• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা  শনিবারবেলা

  • কাদামাটির হাফলাইফ

    ইমানুল হক
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ | ৫১৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • আরে, কাদা না থাকলে মানুষ তো বেঁচেই থাকতে পারতো না। শস্য সব্জি কিছুই কি তেমন মিলত? ফুল ফল অনেক কিছুই? কাদা আর বালির মিশেলেই তো জীবনের যত মার প্যাঁচ।

    পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের গ্রামজীবনের স্মৃতিচিত্রণ।


    পর্ব ৪৬

    শীতকালে সকালে পিঠে হত। পুলি কম। যতদূর মনে পড়ে 'পুলি' শব্দটা সেভাবে আমাদের গ্রামে চালু ছিল না। তবে 'পুলি' কি হত না? হত। তার নানা নাম। গোঁজা, সরু চাকলি, গুড় পিঠে। এইরে ঠিক বললাম না, মনে পড়েছে। পুলি ছিল। ছিল। ছিল। দুধ পুলি। চন্দ্রপুলি।

    পিঠে বর্ণনা থাক। আগে একটু বলেছি। তবে চিতই পিঠে বা আঁসকের নাম বলতেই হবে। আজ গেলাম, মাটির খোলা কিনতে। দোকানদার নেই। তিনি গেছেন বিরাটি। আঁসকের খোলা দেখলাম দু'রকম। পাশের দোকানদার আমার দেশের মানুষ। জিজ্ঞেস করলেন, আপনি বাঙাল না এদেশি? বললাম। কিন্তু কেন? বললেন, বাঙাল হলে চারটে খোপওলা খোলা নেয়। এদেশীয়রা একটা বড়ো আঁসকের মাপে। কত কী জানার ও শেখার আছে!

    শীতকালে রোজ পিঠে খেতে ভাল লাগত না। এদিকে বাবার ও বাবার ভক্তদের পিঠে পসন্দ। আমার ঝোঁক পিঠে ছাড়াও মুড়িতে।

    মুড়ি খেতাম লিকার চায়ে ডুবিয়ে। নাম ছিল, র চা। জামবাটি ভর্তি গরম চায়ে মুড়ি লেড়োকে স্নান করিয়ে খাওয়ার কী আনন্দ। কী সুন্দর গন্ধ ছাড়ত। তারপর তো চা খাওয়াই ছেড়ে দিলাম। মুড়ি খাওয়ার জন্য আরেকটি জিনিস হত। বরবটি সেদ্ধ। শুকনো বরবটি ডাল গোলমরিচ আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে অল্প জলে সেদ্ধ করে খোলায় ভাজা মুড়ি দিয়ে খেয়ে দেখবেন। আমরা যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি, 'কিশোর জগৎ' কাগজে পড়লাম, বর্ধমান বিজ্ঞান মেলায় একজন মুড়ি ভাজা মেশিন বানিয়েছে। সুব্রত নাম। মাস্টারমশাইরা বিজ্ঞান মেলা দেখাতে নিয়ে গেলেন। মুড়ি ভাজা- মেশিনে? কী ভিড় দেখতে। এখন ঢেঁকিতে মুড়ি ভাজার চাল ভাঙাতে বা খোলায় মুড়ি ভাজা দেখতে ভিড় হবে!

    ৪৭

    মুড়ি নিয়ে কত কথাই তো আছে। এই কথাগুলোও থাক।
    -আমরা কি গরিব হয়ে গেছি মা?
    -কেন বললি?
    -না সকালে রুটি দিচ্ছ। রুটি তো গরিবরা খায় মা।
    -ওরে রুটি খাওয়া ভাল। শরীর ঠিক থাকে। তাছাড়া তোর বাপ এত গম চাষ করেছে। গমের দাম নাই। নষ্ট হবে। খেয়ে নে। আরেকটু আলু-ভাজা আর গুড় দিচ্ছি।

    আমি কিছু বলি না। চুপ করে যাই। পরের দিন খাবার নিয়ে বাইরে পাঁচিলের ধারে বসি। জামু আসবে। কাল কথা হয়ে গেছে। ও রুটি খেতে ভালবাসে। ও রুটি খাবে। আমি খাব ওর মুড়ি। আমি তো বাঙালি তিনটি কারণে।
    এক, বাংলাভাষা
    দুই, বিদ্যাসাগর মধুসূদন লালন রবীন্দ্রনাথ নজরুল
    তিন, মুড়ি এবং ভাত।
    মুড়ি সবসময় খাওয়া যায়। সকাল দুপুর বিকেল রাত তিনটে। ভোর পাঁচটে। চিরযৌবনা। চিরসুখী। শ্যামা। শ্যামা মানে যৌবন মধ্যস্থা নারী। মুড়ির যৌবন কখনো যায় না। যাবে না। মিইয়ে গেলে খোলায় ভেজে নিন। চাঙ্গা। সবকিছু দিয়ে খেতে পারবেন- চপ বেগুনি তেলেভাজা চানাচুর ছোলা বাদাম। আলু ভাজা, আলু ভর্তা, আলুর ছক্কা, কুমড়োর ছক্কা। ঘি দিয়ে- সঙ্গে চিনি থাকলে জবরদস্ত। কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে, পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে, ডাল দিয়ে। মাংসের ঝোল আলু দিয়ে, মাংস থাকলে অমৃত, বাসি মাংসের ঝোল তো ৭০ হাজার হুর পরীকেও হার মানাবে। শুকনো/ রসস্থ বোঁদে দিয়ে। কাঁচা বা সেদ্ধ ছোলা-ভাজা লঙ্কা পেঁয়াজ দিয়ে। আমি উচ্ছে ছাড়া সবকিছু দিয়ে মুড়ি খেয়েছি।‌ শুনেছি সে-ও নাকি নিরাশ করে না। আমার বিছানায় বইয়ের সঙ্গে ঢাউস মুড়ির কৌটো। আগে ব্যাগে মুড়ি থাকতই। মুড়ি মাখা? সে যদি ট্রেনে বাসে হয়- আহা।

    তবে সেরা মুড়ি মাখা দু'জায়গায়। এক বিকাশ ভবনের পিছন দিকে। আর দুই শান্তিপুর স্টেশনে। আমি তো একবার শান্তিপুর স্টেশনে থেকেই গিয়েছিলাম সকালে মুড়ি মাখা খাব বলে। কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজে পড়ানোর সময় দেখতাম মাঝেমাঝেই ট্রেন বন্ধ। বাসে শান্তিপুর গিয়ে ট্রেন ধরে ফেরা। তখনই খিদের চোটে একবার কেনা। ওহ অমৃত। শেষে একটা দশাসই আলু-ভাজা, দেশি চিপস দেবেন। সরু না। মোটা। সেটি খাবেন সব শেষে। স্টেশনের সামনের দিকের দোকান। আগে বাবা বসতেন। এখন ছেলে। কতদিন যাই না। দোকানটা খুলেছে কিনা কে জানে।

    চন্দননগরে পড়াই। বিধাননগর থেকে ট্রেনে উঠি। বিধাননগরে একটা মজা আছে। যে ট্রেন ঘোষণা হল, সে নয়, এলো অন্যজন। আমি তো জায়গা পেলে হয় পড়ি নয় ঘুমাই। সেদিন একটা বই ছিল, লেনিন অন ল্যাঙ্গুয়েজ, পড়ছি। হঠাৎ খেয়াল করি, এত চেনা চেনা জায়গা না। তাকিয়ে দেখি, মধ্যমগ্রাম। হুড়মুড় করে নামি। ওহ কী কাণ্ড। ট্রেন ভুলের দুঃখ ভুলিয়ে দিল লাল রঙের মুড়ি। দু’প্যাকেট কিনলাম। অটোর জন্য দাঁড়িয়েছি। কোনো মানে হয়, বিরিয়ানির হাঁড়ি খুলেছে। কিনতে হল। বিরিয়ানির সঙ্গে লাল মুড়ি- মনে হল আগে কেন এ-রকম ঘটে নি। তবে রুটির সঙ্গে মুড়ি খেতে পারবোনি।

    আমরা যাত্রা শুনতে যেতাম কৌটো ভর্তি মুড়ি নিয়ে। কাঠ বাদাম দিয়ে গিলব। লোকে একটু বিরক্ত হত। কিন্তু হাতে একমুঠো ধরিয়ে দিলে তিনিও সামিল হতেন।

    এই প্রসঙ্গে একটা মজার কথা মনে পড়ছে। ২০০০ খ্রিস্টাব্দ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সারারাত উৎসব রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গণে। কে নেই? অশোক মিত্র উদ্বোধক। অমিতাভ চৌধুরী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, নবনীতা দেবসেন, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, তসলিমা নাসরিন, বিভাস চক্রবর্তী সহ বাংলার দিকপালরা‌। রাজনৈতিকদের মধ্যে বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অসীম দাশগুপ্ত, শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায় সহ বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার বহু সদস্য। গায়ক তালিকায় বাংলার সব নামী শিল্পী। ইন্দ্রাণী সেন আসবেন না বলেছিলেন। তিনিও এসেছেন। তো রাতে গীতা ঘটক গান গাইছেন। রবীন্দ্রসদন চত্বরে ওইদিনের মত ভিড় আগে বা পরে কোনদিন দেখিনি। বাংলা আকাদেমির সামনে মঞ্চ রবীন্দ্রসদনের মূল ফটক পেরিয়ে মানুষ। কিন্তু সারারাত কি থাকবেন সবাই? ডায়মন্ডহারবার থেকে দেবাশিস শামসুর আলতাফ ২০০ জন নিয়ে এসেছেন। সবার ভাতের ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু রাত জাগলে খিদে পায়। তো একজন মুড়ি বার করেছেন। সেই দেখে বহুজন। গীতা ঘটক গাইছিলেন তখন, বললেন, চলমান মুড়ির অর্কেস্ট্রা শুনব না গাইব। চলমান মুড়ির অর্কেস্ট্রা-- আর কখনো শুনিনি, শুনব না। কিন্তু আমি অর্কেস্ট্রা না হই মুড়ির একতারা বটে।

    মুড়ি পার্টি অফিসগুলোতে চলত খবরের কাগজ বিছিয়ে। রাজ কলেজ মাঠে আমরা প্রতিদিন বিকেলে চাঁদা তুলে এক কিলো মুড়ি আর ৩০০- ৫০০ গ্রাম বাদাম কিনে কাগজ বিছিয়ে দিতাম। আড্ডা আর মুড়ি। কেউ বাদাম আলাদা করে তুলছে কিনা সবার থাকত নজর। কবি শঙ্খ ঘোষের বাড়িতে রোববারের আড্ডায় কবি জয়দেব বসু বিষয়টিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান। আমিও কম যেতাম বলা যাবে না। বাম হাতে দু-একটি বাদাম জমা থাকে। বাদাম ফুরিয়ে এলে সরবরাহ ক্ষেত্র। আর কে না জানে মুড়ির আগে বাদামই শেষ হয়।

    আর একেবারে অন্যরকম মুড়ি মাখা খেয়েছিলাম ২০০০ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনে শিল্পী বাঁধন দাসের বাড়িতে। শসার সঙ্গে মুড়ি। মুড়িতে হাল্কা নুনের ছিটে। এক ধামা মুড়িতে আমরা ভাষা ও চেতনা সমিতির ২০-২২ জন সদস্য। রাতের ট্রেনে গেছি। বসন্ত উৎসব দেখব। ভোরের গানের দলে যোগ দিয়ে খোয়াইয়ে বাঁধন দাসের বাড়ি। মুড়ির সঙ্গে ঘুগনির সঙ্গত মিলত শান্তিনিকেতন ক্যানাল ধারে বৌদির দোকানে।

    ছয় মাস কেটেছে শান্তিনিকেতন আর সাহাজাপুরে। একেক জায়গার মুড়ির তরিকা একেক রকম।

    ইন্দাসের আলুর চপ যাঁরা খেয়েছেন তাঁরা কালিকার নাম করার আগে দু'বার ভাববেন। বর্ধমানের বড়বাজার মোড়ের তেলে ভাজার দোকানে ভিড় রেশন দোকানের সঙ্গে তুলনীয়। কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউসের পাশের দশাসই বেগুনি মুড়িও মনে থাকবে। সংস্কৃত কলেজের সামনে মুড়িও ভাল মাখে। তবে সংস্কৃত কলেজের গেট থেকে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট যেতে ডান বাসে ট্রাম/ বাসগুমটির ভেতরের দোকানের আলু ভর্তা দিয়ে মুড়ি মেখে খেয়ে একবার দেখবেন। আহা। মুড়িতে বাদাম জানতাম তার সঙ্গে পোস্তর সঙ্গত যে অমৃত স্বাদ দিতে পারে শিখি নবম শ্রেণিতে।

    বর্ধমানে শাহচেতন রোড থেকে ধীরেন্দ্রনাথ শূর বের করতেন 'কিশোর জগৎ' পত্রিকা। এখানেই আমার প্রথম সাংবাদিকতা ও কবিতা ছাপা। বীরভূম থেকে তখন লিখতেন অতনু বর্মণ, দেবশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। বর্ধমানের মৈনাকদা ও পীযুষদা মডেল বানানো শেখাতেন। জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য লিখতেন মানুষ কী করে মানুষ হল তার ইতিহাস। মাসে একবার সাহিত্য আড্ডা। এছাড়াও আমি সময় পেলেই চলে আসতাম। এ-রকম এক বৃষ্টির বিকেলে ধীরেনবাবুর মা খাওয়ালেন বাদাম পোস্ত দিয়ে মুড়ি।

    একেক বাড়ির তরিকা একেক রকম। এখন অধ্যাপিকা অবর্ণাদের বাড়িতে বাদামের সঙ্গে মাসিমা মেশাতেন আদা আর লঙ্কা কুচি।

    আমাদের নিজেদের বাড়িতে ছিল কুসুমবীজ। এখনো গ্রামে গেলে আমি কুসুম বীজ কিনে আনি। কলকাতায় জানবাজারেও মেলে। মুসলিম বিয়েতে হলুদ মাখানো মুড়ি- কুসুম বীজ, শুকনো বোঁদে বা লাড্ডু সঙ্গে খই ও গুড় মুড়ি ভাজা থাকবেই।

    বর্ধমানে খোসবাগানে ছিল মাসিমার বাড়ি। ডাঃ চন্দ্রশেখর চ্যাটার্জির পুত্রবধূ। নিজের মাসিমার চেয়ে অনেক বেশি। অত্যন্ত স্নেহশীলা। ম্যালেরিয়া নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি মাসিমার বাড়িতে থেকে। এস এফ আইয়ের জেলা অফিসও অনেক দিন ছিল এখানে। বিশাল বাড়ি। অনেক জায়গা। পেছনে পুকুর। পুকুরের ওপারে রূপমহল আর বর্ধমান সিনেমা হল। সেখান থেকে নাইট শো তে সে সময়ের বিখ্যাত ছবি 'এক দুজে কে লিয়ে'র গান শোনা যেত। মাসিমার বাড়িতে আমূল গুঁড়ো দুধ দিয়ে মুড়ি খাওয়া এক অভিজ্ঞতা। মাসিমার জন্য এক সময় সঞ্চয়িতা আমার আয়ত্ত হয়েছিল। মাসিমা আমার গলায় শুনতে চাইতেন কবিতা। আমি তো ভয় পাই বাইরে কবিতা পড়তে। উচ্চারণ নিয়ে ঝামেলা।
    আমার এক বন্ধু আছে, সে খাওয়ায় মটরশুঁটি জিরে অল্প সাঁতলে মুড়ি মাখা।
    দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় থাকতাম কমলসায়রে। ইকবাল সাহেবের বাড়ি। সেখানে একসঙ্গে বসে খাওয়া । কেজি খানেক মুড়ি। কেজি খানেক বিস্কুট। আর অঢেল দুধ। দুধ বিস্কুট মুড়ি।

    মুড়ি কিন্তু বর্ধমানে টোটকা। পেট খারাপ হলে জল মুড়ি। বা জল চিনি মুড়ি। বর্ধমানের নবগ্রামে ছিল সন্দীপ লাহার বাড়ি। মাসিমা কচ্ছপের মাংস অসাধারণ করতেন। তবে এই কচ্ছপের মাংস দিয়ে মুড়ি খেয়ে একবার আমার পেট এত খারাপ হল- সেই কচ্ছপের মাংসকে নমস্কার।

    নবগ্রামেই থাকত মজার ছেলে রঙ্গন। রঙ্গনের দিদি মান্তুদি মুড়ি মাখত চমৎকার। চানাচুর কম বাদাম বেশি। লেবু পেঁয়াজ লঙ্কা চানাচুর বাদাম দিয়ে এমন মুড়ি মাখত যে খেয়ে তর। মান্তুদি প্রেম করত। আমি মান্তুদিকে ভয় দেখাতাম, বেশি দূরে বিয়ে করবি না। মুড়ি মাখা না পেলে তোকে ইলোপ করে নিয়ে চলে আসব। মান্তুদা বলত, ভাই এমন বলিস না। আমি তখন বিমল করের 'অসময়' পড়েছি। বলাই যায়।

    রঙ্গনের একটা গল্প মনে পড়ছে। রঙ্গন হোস্টেলে আসে থাকে। সবাই জানে ও আমার ভাই। আমি ওর দাদা। তা একদিন ত্রিশ টাকা দিয়ে বললাম, ৫০০ মুড়ি আর ২৫০ চানাচুর আর ৫০০ বাদাম আন। পেঁয়াজ, লঙ্কা, একটু তেলও নিবি। এরপর সবাই বসেই আছি বসেই আছি। রঙ্গন আর ফেরে না। রঙ্গন ফিরল এক বছর পর। এয়ার ফোর্সের ইঞ্জিনিয়ার হয়ে। এসেই একগাল হাসি। ওর হাসি অসম্ভব মিষ্টি। যে দেখবে গলে যাবে। আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর।
    আমি বললাম, রঙ্গন এক বছর যে না খেয়ে বসে আছি মুড়ির জন্য তার কী হবে। দাদা তোমার তো বই দরকার। দেখো কটা ভাল বই এনেছি। রঙ্গনটা যে কোথায় এখন?

    সুব্রত চ্যাটার্জির মা ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। বাবা রসায়নের অধ্যাপক। মাসিমা শান্তশিষ্ট মানুষ। মেসোমশাই গম্ভীর। ভয় পাই একটু। মাসিমা তো নিজের মায়ের বেশি। ওটা আমার দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে ওঠে।

    সুব্রতকে দেখে মুগ্ধ হই খোসবাগানের মুখে কসাইখানার সামনে। সাইকেল নিয়ে যাচ্ছি চ্যাটার্জি মাসিমার বাড়ি। দেখি উল্টোদিক দিয়ে পাজামা জামা পরে একটা ছেলে ভিড়ের মধ্যে কোনদিকে না তাকিয়ে বই পড়তে পড়তে চলেছে। আমার স্বভাব। মুহূর্তে ওকে মনে ধরল। একাদশে আমাদের পাশের বিভাগে পড়ে।

    সুব্রতর মা হয়ে উঠলেন আমার মা। আমি গেলেই আমি পাঁচমিশেলি বানাতেন। আমি দুপুরে ভাত দিয়ে খেয়ে বিকেলে মুড়ি দিয়ে আবার পাঁচমিশেলি খেতাম। আমার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময় সুব্রতর বাবা দুটি ফ্লাক্স নিয়ে আসতেন। একটিতে সুব্রতর জন্য শরবত আর একটিতে আমার জন্য। আর দুটি টিফিন বক্স। ফল সন্দেশ মিষ্টি।

    মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় প্রথম দিন দাদা এসেছিল।‌ পরে আমার জন্য টিফিন নিয়ে আসতেন তখন বর্ধমানের সাংসদ সুধীর রায়। সুধীর বাবুর ছেলে সায়ন আমাদের সঙ্গে একই সেন্টারে টাউন হলে পরীক্ষা দিত। কী সব আশ্চর্য মানুষ এরা। নামী অধ্যাপক। এআইফুকটোর সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি। সায়নের বাড়িতে রাতে থাকলে ভোরে উঠে কফি বানাতেন। আমি চা কফি খাই না বলে শরবত। গল্প করতেন বন্ধুর মত। সায়নের মা ছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা কালী ব্যানার্জির বোন। ওদের বাড়িতে পাউরুটি টোস্ট-কলা-ডিম বেশি চলত। আমি মুড়ি। বুদ্ধদেব গুহ তখন গিলছি। সুধীর বাবু বললেন, অসীম রায় পড়। অসীম রায় চিনি সুধীর বাবুর কাছে। দেশদ্রোহী, শব্দের শৃঙ্খল, গোপাল দেব। 'শব্দের শৃঙ্খল' আমি পরে কলেজ স্ট্রিট থেকে কিনি। অরুণ মিত্রকে শ্রদ্ধায় অসীম রায় লেখা। কেউ অরুণ মিত্রের বাড়ি থেকে ঝেঁপে এনে বেচেছে।

    অরুণ মিত্রের লেখা অনেকেই পড়েছেন। কিন্তু ওইরকম শিশুর হাসি দুটো দেখা যায় না। অন্নদাশঙ্কর রায়ের মৃত্যুর পর ভাষা ও চেতনা সমিতির সভাপতি হন আমাদের অনুরোধে। তাঁর স্ত্রীর হাতের মুড়ি মাখাও ছিল অন্য স্বাদের।

    একজন মানুষ একটা রুচি। একটা স্বাদ।

    বর্ধমানে কয়েকটি পরিবার ছিল। ছাত্ররাজনীতির ছেলেমেয়েরা এই কটি বাড়িতে ভাগ হয়ে যেত। বাবুরবাগে অমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি আর শঙ্খ ঘোষের বাড়ি কোনো মানুষ নেই যে না খেয়ে ফিরবেন। কিছু না কিছু খেতেই হবে। চাওমিন প্রসঙ্গে আগে লিখেছি কৌশিকের মায়ের কথা। প্রথম চাওমিন বাদাম আলু ডিম দিয়ে ওদের বাড়ি, কিন্তু প্রথম চাওমিন খাওয়া অমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি, ছোটর হাতে। এই এক মহিলা যাঁকে সবাই ছোট বলত, আমরাও। অন্নপূর্ণা যাঁকে বলে। ছাত্র রাজনীতি পার্টি সংস্কৃতি জগৎ বিশ্ববিদ্যালয়- নানা জগতের মানুষের ভিড়। শিশুরঙ্গম ও রঙ্গন বলে দুটি প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন। নাচ-গান-নাটক-আবৃত্তিতে শহরের অবশ্য ঠিকানা।

    বর্ধমানের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়তে অমলজ্যেঠুর বিরাট অবদান। লেখা পড়তেন। মতামত দিতেন। সস্নেহে বকতেন। ছোট মেয়ে খুব ভাল নাচত, আঁকত। গান গাইত বড় মেয়ে। কাটোয়া কলেজের এখন অধ্যাপক অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও টিয়াদির গান ছাড়া যেকোন সম্মেলন ও জমায়েত পানসে। অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়-এর এত গুণ, আমার বাবা ছাড়া একসঙ্গে এত গুণ আমি কারো দেখিনি। খেলা-নাটক-গান-পড়াশোনা-বিতর্ক। ব্যারিটোন গলা। সাদা শার্ট পরত। চোখে হাই পাওয়ার চশমা।

    তা আমার মুড়ি প্রীতির কল্যাণে চাওমিন নয়, আমি মুড়ি বাদামে স্থিত হলাম অমল জ্যেঠুর বাড়িতে। প্রথম দিন চাওমিন দেখে আমার কেঁচোর কথা মনে হয়েছিল। পরে তো রাসবিহারী মোড়ের এক দোকানে চাওমিন খেয়ে ফিদা হয়ে যাই।

    আশির দশকে বর্ধমান শহরে চা খাবে বলা চালু হয় নি। গ্রামের মত ছিল। যে বাড়িতে যাও মুড়ি বাদাম খাওয়াবেই। ছাত্ররাজনীতি, বিজ্ঞান ক্লাব, পত্রিকা লেখালেখি, বিতর্কসভা, সাংবাদিকতা, টিউশন, ছেলেধরা ইত্যাদি কারণে অন্তত শহরের তিন হাজার বাড়ি আমি গেছি। মনে পড়ে না কোনো বাড়িতে কিছু না খাইয়ে ছেড়েছে। খালি একটি টিউশন বাড়িতে কিছু খেতে দিত না। বড়লোক ছিল। মিষ্টির দোকানদার।

    বর্ধমানের বিখ্যাত সাঁইবাড়ির মেয়ে নিবেদিতা আমাদের সঙ্গে পড়ত। ওর বাবা নব সাঁই খুন হয়ে যান।‌ নিবেদিতার মায়ের মুখ ছিল বিষাদমাখা। অপূর্ব মুড়ি বাদাম মাখা ছিল তাঁর হাতে। আর নাড়ু।

    বর্ধমান শহর ছাড়িয়ে ডিভিসি। সেখানে থাকত তনুশ্রী। ওকে বলতাম মা। সবার মা সে। সবাইকে মিষ্টি শাসন করে। ওর মায়ের সঙ্গে চলত খুনসুটি। মাসিমা বিয়ে দিয়ে দিন মেয়ের। এত মিষ্টি মেয়ে বিপদে পড়ে যাবেন। মাসিমা হাসতেন। তনুশ্রী বলত, আগে চাকরি। তারপর অন্যকিছু। তনুশ্রীর মায়ের মুড়ির স্বাদ ছিল ভিন্ন দিনে ভিন্ন। ১৯৯৬ এ সাংবাদিক জীবনেও তনুশ্রীদের সিউড়ির‌ বাড়িতে গেছি। আজকাল ভাল কবিতা লেখে।

    একটি ছেলে ছিল, নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। ওর বাবা নৌবাহিনীতে ছিলেন। নৌসেনাদের বামপন্থী সংগঠন করতেন। পরে আত্মহত্যা করে ছেলেটি। স্কুল ছাত্ররাজনীতি করতে গিয়ে আলাপ। বিকেলে কলেজ হোস্টেলে চলে আসত। ওর নাম কষ্ট করে ভুলেছি। এত অকালে চলে গেল।

    বর্ধমান প্রেস ক্লাব তখন জগন্নাথ আর আমি যুগ্ম সম্পাদক। সাংবাদিকদেরও তো নানা গোষ্ঠী থাকে। বর্ধমানেও ছিল। সবপক্ষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। ফেসবুকে এসেই দেখি সম্পর্ক ভাঙছে। একটি ছাড়া আমার জীবনে কোনো সম্পর্ক আমি ত্যাগ করিনি। এ-বিষয়ে আমি বিমান বসুর অনুসারী। কেউ আমাকে না ছাড়লে আমি তাঁকে ছাড়ি না। মুড়ি যদি আমাকে ছাড়ে আলাদা কথা, আমি মুড়িকে ছাড়বো না। তা প্রেস ক্লাবের চড়ুইভাতিতে সবপক্ষকে রাজি করিয়ে ফেললাম। বিশ্বনাথ বণিক ছিলেন বর্ধমানের নামী আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি একটা নতুন মেনু সংযোজন করলেন, পালংনি। বেগুনির বদলে গোটা পালংপাতা বেসনে ডুবিয়ে বেগুনির মত ভাজা। লুচি তরকারিও ছিল। পালংনির সৌজন্যে মুড়ি আনাতেই হল।

    সেবার আরেকটি ঘটনা ঘটিয়েছিল জগন্নাথ। বলল, থানার ডাকবাবু সবার কাছে টাকা তোলে। চল, আমরা ওর কাছে চাঁদা নিই। ডাকবাবু ও দারোগাবাবু দু’জনের নেমন্তন্ন। ২০০ টাকা করে চাঁদার বিনিময়ে। ১৯৯০ এর ২০০ কিন্তু। পুলিশের কথাই যখন এল, এক পড়ুয়া পুলিশ অফিসারের কথা বলি। পরে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম নগরপাল হন। পি এন সরকার। বিকেলবেলায় এস পি ও ডিএম অফিসে সাংবাদিকদের আড্ডা বসত। খবরের খোঁজে। উনি কী বই পড়েছি জানতে চাইতেন। নিজে প্রচুর পড়তেন। বলতেন, এটা পড়ে দেখবেন। কোর্ট মোড়ের মুড়িও জুটতো মাঝে মাঝে তাঁর সৌজন্যে। যেহেতু আমি চা খাই না।

    করোনা কাল নিয়েছে। ফিরিয়েও দিয়েছে অনেক। সহানুভূতি সহমর্মিতা। আমি ফিরে পেলাম এক পুরানো অভ্যাস। আধা। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড দপ্তরে। করোনা ত্রাণের কাজে। নর্থ ভার্জিনিয়া বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন গিল্ডের প্রকাশকদের কর্মচারীদের চাল ডাল আলু পেঁয়াজ নুন ইত্যাদি দিতে চান। গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে আমাদের কথা শুনে আমাদের মারফৎ। সেই কাজে গেছি। বিকালে ত্রিদিবদা রণিতের সৌজন্যে এল মুড়ি ডুমো ডুমো করে জিরে জারানো আলু। সঙ্গে ডিম সিদ্ধ, কেটে গোলমরিচ শোভিত হয়ে। বর্ধমানে থাকতে আমার প্রিয় জলখাবার ছিল, সকালে, একটি ডিম সিদ্ধ সঙ্গে শুকনো মুড়ি।

    পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের উদ্যোগে দক্ষিণ কলকাতায় তালতলা মাঠে আয়োজিত হয় একুশের বই উৎসব। তাতে রোজ যেতে হত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভার আয়োজনে। সেখানে তাপসদা ও বাবু দুর্দান্ত মুড়ি মাখত। এবং বুবাইদা আমার জন্য রেখে দিতেন। বলতেন, ও মুড়ি ভালবাসে। কেউ নজর দিবি না। বুবাইদা চলে গেল অকালে। ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত প্রিয়জন। আমাদেরও। বয়সে আমাদের চেয়ে ছোট। কী খারাপ লাগে, মনে পড়লেই।

    আহা বইজগৎ মায়াময়।
    খাদ্য মায়া বড়ো মায়া।
    আর তা যদি মুড়ি হয়, মুড়োও দিতে পারি।

    কবি একরাম আলি-দা আড্ডায় মনে করালেন দই মুড়ির কথা। গুড় চিনি দিয়ে জমে খুব। খাই মাঝে মাঝে। তবে রক্তে মধু প্রীতি বাড়ায় এখন টক দই, লুকিয়ে, একটু চিনি মিশিয়ে দি শেষ পাতে। আম মুড়ির তো তুলনা আম দুধ মুড়িই। তবে ছোটবেলায় খাওয়া ঘোল বা মাঠার সঙ্গে মুড়ি সেও খুব স্বাদের।

    ছাতু দিয়ে মুড়িপ্রেম চট্টরাজ মাসিমার সৌজন্যে। ছাত্রাবাসে যখন থাকতাম, পার্থ চট্টরাজের মা এক টিন মুড়ি আর দু’কেজি ছাতু পাঠিয়ে দেন। গুড়ের সঙ্গে ছাতু দারুণ। পান্তাভাতের আমানির সঙ্গে কুচো পেঁয়াজ লঙ্কা কুচি দিয়ে মুড়ি উপভোগ্য।

    প্রেসিডেন্সির ছাত্র পিনাকী মনে করায়, মেচেদার চপ আর মুড়ির কথা। আর বিয়েবাড়ি মুড়ি খই চালভাজা ছোলাভাজা মুড়কি ছাড়া হবেই না। বিয়ের পরদিন মাছমাখা দিয়ে ভাত, ১০ টার জলখাবারে মাছভাজা মুড়ি অনবদ্য।

    ফুটবল খেলার শেষে বর্ষাকালে জলকাদা মেখে চান করে কী খাবেন?
    মুড়ি মুড়ি মুড়ি।
    নাহ। থামি। এই দুপুরে। শুধু বলে দিই, আমরা বর্ধমানের লোকেরা মাত্র পাঁচবার খেতাম। সকালে এক জামবাটি চা আর মুড়ি। সকাল ১০ টায় একটু ভাত আলুসেদ্ধ না খেলে পাপ হবে। দুপুরে তো খেতেই হয়। বিকেলে কিছু না খেলে শরীর খারাপ হবে। রাতে তো খেতেই হয়, শাস্ত্রে লিখেছে। এর মাঝে তাস দাবা বা এমনি আড্ডায় কেউ মুড়ি টুড়ির কথা বললে, না করা যায়, আপনারাই বলুন।


    (ক্রমশঃ)

     

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৮ জানুয়ারি ২০২২ | ৫১৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ০৯ জানুয়ারি ২০২২ ২৩:২৮502584
  • মুড়ি ও লেখক দুজনেরই ফ্যান হয়ে গেলুম। পেডেস্টাল।
     
  • Rita Banerjee | ১০ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:৩৩502593
  • আমিও মুড়ি মাখার খুব ভক্ত। করাইশুঁটি দিয়ে মুড়ি মাখা টা বাদ গেল যেন মনে হচ্ছে।
  • reeta bandyopadhyay | ১০ জানুয়ারি ২০২২ ২৩:০২502609
  • বর্ধমানের অমলজ্যেঠু...ছোট, আপনি তো বড়ই  আপনজন.....মুড়ি পর্বটা কিন্তু অসাধারণ হল। এই লেখা থামলে চলবেনা।
  • Emanul Haque | ১১ জানুয়ারি ২০২২ ০৬:৩৮502615
  • ধন্যবাদ
  • Emanul Haque | ১১ জানুয়ারি ২০২২ ০৬:৪০502616
  • @Ranjan Roy @Rita Banerjee @reeta bandyopadhyay কৃতজ্ঞতা। বড়ছেন বলে।
  • Emanul Haque | ১১ জানুয়ারি ২০২২ ০৬:৪৪502617
  • @Rita Banerjee মটরশুঁটি আছেন। বহাল তবিয়তে।
     
    আমার এক বন্ধু আছে, সে খাওয়ায় মটরশুঁটি জিরে অল্প সাঁতলে মুড়ি মাখা।
  • santosh banerjee | ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:৫৮502685
  • নতুন স্বাদ আর রসের বর্ননা। ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
  • Emanul Haque | 2401:4900:104e:75c6:0:63:46b0:e001 | ২২ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:৫৫502973
  • ধন্যবাদ সবাইকে
    ইমানুল
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন