এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ভালো মিডিয়া

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    ২৬ জুলাই ২০২৬ | ২৫ বার পঠিত
  • একটু আগে দেখলাম, সবেধন 'বাম' বিধায়কও বিজেপির বিধায়কদের সঙ্গে কালো ব্যাজ লাগিয়ে হাঁটছেন। 'সাংবাদিক নিগ্রহ'এর প্রতিবাদে। উনিও 'ভালো' হয়ে গেছেন, কিনা এখনও জানিনা। কিন্তু এই সুযোগে দলে দলে বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্রের মতো সাংবাদিকের জন্ম হচ্ছে চারদিকে, আর তাঁরা বিষ ছড়িয়ে চলেছেন। কোনো রাখঢাক নেই। মুখ্যমন্ত্রী আকারে ইঙ্গিতে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছেন। বিখ্যাত 'সাংবাদিক' ময়ূখরঞ্জন ঘোষ খোলাখুলি লিখেছেন, মিছিলে 'গোলমাল' নাকি করেছে 'দুধেল শুক্রবাড়ি গ্যাং'। এতেও একটা বানান ভুল। এবং গ্রেপ্তার অতি অবশ্যই কেবল এবং কেবলমাত্র সংখ্যালঘুরা। তথাকথিত সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিকারই হচ্ছে বটে। এছাড়াও তিনি গর্ব করে আরও জানিয়েছেন, যে, নরেন্দ্র মোদির ছবিতে আগুন লাগানোর জন্য একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেশে কোনদিন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বা প্রধানমন্ত্রীর ছবি বা কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়া বেআইনী হল, এই প্রশ্ন করার সাহস অবশ্য বিদ্যাসাগর কলেজের কোনো 'সাংবাদিক'এর হয়নি। হবেও না। তাঁরা ডিম-পাথর ছোঁড়া, নিগ্রহ করাকে 'জনরোষ' বলে উদযাপন করেছেন, এবার কুশপুত্তলিকা জ্বালানোয় গ্রেপ্তারকে 'কী ভালো কী ভালো' বলে লাপাবেন, বিজেপি যখন স্পনসর করবে তখন বাক-স্বাধীনতার পক্ষে মিউ মিউ করে জ্বলে উঠবেন, ছাতার মাথা ডিম্মিডিয়ার বেচারি কর্মীদের কাছে শিরদাঁড়া বলতে এর চেয়ে বেশি কেউ কিছু আশাও করেনা।

    কিন্তু বামদের কাছে এর চেয়ে বেশি প্রত্যাশা ছিল নিঃসন্দেহে। কারণ, এক, সিপিএমের লাহেক আলি এখনও বন্দী, তাঁর জন্য মিছিল হয়েছে, বামরাই করেছেন। দুই, 'ভালো তৃণমূল' আর সিপিএম ছাড়া কাউকে রাজ্য সরকার মিটিং মিছিলের অনুমতি দিচ্ছেনা। পরশু আরশোলাদের দেয়নি। কাল তৃণমূলকে দেয়নি। এটা বিজেপির কৌশল, বামদের সেই সুযোগ কাজে লাগানোই উচিত। লাগাচ্ছেনও, এবং একদম ঠিক করছেন। কিন্তু সেটার বিনিময়ে কৃতজ্ঞতাবশত যদি বিজেপির সঙ্গে কালো ব্যাজ লাগিয়ে হাঁটতে হয়, তাহলে ঋতব্রতর সঙ্গে মোস্তাফিজুরের একবিন্দুও তফাত থাকেনা।

    স্বাধীন বামঘেঁষা মিডিয়ার লোকজনের কাছেও এর থেকে বেশি প্রত্যাশা ছিল। তাঁরা আমতা আমতা করছেন। অথচ কথা পরিষ্কার ছিল। গোদি মিডিয়ায় আদৌ কোনো সংবাদমাধ্যম না। তার মানে এই নয় যে তাদের ধরে ঠেঙিয়ে দেওয়া যায়। ওটার নিন্দে হওয়াই দরকার। কিন্তু ওইটুকুই। তার বাইরে, খুব স্পষ্ট করে বলা দরকার, এক, এর চেয়ে অনেক বড় বড় হিংসার ঘটনা গোটা দেশ জুড়ে এই আন্দোলনে ঘটেছে, সরকারপক্ষ একতরফা ভাবে ঘটিয়েছে। জুনেইদ বলে একটি ছেলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ছিল যন্তর মন্তরে, অভিযোগ, বহু দূরে উত্তরপ্রদেশে তার বাড়ির লোক, এমনকি বোনের শ্বশুরবাড়ির লোককেও পাকড়াও করা হয়েছে, স্রেফ সাম্প্রদায়িক জিগির দেবার জন্য। বিহারে পুলিশ খোলা বন্দুক হাতে গুলিয়ে চালিয়েছে গতকালও। দিল্লিতে পেলেট গানে আহত করেছে ছেলেমেয়েদের। এসব ছেড়ে দিয়ে, কোথায় দুটি মাথা গরম ছেলে দুজন সাংবাদিক নামধারীকে হেনস্থা করেছে, তাও খালি হাতে, নিঃসন্দেহে সেটাও অনুচিত কাজ, কিন্তু তার গুরুত্ব বেশি হল? ডিম-পাথর-নিগ্রহকে এঁরা 'জনরোষ' বলে চালিয়েছিলেন, সাংবাদিকতার নাম করে ন্যক্করজনক ভূমিকা পালন করেছেন, সেসব কী ভুলে যেতে হবে নাকি?

    এই সমস্ত কিছু নিয়ে কিন্তু দিল্লিতে আলোচনা হয়েছে। ছাত্রদের শর্ত সরকার মেনে নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যে, আন্দোলন সংক্রান্ত সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে। তার মধ্যে সেদিনের মিছিলের এফআইআরও আছে। সেটা কোনো দয়া দাক্ষিণ্য না। এবং সেই প্রতিশ্রুতি না মেনে সাড়ম্বরে গ্রেপ্তার চলছে। খুব স্পষ্টত পশ্চিমবঙ্গ সরকার দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। সম্পূর্ণ উল্টোদিকে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিচ্ছেন 'শুক্রবারি' দের নিয়ে, এবং নতুন করে ধরপাকড় শুরু করেছেন। দিল্লির প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যে প্রমাণ করছেন। তিনি কি আজকাল 'মোদির গ্যারান্টি' মানছেন না? আরেক দফা আন্দোলন শুরু হলে কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধান না, হয়তো তাঁর পদই চলে গেল।

    এই কথাগুলো সজোরে না বলার অর্থ কিন্তু একটাই। সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে তোল্লাই দেবার রাস্তা খুলে দেওয়া। আসলে মাথার মধ্যে এখনও ঢুকে বসে আছে, ওরে বাবা ওরা হল প্রতিষ্ঠান। সংবাদের বড়দা। ডিলার এবং হোলসেলার। তা কিন্তু আদৌ না। এই বিরাট আন্দোলন প্রমাণ করে দিয়েছে ওদের কেউ পোঁছেনা। চাট্টি বুড়ো লোক ছাড়া কেউ দেখেও না। গোদি-মিডিয়া আসলে যে সংবাদ-প্রতিষ্ঠান, এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। হ্যাঁ, সকলেরই কিছু পরিচিত লোকজন ওখানে কাজ করেন, সে তো নানা কোম্পানিতেই করেন, তা বলে সেই কোম্পানিগুলোকে মাথায় তুলে রাখতে হবে নাকি? গোদি মিডিয়াকে সম্পূর্ণ দুধেভাতে করে দিন, এবং সর্বাঙ্গীণ বয়কট করুন। আমি তো প্যানেলিস্টদেরও যেতে বারণ করব, যদি যানও, অনুগ্রহ করে সেগুলো এসে সমাজমাধ্যমে শেয়ার করবেন না। আর স্বাধীন মিডিয়াকে বলব, সব্বাইকে বলব, কারণ, আমরা সবাই এখন মিডিয়া, আপনারা যদি এই পুরোটাতে একটুও আমতা-আমতা করেন, তার মানে কিন্তু একটাই। আপনাদের কথাগুলো মানুষের কানে পৌঁছবেনা। ওদের যন্ত্র ঠিকই কাজ করছে, সাম্প্রদায়িক বিভাজনটা কিন্তু ঠিকই পৌঁছবে। মুস্তাফিজুর যা খুশি করুন, সিপিএম-তৃণমূল-আপ-কংগ্রেস নিজের লাইনে চলুক, আপনি এইটাই চান কিনা সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন