• হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফলের তাৎপর্য 

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৬ জুন ২০২১ | ৬৪৬ বার পঠিত
  • একমাস হল পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফল বেরিয়েছে। প্রাথমিক উত্তেজনা থিতিয়ে যাওয়ার পর এটাই হল সঠিক সময় যখন এই ফলাফলের তাৎপর্যকে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। কারণ প্রাথমিক বিশ্লেষণে তথ্যের অপ্রতুলতা ছাড়াও যেটা থাকে তা হল ব্যক্তিগত পক্ষপাতের ছায়াপাত কারণ প্রকৃত প্রস্তাবে আমরা কেউ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতশূণ্য হতে পারি না, সম্ভবও নয়। তাই কিছুটা কালক্ষেপ ঘটলে, নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণের সম্ভাবনা আরেকটু বাড়ে, যদি সেরকম কোনো অভিপ্রায় বিশ্লেষকের থাকে।

    প্রথমত যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আবহে এই ভোট হয়েছে তাতে বিপুল অর্থশক্তি ও প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার সত্বেও বিজেপি যে বাংলার ক্ষমতাদখলে ব্যর্থ হয়েছে তাতে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। তীব্র মেরুকরণের আবহে তৃণমূলের পক্ষে সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ হয়েছে সেটা স্পষ্ট। অপরদিকে হিন্দু ভোটারদের মেরুকরণে বিজেপি ব্যর্থ হয়েছে যদিও তাদের প্রধান বিরোধী হয়ে ওঠা এবং ৩৭ শতাংশ ভোট পাওয়াটা উদবেগজনক। তবে এখান থেকে বিজেপির পশ্চাদপসরণ শুরু হবে সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ওদের আর দেওয়ার মত কিছু নেই। সুতরাং রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নানা চক্রান্ত সত্বেও সরকার চলবে, এমনকি যেটা মমতা ব্যানার্জী ২০১৯ এ চেয়েছিলেন কিন্তু তার ধারে কাছে পৌঁছোতে পারেন নি, ২০২৪ সালে বিরোধী জোটের নেত্রী হিসেবে তিনি সেই সম্ভাবনাকেও ছুঁয়ে ফেলতে পারেন। জনপ্রিয়তাবাদী রাজনীতিকে তিনি নির্বাচনী পাটিগণিতের অঙ্ক মেলাতে সুদক্ষভাবে নিজের অনুকূলে ব্যবহার করতে পারেন এটা এখন প্রমাণিত। এটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু সর্বভারতীয় স্তরে সামাজিক ক্ষেত্রে বাম ও গণতান্ত্রিক পরিসরে যে শূণ্যতা তৈরি হয়েছে তাকে তিনি বা তার দল ভরাট করতে পারবেন সেটা আশা না করাই ভালো। সেক্ষেত্রে সর্বভারতীয় কোনো মঞ্চই পারে মানুষের ন্যূনতম চাহিদাগুলিকে সামনে নিয়ে আসতে — তা অর্থনৈতিক চাহিদাই হোক বা জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা সম্পর্কিত। তাই গণতান্ত্রিক সমাজবাদের আদর্শকে সামনে রেখে, শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচ্যুত না হয়ে ন্যূনতম কর্মসূচীর ভিত্তিতে বিভিন্ন মঞ্চে যৌথ কার্যক্রমের অনুশীলন দরকার।যার মূল লক্ষ্য হবে নয়া উদারনীতির বিরোধিতা।

    এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পশ্চিমবঙ্গের বামশক্তি, বিশেষত এককালের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিআইএম দলের চূড়ান্ত বিপর্যয়। এই নিয়ে ফলাফল বেরোনোর পর পরই পশ্চিমবঙ্গের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা পর পর পাঁচদিন উত্তর সম্পাদকীয় নিবন্ধ বের করে। লেখাগুলি যত না বিশ্লেষণ, তার চেয়ে বেশি সিপিএমের ওপর নিজেদের গায়ের ঝাল মেটানো। বিশেষত, কলকাতার সুশীল সমাজের এবারের রাজনৈতিক লাইন ‘নো ভোট টু বিজেপি’-র প্রচার। যেন বিজেপিকে আরেকটু বেশি গাল দিলে আর তৃণমূল, বিজেপিকে এক লাইনে দাঁড় না করালেই ভোটের রেজাল্ট বামদের পক্ষে অনেকটা ভালো হত। তাদেরকে বলি, খারাপ কি হয়েছে? এবার তো বামের ভোট রামে যত না গেছে তার চেয়ে তৃণমূলে বেশি গেছে। নো ভোট টু বিজেপি ফর্মুলাই জয়যুক্ত হয়েছে আপনাদের। বরং সময় যত যাচ্ছে বিভিন্ন বিশ্লেষণ (তার মধ্যে ঐ দৈনিকে প্রকাশিত মৈত্রীশ ঘটকের বিশ্লেষণও আছে) থেকে দেখা যাচ্ছে শতাংশের বিচারে ২০১৬ সালের তুলনায় সবচেয়ে বেশি আসন গেছে বিজেপির ঝুলিতে তৃণমূল থেকেই। তাহলে কী বলবেন তৃণমূলের প্রতি নরম মনোভাব সম্পন্ন এই সমস্ত বিশ্লেষকরা ?

    আসলে বিষয়টা এমন নয় যে সাম্প্রতিক অতীতে বিশেষ কোনো রণকৌশল নিলেই সিপিএম ফিরে আসত বা খুব ভালো ফল করতে পারত। তাদের এই বিপর্যয়ের কারণ নিহিত আছে তাদের শাসনকালের গৃহীত নীতিসমূহের মধ্যে যার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিকে যুক্ত করতে পারলেই আমরা কেবল তার মাত্রাকে বুঝে উঠতে পারবো।

    (১) শ্রেণী রাজনীতির অনুপস্থিতি, গ্রামাঞ্চলেঃ

    আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের কোনো গ্রামে যান এবং সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা আলোচনা করেন দেখবেন গোটাটাই আবর্তিত হচ্ছে মানুষের কিছু আর্থিক চাওয়া পাওয়ার ওপর এবং সেগুলি মূলত অনুদাননির্ভর। এর সঙ্গে বড়জোর যুক্ত হয় স্থানীয় কিছু উন্নয়নের ইস্যু। দেখে শুনে মনে হবে গ্রামে শ্রেণী রাজনীতির বাস্তবতা বুঝি কিছু নেই। এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণ কি? ১৯৭৭ সালে বামফ্রণ্ট সরকার প্রতিষ্ঠার পর অপারেশন বর্গা এবং পঞ্চায়েতী ব্যবস্থার পত্তনের মধ্য দিয়ে দরিদ্র কৃষকের ক্ষমতায়নের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, তার একটা বিরাট রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল যা নিঃসন্দেহে শ্রেণী রাজনীতির ওপর আধারিত ছিল। তার সুফল বামফ্রন্ট সরকার বহুদিন পর্যন্ত পেয়ে এসেছে। কিন্তু আইনি ব্যবস্থার মধ্যে এই রাজনীতিকে সম্প্রসারিত করার সুযোগ ছিল সীমিত। অবশ্য এর বেশি করার মত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বামফ্রন্টের ছিল না। সিপিআইএমের গঠনতন্ত্রের ১১২নং ধারায় বলায় আছে রাজ্য সরকার চালানোর উদ্দেশ্য হল এই বুর্জোয়া ব্যবস্থার মধ্যে শ্রমিক, কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে কিছুটা রিলিফ দেওয়া। তাই বামফ্রন্ট শাসনকালে, দীর্ঘদিন আগেই এই শ্রেণী রাজনীতির অবসান ঘটে এবং ‌ তাকে প্রতিস্থাপিত করে রিলিফের রাজনীতি। আজ তৃণমূল সরকার সেই রিলিফের রাজনীতিকেই আরো সক্রিয় করেছে আর সেই রিলিফ বিতরণের হাতিয়ার পঞ্চায়েত প্রশাসনকে পুরো কবজা করেছে। ফলে সমর্থন তাদের দিকে। না পাওয়া নিয়ে, দুর্নীতি নিয়ে যাদের ক্ষোভ আছে তারা বড়জোর একটা শক্তিশালী বিরোধী দলের অবলম্বন খুঁজছেন। এর সঙ্গে শ্রেণী রাজনীতির কোনো যোগ নেই।

    (২) শ্রেণী রাজনীতির অনুপস্থিতি, শহরাঞ্চলেঃ

    আমাদের দেশে সংগঠিত শ্রমিকের সংখ্যা মোট শ্রমিকের মাত্র ৭ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে শহরাঞ্চলে শ্রেণীভিত্তিক সংগঠনের ভিত্তি শুধু শ্রমিক শ্রেণীকে নিয়ে সম্ভব নয়। কোনোদিন তা ঘটেও নি। ছাত্র, যুব, মহিলা, শিক্ষক, সরকারী কর্মচারী প্রভৃতি বিভিন্ন বর্গকে সংগঠিত করা হয়েছে। কিন্তু এদের মধ্যে শ্রেণী রাজনীতির চেতনার অনুশীলন করার বদলে নির্বাচন থেকে নির্বাচন, প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠান দখলে রাখার অনুশীলন বেশি হয়েছে। অসংগঠিত শ্রমিক, শহরবাসী প্রান্তিক মানুষ, বস্তিবাসী এদের কথা ভেবে আলাদা করে কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয় নি। বরং নব্বইয়ের দশক থেকে উচ্ছেদের ঠেলায় হকার থেকে বস্তিবাসী, এদের অনেককেই বিরোধী শিবিরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে নতুন ‘উন্নয়নের’ মডেল বানাতে গিয়ে। যাদের মন জয় করার জন্য নতুন শিল্পনীতি (যা আসলে আর্থিক উদারনীতির বিকল্পহীনতাকেই প্রতিষ্ঠা করেছিল), সেই মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তর বামফ্রণ্টের প্রতি নির্বাচনী সমর্থন ২০০১-২০০৬ সময়ে বিপুলভাবে বাড়লেও পরবর্তী সময়ে তারাও সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।



    (৩) গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি, শহরে ও গ্রামে :

    শ্রেণী রাজনীতিকে অনেক তরল করে ফেললেও, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তার অবসান ঘটালেও সংগঠন পরিচালনা, দল পরিচালনা এবং জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে সিপিআইএম পুরোনো কিছু ধ্যানধারণা অবলম্বন করেই চলতে থাকে। তাদের ধারণা ছিল যে এক্ষেত্রে শিথিলতা দেখালে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি ভেঙ্গে পড়ে। দলের ক্ষেত্রে লাভক্ষতি যাই হোক না কেন, বাইরের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে তা যে অত্যন্ত খারাপ ফল প্রসব করেছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যে বা যারা আমার সংগঠন বা মতাদর্শের বাইরে তারাই আমার শত্রু, এই ভুল রাজনীতি শেখানো হয়েছে, অনুশীলন হয়েছে, প্রয়োগ হয়েছে। আজকে যে বামপন্থী ছাত্ররা মহামারীর সময় অবিস্মরণীয় জনসেবা করছেন, ভাবতে অবাক লাগে তাদের পূর্বসূরীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, হোস্টেলে অনেক ছাত্রছাত্রীর ওপর নির্যাতন করেছেন শুধু আলাদা রাজনীতির কারণে বা রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় না হতে চাওয়ায়।আসলে শুধুমাত্র সংগঠনের বিস্তার উদ্দেশ্য হলে, রাজনৈতিক ভাবধারার অনুশীলন না থাকলে এগুলো হয়। গ্রামীণ রাজনীতিতে এসব আরো হয়েছে, অনেক হিংস্র ভাবে। শহরাঞ্চলে নানা কমিটির কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হয়েছে অনেকের ক্ষেত্রে। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী মেকানিজম তৈরির কথা সিপিআইএম কোনোদিনই ভেবে উঠতে পারে নি।

    (৪) সৃজনাত্মক ভাবনার অনুপস্থিতিঃ

    বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান সরোজ মুখার্জী আশির দশকের গোড়ায় মার্কসবাদের সৃজনশীল প্রয়োগের কথা বলতেন। পরবর্তীকালে আর কাউকে সেসব কথা বলতে শোনা যায় নি। নতুন চিন্তাকে সবসময়ই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে অথবা ভাবা হয়েছে ব্যক্তিবাদের অভিব্যক্তি। ভাবটা ছিল এমন যে নির্বাচনে জিততে তো আর এইসব তাত্বিক চিন্তার দরকার পড়ে না। মাঝখান থেকে পার্টির চিন্তার ‘সংহতি’ এতে বিপন্ন হতে পারে। এমন নয় যে সি পি আই এম তার ভাবনাচিন্তার কোনো পরিবর্তন করে নি। বরং উল্টোটাই। বিকল্প ভাবনার পরিশ্রমসাধ্য সন্ধানের বদলে নব্বই দশকের মাঝামাঝি যে শিল্পনীতি গ্রহণ করা হয় তাই তো শ্রেণীচেতনাকে পুঁজিবাদের স্বপক্ষে দুর্বল করে দেয়। তারই পরিণতি পরবর্তীকালের সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম। ওই সময় থেকেই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে সিপিআইএমের অবস্থানের সঙ্গে রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের অবস্থানগত বহু বৈপরীত্যের জন্ম হয় যাকে স্ববিরোধিতা বলে অঙ্গুলিনির্দেশ করা সহজ হয়ে পড়ে। অন্যান্য বুর্জোয়া দলের সঙ্গে শ্রেণী অভিমুখের পার্থক্য যদি ঘুচে যায় তখন প্রশাসন চালানোর দক্ষতাই (গভর্নেন্স) একমাত্র বিবেচ্য হয়ে পড়ে। সেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রভৃতি মৌলিক ক্ষেত্রগুলিতে এত বেশি অভাব চোখে পড়ে যে প্রোগ্রেস রিপোর্টের চেহারাটা ক্রমশ সঙ্গীন হয়ে ওঠে।অথচ দলের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক স্থাপনের, তাদের অভাব অভিযোগ শোনার কোনো উদ্ভাবক ব্যবস্থা যদি করা যেত (বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মত করে কিন্তু কিছু করেছেন) তাহলে উপকার হত দলের। প্রাইমারি শিক্ষকের চাকরিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে কিছু কোটা বিলিয়ে রাজনৈতিক স্পেসের উপরিতলটা হয়ত ম্যানেজ করা হত, কিন্তু সামাজিক ক্ষেত্রর বৃহত্তর পরিসরটির ক্ষোভ বুঝত কে?

    আমাদের এই বিশ্লেষণ থেকে আমরা কি সিদ্ধান্তে আসতে পারি? যা হওয়ার ছিল, তাই হয়েছে? হ্যাঁ, তাই, কিন্তু এটাই একমাত্র হওয়ার ছিল এমন নয়। অনেকে বলবেন, সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারে গেলে এটাই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। আমরা বলব সরকারে যাওয়া নয়, শ্রেণী অভিমুখ হারিয়ে ফেলাটাই এই পরিণতির কারণ।সরকারের সিদ্ধান্তর একটা শ্রেণীভিত্তিক তাৎপর্য থাকতে পারে যেমনটা ছিল অপারেশন বর্গা বা পঞ্চায়েতী রাজ প্রতিষ্ঠায়। প্রশ্ন উঠবে, কেন সিপিআইএম এই অভিমুখ থেকে এতখানি বিচ্যুত হল, মধ্যবিত্ত আর উচ্চ মধ্যবিত্তের চাহিদার কাছে আত্মসমর্পণ করল? এর একটা বড় কারণ হতে পারে দলের শ্রেণীগত প্রতিনিধিত্ব। বছর ত্রিশ আগে সিপিআইএমের তাত্বিক মুখপাত্র ‘দ্য মার্কিস্ট’ এ সুকোমল সেনের একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল ‘On the correct class composition of the party’. সেখানে দেখা গিয়েছিল (১) পশ্চিমবঙ্গ কেরলের তুলনায় অনেক বড় রাজ্য হওয়া সত্বেও কেরলে পার্টির সদস্য সংখ্যা বেশি (২) পশ্চিমবঙ্গে এই সদস্যসংখ্যার বৃহদংশ এসেছেন ১৯৭৭ পরবর্তী কালে (৩) পার্টির সাধারণ সদস্যদের মধ্যে কৃষক ও শ্রমজীবী অংশের প্রতিনিধিত্ব কেরালায় কিছুটা ভালো, প্রায় ৫৮ শতাংশ, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ আর ত্রিপুরায় অনেক কম। পরবর্তীকালে এই অনুপাতের কোনো উন্নতি হয়েছিল বলে জানা নেই, অবনতি হয়ে থাকতে পারে। অবশ্য কেরালাতেও যত ওপরের দিকে কমিটি উঠেছে তত এই প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পেয়েছে। কেরালাতে আরেকটি ব্যাপার প্রথম থেকেই ছিল সেটা হচ্ছে ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন। ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে প্রাদেশিক কৃষক সভার সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের ৪০ লক্ষ ক্ষেতমজুরকে সংগঠিত করার জন্য প্রস্তাব পাশ হয়। অথচ ক্ষমতায় থাকাকালীন ১৯৮২ সালের সম্মেলনে একই প্রস্তাব পাশ হলেও পার্টির রাজ্য নেতৃত্বের চাপে তা মুলতুবি হয়ে যায়। ওঁদের যুক্তি ছিল মধ্য ও ছোট আয়ের কৃষকদের সঙ্গে ক্ষেতমজুরদের বিবাদে অপারেশন বর্গার অসমাপ্ত কাজের ক্ষতি হয়ে যাবে। আসলে সরকার বিব্রত হয়ে পড়বে এই ভয়টা আলিমুদ্দিনের নেতৃত্বকে সবসময় চিন্তায় রাখত। তাই বামপন্থাকে চোখের মণির মত রক্ষা করতে হবে এই আদর্শগত শ্লোগান না দিয়ে তাঁরা ‘বামফ্রন্ট সরকারকে চোখের মণির মত রক্ষা করতে হবে’ এই ভুল, আত্মপ্রসাদী অভিভাষণ টিকে জনপ্রিয় হতে দিয়েছিলেন। তাই কৃষকদের বামফ্রণ্ট সরকার সম্পর্কে পারসেপশন পাল্টাচ্ছে তার কোনো ঈঙ্গিত সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের আমলেও কৃষক সভার এত সদস্য থাকা সত্ত্বেও পাওয়া যায় নি। কে আর সরকারকে জেনেবুঝে বিব্রত করে? আমি বলছি না যে কেরল সরকার আদর্শতুল্য। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তুলনায় তাঁরা যে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন, সেই ব্যাপারটার সঙ্গে একটু দৃঢ়তর শ্রেণিভিত্তির কোনো যোগ থাকতেও পারে। যেমন ২০০৭ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার যখন কৃষি জমি অধিগ্রহণ করে শিল্প গড়ার কথা বলছেন তখন কেরলে ভি এস অচ্যুতানন্দন ‘Paddy field and watershed protection bill’ এনে ধানী জমির রূপান্তর বন্ধ করছেন এবং অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করছেন। এর আগে দুই কম্যুনিস্ট পার্টির কায়েমী স্বার্থের লোকদের বাধাদান সত্ত্বেও পশ্চিমঘাট পর্বতমালার রেনফরেস্টকে বাঁচাতে তিনি সেখানকার বহু অবৈধ রিসর্ট এবং বেআইনি নির্মাণকে ভেঙ্গে দেন। আসলে ভয়ংকর ভায়লার বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে জেল খাটা আর আত্মগোপনে থাকা মানুষের শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে প্রেসিডেন্সি কলেজের ক্যান্টিন থেকে মার্কসবাদ শিখে আসা নেতার দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবেই, স্বাভাবিক।

    পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থার পুনরুথ্বানের সম্ভাবনা :

    না, কোনো একক দলের হাতে সেই সম্ভাবনা বর্তমানে নেই। বরং বিভিন্ন নামে অজস্র যৌথ মঞ্চের মাধ্যমে বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকরা (নেতৃত্ব চান বা না চান) শ্রেণী রাজনীতির সম্ভাবনাগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন আর্থিক নীতির বিরোধিতা, বেসরকারিকরণ বিরোধিতা এগুলিকে বোঝা যায়। কিন্তু ভ্যাকসিনের দাবি বা জনস্বাস্থ্যর পরিকাঠামো বৃদ্ধির দাবিটাও যে শ্রেণী রাজনীতির অংশ হতে পারে সেটা বামপন্থীরা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে পারেন না? আমাদের রাজ্য সরকার অনুসৃত নীতিগুলি সম্পর্কেও সতর্ক মূল্যায়ন দরকার। খয়রাতির রাজনীতি বলে এগুলিকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা চলবে না কারণ দরিদ্র মানুষ এই প্রকল্পগুলিকে গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে যেগুলি অপ্রয়োজনীয় যেমন ইমাম বা পুরোহিতদের ভাতা দেওয়া, বা ক্লাবগুলিকে টাকা দেওয়া তার বিরোধিতা করতে হবে। রূপশ্রী প্রকল্পকে বিয়ের থেকে বিযুক্ত করে স্বনির্ভরতার অনুদানে পরিবর্তিত করার দাবি উঠতে পারে। এমন নয় যে নির্বাচনে জিতে গেছে তৃণমূল, তাই এসব নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। যতদূর মনে হচ্ছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে মানুষ গ্রহণ করেছে, কিন্তু বীমা নির্ভর প্রকল্পের টাকা পরিকাঠামো নির্মাণের কাজে ব্যয় করলে মানুষের বেশি লাভ কিনা সেই বিতর্ক প্রয়োজনে চালিয়ে যেতে হবে। গ্রামীণ মানুষ স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিকাঠামো ঠিকঠাক পাচ্ছেন কিনা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক এবং ওষুধপত্র আছে কিনা সেটা দেখাও শ্রেণী রাজনীতির অংশ হতে পারে। হতে পারে সুন্দরবন অঞ্চলের নদীবাঁধ ঠিকঠাক নির্মাণের দাবি। সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতায়ও অজস্র মঞ্চ হতে পারে। হতে পারে জনমুখী বিজ্ঞান চেতনার বিকাশে। শহরাঞ্চলে বস্তিবাসী, টোটোচালক, অটোচালক, বন্ধ কারখানার শ্রমিক, যৌনকর্মী, অসংখ্য অসংগঠিত শ্রমিক — এদের জীবনসংগ্রামের যে কোনো দাবিতে সামিল হওয়াও বামপন্থা। তবে সবসময় দাবি নয়, সামাজিক ভাবে সহমর্মী কোনো অ্যাকশন, যেমন এদের সন্তানদের শিক্ষায় সহায়তা করা ইত্যাদিকেও বামপন্থী এজেণ্ডার অংশ বলে ভাবতে হবে। পুরোনো বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির যে ব্যাগেজ আছে তার থেকে বেরিয়ে জনগণের কাছে গ্রাহ্য হওয়া মুশকিল। কিন্তু পরোক্ষে তারা সহায়তা করতেই পারেন বিভিন্ন মঞ্চের বিকাশে। সেখানে সামনের সারিতে নবীন প্রজন্মকে দরকার। কিন্তু বিশেষ করে সিপিএমের নবীন প্রজন্মকে বুঝতে হবে ‘শুধু চাকরি চাই’ বা ‘নিয়মিত টেট পরীক্ষা চাই’ বললেই সেটা বামপন্থা হয় না। দরকার বিকল্প আর্থিক নীতির অনুসরণ। দরকার দরিদ্রতম মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। দরকার বিকল্প পৃথিবীর স্বপ্ন দেখা। আর যে কোনো আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যে তারুণ্যের ধর্ম তাই বামপন্থাকে বাঁচিয়ে রাখে। সেই আধিপত্যবাদ যে শুধু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই থাকে তা নয় দলের অভ্যন্তরেও থাকে। দল যখন শাসক থাকে তখন, যখন থাকে না তখনও যাকে বলে লেফট এস্টাব্লিশমেন্ট। যখন তা স্বাধীন চিন্তার পথরোধ করে দাঁড়ায় তখন তাকে মান্যতা দেওয়া মানে শৃঙ্খলা মানা নয়, নিজেকেই শৃঙ্খলিত করা। সেই শৃঙ্খল ভাঙতে পারলে অথবা বামপন্থী দলগুলি যথেষ্ট নমনীয় হতে পারলে বামপন্থা বাঁচবে। নয়তো দুধের বদলে পিটুলিগোলার মত, মমতা ব্যানার্জীর ‘বামপন্থা’ নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

    সংলাপ ও সৃজনশীল বামপন্থাঃ

    সমাজের বিভিন্ন প্রান্তিক অংশের সঙ্গে বামপন্থার সংলাপ ও কথোপকথন বন্ধ হয়ে গেছে। এই সংলাপের পরিসর তৈরি করতে হবে। একদিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংগ্রামকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তাই নিয়ে সমাজের বিভিন্ন অংশের পরার্থপর মানুষের কথা শুনতে হবে। বিভিন্ন দলীয় বৃত্তের বাইরে অনেক চিন্তাশীল মানুষ আছেন, তাদের কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। এমন নয় যে তাঁরা সবসময় ঠিক কথা বলবেন। রাজনৈতিক দলগুলিও কি সবসময় ঠিক কথা বলেছেন ? নির্ভুল থাকার ঠিকাদারি কেউ নিয়ে রাখে নি, এটা বুঝতে হবে । পারস্পরিক সংলাপ ও সৃজনশীলতার মধ্যে, ছকবাঁধা পথের বাইরে, আধিপত্যবাদের বাইরে, সম্মানজনক তর্ক্মুখরতার মধ্যে পথ খুঁজে নিতে নিতে আর সেই পথে চলতে চলতে, হোঁচট খেতে খেতেও বার বার উঠে দাঁড়াতে পারলে বামপন্থা বাঁচবে। বামপন্থা কোনো নিশ্চিত গন্তব্য নয় যেখানে পৌঁছোনোর পর একটু জিরিয়ে নেওয়া যায়। বামপন্থা এক চলিষ্ণু প্রক্রিয়া। দায়বদ্ধতা একমাত্র ইতিহাসের সেই নিরন্তর নির্মাণের কাছে যাতে মানুষ ও তার প্রতিবেশ আরেকটু সুস্থতার অভিমুখী হতে পারে।
  • বিভাগ : আলোচনা | ০৬ জুন ২০২১ | ৬৪৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • নাম নেই | 2409:4060:e93:3040:1d7d:91a0:6254:b9c | ১৪ জুন ২০২১ ২০:২১494945
  • বাহ চমৎকার লেখা।


     একটা জিনিস প্রায় মনে হয়, (হয়তো ভুল মনে হয় ), তত্ত্ব অনুশীলনের কোন বিকল্প নেই। বেসিক মার্ক্সিস্ট বইগুলোর চর্চা হয় কি ? হলেও কমই হয়। ধরুন একটা বাম দলের কাছে তো টাকা নেই, আদর্শ আছে। সে আদর্শ চর্চা না করলে ঘুন ধরে যাওয়ার কথা নয় কি? আদর্শই আসল কথা। বিজেপি সাপোর্টার রা অনেকেই গরীব / নিম্ন মধ্যবিত্ত, আধপেটা খেয়ে তারা বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে কেন? আদর্শ।

  • Sandipan Majumder | ১৪ জুন ২০২১ ২০:৫২494947
  • @ নাম নেই তত্ত্বের  উদ্ভাবন,পুনঃসৃজন খুব দরকার  মনে হয়।  সেটা হওয়া চাই সাহসী আর সৎ। তবেই তা শুদ্ধতার অভিসারী  হয়। ধন্যবাদ। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন