• হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • এই নোংরা খেলা প্রতিরোধ করুন 

    Kallol Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৬ মে ২০২১ | ৫৯৬ বার পঠিত
  • ধর্মীয় অস্থিরতা তৈরীর ষড়যন্ত্র - এপিডিআর কৃষ্ণনগরের তদন্ত রিপোর্ট

    মন্দিরে গোমাংস রাখা নিয়ে শান্তিপুরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা : তথ্যানুসন্ধান রিপোর্ট


    গত ১৫/৫/২০২১ অর্থাৎ ঈদের ঠিক পরেরদিন শান্তিপুর থানার অর্ন্তগত বেলতলার বাবলাবন গ্রামে স্থানীয় শনি মন্দিরের গ্রিলে গোমাংস ঝুলিয়ে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। রাস্তা অবরোধ, পুলিশের লাঠিচার্জ, গ্রেফতার ও মারপিটের ঘটনাও ঘটে। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস শেল ও ফাটায়। এলাকায় এখন ও উত্তেজনা রয়েছে । এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এপিডিআর কৃষ্ণনগর শাখা ও শান্তিপুর জন উদ্যোগের পক্ষ থেকে ১৯/৫/২০২১ তারিখে একটি তথ্যানুসন্ধান করা হয়।

    তথ্যানুসন্ধান দলটি প্রথমে ঘটনাস্থল তথা বাবলাবন গ্রামে যায়। শান্তিপুর মোতিগঞ্জ মোড় থেকে বাবলাবন গ্রামের দূরত্ব আনুমানিক সাড়ে তিন কিলোমিটার। রাস্তার ওপরেই সেই শনি মন্দিরটি আমরা দেখতে পাই। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, গ্রিল আটকানো শনি মন্দিরটি প্রায় দশ বছর আগে তৈরি হয়। বাবলাবন গ্রামটি হিন্দু অধ্যুষিত। জনসংখ্যা পাঁচশোর কিছু বেশি। মূলত কর্মকার, কুন্ডু ও বিশ্বাস দেরই বসবাস। বাংলাদেশের যশোর জেলার অধিবাসীদেরই প্রধানত বসবাস এই এলাকায়। আমরা প্রথমে কথা বলি, স্থানীয় কর্মকার মহাদেব কর্মকারের সাথে। নিজের কামারশালা, লকডাউনের ফলে যা আপাতত বন্ধ, তে বসেই সত্তরোর্ধ এই বৃদ্ধ জানান সেদিনের ঘটনার কথা। তিনি জানান, ১৯৭১ সাল থেকে তার এই এলাকায় বাস। ইন্দিরা গান্ধীর দিন থেকে আজকের দিন পর্যন্ত এই ঘটনা এই এলাকায় প্রথমবার ঘটলো। পেশাগত কারণে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই তার কাছে কাজ করাতে আসেন। সেক্ষেত্রে কখন ও ধর্মীয় পরিচয় প্রকট হয়নি। বরং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো বলেই জানান তিনি। যদিও সেদিনের ঘটনা এই সম্পর্কের ভিতকে কোথাও যেন নড়িয়ে দিয়েছে। ঐ দিন ঘুম থেকে উঠে মন্দিরে গোমাংস দেখে এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই নানারকম প্রশ্ন উঠতে থাকে। একে একে লোক জড়ো হতে থাকে মন্দিরের সামনে। মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। ঠিক এমন সময়ে নৃসিংহপুরবাসী জনৈক পার্থ বিশ্বাস টোটো নিয়ে সমস্ত "হিন্দু ভাইদের" এই ঘটনার বিরোধীতা করার আবেদন জানিয়ে মাইকে প্রচার শুরু করেন। এই প্রচারে সাড়া দিয়ে প্রচুর মানুষ এলাকায় জড়ো হয়। কিছু বাইরের লোকজন ও আসেন বলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান। প্রায় পাঁচশোজন মানুষ সকাল সাড়ে নটা/দশটা নাগাদ উত্তেজিত অবস্থায় এই ঘটনার বিরোধীতা করেন এবং অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন। ঘটনাস্থলে শান্তিপুর থানার পুলিশ ও এস ডি ও আসেন। প্রশাসন থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু ক্ষুব্ধ জনতা সেকথায় সাড়া না দিয়ে অবরোধ চালিয়ে যান। এরপর জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বিক্ষিপ্ত লাঠিচার্জ হয়। টিয়ার গ্যাস শেল ও ফাটানো হয়। পুলিশ পার্থ বিশ্বাস সহ আর ও তিনজনকে গ্রেফতার করে যদিও একজনকে পরেরদিন ছেড়ে দেয়। প্রশাসনের উদ্যোগে ঐদিন ই মন্দির পরিষ্কার করা হয় এবং গোমাংসের টুকরোটি সরানো হয়। উল্লেখ্য, পনেরো তারিখ ঘটনাস্থলে সদ্য বিজয়ী বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও উপস্থিত ছিলেন। আমরা মহাদেব কর্মকারের কাছে জানতে চাই, কেন হঠাৎ করে এরকম ঘটনা ঘটলো? ঈদের দিন মুসলমান সম্প্রদায়গত মানুষের গরুর মাংস খাওয়া তো নতুন কিছু নয় তাহলে হঠাৎ এখন কেন এরকম ঘটনা ঘটলো? গ্রাম্য সারল্যের সাথে তিনি জানালেন, এই প্রশ্নের উত্তর সত্যি বলতে তার ও জানা নেই। কারা যে করলো সেই বিষয়েও তার কোনো ধারণা নেই। তবে কোনো হিন্দুর ছেলে এই পাপকাজ করবে বলে তার মনে হয় না। আমাদের প্রশ্ন থাকে, তাহলে কি মুসলমানরাই কেউ করেছে? তিনি অসহায় বোধ করেন এই প্রশ্নের সামনে। কিছুক্ষণ ভেবে বলেন, "কি করে বলি! এতদিন তো ওরা এমন কিছু করেনি। এখন করেছে কিনা সেটাও ঠিক বুঝতে পারছি না! তবে মানুষের মনে সন্দেহ তো তৈরি হয়েছে। প্রশাসন খুঁজে বের করুক সেই অপরাধীকে। তাহলেই সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে।" তিনি আরও জানান, একেতেই লকডাউনের পরে তার কামারশালা প্রায় বন্ধ ছিল। তাও যা অল্পবিস্তর কাজ সকালের দিকে হচ্ছিল এই ঘটনার পর তাও বন্ধ হয়ে গেছে। পুলিশ পিকেট বসেছে সামনেই। কেউই কাজ করাতে আসছেন না। তাই খেয়ে পরে শান্তিতে থাকতে চাওয়া প্রবীন মহাদেব বাবু দোষী ব্যক্তির অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান নাহলে বেঁচে থাকাটাই প্রশ্নের মুখে পড়বে, এমনটাই দাবি তার। আমরা কথা বলি স্থানীয় বাবলু কুন্ডু, শম্পা কুন্ডু ও হরেন বিশ্বাসের সাথে এবং স্থানীয় কোয়াক ডাক্তার পীযুষ মন্ডলের সাথেও। পীযুষ বাবুর বাড়ি নৃসিংহপুর গ্রামের মধ্যপাড়ায়। তিনি জোরের সাথে জানান কোনো হিন্দু এইকাজ করবে না। তাহলে এতদিন পরে মুসলমানরাই বা কেন করবে? এই প্রশ্নের উত্তর তার কাছে নেই বলে তিনি জানান, প্রশাসনের উচিত দ্রুত অপরাধীকে গ্রেফতার করা। তার ডাক্তারখানায় থাকা স্থানীয় ঘোষ অভিযোগ করেন সাহেবডাঙ্গায় মুসলমানরা তাদের গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না। তারা ঐ গ্রামের একটা মাঠে দুধ দোয়ানোর কাজ করেন। সেই দুধ শান্তিপুর এলাকা ও তার বাইরেও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এখন 'ওরা' ঢুকতে না দেওয়ায় তার মতো অনেক ঘোষেরই এখন রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পীযুষবাবু জানান, আমরাও যদি 'আমাদের' গ্রামে 'ওদের' ঢুকতে না দিই তাহলে বেশি সমস্যায় পড়বে 'ওরাই'। কিন্তু এই 'আমরা' - 'ওরা'র বাইরে এতদিনের যে সুসম্পর্ক ছিল তা কি নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনায় মিটিয়ে নেওয়া যায় না? যায় না কি সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে গ্রামগুলিতে জনমত গড়ে তুলতে? আমাদের এই প্রশ্নের উত্তরে তারা প্রশাসনকেই উদ্যোগ নিতে বলেন। এরপর তথ্যানুসন্ধান দলটি যায় পাশের গ্রাম সাহেবডাঙ্গায়। হরিপুর পঞ্চায়েতের অর্ন্তগত সাহেবডাঙ্গা গ্রাম মুসলিমপ্রধান হলেও কিছু ঘোষেদের বসবাস ও আছে। এই গ্রামের মানুষ সেদিনের পর থেকে অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য আব্বাস আলি। স্থানীয় আমির উদ্দিন শেখ জানান, ভয়ে আতঙ্কে তারা গ্রাম ছেড়ে বেরোতে পারছেন না। ঘোষ পাড়ার সাধন ঘোষ বলেন, তারাও নিজের পাড়া থেকে বেরোতে পারছেন না। রুটি-রুজির কারণে তাকে নৃসিংহপুর ও নতুনবাজার যেতে হয়, যার পথ সাহেবডাঙ্গার মধ্যে দিয়েই গেছে। কিন্তু সাহেবডাঙ্গার লোকেরাই এখন কয়েকদিন গ্রামে যাতায়াত বন্ধ রাখতে বলেছেন। অবিশ্বাস আর সন্দেহের বাতাবরণ যে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মনেই জায়গা করেছে তা তাদের কথায় উঠে আসা উদ্বেগ থেকেই স্পষ্ট বলে মনে হয়েছে আমাদের। এরপর আমরা সাহেবডাঙ্গা গ্রামেরই বস্ত্র ব্যবসায়ী আসরাফ আলি শেখের সাথে কথা বলি। তিনি জানান, গরুর মাংস মন্দিরে রেখে যদি অশান্তি করার ইচ্ছে তাদের থাকত তাহলে তারা তাদের পাড়ার মন্দিরেই এইকাজ করতে পারতেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা তা করেন নি। করার কথা ভাবেন ও নি। কারণ দুই ধর্মের লোকই অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণে একে অন্যের উপরে নির্ভরশীল। তার অভিযোগ, আজ এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। শুধুমাত্র তাদের (মুসলমানদের) ওপর অভিযোগ আনতে ও মুসলমানদের প্রতি হিন্দুদের অবিশ্বাস আর ঘৃণা জাগাতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কিন্তু কে বা কারা ঘটালো এমন ঘটনা? আমরা যখন এই প্রশ্ন করি তিনি উত্তর দেন, "সেটা প্রশাসন দেখুক। আমরা কাকে সন্দেহ করবো? কেনই বা করবো? অপরাধীকে খুঁজে বের করা প্রশাসনের কাজ। আমরা চাই দ্রুত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হোক।" তার দোকানে বসেই কথা হচ্ছিল। ঐ দোকানেই কথা বলতে এগিয়ে এলেন অন্যরা। তারা জানালেন, "কয়েক বছর আগেও তোপখানা গ্রামে এরকম ঘটনা ঘটেছিল। তখনও এইরকম ভয়, অবিশ্বাস আর সন্দেহ ছিল মানুষে মানুষে। তারা জানান, "হিন্দুরা আমাদের অপরাধী ঠাওড়েই নিয়েছিল। 'অপরাধী তার অপরাধ জানলো না অথচ ফাঁসি হয়ে গেল' এইরকম পরিস্থিতি তখন। তারপর পুলিশ গ্রেফতার করলো কয়েকজনকে। বিচার ও শুরু হল। জানা গেল যে এই জঘন্য কাজ করেছিল সে একজন হিন্দুরই ছেলে। আজ ও সে জেল খাটছে।" আমরা জানালাম, "ঘোষেদের তারা কেন দুধ দোওয়াতে তাদের গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছেন না? এতে বিদ্বেষ আর দূরত্ব আর ও বাড়বে না কি? আসরাফ আলির সাথে অন্যরাও পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "যদি আবারও কোনো অশান্তি হয়, তার দায়িত্ব কে নেবে? আপনারা তো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে আসবেন। প্রশাসনও তাই।" তারা স্পষ্ট জানান, ''মনে সন্দেহ নিয়ে সম্প্রীতি রাখা যায় না। তাই প্রশাসন দোষী ব্যক্তিকে আগে গ্রেফতার করুক তারপর সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।'' আমরা ওখানেই জানতে পারি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চারজন মুসলিম যুবক আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের সাথে কথা বলতে আমরা হরিপুর পঞ্চায়েতের অধীনে হরি নদী দরগাতলায় যাই। এই গ্রামটি বেশ বড়, মুসলিমপ্রধান গ্রাম। গ্রামের অনেককেই বাজার ও ব্যবসাপাতির কারণে শান্তিপুর নতুন হাটের দিকে যেতে হয়। সেখানকার স্থানীয় মানুষদের সাথে কথা বার্তায় জানা যায়, এলাকার যুবক জসিমুদ্দিন সেখ (২৯), বাবা দিলবাহার সেখ ঈদের পরেরদিন কয়েকজন হিন্দু যুবকের দ্বারা আক্রান্ত হয়। জসিমুদ্দিনের বাড়ি কাছেই ছিল তাই তার বাড়িতেই আমরা সরাসরি যাই। সে ঐদিন কালনায় সিটি স্ক্যান করাতে গিয়েছিল বলে তার সাথে দেখা হয় নি কিন্তু তার বাবা ও মায়ের সাথে কথা বলে জানতে পারি, তাদের বাঁশের ব্যবসা আছে। গ্রামের অধিকাংশ ই বাঁশের ব্যবসা করেন। ঈদের পরের দিন জসিমুদ্দিন বাঁশ দিয়ে নতুন হাটের দিক থেকে ফিরছিল। ফেরার পথে মুখে গামছা বাঁধা কয়েকজন যুবক তার ওপর আকষ্মিক চড়াও হয়। তারা জসিমুদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করে গতদিন অর্থাৎ ঈদের দিন সে জোরে মোটরবাইক চালিয়ে যাচ্ছিল কেন? জসিমুদ্দিন জানায় সে ঈদের দিন গ্রাম থেকে বেড়োয় নি, এইদিকে আসেও নি। এরপর মিথ্যে কথা বলার অভিযোগে তারা জসিমুদ্দিনকে মারতে থাকে। রড দিয়ে মারার ফলে তার মুখ প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মাথাতেও আঘাত লাগে। মোটরবাইক ভাঙচুর করে। পথচলতি কয়েকজন যুবক এই ঘটনা দেখে জসিমুদ্দিনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। আক্রমণকারীদের তারা ভর্ৎসনা করে এবং তাকে বাড়ি ফিরে আসতে সাহায্য করে। জসিমুদ্দিন বাড়িতে জানান, যারা তার প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন তারা ধর্ম পরিচয়ে ছিলেন হিন্দু। এই ঘটনা জানিয়ে শান্তিপুর থানায় জসিমুদ্দিন লিখিত অভিযোগ জানান। যদিও কোনো জিডি/এফআইআর এর নম্বর/কপি থানা থেকে তাকে দেওয়া হয়নি। আক্রান্ত হন নৃসিংহপুর মধ্যপাড়ার আরেকজন যুবক যিনি শান্তিপুর পুরসভার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী, কটা সেখ। বিজেপি নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য সূপর্ণা বর্মনের সাথেও আমরা যোগাযোগ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু কোনো যোগাযোগ সূত্র না পাওয়ায় তা হয়ে ওঠে নি। তথ্যানুসন্ধান শেষে আমরা শান্তিপুর থানার ওসি সুমন দাসের সাথে দেখা করি এবং আমাদের তথ্যানুসন্ধানের অভিজ্ঞতা জানাই। গ্রামগুলিতে যে চাপা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পরিপ্রেক্ষিত তৈরি হচ্ছে যা এতদিনের সামাজিক - অর্থনৈতিক সহাবস্থানের সম্পর্ককে নষ্ট করছে সেই বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে ওনাকে উদ্যোগী হতে অনুরোধ করা হয়। দাবি রাখা হয়, (১) অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে হবে, (২) গ্রামে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পরিবর্তে সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় হতে হবে। প্রয়োজনে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে বসে আলোচনা ও প্রশাসনিক উদ্যোগে সম্প্রীতির বার্তা দিতে হবে। (৩) জসিমুদ্দিন সেখের অভিযোগপত্রের কপি তাকে বা তার পরিবারকে দিতে হবে।

    আমাদের পর্যবেক্ষণ :-

    মন্দিরে গোমাংস রাখার ঘটনার মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে সহজে আঘাত করার ঘটনা এর আগেও এখানে ঘটেছে। এই ঘটনায় সহজেই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি হিন্দুদের বিক্ষুদ্ধ করে তোলা যায় যা একটা দুটো বিক্ষিপ্ত ঘটনায় সার্বিক প্রভাব না ফেললেও ধারাবাহিক ঘটতে থাকলে আবশ্যিকভাবেই সম্প্রীতির সম্পর্কে ফাটল ধরায়। এই তথ্যানুসন্ধানে আমরা যেমন একদিকে ধর্মীয় পরিচয় ব্যতিরেকে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক আন্তঃসম্পর্কই প্রকট রূপে দেখেছি। অন্যদিকে এই ঘটনার পর হিন্দুদের মনে সন্দেহ আর মুসলমানদের মনে ভয় আর আতঙ্ক ও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। যদিও এই অঞ্চলের মানুষ এখন ও পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় জড়িত হননি কিন্তু অনুরূপ সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক ঘটনা যেরকম ধারাবাহিক আকার নিচ্ছে তা আমাদের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে হয়েছে। এই ঘটনা ধর্মীয় বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যেই ঘটানো হয়েছে বলেও আমাদের মনে হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সামাজিক প্রেক্ষাপট অথবা দাঙ্গা পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হতে পারে তার জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি এলাকার মানুষের সামাজিক উদ্যোগকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে নাগরিক সমাজকেও।
    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar



    তথ্যানুসন্ধান দলের পক্ষে :-

    তাপস চক্রবর্তী (এপিডিআর কৃষ্ণনগর)
    মৌতুলি নাগ সরকার (এপিডিআর কৃষ্ণনগর)
    কিশোর সিংহ (এপিডিআর কৃষ্ণনগর)
    শমিত আচার্য (শান্তিপুর জন উদ্যোগ)
    জয়ন্ত ব্যানার্জি (শান্তিপুর জন উদ্যোগ)
    বাবর আলী মন্ডল (শান্তিপুর জন উদ্যোগ)

  • বিভাগ : আলোচনা | ২৬ মে ২০২১ | ৫৯৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে প্রতিক্রিয়া দিন