর নয়, মফস্বল এমনকি গ্রামবাংলা নিবাসী নবীন প্রজন্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

    এবার আসি প্রতিদিনের রাজনীতির তত্ত্বায়ন ও টেকনিকসর্বস্বতার কথায়। এমন না যে আমরা কোনো উঁচুদরের তাত্ত্বিকতা দেখেছি ভারতবর্ষের বামপন্থায় যা ভারতের রাজনীতিতে কোনো নতুন মোড় এনে দিয়েছে। সোরেলের কথা যদি আমরা কান পেতে শুনি তাহলে যেটা দরকার তাহোলো ন্যায়বিচার বোধে উদবুদ্ধ হয়ে আপোষহীনভাবে লড়ে চলা -- টেকনিকের, তত্ত্বের নামে কথার চাষ না করে যাতে বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের আধিপত্যই প্রতিষ্ঠা পায়। শ্রমিক শ্রেণীকে আমরা তত্ত্ব শিখিয়েছি আর শিখিয়েছি বলেই তাদের নেতা সেজে বসেছি। যখন তারা দেখেছে যে সেই শিক্ষার সঙ্গে তাদের অস্তিত্বের সংগ্রামকে মেলাতে পারছে না তখন সেই শিক্ষা এবং শিক্ষককে তারা পরিত্যাগ করেছে। যেমন বন্ধ কারখানার শ্রমিকের সংগ্রাম কি হবে এই নেতারা জানতেন না (আমি অসরকারি বাম দলগুলিকে ধরেই বলছি)। শ্রমিকদের কখনও বলা হয় নি আপনারাই বলুন লড়াইয়ের পথ কি হবে । সবাই লেনিন রচনাবলী খুলে পুঁজিবাদের সংকট বুঝতে চেয়েছেন। তারপর শ্রমিকরা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কৃষকরা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বাকি প্রান্তিক মানুষরাও আলাদা আলাদা করে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তারা বামপন্থার মিথকে হারিয়েছেন। এই মিথ নিজেই নিজেকে হারিয়ে যেতে দিয়েছে। সেটাকে ব্যাখ্যা করার জন্য পণ্ডিতরা তত্ত্বের আশ্রয় নিয়েছেন আর বারবার ব্যর্থ হয়েছেন।

    এই লেখার প্রথমে আমরা অন্ধ্র আর আসামে বামপন্থীদের একদা নির্বাচনী সাফল্য লাভের কথা বলেছিলাম। হয়তো অন্ধ্রে তেলেঙ্গানা আন্দোলন একটা সামাজিক মিথের জম্ম দিয়েছিলো যার প্রভাব অন্তত ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ছিলো। ঠিক জানি না, তবে আসামেও নিশ্চয় বামপন্থীদের অনুকূলে এরকম কিছু সামাজিক মিথ সক্রিয় ছিল। ১৯৭৭ সালে বামপন্থীরা যখন এরাজ্যে ক্ষমতায় এলেন তখন এরকম কত মিথের জন্ম ও লালনপালন তো আমাদের অনেকের স্মৃতিতেই আছে। নকশালপন্থার মিথও যে কতটা জীবন্ত ছিলো তার স্বাক্ষর সেই সময় গোপীবল্লভপুরের বিধানসভা নির্বাচনে সন্তোষ রানার জয়লাভের মধ্যেও আছে (আমি এখানে শুধু সংসদীয় নির্বাচনের মাপকাঠিতেই সবটা দেখছি, তার অসম্পূর্ণতা অন্যত্র বিবেচ্য)। এরপর বাস্তবতা থেকে দূরে সরে থাকায়, টেকনিকালিটির যান্ত্রিকতায় সেইসব মিথের ক্ষয় আর প্রায় অবসান ঘটে।সরকারি বামপন্থীদের ক্ষেত্রে আরও অনেক কারণের সঙ্গে সরকার বাঁচানোর বাধ্যবাধকতা অনেক মিথকেই পরবর্তীকালে নিছক রিচ্যুয়ালে পরিণত করে, পরিণামে তাদের অবসান হয়।

    তবে সামাজিক মিথ মানে শুধু ‘বামপন্থী মিথ’ ই নয় , তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণপন্থী মিথও থাকে । এই রাজ্যে যেমন সরকারি বামদের দীর্ঘদিন ‘মমতা ব্যানার্জী’ নামক মিথের সঙ্গে লড়তে হয়েছে। মিডিয়া প্রয়োজনমত এই মিথের নির্মাণে সহায়তা করেছে, কখনও বিরোধিতা করেছে। ক্ষমতায় আসার আগে এই মিথ ছিলো ‘অসহায়, অত্যাচারিত, নিপীড়িতর ত্রাতা’ হিসেবে। এখন সুনিপুণ নির্মাণে ‘সর্বরোগহর ব্যবস্থাপক’এর মিথ হিসেবে তার পরিপুষ্টি ঘটেছে। এই মিথ যুক্তি দিয়ে, বক্তৃতা দিয়ে, প্রবন্ধ লিখে ব্যাখ্যা করা যাবে, এমনটা নয়।যতদিন শুধু সেই চেষ্টার মধ্যে নিজেদের সীমিত রাখবেন বামপন্থীরা, ততদিন এই রাজ্য বলুন বা দেশে ( দেশের ক্ষেত্রে মোদী মিথের কথা ভাবুন) খুব একটা অগ্রগতি সম্ভব নয়। অনুকূল সামাজিক মিথ গণ আন্দোলন থেকেই গড়ে ওঠে বারবার। কিন্তু তা কোনো নিয়মতান্ত্রিক, তত্ত্বসর্বস্ব, সৃজনহীন প্রয়োগপদ্ধতির দ্বারা সম্ভব নয়।

     

  • বিভাগ : আলোচনা | ০৪ নভেম্বর ২০২১ | ৩৮১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৪ নভেম্বর ২০২১ ২২:১৭500699
  • খুব দরকারি এবং দামি আলোচনা। 
    আপনার আলোচিত জর্জ সোরেলের একটি কথা ঠিক লেগেছে। মানুষের ন্যায়ের জন্য অন্তর্লীন চাহিদা।
    দেখুন, অল্পবয়েসে সবাই যে বামপন্থার দিকে আকৃষ্ট হয় তার একটা বড় কারণ এথিক্যাল আবেদন। এমনকি ইস্লামিস্ট রাষ্ট্র গড়ার মুখপাত্ররাও আল্লার শিক্ষা অনুসারে এক সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার মিথ শোনায়। বাস্তবে কীহয় সেটা অন্য প্রশ্ন। 
     
     আমার ধারণা উত্তরবঙ্গের তেভাগা ইত্যাদি আন্দোলনের প্রভাব কিছুদিন আসামে ছিল।
    এখন দক্ষিণপন্থীরা এক গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ বা আপনার ভাষায় 'মিথ' নির্মাণে সফল হয়েছে। নিজভূমে অপমানিত বিপন্ন এবং এক সম্ভাবিত অস্তিত্বহীনতায় ভোগা বঞ্চিত হিন্দুর মিথ ও  এক সরল রৈখিক উন্নয়নের স্বপ্ন। ফলে এখন রাগী হিন্দুর দল নিজেদের কথিত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে সক্রিয় হয়েছে। 
    সত্তরের দশকে নকশালপন্থীদের "কৃষিবিপ্লব"এর ডাক তেমনি একটা অতি সরলীকৃত বিকল্প উন্নয়ন ও ন্যায়ের দুনিয়া প্রতিষ্ঠার মিথ দাঁড় করিয়েছিল। 
    মানুষের সক্রিয় হওয়ার ট্রিগার হোল বেসিক ইমোশন, যুক্তি নয়। মিথ আমাদের বেসিক ইমোশনে ট্রিগার করে উদ্দীপ্ত করে। যুক্তির জামা পড়িয়ে তাকে জাস্টিফাই করি। সমাজতন্ত্রের উন্নয়নের মডেলের মিথ আমাদের  ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের সুপ্ত চাহিদাকে খুঁচিয়ে তুলে সক্রিয় শক্তিতে বদলে দেয়।
    আজ বামপন্থার দরকার একটি বিকল্প  ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের মিথ বা গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ--যা এখনও তৈরি হয়নি। ততদিন ;
    'উদ্যমহীন মুঢ় কারায়,
    পুরানো বুলির মাছি তাড়ায় 
    যারা তারা নিয়ে ঘোরে পাড়ায়
    স্মৃতির ফেউ"।
  • Sandipan Majumder | ০৪ নভেম্বর ২০২১ ২২:২৮500701
  • Ranjan Roy  আপনার  গুরুত্বপূর্ণ  পর্যবেক্ষণ  এবং মতামতের  জন্য ধন্যবাদ।  মনে হয় অনেকখানি  পরিমাণে  আমরা বিষয়টিতে একমত হতে পারলাম।
  • dc | 2402:e280:2141:9b:a558:adb5:2b85:e109 | ০৫ নভেম্বর ২০২১ ০৭:১৯500713
  • ভারতীয় বামপন্থার পরাজয়ের কারন সিআইয়ে। যতোদিন পবতে সিপিএম ছিল ততোদিন ওরা ঘুমোতে পারেনি, এখন একটু নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারছে। আমি না, লেনিন বলেছে। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন