এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  ইতিহাস

  • ধর্মাধর্ম – পঞ্চম পর্ব  -  অষ্টম ভাগ ও উপসংহার 

    Kishore Ghosal লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ইতিহাস | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৪৪৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ৫.৮.১ আমাদের বিজ্ঞান মনস্কতা
    ১৩০০ সি.ই-র সময়কাল থেকে আমরা এই ২০২২-২৩-এ অনেক-অনেকটাই ভালো আছি। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরেও আজ বিদ্যুতের আলো, পাখা আরও কত না সুবিধেজনক যন্ত্রপাতি – টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিংমেশিন, এসি, মাইক্রো আভেনের মত কত কত গ্যাজেটস। পরিবহণের সুখও এমনটি আর হয় না – উড়োজাহাজ, ট্রেন, এসি বাস, সাধারণ বাস, নিজস্ব চারচাকা - দুচাকা, অটো-টোটো, অটোরিকশা, মায় সাইকেল ও টানা রিকশ। তেমনই অঢেল দেশি-বিদেশী খাবার দাবার, পোষাক-পরিচ্ছদ। আমরা অহোরাত্র মাথা নত করে নিবিষ্ট থাকি মোবাইলের পর্দায়। প্রতিটি মূহুর্ত আমরা সংযুক্ত থাকি চেনা, অচেনা, পরিচিত, অপরিচিত “বন্ধু”-দের সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে অজস্র সংবাদ, তথ্য, ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ, শ্লেষ, প্রশংসা, শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার আদানপ্রদান করি। এমনকি চেনা-অচেনা কারো মৃত্যুতেও শোকের আরআইপিতে আপ্লুত হই। আমাদের পূর্বপুরুষদের মতো আমরা কখনো বিচ্ছিন্ন অসহায় হয়ে পড়ি না, আমাদের এক একটি স্টেটাস আপডেটে, সারা দেশ থেকে - এমনকি সুদূর বিদেশ থেকেও - মূহুর্তে লাইক পড়ে কয়েকশ বা হাজার।

    অর্থাৎ সাতশ বছর আগেকার আমাদের সেই পূর্বপুরুষদের মতো সংকীর্ণ, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন, সর্বদাই ভাগ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আমরা মোটেই সন্ত্রস্ত নই। আমরা বিজ্ঞানমনস্ক, বিজ্ঞান সচেতন। স্রোতস্বিনী উদ্দাম নদীতে বাঁধের লাগাম পরিয়ে আমরা বন্যা রোধ করি, জলবিদ্যুৎও বানাই। সূর্য কিরণ এমনকি বায়ু প্রবাহ থেকেও আমরা বিদ্যুৎ বানাতে শিখেছি। মাটির গভীর থেকে আমরা নিত্য তুলে আনছি অজস্র ধাতুর আকর, কয়লা, জীবাশ্ম তেল। গৃহস্থ কাজেই হোক বা কারখানার তীব্র দহনের চুল্লিই হোক - আগুন এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। বিপদ সঙ্কুল অরণ্যগুলি থেকে হিংস্র শ্বাপদগুলিকে আমরা প্রায় নিঃশেষ করে, অরণ্যকে করে তুলেছি বাৎসরিক বা ষাণ্মাসিক প্রমোদ ভ্রমণের অভয়ারণ্য। কিছু কিছু শ্বাপদকে আমরা “করুণা” করে বাঁচিয়ে রেখেছি। গহন অরণ্যের সকল রহস্য ভেদ করে আমরা ঘরের আসবাব বানিয়েছি, ব্যবহার করেছি আমাদের অজস্র কাজে। অর্থাৎ এই পৃথিবী, জল, শক্তি, বাতাস, আকাশ – অর্থাৎ ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম নামক পঞ্চভূত এখন হেরে ভূত হয়ে গিয়েছে – এরা সকলেই তাদের অনন্ত রহস্য হারিয়ে এখন আধুনিক মানুষের দাস। শুধুই কী এই পৃথিবী? আমরা চাঁদেও পা রেখেছি, মঙ্গল, বৃহষ্পতি, শনি গ্রহের উপরও তীক্ষ্ণ নজর রাখছি। অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের অপার রহস্যের চাবিগুলি এখন একে একে আমাদের হাতে চলে আসছে।   
          
    বিজ্ঞানের এই আশ্চর্য সাফল্য এবং আমাদের নাগরিক সমাজের অতি-স্বাচ্ছল্য, আমাদের পূর্বপুরুষদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অন্ধ বিশ্বাসী মানসিকতা থেকে নিশ্চয়ই বহুদূরে এনে উপস্থিত করেছে। করেছে কী? দেখা যাক।    

    ৫.৮. আধুনিক ধর্ম ধারণা
    ত্রয়োদশ শতাব্দীর পর থেকে আজ পর্যন্ত সর্বভারতীয় না হলেও বেশ কিছু আঞ্চলিক নতুন দেব ও দেবীর সৃষ্টি আমরা করতে পেরেছি। যেমন, সত্যনারায়ণ, মনসাদেবী, ষষ্ঠীদেবী, শীতলাদেবী, ওলাইচণ্ডী, শনিদেব প্রমুখ। এছাড়াও পুরাণ খুঁটে খুঁটে আমরা আরও আনতে পেরেছি নতুন নতুন দেবী কল্পনা – যেমন রক্ষাকালী, শ্মশানকালী, নিত্যকালী, কৌশিকী কালী প্রমুখ। এগুলির অধিকাংশই হিন্দু পারিবারিক পূজা হিসেবে বিগত শতাধিক বছর ধরেই প্রচলিত ছিল। কিন্তু আজকাল কলকাতার বারোয়ারী মণ্ডপেও এরকম অনেক দেবীর পূজাই সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।     

    অতএব, আধুনিক হিন্দু সমাজে আমরা ত্রয়োদশ শতাব্দীর সময় প্রচলিত, ক্বচিৎ দু একজন ছাড়া, সকল দেব-দেবীদেরই মান্য করি, শ্রদ্ধা করি, উপাসনা করি এবং বিশ্বাস করি। সত্যিই কি বিশ্বাস করি?  সে কথায় পরে আসছি। দেবতাদের মধ্যে বিষ্ণু, শিব, কৃষ্ণ, কার্তিক, গণপতি, শনি, বিশ্বকর্মা এবং দেবীদের মধ্যে দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, অম্বা (জগদম্বা), অন্নপূর্ণা, বাসন্তীদেবী, কালী, তারা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, সন্তোষীমাতা সকলেরই নিষ্ঠা ভরে পূজা করি। এর সঙ্গে আরও নতুন দেবতা যাঁদের কথা আগেই বলেছি, তাঁদেরও  নিষ্ঠা ভরে পূজা করি। নিষ্ঠা ভরে করি কিনা, সেটাও পরে দেখা যাবে। আদিম ও অনার্য হোমো-স্যাপিয়েন্সদের মতো এবং সাতশ বছর আগের পূর্বপুরুষদের মতো আমরাও দেবদেবীদের কাছে আমাদের মনের নানান বাসনা-কামনার কথা ব্যক্ত করি, প্রার্থনা করি এবং আশা করি তাঁরা সকলেই, অন্ততঃ কেউ না কেউ, আমাদের মনের ইচ্ছা পূরণ করে দেবেন।
     
    প্রায় চল্লিশ হাজার বছর আগে, এই গ্রন্থের প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি, পিতা পশুপতি তাঁর পরিবারের জন্যে আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তা থেকে স্বস্তি পেতে দেব-আত্মার কল্পনা করেছিলেন। সামাজিক বা পরিবারিক ভিত্তিতে তাঁরা এক বা দুজন দেব বা দেবী-আত্মাতেই ভরসা রাখতেন। কিন্তু পরবর্তী কালে, এমনকি অত্যাধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক  সমাজেও একত্রে এত দেব-দেবীর প্রয়োজন হয়ে উঠছে কেন? তাহলে কী বুঝতে হবে, সভ্যতা এবং আধুনিকতার সঙ্গে মানুষের উদ্বেগ বা আশঙ্কা কমে না? উলটে বেড়ে যায়?

    সভ্যতা ও প্রযুক্তির সংস্পর্শে উন্নত হতে থাকা সমাজের পরবর্তী পর্যায়গুলি পর্যালোচনা করে দেখা যাক, মানুষ কেন কোন সময়েই দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে তো পারেইনি, বরং আরো বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে উঠেছে।

    ৫.৮.৩ উন্নত সভ্যতার আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তা
    বেচারা আদিম শিকারী-সংগ্রাহী মানুষদের কী কষ্টের আর অনিশ্চিত জীবন যাপনই না করতে হত! তাদের সারাদিনের প্রতিটি মূহুর্তই যেন আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তার! তাঁদের চাহিদা ছিল অনেক - নীরোগ পরিবার, নিরাপদ সহজ শিকার ও প্রচুর ফলমূল সংগ্রহ। ঝড়-ঝঞ্ঝা, বন্যা, বজ্রপাত, ভূমিকম্প, দাবানল, শত্রুপক্ষ এবং হিংস্র পশুদের থেকে সুরক্ষা। এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে অভিপ্রয়াণে (migration) যেন আরও অনুকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতি পাওয়া যায়। তাঁদের দেব বা দেবী-আত্মার কাছে এই চাহিদাগুলিই ছিল তাঁদের প্রধান নিবেদন।

    পরবর্তী কৃষি ও গৃহপালিত-পশু-নির্ভর সমাজ অনেকটাই নিশ্চিন্ত এবং স্থিতাবস্থায় ছিল। অতএব তাঁদের  আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তা মনে হয়েছিল অনেকটা কম হবে। কিন্তু দেখা গেল, তাঁদের নিবেদন আরও দীর্ঘ। নীরোগ পরিবার, ঝড়-ঝঞ্ঝা, বন্যা, বজ্রপাত, ভূমিকম্প, দাবানল, শত্রুপক্ষ এবং হিংস্র পশুদের থেকে সুরক্ষা – এসব তো ছিলই। তার ওপর যুক্ত হল, সঠিক সময়ে সুবর্ষা, পঙ্গপাল অথবা কীট থেকে শস্যের সুরক্ষা। প্রচুর সুস্থ সবল সন্তান-সন্ততি, বিশেষ করে পুত্র-সন্তান, যারা বড় হয়ে পিতার সহায় হবে এবং সংসার-জমি-জমার হাল ধরবে। প্রচুর সুস্থ সবল পশু, সবৎসা গাভী। মেয়ের জন্যে সুপাত্র। ছেলের জন্যে সুস্থ বহু-পুত্র-প্রসবিনী বধূ। পোক্ত বাড়ি-ঘর, গোয়াল, খামার, শস্যের গোলা।

    তা না হয় বোঝা গেল, কিন্তু পরবর্তী জনপদ নির্ভর বহু পেশা, বহু বৃত্তির মানুষদের নিয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর সমাজের তো সাধারণভাবে  দুশ্চিন্তা ও আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু কমল কই? যেহেতু সমাজের অধিকাংশ মানুষই কৃষিজীবি, অতএব তাঁদের প্রধান আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তার কারণগুলি, সমাজের অন্য বৃত্তির মানুষদের ক্ষেত্রেও, প্রত্যক্ষ না হলেও, পরোক্ষে প্রযোজ্য। কারণ যথেষ্ট শস্য উৎপন্ন না হলে, তার প্রভাব অন্য সকল বৃত্তির মানুষদেরও ভোগ করতে হবে। অতএব পরোক্ষভাবে হলেও, কৃষিজীবিদের আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তাগুলি সমাজের প্রত্যেকটি লোকের সমস্যা। কৃষিজাত তুলো, রেশম কম হলে, তন্তুবায়ের কাজ কমবে। তিল, সরষে কম উৎপন্ন হলে, তৈলকারের কাজ কমে যাবে। এঁদের সকলের উপর নির্ভরশীল, কুম্ভকারের হাঁড়িকলসি, কর্মকারের যন্ত্রপাতি, সূত্রধরের কাঠের কাজের চাহিদাও কমবে। কমবে বণিকের বাণিজ্য। বণিকদের আরও দুশ্চিন্তা সড়ক, নদী বা সমুদ্র পথে যেন কোন দুর্ঘটনা না ঘটে, দস্যুদের থেকে যেন বিপদ না আসে। অতএব সমাজের উন্নতির সাথে সঙ্গতি রেখে দ্রুতহারে দুশ্চিন্তাও যেন বেড়ে চলেছে!

    তবে রাজা এবং সুশাসিত রাজ্যের সমাজে নিশ্চয়ই এত আশঙ্কা বা দুশ্চিন্তা ছিল না। রাজা দেবতার প্রতিনিধি। তিনি প্রজাদের নিজের সন্তানের মতো পালন করার ব্রত নিয়ে থাকেন। আমার তো মনে হয় এই পর্যায়ে সমাজের সাধরণ মানুষ নিশ্চয়ই খুবই সুখে শান্তিতে বাস করত। সেটাও একটু আলোচনা করে দেখা যাক।  

    আগের থেকেও সমাজে তখন বিচিত্র বৃত্তির লোক, রাজকর্মচারী, চতুরঙ্গ সেনাদল, অস্ত্র-শস্ত্রের বিপুল সরবরাহ, হাতি-ঘোড়ার নিয়মিত পরিচর্যার জন্য অজস্র ভৃত্য, রাজপ্রহরী ইত্যাদি, তাদের বিভিন্ন এবং বিচিত্র সব চাহিদা। কৃষিজীবি, বণিক এবং অন্যান্য পেশা ও বৃত্তির মানুষের আগের দুশ্চিন্তার সবগুলিই কিন্তু রয়ে গেল। এর সঙ্গে নতুন আশঙ্কা যোগ হল, রাজ-কর।

    রাজার চাহিদা নিজ রাজ্যের সুরক্ষা, সফল রাজ্য-জয়, প্রজাদের সন্তোষ, প্রজাদের থেকে নির্বিঘ্নে কর আদায়। রাজা হিসেবে পরাক্রম, যশ, প্রতিপত্তি, যোগ্য পুত্র, প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ এবং উপভোগ। পুরোহিতদের চাহিদা রাজা তাঁদের উপর আস্থা রাখুন, রাজা সুখে-শান্তিতে নিরাপদে রাজত্ব করুন, তিনি প্রায়ই কিছু না কিছু যজ্ঞের আয়োজন করুন, প্রচুর দক্ষিণা দান করুন। ধনী ও বণিকরাও যেন পুরোহিত ও ব্রাহ্মণদের প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেন। রাজকর্মচারীদের দুশ্চিন্তা রাজা এবং পুরোহিতরা যেন তাঁদের উপর ক্ষুব্ধ বা বিরক্ত না হন। কোন কোন তৈল-নিষেককারী সহকর্মী উচ্চপদে চলে যাচ্ছে, রাজার প্রিয়পাত্র হয়ে উঠছে। সেইসব প্রতিদ্বন্দ্বী সহকর্মীদের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রের দুশ্চিন্তা। এরকম অজস্র দুশ্চিন্তার সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া যাবে।

    এর পরেও ছিল যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং বিদ্রোহ। ধরা যাক “ক” এবং “খ” দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজ্য। কখনো ক খ-কে আক্রমণ করেন, কখনো খ করেন ক-কে। যুদ্ধে অস্ত্র এবং সেনা সংগ্রহ ও সৈন্য-রসদে জলের মতো অর্থব্যয় হয়। সেই অর্থের যোগান দিতে হয় সাধারণ সমাজের প্রজাবর্গকে। সাধারণ করের সঙ্গে যুক্ত হত আপৎকালীন অতিরিক্ত করের বোঝা। ক-রাজ্যের রাজা পরাজিত হয়ে সিংহাসনচ্যুত হলে, নতুন রাজা খ কেমন হবেন, তাঁর কী কর-নীতি হবে সে নিয়ে প্রজাদের দুশ্চিন্তা। আবার অনেক সময় বিজিত রাজা-খ ক-রাজ্যের রাজাকে পরাজিত করলেও সিংহাসনচ্যুত করতেন না। ক-এর থেকে প্রচুর ক্ষতিপূরণ আদায় করে, ক-কেই বশীভুত করদ রাজা করে রাখতেন। করদ রাজ্য মানে, বশীভূত করদ রাজা ক-কে, বিজয়ী রাজা খ-কে প্রতি বছর বিশাল অর্থ কর দিতে হত। নিয়মিত করের সঙ্গে খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই বাড়তি করের পুরোটাই প্রজাদেরই বহন করতে হত। কারণ রাজা–ক, করদ রাজা হলেও তাঁর নিজস্ব রাজকীয় ঠাট-বাট, বিলাস-ব্যসনের তো আর সঙ্কোচ সম্ভব নয়। রাজা যদি সাধারণ হয়ে যান, তাহলে কেউ কী আর তাঁকে রাজা বলে গণ্যি-মান্যি করবে?
     
    এই অতিরিক্ত করের নিরন্তর অত্যাচার সাধারণ মানুষের মনে রাজাদের সম্পর্কে বিতৃষ্ণা জাগিয়ে তুলছিল। কিন্তু অসহায় সাধারণ মানুষ করবেনটা কী? ফলতঃ তাঁদের দুশ্চিন্তার মাত্রা বাড়তে লাগল। যত দুশ্চিন্তা বাড়ল, দেব-দেবীদের কাছে প্রার্থনা আর পুজোও বাড়তে লাগল দ্রুত। তাঁদের কাছে শ্রীরামচন্দ্রের রামরাজ্য এবং রাজা যুধিষ্ঠিরের ধর্মরাজ্যের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের স্বপ্ন দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কী করার আছে? এই স্বপ্নরাজ্যে ডুব দিলে কিছুক্ষণ তো দুশ্চিন্তা ভুলে থাকা যায়। অতএব জনপ্রিয় হয়ে উঠতে লাগল রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণের নানান কাল্পনিক কাহিনী আর অলৌকিক ঘটনা। সাধারণ মানুষ, স্বপ্ন দেখেন, “ধর্ম রক্ষা করতে তিনি অবতার হয়ে আবার আসবেন এই ধরাতলে। কবে তুমি আসবে, ঠাকুর, আমাদের পরিত্রাণ করতে?”  এই গ্রন্থগুলি যতই জনপ্রিয় হতে লাগল, ততই পল্লবিত হতে লাগল আরও নতুন নতুন কাহিনীতে, সংযোজন আর পরিমার্জন চলতে লাগল নিরন্তর।

    এর মধ্যে আবার কিছু কিছু পরাক্রমী রাজা ছিলেন, যাঁরা দিগ্বিজয়ে বেরোতেন। শক্তিশালী সেনাবাহিনী নিয়ে তাঁরা মাঝে মাঝে দক্ষিণ থেকে উত্তর ভারতে বা উত্তর থেকে দক্ষিণ ভারতের একের পর এক রাজ্যের রাজধানী এবং ছোট-বড়ো শহরগুলি জয় করে বড়ো আনন্দ পেতেন। রাজ্য অধিকার করে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না, তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য পরাজিত রাজধানী ও শহরগুলির সম্পদ আহরণ করা। অর্থাৎ খুব স্পষ্ট কথায় বললে, অন্য রাজ্য থেকে ধন-সম্পদ লুঠ করা। এই ধরনের বীর লুঠেরা রাজারা অন্য রাজ্যের অর্থনীতির কেন্দ্রগুলিকেই ধ্বংস করে দিতেন। এই ধরনের ঘটনাগুলিও সাধারণ মানুষের কাছে নিত্য নতুন আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করত বৈকি!

    ৫.৮.৪ আধুনিক সমাজের আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তা
    ত্রয়োদশ শতাব্দীর সমাজের থেকে আমাদের আধুনিক সমাজ সম্পূর্ণ আলাদা, সে কথা শুরুতেই বলেছি। আমরা এখন বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের স্বাধীন নাগরিক। প্রতি পাঁচবছর অন্তর আমাদের অসাধারণ ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে, আমরা দেশ পরিচালনার ভার অর্পণ করি রাষ্ট্র - কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য - প্রধানদের হাতে। সংবিধান অনুযায়ী আমাদের নাগরিকত্ব সর্বদাই সুরক্ষিত! তবুও আমাদের সাধারণ জনসমাজ– প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষিজীবি থেকে মহানগরীর সফ্‌ট্‌ওয়্যার ইঞ্জিনীয়াররা কি উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তামুক্ত?

    আজকের প্রযুক্তি যুগে সেচ ব্যবস্থা, উচ্চফলনশীল সংকর বীজ ও সারের দৌলতে যতই উন্নতি হয়ে থাকুক না কেন, আজও প্রত্যেকটি কৃষিজীবিকে সেই আদিম উদ্বেগেই বিনিদ্র রজনী যাপন করতে হয়। আজও দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা, সেটা টের পাওয়া যায়, যখন আবহাওয়া দপ্তরের বর্ষার পূর্বাভাষ অনুযায়ী মুম্বাই বা জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকের উত্থান-পতন ঘটে।

    আধুনিক কালে, যুদ্ধ করে অন্য রাজ্য জয় বা অধিকার করার বহুল প্রচলন আর নেই। তবুও রাষ্ট্রীয় অর্থ ভাণ্ডারের সব থেকে বড়ো অংশ খরচ করতে হয় দেশের সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষার খাতে[1]। দেশের সুস্থিতির ব্যাঘাত ঘটাতে প্রতিবেশী দেশগুলির নিরন্তর প্ররোচনার মোকাবিলা করতেই এই বিপুল অর্থের ব্যয় হয়ে থাকে। যদিচ প্রতিবেশী দেশগুলির অধিকাংশই দাঁড়িয়ে আছে নিজস্ব অর্থনীতির ধ্বংসস্তূপে এবং উন্নত দেশগুলির করুণাতেই তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেছে।

    দেশের সুরক্ষা বরাদ্দের পরেই সম্ভবতঃ দুর্নীতি বরাদ্দের স্থান। না, রাষ্ট্রীয় বাজেটে এর কোন বরাদ্দ নেই, কিন্তু এই বরাদ্দ স্থির করেন দেশের মুষ্টিমেয় কিছু বণিক সম্প্রদায়, অবশ্যই নিবিড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তায়। ভুক্তভোগীরা সকলেই জানেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাধারণ বাড়ি বা গাড়ি কিনতে যে ঋণ আমরা নিয়ে থাকি, তার নিয়মকানুন-বিধিবিধান পূরণ করতে আমরা হাঁফিয়ে উঠি। অথচ কিছু বণিক এবং ধনী সম্প্রদায় অনায়াসে চোখ-ধাঁধানো বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়ে, সেখানেই সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করে থাকেন। এই দুর্নীতি বরাদ্দের কোন হিসাব নেই, যতটুকু আমাদের গোচরে আসে, সেটুকু হিমশৈলের সামান্য চূড়াটুকু।

    অথচ এই যাবতীয় বরাদ্দের দায় বহন করতে হয় সমগ্র সাধারণ সমাজ ও আয়কর দাতাকে। আয়কর তো প্রত্যক্ষ দায়-ভাগ, পরোক্ষ দায়-ভাগ অজস্র। শিক্ষা, শিল্প, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন খাতে ব্যয় সংকোচ এবং জনগণের ব্যক্তিগত যাবতীয় সঞ্চয়ে সুদ হ্রাস, ইত্যাদি অজস্র উদাহরণ দেওয়া যায়। অর্থাৎ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প বা উন্নয়নের যে পরিষেবা আপনি পেতে পারতেন তার অনেকটাই নিংড়ে নিচ্ছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী ও তাঁর সহযোগী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক  কিছু কর্তাব্যক্তি। এর ফলে ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে সাধারণ বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান। খুব ছোট্ট উদাহরণে বলা যায়, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যত স্কুল, কলেজ, যত স্বাস্থ্য-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হবে, তত বেশি বাড়বে বাণিজ্য, বাড়বে সর্বস্তরের কর্মসংস্থান। খুব স্বাভাবিক ভাবেই সামাজিক উন্নয়ন আসবে এবং কমতে থাকবে ভরতুকি এবং নানান ভাতা ও অনুদানের প্রয়োজনীয়তা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও উচ্চশিক্ষা বা সুচিকিৎসার জন্যে নগর বা শহরের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পঁচাত্তর বছর পরেও যেটুকু সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় যৎকিঞ্চিৎ। 

    অতএব এই প্রযুক্তির যুগে, স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর পরেও, আমাদের সাধারণ জনসমাজের – মহানগর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের - সকল মানুষকেই সর্বদাই দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগেই দিন কাটাতে হয়। তদের প্রত্যহ প্রত্যক্ষ করতে হয় দেশের ও রাজ্যের রথী-মহারথীদের অজস্র দুর্নীতির নমুনা। সেই কুকীর্তিগুলিকে চাপা দিতে তাঁদের সহযোগীদের নির্লজ্জ ও অশ্রাব্য যুক্তি-তর্কও শুনতে হয় প্রত্যহ। গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত আধুনিক রাষ্ট্রের উপরেও বিশ্বাস রাখা যাচ্ছে কই? স্বভাবতঃই, সাধারণ জনসমাজের প্রত্যেকটি মানুষের মনে নিজের এবং সন্তানদের পুষ্টি, শিক্ষা, জীবিকা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি সর্ব বিষয়েই দুশ্চিন্তা এবং আতঙ্ক বাড়ছে নিরন্তর। অতএব দেব-দেবীদের সংখ্যাও বাড়বে বৈকি!

    ৫.৮.৫ আধুনিক সমাজে ষড়রিপুর প্রকোপ
    ষড়রিপু দমনের কথা হিন্দু ধর্মের সর্বশাস্ত্রে বারবার বলা হয়েছে। এই ষড়রিপু হল, কাম, ক্রোধ, লোভ মোহ, মদ, মাৎসর্য। কাম মানে কামনা বা বাসনা, মোহ মনের অন্ধতা বা ভ্রান্তি, মদ মানে অহংকার, মাৎসর্য হল ঈর্ষা। তবে এ কথাও ঠিক, এই ষড় রিপু নিয়ন্ত্রণের উপদেশগুলি সাধারণ মানুষের জন্যেই প্রযোজ্য ছিল। রাষ্ট্র প্রধান, ধর্মপতি বা সমাজপতিদের এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা ছিল না – আজও নেই। তাঁদের পাপ-পুণ্য বোধও ছিল না, তাঁরা সকলেই মনে মনে জানতেন (আজও জানেন) – পাপ করলে নরকে যেতে হয় না, কারণ নরক বলে কিছুই নেই। আর পুণ্য করলেও স্বর্গে যাওয়া যায় না, কারণ স্বর্গের অস্তিত্বই নেই।   

    আদিম পরিবারভিত্তিক মানুষের মধ্যে একমাত্র ক্রোধ ছাড়া অন্য আর কোন রিপু ছিল বলে মনে হয় না। তার মানে এই নয় যে, তাঁরা সকলেই প্রায় মহাপুরুষ ছিলেন। সেই পর্যায়ে কোন মানুষেরই ব্যক্তিগত অধিকার গড়ে ওঠেনি, সম্পদ বলতে যদি সামান্য কিছু থেকেও থাকে সবই ছিল পারিবারিক। অতএব আমিই সবার থেকে ধনী হবো বা আমিই পরিবারের প্রধান হবো, এমন কামনা বা বাসনা অবান্তর বা অর্থহীন। কারণ ব্যক্তিগতভাবে কেউ প্রচুর পশুমাংস এবং ফলমূল সংগ্রহ করলেও, সে সব সঞ্চয় করে ধনী হয়ে ওঠা যেত না, কারণ এই সম্পদের সবগুলিই ব্যবহার না করলে, দু চারদিনের মধ্যে পচে যেত। আর পরিবারের প্রধান হতেন, বয়স্ক অভিজ্ঞ মানুষরাই, কোন উদ্ধত ছোকরা পরিবারের প্রধান হতে চাইলে, পারিবারের অধিকাংশ সদস্যরাই মেনে নিত না।

    অতএব এই ছয় রিপুর উদ্ভব হল, মানুষ যখন থেকে কৃষিভিত্তিক সমাজ গড়তে শুরু করল এবং ব্যক্তিগত সম্পদ –অর্থাৎ উদ্বৃত্ত শস্য ও গবাদি পশুর অধিকারী হয়ে উঠতে লাগল। তখন থেকেই - অন্যের থেকে বেশি সম্পদের অধিকারী হতে হবে, প্রয়োজনে অন্যের সম্পদ লুঠ করতে হবে, প্রয়োজনে অন্য সম্পন্ন ব্যক্তিকে নিকেশ করতে হবে, সমাজের প্রধান হতে হবে, সমাজের সাধারণ মানুষকে বশে রাখতে হবে, সঞ্চিত সম্পদের অতি তুচ্ছ অংশ দান করে সমাজে প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে হবে– এরকম সব চিন্তার উদয় হতে লাগল। বিগত কয়েক হাজার বছর ধরে আজ পর্যন্ত মানুষ এই পথেই হেঁটে চলেছেন, আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ চলেছেন দৌড়ে।

    জীবজগতে একমাত্র মানুষ ছাড়া কেউই এই ছয়-রিপুর শিকার নয়। বাঘ, সিংহ জীবহত্যা করে খাদ্য ও আত্মরক্ষার জন্যে, তাছাড়া নিজের দলের মধ্যে প্রাধান্য রাখতে মাঝে মাঝে দুই পুরুষ পশুতে লড়াইও করে। কিন্তু তাতে খুব জোর দু’একটা রিপুর নিদর্শন মেলে। একত্রে ছটি রিপুর অধিকারী একমাত্র মানুষ নামক প্রকৃতির সব থেকে বুদ্ধিমান জীবেরই বৈশিষ্ট্য। আজকের প্রযুক্তির যুগেও এই ছটি রিপুর তাড়নাতেই আধুনিক মানুষও ব্যতিবস্ত – উদ্বিগ্ন এবং সর্বদাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। নাগরিক সমাজের অধিকাংশ মানুষ কীভাবে এই দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয়, দেখা যাক।  
      
    ধরা যাক, পাড়ায় ক-এর বাড়িতে সব ধরনের গ্যাজেট আছে, খ-এর ছেলের ঠিকানা আমেরিকায়, মেয়ের জার্মানিতে। গ বছরে দুবার ইন্টারন্যাশনাল ট্যুর করে। ঘ-এর বিশাল বাংলো, সেখানে প্রায়ই তাবড়তাবড় মন্ত্রী, সরকারি অফিসারদের আনাগোনা, মাসে দুটো-তিনটে বিদেশী স্কচের ঢালাও পার্টি। এসব দেখে চ বেচারা তার ষড়রিপুর মাত্রা ছাড়া তাড়নায়, সাধ্যের বাইরে গিয়ে ছেলে মেয়েকে ইংরিজি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করেছে। ছেলে-মেয়েরা প্রতিটি পরীক্ষায় ফার্স্ট না হতে পারলে, চ-এর মাথায় বজ্রাঘাত। ছ  চ-এর অফিসের সহকর্মী, তিনবছরে দু-দুটো প্রমোশন পেয়ে সে এখন চ-কে তেমন আর পাত্তা দেয় না, ওদিকে বস জ-টাও হয়েছে একনম্বরের তেলখোর পার্টি, আগে চ-কেই পছন্দ করতেন, আজকাল ছ হয়েছে, তাঁর নয়নের মণি।

    চ এবং তাঁর পরিবার নিত্য মন্দিরে যান। রাস্তাঘাটে যাওয়া আসার পথে যত মন্দির পড়ে, সর্বত্র মাথা ঝাঁকিয়ে, কপালে আঙুল ঠেকিয়ে নমস্কার করেন। পথ চলতে প্রায়ই মন্দিরে পাঁচ কিংবা দশটাকার কয়েন ছুঁড়ে দেন। “হে মা, এবারের প্রমোশনটা লাগিয়ে দাও মা”। “হে ঠাকুর, ছ-এর দেমাক আর সহ্য হচ্ছে না, কিছু একটা করো, বাবা”। কিন্তু তাতেও তেমন কিছু হচ্ছে না। চ-এর স্ত্রী, তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর কাছে নিশ্চিত খবর পেয়েছেন, ঝ-বাবার। ঝ-বাবা কোষ্ঠী এবং হস্তরেখা বিচার করে, নিখুঁত অতীত ও ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন। যাবতীয় বাধা-বিঘ্ন-বিপদের দাওয়াই তাঁর কাছে আছে। অতএব চ স্ত্রীর হাত ধরে চললেন, ঝ-বাবার চেম্বারে।

    ঝ-বাবা সব দেখেশুনে, হিসেব গুণে বললেন, এতো হতেই হবে, মঙ্গল-রাহু–কেতু–শণি চারজনে পরামর্শ করে, চ-কে উঠতে দিচ্ছে না। সত্যি বলতে চ-হল যাবতীয় প্রতিভা ও গুণের আকর। কিন্তু হলে কী হবে, ওই চারটি গ্রহ চ বেচারার ভাগ্যকে আঁকড়ে ধরে বসে আছে। এর কী কোন উপায় নেই, ঝ-বাবা, কিছু একটা দাওয়াই দিন! ঝ-বাবা, চ এবং তাঁর স্ত্রী দুজনকেই ছটি রত্ন দিলেন। ওই রত্ন থেকেই চ-এর তড়তড়িয়ে প্রমোশন হবে, ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষায় ফার্স্ট হবে। সে সব হোক না হোক, ঝ-বাবা তাঁর দক্ষিণা পেলেন, পেলেন ছটি রত্নময় অঙ্গুরীয়র কমিশন। যে রত্ন ব্যবসায়ীর দোকানে তিনি বসেন, তিনিও খুশি, হাফ-ডজন রত্ন এক ধাক্কায় বিক্রি হয়ে যাওয়াতে।

    অতএব চ এবং তাঁর পত্নীর মতো অধিকাংশ ধর্মবিশ্বাসীই, অজস্র দেব-দেবী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কাউকেই ঠিক ভরসা বা বিশ্বাস করতে পারছেন না, তাঁরা ভরসা করছেন রত্নে। আশ্চর্যের বিষয় যে গ্রহ-শান্তির জন্যে তাঁরা রত্নগুলি ধারণ করছেন, তার মধ্যে রাহু-কেতু নামের দুই রাক্ষস-মুণ্ডরূপ গ্রহদুটির যে কোন অস্তিত্বই নেই, সে কথা নিশ্চিত জেনেও, তাঁরা ঝ-বাবার কথাতেই আস্থা রাখেন। সেই বিশ্বাসেই রত্ন কেনার আর্থিক সামর্থ্য যদি নাও হয়, ঝ-বাবারা, চ-বাবুদের হতাশ করেন না, রত্নের বিকল্প আছে, ধাতু - লোহা, তামা, রূপো, অষ্টধাতু, অথবা নানান গাছের মূল।

    ৫.৮.৬ আধুনিক সমাজের আস্থা ও বিশ্বাস
    মানুষের ইতিহাসে ২০২০ সি.ই. বছরটিকে সারা বিশ্বের মানুষ বহুদিন মনে রাখবেন কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণের জন্যে। ভাইরাস ঘটিত ছোঁয়াচে অসুখের এমন ভয়ংকর ও ব্যাপক প্রকোপ ইতিহাসে বড় একটা শোনা যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে এর থেকেও ব্যাপক ছোঁয়াচে অসুখ হল আস্থা ও বিশ্বাস। কোভিড-১৯ সাময়িক অসুখ, কিছুদিনের মধ্যেই এই অসুখের প্রকোপ কমেছে, যেভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছে, প্লেগ, বসন্ত, কলেরা ইত্যাদি। কিন্তু আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের স্থায়ী অসুখ। অপাত্রে বিশ্বাস করা এবং বারবার বঞ্চিত হওয়ার ভাইরাসে আমরা বহুদিন ধরেই সংক্রামিত। এর কোন প্রতিষেধক পাওয়া যায় না। অনেকে বলেন, শিক্ষাই এর উপযুক্ত প্রতিষেধক। কিন্তু বাস্তবে সর্বক্ষেত্রেই দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষিত লোকেরা জেনে-শুনে অথবা দুটি-তিনটি রিপুর তাড়নায়, এই অসুখে সংক্রমিত হন এবং বহু মানুষকে - তথাকথিত অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত মানুষকে প্রতারিত হতে সাহায্য করেন। কীভাবে সেটাই দেখা যাক।

    ধর্ম-বাবাঃ বহুবছর ধরেই ভারতীয় সমাজে অজস্র ধর্মবাবার প্রাদুর্ভাব। এঁদের অধিকাংশই নগর-কেন্দ্রিক উচ্চবিত্ত সুশিক্ষিত মানুষকে ধর্মবিতরণ করেন, যোগ শেখান, পথ দেখান কিভাবে জীবনে সফল হওয়া যায়, কিভাবে উন্নতির শিখরে পৌঁছনো যায়। উত্তম দক্ষিণা সহযোগে এবং নানান নাগরিক সমিতির বিপুল অর্থব্যয়ে গড়ে তোলা অস্থায়ী শিবিরে বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রেক্ষাগৃহে পদধূলি দিয়ে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এঁরা একই কথা বলেন। যে কথা অজস্র বার অজস্র ভাবে ধর্মশাস্ত্রগুলিতে বলা হয়ে গেছে। যার সার সংক্ষেপ পাওয়া যাবে গীতার যে কোন ভাষার সংস্করণে। এই হঠাৎ আবির্ভূত হওয়া ধর্মবাবাদের অনেককেই, পরবর্তীকালে নানান অনাচার ও ব্যাভিচারে সম্পৃক্ত দেখা গেছে, কিন্তু তাও আধুনিক মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অন্য নতুন ধর্মবাবাকে ঠিক খুঁজে নেয়। ধর্মবাবা সম্পর্কে কোন সন্দেহ প্রকাশ করতে গেলে দেখা যায়, তাঁর একনিষ্ঠ ভক্তরা যুক্তি দেন, “ওঁনার শিষ্যদের মধ্যে কত রিটায়ার্ড জজ, আইএএস, আইপিএস, বিলেত-ফেরত ডাক্তার, অধ্যাপক, জ্ঞানীগুণী রয়েছেন দেখেননি? আপনি কি তাঁদের থেকেও বেশি জেনে এবং বুঝে ফেলেছেন?” বাস্তবিকই এর কোন উত্তর হয় না।

    অর্থে অনর্থঃ  সাধারণ জনগণ যে উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পেতে, শুধু ধর্ম-বাবাদের কাছেই প্রায়শঃ প্রতারিত হন, তা নয়। অলৌকিক বা অনৈতিক উপায়ে ধনোপার্জন করতেও তাঁরা বড় বেশি উৎসাহী। কেউ ঘরে বসে সোনার গয়না ডবল করায় বিশ্বাস করেন। কেউ বিশ্বাস করেন, সঞ্চয়ের অর্থ দুবছরে ডবল হবে। কেউ বিশ্বাস করেন, আজ এক হাজার টাকার সেগুনের চারা কিনলে, দশ বছর পরে নিশ্চিত দশলক্ষ উপার্জন। তাতে করে, মেয়ের বিয়ে দিয়েও, শেষ বয়সে বুড়োবুড়ির হাতেও কিছু থাকবে। এক্ষেত্রেও যুক্তি একই, এত বড়োবড়ো চিত্রতারকা বা রাজনৈতিক নেতাদের মতো বিখ্যাত লোকেরা প্রচার করছেন, নিশ্চিন্তে গ্রাহক হচ্ছেন, আর আপনি তাঁদের থেকেও বেশি বুঝে ফেলেছেন? এক্ষেত্রেও তাঁরা বারবার প্রতারকের ফাঁদে পড়ে বিপদে পড়েন, কেউ কেউ অতি লোভে সর্বস্বান্ত হন। তবুও তাঁরা সহজে ধনী হবার লোভে, আবার বিশ্বাস করে, নতুন প্রতারকের পাতা নতুন ফাঁদে গভীর আস্থায় পা রাখেন।

    বিশ্বাসের সওদাঃ সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে ভাঙিয়ে এমন কত যে প্রতারক বণিক বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়ে যাচ্ছেন, তার হিসাব কেউ জানতেও পারেন না। বিশ্বাসে বিকিয়ে যায় কত যে মিথ্যা! দূরদর্শনে বা সংবাদ মাধ্যমে, ভালো অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা বলেন বিখ্যাত তারকা মানুষরা। তাঁদের কথায় সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন, “ধনাগম যন্ত্র” কিনে ঘরে রাখলেই প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা ঝরে পড়ে, “নজর-রক্ষা” কবচ পরলেই শত্রুর কুনজর এড়িয়ে ব্যবসা এবং চাকরিতে অবারিত সাফল্য মেলে। বিখ্যাত বহুজাতিক সংস্থার স্বাস্থ্যপানীয় – যার কথা আগেই বলেছি - বেড়ে ওঠা বাচ্চারা এই পানীয় রোজ পান করলেই সুপুরুষ ও সুনারী, স্বাস্থ্যবহুল এবং তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী হবে। কিছু কিছু শীতল পানীয় আছে, যা পান করলেই “নায়ক” হয়ে ওঠা যায়।

    এই “বিশ্বাস” বিষয়টাই খুব গোলমেলে। আজকের অধিকাংশ মানুষই রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণের গল্প-গাছায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বলেন এখন বিজ্ঞানের যুগ, ওসব বুজরুকি-ভাঁওতার কথা আর মানবো না। নিঃসন্দেহে খুবই যুক্তিযুক্ত কথা।  কিন্তু এই বিজ্ঞানমনস্ক মানুষরাই বাণিজ্যিক সিনেমা ও সিরিয়ালের ভাঁওতায় গভীর বিশ্বাস রাখেন। ওই সব সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের সুপারহিট সিনেমাগুলিও যে সুপার ভাঁওতা সেটা ভুলে যান। নায়কদের চলন-বলন-হাসি-কান্না-প্রেম-লড়াই সবটাই যে সাজানো – কেউ গল্প লেখেন, কেউ চিত্রনাট্য করেন, কেউ নকল মারামারি বানান, অন্য কেউ গান করেন। চোখের আড়ালে থাকা কিছু মানুষের নির্দেশ মতো– নায়ক-নায়িকারা শুধু চোখের সামনে নাচানাচি করেন। পুরাণের কাহিনীতে বিশ্বাস না করলেও, বহু মানুষ আধুনিক এই পুরাণ কাহিনীতে দিব্যি মুগ্ধ হয়ে রয়েছেন। সেই সুযোগে সাজিয়ে তোলা নায়ক-নায়িকাদের পণ্য করে বিশাল বাণিজ্য করে চলেছে চলচ্চিত্র শিল্প। প্রতিষ্ঠিত নায়কদের এই বাণিজ্যে হাত পড়লে, আজকাল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিশ্রুতিবান নবীন নায়ক-নায়িকাদের হত্যাও করা হচ্ছে, বলে শোনা যায়।

    পুরাণকারেরা অলীক কাহিনী দিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের মজিয়েছিলেন। আজকের চলচ্চিত্র পুরাণকারেরাও আমাদের বিনোদনের মোড়কে মজিয়ে রাখছেন, সত্যের জয় ও অন্যায়ের বিনাশ নামক সেই একই অলীক কাহিনী দিয়ে। গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে বসে রামলীলা শোনা বড্ডো গ্রাম্য ব্যাপার, কিন্তু এসি সিনেমা হলে উদ্ভট চলচ্চিত্রে মজে থাকাটা অত্যন্ত আধুনিকতা বৈকি!       

    আতঙ্কে বিশ্বাস
    আজকাল সারা বিশ্বেই বিশেষ কিছু গোষ্ঠীর মানুষ, ধর্মের নামে আতঙ্কেই বিশ্বাস রেখেছেন। তাঁদের আতঙ্কবাদী বলা হয়ে থাকে। এই আতঙ্কবাদীরা ভারতবর্ষেও তাঁদের ক্ষমতা দেখিয়ে চলেছেন বারবার। জনবহুল এলাকায় বহু সাধারণ মানুষকে হত্যা করে এঁরা ধর্মের সাধনা করে থাকেন। এই আতঙ্কবাদী বিশ্বাসও বেজায় ছোঁয়াচে – আজকাল হিন্দুধর্মের বেশ কিছু কট্টরপন্থীও আতঙ্কবাদী হয়ে উঠে পালটা আঘাতে বিশ্বাস রাখছেন।

    অতএব, আধুনিক যুগে “বিশ্বাস” শব্দটির তাৎপর্যই বদলে গিয়েছে এবং যাচ্ছে। একদিকে আমরা কাউকেই বিশ্বাস করছি না। না ঈশ্বরকে, না কোন দেবদেবীকে। না পরিজন, বন্ধুবান্ধব, নেতা-নেত্রীদেরকে। না নিজেকে বিশ্বাস করে হয়ে উঠতে পারছি আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে সব ধর্মের মানুষের মনে বেড়ে উঠছে “ধর্মবিশ্বাস”-এর নেশা। তাঁরা নেশাগ্রস্ত অপ্রকৃতিস্থ মানুষের মতোই – হিতাহিত জ্ঞানশূণ্য, অপরিণামদর্শী, বিবেকহীন – তাঁদের হাতেই এই দেশ, এই বিশ্বজুড়ে একের পর এক ঘটে চলেছে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ-গণধর্ষণ।          

    ৫.৮.৭ আধুনিক ভোগসাধন ও ভোগসিদ্ধি
    হিন্দু ধর্মের চতুর্বর্গ- ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষকে, আধুনিক যুগের চতুর মানুষেরা আবার ত্রিবর্গে নামিয়ে এনেছেন - ধর্ম, অর্থ আর কাম। এই গ্রন্থের প্রাককথায় “ধর্ম” শব্দের একটি ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বলেছিলাম, ধন পূর্বক ঋ ধাতুতে মক্‌ প্রত্যয় দিলে ধর্ম হয়। এই অর্থে ধরলে ধর্ম মানে যা থেকে ধন লাভ ঘটে। এই ধন পার্থিব টাকা-পয়সা, জমি-জায়গা হতে পারে, আবার অপার্থিব আধ্যাত্মিক চৈতন্যও হতে পারে। অর্থাৎ “ধর্ম” ও  “অর্থ” এখন সমার্থক,  আর “কাম” শব্দের অর্থ সব ধরনের কামনা বা লালসা, তার মধ্যে আছে যৌন-কামনাও (sex)।

    সাধারণ মানুষ যতদিন পর্যন্ত নিশ্চিন্ত ভোগের উচ্চস্তরে ঢুকতে না পারছেন, ততদিনই তাঁদের দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ। ততদিন এগারো বা একুশ টাকার দক্ষিণা আর পঁচিশটাকার ডালা সাজিয়ে, মন্দিরে দেব-দেবীদের পায়ে মাথা ঠোকাঠুকি, দেব-দেবীদের অনুগ্রহ ভিক্ষা। নয়তো রত্ন, ধাতু বা শিকড় ধারণ। যোগসাধনার উচ্চ পর্যায়ে মুনি ঋষিরা যেমন সিদ্ধযোগী হয়ে উঠতেন, তেমনই একবার যিনি ভোগসাধনের উচ্চস্তরে পৌঁছে যান, তিনিই সিদ্ধভোগী।   

    সিদ্ধভোগীরা মন্দিরের দেব-দেবীদেরকেই অনুগ্রহ করেন। দেব-দেবীকে সোনার অলংকারে - মুকুট, কণ্ঠহার, জিভ এবং নানান অঙ্গ-ভূষণে ভূষিত করেন। তাঁরা ভিআইপি, তাঁদের জন্যে মন্দিরের দ্বার অবারিত। স্বয়ং প্রধান পুরোহিত কৃতার্থ হাসিতে তাঁদের অভ্যর্থনা করে, দেব-দেবীর মূর্তির চরণ স্পর্শ করান অর্থাৎ direct contact করিয়ে দেন। সপরিবারে, সবান্ধবে এবং সপারিষদে সিদ্ধভোগী দেব-দেবীকে ইচ্ছামতো দর্শন করেন, দর্শন দেন। অন্যদিকে বদ্ধ খাঁচায় বন্দী কয়েকশ’ বা কয়েক হাজার দর্শনার্থী, তখন দেব বা দেবী দর্শনের অপেক্ষায় ধৈর্যের পরীক্ষা দেন। যদিও তাঁদের মনেও একদিন ওই রকমই আরেক “সিদ্ধভোগী” হয়ে ওঠার প্রবল বাসনা। সেই কামনা নিয়েই তাঁরা মন্দিরে এসেছেন। যে মন্দিরে যত বেশি সিদ্ধভোগী পদধূলি দেন, সেই মন্দিরের দেব-দেবী ততই জাগ্রত হন। সেই মন্দিরের মহিমা বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে দর্শনার্থী সংখ্যা। মন্দিরের দানপাত্র ভরে ওঠে।

    সুখ-দুঃখ, শীত-গ্রীষ্ম, শোক-আনন্দ, স্বাচ্ছল্য-দারিদ্র্য সব কিছুতেই সিদ্ধযোগীগণ উদাসীন, নির্বিকার এবং সমদর্শী হতেন। আমাদের যুগে সিদ্ধভোগীরাও একই রকম সমদর্শী ও উদাসীন থাকেন। মামলা-মোকদ্দমা, সিবিআই, ইডি, সিআইডি তদন্তে তাঁরা অনুদ্বিগ্ন। তাঁরা জানেন নিম্নতম আদালত থেকে উচ্চতম আদালতের সুদীর্ঘ যাত্রাপথে বিছানো আছে যে জটিল আইনের বিস্তৃত জাল, তাতে আছে বিস্তর ফাঁক-ফোকর। সেই ফাঁক গলে অনায়াসেই নিষ্কলুষ হয়ে বেরিয়ে আসা যায়। আসলে তাঁরাও “পরমহংস”-এর মতোই, কদর্য পঙ্কিল পথেই তাঁদের সাধনা, কিন্তু তাঁদের শুভ্র বসনে কোন দাগ ধরে না।
     
    আমরা সকলেই জানি, মন্দিরের পুরোহিত এবং ওই সিদ্ধভোগীরাও জানেন, ঈশ্বর অনন্ত ঐশ্বর্যবান। এই চরাচর বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড তাঁরই ঐশ্বর্য। তিনি ওই তুচ্ছ অলংকার, অর্থ বা নৈবেদ্য কোনদিনই গ্রহণ করেন না। তিনি নির্বিকার - এই সব দানে তাঁর কিছুই এসে যায় না। কিন্তু যিনি দান করেন তিনি আরো বেশি ভিআইপি হয়ে ওঠেন, তাঁর যশের সৌরভে মন্দিরের পুরোহিত মহল সুরভিত হয়। শোনা যায় ভারতবর্ষের বেশ কিছু মন্দির বিপুল বৈভবের অধিকারী, একত্র করলে নাকি ভারতীয় রাজকোষকেও টেক্কা দিতে পারে! অথচ আমাদের গ্রাম, শহর ও নগরের বহু মানুষের জন্যে নব বর্ণাশ্রমের প্রচলন করতে হয়েছে রেশন-কার্ড দিয়ে,
    ১. দারিদ্র সীমার ওপরে (Above Poverty Line, APL) – বার্ষিক আয়ের হিসেব অনুযায়ী এই কার্ডের অনেকগুলি স্তর আছে, তাদের রঙ সাধারণতঃ সাদা, নীল, পিংক বা লাল।
    ২. দারিদ্র সীমার নিচে (Below Poverty Line, BPL) – এর রং হলুদ।
    ৩. অন্তোদয় (Antyodaya, AAY – the poorest of the poor people) – এর বর্ণ সবুজ।

    অতএব আমাদের এখনকার একমাত্র পথ আর ভক্তিপথ নয়, যোগপথ নয় বরং ভোগপথ। যেভাবে হোক, ভোগের সাধনায় সিদ্ধভোগী হয়ে উঠতে হবে। এই সাধনা নির্জন অরণ্য, শ্মশান, নদীতীরে করা যায় না। এই সাধনার প্রশস্ত পীঠ হল, জনবহুল গ্রাম, শহর, মহানগর। প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী, সহযাত্রী সক্কলকেই প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে হবে, ভাবতে হবে তারা সকলেই সম্ভাব্য প্রতিযোগী। ধাক্কা দিয়ে, ঠেলে সরিয়ে - দু-দশজন চোট বা আঘাত পায় পাক, দু-একজন হতাশায় আত্মহননের পথে যায় যাক – একনিষ্ঠ সাধনায় দৌড়ে চলতে হবে সিদ্ধির পথে। যোগ সাধনার প্রাথমিক শর্ত ছিল ষড়রিপুর ত্যাগ বা দমন, এখন তারও কোন প্রয়োজন নেই। বরং ত্যাগ করতে হবে ষড়গুণ - নীতি, সত্য, বিবেক, দয়া, মায়া, বিশ্বাস। সিদ্ধিলাভ করে একবার সিদ্ধভোগী হতে পারলে, চোখের সামনে উন্মুক্ত হয়ে যায় অনন্ত ঐশ্বর্য। তখন তিনিই ধর্ম, তিনিই ধর্ম-বাবা, তিনিই আতঙ্কবাদীদের আশ্রয়। তিনিই সকল দুর্নীতির স্রষ্টা ও পালয়িতা, তিনিই প্রকৃত শাসক, তিনিই প্রশাসন, তিনিই দুর্নীতির তদন্ত –  তাঁর অনন্ত বিভূতি। তাঁর অনুগ্রহ লাভের আশায় চারপাশে সমবেত হবেন অজস্র ভোগী সাধক।

    অতএব সাতশ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা যে সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে এগিয়েছিলেন, আমাদের অত্যাধুনিক সমাজ তার থেকেও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সামগ্রিক দুর্নীতির দিকে। স্বপ্ন দেখতে ভালোই লাগে, এই চরম অবক্ষয়ের অবসান নিশ্চয়ই কোন একদিন হবে। যদিও কোন জ্যোতিষীই বলতে পারবেন না, সে দিনটি আসবে কবে? কিংবা কোন রত্ন ধারণ করলে এই অবক্ষয়কে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?       

    ৫.৯ উপসংহার
    দুশ্চিন্তা ও আশঙ্কা থেকে মানসিক মুক্তি পেতে অজস্র দেব-আত্মার কল্পনা করেছিলেন আমাদের আদিম পূর্বপুরুষেরা। বহিরাগত আর্য মানুষরাও নিয়ে এসেছিলেন অনেকগুলি দেবতা। শেষমেষ অনার্য ও আর্য দুপক্ষের সকল দেবতাদের মিলিয়ে-মিশিয়ে আপন করে নিয়ে, ভারতীয়রা একটি মতেই বিশ্বাস রেখেছিল। আরবী বণিকরা  এই দেশের নাম রেখেছিলেন হিন্দুস্তান, আর এখানকার অধিবাসীদের হিন্দু। ঊণবিংশ শতাব্দীতে হিন্দুদের সনাতন বিশ্বাস ও প্রথাকেই নাম দেওয়া হল “হিন্দুধর্ম” (Hinduism)। আমরা ভুলে গেলাম, বিশ্বের অন্য ধর্মের মতো হিন্দু-বিশ্বাসের উদ্ভব, কোন একক ব্যক্তির মতাদর্শ থেকে নয়। এই বিশ্বাস সুদীর্ঘ কালের সামাজিক চিন্তাভাবনা, মনন ও রীতিনীতির নিরবচ্ছিন্ন ঐতিহ্য।            

    জন্মসূত্রে আমরা হিন্দু হলেও, সেই নিরবচ্ছিন্ন ঐতিহ্য সম্বন্ধে আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের খুব একটা স্বচ্ছ ধারণা কোনদিনই নেই। আশৈশব পিতা-পিতামহ, মাতা-মাতামহী এবং লোকমুখে শুনে, যাত্রা ও টিভি সিরিজ দেখে, অথবা রামায়ণ-মহাভারতের নির্বাচিত কিছু গল্প পড়েই আমাদের ধারণা এবং বিশ্বাস গড়ে ওঠে। মানুষ বিশেষে সে বিশ্বাসের রূপও আলাদা হয় – কেউ বলেন “সবই বুজরুকি”, অনেকে বলেন “গর্ব করে বলো, আমি হিন্দু”। আবার কেউ কেউ একটু দ্বিধাগ্রস্ত, তাঁরা বলেন, “কে জানে, আগেকার কালে হয়তো হতো”।     

    আমার এই লেখায় সেই বিশ্বাসটিকেই ধরতে চেষ্টা করেছি, বুঝতে চেয়েছি বেশ কয়েক হাজার বছর ধরে অজস্র মনীষীর মনন ও চিন্তন এবং তাঁদের সামাজিক উদ্দেশ্যসমূহকে। কতদূর সফল হয়েছি সে কথা বলবেন আপনারা। 

    সুদীর্ঘ এই লেখায় নিরাকার ঈশ্বর-ব্রহ্ম কিংবা সাকার ঈশ্বর ও দেব-দেবীরা আছেন কিনা আদৌ খুব স্পষ্ট হল না। তবে এটুকু বুঝেছি, ঈশ্বর – সে তিনি নিরাকার বা সাকার হন - পরীক্ষা পাশের মেড-ইজি নন। তিনি দূর যাত্রাপথের নিশ্চিন্ত ট্রাভেলিং এজেন্ট নন। তিনি আমাদের সুস্থ রাখার মেডিকেল-সেন্টার নন। তিনি আমাদের চাকরি দেওয়ার এমপ্লয়মেন্ট-এক্সচেঞ্জ নন। তিনি আমাদের নিরাপত্তার পুলিশ স্টেশন নন। তিনি ন্যায় বিচারের সুপ্রিম কোর্টও নন। তিনি আমাদের শুভ লাভ বাণিজ্যের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নন। আমাদের ক্ষুদ্রতম সাফল্য – সে মৃৎপাত্র নির্মাণই হোক কিংবা বৃহৎ সাফল্য চন্দ্রাভিযানে যাওয়া মহাকাশ যানই হোক। অথবা লাঠির আঘাতে সব মৃৎপাত্র ভেঙে ফেলাই হোক কিংবা কয়েক মূহুর্তে আমেরিকার টুইন-টাওয়ার ভেঙে ফেলাই হোক। আমাদের এই সৃষ্টি বা ধ্বংস কার্যে ঈশ্বরের কোন হাত নেই, তিনি নির্বিকার, উদাসীন – দ্রষ্টা মাত্র। ভবিষ্যতের কোন পরমাণু যুদ্ধে মানব সভ্যতার সার্বিক ধ্বংস যদি ঘটে, তখনও তিনি উদাসীন থাকবেন। কোন ঈশ্বর কিংবা তাঁর পরিবর্ত কোন গ্রহরত্ন দিয়ে সে ধ্বংসকে রোধ করা যাবে না।      
      
    মন্দিরে মসজিদে না থাকুন, ঈশ্বর আছেন আমাদের মননে, চিন্তায়, দৃষ্টিতে, অনুভবে। সে উপলব্ধি আমাদের অন্তরে আসে অহরহ। তিনি আছেন, শরতের নির্মল আকাশ ও সোনালী রোদ্দুরে। তীব্র গ্রীষ্মের পর ঘন বর্ষার প্রভাতে। শীতের শুকনো-ঝরাপাতা বওয়া হিমেল হাওয়ায়। বসন্তের পলাশ-রাঙা অরণ্যের অভিলাষে। সমুদ্রের ব্যাপ্তিতে, পর্বতের মহিমায়। প্রতিটি শিশুর দৃষ্টি ও হাসিতে। নিরন্ন মানুষের ক্ষুন্নিবৃত্তিতে। মায়ের মমতায়, পিতার হাত ধরে উৎসবের মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানোয়। ভ্রাতৃ দ্বিতীয়ায় কপালে দিদি বা বোনের অনামিকার স্পর্শে, প্রিয়ার মুখ চুম্বনে।

    সেই ঈশ্বরই নিরন্তর বাস করুন আমার, আপনার এবং বিশ্বের সমস্ত ধর্মের মানুষের অন্তরে। এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব তাঁর নয় – একমাত্র আমাদের। 

    অষ্টম পর্ব সমাপ্ত

    সমাপ্ত “ধর্মাধর্ম”
                                

    [1] Total defence budget accounts for 15.49 per cent of the total central government expenditure for the year 2020-21: vide Government of India, Ministry of Defence: Defence Budget 2020-21, dated 02.02.2020. 
     
  • ধারাবাহিক | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৪৪৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় | 116.206.158.50 | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:২১512405
  • হয়তো প্রতিটি পর্ব যত্ন নিয়ে পড়া হয়নি। সারকথা উপসংহারে পেলাম। বই হয়ে উঠলে কিনে পড়ার ইচ্ছে রাখি।
  • guru | 115.187.51.60 | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:৩৮512406
  • অসাধারণ হয়েছে | আপনার বই বেরুলে সবার প্রথমে আমি কিনতে চাই | অনেক শুভেচ্ছা রইলো আপনার গ্রন্থের জন্য  |
     
    আপনি কি বর্তমানে কোলকাতাতে থাকেন ? আপনার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে রইলো |
     
    ১৩০০ ce এর পর থেকে বর্তমান কালের ধর্মের গল্প নিয়ে এইরকমভাবে এর পরের আরেকটি সিরিজ লিখুন |
     
    উপমহাদেশের বিভিন্ন সাম্রাজ্যের ইতিহাসের উত্থান পতনের ঘটনা নিয়ে আপনি যে ইসলাম পরবর্তী সময়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যাপারে লিখেছেন এটি নিয়ে আমি কিছু পড়াশোনা করছি | আচ্ছা একটি জিনিস পাচ্ছি যে সেই সময়ে বর্তমান ভারতের পশ্চিম উপকূল অঞ্চল থেকে ও জাট সম্প্রদায়ের অনেক বণিক গোষ্ঠীর মানুষ আস্তে আস্তে পশ্চিম এশিয়াতে গিয়ে বসতি করছেন এবং আস্তে আস্তে পশ্চিম এশিয়ার অঞ্চলের সংস্কৃতিতে আত্মীকৃত হয়ে যাচ্ছেন | এই প্রবাসী বণিক গোষ্ঠীদের হাত ধরেই আস্তে আস্তে একটি আর্থ সামাজিক পরিবর্তন আমরা দেখেতে পারছি | যেহেতু সেই সময়ে আব্বাসীয় বংশের আমলে খুব দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সুস্থিতি ছিল সেই কারণে ওই অঞ্চলে জীবিকা সূত্রে সেটল করা খুবই লাভজনক ছিল | এই একই চিত্র আমরা বর্তমানেও দেখি যে ভারতের পশ্চিম উপকূল অঞ্চল থেকেই প্রচুর মানুষ আজো পশ্চিম এশিয়াতে জীবিকার সন্ধানে যাচ্ছে ও রেমিট্যান্স অর্জন করছে দেশের ডলার খাতের জন্য | প্রসঙ্গত বলতে পারি আমার নিজের এক শিক্ষিকার জ্যেষ্ঠ পুত্র গত প্রায় দুটি দশক ধরে সৌদি আরবে একজন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার হিসেবে কাজ করছেন এবং বর্তমানে তিনি রোজা পর্যন্ত রাখেন প্রতি রমজানের মাসে |
     
    এমন কি হতে পারে যে পশ্চিমী উপকূল অঞ্চল থেকে (গুজরাট মহারাষ্ট্র মালাবার প্রভৃতি অঞ্চল থেকে )বণিক গোষ্ঠীর বিপুল পরিমানে পশ্চিম এশিয়াতে চলে যাবার জন্য সেই সময় থেকে একটি বিশাল ব্রেন ড্রেন হয়ে যায় যার ফলে সেই বৈদেশিক বাণিজ্যে ক্ষতি হয় যার উল্লেখ আপনি করেছেন | আমার মনে হয় এই ব্রেন ড্রেন এর কারণেই গুপ্ত পরবর্তী সাম্রাজ্য গুলি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি |
     
    আপনার মতামতের অপেক্ষাতে রইলাম |
     
    আরেকটি বিষয় জানাতে চাই যে পশ্চিম এশিয়াতে হজরত মোহাম্মদের (PBUH) পরবর্তী যুগে ১৩০০ CE পর্যন্ত মূলত দুটি প্রধান সাম্রাজ্য এসেছিলো | উম্মায়াদ বংশ (৬৬১ CE থেকে ৭৫০ CE) ও এর পরে আব্বাসাইড বংশ (৭৫০ CE থেকে ১২৬১ CE), | এই আব্বাসাইড বংশ এর আমলটিকে মূলত পশ্চিম এশিয়ার গোল্ডেন এইজ বলা হয়ে থাকে দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক স্থিরতার জন্য | মূলত এই সময়েই ভারত থেকে পশ্চিম এশিয়াতে ব্রেন ড্রেন হয়েছিল |
     
      এর মধ্যে আরবদের প্রাধান্য ছিল মূলত উম্মায়াদ বংশএর আমলে অর্থাৎ ৭৫০ CE পর্যন্ত | এর পরে আব্বাসীয় শাসনে মূলত ফার্সি ও তুর্কি জাতির উত্থান ঘটতে থাকে | উপমহাদেশে উত্তর পশ্চিম খাইবার গিরিপাশ ধরে যারা এসেছিলেন এরা মূলত সবাই persianized (ফার্সিসংস্কৃতি তে আত্মীকৃত ) তুর্কি |  উপমহাদেশে আরব বিজয় বলে এইদেশে সেরকম কিছু ঘটেনি যেহেতু আরবরা মূলত পশ্চিম উপকূলগুলির বর্তমান গুজরাট কেরালা মালাবার এইসব জায়গাতে বণিক রূপেই এসেছিলেন এবং হাতে তলোয়ার কখনোই তুলে নেননি |
     
     
     
  • হীরেন সিংহরায় | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:০৭512407
  • একটি অসাধারন গ্রন্থের আত্মপ্রকাশের আশায় রইলাম। 
  • Mridha | 2601:642:4c0f:3928:a887:7a0e:3a0c:7b1b | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:২৫512426
  • বিশ্বাস অবিশ্বাস এর টানা পোড়েন 

    মূল বিষয়ে আসার আগে একটু ভনিতা করে নেই , এখানে ইচ্ছে করেই দ্বন্দ শব্দ ব্যবহার করলাম না , টানা পোড়েন শব্দের উৎস বাংলার 'তন্তু বয়ন' বা 'তাঁত বোনা' । তাঁত হল কাপড় বোনার একটি যন্ত্র যাতে সূতা কুণ্ডলী আকারে টানটান করে ঢুকিয়ে দেওয়া থাকে। লম্বালম্বি সুতো গুলিকে টানা এবং আড়াআড়ি সুতোগুলিকে পোড়েন বলা হয়। বস্ত্রের অস্তিত্বের জন্য দুটোই সমান প্রয়োজনীয় ।

    আমার মনে হয়, ভগবান বা ঈশ্বর একটা অনুভূতি ( experience ) , ভগবান বিশ্বাসের বুনিয়াদ শুধু  ধর্মপথে চললে আমার পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হবে , বা মরলে স্বর্গে যাবো তার জন্য শুধু  নয় বা উত্তরিকার সূত্রে পাওয়া তাই সবসময় তাকে আদর করতে হবে সেই জন্য ও  নয় , এই সবের বাইরে এক  ঐশ্বরিক উপলব্ধির জন্যও। There  is difference between understand and realize, if you understand something next influence can change but if you realize something , you will back it even if the entire world goes against it. Religious experience কখনো কখনো  মানুষের জীবনের এক  নতুন দিক খুলে দেয়।  সেই জন্যই যে কোন ধৰ্ম দৰ্শিত পথ বা কারো কথা মেনে মানুষ যখন সেখানে মুহূর্তের জন্যও  পৌঁছতে পারে, তখন তার বলা সমস্ত বাক্যই সত্য মনে করে কারণ আগে কখনো অন্য  কোন কিছু  সেই উপলব্ধির দিকে তার দৃষ্টি আকর্ষিত করতে পারে নি। সেই জন্যই আমরা আপাতঃ ভাবে ধৰ্ম বা ধর্মগুরুদের এত অন্ধ ভক্ত দেখতে পাই।  ।  সে ওশো , ইস্কন থেকে আজকের রাম -রাহিম , নিত্যানন্দ এইরকম অনেকেই  ধরা যেতে পারে  , ইচ্ছে করে অন্য ধর্মের নাম নিলাম  না। কিন্তু সব প্রচলিত ধর্মের মধ্যেই এর  উদাহরণ আছে। বাইরে থেকে আমরা কেবলই আশ্চার্য হয়ে যাই মানুষ কি করে এই রকম অন্ধ , মূর্খ বা গর্দভ হয়ে যায় , আর নানা রকম যুক্তি সাজাতে থাকি। 

    যুক্তিবাদী আর বিশ্বাসবাদী  বিতর্কের অসুবিধাটা এই খানেই। যুক্তিবাদীরা ঐ অনুভূতি recognize না করেই বিশ্বাসের অসত্য আর ভণ্ডামো তাড়ানোর সৎ প্রচেষ্টা করে। বিশ্বাসীরা যুক্তির পথে বার বার নাস্তনাবুদ হয় , আবার নিজের উপলব্ধি যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক পসিটিভ দিক খুলে দিয়েছে তাকে অস্বীকারও করতে পারে না, আর  তার থেকে তৈরী হয়  আক্রোশ । এখানেই ভারতীয় অধ্যাত্বিকতা প্রাসঙ্গিক , সে বলে - যত মত তত পথ।
     
    ধৰ্ম আর  ভগবানকে  নিয়ে  এত  বিশৃখলার মধ্যে আমার একটা জিনিস খুব মনে হয়, আমরা সবাই যেন  অন্ধের হস্তিদর্শন করছি আর সেই  দর্শন নিয়েই  মারামারি  করে চলেছি । খুব ভালকরে স্মরণ করে যে , নিজের এই বিষয়টায়  পড়াশুনা, জ্ঞান দুটো ই সামান্য , এখান ওখান থেকে যতটুকু ভাল লেগেছে এক জায়্গায় করার চেষ্টা করলাম ।

    আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতির ঈশ্বর সন্ধানের সর্বপ্রথম সোপান  হচ্ছে নিজেকে জানা।ভগবান খোঁজার  প্রথম ধাপ হচ্ছে আমি কে তাকে খোঁজা ? আর তা শেষ হয় ভগবান কে নিজের মধ্যে  উপলব্ধি  করা দিয়ে। ঈশ্বরকে বোঝার  ( understand করা ) অনেক রকম হতে পারে কিন্তু উপলব্ধি  স্থান কাল পাত্রে অভিন্ন, শুধু তাই নয় সমস্ত ধর্মেও একই ।  আর সমস্ত ধৰ্ম নিয়ে মারামারির মূল কারণ যখন উপলব্ধির চেয়ে আমার বোঝা বা আমি যাকে নিজের ধর্ম মানি তার বোঝানোটাই প্রাধান্য পেয়ে যায়। ব্যাপারটা আরও  মারাত্ম্যক হয়ে ওঠে যখন সেটা নিয়ে দলতন্ত্র ( politics ইচ্ছে করেই রাজনীতি লিখলাম না ) শুরু হয়ে যায়। কিন্তু ধৰ্ম চর্চার অবহেলিত সত্য এই যে , ঈশ্বরকে উপলব্ধির মধ্যেই যে কোনো ধর্মের সার্থকতা , অন্যথা সব  ধৰ্মই  অপ্রাসঙ্গিক। 
     
    In Indian spiritualism Nastik never considered as sinner how many other places we  do,  in the contrary Nastik has its own place of honor in Indian spiritualism. Nastik philosophy is not truly western atheisms , in atheist school of thought one will go against anything in name of god, but Nastik philosophy one try to justify what people are celebrating as God, He cannot be there! That’s of course true because very few can comprehend god or divinity at every single moment of one’s life, and its not possible to express true nature of God by literature or any other mean, so quite possible our personal god, can be a distorted form of god…so advocating and prescribing it for everybody cannot be acceptable…… so what true Nastik tries to express, is also a kind of seeking…so should have a place of respect in this spirituality. I intentionally did not use the word Hinduism, because this terminology saw the sunlight only after and by other religions to classify their identity.
     
    জীব আর ঈশ্বর এর ব্যাখ্যার এই শ্লোকটা আমার খুব পছন্দের , এটা দিয়েই লেখাটা শেষ করি 

    ॐ पूर्णमदः पूर्णमिदम् पूर्णात् पूर्णमुदच्यते |
    पूर्णस्य पूर्णमादाय पूर्णमेवावशिष्यते ||
    ॐ शान्तिः शान्तिः शान्तिः ||

    Om Poornamadah, Poornamidam
    Poornaad Poornamudachyate;
    Poornasya Poornamaadaaya
    Poornamevaavashisyate
    Om, Shanti, Shanti, Shanti !
     
    - Om, whatever we are seeing ( here seeing may not be very correct word, it is not what we are seeing outside, it is something what we see as me) is complete, whatever is beyond of our comprehension ( what people describe as God) is also complete, 

    যাঁকে আমরা সম্পূর্ণ ধারণা করে উঠতে পারিনি এখনো অর্থাৎ ঈশ্বর তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ , কিন্তু আমরা যাকে আমি বলে জানি , সেও  স্বয়ং সম্পূর্ণ...আমার মনে হয় আধ্যাত্ম জগতের the  most powerful statement is this.......ওই অনন্তের অংশ আমরা, আমাদের মধ্যে অনন্তের সমস্ত গুন  ঠিক ততটা পরিমান বিরাজমান যতটা সেই ঈশ্বর, যাঁকে সমস্ত আস্তিক বিশ্বাস আরাধনা করে  এমনকি সমস্ত নাস্তিক বিশ্বাস ব্যক্তিগত ভাবে  যেই গুনের অধিকারীকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করে , তা আমাদের নিজের মধ্যেই আছে ......... পার্থক্য শুধু অনুভূতি আর প্রকাশে  ...... অন্য ভাবে বললে  আমাদের  মধ্যে আছে তবে   সুপ্ত ....তাঁকে জানা আর প্রকাশ করাতেই জীবনের সার্থকতা।

    From that completeness only this completeness appeared.This completeness is like infinity in mathematical concept, no matter whatever way we distribute it, only completeness remains. And then finally it reminds..
    Om, Peace peace peace
  • Kishore Ghosal | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:৩৮512428
  • @ অরূপ, ঠিকই বলেছ, বিছানায় আধশোয়া হয়ে বই পড়তে যে মনঃসংযোগ আসে, সেটা কম্পুতে ঠিক আসে না। ছোকরা বয়েসে, সারারাতে অনেক বই শেষ করেছি, কিন্তু কম্পুতে সেটা পারি না - ঘন্টা খানেক স্ক্রোল করার পরেই বেশ অস্বস্তি হয়। তোমার মুখে "ঘি-চিনি" ঝরুক, দেখা যাক কেউ এই বই ছাপতে চায় কি না।   
  • Kishore Ghosal | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:২৫512429
  • গুরুবাবু, 
    আমি কলকাতাতেই থাকি - কোথাও বসে একদিন এককাপ করে লিকার-চা নিয়ে বসা যেতেই পারে।
     
    আমার সম্ভাব্য বইয়ের  নিশ্চিত পাঠক হবেন জেনে সত্যিই ভীষণ পুলকিত হচ্ছি। কিন্তু এমন বই এই জমানায় কে ছাপবে?
     
    ১৩০০ সিই-র পরের পর্যায়ে লেখার ব্যাপারে অনেক বাধা আছে। যেমন বাংলা ভাষাটা মোটামুটি জানি, সংস্কৃত ভাষার সঙ্গেও খুব সামান্য হলেও পরিচিতি আছে। কিন্তু  মুসলিম গ্রন্থাদির ভাষা এই বয়েসে আয়ত্ত করা আর সম্ভব নয়। কাজেই শুধুমাত্র বাংলা আর ইংরিজি গ্রন্থের ওপর নির্ভর এমন একটা লেখা ঠিক জমবে না।  বাংলা অনুবাদে অন্ততঃ তিনটে কুরান-শরীফ পড়ার পর আমার এমনটাই মনে হয়েছে। অবিশ্যি বাংলা অনুবাদে, "গীতা" ও "বাইবেল" পড়েও আমার একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। শেষমেষ আমি নিজেই সহজ বাংলায়  গীতার মূলানুগ অনুবাদ করেছি - তার নাম "চিরসখা হে"। এই ভাবেই চেষ্টা করছি কয়েকটি প্রধান উপনিষদেরও সরল বঙ্গানুবাদ করার । কিন্তু "বাইবেল" বা "কুরান শরীফ" অনুবাদ করার সাহস কোনদিনই হয়নি এবং হবেও না। কারণ মূল ভাষা সম্পর্কে আমার কোন ধারণাই নেই।
     
    "এমন কি হতে পারে যে পশ্চিমী উপকূল অঞ্চল থেকে (গুজরাট মহারাষ্ট্র মালাবার প্রভৃতি অঞ্চল থেকে )বণিক গোষ্ঠীর বিপুল পরিমানে পশ্চিম এশিয়াতে চলে..."
    আপনার এই কথার সূত্রে বলি, গুজরাট মহারাষ্ট্র মালাবার  অঞ্চল থেকে বহু মানুষ শুধু পশ্চিম এশিয়া নয় - আফ্রিকার পূর্ব উপকূলেও উপস্থিত ছিলেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন শোনা যায় ভাস্কো-ডা-গামার জাহাজকে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের বন্দর মালিন্দি থেকে জনৈক গুজরাটি  ভদ্রলোক কালিকট বন্দরে (১৪৯৮ সিই) পাইলট করে নিরাপদে নিয়ে এসেছিলেন । এও শোনা যায় গুজরাটি ওই ভদ্রলোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
     
    এরকম বিক্ষিপ্ত কিছু তথ্য থেকে সঠিক ইতিহাস রচনা করা যায় না, কিন্তু এমন অনুমান করাই যায়, ওই গুজরাটি "পাইলট" ভদ্রলোক নিশ্চয়ই সমুদ্র বাণিজ্যে অভিজ্ঞ বণিক সম্প্রদায়ের লোক এবং ওই বন্দরে বা দেশে  তিনি একা ছিলেন না  - সপরিবারে অনেক ভারতীয়দের সঙ্গেই ছিলেন...
     
       
     
          
  • Kishore Ghosal | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৩৩512431
  • মৃধাবাবু, 
     
    পড়ে সুদীর্ঘ মন্তব্য করার জন্যে  আমার অজস্র কৃতজ্ঞতা নেবেন। 

    আপনি বলেছেন "আমরা সবাই যেন  অন্ধের হস্তিদর্শন করছি..." - আপনি "যেন" বলছেন কেন? যুগ যুগ ধরে আমরা তাই তো করছি! হিন্দু দর্শন এবং তত্ত্বকথা এতই বিশাল এবং জটিল যে, সমস্ত গ্রন্থ এক জীবনে পাঠ করে সম্যক উপলব্ধি করা - আমার মনে হয় অসম্ভব।
     
    আর সংস্কৃত শাস্ত্র এবং তত্ত্বে এই উদাহরণগুলি খুবই মোক্ষমভাবে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন "অন্ধের হস্তিদর্শন", "রজ্জুতে সর্পভ্রম", "ঘটাকাশ আর চিদাকাশ" ইত্যাদি। এগুলি সংশয়বাদী - দ্বিধাগ্রস্ত মানুষকে চুপ করিয়ে দিতে অসম্ভব কার্যকরী। 
     
    অথবা একদম সরাসরি ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া, যেমন বৃহদারণ্যক উপনিষদে গার্গী-যাজ্ঞবল্ক্য প্রসঙ্গ - "যাজ্ঞবল্ক্য বললেন, “আর না, গার্গি, তোমার প্রশ্ন নিয়ে আর এগিও না, যাতে তোমার মাথা দেহচ্যুত হয়। তুমি এমন এক দেবতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছ, যাঁর বিষয়ে কোন প্রশ্ন চলতে পারে না। অতএব, গার্গি, তোমার প্রশ্ন নিয়ে আর এগিও না”। এই কথা শুনে বচক্‌নু-কন্যা গার্গী চুপ করে গেলেন”।  ( ধর্মাধর্ম - অধ্যায় ৪.৪.৬)     

    আমাদের ধর্মপিতারা - তাঁদের পছন্দমতো কিছু কিছু তত্ত্বগুলে আমাদের জন্যে এক একটা "মিকচার" বানিয়ে দেন - আমরা সেই নেশাতেই কখনো বেশ ঝিম মেরে থাকি, বলি "কী হবে আর এসব করে- এসেছি একলা যাবোও একলা", অথবা "সবই মায়া, কা তব কান্তা, কস্তে পুত্রাঃ", অথবা "সবই তাঁর ইচ্ছে, তিনি যেমন করাচ্ছেন", ইত্যাদি। আবার  কখনো খেপেও উঠে, "হর হর মহাদেও" বা "জয় শ্রীরাম" বলে নিজেদের মধ্যে লড়াই করেছি। কখনো নাস্তিক গোষ্ঠীগুলি এবং বৌদ্ধ গোষ্ঠীদেরও বেশ ভালভাবেই  জব্দ করেছি।   

    আপনি লিখেছেন "জীব আর ঈশ্বর এর ব্যাখ্যার এই শ্লোকটা আমার খুব পছন্দের" -  শ্লোকটা আমারও খুব পছন্দের। আমি এই শ্লোকটি নিয়েও সংক্ষেপে আলোচনা করেছি - বেদান্ত দর্শন প্রসঙ্গে - (ধর্মাধর্ম - অধ্যায় ৫.১.৬)। 
     
    আপনি মনে হয়, শুধু এই পর্বটি পড়েই মন্তব্যগুলি করেছেন -  আগের পর্বগুলিতে এই বিষয়গুলি সবই এসেছে, আমাদের ইতিহাসের কালানুক্রমে।  
     
      
  • Kishore Ghosal | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৫৪512432
  • হীরেন স্যার, 
    আপনি সহায় রয়েছেন, গ্রন্থপ্রকাশ হয়তো হবেই।  
  • kk | 2601:448:c400:9fe0:207e:477c:374b:c16a | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৪৭512443
  • হ্যাঁ, বই হয়ে বেরোলে আমিও কিনতে চাই।
  • guru | 160.238.92.62 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৫০512444
  • কিশোরবাবু 
     
                  ১৩০০ CE থেকে এর পরে থেকে ভারতে সুলতানি যুগ ও মুঘল যুগ এর ব্যাপারে একটি ইংরেজি বই আমার মনে পড়ছে |
    "India in the Persianate age ১০০০ - ১৭৬৫ CE" লেখক Richard Eaton |  বেশি দাম নয় এই বইটি পড়ে দেখতে পারেন |  
     
    উপমহাদেশের ইতিহাসকে বুঝতে গেলে এইখানে তুর্কিদের মাধ্যমে যে ফারসিয়ানা সংস্কৃতি এসেছিলো তাকে বুঝতে হবে | আপনি কোন কোন বইয়ের কথা ভাবছেন ? মুসলিম গ্রন্থাদি মানে কোন কোন বইয়ের কথা ভাবছেন ? 
     
    আমার নিজের কয়েকটি ঐতিহাসিক ব্যাপার নিয়ে আগ্রহ আছে |
     
    ১ | উপমহাদেশের কয়েকটি বিশেষ জায়গা যেমন উত্তর পশ্চিম অংশ(মূলত পাঞ্জাব ) ও বাংলা এই দুটি জাতির মধ্যেই সংখ্যাগুরু অংশ মুসলিম হয়েছে | এর কারণ কি যেহেতু এই এলাকাগুলি আদৌ বৌদ্ধ প্রধান ছিলো এবং ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী এখানকার মানুষ আস্তে আস্তে মুসলিম হয়েছিলো ? 
     
    ২ | তুর্কি জাতি কি করে মুসলিম হলো এটিও আমার কাছে একটি বড়ো আগ্রহের বিষয় |
     
    ৩ | পশ্চিম এশিয়াতে মঙ্গোল আক্রমণের পরবর্তী প্রভাব ও পরে মোঙ্গলদের মুসলিম হয়ে যাওয়া |
     
    এই তিনটি বিষয় নিয়েই আমার আগ্রহ |  উপমহাদেশের ১৩০০ CE পরবর্তী ইতিহাস জানতে গেলে আমার মনে হয় এই তিনটি ঐতিহাসিক প্রশ্নের একটি অনুসন্ধান করা দরকার | আপনার মতামতের অপেক্ষাতে রইলাম |
     
  • Mridha | 2601:642:4c0f:4e84:9fb:ec2a:7f5f:c8a6 | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৩:০৩512448
  • কিশোরবাবু নমস্কার , আপনার সুদীর্ঘ লেখা অনেক প্রচেষ্টার প্রতিফলন। আমার ব্যাক্তিগত ভাবে উপসংহার টা আরেকটু পসিবিলিটি রিফ্লেক্ট করলে ভালো লাগত। 

    আমরা কেন ভাববো আমাদের ধর্ম শুধু কেউ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া।  আমার তো মনে হয় আমাদের ধর্মর স্বার্থকতা নিজের মধ্যেই  উত্তর খোঁজায় , অন্যের ন্যারেটিভে প্রভাবিত না হওয়া টাই তো লক্ষ্য ।  

    আত্মা , পরমাত্মা , মায়া  এই সমস্ত গুলো কেন কিছু  অ্যাবস্ট্রাক্ট শব্দ , একদল কে কনফিউসড  করে রাখার জন্য শুধু মনে  হবে ? 

    যদিও মনে হয় একটু অপ্রাসঙ্গিক আমার এক  সময়ের ব্যাক্তিগত উপলব্ধি " মায়া " প্রসঙ্গে একটু লিখছি, বছর ১৫ আগে এটা লিখেছিলাম , ওটাই কপি পেস্ট করছি।  সময় পেলে পরে বাংলা করছি। .....

    "Human life is expression of some behaviors sparked from our very own unique believe system ( sanskar). At first some elements of this believe system we get from parents and relatives, then comes contribution from friends and our educational systems, thirdly all the pleasant and painful experiences we go through in our life and some parts of it, nobody knows from where it comes, this is what some of eastern philosophies say, we inherit from our previous life. Characterizing of this believe-system into a person or in a living being, is called as its Prakriti (nature).

    All of us have our unique nature(prakriti)  and which not only other considers as us but also more often we ourselves consider as ourselves. So it is very loving to us. And all living beings has a tendency to confirm ( to prove it is the only truth ) its nature in outside world. And this is very very powerful in the world of action, this phenomenon  is named as Maya ( illusion) . All living beings [ including us :) !! ] interact with world through that Maya (an unrealistic view of existence). The strange thing is, it is so correct to us at this very moment  that we can’t think of any other idea to be correct but in a short while our  view itself get changed and another view appears as perfect truth. So in reality, we all are perceiving the world through an unique glass of maya of this very moment but strange thing is we are not ready to accept it. That gives all the diversities in the world.

    One thing we all observed, we feel very comfortable with whom we consider as friends and those people have a lot of similar life experiences. A man, they say, is known by the company he keeps. This is because there are lot of similarities in our nature and we can easily confirm or get assurance about  our nature is correct, from that company. That’s what we all want to see world is doing to our nature. We must have observed when somebody gets in line with our thought we just get some comfort but really not expanding, it just pamper our ego and get some sense of relief. Many times,  those friendly interactions are not much productive but more self-assuring. That is why gossiping ( Paro Ninda Paro Charcha) is so delicious. As much as possible we should try to avoid seeking for these relief as no Prakriti is exactly identical so at some point staying without purpose won’t n be that comforting.
    "

    আর ধর্মকে শ্ৰদ্ধা করতে হলে যুক্তিকে তালা দিতে হবে, তা কেন হতে হবে, বা কেউ যুক্তি সহ প্রশ্ন করছে তাকে চোক করার মধ্যে সার্থকতা যেমন নেই, তার সঙ্গে অযথা তর্কের ও প্রয়োজন নেই।  আমরা যে যার প্রশ্ন নিয়ে এগিয়ে যাবার মধ্যেই এর সার্থকতা , যাতে আমরা আমাকে  আরও একটু ভাল আমি করতে পারি ।  যাদি আলোচনা এর পথে সহায়ক হয় তাহলেই তার কিছু মূল্য আছে।  

    ঈশ্বরকে উপলব্ধির মধ্যেই যে কোনো ধর্মের সার্থকতা , অন্যথা সব  ধৰ্মই  অপ্রাসঙ্গিক।

     
     
     
  • Sara Man | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৩:২৪512449
  • একটি চমৎকার যাত্রা শেষ হল, তবে আরও একটু বেশি হলে ক্ষতি কিই বা ছিল! 
  • Kishore Ghosal | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৩:৫৭512450
  • @ গুরুবাবু,  আপনি অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষার দিকে ঠেলছেন। কিন্তু খুব লোভও হচ্ছে।  অর্থাৎ সাঁতার না জানা লোককে বলছেন, "পুকুরে ঝাঁপ দাও - সাঁতার ঠিক শিখে যাবে।" smiley smiley
     
    @ মৃধাবাবু, আপনি যেটা বলতে চেয়েছেন, আমি হয়তো একটু সংক্ষেপে বলে ফেলেছি - আমার বক্তব্য - ধার্মিক হওয়ার থেকে মানবিক হলে - সমাজের তো বটেই - সারা বিশ্বেরই মঙ্গল। কিন্তু আমি-আপনি চাইলেও সেটা হতে পারবে না - তার কারণগুলি আজ থেকে দু'হাজার বছর আগেও যা ছিল আজও তাই আছে। 
     
    @ শারদা ম্যাম, খুব ভালো লাগলো আপনার ছোট্ট মন্তব্যটি - কোন বই পড়তে পড়তে, যিনি পড়ছেন, তাঁর যদি মনে হয় "ওফ্‌ কী জ্বালাতন, বইটা শেষ হলে বাঁচি" । তার থেকে দুঃখ লেখকের আর কী হতে পারে?  "আরও একটু বেশি হলে ক্ষতি কিই বা ছিল!" এই কথাটি - যেহেতু আপনি নিজেও ভীষণ সুন্দর এক মরমী ইতিহাস লিখছেন - আমার লেখার ভীষণ সার্থকতা এনে দিল।    
  • guru | 103.175.62.10 | ০১ অক্টোবর ২০২২ ১০:৪৮512454
  • কিশোরবাবু আমার মতামত আপনার লেখা সম্বন্ধে "শেষ হয়েও হইলো না শেষ |" একটি কয়েক হাজার বছরের যাত্রা শেষ হলো , রয়ে গেলো কিছু ছবি মানসলোকে , আরো কিছু গল্প শোনার আগ্রহ রইলো | 
     
    উপমহাদেশে ইসলাম আসলে তুর্কিদের মাধ্যমে ফার্সীয়ানার বিকাশ | তুর্কিরা প্রথম দিকে উপমহাদশের মানুষের মতোই ছিল প্রকৃতি পূজারী ও পশুপতি মিত্তিকা জাতীয় দেবদেবীদের উপাসক | আমার ইরাননিবাসী এক পরিচিত ভদ্রলোক বলেছেন যে তুর্কিদের অন্যতম প্রধান দেবতা ছিলেন টেংরী যিনি একজন স্কাই গড | মঙ্গোলরা মধ্য এশিয়ার স্টেপঃভূমিতে তুর্কিদের দূরের প্রতিবেশী ছিলো  ও এদের ধর্ম বিশ্বাস মূলত ছিল টেংরী উপাসক তুর্কিদের মতোই | মঙ্গোল ও তুর্কিরা ভালো ঘোড়সওয়ার ছিল এবং মার্সিনারি হিসেবেই আরব উম্মায়াদ সাম্রাজ্যের সংস্পর্শে এরা আসে | 
     
    সেই সময়ে উম্মায়াদ সাম্রাজ্যে তুর্কিদের মার্সিনারি হিসেবেই দেখা হতো এবং প্রশাসনিক ব্যাপারে মূলত আরব দের প্রাধান্যই বেশী ছিল | তুর্কিদের মুসলমান করার খুব বেশি ইচ্ছে ছিলোনা সেই সময়ে আরব শাসকদের কেননা এদের মনে হয়েছিলো যে একবার মুসলমান হলেই এরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ সমূহ দখল করে নেবে | সেই সময়ে মোটামুটি নিয়ম ছিল যে আরবরাই সাম্রাজ্যে সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলি পাবে | 
     
    উম্মায়াদ বংশের প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসাইড বংশই প্রথমে উপলব্ধি করে যে তুর্কিদের মুসলিম করে নিজেদের দল ভারী করে তোলা হলে উম্মায়াদ বংশকে হটিয়ে দেওয়া সহজ হবে | প্রথম এদের মাধ্যমেই তুর্কিদের মুসলিম পরিচিতি শুরু হয় | এই নতুন তুর্কিদের ধর্ম ইসলাম হলেও কিন্তু সংস্কৃতি ছিল ফার্সীয়ানার , আরবী শুধুমাত্র কোরানের মধ্যেই আটকে গেলো | ভারতে সুলতানি শাসন চালু হয় এই ফার্সি সংস্কৃতি বহনকারী তুর্কিদের মাধ্যমেই |
     
    এরপরে 13-th শতাব্দীর সময় থেকে (মোটামুটি যেইখানে আপনার বইটি শেষ হচ্ছে ) মঙ্গোল আক্রমণ শুরু হলে মঙ্গোলরা পশ্চিম এশিয়াতে তাদের সাম্রাজ্য ইলাখানাত প্রতিষ্টা করে ও আস্তে আস্তে ফার্সি সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে একটু একটু করে ইসলামের মধ্যে আত্মীকৃত হয়ে যায় | এই মুসলীম মোঙ্গলদের থেকেই এর পরে তৈমুর লং চুগতাই বংশ ও আরো পরে বাবর ও মুঘলদের উৎপত্তি |
     
    অর্থাৎ উপমহাদেশে ইসলাম প্রায় পুরোটাই তুর্কি ও মোঙ্গলদের ইসলামে আসার পরের কাহিনী এবং ফার্সীয়ানার উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠার কথা |
     
    আপনার ক্ষুরধার কলম এই বিষয়টি নিয়ে এক্সপ্লোর করলেই তা আমার মতো আপনার ভক্তদের লাভ যার ফলে ইতিহাসের অনেক রকম মোড় ঘুরে যেতে পারে |
     
    আপনার গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ডটি খুব ভালো লিখেছেন | কয়েকটি বিষয় আমার মতামত |
     
    ৪.৮.৫ দীর্ঘ এই ভারত-পরিক্রমায় প্রাপ্তি
     
    ১ | আমি আপনার উপরের এই অংশে সেই সময়ের রাজন্যবর্গকে দোষারোপ করাটা ঠিক মনে করিনা | আমার mone
    হয় আপনি এখানে সাম্প্রতীকের চোখে অতীতকে দেখছেন | দেবদত্ত পট্টনায়েক দেখিয়েছেন যে সেই সময়ে আজকের মতো "হিন্দু " বা "মুসলিম " বা "ভারতীয়" এই পরিচিতি তৈরী হয়নি | যে অর্থে আপনি সুলতান মামুদ বা সবুক্তগিন কে বিদেশি মুসলিম আক্রমণকারী হিসেবে ভাবছেন সেই আমলে রাজন্যবর্গ হয়তো সেইভাবে ভাবতেননা | তাদের মনে হয়েছিল যে "শত্রুর শত্রু বন্ধু " যেটি প্রকৃতপক্ষে একটি চাণক্য নীতি যা রামায়ণ মহাভারতেও অনুসৃত হতো |  আপনি নিজেও দেখিয়েছেন যে সেই সময়ে যখন মামুদ সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করছেন মোটামুটি ঠিক সেই সময়েই রাজেন্দ্র চোলা বঙ্গ বিজয় করে প্রচুর মন্দির ধ্বংস ও সম্পদ লুন্ঠন করে নিচ্ছেন | রাজেন্দ্র নিজেকে শৈব মনে করতেন হিন্দু নয় | একই ভাবে পুরীর মন্দিরের মধ্যে আমরা যে জগন্নাথ ব্যাতিত অনেক দেব দেবীর মূর্তি দেখি সেই গুলো সবই হয়তো সেখানকার রাজাদের অন্য দেশ জয় করে তাদের মন্দির ভেঙে তুলে আনা | একই ভাবে সোমনাথ মন্দির ধ্বংস হয়তো মামুদের আগেও অনেক "হিন্দু" রাজা করেছেন |  তাদের কাছে তাই মামুদের ব্যাপার হয়তো একেবারেই নতুন কিছু ছিলোনা |
     
    বর্তমান যুগেও আমরা দেখী যে বুশের ইরাক যুদ্ধের সময়ে প্রায় কোনো আরব ও মুসলিম শাসকই সেইভাবে তার প্রতিবাদ করেননি | আসলে নেতারা কখনই আমার আপনার মতো মানুষের ভাবাবেগ ভেবে রাজনীতি করেননি |
     
    ২ | আপনি আপনার গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে বণিক গোষ্ঠী সাম্রাজ্যের পতন হলেও নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে জানতেন | আচ্ছা এমন কি হতে পারে যে রাজন্যবর্গের মতোই বণিক বর্গ হয়তো সমঝোতা করে নিতেন তুর্কি শাসকদের সঙ্গে নিজের ব্যবসায়ী স্বার্থ রক্ষা করতে যেইখানে "ভারতীয় " রাজন্যবর্গ হয়তো সেই রকম কিছু বণিক গোষ্ঠীর প্রতি কোনো কারণে  বিরাগভাজন হয়েছিলেন ? এমন কি হতে পারে যে এরাই পিছনথেকে তুর্কিদের ফিনান্স করতেন নিজেদের কোনো স্বার্থ রক্ষা করতে ?
     
    ৩ | পৃথিরাজ চৌহান এর যে বর্ণনা আপনি দিচ্ছেন সেটি প্রকৃতপক্ষে পৃথিরাজ রাসো গ্রন্থের থেকে | দেবদত্ত দেখিয়েছেন যে আলহা উদল বলে আরো একটি রাজস্থানি folklore গ্রন্থ আছে যেটিতে পৃথিরাজ চৌহান কে খলনায়ক হিসেবেই দেখানো হয়েছে |
     
    এই সব ব্যাপারে আপনার মতামতের অপেক্ষাতে রইলাম |
  • Kishore Ghosal | ০৮ অক্টোবর ২০২২ ১১:১৩512614
  • মৃধাবাবু, 
     
    "আর ধর্মকে শ্ৰদ্ধা করতে হলে যুক্তিকে তালা দিতে হবে, তা কেন হতে হবে, বা কেউ যুক্তি সহ প্রশ্ন করছে তাকে চোক করার মধ্যে সার্থকতা যেমন নেই, তার সঙ্গে অযথা তর্কের ও প্রয়োজন নেই।  আমরা যে যার প্রশ্ন নিয়ে এগিয়ে যাবার মধ্যেই এর সার্থকতা , যাতে আমরা আমাকে  আরও একটু ভাল আমি করতে পারি "। আপনার এই কথার উত্তরে বলি, - 
     
    গোটা গ্রন্থটিতে আপনার বক্তব্যকেই আমি বারবার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছি।  যুক্তি সহ প্রশ্ন করেছি, কিন্তু প্রশ্নকর্তা বা কর্ত্রীকে বারবার "চোক" করা হয়েছে, হচ্ছে, হবে। প্রসঙ্গতঃ বলি, এই গ্রন্থটি বাই চান্স প্রকাশিত হয়ে, যদি বহুল জনপ্রিয়তা লাভ করে ফেলে, তাহলে আমার কপালে সামাজিক দুর্ভোগ - বিনা বিচারে জেলবন্দী - এমনকি প্রাণহানিরও সম্ভাবনা ঘটে যেতে পারে।   
  • হীরেন সিংহরায় | ০৮ অক্টোবর ২০২২ ১২:৫৬512618
  • কিশোর 
     
    যুক্তির স্বাধীনতার জয় হবেই । 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই প্রতিক্রিয়া দিন