এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  গপ্পো

  • বসন্ত থেকে

    ইন্দ্রাণী লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ০৫ জুলাই ২০২৩ | ৯২৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৩ জন)
  • গতকাল দুপুর থেকেই পূর্বপ্রস্তুতির আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল। কোনো উৎসবের। সম্ভবত। কিম্বা খুব বড় কিছু  নয়- হয়তো এমন কিছু, যা সচরাচর হয় না। ঘরের গন্ধই বদলে গিয়েছিল। স্নো পাউডার ভাত ডাল আলুর তরকারি আর ডেটলের গন্ধ সরিয়ে দিয়ে কখনও দুধ ওথলানোর বাস,  কখনও মথবল ,  অথবা ফুলের গন্ধ বাড়ির নিজস্ব বাতাসে জায়গা করে নিচ্ছিল। ছাদের ঘর থেকে বড় কড়াই, হাঁড়ি বেরিয়েছে সকালেই, রোদ পড়ে যাওয়ার আগে সেকেলে  জাজিম ছাদ থেকে  ঘরে তুলে আনা হয়েছে, প্রাচীন ক্যাসেট প্লেয়ারে সেতার। অন্ধকার নামার আগেই ঘরের আলো জ্বালা হয়ে গিয়েছিল- ছোটো, মেজো, বড়ো- সব বাতি।  ফুল আসছিল, মালা, সে সব ফ্রিজের অভ্যন্তরে ঢোকানোর সময় নীল বাষ্পময় আলো দেখা যাচ্ছিল;  সেই আলোয়  চেয়ার সোফাসেট , টেবিলের স্থান পরিবর্তন ঘটছিল অবিরত। যেন মঞ্চ, দর্শকাসন সাজিয়ে ফেলতে হবে, মাইক টেস্টিং সেরে ফেলতে হবে রাতের মধ্যেই।  অথচ লোক বলতে ঐ তো তিনজন- টুসি, নমিতা, ঝন্টু। এই স্টেজে প্রতিদিনের কুশীলব।

    পুবের জানলার পর্দা সরানো থাকলে এই দেওয়াল থেকে রাস্তা দেখা যায়। সন্ধ্যের মুখে এখন যেমন। ফাঁকা রাস্তার মাথার ওপরে ঘন নীল মেঘ উঠছে,  উল্টোদিকের বাড়ির দোতলায় আলো জ্বলল, আর যে পাখি তিনটে এতক্ষণ টেলিফোনের তারে বসেছিল, তারা উড়ে গেল এইমাত্র ; দূর থেকে কিছু শব্দ এগিয়ে আসছিল  যেন পথচারীদের সেই সব কথারা মাঝখানের এই ফাঁকা রাস্তাটুকু পেরিয়ে ডানদিকে যাবে কিম্বা উল্টোটা- ফলে এই জনহীন পথের দু’ দিকেই কিছু দৃশ্য  ক্রমাগত ভেঙে যাচ্ছিল অথবা  তৈরি  হচ্ছিল। এখান থেকে যে রাস্তাটুকু দেখা যায় তা এমনই চৌকো আর ফাঁকা যেন এখনই নাটক শুরু পারে সেখানে - ছোটো, একাঙ্ক কোনো নাটক। এই যেমন, এইমাত্র , অনেক কালের মনের কথা জাগল গাইতে গাইতে কেউ বাঁদিক থেকে ঢুকল। তার পিছন পিছন আরো কেউ। তারপর নিউটাউন, কোভিড - এই সব শব্দ, সাইকেলের ঘন্টি, কুকুরের ডাক-  বাকি লাইনগুলো চাপা পড়ল অথবা ফ্রেম থেকে বেরিয়ে গেল লোকটা।

    সকালের রোদে পর্দা টেনে দিলে মঞ্চের বর্গক্ষেত্র পথ থেকে সটান এই ঘরে ঢুকে পড়ে। তখন বাঁ দিক থেকে শাদা প্লেটে পাঁউরুটি নিয়ে টুসি আসে, তারপর ফ্রিজ খুলে মার্জারিনের  কৌটো বার করে, পাশের ছোটো ঘর থেকে ভোঁতা ছুরি আনে,  আর চামচ, কাপ, হরলিক্সের শিশি। ডান কোণের বইয়ের তাক ঘেঁষে চেয়ার -সেখানে হেডলাইন বা সম্পাদকীয় পাতায় চোখ বোলায় নমিতা;  হয়তো  পাঁচ মিনিট আগে, বাঁ দিক থেকে ঝন্টু এন্ট্রি নিয়ে, নমিতার সামনে কাগজ রেখে  দিয়ে ঐ বাঁদিক থেকেই বেরিয়ে গেছে। উইংসের ওপারে দিনের বেলাতেও  গাঢ় অন্ধকার, কেবল ঈষৎ হলদে আলো  এ'দেওয়ালে এসে  পড়লে ওপারের আভাস পাওয়া যায়। ঘরের ভিতরের এই স্টেজে টুসি আর ঝন্টু বরাবর বাঁ দিক থেকে ঢোকে, নমিতা ডান দিক থেকেই সচরাচর। দুপুরেও একই প্যাটার্নে, নমিতা ডানদিক থেকে বাঁদিকে স্নান করতে যায় আবার বাঁ থেকে ডাইনে ঢুকে চুল আঁচড়ায়, টুসি বাঁদিক থেকে ঢুকেই বেরিয়ে যায় ছাড়া কাপড় চোপড় নিয়ে তারপর আবার ভাতের থালা  নিয়ে থেকে ঢোকে। সন্ধ্যার পরে নমিতা একাই - গান শোনে, বই পড়ে, লেখে, ফোনে কথা বলে কখনও। ছোটো ডায়রিতে লেখার সময় এই দেওয়ালের দিকে তাকায়। তারপর একসময় টুসি রাতের খাবার রেখে যায়, পাশের ঘর থেকে ছোটো প্লাস্টিকের ঝুড়ি এনে ঢাকা দেয়, জলের গেলাস রাখে। আলো নিভে যায় ঠিক দশটায় ।

    ইদানিং নমিতাকে অস্থির দেখাচ্ছিল। বেশ কিছুদিনই এ'রকম। ঘন ঘন বাঁদিকের উইংস দিয়ে বেরিয়ে যায়, কখনও চেয়ার ছেড়ে, পর্দা সরিয়ে জানলার গ্রিলে মুখ রেখে বাইরে দেখতে থাকে। জানলা থেকে সরে এলে, ওর গালের চামড়ায় গ্রিলের কল্কার আভাস আর আর মরচের দাগ থাকে।  নমিতা মুখ দেখে বাঁদিকের আয়নায় ভ পুরোনো,  চটা ওঠা  বড় বেলজিয়ান গ্লাস। পাশেই ছোটো টেবিলে নমিতার মোবাইল চার্জে বসানো। জানলা থেকে সরে এসে ফোন করে কাউকে। নম্বরের বোতামে চাপ দিয়ে যায় বারবার। আর এই দেওয়ালের দিকে তাকায়। তাকিয়েই থাকে।
    গতকাল দুপুর থেকে , যখন উৎসবের হাওয়াবাতাস বাড়ির দখল নিচ্ছে, নমিতাকে আনন্দিত মনে হয়েছিল-  টুকটাক তদারকি করছিল, কথা বলছিল ফোনে- প্রসন্নচিত্তে।  কখনও হাসছিল। আজ সকালে আবার খুব অন্যরকম - অস্থির নয়, আবার শান্তও নয়। যেন, ও কেমন থাকবে ওর জানা নেই, যেন আজকের দিন  সাব্যস্ত করবে ওর আগামীকাল। নমিতা টুসিকে ডাকল গলা তুলে।  তারপর ফ্রিজ খুলে মালা বের করল,  দেওয়ালের দিকে এগোলো।
     



    এই বাড়িটায় কোনো জ্যান্ত পুরুষমানুষ নেই। মানুষ বলতে দোতলায় মাসিমা আর একতলায় আমি। ঝন্টুদা সকালের দিকে আসে , বাগানের কাজ করে, বাজার এনে দেয় , তারপর মাসিমার ওষুধ, ব্যাংক, পোস্টাপিস-  টুকটাক কত কাজ থাকে  সংসারে। আমি মাসিমাকে একা রেখে বেরোতে পারি না। ঘরের ভিতর খুব হাঁপিয়ে উঠলে বাগানে ঘুরি, ছাদে হাঁটি। খুব বেশি কাজ তো নয়-  দুজন মানুষের রান্না- তাও মাসিমার পাখির আহার। আর মাসিমাকে খেতে দেওয়া, একটু ঝাড়াঝুড়ি। ধোয়া পাকলার জন্য আরতিমাসি আসে দুপুরে, বিকেলে চলে যায়।
    এ বাড়িতে কাজে ঢোকার আগে মাসিমা বলেছিলেন, ভেবে দেখতে।  অল্প বয়স,  শখ আহ্লাদ আছে, প্রেম ভালোবাসা, বিয়ে , সংসার  করার সময়। একটা বুড়ি মানুষের সঙ্গে দিনের পর দিন কাটানো সোজা কথা নয় তো। কেঁদে ফেলে মাসিমাকে সব বলেছিলাম তখন- কী জীবন পার করে এসেছি,  আর সেখানে ফিরতে চাই না।
    বলেছি বটে ফিরতে চাই না, কিন্তু মাঝে মাঝেই হাঁফ ধরে যায়। সকাল থেকেই ঝিম ধরে থাকে বাড়িটা। এমনিতেই পুরোনো বাড়ি, ঠান্ডা মেঝে, দেওয়ালে নোনা লাগা। বাইরে কত রোদ, গরম, অথচ এ বাড়ির মধ্যে সর্বদা মাঘমাস। জষ্ঠিমাসেও এক এ ফ্যান দিয়ে রাখলেই হয়ে যায়, তাও রাতের দিকে একটা কাঁথা লাগে। দেওয়ালে দেওয়ালে সব মরা মানুষের ছবি- সব বুড়ো, বুড়ি ; চশমা, পাকা চুল। এ বাড়িতে জোয়ান মানুষ বলতে শুধু আমি আর একজন ছবির মানুষ।

    দোতলায় মাসিমার বড় ঘরের দেওয়ালে একটা ছবি আছে- প্রথমদিনই চোখ আটকে গিয়েছিল। এমন সুন্দর পুরুষমানুষ কখনও দেখি নি-সা জোয়ান- লম্বা, টান চেহারা, কোমরে বাঁ  হাত, ডান হাতের নিচে নামানো কিন্তু যেন আঙুল তুলে কথা বলে উঠবে এখনই, চুপ করতে বলবে সবাইকে, তারপর নিজের কথা বলবে। কালো চুল, দাড়ি , গোঁফ। মুকুট, গয়না গাঁটি  নেই, তবু রাজা রাজড়ার মতো লাগে। আমার চোখ ছবিতেই ছিল। মাসিমা  বললেন, " চেনো?"
    - আমাদের দেশ গাঁয়ে এমন মানুষ তো দেখি না। শহরেও  না। সিনেমার কেউ?
    মাসিমা বললেন, "ভালো করে দেখো, চোখ দেখো, চেনো তুমি। বুড়োবয়সের ছবি দেখেছ। "
    আমি তার চোখের দিকে তাকালেও  সে মানুষের দৃষ্টি তো অন্যদিকে। মাথা নেড়ে বললাম- "চিনি না।"
    -রবি ঠাকুরের ছবি। রবি ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
    -সে তো বুড়ো মানুষের ছবি, একতলার ঘরেও সে ছবি আছে। জোয়ানবয়সে এই রকম ছিলেন?
    -হ্যাঁ একটা নাটকের ছবি। নাচ আর নাটক।  বাল্মীকিপ্রতিভা।
    -সেই বাল্মীকি মুনি? রামায়ণ লিখেছিলেন?
    -ডাকাত ছিলেন প্রথমে। রত্নাকর।তারপর কবি হলেন  সে গল্প জানো তো?

    প্রথম দিনেই মাসিমা গল্প শুরু করলেন, ক্যাসেট চালিয়ে গান শোনালেন। আমি কাজে লেগে গেলাম। প্রতিদিন সকালে মাসিমাকে চা দিতে এসে ছবিটার দিকে না তাকিয়ে পারি না।  এ'বাড়ির একমাত্র জোয়ান পুরুষ।
    অবশ্য ঝন্টুদা আছে, তবে এ'বাড়িতে থাকে না আর জোয়ান না বুড়ো বোঝা যায় না। ঘরে বৌ ছেলে আছে- জানি। বেশি কথা বলে না তো। সকালে এসে বলে- "টুসি, চা দাও।"  ভাঙা ভাঙা খোনা গলা। টুসি শব্দটা একটু টেনে বলে, ফলে আমার নামটা কিছুক্ষণ রান্নাঘরের সামনে ভেসে থাকে -ফ্যানের রেগুলেটর বাড়ালে উড়ে যায়। ঝন্টুদাকে চা দি, রুটি দি। জামা খুলে কাজে লেগে যায় বাগানে - সার দেয়, মাটি খোঁড়ে, নতুন চারা বসায়,  বাগানের কলে হোসপাইপ লাগিয়ে জল দেয়, হাত পা ধোয়। লুঙ্গিতে হাত মুছে শার্ট পরে খোনা গলায় ডাক দেয়- 'বাজারের টাকা দাও। আজ ডিম আনব না মাছ? এঁচোড় দেখেছিলাম, আনব?" মাসিমার থেকে টাকা এনে ঝন্টুদার হাতে দিতে গিয়ে কোনো কোনোদিন এক মিনিটের জন্য এই বাড়িটায় আমার নিজের সংসার মনে হয়।
    বাজার থেকে ফিরে বাড়ির টুকটাক কাজ করে, কখ্নও ঘাস কাটে, আগাছা তোলে; ভাত বসিয়ে আমি বাগানে এসে দাঁড়াই।
    -কী টুসি, গরম লাগছে?
    -না, ঠান্ডা
     ঝন্টুদা খোনা গলায় হাসতে থাকে । গেঞ্জির তলায় বুকের খাঁচার আদল বোঝা যায়। হাত মুছে বলে- টুসি, চা দেবে?
    " বিস্কুট খাবে না মুড়ি মেখে দি?" বলে বাড়ির দিকে মুখ ফেরাতেই দেখি মাসিমা দোতলার জানলার গ্রিলে মুখ ঠেকিয়ে এদিকে তাকিয়ে আছেন।
    -মাসিমা, আপনাকে চা দেব একবার?
    মাসিমা উত্তর দেননা। সরে যান জানলা থেকে।
     
    কাল থেকে  বাড়িটা অন্যরকম। কদিন আগেই মাসিমা বললেন, কয়েকজন বন্ধুকে আসতে বলবেন- গান বাজনা হবে দোলের দুদিন আগে।
    - সামলাতে পারবে তো টুসি একা হাতে?
    - খুব পারব। কী কী রান্না হবে বলুন।
    -বিকেলে চায়ের সঙ্গে ফিশফ্রাই, ডিমের ডেভিল এই সব। পারবে?
    -রাতে খেয়ে যেতে বলবেন। লুচি মাংস করে দেব। আর পায়েস, চাটনি।
    -এত পারবে কী করে?
    - পারব আমি। খুব মজা হবে । কোনোদিন তো কেউ আসে না।
    -খুব একা লাগে তোমার টুসি?
    " না না" টুক করে ছবির দিকে তাকিয়ে নিলাম। মাসিমা আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন তারপর ছবিতে- "ঝন্টুকে একবার আসতে বলো।  কী কী আনতে হবে বলে দেব।"
    -আমাকে বলে দিন। আমি ঝন্টুদাকে..
    -তোমার অনেক কাজ টুসি। আমি বলে দেব ঝন্টুকে।

    কত ফুল এনেছে ঝন্টুদা-  সাদা, হলুদ, গোলাপি। মালা এনেছে।  সারা রাত ফ্রিজে ছিল। আজ সকালে সাজানো হয়েছে সব। ঝন্টুদাই সাজিয়েছে-ফুলদানিতে, রেকাবিতে ফুল, সব ছবিতে মালা। গোটা বাড়ি ফুলের গন্ধে ভরে আছে। বিয়েবাড়ির মতো লাগছিল আমার। আনন্দ হচ্ছিল খুব, কান্নাও পাচ্ছিল। রান্না বসিয়ে দিলাম। ঝন্টুদা টুকটাক কাজ করছিল, বাজার যাচ্ছিল আসছিল- কোকাকোলা, মিষ্টি, কাগজের ন্যাপকিন। দোতলায় চেয়ার টেবিল সরিয়ে  ঘর মুছে রেখেছি রাতে। ঝন্টুদা সেখানে জাজিম পাতছিল -তার ওপর সাদা চাদরে, হারমোনিয়াম এনে  রাখছিল। মাসিমার গলা পাচ্ছিলাম- "এইরকম করলে হয় না ঝন্টু, ভাসটা আরেকটু সরাও- এই সব শুনতে পাচ্ছিলাম।" রোজ যদি এমন হত!

    ঝন্টুদা রান্নাঘরের চৌকাঠে দাঁড়ালো –“টুসি, চা হবে?  না না থাক। আজ তো অনেক রান্না বান্না।“
    - রান্না হয়ে গেছে তো।  চা দিচ্ছি। চেয়ারে বোসো না। পাখা ছেড়ে দি। মাংসটা একটু টেস্ট করে বলবে কী লাগবে?
    - একেবারে দুপুরেই খাব। মাসিমা এখানেই স্নান করে খেয়ে যেতে বলেছেন। চারটে  বাজলেই সবাই চলে আসবেন।  তুমি একা সব পারবে না।
    চারটে থেকেই সবাই আসতে শুরু করবেন- এরকমই জানি।  সেই মতো কাপ ডিস রেডি করছিলাম। চপ , ফিসফ্রাই গড়ে রেখেছি- লোকজন এসে গেলেই কড়াই বসাব। আজ  আমার  তাঁতের শাড়ি- আগের পুজোয় মাসিমারই দেওয়া। ঝ্ন্টুদার সাদা শার্ট;  প্লাস্টিকে করে এনেছিল-  কোঁচকানো  মোচকানো। ইস্ত্রি করে দিলাম।
     ঝন্টুদা উসখুস করছিল-" সোয়া চারটে বাজল কিন্তু, টুসি।"
    -তো কী?  চারটে মানে কী আর চারটে না কি?

    একতলার বসবার ঘরে ঘড়ির কাঁটা সরে সরে যাচ্ছিল- সাড়ে চার, পৌনে পাঁচ, পাঁচ। দোতলায় উঠলাম। ঝন্টুদা এলো সঙ্গে। মাসিমার হাতে মোবাইল, একবার কানে দিচ্ছেন, নামাচ্ছেন, আবার কানে দিচ্ছেন।
    -মাসিমা, চারটেতেই বলেছিলেন তো?
    -তাই তো বলেছি বারবার।
    -পাঁচটা বেজে গেল। রাস্তা হারিয়ে ফেলেন নি তো?
    -কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। সবার একসঙ্গে বড় ভ্যানে আসার কথা। ঠিকানা দেওয়া আছে, আর এখন তো গুগল ম্যাপেই... হারাবে কেন?
    "একসঙ্গে আসবেন তো, তুলতে তুলতে এলে দেরি হয়" ঝন্টুদা বিজ্ঞের মতো বলল।
    -ফোন ধরছে না কেন সেটাই তো বুঝতে পারছি না-
    -হয়তো গাড়ি চালাচ্ছেন
    -সে তো একজন। বাকিরা?
    "টুসি, একটু চা করে মাসিমাকে দাও বরং, দুপুর থেকে কিছুই খান নি প্রায়" ঝন্টুদা বলল। মাসিমা ঝন্টুদার দিকে তাকালেন, রবিঠাকুরের ছবির দিকে তারপর। দু দিকে মাথা নাড়লেন। আবার মোবাইল কানে দিলেন।
    নিচে নেমে ঝন্টুদাকে চা দিলাম, আমিও নিলাম। তারপর গড়া চপ, ফিসফ্রাই ফ্রিজে তুলে রাখতে দোতলায় এসে দেখি, মাসিমা এলিয়ে বসে, পায়ের কাছে মোবাইল, চোখে জল।
    -কী হয়েছে? শরীর খারাপ লাগছে?
    চেঁচিয়ে ডাকলাম ঝন্টুদাকে।
    -মাসিমা, ডাক্তারবাবুকে ফোন করি?
    মাসিমা কেমন করে তাকালেন আমাদের দিকে - জল থেকে ডাঙায় তোলা মাছের চোখের মতো দৃষ্টি- " ওরা কেউ আসতে পারবে না। গাড়ি খারাপ হয়ে গেছে।"
    -ট্যাক্সি করে যদি বা উবের টুবের...
    " বলল, সবার বয়স হয়েছে, শরীর খারাপ, অন্য কোনো ঝামেলা করে আসতে পারবে না । পথও অনেকখানি। সব আয়োজন নষ্ট হল"- মাসিমা ফুঁপিয়ে উঠলেন।
    ঝন্টুদার চোখ ছলছল করছে দেখলাম। মাসিমার চেয়ারের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে বলল- " নষ্ট কেন হবে মাসিমা? এই তো আমরা আছি। "
    " ফ্রিজে তুলে রাখছি সব, রোজ একটু একটু করে খাব" আমি বললাম।
    "টুসি, মাসিমাকে চা দাও। আমি আসছি।"

    কোথায় গিয়েছিল জানি না। ফিরে এল বাঁশি হাতে নিয়ে-" বাঁশি বাজিয়ে বাসন বিক্রি করতাম একসময়। বাঁশিটা রয়ে গেছে। বাজাই? তারপর আপনি গাইবেন। টুসি কবিতা বলবে। কী টুসি?"
    -ক্লাস ফাইভ অবধি পড়েছি।  ছায়ার ঘোমটা মুখে টানি পুরোটা বলতে পারব। না দেখে।
    "আর দেখে? দাঁড়াও বই বের করি"- মাসিমা উঠে দাঁড়ালেন। 
     



    কবে থেকে এভাবে চিঠি লিখছি তোমাকে ডায়রির পাতায়? নির্মলা সেই যে পত্রিকা বের করল কলেজে পড়ার সময়, একটা সংখ্যার বিষয় করল, 'প্রিয় পুরুষ', আর আমি লিখলাম তোমার কথা, তোমার এই চেহারার বর্ণনা দিয়ে লিখলাম, তখন থেকেই সম্ভবত। সমর ঠাট্টা করত, বলত অভ্যাস; বলত, শ্রী দুর্গা সহায় লিখে চিঠি শুরু করার মত নাকী ব্যাপারটা। এই ছবিটা সমরই এনে দিয়েছিল - " রত্নাকরের সঙ্গে আমিও রয়ে গেলাম ফ্রেমের মধ্যে। তোমার জীবনে যেই আসুক, এই ছবি থেকে যাবে, আমিও।" ফ্রেমেই রয়ে গেল। তোমার চোখে যেন ওর দৃষ্টি ,  ছবির খুব কাছে গিয়ে  দাঁড়ালে গা শিরশির করে। টুসি যখন তোমার ছবির দিকে তাকায়, ভাবি, ও কী আর কাউকে খুঁজে পায় তোমার চোখে?

    ঝন্টু আর টুসিকে  দিয়ে কদিন বড় অশান্তিতে কেটেছে। লেখা হয় নি ডায়রিতে, কিন্তু  আজ এই সব লিখে রাখা জরুরী। খবরে আজকাল যা সব পড়ি, ভয় করে। মৃত্যুভয় নয়। বীভৎস মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছিলাম -ভয় হচ্ছিল মৃত্যুর ধরণ নিয়ে, ইদানিং ।  টুসি আর ঝন্টুকে একসঙ্গে কথা বলতে দেখলে ভয় করত আমার। প্রথমে এক বিন্দু ভয়, তারপর আরো এক বিন্দু- তারপর গোটা মন ছেয়ে গেল আশঙ্কায়। মনের কোথাও এক ফোঁটা স্বস্তিও যেন আর রইল না। এমনকি টুসির রান্না মুখে তুলতে ভয়  - হোম ডেলিভারিতে খাবার আনানোর কথাও ভেবেছিলাম। তারপর, নিতান্ত বোকার মতো ভাবলাম, আমি যে একা নই, কত বন্ধু আছে- যদি দেখানো যায়,  তাহলে হয়তো নিরাপদ থাকব...
    কতখানি ভুল ভেবেছিলাম- আজ সন্ধ্যায় বুঝলাম। ঝন্টু চোখ বুজে বাঁশিতে  মেঠো সুর বাজাচ্ছিল। একের পর এক।  টুসি তাকিয়েছিল ঝন্টুর দিকে যেন এই প্রথম দেখছে।  আমি সবার সামনে হু হু করে কাঁদছিলাম,  যেন একটা  পরিবর্তন ঘটছিল আমার অভ্যন্তরে- যেনএতদিনের  উইঢিপি ভেঙে ভেঙে পড়ছে; সমস্ত অনুভূতিতে শাণ পড়ছিল আমার; ক্যাটারাক্ট সার্জারির পর যেমন সমস্ত কিছু অসম্ভব উজ্জ্বল দেখতাম-  টুসির চোখের জল দেখতে পাচ্ছিলাম, ঝন্টুর শ্বাসের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। দেখছিলাম,  ফুলদানির ফুলের পাপড়ির রঙের আলাদা শেড, আলোয় ভরা ঘর, রঙীন পর্দা উড়ছে,  সুন্দর দুজন মানুষ আমার এত কাছে বসে ; মনে হচ্ছিল,  যেন অলীক কোনো নিরাময়  আমার দাঁতের গোড়ায়, হয়তো মাড়ির ফাঁকে জমে ছিল, এখন সমস্ত এক সঙ্গে রক্তে মিশছে,  তারপর চেতনায়- যেন চোখের জলে ধুয়ে গিয়েছে সব , যেন সদ্য জন্মে মানুষ এভাবেই জগৎ দেখে।
    মোবাইল বাজছিল। ফিরেও তাকাইনি।  টুসিকে ক্যাসেট চালাতে বলেছিলাম- আমার মিলন লাগি তুমি আসছ কবে থেকে। প্রতিটি লাইনের অর্থ নতুন করে আবিষ্কার করছিলাম। গানে কোথায় সূক্ষ্মকাজ, কোথায় মুড়কি কে যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল গোটা পৃথিবীর চলার শব্দ লুপ্ত হয়েছে- রয়েছে শুধু এই বাঁশি, এই গান- তোমার চন্দ্র সূর্য তোমায় রাখবে কোথায় ঢেকে...

    ওরা একতলায় চলে গিয়েছে অনেকক্ষণ। ঝন্টু সাইকেল বের করল- আওয়াজ পেলাম। টুসি দরজায় খিল তুলছে, তালা দিচ্ছে- শুয়ে পড়বে এবার। কাল আবার সকাল হবে। অন্য একটা দিন। আবার যদি আতঙ্ক ফেরৎ আসে? আবার সব ঘোলাটে হয়ে যায়?  বরং, ঠিক এইখানে, এই মুহূর্তেই থেমে থাকি না হয় । কিছু তো চাইবার নেই আর । কোনো লোভ নেই। আকাঙ্খা নেই কোনো । সুন্দরে সুন্দরে ভরে গিয়েছি। 
    ঘুমের ওষুধের স্ট্রিপ আছে। যথেষ্ট। চুল আঁচড়ে শুয়ে পড়ব তারপর।
    আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।
     
    [ প্রথম প্রকাশ ঃ কৃত্তিবাস, প্রতিভাস , ২০২৩] 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • গপ্পো | ০৫ জুলাই ২০২৩ | ৯২৩ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    গল্প  - Debasis Sarkar
    আরও পড়ুন
    ইঁদুর  - Anirban M
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • মোনালিসা ঘোষ | 2401:4900:1c01:cd91:cd95:fca6:b3de:3448 | ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৪:৫৯521018
  • চপ , আর ফিস ফ্রাইগুলোর কি হবে !! যা তা করলি ! 
  • যদুবাবু | ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৭:৫৭521025
  • উফ! 
     
    এটা কিন্তু প্রশংসাসূচক বা বিস্ময়সূচক 'উফ', মানে 'উফ, কি সাঙ্ঘাতিক!', 'উফ! কি দারুণ!', বিরক্তিমূলক 'উফ', যেমন 'উফ, কি প্যাচপেচে গরম' - না।

    সমালোচনা করতে খুব-ই ইতঃস্তত করছি, কিন্তু তাও, করতে ইচ্ছে করছে। মাঝে মাঝে মনে হয় যেন আপনার অন্য এক গল্পের অন্য কোনো এক চরিত্রের ছায়া বা ভাব আরেক গল্পের মধ্যে একটু হলেও অভিস্রবণের মতো ঢুকে পড়ছে অর্ধভেদ্য পর্দার অদৃশ্য ফাঁক দিয়ে। একটা চরিত্রের একটা লাইন পড়তে গিয়ে মনে হ'লো হ্যাঁ এই তো এই লাইনটা ইন্দ্রাণীদির সেই ম্যাজিক টাচ। কখনো এক পর্ব থেকে আরেক পর্বেও। হয়তো সেটাই স্বাভাবিক - যেমন অনেকদিন একসাথে থাকলে দুইজন মানুষ ক্রমশঃ একই ব্যক্তিতে কনভার্জ করে যান। এক-ই গল্পে বা এক-ই লেখকের মাথায় থাকতে থাকতে একাধিক চরিত্র-ই বা কেন করবে না?

    (আশা করি, অপরাধ নেবেন না।)  
  • ইন্দ্রাণী | ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৮:৩৩521027
  • দূর যদুবাবু, অপরাধের কী। এইটা সোয়ান লেকের বাল্মীকিপ্রতিভা সংস্করণ। এছাড়া আরো পুরোনো কিছু লেখার ছায়া আছে।
    অভিস্রবণের ব্যাপারটা সঠিক ধরেছেন।
    আজ হরিদাস পালে তোলার সময় প্রকাশিত লেখাটা খানিক এডিট করেছি। তাও ঠিক হলনা। সম্ভব ছিল না। এই গল্পটা আমার আরো কয়েকটা
    গল্পর মতই কোনো সংকলনে কোনোদিন অন্তর্ভুক্ত করব না।
  • kk | 2607:fb91:890:635e:10f:2604:f23b:a3d9 | ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৯:২১521029
  • ইন্দ্রাণীদি'র লেখাগুলো আমাকে কিছুক্ষণের জন্য প্যারালাইজ করে দেয়। এটা আক্ষরিক অর্থে বললাম। আমি প্রথমে বাংলায় "থ" হয়ে যাই। পুরোটা প্রসেস করার জন্য। তারপর থ হই ইংরেজীতে, thaw. আর গভীরতা। গল্পের গভীরতা, লেখার, লেখার স্টাইলের, চরিত্রের। একটা একটা লাইন এমন অবহেলে পাঠককে আরো গভীরে টান দিয়ে তলিয়ে নিয়ে যায়! আবার আতংক ফিরে আসার আতংক, দাঁতের গোড়ায় জমে থাকা নিরাময়, ফ্যানের রেগুলেটার বাড়ালে উড়ে যাওয়া নাম .... লাইনগুলো ম্যাজিক। আমার মনে হয় লেখার বিয়ন্ডে (এর বাংলা পরিভাষা কী?) আরো অনেক কিছুকে ছুঁতে পারছি। কিন্তু সেগুলো কথায় লেখার সময় শব্দ খুঁজে পাইনা।
  • ইন্দ্রাণী | ০৬ জুলাই ২০২৩ ০১:৩১521034
  • ধন্যবাদ কেকে।
    এবছরটা এখনও অবধি সেভাবে লিখতে পারছি না বিবিধ কারণে।
    ব্যক্তিগতভাবে এই গল্পটা লিখে ভালো লাগে নি। নিজের লেখার চাড় ছিল না। তাহলে লিখেছিলাম কেন? সে পরে বলব একদিন।

    তোমার ভালো লাগল বলে , খুশি খুশি লাগছে।
  • aranya | 2601:84:4600:5410:2989:9ba1:2b93:35f0 | ০৬ জুলাই ২০২৩ ০১:৩৭521035
  • লেখার বিয়ন্ডে = লেখার সীমানার বাইরে , লেখার দিগন্তের ওপারে - জানি না, সঠিক পরিভাষা কি হবে
     
    লেখাটি অসাধারণ 
  • যদুবাবু | ০৬ জুলাই ২০২৩ ০২:২৯521038
  • "এই গল্পটা আমার আরো কয়েকটা গল্পর মতই কোনো সংকলনে কোনোদিন অন্তর্ভুক্ত করব না।" - এ মা সে কি! এ বাবা ! যাঃ ... ফোঁত। 
    লেখাটা কিন্তু খুব-খুব ভালো - যার-পর-নাই ভালো যাকে বলে। 

    তবে লেখা আসছে না বললে হবা না। 'আয় আয় চই চই' বলে ডাকুন। 
  • ইন্দ্রাণী | ০৬ জুলাই ২০২৩ ০৪:১৯521039
  • ধন্যবাদ অরণ্য।

    যদুবাবু,
    সংকলনের অন্তর্ভুক্ত না করার ব্যাপারটা অভিমান করে বলি নি।
    আচ্ছা, নিজের লেখার সমালোচনা করি অতি সংক্ষেপে।
    এমনিতে লেখাটি ফরমায়েসি, কিছু কিছু ক্রাইটেরিয়া বেঁধে দেওয়া ছিল- সেটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম- সে ব্যাপারটা উৎরেছে। তবে তার বিশদ পাঠকের জানার দরকার নেই।
    গল্পের গঠন যা চেয়েছিলাম, পেরেছি; প্রথম পর্বে স্টেজের একটি প্রপ ( ছবিটা) এর দৃষ্টিকোণ থেকে , পরের অংশ উইংস বা ব্যাকস্টেজ, শেষ অংশ মূল একাঙ্ক- নাটকীয়তা, আবেগ মিউজিক সমেত। স্ট্রাকচার যা চেয়েছিলাম হয়েছে। কিন্তু ঐ স্টেজ আর একাঙ্ক আনতে গিয়ে সোয়ান লেক এসেছে, লীলাময়ীও খানিক এসেছেন। সেদিক থেকে সংকলনে এই গল্পটা অতিরিক্ত হবে।
    আর শেষ পর্বে একাঙ্ক সম্ভবত আরো বিস্তার দাবি করে। সেটা করা যায় নি। ঐ টা এডিট করব পরে।

    চই চই করলে গল্প আসবে কী না কে জানে। ল্যাকটোজ ফ্রী পায়েস খেয়ে ধ্যানে বসতে হবে। তরুতল খুঁজছি আপাতত। ঃ)

    এই যে গুরুতে সব খুলে বলতে পারি, নিজের লেখার সমালোচনা করতেও পারি, শুনতেও পারি - এ কি আর কোথাও পাব?
  • :|: | 174.251.162.136 | ০৬ জুলাই ২০২৩ ০৫:২৯521042
  • চপ কাটলেটের সমস্যার সমাধান তো গল্পেই দেওয়া আছে "আমরাই খাবো"। ;)
    এই গল্পটাও ভালো। গভীরতায় যাবার বুদ্ধি নাই, তেমন পাঠকও পড়তে পারবে। সংকলনে সব রকম পাঠকের জন্যই লেখা থাকা উচিৎ।
  • Swati Ray | 117.194.34.235 | ০৬ জুলাই ২০২৩ ১১:৪০521045
  • " আমার নামটা কিছুক্ষণ রান্নাঘরের সামনে ভেসে থাকে -ফ্যানের রেগুলেটর বাড়ালে উড়ে যায়।" - অনেকদিন মনে থাকবে।  

    আমার খুবই ভালো লেগেছে। শেষ টা যদি অন্য রকম হত? যদি নমিতা নতুন করে বাঁচতে শিখতেন? নাহ এমনই হয় বোধহয় !
  • ইন্দ্রাণী | ০৬ জুলাই ২০২৩ ১৪:১৮521047
  • :|:,
    চপ কাটলেটের সমস্যাটা বেশ গুরুতর। ঃ) আমার বন্ধু এই নিয়ে বেশ চিন্তিত। বাড়িতে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেলে, সব নষ্ট হবে এই আর কি। ঠাট্টা আরকী। 
    সেটা নাও হতে পারে, কী হবে জানি না। লিখছি স্বাতীকেই ব্যাপারে  -
    এই প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়ল। এতো চপ কাটলেটের সমস্যা। আমার এক পাঠক সমস্যায় পড়েছিল রুবির বাঘ শান্তনুর বাথরুম করা নিয়ে- এত ঘন ঘন বাথরুম করে কেন? ওর কি  ডায়াবেটিস? এইটে তার সমস্যা ছিল। খুবই পশুপ্রেমী সম্ভবত।
    যাই হোক, আপনাকে ধন্যবাদ পড়ার জন্য, জানানোর জন্য। সংকলনের ব্যাপারে পরামর্শ মাথায় রাখব। ঃ)

    স্বাতী,
    ধন্যবাদ।
    ঐ ফ্যানের হাওয়ায় নাম উড়ে যাওয়ার ব্যাপারেই হয়তো যদুবাবু অভিস্রবণের কথা বলেছেন। হতে পারে। নাও হতে পারে।
    আর শেষে নমিতার ঠিক কী হল জানি না। যেভাবে একাঙ্ক ভেবেছি, তাতে, শেষ দৃশ্যে নমিতা চেয়ারে বসে লিখছেন। লেখা শেষ হল। শেষ লাইনে ফোকাস। পর্দা নামল। আমার বলা শেষ।
    এর পরে অনেক কিছুই ঘটতে পারে, নমিতা লেখাটা ছিঁড়ে ফেলে ঘুমের ওষুধ না খেয়েই ঘুমোতে যেতে পারেন, কোন ভুলে যাওয়া বসন্ত থেকে যেন এলে কে গুন গুন করতে করতে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। অথবা ... যাই হোক.. অনেক কিছুই ঘটতে পারে। আমার গল্প ঐ ডায়রির শেষ লাইন পর্যন্তই।

    ভালো লাগলো অনেকদিন পরে সবার সঙ্গে কথা বলে।
    লেখাটা এডিট করার ইচ্ছে আছে। 
  • | ০৮ জুলাই ২০২৩ ১০:৩৬521085
  • অনেক দেরীতে পড়লাম। ইতোমধ্যে সবাই বলে টলে ফেলেছেন। আমারও মনে হল শেষটা কিরকম একটাই সম্ভাবনার দিকে ঈঙ্গিত করছে অর সেই সম্ভবনাটা আমার মোটেও পছন্দ হল না। 
  • ইন্দ্রাণী | ০৮ জুলাই ২০২৩ ১২:৪১521087
  • থ্যাঙ্কু দ। পড়ার ও জানানোর জন্য।
  • বিদিশা দাশ | 2402:e280:3d13:3dd:611d:5ea3:9f40:ffaf | ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:৪১527387
  • "একলা ঘাটে রইব না গো
    রইব না পড়ি" - - জেনে নিলাম, চুল আঁচড়ে শুয়ে পড়ব। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন