• হরিদাস পাল  গপ্পো

  • লীলাময়ীর সংসার

    ইন্দ্রাণী লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ০৪ এপ্রিল ২০২১ | ১১২০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • সন তেরোশো ছেষট্টির কবিপক্ষে লীলাময়ী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে বিয়ে করতে চেয়েছিল।  হয় সৌমিত্র, নয়ত কাউকেই নয়- বসুশ্রীতে ম্যাটিনি শোয়ে অপুর সংসার দেখার পর লীলাময়ী তার এই ডিসিশন বাড়িতে জানায় ।  বন্ধুদের সঙ্গে স্টুডিওপাড়ায় যাওয়া, ঠিকানা যোগাড় করে সৌমিত্রকে চিঠি দেওয়া - এইসবই সে করেছিল তার যৌবনে; লীলাময়ীর আত্মীয়স্বজন সব জেনে রুষ্ট ও ক্ষুব্ধ হলেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে সম্পূর্ণ  অন্ধকারে- এ'কথা লীলাময়ীও মেনে নিয়েছিল আলটিমেটলি। তারপর ভুলতে শুরু করেছিল।  গত কয়েকবছর ধরে  সৌমিত্রকে তার মনেপড়ে নি;  বস্তুত, পুরোনো কথা ভাবতে গেলে  এখন  সব গুলিয়ে যায়; এক এক সময় মনে হয়- সে বরফের দেশের মেয়ে, দার্জিলিংএ জন্ম , একটা ঝর্ণার পাশে  যেন তার স্কুল ছিল; এরপর সে জলের আওয়াজ পেতে থাকে- অনেক উঁচু থেকে জল পড়ছে যেন- তার একটি শব্দ মনে পড়ে- পাগলাঝোরা; সে তখন  তা' ঝর্ণার নাম বলে মনে করে, তারপর জল দেখতে পায়;  জল ছিটকোচ্ছে, ছিটকোচ্ছে, জলের ফেনা ঘুরে ঘুরে কোথায় চলেছে; পরক্ষণেই মনে হয়,  যেন তার একটা সাদা কুকুরছানা ছিল ; লীলাময়ীকে দুধ খেতে দেখে সে হাঁ করত আর লীলাময়ী হাত ঢুকিয়ে দিত কুকুরছানার মুখে- লালেঝোলে মাখামাখি হয়ে যেত হাতের পাতা। কুকুরের নাম লীলাময়ী ভেবে পায় নি,  পরে, গ্লসি, এবং ফ্লসি  এই দুটি শব্দ মনে এলে সে কুকুরছানার নাম হিসেবে গ্লসি কে বেছে নেয়।  পাগলাঝোরার কিম্বা গ্লসির গল্প করলে,  তার বাড়ির লোকজন  গম্ভীরমুখে মাথা নেড়ে,  "হতেই পারে না" বলেছিল। বলেছিল, "যত্ত ফালতু কল্পনা, সামনের মাসেই তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব"।
    এই সব ক্ষেত্রে  ডাক্তার দেখাতে দেরি হয়েই যায় - সবাই জানে। এই করে করে কখন অতিমারী এসে গেল-  আর লীলাময়ীর বাড়িও  বদলে গেল -
     
    ইদানিং যে ঘরে লীলাময়ী রয়েছে সেখানে  টেলিভিশন চলতে থাকে সারাক্ষণ আর  টিভি দেখতে দেখতেই লীলাময়ী  ঝিমোয়। দুপুরের ঢুলুনি আর পাড়ার গলিতে বাচ্চাদের "হাউজ্যাট" চিৎকারের কম্বিনেশন বরাবর মারাত্মক - লীলাময়ী জানত। আসলে, তখন কী হয়- আধোঘুমে  বয়স আচমকা পিছনে হাঁটতে শুরু করে; মন  আগে দৌড়োয়, পিছন পিছন শরীর - আগে গেলে বাঘে খায়, পরে গেলে সোনা পায় একশবার, হাজারবার আওড়ালেও মন কর্ণপাত করে না। শরীর পিছিয়ে পড়তে থাকে ক্রমশঃ। ঝিমুনি ভেঙে মনকে ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে অনেক, আর ঐ সময়টুকুর মধ্যে অনেক কিছু ঢুকে পড়তে থাকে - চাঁদের আলো ঢুকবে বলে জানলার পাল্লা খোলা রয়েছে, আর মশা ঢুকে পড়ছে- ব্যাপারটা ঐ রকম।
     
    যদিও লীলাময়ী শেষ দৌড়েছিল পঞ্চাশ বছর আগে, ট্রেন ধরতে - কলেজের ফার্স্ট পিরিয়ড মিস হয়ে যেত নইলে- আজকাল তন্দ্রার মধ্যে লীলাময়ী খুব দৌড়োয়।  অতিমারীর সময় লীলাময়ীর এই ঘরে বাচ্চাদের হইচই চিৎকার  আসা সম্ভবই নয় এখন, তবু কম্বিনেশনটা বারবার ঘটছিল ইদানিং। হয়ত টিভির কোনো প্রোগ্রাম থেকে বাচ্চাদের হুল্লোড় লীলাময়ীর কানে ঢুকত তারপর লীলাময়ী দৌড়তে দেখত নিজেকে - কোথায় যাবে জানা থাকত  না; সে এক অন্ধকার টানেল ধরে দৌড়োতো আর দৌড়োতো- তারপর পিছন থেকে ট্রেনের হুইশল শুনে  ধড়মড়িয়ে উঠে বসত। সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে যেত তখন ।
    লীলাময়ী তার ঝিমুনি ভেঙে উঠে বসতেই মন আর শরীরের রেসে পিছিয়ে পড়া শরীর সহজেই ফিরে আসত ;তার ঘাম, তার হাঁফ ধরা শরীরকে ফিরিয়ে দিত লীলাময়ীর কাছে। মন ফিরতে দেরি করত অনেক।  তখন লীলাময়ী ভাবতে  চাইত নিজের বয়স কত- সাতষট্টি না কি সাতাত্তর অথবা সাতাশি এবং কত বছর বয়স অবধি মানুষ বাঁচতে পারে; ভাবতে গিয়ে সে অবাক হয়ে দেখত ঐ তিনটে সংখ্যা ছাড়া আর কোনো সংখ্যাই তার মনে পড়ছে না।  শরীর আর মনকে আবার একবিন্দুতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করত তখন। চশমা পরে নিয়ে  চারপাশে তাকাত - দেখত,  যে স্বচ্ছ গোলকের মধ্যে রয়েছে সে, তার বাইরে সবুজ মাঠ, রোদ, গাছগাছালি - পাখি  উড়ছে আর ভিতরে , তার সেন্ট্রালী এয়ারকন্ডিশনড গোলাকৃতি ঘরে সরু খাট,  দেওয়ালে টিভি, লাগোয়া বাথরুম, একপাশে ট্র্যাপ ডোর- কনভেয়ার বেল্টের সঙ্গে কানেক্টেড -খাবার আসে, ওষুধ বিষুধ, সাবান, পেস্ট ব্রাশ এই সব টুকিটাকি; গোলকের ভেতরের সুইচ টিপে বেল্টকে উল্টোবাগে চালানো যায়-  তখন এঁটো থালা তুলে দিতে হয় বেল্টে, কিম্বা ট্র্যাশ ব্যাগ।  বাইরে থেকে এই ঘরের অভ্যন্তর দেখা যায় না -  এইরকম জানত লীলাময়ী; আর দেখেছিল,  এ' গোলকে দ্বিতীয় কোনো মানুষ ঢোকে না;  মাসে একবার নিয়মমতো হাত প্রসারিত করতে হয় ট্র্যাপ ডোর দিয়ে- গোলকের বাইরে থেকে সিরিঞ্জ ফুটিয়ে রক্ত নেয় , প্রেশার  মাপে কেউ। লীলাময়ী  এই সময়গুলোতে গোলকের বাইরে মানুষের নিঃশ্বাস শোনার চেষ্টা  করে বিফল হয়েছিল। 
    তন্দ্রা ভেঙে প্রতিবার গোলকের এইসব উপকরণে লীলাময়ী চোখ সইয়ে নিত আর ক্রমশ  তার মন ফিরে আসতে থাকত  শরীরের কাছে-  বেঁচে থাকার বিবিধ টেকনিকের মধ্যে এইটি মুখ্য- তার মনে হয়েছিল। 
     
    অতিমারীর দুনিয়ায় প্রবীণদের বাসস্থান এই গোলকগুলি - ভৌগোলিক অবস্থান বাসিন্দাদের  অজানা।  মানুষের মুখ দেখার জন্য এ'  ঘরে  টিভি রয়েছে আর সেলফোন- ভিডিও কল করা যায়;  নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রবীণ  যোগাযোগ রাখতে পারে শুধু পাঁচজনের সঙ্গে। গোলকে আসার আগে এই পাঁচটি নাম জানিয়ে দিতে হয়। 
    লীলাময়ী তার রিটায়ারমেন্টের পরে যাদের সঙ্গে  ছিল, তাদের চিনতে পারত না সঠিক; যদিও সে কথা গোপন রেখেছিল লীলাময়ী  কারণ মানুষের সঙ্গ দরকার হয়ে ছিল তার। কখনও মনে হত তারা ভাইপো ভাইঝি, কখনও নিজের সন্তান ভেবে সংশয় হত আবার অধিকাংশ সময়ই তাদের পুরোনো ছাত্র ছাত্রী মনে হয়েছে লীলাময়ীর ;  সে তাই রেজিস্ট্রেশন ফর্মে শুধুই অলীক আর সমাপ্তির নাম লিখেছিল-  লীলাময়ীর সহকর্মী দম্পতি। অন্তত লীলাময়ীর সেইরকমই ধারণা ছিল।  লীলাময়ীর সঙ্গে তাদের টেলিফোনে যোগাযোগ ছিল আগাগোড়া। লীলাময়ী জানত, এই মুহূর্তে,  সমাপ্তি আর অলীকও এইরকম এক স্বচ্ছ গোলকের বাসিন্দা- তাদের ঘরের বাইরেও এই মুহূর্তে সবুজ মাঠ, রোদ, গাছগাছালি- পাখি  উড়ছে।  লীলাময়ী তার গোলক থেকে যা যা দেখতে পায়, সেই মুহূর্তে অলীক আর সমাপ্তিও যে হুবহু তাই দেখছিল- লীলাময়ী তা জানে।  লীলাময়ী ফোন করে ওদের  গোলকের বাইরেটা দেখতে চেয়েছে-  তারপর  মিলিয়ে দেখেছে;  হুবহু এক, প্রতিবার।
    অলীক  বলেছিল, " হয়ত এটা একটা ব্যারাকের মত- কে জানে ,হয়ত  পাশাপাশিই আছি আমরা - ".  সমাপ্তি অলীকের কথায় সায় দিলেও, লীলাময়ী চুপ করেছিল। আচমকাই এই পথ যদি না শেষ হয় গানটার কথা মনে পড়েছিল তার; সেদিনই টিভিতে দেখছিল লীলাময়ী-  দেখেছিল, হাসিমুখ উত্তম সুচিত্রা গান গেয়ে চলেছে- পিছনে সেই এক তালগাছ, আকাশ আর পুকুরের সীন,  বদলাচ্ছে না।  লীলাময়ীর মনে হয়েছিল, এমনও হতে পারে- ওরা বাইরে  যা  দেখছে তা আসলে এই রকম প্রোজেকশন- সত্যিকারের দৃশ্য নয়। এই ভাবনাগুলো বস্তুত  ছেঁড়া ছেঁড়া টুকরোর মত লীলাময়ীর কাছে এসেছিল- যেন খাটের তলা পরিষ্কার করতে গিয়ে একটা একটা করে পুঁতি বেরোচ্ছে- সমস্ত পুঁতির দানা টুকিয়ে তুলে, মালা গেঁথে ফেলা সম্ভব হয় নি লীলাময়ীর। অলীকের কথায় চুপ করে গিয়েছিল-বাধ্যের মত  মাথা নেড়েছিল ফলত। 
    টিভিতে হাজার হাজার চ্যানেলে গান , নাচ, সিনেমা, খেলা, খবর চলত অষ্টপ্রহর,  গোলকের ভিতরের তাপমাত্রা যেমন বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত হত, টিভিও তাই- চাইলে মিউট করা যেত কিন্তু অফ করা যেত না। অলীক, সমাপ্তি নানা কথা বলত। একদিন বলত, হয়ত  বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে সব প্রবীণদের  মেরে ফেলা হবে, আবার  পরদিন বলত, ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেই ওদের গোলক থেকে মুক্তি হবে। বলত, ওদের  যোগাযোগ যে পাঁচজনের সঙ্গে, তার মধ্যে  একজনের  আবার যে পাঁচজনের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, তার মধ্যে একজন গোলক থেকে পালাতে গিয়েছিল কনভেয়র বেল্টে চড়ে,  তারপর  পাগল হয়ে গেছে।  অলীক আর সমাপ্তি এরপর আরো বলেছিল, ওরা গোলকেই  ভালো আছে, মরতে কে চায়?  এই সব কথোপকথনে  লীলাময়ীর মাথা গুলিয়ে যেত - গোলকে অবস্থান তার অস্তিত্বের অঙ্গাঙ্গী -এইটুকুই  মনে হত;  ইনারশিয়া শব্দটা মনে পড়ছিল অবশ্য,  ইদানিং-
     
    আজ সকালে  উঠেই টিভিতে  সে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে দেখতে পায়। প্রথমে দেখল এক  যুবক- হাল্কা দাড়ি, গায়ে আলোয়ান- কপালের দিকটা চেনা মনে হ'ল, তারপর হাসি, চোখ; একবার কেমন মনে হল, চিরুনী চালিয়ে , মুখে সামান্য পাউডার দিয়ে  টিভির সামনে বসবে কী না-  তারপরেই  দেখল,  রবীন্দ্রসদনে সৌমিত্র শুয়ে - চোখে চশমা, মাথায় সাদা চুল; অনেক ফুল, মালা, লোকজন- লীলাময়ী তখন আকুল হয়ে ভাবতে থাকে , সৌমিত্রর এত বয়স হয়ে গেল কবে? সে কেন খবর রাখে নি এতদিন ? তারপর ভেবেছিল, সৌমিত্র কি লীলাময়ীদের মত গোলকে ছিল না ?
     
    টিভিতে তখন সৌমিত্রর শেষযাত্রা দেখানো হচ্ছিল, সেই সঙ্গে সিনেমার ক্লিপিং-  কোথাও সৌমিত্র বাঁশি হাতে ছাদে দাঁড়িয়েছিল,  কোথাও রাস্তায় কোমর দুলিয়ে নাচছিল, পিয়ানো বাজিয়ে গান গাইছিল আবার-
    সিনেমা হলের আলো যেমন  এক এক করে নিভে গিয়ে অন্ধকার হয়, তারপর বিজ্ঞাপন, ফিল্ম ডিভিসনের তথ্যচিত্র শেষ করে সিনেমা, লীলাময়ীর  চোখের সামনে তেমনি অল্প অল্প করে বসুশ্রীর স্ক্রীন ফিরে আসছিল - বাড়িওলা ঘর থেকে বেরোতেই সৌমিত্র দিনের বেলা আলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে বারান্দায় - মাথার কাছের জানলার পর্দায় মস্ত ফুটো - বর্ষার জল ঢুকছে, সৌমিত্রর কাটা কাটা নাক মুখ,  ট্রামে বসে আছে- জানলার বাইরে কলকাতা,  কপালে একগুছি  চুল,  তারপর জানলার ওপারে ডুম জ্বলা ঘরে একটি মেয়েকে দেখে বাঁশি দিয়ে জানলার পাল্লা বন্ধ করে দিচ্ছে সৌমিত্র,  আধশোয়া হয়ে বাঁশি বাজাচ্ছে, হা হা করে অকারণ হাসছে - ঢেউ খেলানো চুল সৌমিত্রর, মোহন অঙ্গুলি, টিকোলো নাক, চিবুকের ভাঁজ, ডান গালের নিচের দিকে একটা তিল- পটে আঁকা ঠাকুর দেবতার মত মুখ- "দীর্ঘজীবী হও বাবা, দীর্ঘজীবী হও " কে যেন বলছিল।   টিভির সামনে বসে মায়ায় মায়ায় ভরে যাচ্ছে লীলাময়ী, কতদিন পরে চোখ উপচে জল আসছে তার।
     
    কনভেয়র বেল্ট ঘুরতে শুরু করেছিল ইতিমধ্যে , ব্রেকফাস্ট এলো, তারপর লাঞ্চ - আজ লীলাময়ী ছুঁয়ে দেখল না কিছু, ঠায় বসে রইল টিভির সামনে; সৌমিত্রর সঙ্গে সংসার পাততে  ইচ্ছে করছিল আবার এবং এই প্রথম তার গোলক থেকে বেরিয়ে পড়ার প্রবল বাসনা জাগছিল। 
     
    দুপুরের দিকে একের পর এক সিনেমা দেখাচ্ছিল টিভিতে- যখন উদয়ন পন্ডিতের সঙ্গে পাঠশালার ছেলেরা মূর্তির মাঠের দিকে যাচ্ছিল, লীলাময়ী  তন্দ্রার মধ্যে দৌড় শুরু করেছিল গ্লসিকে নিয়ে- দৌড়োতে দৌড়োতে ক্রমশ ছোটো হয়ে যাচ্ছিল গ্লসি, ওর  সাদা ল্যাজ, ঝোলা কান, বেবাক মিলেমিশে সাদা বল হয়ে যাচ্ছিল লীলাময়ীর চোখের সামনে। লীলাময়ী চারপাশ অবাক হয়ে দেখছিল- তার বাপের বাড়ির পাড়া।  দেখছিল, বরফ পড়ছে, কাঠের ছোটো বাড়ির সামনে গোলাপের ঝোপ, লেটার বক্স সাদা হয়ে যাচ্ছে;  কাঠের গেটের ওপারে মা-  হাতে কমলালেবু;   গেটের ওপার থেকে  বলছে, "আর কত দেরি করবি? এবারে স্নান করে খেয়ে নে। বিকেলে সৌমিত্র আসবে, মনে নেই?"
    - কে, কে আসবে  মা?
     
    লীলাময়ী জেগে গেল এইখানে কিন্তু  আজ সে শরীর আর মন কে এক বিন্দুতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করল না। এর ফলে তার কষ্ট হচ্ছিল,  সমস্ত শরীর জুড়ে ব্যথা আর ঘাম- নিঃশ্বাসের কষ্ট হচ্ছিল প্রবল-
    সে আজ  আর উঠে বসে চশমা পরল না। বিপদঘন্টায় চাপ দিল না হাত বাড়িয়ে। বরং মনের সঙ্গে আজ সে শরীরকে জুতে দিল।  তারপর দ্রুত  ও সর্বত্রগামী মনের সঙ্গে লীলাময়ী  হুশ করে বেরিয়ে গেল গোলকের বাইরে।
     
    পরদিন স্পেসসুট পরা দুটি মানুষ ২১জে ১৭৬৮ নম্বর  গোলকের স্যানিটাইজেশনের তদারক করছিল। এখানে এতদিন লীলাময়ী থাকত - এবারে নতুন কেউ আসবে, ওয়েটিং লিস্ট অনুযায়ী।  সার্কাসের গ্লোব অফ ডেথে মোটর সাইকেল যেমন পাক খায় , রোবোটিক ক্লীনার গোলকের অবতল মেঝে ,ছাদ  ঘুরে ঘুরে পরিস্কার করছিল, স্যানিটাইজার স্প্রে করছিল।  মানুষ দুজন গ্লাভস পরা হাতে লীলাময়ীর টুকিটাকি সত্ত্বগুলি চ্যাপ্টা ব্যাগে ভরছিল- তোয়ালে, পাউডারের কৌটো, চটি - চিরুণীতে লম্বা রূপালী চুল লেগেছিল - এই সবই  অটোক্লেভে যাবে। খাটের তলায় কার্ডবোর্ডের বাক্সে তারা ঘন সবুজ  মলাটের প্রাচীন অ্যালবাম পেয়েছিল, তার তিন নম্বর পাতায় পাহাড়ী  ঝর্ণার সামনে সাদা কুকুরছানা কোলে ফ্রক পরা এক বালিকার ছবি ছিল।
     
    লীলাময়ী ততক্ষণে ঐ ঝর্ণারই আশেপাশে সৌমিত্রর সঙ্গে 'এই শহর থেকে আরো অনেক দূরে চল কোথাও চলে যাই'  গাইছিল।  আরো নিচে পাহাড়ের তলায় সরণির গৃহকোণে সন্ধ্যার আলোগুলি জ্বলে উঠছিল ক্রমশ।
     
    [প্রথম প্রকাশঃ চৌকাঠ ওয়েবজিন, জানুয়ারি, ২০২১] 

     

  • আরও পড়ুন
    রণছোড় - Chayan Samaddar
  • বিভাগ : গপ্পো | ০৪ এপ্রিল ২০২১ | ১১২০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৪ এপ্রিল ২০২১ ১১:৫৭104474
  • এই গল্প লিখতে পারেন একজনই।

  • ইন্দ্রাণী | ০৪ এপ্রিল ২০২১ ১৩:৩৮104475
  • প্রিয় রঞ্জনদা,
    অশেষ ধন্যবাদ।

    মার্চ বারই আমার টেখা পত্র নিয়ে কোনো কথা হয় নি কুমুদির সঙ্গে। কথা হয়েছিল গত ডিসেম্বরে; বলেছিলেন, অন্য ওয়েবজিনে প্রকাশিত হলে, পড়িও। সচরাচর অন্যত্র প্রকাশিত লেখা হরিদাসে দিয়ে থাকি-একসঙ্গে থাকুক এই ভেবে। কুমুদি ওখানেই পড়ে নেন।
    কিন্তু ডিসেম্বরের পরে কোনো টেখাই কুমুদিদিকে পড়ানো হয় নি। বন্ধুজন এমনিতে ফেসবুকে শেয়ার করেন, আবার হরিদাসে দেব , আচ্ছা সে পরে হবে -এই সব করে আর পোস্ট করি নি কিছুই।
    কয়েকটি জমে গেছে। কুমুদিদিকে ভেবেই আজ একটি দিলাম। বাকি একে একে দেব।

    আপনার ভালো লাগা বড় পাওনা।
     

  • যদুবাবু | ০৪ এপ্রিল ২০২১ ১৮:১২104478
  • অপূর্ব ! বহুদূরের একটি স্বচ্ছ গোলক থেকে স‍্যালুট ঠুকলাম ‌লীলাময়ীকে। 

  • জীৎ ভট্টাচার্য্য | ০৪ এপ্রিল ২০২১ ১৮:১৪104479
  • খুব চেনা আবার খুব অচেনা। এরকম একটা জগৎ হয়তো আপনিই সৃষ্টি করতে পারেন,যেখানে গল্পের প্লটের থেকে জগৎ টা বেশী প্রিয় হয়ে দাঁড়ায়। জানিনা, আপনি কি ভেবে লিখেছেন ,কিন্তু লেখাটা পড়ে কেমন একটা সার্রিয়াল অনুভূতি আসছে। 

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ০৪ এপ্রিল ২০২১ ১৯:৩৩104484
  • মন খারাপ হল।

  • kk | 97.91.195.43 | ০৪ এপ্রিল ২০২১ ২১:৪০104486
  • হ্যাঁ,আমারও মনখারাপ হলো। লেখাটা একটা অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং এর মত লাগছে। বারবার পড়তে হয়। প্রতিবার পড়ার পরে একটা আলাদা লেয়ার দেখা যায়। কিছু ভাবনা শুধু বোঝা যায় আছে, কিন্তু ছোঁয়া যায়না। ইন্দ্রানীদি, কুর্নিশ।

  • শঙ্খ | 103.217.234.17 | ০৪ এপ্রিল ২০২১ ২২:৫৬104487
  • এখানেও লেখা থাক, অন রেকর্ডঃ 


    এমনিতে প্রথম পাঠে গল্প বেশ সোজাপথে এগোয়। এক স্মৃতিবিভ্রম হওয়া বয়স্ক মহিলার ফার্স্ট পারসন ভিউ, সৌমিত্র নিয়ে স্মৃতিমেদুর, অল্প ইতিউতি দুয়েকটি না-থাকলেই-নয় অথবা ভুলতে-না-পারা মেমরি বাইট, এক কেয়ার ইউনিট জেল, হয়ত কিছুটা ফিকশন লাগতে পারে এখানটায়, এবং পরিশেষে নট-সো-স্যাড ডিমাইস। মানে বিল্ড-আপে পাঠকের মনে লীলাময়ীর প্রতি যে মায়া তৈরি হয়, তাতে এই পরিণতি খুব স্বাভাবিক ভাবে আসে, কিছুটা অমোঘ ভাবেই।


    কিন্তু এমনিতে যেমন বাথরুমের মেঝের চিড় গুলো দেখা যায়না, কিন্তু স্বচ্ছ জলভরা বালতি বসালে সেগুলো ম্যাগনিফায়েড হয়, পরের পাঠে চিড় গুলো একটু একটু করে চোখে ধরা দেয়। সব গল্পই আসলে কয়েকটা সম্পর্কের গল্প, বা ল্যাক অফ দ্যাট, এইবারে সৌমিত্র নিয়ে সন্দেহ হয়, ইনি কি আদৌ চট্টোপাধ্যায়! নাকি ঝরনার ধারে গ্লসিকে নিয়ে দাঁড়ানো কিশোরীর স্মৃতির মতই আরেকটি সত্যি, হয়তো কিছুটা ওয়ার্পড মেমরি বাইট। কেন লীলাময়ী শুনতে পায় দীর্ঘজীবী হবার আশীর্বাদ। কে আসবে লীলাময়ীর বিকেলে?
    এই প্রশ্নগুলি ঘুরেফিরে আসে। না আসলেও কিছু যায় আসে না। জীবন বয়ে যায়, যেমন যাওয়া উচিৎ।


    পড়ার সময় অনেক রকম দৃশ্যকল্প মাথায় আসে, কখনো একটা সিনে একটা গান বা সুর উঁকি দিয়ে যায়। এবারে যেমন যখনই লিখলে পাহাড়ের কথা, বরফের কথা, আমি হালকা একটা পিয়ানো বাজতে শুনলাম, মনখারাপের বিকেলে। আবার যখন দীর্ঘজীবী হবার আশীর্বাদ পড়লাম, কোথাও একটা সানাই এর সুর ভেসে এলো, কফি আর মাংসের, চাটনির গন্ধ। সেখান থেকে সৌমিত্র একটু একটু করে রক্তমাংসের হতে লাগলেন কিন্তু নিশ্চিত হতে পারে যায় না একটাই হিন্ট ছিল যেখানে লীলাময়ীর অ্যালবামটা পাওয়া যায়।


    তাহলে সবটাই কল্পনা না। হয়তো?

  • বিপ্লব রহমান | ০৭ এপ্রিল ২০২১ ০৭:৩৬104520
  • "লীলাময়ী, করপুটে থাকে না কিছুই"...


    কি মায়াময় লেখা! সকালটা স্বার্থক হলো এই লেখায়। এইসব লেখা পড়ার জন্যই গুরুচণ্ডা৯তে আসি। ❤️

  • ইন্দ্রাণী | ০৭ এপ্রিল ২০২১ ০৯:১৩104523
  • সবার কমেন্ট মিস করে গেছি। আসলে বেশ কিছুদিন আগের লেখা। একজায়্গায় তুলে রাখার তাগিদে পোস্ট করেছি- তাই হয়ত ফীডব্যাক পাওয়ার অতটা তাগিদ ছিল না।

    ছোটোবেলায় আমাদের খেলা ছিল- আমি যা দেখি, তুমি তাই দেখ?
    লেখক আর পাঠকের ঐ রকম খেলা চলে কখনও। লেখক যা দেখেন, পাঠক তা দেখেন না আবার লেখক তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবেনও না। অনেক সময় পাঠক যা দেখেন, লেখক হয়ত তা দেখেছেন কিন্তু উল্লেখযোগ্য মনেই করেন নি।
    কদাচিৎ, লেখক আর পাঠকের দেখা এক হয়ে যায় এবং লেখককে অবাক করে দিয়ে পাঠক আরো অনেক বেশি দেখেন।
    পুনর্পাঠে লেয়ার আবিষ্কার বা একটা লাইন পড়তে গিয়ে আরো অনেক অনুভূতির উঁকি ঝুঁকি- পাঠকের কাছে বরাবর চেয়ে এসেছি। চেয়েছি পাঠক লুকোনো জিনিসগুলো খুঁজে বের করুক । ভাবি নিজের অপারগতা- পাঠককে আবিষ্কার করাতে পারি নি। কেউ খুঁজে পেলে আনন্দ হয়।
    সেইটা স্বীকার করে গেলাম।

    রঞ্জনদা, যদুবাবু, জীৎ, অভ্যু, কেকে, শঙ্খ, বিপ্লব-
    অশেষ ধন্যবাদ।

  • Kallol Dasgupta | ০৭ এপ্রিল ২০২১ ০৯:১৫104524
  • ইন্দ্রাণীর লেখায় কেমন একটা সুগন্ধ আসে। এমনতর লেখা বাংলায় খুব বেশী লেখা হয় না।  ডাচ বারোক অধ্যায়ের ছবির মতো। 

  • এই লেখাটা | 165.225.8.83 | ০৯ এপ্রিল ২০২১ ১৯:৫৭104563
  • এই নিয়ে তিনবার পড়লাম এই লেখাটা। 


    অ্যাকচুয়ালি, ইন্দ্রাণীর এভোল্যিউশানটাও এক লার্নিং অপার্চুনিটি। 


    এরকম মনে হল পুরোনো লেখাগুলো দেখতে দেখতে। 

  • ইন্দ্রাণী | ০২ মে ২০২১ ০৪:৩৯105350
  • কল্লোলদা, 'এই লেখাটা' ( আর একটু হলেই ভেলভেলেটা লিখতে যাচ্ছিলাম),

    আমার সীমিত সামর্থ্য আর যাবতীয় অপারগতা নিয়ে চেষ্টা করে যাই।
    আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ। কৃতজ্ঞতা জানবেন।

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন