• হরিদাস পাল  গপ্পো

  • ভালোবাসার চকোলেট

    Sangrami Lahiri লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ৩১ আগস্ট ২০২০ | ৫০১ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • গলানো চকোলেটে পাক দিতে দিতে লুকাস নাক সিঁটকালো, "ওগুলো আবার চকোলেট? তাহলে তো আরশোলাও পাখি!"
    লুকাস মানে লুকাস পেটার্স| ডাচ অ্যাকসেন্টে বললে শোনাবে 'পেতার্স’ | বেলজিয়ামের ব্রাসেলস অঞ্চলের পুরুষানুক্রমিক বাসিন্দা| চকোলেট বানানো যার জাতব্যাবসা| পেটার্স চকোলেট যাদের পারিবারিক চকোলেটের দোকান|
    লুকাসের বাবা ফিলিপ পেটার্স, তস্য পিতা ভিলহেল্ম, তস্য তস্য পিতা হেনড্রিক...তার পর আর মনে নেই| মোদ্দা কথা ব্রাসেলস ছাড়িয়ে পেটার্সদের হাতের গুণের কথা নিউইয়র্কেও পৌঁছেছে|
    ইউরোপ ঘুরতে যাচ্ছি শুনে নিউইয়র্কের নোয়েহাউস চকোলেটের দোকানদার আমায় বলে দিয়েছিলো, "ব্রাসেলস গেলে পেটার্সদের চকোলেটের দোকানে ঢুঁ মেরে এসো অতি অবশ্যই|"
    নোয়েহাউস হল পৃথিবীবিখ্যাত বেলজিয়ান চকোলেট-শিল্পী| এরাই 'প্রলিন' নামক পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্যের জন্মদাতা| গোল গোল প্রলিন চকোলেট| বাইরেটা শক্ত আর ভেতরে তুলতুলে নরম|
    তাই নোয়েহাউসএর উপদেশ শিরোধার্য করতেই হয়|
    অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে এসেছি লুকাসের বাড়ি কাম ফ্যাক্টরি দেখতে| আর এসেই লুকাসের এরূপ অপমানে আমি যারপরনাই মর্মাহত|
    তাও বলার চেষ্টা করলাম, "কেন, বেশ তো লাগে খেতে!"
    চোখে ভাসছে শপিংমল থেকে কেনা বাজার চলতি নামী ব্র্যান্ডের চকোলেটের লাল-সাদা-সোনালী-রূপোলী বাক্স| যা আমি কস্টকো থেকে প্রতি ডিসেম্বরে দিস্তে দিস্তে কিনি| কিনি আর বিলোই| সাধে কি আর পুঁচকেগুলো আমায় এতো পছন্দ করে? আর সেইসঙ্গে তাদের মা-বাবারা আমায় দু'চক্ষে দেখতে পারে না! সে যাকগে, ওই মা-বাবাদের আমার থোড়াই কেয়ার| ওদের কাজই হলো শিশুমনকে আঘাত দেওয়া| আমি মোটেও অমন নিষ্ঠুর নই|
    যে কথা হচ্ছিলো, আমার অর্বাচীন মন্তব্য শুনে লুকাস কিছুক্ষণের জন্যে হাতের কাজ থামিয়ে আমার দিকে চেয়ে রইলো|
    তারপর খুবই স্নেহের সঙ্গে তার কন্টিনেন্টাল অ্যাকসেন্টের ইংরেজিতে যা বললো তার মর্মার্থ হলো এই - "ওহে অর্বাচীন, শোকোলেতের (chocolatier) যখন তার দুখানি হাতের জাদুতে চকোলেট বানায়, তার কাজ শুরু হয় সেই কোকা বিন থেকে| এ সব কি আর অ্যাসেম্বলি লাইনে তৈরী হয়?"
    আমার জননী রন্ধনশিল্পে সেই কবেই পিএইচডি করে ফেলেছেন| ইউরোপে তিনি আমার সফরসঙ্গী| দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চকোলেটে পাক দেওয়া দেখছিলেন| এবং মনে মনে নির্ঘাত নিজের সিগনেচার নাড়ুর পাকের কথা স্মরণ করছিলেন| নতুন যে কোনো রন্ধনপ্রণালী এবং তার খুঁটিনাটিতে তাঁর অদম্য উৎসাহ| এবার তিনি উৎসুক, "কিরকম?"
    লুকাস জানালো, তার কোকা বিন আসে ভেনেজুয়েলার ক্যারিবিয়ান সমুদ্রতীর থেকে, চুয়াও প্ল্যান্টেশন| কোকা বিন পাকলেই চুয়াও প্ল্যান্টেশনএর মালিক চাষী লুকাসকে খবর দেয়| পাকা বিন ফাটিয়ে তার থেকে নরম শাঁসটি বার করে জলে ফেলতে হবে, ফার্মেন্টেশনএর জন্যে | আর সেখান থেকেই লুকাসের কড়া নজরদারি শুরু হয়|
    লুকাস জলের মতো করেই সে জলে-ফেলার-কাহিনী বুঝিয়ে দিল, "তুমি যদি পাঁচদিন জলে রেখে কোকা বিনকে দুবার ওল্টাও, তাহলে একরকম টেস্ট, আবার সাতদিন রেখে তিনবার ওল্টালে আর এক রকম| এই যে - চেখে দ্যাখো|"
    দুরকম চকোলেটের বড়ি ধরাল হাতে|
    আমি কিস্যু বুঝলাম না| আমার আমেরিকান-চকোলেট-খাওয়া, ভোঁতা জিভে সব একরকম|
    আমার জননী কিন্তু বুঝেছেন| তাঁর মুখচোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো| স্বাদের তফাৎটা ধরতে পেরেছেন| রন্ধনশিল্পী বলে কথা!
    ঘাড় নাড়লেন, "ঠিক ঠিক, নারকোল যেমন পাকতে শুরু করলে একরকম স্বাদের নাড়ু, আবার পুরো পাকলে আরেকরকম স্বাদ| বেশি ঝুনো হয়ে গেলে আর ভালো নাড়ু হয় না| তার জন্যে আছে আলাদা রান্না|"
    লুকাস বলে চললো, "তারপর তাকে রোদে শুকোতে হবে| তার জন্যে চাই ক্যারিবিয়ানের সূর্য| যে সূর্যের উত্তাপে পুড়ে কালো চামড়া থেকে আলো ঝলকায়, সেই রোদই আমার চাই| তবেই না আমার মনমতো চকোলেট হবে|"
    জননী বললেন,"কেয়াবাত, কেয়াবাত|"
    বুঝলুম, এক গুণী আরেক গুণীর কদর করছেন|
    লুকাস বললো, "এরপর সে কোকা বিন বস্তাবন্দী হয়ে আসে সোজা এই বেলজিয়ামে, আমার জিম্মায়| এখান থেকে শুরু আমার হাতের কারিকুরি|"
    বলে লুকাস উঠলো| বাড়িতেই ওর চকোলেট বানানোর সব যন্ত্রপাতি, সাজ-সরঞ্জাম| সেগুলো ঘুরিয়ে দেখাবে| স্পেশাল ট্রিপ| তার সঙ্গে স্বহস্তে চকোলেট বানিয়ে অবাক করে দেবে| হ্যান্ড-মেড চকোলেট| তার স্বাদের তুলনা নেই| আর সে রেসিপিও ইহধামে শুধু পেটার্স চকোলেট-শিল্পীদের কাছেই আছে|
    অ্যাসেম্বলি লাইনের প্রথমেই ইয়া দুই রোস্টিং মেশিন| পুরোনো কিন্তু বেশ মজবুত| কোকা বিনদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রোস্ট করছে|
    সগর্বে জানালো, "আমার দাদুর রোস্টিং মেশিন| বংশানুক্রমে চলে আসছে| এই রোস্টিংটা খুব ইম্পরট্যান্ট, বুঝলে? ভালো করে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে করতে হয়| এবার মাতৃগর্ভ থেকে বেরোনোর পালা| চকোলেটের জন্ম হবে কোকা বিনের গর্ভ থেকে| জানোই তো চকোলেট কেমন সুখী, নাজুক| তাই তার জন্যে চাই নরম, আদুরে ঠান্ডা| ঠিক যেমনটি এই ব্রাসেলস|"
    বলেই আমার দিকে তাকালো, "তোমার পছন্দের চকোলেট কোম্পানিগুলো এই রোস্টিংএর কাজটি করিয়ে আনে কোকা বিনের ফার্ম থেকে| সেখানে চল্লিশ ডিগ্রির গরমে সে চকোলেটের কি অবস্থা হয় ভেবে দেখো একবার| ছ্যা ছ্যা, 'schande' 'schande'... "
    আমি যে লজ্জায় কোথায় মুখ লুকোবো বুঝে পাই না|
    জননী উৎসুক| পুরো প্রণালী জানতে চান| পারলে কিছু কোকা বিন ব্যাগে ভরে কলকাতায় নিয়ে যেতে চান| যদি চকোলেট বানানো যায়!
    আমাদের বেলজিয়াম ভ্রমণকালে ব্রাসেলসে থাকার সময় লুকাসের সঙ্গে দিব্যি বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিলো| সব মিলিয়ে বার তিনেক গেছি ওর বাড়ি|
    ওর ছেলে অ্যাডামকে বিচ্ছু বললে কম বলা হয়| হাই স্কুলে পড়ে| বেলজিয়ামের নিয়ম আঠেরো বছর পর্যন্ত তোমায় ইশকুলে যেতেই হবে| তা সে পৃথিবী উল্টে গেলেও আচ্ছা| সেইজন্যেই বোধহয় ব্রাসেলস হাইস্কুল ওর সব অত্যাচার সহ্য করে| এ সবই শোনা লুকাসের বৌ মারিয়ার কাছে| ছোটোখাটো মেয়ে, জাতে আর্জেন্টিনিয়ান|
    শুধিয়েছিলুম, "অ্যাডাম চকোলেট বানানো শিখতে চায় না?"
    লুকাসের মুখ পলকের জন্যে মেঘময়, "নাঃ, বাপঠাকুদ্দার ট্র্যাডিশন নিয়ে ওর কোনো মাথাব্যথা নেই| এই আমার সঙ্গেই বোধহয় পেটার'স চকোলেটও শেষ হয়ে যাবে|"
    মারিয়া তাড়াতাড়ি বলে, "আহা, ওকে একটু বড়ো হতে দাও আগে, তবেই না...."
    সেবার ইউরোপ ট্রিপে আমাদের বেশ কয়েকটি বন্ধুলাভ হয়েছিল| লুকাস তাদের মধ্যে অন্যতম|
    আমার জননীর ওপর লুকাসের আলাদা টান| এক রন্ধনশিল্পীর প্রতি আরেক শিল্পীর প্রাণের টান| লুকাসের সঙ্গে জননীর নারকেল নাড়ুর পাকপ্রণালী আর চকোলেটের রেসিপি নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ চলতো| জননী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন লুকাস কলকাতায় গেলে তাকে অন্তত দশরকম নাড়ু বানিয়ে খাওয়াবেন|
    তা সে সুযোগ আসার আগেই এসে গেল ক্রান্তিকাল|
    মার্চ-এপ্রিল মাসে ইস্টারএর ব্যবসা জমে ওঠে| চকোলেটিয়ারদের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়| ইস্টার খরগোশ আকৃতির চকোলেটের এতো চাহিদা থাকে যে তারা যোগান দিয়ে উঠতে পারে না| এবার সেই চাহিদা বিলকুল হাপিস| লোকে প্রাণ বাঁচাবে না চকোলেট খাবে?
    লুকাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল| খোঁজ নিতো আমার মায়ের| ভারতে সংক্রমণের হার তখন কম - নিশ্চিন্ত হতো শুনে| লকডাউনে চকোলেটের বিক্রি বন্ধ তাই রোজগারপাতিও নেই| ব্যাংকে জমানো টাকা ভেঙে চলছিল ওদের| অ্যাডামের স্কুলও বন্ধ| কিন্তু সুস্থ ছিল তিনজনেই| বেলজিয়ামে যখন সংক্রমণ তুঙ্গে, ওরা নিজেদের কড়া আইসোলেশনে রেখেছিলো| তারই সুফল|
    এমন করেই ভালোয় মন্দয় কাটছিলো সময়|
    তারপর একসময় সংক্রমণ কমলো| বেলজিয়ামে দোকানপাট খুলতে শুরু করলো| সামনেই একুশে জুলাই, বেলজিয়ান ন্যাশনাল ডে| চকোলেটের অর্ডার আসতে শুরু করলো| দিনকাল যখন সবে একটু স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে, লুকাস পড়ে গেল করোনার কবলে|
    শুনে আমি হতভম্ব! অ্যাদ্দিন কিছু হলো না, শেষকালে এখন?
    মারিয়া জানালো, লুকাস গেছিলো অ্যান্টওয়ার্প| কোকা বিন এসেছে ভেনেজুয়েলা থেকে| এই বন্দর দিয়েই গোটা বেলজিয়ামের চকোলেট শিল্পের কাঁচামাল কোকা বিন ঢোকে| লকডাউনের পর কোকা বিন ভর্তি প্রথম জাহাজটি এসে ভিড়েছে অ্যান্টওয়ার্পএর বন্দরে| তারই ডেলিভারি নিতে গেছিলো লুকাস|
    ফিরে এসে গলায় ব্যথা, জ্বর নিয়ে শয্যাশায়ী| টেস্টে কোভিড পজিটিভ বেরিয়েছে, তাই সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে কোয়ারান্টাইন| বেসমেন্টে থাকছে লুকাস| মারিয়া রীতিমতো মাস্ক, শিল্ড পরে তার কাছে খাবার পৌঁছতে যায়| ডাক্তার বলেছে পুরোপুরি বেড রেস্ট|
    এদিকটা সামলে নিলেও কিন্তু সমস্যা হয়েছে অন্যদিকে|
    কাজপাগল লুকাস বিছানা থেকে চিঁচিঁ আর্তনাদ করেই যাচ্ছে, "ওরে আমার কি সব্বোনাশ হলো রে!"
    ব্যাপারটা এই| টানা তিনমাস দোকান বন্ধের পর লুকাস সবে একটা বড় অর্ডার পেয়েছিলো| বেলজিয়ান ন্যাশনাল ডে আগতপ্রায়| ট্র্যাডিশন মেনে প্রতি বছরই বেলজিয়ান রাজবাড়ী থেকে বিখ্যাত চকোলেটিয়ারদের কাছে চকোলেটের অর্ডার যায়| লুকাস অনেক বছর ধরেই রাজা-রানির চকোলেট বানায়| সে বিছানায় পড়ে যাওয়ায় এবারের অর্ডার তো সোজা নর্থ সি-র জলের তলায়! লুকাসের কাছে তা মৃত্যুতুল্য|
    আমি মারিয়াকে সান্ত্বনা দিয়ে বললুম, "পরের বছর বানাবে'খন| আগে সুস্থ হয়ে উঠুক| সেটাই এখন সব চেয়ে বড়ো কথা|"
    দিনকয়েক আগে ভাবলুম খবর নিই আরেকবার| কেমন আছে, সারলো কিনা| বেলজিয়ান ন্যাশনাল ডে পেরিয়ে গেছে, রাজবাড়ীর চকোলেটের অর্ডার ক্যানসেল করেছে নিশ্চয়ই| আহা রে!
    ভিডিও কলে লুকাসের মুখে একগাল হাসি| চুলগুলো বড়ো হয়ে গেছে, রোগাও হয়েছে| অসুখটা ভালোই ভুগিয়েছে| কিন্তু চোখমুখ উজ্জ্বল|
    "রাজবাড়ীতে ঠিক সময়ে চকোলেট ডেলিভারি হয়েছে|"
    পিছন থেকে মারিয়া উঁকি মারছে| তারও মুখে হাসি|
    আমি তো তাজ্জব, "তবে যে শুনলুম তুমি মাথা তুলতে পারছিলে না?"
    "সে তো বটেই, মনে হতো যেন মাথাটা ডুবে আছে জেনে (Zenne) নদীর জলের তলায়| মুখে স্বাদ ছিল না, জিভখানা যেন বিষ তেতো | নাকে গন্ধও পেতুম না| সর্বাঙ্গে ব্যথা| উফফ, এমন অসুখ যেন শত্তুরেরও না হয়|”
    আমি আরও আশ্চর্য, "তাহলে রাজকীয় চকোলেট বানালো কে? ভূতের খোকারা?"
    একচোখ বন্ধ করে বললে, "বুঝিয়ে বলো|"
    উপেন্দ্রকিশোরের গল্পে মুচির বাড়িতে রাতে ভূতের খোকারা এসে জুতো সেলাই করে যেত - সে শুনে খানিকক্ষণ হাহা করে হাসলো|
    "বেড়ে গল্প, খাসা গল্প| তা আমার বাড়িতে ভূতের খোকারা না থাক, পেটার্স খোকা তো আছে!"
    এবার আমার পালা, "বুঝিয়ে বলো|"
    একগাল হেসে বললো, "অ্যাডাম আছে না? বাপকা বেটা| আমার শরীর খারাপ দেখে বললো, 'ন্যাশনাল ডে তে রাজবাড়ীতে চকোলেট যাবে না? তাও কি হয়?' ব্যাস, লেগে পড়লো কোকা বিন নিয়ে| ওই যে, যেগুলো আনতে আমি অ্যান্টওয়ার্প গেছিলুম|"
    আমি আরও অবাক, "তবে যে তুমি বলেছিলে অ্যাডামের শেখার কোনো ইচ্ছে নেই?"
    এবার মারিয়া হাল ধরলো, "আমি তো বরাবর লুকাসকে বলতাম, ওকে একটু সময় দাও, দেখবে ও-ও তোমার মতোই চকোলেটিয়ার হবে| বাপ-ঠাকুদ্দার রক্ত যাবে কোথায়?"
    লুকাস মিটিমিটি হাসছে, "তা ঠিকই বলেছে মারিয়া| অ্যাডামের হাতের গুণ আছে| একেবারে পেটার্সদের রেসিপি মেনে চকোলেট বানিয়েছে| কে বলবে, ওটা আমার বানানো নয়?"
    মনে পড়লো, গতবছর লুকাস আমাদের চকোলেট-মেকিং দেখিয়ে শেষে বলেছিল, "সবার শেষে মেশাতে হয় আরেকটা জিনিস| ওটা ছাড়া চকোলেট তৈরী করা যায় না| কি বলো দেখি?"
    নিজেই উত্তর দিয়েছিলো, "ভালোবাসা|"
    আজ বুঝলাম, সেই ভালোবাসার বীজ অ্যাডামের মধ্যেও চারিয়ে গেছে| পেটার্স চকোলেট তার স্বমহিমায় বিরাজ করবে আরও অনেক অনেক বছর|
    ***টেকটাচটকে প্রকাশিত
  • বিভাগ : গপ্পো | ৩১ আগস্ট ২০২০ | ৫০১ বার পঠিত
আরও পড়ুন
রুটি - Rumela Saha
আরও পড়ুন
কাঠাম - Rumela Saha
আরও পড়ুন
বিভাব - Avi Samaddar
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রাজর্ষি রায়চৌধুরী | 80.194.86.114 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৫:৩৭96859
  • এইজন্যই কবি গাহিয়াছেন, "বাসনার সেরা বাসা রসনায়....."

  • kk | 97.91.195.43 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:৫৯96864
  • ভালোবাসার লেখা।
  • dc | 103.195.203.12 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৯:১৩96865
  • বাহ কি অসাধারন লেখা, কি সুন্দর গল্প! এই চকোলেটের নাম শুনিনি, বর্ণনা পড়ে ভারি লোভ হলো। লেখককে অনেক ধন্যবাদ।
  • অনিন্দিতা | 103.87.56.53 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১:৫১96868
  • ভালবাসায় মোড়া চকোলেটের স্বাদ ছেয়ে গেল মনেও। চকোলেটের প্রসঙ্গে নাড়ুর আলোচনাটি ভারি মনোরম। এমনি পরম মমতায় আমাদের মায়েরা পিঠেপুলি বানিয়ে এসেছেন চিরটাকাল। সুযোগ আর সামাজিক প্রচলনের অভাবে তা পেটার্স-এর মতো নাম হয়ে উঠতে পারে নি। 

  • / | 2405:201:c802:ff9d:adab:744a:a287:b039 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:৪০96872
  • এত বার ব্রাসেলস গেছি জানতাম না। গোদাইভায় গেছি কিন্তু এইখানে জাইনি। যেতে হবে - দারুণ সুন্দর গল্প
  • | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫:০৮96874
  • আহা অতি সুস্বাদু লেখা। এই চকোলেটের কথা তো জানতামই না।

    ব্রাসেলসে গোডিভা গ্র্যান্ড প্লেস ছিল আমার আপিসের এক স্টপেজ পরেই। প্রতি সপ্তাহে একদিন ওরা ছাঁটকাটগুলো সস্তায় বিক্রি করত সেদিন যেতাম। ব্রাসেলস থেকে ফেরার সময় ৫ কিলো চকোলেট এনেছিলাম।

    নাড়ুর সাথে তুলনা করাটা দারুণ লাগল। একইভাবে দুধের কোয়ালিটি, ক্ষীরের পাক অনুযায়ী বিভিন্ন পিঠের স্বাদের ফারাক হবার কথা বাড়িতে শুনতাম।
  • রঞ্জন | 182.69.147.189 | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:১১96878
  • কেয়াবাৎ কেয়াবাৎ! কেমন মুজতবা আলীর কথা মনে পড়ল। আরো হোক ।

  • অমিত সেনগুপ্ত | 106.201.54.228 | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:০৯96896
  • দারুণ লেখা। এই লেখিকার লেখা প্রথম পড়লাম আর ধুপ করে পড়লাম - তাঁর লেখার প্রেমে। এমন লিখতে গেলে মুনশিয়ানা লাগে। 

    লেখিকার নাম তো খুব কমন নয়। ঘটনাক্রমে আমার স্ত্রী কেয়া এইরকম নামের একজনের কথা বলতেন কলকাতার সল্টলেকের এ-ডি ব্লকের বোধহয়। নব্বইয়ের  দশকের প্রথমার্ধের কথা। আমরা এ-ই ব্লকের। ইনি তিনি কিনা কে জানে। 

  • Sangrami Lahiri | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:৫৯96913
  • @অমিত সেনগুপ্ত - পৃথিবী গোল | সল্টলেকের AD ব্লকে দীর্ঘদিনের বসবাস ছিল | লেখা ভাল লেগেছে জেনে খুব খুশি |

  • Sangrami Lahiri | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৫৩96914
  • @দ, অনিন্দিতা - নাড়ু, পিঠে সবেতেই ছড়িয়ে আছে এমন ভালোবাসার গল্প | ভালো লাগলো আপনাদের মন্তব্য | 

  • Sangrami Lahiri | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৫৬96915
  • @রঞ্জন - এমন মন্তব্যে আমি ধন্য | আমি তাঁর আশৈশব একনিষ্ঠ ভক্ত | যখন দেশ ছেড়েছি, সুটকেসে ছিল গোলাপীরঙা চারখন্ডের রচনাবলী |

  • Sangrami Lahiri | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৫৯96916
  • সব মন্তব্যের লেখক আর পাঠকদের অনেক ধন্যবাদ | এমন করেই পাশে থাকবেন | প্রায় প্রতি সপ্তাহেই একটি করে লিখি | পড়লে খুব খুশি হবো |

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন