এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিনে শ্যামাপ্রসাদের অবদান

    অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ জুন ২০২৬ | ৮৩ বার পঠিত
  • ২০ জুন নাকি পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন। এটা দাবি করা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। বলা হয়, এটা শুধু একটি তারিখ নয়, পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার ইতিহাসে এক গৌরবময় দিন। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অক্লান্ত সংগ্রামের ফলেই নাকি বাঙালি হিন্দুরা পেয়েছিল একটি নিরাপদ আশ্রয় পশ্চিমবঙ্গ।

    প্রকৃত সত্যটা কী? গোয়েবলসের কায়দায় বারবার মিথ্যাকে সত্যি করার যে প্রয়াস, তাকে একটু খুঁচিয়ে দেখা দরকার। খুঁচতে গেলে ইতিহাস খুঁচতে হবে। দ্বিজাতিতত্ত্বের ধুয়ো তুলে যখন ভারত উপমহাদেশকে খণ্ডিত করার পরিকল্পনা নিচ্ছিল বড়ো বড়ো মাথাওয়ালা নেতাগণ, তখন ব্রিটিশ শাসকদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রস্তাব পেশ করা হয়। তার মধ্যে একটা হল অখণ্ড স্বাধীন বাংলা প্রদেশ। শুরুতেই এই দাবি খুবই জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু যত সময় এগোতে থাকল, ততই সেই পরিকল্পনা ঘেঁটে ঘ হয়ে যেতে থাকল।

    বাংলা আর পাঞ্জাব ভাগের কথা লালা লাজপত রায় প্রথম বলেছিলেন ১৯২৫ সালে। জিন্নাহর ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান প্রদেশগুলিকে নিয়ে আলাদা ভূখণ্ড দাবি করেছিলেন বটে। কিন্তু বাংলা ভাগের কথা সেখানে ছিল না। লাহোর প্রস্তাবে "পাকিস্তান" শব্দটিও সেখানে ছিলই না। লাহোর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় মধ্যরাতে। কিন্তু পরদিন পত্রিকায় বলা হয় লাহোর প্রস্তাবে মুসলিম লিগ পাকিস্তান দাবি করেছেন, যা সত্য ছিলো না। ১৯৪৩ সালের এপ্রিল মাসে মুসলিম লিগের দিল্লি অধিবেশনে জিন্নাহ সভাপতির ভাষণে বলেন, লাহোর প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’ শব্দ ছিল না; প্রস্তাবটিকে হেয় করার জন্য একে "পাকিস্তান প্রস্তাব" আখ্যা দিয়েছে। পরবর্তী দলিলপত্রে প্রমাণিত হয় বরং টাটা, বিড়লা, বাজাজের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাকে ভাগ করতে চেয়েছিল ১৯৪২ সালেই। গান্ধির সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছিলে। ফলে কিরণশঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে ১৯৪৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলা কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল গান্ধির সঙ্গে দেখা করেন। সকলেই তাঁরা বলেন, বাংলার জনগণ বাংলাকে বিভক্ত করার বিরুদ্ধে। কিরণশঙ্কর রায় গান্ধিকে বলেছিলেন, পরিস্থিতি যদি খারাপের দিকে যায় তাহলে আমরা পাকিস্তানেও যেতে রাজি আছি, দয়া করে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করবেন না। জিন্নাহর মুসলিম লিগ ১৯৪৬ সালে ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব মেনে নেন, যেখানে বাংলা-পাঞ্জাব বিভক্তকরণের কথা ছিল না, ভারতভাগের কথাও বলা হয়নি। কংগ্রেস ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা পুরোপুরি মেনে নিতে না চাইলে পুনরায় পাকিস্তান গঠনের কথাটি উত্থাপিত হয়। তখন বাংলা প্রাদেশিক মুসলিম লিগ অবিভক্ত বাংলার পক্ষে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। বলা হয়, বাংলা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তানে না হিন্দুস্তানে যোগদান করবে, নাকি কোনোটাতেই যোগাদান না করে স্বাধীন থাকবে। বাংলার গভর্নর ভাইসরয়কে জানান, নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর মনে হয়েছে যে, মুসলিম লিগপন্থীরা এমন একটি রাষ্ট্রের কথা ভাবছে যেখানে হিন্দু-মুসলমানরা সৌহার্দের সঙ্গে বাস করবে। তাঁরা বিশ্বাস করেন না যে, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বার্থের বিরোধ আছে। বাংলার মানুষরা বরং মনে করেন "বাংলা এখন এবং চিরকালই একটি স্বতন্ত্র অঞ্চল। ভারতবর্ষ থেকে এই অঞ্চল কখনও সুবিচার পায়নি। দুই সম্প্রদায়ের স্বার্থ যে একই, এই বিশ্বাসের ভিত্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনোভাব। মুসলিম লিগপন্থীরা যা চাইছেন তা হল -- একটি সম্পূর্ণ স্বশাসিত স্বাধীন রাষ্ট্র।

    যখন বাংলার মানুষ, বাংলা কংগ্রেস আর বাংলার মুসলিম লিগ বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত না করার জন্য আবেদন করছে, তখন গুজরাটি প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা কানাইলাল মুন্সি গান্ধি ও প্যাটেলকে চিঠি লিখে জানাচ্ছেন, “পাঞ্জাব ও বাংলা যতক্ষণ না বিভক্ত হচ্ছে ততক্ষণ আমরা মেনে নেবো না।” ঘনশ্যাম বিড়লা ওই সময়ে গান্ধিকে জানালেন, “অনেক বাঙালিকে বলতে শুনেছি যে, বাংলা যদি অবিভক্ত থাকে, তাহলে তাঁরা পাকিস্তানে যেতে আপত্তি করবেন না।”

    গান্ধি কিন্তু কিরণশঙ্কর রায়কে কথা দিয়েছিলেন, বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার ব্যাপারে তিনি কিছু করবে না। কিন্তু তিনি তলে তলে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার পক্ষেই কাজ করেছিলেন। কিন্তু অস্থিরমতি গান্ধি কখনও ভারত ভাগে সম্মতি জানাচ্ছেন, কখনও ভারত ভাগ করা পাপ মনে করছেন। বাংলা, পাঞ্জাব ও আসামের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অঞ্চলগুলিকে কেটে বাদ দিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টির পক্ষে জওহরলাল, প্যাটেল সহ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা ১৯৪৪ সাল থেকেই একমত ছিলেন। গান্ধির তাতে সায়ও ছিল। কারণ এই ভাগের জন্য সবচেয়ে মুখিয়ে ছিলেন টাটা, বিড়লা, বাজাজ, গোয়েঙ্কার মতো পুঁজিপতিরা। সমগ্র মুসলমান জাতিকে তাঁরা বাংলা তথা ভারত ভূখণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ইতিহাসবিদ জয়া চট্টোপাধায় তাঁর "বাংলা ভাগ হল" গ্রন্থে লিখেছেন, বিড়লা, ঈশ্বর দাস জালান, গোয়েঙ্কা ও নলিনী রঞ্জন সরকার; বাঙলার সব লাখপতি ক্রোড়পতি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে উপস্থিত থেকে বাংলা ভাগের আন্দোলন করেছিলেন। বাংলা যাতে ভাগ হয় সেজন্য এরাই ১৯৪৬ সালে দাঙ্গা লাগাবার জন্য সকল রকম উস্কানি দিয়েছিলেন আর বহু অর্থ ঢেলেছিলেন। সাধারণ হিন্দুরা বা মুসলমানরা যেহেতু বাংলা ভাগের ব্যাপারে উৎসুক ছিলেন না, মিলেমিশে বৃহত্তর বাংলায় থাকতে চাইছিলেন সেজন্য দাঙ্গা লাগিয়ে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা ছিলো ছেচল্লিশের দাঙ্গা। ছিচল্লিশের দাঙ্গার পর দিন জিন্নাহ দুঃখ প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন, যারা এর জন্য দায়ী তিনি তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু নেহরু পরদিন দাঙ্গা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে সরকার গঠনের সভা ডাকলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বললেন, কিছু দুষ্ট লোকরা এসব করেছে। এটাকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। বিড়লা ছিলেন বাংলা ভাগের বিরাট সমর্থক। তিনি ১৯৪২ সালের জুলাই মাসে গান্ধির সচিব মহাদেব দেশাইয়ের কাছে স্বীকার করেন যে, “আমি বাংলা ভাগের পক্ষে। আমি মনে করি না যে এটা অবাস্তব বা হিন্দুদের স্বার্থ বিরুদ্ধ”। কংগ্রেসের রাজনীতি ইচ্ছা অনিচ্ছা এই সব টাটা বিড়লাদের চাহিদা আর তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত টাকার উপর নির্ভর করত।

    লুই ফিসার একবার গান্ধিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কংগ্রেসের আয় ব্যয়ের কতো ধনীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত? গান্ধী বলেছিলেন, বস্তুত সবটাই। গান্ধী আশ্রম, কংগ্রেস সংগঠন এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত গান্ধী সেবা সংঘ, কাটুনী সংঘ, গ্রামোদ্যোগ সংঘ, গো-সেবা সংঘ, হরিজন সেবক সমিতি সব কিছুই বিড়লার মতো মাড়োয়ারি, গুজরাটি আর পার্শি ধনীদের টাকায় পরিচালিত হত। ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল লিখেছিলেন, কংগ্রেসকে বড়ো বড়ো পুঁজিপতিরা কব্জা করে রেখেছে। তিনি লিখেছেন, প্যাটেল তো বিড়লার পকেটে আশ্রয় নিয়েছেন। দিল্লি গেলে গান্ধি বিড়লা ভবনেই থাকতেন। গান্ধি আর প্যাটেল দুজনের মৃত্যু হয় বিড়লা ভবনে। গান্ধীর দিল্লির বিড়লা ভবনে, প্যাটেলের বোম্বাইয়ের বিড়লা ভবনে। টাটা, বিড়লা, বাজাজ, সিংহানিয়ার মতো বড়ো বড়ো হিন্দু পার্শি ধনীদের সঙ্গে গান্ধির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ত্রিশের দশকের মাঝামাঝি বিড়লা পরিবারের জনৈক ব্যক্তি জওহরলালকে মোটা মাসোাহারা দিতে চাইলে তিনি প্রত্যাখান করেন। সর্বপল্লি গোপাল জানাচ্ছে যে, বিড়লা পরিবার কংগ্রেসের অনেক নেতাকে মোটা মাসহারা দিত। জওহরলাল যা নিতেন তা গান্ধির হাত থেকে, সরাসরি বিড়লাদের কাছ থেকে নয়। এটা থেকেই বোঝা যায় কংগ্রেস কতটা পুঁজিবাদীদের কব্জায় ছিল। ফলে পুঁজিবাদীদের স্বার্থ কংগ্রেস দেখবে না তো কে দেখবে?

    জয়া চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ছেচল্লিশের দাঙ্গার ফলে ১৯৪৬ সালে বাংলা দ্বিতীয়বার ভাগ হয়। কিন্তু বর্ণহিন্দুরা বা কংগ্রেসের নেতারা বাংলা ভাগে আপত্তি করলেন না। হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেসের প্রাদেশিক শাখাগুলোর সহায়তায় বাংলার অধিক সংখ্যক হিন্দু ১৯৪৭ সালে বাংলা বিক্তক্ত করে ভারতের অভ্যন্তরে পৃথক হিন্দু প্রদেশ গঠনের জন্য ব্যাপক প্রচার চালায়। বাস্তবে ১৯৪৬ সাল শেষ হওয়ার আগেই “বেঙ্গল পার্টিশন লিগ” গঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার্থে পৃথক প্রদেশ দাবি করা। হিন্দুদের দিক বলা হয়েছিল, বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়েছিল, কারণ সাম্রাজ্যবাদের সেদিন উদ্দেশ্য ছিল বাংলার হিন্দুদের সংখ্যালঘিষ্ঠ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম করার শক্তিকে পঙ্গু করে দেওয়া। বাংলা বিভক্তির জন্য আমাদের আজকের দাবি একই লক্ষ্যে পরিচালিত; বাংলার সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং বাংলার হিন্দুদের জন্য একটা স্বদেশভূমি অর্জন করা। জিন্নাহ বা মুসলিম লিগ যখন সংখ্যালঘু মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূখণ্ড দাবি করে সেটা হয়ে যায় সাম্প্রদায়িক, বাংলার সংখ্যালঘু হিন্দুরা যখন বাংলা ভাগ করে নিজেদের জন্য আলাদা ভূখণ্ড চাইছে, সেটাকে তখন সেটা হিন্দুদের অস্তিত্ব রক্ষা। সেটাকে সাম্প্রদায়িক চিন্তা হিসেবে দেখা হয় না। কংগ্রেস সেটাকে সমর্থনও করছে।

    বাংলা ও পাঞ্জাব মিলিয়ে মোট ৯/১০ কোটি মানুষের বাসভূমি ছিল। কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব চাইলেন এদের ভাগ্যবিধাতা হতে। যাঁদের বাসভূমিকে ভাগ করা হবে, তারা কী চান সেটা তাঁদের কাছে বিবেচনার যোগ্য ছিল না। এমনকি পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাসরত প্রায় ১৪–১৫% এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রায় ২৮% হিন্দুদের পাকিস্তানি তথা বিদেশি করে দেওয়া হল। কেন তাঁদেরকে মুসলমানদের দেশে ঠেলে দেওয়া হল? তাঁরা কি বলেছিল তাঁরা মুসলমানদের দেশ পাকিস্তানেই থাকবে? তখন এত হিন্দুপ্রেমীরা কোথায় ছিল?

    বাংলা কংগ্রেসের শরৎ বসু, অখিলচন্দ্র দত্ত, সত্যরঞ্জন বক্সী, কিরণশঙ্কর রায় বাংলা ভাগের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু বল্লভভাই প্যাটেল কিরণশঙ্কর রায়কে শাসিয়ে চিঠি লিখেছিলেন, “আপনার ও শরৎ বাবু উভয়ের নাম এইসব অভিযোগের সঙ্গে জড়িত।” অর্থাৎ প্যাটেল ভয় দেখালেন, কিরণশঙ্কর রায় যেটাকে দেশের স্বার্থ বলে মনে করছেন, তিনি যদি ফের সেই পথে যান, তাহলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বিপন্ন হবে। অন্যদিকে জিন্নাহ ও লিগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলি হিন্দুস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে না থেকে অবিভক্ত বাংলা রাষ্ট্রের পক্ষে তাঁদের সম্মতি বারবার জানিয়েছিলেন। শরৎ বসু বাংলা ভাগ ষড়যন্ত্রকে দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করেছিলেন। কংগ্রেসের আজাদ, প্রফুল্ল ঘোষ, কিরণশঙ্কর রায় প্রমুখ কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, “বাংলা বিভাগ চিরকালের জন্য বাঙালিদের জাতীয় জীবনকে ধ্বংস করবে।” শরৎ বসু প্রমুখরা এ কথাও বলেছিলেন, বাংলাকে বিভক্ত করার চেয়ে তাঁরা বাংলার সংখ্যালঘু হয়ে থাকবেন এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করবেন। বাংলা ভাগ করার কোনো ভিত্তি নেই। শরৎ বসু তখনও জানতেন না যে, বাংলা আর পাঞ্জাবকে ভাগ করার জন্য গান্ধি আর নেহরু ব্রিটিশ সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই কয়েকবার প্রস্তাব করেছিলেন। গান্ধিজি ১৯৪৬ সালের ৩ এপ্রিল ক্যাবিনেট মিশনকে বলেন, তিনি ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ মেনে নিতে প্রস্তুত। অপরদিকে জিন্নাহ কিন্তু দেশভাগ না চেয়ে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা মেনে নিয়েছিলেন।

    কী ছিল ক্যাবিনেট মিশনের পরিকল্পনা? ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় নেতাদের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং ভারতের জন্য একটি নতুন সংবিধান তৈরির উদ্দেশ্যে ক্যাবিনেট মিশন পাঠায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি এই মিশন গঠন করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান গঠনের দাবি এড়িয়ে ভারতকে অখণ্ড রাখা এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা। ক্যাবিনেট মিশনের প্রধান সুপারিশ ও পরিকল্পনাগুলো হল -- (১) কেন্দ্রীয় সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো : একটি শক্তিশালী কেন্দ্র বা ইউনিয়নের পরিবর্তে একটি দুর্বল কেন্দ্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থাৎ কেন্দ্রের হাতে শুধুমাত্র পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক বিষয়গুলোর দায়িত্ব থাকবে। (২) প্রদেশের স্বায়ত্তশাসন ও গ্রুপিং : অবশিষ্ট সমস্ত ক্ষমতা (residuary power) রাজ্য বা প্রদেশগুলোর হাতে থাকবে। তিনি সমগ্র ভারতকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করার প্রস্তাব দেন। যেমন গ্রুপ A : হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলো (যেমন -- মাদ্রাজ, বোম্বে, যুক্তপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও উড়িষ্যা)। গ্রুপ B : উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলো (যেমন -- পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ)। গ্রুপ C : উত্তর-পূর্ব ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল (যেমন -- বাংলা ও আসাম)। (৩) গণপরিষদ গঠন ও সংবিধান প্রণয়ন : ভারতের নিজস্ব সংবিধান তৈরির জন্য একটি গণপরিষদ (Constituent Assembly) গঠনের কথা বলা হয়।সমস্ত সম্প্রদায় ও দেশীয় রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই পরিষদ গঠিত হওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়। (৪) অন্তর্বর্তী সরকার : ভারতের শাসনভার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সকল প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু পরিকল্পনা ভেস্তে গেল কংগ্রেস ও মুসলিগের বাঁদরের পিঠে ভাগ করতে গিয়ে।

    ক্রিপসকে দীর্ঘ চিঠিতে ১৯৪৬ সালে নেহরু লিখছেন, “পাকিস্তান হতে পারে যদি বাংলা ও পাঞ্জাবকে ভাগ করা হয়। না-হলে ভারত ভাগ হবে না।” অপরদিকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলিকে চিঠি লিখে জানিয়ে দিলেন, "দেশভাগ হোক বা না-হোক বাংলা ভাগ চাই-ই।" অথচ যাঁদের দেশ ভাগ করা হবে সেই বাঙালি বা পাঞ্জাবিরা তাঁরা কী চান তা জানার প্রয়োজন নেই নেহরু তথা কংগ্রেস নেতাদের। হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদেরও জানার প্রয়োজন হয়নি।

    বাংলার তৎকালীন গভর্নর বারোজ ভাইসরয়কে বললেন, ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনায় বাংলা ভাগ হবে না শুনে বাংলার হিন্দু-মুসলমানরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। বাংলার সব রাজনৈতিক দলই স্বস্তি অনুভব করেছিলো। কারণ এই বিভাজনটা বাংলার কংগ্রেস বা লিগ চায়নি। বাংলার হিন্দু মহাসভার নেতৃত্বে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কলকাতার ধনী মাড়োয়ারিরা মহাসভার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ১৯৪৫ সালে হিন্দু মহাসভার প্রার্থীরা বাংলার কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচনে সকলেই জামানত খুঁইয়েছিলেন। কংগ্রেস প্রার্থী ১০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল। অপরদিকে শ্যামাপ্রসাদ পেয়েছিলেন মাত্র ৩৫০ ভোট। এ থেকেই বোঝা যায় বাংলার বড়ো অংশের হিন্দুরা শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে ছিল না। কংগ্রেসের সর্দার প্যাটেল তখন শ্যামাপ্রসাদের বিরুদ্ধে কগ্রেসকে প্রার্থী দিতে নিষেধ করেছিলেন। বাংলাকে ভাগ করার জন্য গুজরাটি, মাড়োয়ারি, পার্শিরা একজোট হয়েছিল। সর্বত্র হিন্দি চালু করার জন্য আর বাংলা-পাঞ্জাব ভাগ করার জন্য টাটা, বিড়লা, গোয়েঙ্কা, বাজাজরা বহু অর্থ ঢেলেছিল। শ্যামাপ্রসাদ এদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পেতেন। শ্যামাপ্রসাদ ১৯৪৬ সালে একটি চিঠিতে প্যাটেলকে লিখেছিলেন, “ঘটনার চাপে মিঃ জিন্নাহ যদি অবশেষে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বাধ্য হন, তাহলে বাংলা ভাগের প্রশ্ন যেন পরিত্যাক্ত না হয়, তা অনুগ্রহ করে দেখবেন। পাকিস্তান হোক আর না হোক, আমরা বর্তমান বাংলার সীমার মধ্যে দুটো প্রদেশ গঠিত হোক, এই দাবি করি।” প্যাটেল শ্যামাপ্রসাদকে তাঁকে ভসা করতে বলেছিলেন। বাংলার জনগণ চাইছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি বাংলা। শ্যামাপ্রসাদ লেখেন, “ভারতীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন সার্বভৌম বাংলার ধারণা ব্যক্তিগতভাবে আমি মোটেই পছন্দ করি না। ভারতবর্ষ বিভক্ত হোক আর না হোক, বাংলাকে ভাগ করতে হবে।" শ্যামাপ্রসাদের এই দাবি বিড়লার ‘টাইমস" পত্রিকার এবং নেহরুর দাবির প্রতিধ্বনি ছিল। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে "টাইমস" পত্রিকা এই দাবি তোলে, আর ৮ মার্চ ওয়াভেলকে লেখা চিঠিতে নেহেরু ভারত ভাগ না হলেও বাংলা ও পাঞ্জাবকে ভাগ করতে বলেন। ধনী ব্যবসায়ী, জওহরলাল নেহেরু ও প্যাটেলরা চেয়েছিলেন, পশ্চিম বাংলাকে কিছুতেই ভারত থেকে আলাদা হতে দেওয়া যাবে না। সেটাকে সর্বশক্তি দিয়ে আটকাতে হবে। কারণ কলকাতায় সকল পুঁজিপতিদের ব্যবসা ছিল। তাঁদের স্বার্থে কিছুতেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা তাঁরা মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা মানে যার উপর কেন্দ্রের বা কংগ্রেস নেতাদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

    বাংলার দায়িত্বশীল হিন্দু-মুসলমান নেতারা মনে করতেন, বাইরের শক্তিগুলির সাহায্য ছাড়াই বাঙালিদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। উনিশশো ৪৬ সালের সেপ্টেম্বরে সোহরাওয়ার্দি মাদ্রাজের "হিন্দু" পত্রিকাকে বলেন, বাংলার জনগণ তাদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করবেন। কুমিল্লার কংগ্রেস নেতা অখিলচন্দ্র দত্ত নিজে জওহরলাল নেহেরু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, ও রাজেন্দ্রপ্রসাদকে টেলিগ্রাফ করে জানান, “বাংলাকে বিভক্ত করা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত, সামাজিক সব দিক থেকে মূলত নীতিবিরুদ্ধ। তিনি আরও বলেছিলেন, “বাংলার বিভক্তিকরণ দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে স্থায়ী বিভেদ সৃষ্টি করবে।” বাংলা ভাগ চাইছিলেন প্যাটেল নেহরু আর গান্ধি। খাজা নাজিমুদ্দিন বলেন, “মুসলমান হোক বা অমুসলমান হোক, বাংলার জনগণের স্বার্থে স্বাধীন বাংলা সব থেকে ভালো এবং আমি সমান দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করি যে, প্রদেশের বিভাজন বাঙালিদের স্বার্থের পক্ষে ধ্বংসাত্মক।” তিনি বলেন, "বাংলার বিকাশের অফুরন্ত সম্ভাবনা আছে, যদি তারা নিজেরা নিজেদের ভাগ্য পরিচালনা করতে পারেন।" তিনি আরও বলেন, “বাংলা সবসময়ই কেন্দ্রের কাছ থেকে বিমাতৃসুলভ আচরণ পেয়ে আসছে।” প্রাদেশিক মুসলিম লিগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশিম বলেন, বিদেশি পুঁজির স্বার্থে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করা হচ্ছে। যাতে বাইরের শোষণকে প্রতিহত করার শক্তি বাংলার কোনো অংশের না থাকে। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, বাংলা বিভক্ত হবে না এবং হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান থেকে বাংলা পৃথক রাষ্ট্র হবে। তাতে মুসলিম লিগ নেতাদের সায় ছিল। জিন্নাহকে যখন কথাটা জানানো হল তিনি সামান্য ইতস্তত না করে বললেন, “আমি আনন্দিত হবো। তারা ঐক্যবদ্ধ এবং স্বাধীন থাকুক সেটাই ভালো হবে।” ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল মাউন্টব্যাটেনের প্রধান সচিব মিয়েভিলের সঙ্গে আলোচনার সময় লিয়াকত আলি বলেছিলেন, “বাংলা কখনো বিভক্ত হবে না এই তাঁর বিশ্বাস, তাই তিনি বাংলা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি মনে করেন যে, বাংলা হিন্দুস্থানে বা পাকিস্তানে যোগদান করবে না এবং পৃথক রাষ্ট্র থাকবে। জিন্নাহ-লিয়াকত তাঁদের এই সম্মতি বারবার জানিয়েছেন।

    বস্তুত বাংলা ভাগের পরিকল্পনা জিন্নাহর সঙ্গে আলোচনার বহু আগেই হয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেস নেতারা আর ধনী ব্যবসায়ীরা সেটা করেছিলেন। "ফ্রিডম এ্যাট মিডনাইট" গ্রন্থের লেখকরা জানাচ্ছেন, মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে আলোচনায় জিন্নাহ বললেন, বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাজন কংগ্রেসের একটা ‘ধাপ্পা’। তিনি ভাইসরয়কে মিনতি করেন যাতে প্রদেশ দুটিকে বিভক্ত না করা হয়। তিনি বলেছিলেন, “ইয়োর এক্সেলেন্সি বোধ হয় জানেন না যে একজন মানুষ আগে একজন পাঞ্জাবি বা বাঙালি, পরে সে হিন্দু বা মুসলমান। ধর্ম যাই হোক, তার পরিচয় সে বাঙালি বা পাঞ্জাবি। তার ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, তার অর্থনীতি সবই এক। সেক্ষেত্রে পাঞ্জাব বা বাংলা ভাগ করা মানে পাঞ্জাবি বা বাঙালিকে ভাগ করা। এর ফলে নতুন করে রক্তপাত হবে দাঙ্গা হবে।” জিন্নাহ বলতেন, বাংলা যদি পাকিস্তানে যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকে তিনি খুশিই হবেন।

    অতঃপর ১৯৪৭ সালের ২০ জুন ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাপ্রদেশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। পূর্বের বাংলার পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হল, পশ্চিমের বাংলা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হল। পূর্বের বাংলায় থেকে গেল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়, পশ্চিমের বাংলায় থেকে গেল সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়। কিন্তু উভয় বাংলায় যারা সংখ্যালঘু হয়ে গেল, তাদের কথা কেউ ভাবল না। আর সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণাটা একমাত্র সংখ্যালঘুরাই বোঝে। পাকিস্তান মায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ভারতের দালাল হিসাবে চিহ্নিত করা হয় এবং ভারতের সংখ্যালঘুদের পাকিস্তানের দালাল বলে চিহ্নিত করা হয়। এর জন্য দায়ী কারা? শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি? না, শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা ছিল নগন্য। পশ্চিমবঙ্গের গঠন হয় তৎকালীন বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটির মাধ্যমে। এখন দেখা যাক, আজকের পশ্চিমবঙ্গ তৈরীর জন্য ভোটাধিকার যাদের ছিল, তাদের সংখ্যাটা কি?
    --- মুসলিম লিগ: ১১৩ জন।
    --- কংগ্রেস: ৮৭ জন।
    --- কমিউনিস্ট: ৩ জন।
    --- হিন্দু মহাসভা: ১ জন (শ্যামাপ্রসাদ)।
    পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবটি অ্যাসেম্বলিতে পাশ হয় ৫৫-২১ ভোটে। ঐ ৫৫ টি ভোটের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদের ভোট ছিল একটি। যদি উনি ভোট না দিতেন, তাতেও কি সিদ্ধান্ত পাল্টাত?
     
    তাছাড়া সে সময় শ্যামাপ্রসাদ এমন কোনো বড়ো মাপের নেতা ছিলেন না, যার কথায় সবাই উঠবোস করেছে! বস্তুত বাংলাভাগের নাটের গুরু ছিলেন গান্ধি, নেহেরু, প্যাটেলরা। তাঁরা মনে করেছিলেন বাংলা ভাগ না-হলে পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষিত হত না। গান্ধি, নেহেরু, প্যাটেলরা ছিলেন পুঁজিপতিদের গোলাম। তাই নেহেরু ও প্যাটেলরা চেয়েছিলেন, পশ্চিম বাংলাকে কিছুতেই ভারত থেকে আলাদা হতে দেওয়া যাবে না এবং সেটাকে সর্বশক্তি দিয়ে আটকাতে হবে। কারণ কলকাতায় সকল পুঁজিপতিদের ব্যবসা ছিল। তাঁদের স্বার্থে কিছুতেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা তাঁরা মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। শ্যামাপ্রসাদ ওদের ভাবনার সঙ্গে সহমত ছিলেন বলে তিনিও পোঁ ধরেছিলেন। সেই কারণেই পুরস্কার হিসাবে জওহরলাল নেহেরু তাঁর মন্ত্রীসভায় শ্যামাপ্রসাদকে স্থান করে দিয়েছিল। টাটা, বিড়লা, গোয়েঙ্কা, বাজাজদের স্বার্থ রক্ষিত হল বটে, কিন্তু উভয় সম্প্রদায়ের মানুষদের কপাল পুড়ল। যারা বলে বাংলাভাগের মধ্য দিয়ে হিন্দুদের নিজের দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা নির্জলা মিথ্যা কথা বলে। যাদের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ইতিহাস নেই, তারা এসব মিথ্যাচার করে শ্যামাপ্রসাদকে মহিমান্বিত করে।

    ২০ জুন কোনও উৎসব বা আনন্দের দিন হতে পারে না। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও বঙ্গভঙ্গের সেই অধ্যায়টি বাঙালির ইতিহাসে অত্যন্ত বেদনাদায়ক, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু হওয়া, ঘরবাড়ি হারানো এবং রক্তক্ষয়ী যন্ত্রণার স্মৃতি বহন করে। ২০ জুনের ভোটাভুটি ছিল মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার অধীনে দেশভাগের সিদ্ধান্তে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সিলমোহর মাত্র। একে আলাদা করে উদযাপন করার মতো কোনও ঐতিহাসিক কারণ নেই। বরং এটি ‘আত্মঘাতী বাঙালির লজ্জার দিন’।

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Jayanta Chatterjee | ২০ জুন ২০২৬ ১৯:২৯741319
  • আপনি অনেক কিছু লিখে ফেললেন কোন রকম তথ্য সূত্র না দিয়ে- জয়া চট্টোপাধ্যায় এর বই ছাড়া কোন সূত্র নির্দেশ নেই- হিন্দু পত্রিকার কোনো সাল তারিখ নেই- শুধু অজস্র মন্তব্য।
     
    অনুরোধ- প্রতিটি তথ্য এবং মন্তব্য এর সমর্থনে নির্দিষ্ট এবং সঠিক তথ্য সূত্র দিন না হলে এই লেখাকে আপনার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো- ইতিহাস হিসেবে নয়।
     
    একটা উদাহরণ দিলাম - "গান্ধি কিন্তু কিরণশঙ্কর রায়কে কথা দিয়েছিলেন, বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার ব্যাপারে তিনি কিছু করবে না। কিন্তু তিনি তলে তলে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার পক্ষেই কাজ করেছিলেন।" - তথ্য হলে সূত্র দিন - আপনার ব্যক্তিগত মতামত হলে অবশ্য সে দায় নেই।
  • Lekhoker baap | ২০ জুন ২০২৬ ২০:২৩741320
  • এই প্রবন্ধের লেখক একজন বিশুদ্ধ খানকির বাচ্চা | কোনো ইসলামিক রেন্ডিখানায় এর জন্ম | একে পিছনে লাথি মেরে বাংলাদেশে পাঠানো হোক |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন