এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • কাদামাটির হাফলাইফ

    ইমানুল হক
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ৮৬৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৩ জন)
  • পর্ব ১-৩ | পর্ব ৪-৬ | পর্ব ৭-৯ | পর্ব ১০-১২ | পর্ব ১৩-১৫ | পর্ব ১৬-১৮ | পর্ব ১৯-২১ | পর্ব ২২-২৪ | পর্ব ২৫-২৭ | পর্ব ২৮-২৯ | পর্ব ৩০-৩১ | পর্ব ৩২-৩৩ | পর্ব ৩৪-৩৫ | পর্ব ৩৬-৩৭ | পর্ব ৩৮-৩৯ | পর্ব ৪০-৪১ | পর্ব ৪২-৪৩ | পর্ব ৪৪-৪৫ | পর্ব ৪৬-৪৭ | পর্ব ৪৮-৪৯ | পর্ব ৫০-৫১ | পর্ব ৫২-৫৩ | পর্ব ৫৪-৫৫ | পর্ব ৫৬-৫৭ | পর্ব ৫৮-৫৯ | পর্ব ৬০-৬১ | পর্ব ৬২-৬৩ | পর্ব ৬৪-৬৫ | পর্ব ৬৬-৬৭ | পর্ব ৬৮-৬৯ | পর্ব ৭০-৭১ | পর্ব ৭২-৭৩ | পর্ব ৭৪-৭৬ | পর্ব ৭৭-৭৮ | পর্ব ৭৯-৮০ | পর্ব ৮১-৮২-৮৩ | পর্ব ৮৪-৮৫ | পর্ব ৮৬-৮৭ | পর্ব ৮৮-৮৯ | পর্ব ৯০-৯২ | পর্ব ৯৩-৯৪ | পর্ব ৯৫-৯৬ | পর্ব ৯৭-৯৮ | পর্ব ৯৯-১০০ | পর্ব ১০১-১০২ | পর্ব ১০৩-১০৪ | পর্ব ১০৫-১০৬ | পর্ব ১০৭-১০৮ | পর্ব ১০৯-১১০ | পর্ব ১১১-১১২ | পর্ব ১১৩-১১৪
    আরে, কাদা না থাকলে মানুষ তো বেঁচেই থাকতে পারতো না। শস্য সব্জি কিছুই কি তেমন মিলত? ফুল ফল অনেক কিছুই? কাদা আর বালির মিশেলেই তো জীবনের যত মার প্যাঁচ।

    পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের গ্রামজীবনের স্মৃতিচিত্রণ।

    পর্ব ৪

    আমাদের শৈশব থেকে শুনে আসছি এই গ্রামের যাত্রার ঐতিহ্য বেশ প্রাচীন। ১৩২০ সালে (১৯১৩ খ্রি) বন্যার পর শুরু হয় আমার জন্ম গ্রামে যাত্রা পালার আসর। ১০০% ঘটি তথা পশ্চিমবঙ্গীয়-র বাস। পরে এক জন পূর্ববঙ্গীয় এসে আশ্রয় নেন। সাদেক জামাই বা সাদেক বাঙ্গাল। গ্রামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নুরুন ফুফুর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। নুরুন ফুফু এক আশ্চর্য মানুষ। অপূর্ব তাঁর জীবন কথা। তাঁকে কেউ কোনদিন কারো সঙ্গে ঝগড়া করতে দেখেননি। পরে তাঁর কথা সবিস্তারে বলা যাবে। আজকের হিসেব ধরলে আমাদের গ্রামের যাত্রাভিনয়ের ইতিহাস ১০৪ বছরের পুরনো। আমাদের গ্রামের বহু মানুষ কলকাতা ও তার সন্নিহিত অঞ্চলে চাকরি বা কাজ করতেন। এদের অধিকআংশই ছিলেন মুসলিম। এরাই যাত্রা প্রচলন করেন হয়তো। আমার নিজের ঠাকুর্দা স্টার থিয়েটারে ছদ্মনামে অভিনয় করেন সে কথা আগেই বলেছি। যাত্রা হতো মূলত কলেরার দেবী ওলাইচন্ডী দেবীর পূজাকে কেন্দ্র করে। জন্ম থেকেই দেখে আসছি মেলা বসে। ১৯ মাঘ বাঁধা তারিখ। ১৯ মাঘ মেলা। ২০-২১ যাত্রা। একবার টানা সাতদিনও যাত্রা হতে দেখেছি।
    যাত্রার যেসব প্রবীণ অভিনেতার কথা শুনেছি। তাঁদের নিয়ে বহু মজাদার গল্প চালু ছিল। একটা কথা বলা ভাল আমাদের এলাকার মানুষরা রসিকতা করে কথা ভালবাসেন। সবকিছুতে মজা ।
    ম- নামে এক খ্যাতিমান অভিনেতা ছিলেন, যাঁর সম্পর্কে একটি কথা চালু ছিল, তিনি কলকাতায় থাকতেন—তিনি নাকি জিজ্ঞেস করেছিলেন—ধান গাছের তক্তা/পাটা হয়? এটা সত্য ধরে নেওয়ার কারণ থাকতে পারে নাও পারে কেউ মজা করে রটিয়ে দিতেও পারে। কারণ রগড়বাজ মানুষের অভাব ছিল না।
    যাত্রার মধ্যে পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক পালার বেশ কদর ছিল। তবে ১৯৮০-র পর সামাজিক পালার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ে। মানুষের অভাব কমে আসে অল্প স্বল্প। হয়তো সে কারণেও।
    যাই হোক দুটি বহুশ্রুত গল্পের কথা বলা যাক।
    ব পণ্ডিত আর ক শেখ অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। যাত্রায় দুজনে পার্ট পেয়েছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীর। যুদ্ধ আছে। (আর কে না জানে যাত্রায় যুদ্ধ একটি অতীব চিত্তাকর্ষক বিষয়। আমরা ছোটরা ঘুমিয়ে পড়লে বলতাম—যুদ্ধের সময় ডেকে দিও। যুদ্ধ মানে কেরিচুঁ কেরিচুঁ বাজনা আর তলোয়ারের খেলা। আমরা তো যাত্রার পর মাসখানেক কঞ্চি নিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে যেতাম। রাম লক্ষণের তীর ধনুক তো ছিল বহুদিনের অঙ্গ। তবে সে সব কঞ্চির তৈরি। কেনা নয়)।
    দুজনে খুব প্র্যাক্টিস করেছে যুদ্ধ। সময়ে অসময়ে। তা যাত্রায় দু-বন্ধুর যুদ্ধ চলছে। আগুন ঠিকরাচ্ছে তলোয়ার দিয়ে। প্রম্পটার পরিচালক ইশারা করেও থামাতে পারছেন না। একজনের হাতের তলোয়ার পড়ে যাবে। যাত্রার ভাষায় পতন এবং মৃত্যু। যুদ্ধ থামছে না। দর্শকরা তো খুব খুশি। এদিকে দু যোদ্ধার বাবারা উত্তেজিত—তার ছেলে হেরে যাবে হতেই পারে না। যেমনি যার হেরে যাওয়ার কথা তলোয়ার ফেলার উপক্রম করছে অমনি তার বাবা হুংকার দিচ্ছেন—কী তুই অমুকের ছেলের কাছে হেরে যাবি—তোকে ঘরে ঢুকতেই দেব না। উলটো পক্ষেও এক আওয়াজ । তা দুই ছেলে কী করে, বীর বিক্রমে লড়ে যাচ্ছে। যেই দারুণ লড়ে অমনি বাবার চিৎকার – কাল থেকে তোর দু সের চালের ভাত আর আর এক বালতি দুধ বাঁধা। আর অন্যজনের বাবার বক্তব্য—তোকে কালো গরুর দুধ খাইয়েছি অমনি। দরকারে আরেকটা গরু কিনবো। কিন্তু তসুকের ছে্লের কাছে হারা চলবেনি। তাতে দু বাবা—যারা নিজেরাও খুব বন্ধু, ছেলেদের বন্ধুত্ব পাতানোয় তাদের ভূমিকা কম নয়—তাদের উত্তেজিত সংলাপে জাতপাত ধর্ম—সব এসে যেত। কিন্তু ওই পর্যন্তই । কখনো কোনদিন আমাদের গ্রামে ধর্ম নিয়ে গণ্ডগোল হয়নি।
    শেষ পর্যন্ত নাকি তলোয়ার ভেঙ্গে যুদ্ধ থামে।
    এবং তারপর দু বন্ধুর গলা জড়িয়ে প্রস্থান। কারো জয় নেই। কারো পরাজয় নেই।
    আর একটা গল্প চালু ছিল।
    কোহিনূর চাই নবাবের। কোহিনূর পাচ্ছেন না। কোহিনূরের চিন্তায় উন্মাদ।
    চরিত্রাভিনেতা বলেই চলে চলেছেন , নানা বিচিত্র ভঙ্গিতে কোহিনূর কোহিনূর।
    হাততালিও দেদার।
    আবেগে মত্ত। খেয়াল নাই। পাশেই ছিল যন্ত্রশিল্পীরা‌ । তাঁদের তবলায় পা পড়ে আওয়াজ উঠল -- গবাং। মানে তবলা ফেঁসে গেছে।
    কোহিনূর কোহিনূর গবাং-- বহুকাল চলেছে যাত্রাপ্রসঙ্গে
    গ্রামে যাত্রার জন্য পাগলামো এবং ধর্ম নিয়ে সহনশীলতা কতদূর ছিল বোঝাতে একটি ঘটনার উল্লেখ জরুরি।
    একবার গ্রামে যাত্রা কোন কারণে হয়নি।
    তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বী এক যাত্রাপ্রিয় মানুষ একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজনের সঙ্গে মিলে মা ওলাইচন্ডীর মুখ ঘুরিয়ে দেয়। বক্তব্য একটাই—যাত্রা না হওয়ায় মা কুপিত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন।
    তো কী আর করা মায়ের মন রাখতে আবার যাত্রা শুরু হয়ে গেল।
    এবং সেই সম্প্রীতির ট্রাডিশন আজও বহমান।




    মরাসাহেবদের পোশাক ও ব্রান্ড ফ্যাক্ট
    ১৯৮০র শীতে আমাদের গ্রামে দুই অদ্ভুত ব্যবসায়ী এলেন। যথারীতি আমাদের বৈঠকখানায় তাদের আড্ডা এবং রাত্রিবাস হল। রাতেই হ্যারিকেনের আলোয় গ্রামের মানুষ দেখলেন তাঁদের পণ্যসম্ভার। অনেক দামী কোট আর দামী প্যান্ট। দাম 15 থেকে 25 টাকা। গ্রামে তখনো পর্যন্ত দু তিনজন কোট প্যান্ট পরা লোক দেখা গেছে। একজন ছিলেন উত্তরপ্রদেশে র কানপুরে থাকা এক দাদু। হি টু মামা নামে ডবল এম এ পাস খেয়ালি মানুষ।আর খবির ভাই। বাবা দেখে বললেন, এতো মরা সাহেবদের পোশাক। কোট প্যান্ট দেখে অনেকের পছন্দ। কিন্তু মরা সাহেবদের জিনিস শুনে সবাই নারাজ। কী জানি কী খারাপ রোগে মরেছে।
    এদিকে বিক্রি হবে না ব্যবসায়ী দের মনখারাপ। বাবার সে দেখে আরো মনখারাপ।
    নিজে দুখানা কোট কিনলেন।
    আমাদেরও হল প্যান্ট। বড়দা শৌখিনমানুষ। সে এসব ছোঁবে না। বাবা কিনলেন আরো অনেককে কেনালেন। যাঁদের কেনার ক্ষমতা নেই। তাঁদের কিনে দিলেন।
    কিছুদিন পর দেখা গেল গ্রামে প্রায় সবার পরনে কোট।
    শীতে ধান তোলার সময় মনিব মুকনিস সবাই সাহেব।
    পরে দেখি এই মরা সাহেবদের পোশাক ধর্মতলায় বিক্রি হচ্ছে।
    এখন দেখি প্যান্টালুন্স, ব্রান্ড ফ্যাক্টরি মরা সাহেব মরা মেমদের পোশাকে ভর্তি।
    ১৭.১১.২০১৭

    ৫/১

    গ্রামে সত্তর দশকে বিনোদন বলতে মধ্যবিত্ত ও বড়লোকদের রেডিও। আর শীতে মেলা, যাত্রা। গরিবদের শীতকালটাই ভালো কাটতো। খাবার অভাব হতো না। নিজের জমি না থাকলেও এই সময় কাজ মিলতো। জমিতে ঘুরে ঘুরে পড়ে থাকা ধানের শিস কুড়াতো ছোটরা। জমির মালিকরা কাছে পিঠে থাকলে নামতে দিত না। তবে ভোরে এবং সন্ধ্যায় ফাঁকা মাঠে ইঁদুরের গর্তে জমানো ধানের শিস মিলতো। গৃহস্থ বাড়িতে কাজও মিলতো ঘরের মেয়েদের। ধান ওঠার পর কত আনন্দ। পিঠে পুলি হতো সব সম্পন্ন বাড়িতে। তার জন্য চালের আটা বানানোর ধূম ঢেঁকিতে। খই মুড়িও হতো দেদার। ধান সিদ্ধ শুকানোর কাজও হতো এই ক-মাস। ফলে শীতে ভাত জুটত দু বেলা। কিন্তু গরম পোশাকের কষ্ট ছিল গরিবের। খুব কম মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়ের সোয়েটার হতো। গায়ের চাদর জুটতো। গরিবেরা সকালে কাঁথা গায়ে দিতো। মেয়েরা কোনো একটা চাদর। তাও উলের নয়। সুতি আর ক্যাশমিলনের বুনন। পায়ে মোজা পরতো খুব কমজন। মধ্যবিত্ত পরিবারে চল ছিল অল্প। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ বাইরে না গেলে জুতো পরতেন না। শীতে একটু জুতো পরার রেওয়াজ। আর ছিল খেজুর রস ও গুড়ের ধুম। সেই সঙ্গে ছেলেছোকরার দলের মজা করে খেজুর রস চুরি। কখনো কখনো হাঁড়িতে পেচ্ছাপ করেও রেখে দিত কোনো কোনো দুষ্টু।
    আর শুনতো বাখান বা গাল। পরদিন সকালে। মা বাপ বোন -- কেউ বাদ যেতো না। মায়েদের উদ্দেশে বিশেষ কর্ম করার আদিম পুরুষতান্ত্রিক কথাটি বেশি উচ্চারিত হতো। একবার বড়ো বয়সে আমরাও খেজুর রস চুরি করে খাই। জীবনের প্রথম ও শেষ চুরিতে থাকা। ২৫ ডিসেম্বর ফিস্ট ছিল। ১৯৯৩। তো গ্রামে গেছি। সবাই ধরল, চল, আগের মতো ফিস্ট করি। ছোটোবেলায় শীতকাল জুড়ে ফিস্ট চলতো। আমাদের বেড়াতে যাওয়া ছিল না। পিকনিক চড়ুইভাতি ছিল না। বেড়াতে যাওয়া মানে মাসি পিসির বাড়ি। দীঘা পুরী যেতো কলেজের ছেলেমেয়েরা। 'মেয়েরা'টা বোধহয় বেশি বললাম-- ছেলেরা। স্কুলে নবম শ্রেণিতে উঠলে একটা শিক্ষামূলক ভ্রমণ হতো। বছরের পর বছর বাঁধা রুট। শান্তিনিকেতন, বক্রেশ্বর, তারাপীঠ। ৩০ টাকা।
    তা ফিস্ট এবং খেজুর রস চুরির প্রসঙ্গে ফিরি। তা রাতে হাঁস এবং দেশি মুরগির মাংস মিলে জবরদস্ত ফিস্ট হলো। তো সেই সময় মধ্যবিত্ত শিক্ষিত ছেলে গ্রামে মদ খায় -- এটা ভাবাই যেতো না। আর আমি তো চা বিড়ি সিগারেট পর্যন্ত খাই না। তা, আমার কোন বন্ধু ফিস্টে মদের কথা তুলবেই না। আর সে-সময় এতো মদের প্রচলন ছিল না।
    সেদিন রাতে খাওয়া শেষ হতে না হতেই, একটা বড় ঘটনা ঘটল। হাতির পাল ধেয়ে আসছে। কানাঘুঁষা চলছিল, হাতির পাল বের হয়েছে, দলমা পাহাড় থেকে। আসতে পারে। কিন্তু এ-পথে আসবে তেমন কথা সে-ভাবে ভাবে নি সবাই। গ্রামে সে-সময় টেলিফোন মাত্র একটি। সমবায়ে। মোবাইলের বালাই নেই। কল্পনাতেও ছিল না। কিন্তু কথা ঝড়ের বেগে ছড়াতো। রাত ১১ টায় ঘুম থেকে জেগে উঠল হাজার হাজার মানুষ।
    বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও চিন্তক বদরুদ্দীন উমর ২০০৮-এর জানুয়ারিতে সিঙ্গুরের টাটার কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের বৈশিষ্ট্য কী জানো? চারপাশে গ্রাম। মাঝে বিশাল ধান জমি। পূর্ব বঙ্গে উল্টো। একটা গ্রাম একটা মাঠ।
    যাই হোক আমাদের এলাকায় বৃত্তাকারে গ্রাম। আউশাড়া উদগড়া বোড়া কোনা সেহারা ক্ষেমতা রামকৃষ্ণপুর। মাঝে ছয় কিলোমিটার লম্বা চওড়া বৃত্তাকার ধানখেত। মাঝখান চিড়ে গেছে দামোদর ভ্যালি করপোরেশনের ক্যানাল বা খাল। গ্রামে বলতাম কেনেল। একটু দূরে রেলপথ। উর্বর ধান জমি। ভারতের শস্যাগার বলা হয় বর্ধমানকে। বর্ধমানের শস্যাগার আমাদের থানা (উপজেলা) রায়না। এখানে খাস ধান বলে একটা ধান হয় যার খড়েও সুগন্ধ। খাস মানে আসল নয় সুগন্ধি। এই চালকে কলকাতা বলে গোবিন্দভোগ। এবার ধান হয়েছে দারুণ। গতবার খাসচালের ভালো দাম গেছে। চাষি বেশি করে খাস ধান লাগিয়েছে, যদিও আড়তদার আর মিল মালিক ও মজুতদারদের ষড়যন্ত্রে একবার ভালো দাম, তো পরের বার খারাপ দাম। আলু পেঁয়াজ ধান--সবেতেই এক পরিস্থিতি। আজ-ও তা থেকে চাষির মুক্তি মেলে নি।
    যাক হাতির পাল খাস ধানের গন্ধেই হোক আর তাড়া খেয়েই হোক এ-পথে হাজির।
    সে-এক অসাধারণ দৃশ্য। চারপাশ ঘিরে লোকের হাতে হাতে খড়ের মশাল। ছয় কিমি এলাকা জুড়ে খড়ের মিশাল। হলিউডের কোন শিলডন এই দৃশ্য বানাতে পারবেন কি না সন্দেহ। হাতির পাল দেখে গেল। সবাই ছুটলাম , হাতি দেখতে, সঙ্গে সাবধান বাণী। সামনে পড়লে আলের ধারে শুয়ে পড়তে। দু কিমি ছুটেছি সবাই। হঠাৎ হাতির পালের চিৎকার--বৃংহন। বৃংহন পড়েছিলাম, এই প্রথম স্বকর্ণে শুনলাম। মনে হল, পাশেই। সবাই শুয়ে পড়লাম আলের ধারে। মনে হল মৃত্যু সামনে। হিমস্রোত বয়ে গেল শিরদাঁড়া দিয়ে। জীবনে এই-রকম মৃত্যু ভয় ২০১০-এ ট্রেনের তলায় পড়েও পাইনি।
    খানিক পরে সবাই ধাতস্থ হলাম। জানা গেল, হাতির পাল তখন আরো ৭ কিমি দূরে রায়নায়। অত দূরে ডাক-- মনে হল ঠিক পাশে।
    ৫০ টি হাতি সেবার চন্দননগর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। নদী পার হতে পারেনি। চন্দননগরে একজনকে আছড়ে মারে। একজনকে তেলের গরম কড়াইয়ে ডোবায়। পরে সে-সব পড়ি কাগজে।
    তা রাতে ফিরে আর ঘুম হলো না। যার যত হাতির গল্প আছে--সে-সব বলা ও শোনা হল। জিম করবেট থেকে খগেন মিত্তির, বুদ্ধদেব গুহ থেকে নিজের বাপ দাদো নানা --সবার গল্প উঠল। এই গ্রামে যে এক সময় বাঘ আসতো তাও আরেকবার শোনা হল। অবধারিত ভাবে ভূতের গল্প । একটু আধটু দেশ দুনিয়া-রাজা উজির। ভোরের আলোয় ইচ্ছে, খেজুর রস খাওয়ার। উপায়? শিউলি তো আসবে আরো পরে। একজন, 'ক', বুদ্ধি দিল, শোন জিকরিয়াভাইয়ের খেজুর রস পেড়ে খাই-- যা গাল দেবে না--শুনে মজা আছে।
    জিকরিয়াভাই বড়লোকের ছেলে ছিলেন। সুদর্শন পুরুষ। সব উড়িয়ে পুড়িয়ে পাশের গ্রামে এসে এক সুন্দরীকে বিয়ে করে রয়ে গেছেন। প্রথমে মাইকের ব্যবসা ফেঁদে ছিলেন। বায়না যতো হতো , তত পয়সা দিতো না লোকে, মাথায় হাত বুলিয়ে। বড়োলোকের ছেলে। লোকের বাড়ি গিয়ে ব্যবসা করব, খেতে দেবে, বলে বসে থাকতে সম্মানে লাগে। হিন্দু বাড়ি হলে থালা ধুয়ে দিতে বলে। ব্যবসার গণেশ ওল্টালো। জিকরিয়াভাই ভালো লোক। তবে রেগে গেলে খেপে যান। ইনোভেটিভ সব গাল দেন। বামুনপাড়ায় গিয়ে খেজুর রস পাড়া হলো। বামুনদের খেজুর গাছের রসের দায়িত্ব মুসলিম জিকরিয়াভাইয়ের হাতে।

    হিন্দু মুসলমান ভেদ তো তখন ছিল না। বন্ধুদের মধ্যে দু' সম্প্রদায়ের মানুষই ছিল। দু' হাঁড়ি খেয়ে কল থেকে জল ভরে টাঙ্গিয়ে দিল একজন।
    খারাপ লাগল-- আহা বেচারির ক্ষতি হয়ে গেল। হিসেব করে দেখা গেল, ২০ টাকা দাম। তা আমার পকেটে অনেক খুচরো ছিল। ৩০ টাকা মতো । ভরে দেওয়া গেল। যথা সময়ে ভোরে বেলায় জিকরিয়া ভাই নামালেন হাঁড়ি। অভিজ্ঞ মানুষ বুঝলেন গণ্ডগোল আছে। একজনকে খেতে দিলেন। রস নাই। জল । শুরু হল গাল। এরপর ঢেলে দিলেন হাঁড়ি। বের হল খুচরো পয়সা। এবার আর বাঁধ মানল না গালের। 'শ্লারা গরিব ভেবেছে আমায়, দয়া করেছে, তোদের ইয়ে করি'।
    আমরা তো পাশেই বারোয়ারি তলার কাছে নব চক্রবর্তীদের বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম। দয়ার কথা শুনে কাছে গিয়ে বললাম, ভাই , আর গাল দিও না। আমি করেছি। জিকরিয়াভাই বিশ্বাস করবেই না। 'তুমি করতেই পারো না'।
    সত্যিটা বললাম। দলে ছিলাম। ভাই বললেন, ভাই আমাকে বললেই পারতে, ঘরে দিয়ে আসতাম।
    আমি বললাম , সে তো আমাদের খেজুর গাছও আছে। কিন্তু এই মজাটা হতো না।
    জিকরিয়াভাই খুব দুঃখ প্রকাশ করল, ইস তোমার বাপ মা কতো ভালো মানুষ তাঁদেরও না জেনে গাল দিয়ে দিলাম বাপ মা তুলে।
    আমি বললাম, না জেনে বললে দোষ নাই।
    পরের দিন আরেক কাণ্ড জিকরিয়া ভাই--দু' হাঁড়ি রস নিয়ে হাজির।
    'এই রস খেয়ে দেখো'।
    খেতে হলো। পয়সা নিল না কিছুতেই। খেলাম। ভালো লাগলো।
    কিন্তু দুষ্টুমি করে খাওয়ার মজাই আলাদা। সে স্বাদের ভাগ হয় না।

    ৫/২

    গ্রামের জন বিন্যাস একটু বলা উচিত। তিন খানা গ্রাম পাশাপাশি। সরকারি নাম দুটো। আউশাড়া উদগড়া। একসময় বাবার এক বন্ধু উদগড়া উদয় নামে কোনো রাজার রাজত্ব উদয়গড় বলে তত্ত্ব আমদানি করেন। উদগড়ায় ছয় ঘর ধনী। চারঘর কাজীপাড়া আর শেখপাড়ায়। আর দু ঘর আছে রসপুকুরে। বর্গক্ষত্রিয়। প্রচলিত নাম, বাগদি। বাগদিদের দু ঘর বড়োলোক। গ্রামে ধনী মানে বিঘে ত্রিশেক জমি আছে, পুকুর আছে, গোয়াল আছে, নিজেদের বৈঠকখানা আছে। কারো কাছে হাত পাততে হয় না। তবে ব্যাঙ্কে সবার ঋণ আছে এবং সমবায় ব্যাঙ্কে। কম আর বেশি। কারো ৫০ বিঘে জমিও ছিল। আউশাড়ায় বড়োলোক আর শিক্ষিত লোকের সংখ্যা তখন বেশি। তবে লাঠির জো্র ছিল উদগড়ায়। বর্গক্ষত্রিয়দের কল্যাণে। আউশাড়ার ছিল কথা আর কলমের জোর। এটা সে-সময়ের কথা। এখন কথা ও কলম সর্বত্র। এবং লাঠি। আউশাড়ায় ৬৫ শতাংশ ছিলেন মুসলিম আর ৩৫ শতাংশ হিন্দু। মুসলিম পরিবার ছিল ৬৫ টি। এবং হিন্দু পরিবার ২৪ টি। এবং চর্মকার সম্প্রদায়ের আট টি। তখন নাম ছিল মুচিপাড়া। বাম আমলে সবাইকে সম্মান দিয়ে চলার রীতি চালু হয়। নাম হয় দাস পাড়া। দাস পাড়া ভোটের সময় আউশাড়া। ওঠাবসা চলায় উদগড়া। উদ্গড়ার লাগোয়া সেটি। দাস পাড়া বিচ্ছিন্ন। একটা ছোট মাঠ পেরিয়ে যেতে হয়। যেমন আদিবাসী পাড়া বা সাঁওতালপাড়া (বর্তমান নাম খাবড়িগড়, গড় মানে গ্রামে পুকুর বোঝায়)। আউশাড়ার সঙ্গে ওঠাবসা। কিন্তু মৌজা ও ভোটের হিসাবে উদগড়া। আউশাড়ার চারটি পাড়া। উদগড়া লাগোয়া মাঝের পাড়া। গ্রামে তখন প্রভাবশালী পাড়া। পয়সা ও রাজনীতির দাপটে। বড়োলোক আর মধ্যবিত্তের পাশাপাশি গরিবও থাকেন। গ্রামের একমাত্র দোতলা পাকা চার চার আট কামরার বাড়ি এ-পাড়ায়। গ্রামে বের হ ওয়ার রাস্তা তখন তিনটি। দুটি উত্তরপাড়ায়। একটি মাঝের পাড়ায়। পূর্ব দিকে পলাশন বাজার ও হাট। উত্তর-পূর্বে শ্যামসুন্দর কলেজ। উত্তরে রেল লাইন। দু কিমি হাঁটলে গোপীনাথপুর স্টেশন। বি ডি আর রেল চলতো। মিটার গেজ ট্রেন। পরে বিশদে বলবো। বাঁকুড়া দামোদর রিভার রেলওয়ে। পূর্বে রায়না থেকে পশ্চিমে বাঁকুড়া। এখন এটি ব্রডগেজ । বিদ্যুৎচালিত। মশাগ্রাম হয়ে কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত। উত্তর দিকে ডিভিসি-র ক্যান্যাল। ক্যানাল পেরিয়ে গোপীনাথপুর যেতে হয়। বছরে একবার বাঁশ দিয়ে সেতু তৈরি হতো। এখন বোধ হয় পাকা পুল হয়েছে। ক্যানাল ধরে হেঁটে বা সাইকেলে সেহারাবাজার। উত্তর পশ্চিমে। বড়ো বাজার। ভালো বিদ্যালয়। অঞ্চল পঞ্চায়েত দপ্তর। একটা ব্যাপার ছিল বাম রাজনীতির সময় সেহারা ঘাঁটি। আর কংগ্রেসের সময় শ্যামসুন্দর। নেতারা ওখানেই থাকতেন। গরম কালে মাঠে ধান না থাকলে জমির মাঝ দিয়ে সাইকেল চলার রাস্তা তৈরি করতো গোরুর গাড়ির চাকা চলে চলে। গ্রামে বলতো নিক/ লিক। সেই রাস্তা দিয়ে সাইকেলে রেললাইনে উঠে, মোরামের রাস্তা দিয়ে সাইকেলে যাতায়াত। আর নবম দশম পড়েছি সেহারা স্কুলে। ওইভাবে। বর্ষায় মূলত ছয় কিমি ছয় কিমি বারো কিমি হেঁটে। পরে গোপীনাথপুর স্টেশনে এক আদিবাসীর বাড়িতে মাসে এক টাকা দিয়ে সাইকেল রাখা হতো। দু কিমি জমির আলপথ দিয়ে হেঁটে গিয়ে পা হাত ধুয়ে জুতো পরে সাইকেল চাপা। প্রথম প্রথম স্টেশনের ওখানেই ফাঁকায় থাকতো। তালা দেওয়া না থাকলেও সাইকেল কোনোদিন কারো চুরি হয়নি। একবার কারো সাইকেলের সিট কভার হারানোয় ফাঁকায় ফেলে রাখা বন্ধ হল।


    পর্ব ৬

    পোষ সংক্রান্তি। আমরা ছোটবেলায় পৌষ নয় পোষ সংক্রান্তি ই শুনে এসেছি মা মাসিদের কাছে। আজ স্মৃতি কণ্ডুয়নের ভাবসকাল।
    ভোর ভোর উঠে মা দিদি এবং বাড়ির সহায়িকাদের মিলে মিশে পিঠে বানানো শুরু। অবশ্য গোটা শীতকাল জুড়েই সকালে পিঠের রেওয়াজ ছিল বাড়িতে। তবে এদিন একটু বিশেষ আয়োজন। বাঁধাকপি দিয়ে মাংস রান্নার গন্ধ চাগিয়ে দিত আমাকে। বাড়িতে খেজুর রসের অভাব ছিল না। খেজুরের গুড় তখনো কেনা শুরু হয়নি। বাড়িতেই হতো।
    বাবা বলতেন, দূর দূর দোকানের কেনা গুড় মানে ভেলিগুড় মেশানো। ও গোরুতে খায়। মানুষ খাবার অযোগ্য।
    অযোগ্যতে একটু বেশি জোর।
    অতএব বাড়িতেই রস থেকে গুড়। ভোর চারটেয় উনুন জ্বলতো। নিভতো বেলা দুটো নাগাদ।
    চা নয়, সকালে চুমুক দিয়ে এক গ্লাস ধোঁয়া ওঠা
    খেজুর রস। টগর ভাইয়ের পিছু পিছু ঘুরে বেড়াতাম আমি আর আমার সেজভাই।
    ও তো কলসীতে চুমুক দিয়ে চমকের পক্ষপাতী। বালতি ভর্তি দোয়ানো দুধ মেরে দিত চোঁ চোঁ করে। ( ও না পড়লেই মঙ্গল। এখন আবার প্রধান শিক্ষক) ।
    খেজুর গুড় দিয়ে ধুঁকি আর গোঁজা পিঠে দিয়ে সুরুয়াত। গোঁজা মানে খানিকটা মোমো ধাঁচের। মোমোতে মাংসের পুর থাকে এখানে নারকেলের পুর।
    ধুঁকি চালের গুঁড়ো হালাকা ভিজিয়ে একটা বাটিতে টাইট করে বসিয়ে তলা থেকে জলের ভাপ। খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়।
    এই পিঠে মুর্শিদাবাদে বিক্রি হতে দেখেছি।
    ২০১০ এ এক টাকা করে দাম ছিল। খেজুর গুড় দিয়ে বা ফোটানো রস দিয়ে খেতে হয়।
    পাটিসাপটা শহুরে ব্যাপার। ওসব গ্রামে ছিল না।
    তারপর আঁশকে পিঠের সাথে বাঁধাকপি আর হাড় মেশানো মাংস।
    ইসস।
    আর লিখতে পারছি না।
    এর মাঝে সেদ্ধ হতো ডিম।
    অন্তত 70 টি।
    বড়রা পাবে 6 টি।
    আমরা মেজরা অর্থাৎ 10-12 র দল 4 টি। ছোটরা 2 টি।
    এটিকে ডিম সেদ্ধ বলে অপমান করবেন না।
    এর নাম ছিল আন্ডা ভোগা।
    ডিম সিদ্ধ করে ছাড়িয়ে কাঠি দিয়ে ফুটো করে নুন হলুদ মাখিয়ে হাল্কা ভাজা।
    আহা কী তার সোয়াদ!
    এ পোল্ট্রির ডিমের যুগ নয়।
    সত্তর দশকের মাঝামাঝি।
    ভাতের সঙ্গে দুপুরে টমেটো/ (বিলিতি বেগুন বলে ডাকা হতো টমেটোকে) দিয়ে ডাল। শেষে হাতায় রসুন তেল দিয়ে কড়াৎ করে ফোড়ন।
    স্বাদই আলাদা।
    প্রয়াত অধ্যাপক নেতা হিমাচল চক্রবর্তীর স্ত্রী মীরা মাসিমা বলেছিলেন, এই ডাল খেয়ে এক মুসলমান ছেলের প্রেমে পড়েছিলেন, তার মায়ের হাতের অপূর্ব ডাল খেতে পারবেন বলে!
    ডাল ভাত, নিজেদের খেতের ধনে পাতার চাটনি, আলু মাংসের টুকটুকে ঝোল, বাঁধাকপি মাংস ছিল এদিনের স্পেশ্যাল, শিস পালং, বড়ি মুলো আর শিম দিয়ে। সব্জি ( শুধু বাঁধাকপিও হতো। পাঁচফোড়ন দিয়ে। তবে এটি বন্ধু জগন্নাথদের বাড়ির মতো জম্পেশ হতো না: আমি তো শীত এলেই কল্পনায় পাঁচফোড়ন দিয়ে আলু বাঁধাকপির গন্ধ খুঁজে বেড়াই, বেনে পাড়ায়, আহা আর মিলবে কি সেই গন্ধ!);
    এর সঙ্গে দিনে দুটি আন্ডা ভোগা/ ভাজা সেদ্ধ ডিম।

    তারপর ওড়াউড়ি ঘুড়িদের। আমি তেমন চৌকস ছিলাম না। আমার দাদা আর পরের ভাই জইনুল ছিল ঘুড়ির শাসনকর্তা।
    তাঁদের মাঞ্জা দেওয়ার ধুম ছিল দেখার মতো।
    আমার গম্ভীর পরে মাস্টারমশাই ছোটমামাকেও দেখেছি বামুনপাড়ার মাঠে দেদার ঘুড়ি ওড়াতে।
    তবে একটা দুঃখ যাওয়ার নয়।
    পোষ সংক্রান্তি আর মকরসংক্রান্তির দিন #দীঘলগ্রাম আর বর্ধমান পলেমপুরে মেলা/ জাত বসতো।
    নদীর ধারে বিশাল নাকি সে মেলা/ জাত।
    ছোটবেলায় কোন দিন যাওয়ার অনুমতি মেলে নি।
    যে বাবা আট বছরের ছেলেকে মাঘের শীতে সাইকেল চাপিয়ে১৫ কিলোমিটার দূরে 'মাওসেতুঙ' পালা দেখাতে নিয়ে গেছেন, তাঁর কথা-- জাতে ছেলেমেয়েদের স্বভাব নষ্ট হয়।
    চৌধুরী নানা বলতেন, ভাই সদরঘাটের মেলা মানে ঘুড়ি আর ছুঁড়ি।
    তোমার তো ভাই ছুঁড়ি দেখার বয়স হয় নি।

    পাশের বাড়ির ছেলেমেয়েরা যখন রাতে গরুর গাড়িতে বাঁশি বাজাতে বাজাতে মেলা/জাত দেখে ফিরতো-- ভাবতাম কবে বড় হবো। একা একাই যাবো মেলা দেখতে।

    বড় হয়ে এগার ক্লাসে পড়তে বর্ধমান এলাম।
    দামোদরের সেই বিশাল চরে ঘুড়ি আর ছুঁড়ির মেলা দেখলাম।
    কিন্তু মনের আয়েশ মিটল না। কী, সে রঙিন কল্পনা!

    ছোটবেলার আবেগ বড়বেলায় এমন ভোঁতা হয়ে যেতে আছে?

    (১৩ জানুয়ারি ২০১৮)
    পর্ব ১-৩ | পর্ব ৪-৬ | পর্ব ৭-৯ | পর্ব ১০-১২ | পর্ব ১৩-১৫ | পর্ব ১৬-১৮ | পর্ব ১৯-২১ | পর্ব ২২-২৪ | পর্ব ২৫-২৭ | পর্ব ২৮-২৯ | পর্ব ৩০-৩১ | পর্ব ৩২-৩৩ | পর্ব ৩৪-৩৫ | পর্ব ৩৬-৩৭ | পর্ব ৩৮-৩৯ | পর্ব ৪০-৪১ | পর্ব ৪২-৪৩ | পর্ব ৪৪-৪৫ | পর্ব ৪৬-৪৭ | পর্ব ৪৮-৪৯ | পর্ব ৫০-৫১ | পর্ব ৫২-৫৩ | পর্ব ৫৪-৫৫ | পর্ব ৫৬-৫৭ | পর্ব ৫৮-৫৯ | পর্ব ৬০-৬১ | পর্ব ৬২-৬৩ | পর্ব ৬৪-৬৫ | পর্ব ৬৬-৬৭ | পর্ব ৬৮-৬৯ | পর্ব ৭০-৭১ | পর্ব ৭২-৭৩ | পর্ব ৭৪-৭৬ | পর্ব ৭৭-৭৮ | পর্ব ৭৯-৮০ | পর্ব ৮১-৮২-৮৩ | পর্ব ৮৪-৮৫ | পর্ব ৮৬-৮৭ | পর্ব ৮৮-৮৯ | পর্ব ৯০-৯২ | পর্ব ৯৩-৯৪ | পর্ব ৯৫-৯৬ | পর্ব ৯৭-৯৮ | পর্ব ৯৯-১০০ | পর্ব ১০১-১০২ | পর্ব ১০৩-১০৪ | পর্ব ১০৫-১০৬ | পর্ব ১০৭-১০৮ | পর্ব ১০৯-১১০ | পর্ব ১১১-১১২ | পর্ব ১১৩-১১৪
  • ধারাবাহিক | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ৮৬৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • r2h | 2405:201:8005:9947:3c9b:7daf:3c70:e33e | ১৪ জুলাই ২০২১ ২৩:৪৭495795
  • আমাদের শহরে ছিল ডেড সাহেবের বাজার। ব্যবহৃত বিদেশি জিনিস পাওয়া যেত।

    পরে আমেরিকায় দেখলাম লোকজন গুডউইল দোকানে জিনিস দেয়, জিনিস কেনে।

  • Krishna Malik (Pal ) | ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৩৪503060
  • আমি বোড়ার মানু,  ইমানুলদা। পড়ছি কাদামাটির হাফলাইন। ভালো লাগছে। অনেক কিছু মেলাতে পারছি স্মৃতিতে।
  • Krishna Malik (Pal ) | ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৩৬503061
  • আমি বোড়ার মানুষ, ইমানুলদা।পড়ছি কাদামাটির হাফলাইন।ভালো লাগছে।অনেক কিছু মেলাতে পারছি স্মৃতিতে।
  • Rajesh Kumar Rakshit | 2401:4900:3be6:f9c5:ed6f:13fb:852e:dee1 | ০৪ এপ্রিল ২০২২ ১০:৪৩505987
  • আমার  বাড়ি আকুই  আপনার সঙ্গে বর্ধমান বইমেলায় একবার সাক্ষাৎ হয়েছিল 1992 সালেl সঙ্গে ছিলেন প্রণব বাসুধর । আপনার সহজ সরল ভঙ্গিতে a লেখা খুব সুখ পাঠ্য।পড়ে খুব ভালো লাগছিল
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন