বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • কাদামাটির হাফলাইফ

    ইমানুল হক
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১০ এপ্রিল ২০২০ | ৪৭৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • আরে, কাদা না থাকলে মানুষ তো বেঁচেই থাকতে পারতো না। শস্য সব্জি কিছুই কি তেমন মিলত? ফুল ফল অনেক কিছুই? কাদা আর বালির মিশেলেই তো জীবনের যত মার প্যাঁচ।

    পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের গ্রামজীবনের স্মৃতিচিত্রণ।
    পর্ব ১০

    ১৯৭৫।।

    ভাস্কর গাঙ্গুলি হাউহাউ কাদঁছেন।
    চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের সবার ঠিকানা সেদিন মতিলাল দাদুর দোকান। প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছে। কাদা ভর্তি রাস্তা। এ-রকম দিনে ফুটবল খেলার মজাই আলাদা। বলের পিছনে ছুটতে গিয়ে সড়াৎ করে বলের বদলে বিপক্ষের গোলে সেঁধিয়ে যায় কেউ কেউ। বড়রা আগরাপুরার মাঠে যায়। মেজো সেজো ছোটদের ঠিকানা গোলামহলের মাঠ। দুটো মাঠেই খেলা বন্ধ। রেডিও অল্প কজনের বাড়িতে আছে। তাঁরাও অনেকে চলে এসেছেন। একসঙ্গে বসে শোনার মজা বাডিতে হয় না।
    সবাই একদলের সমর্থক।
    মোহনবাগান।
    আজ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে খেলা। কিন্তু কোন বাঙাল বিদ্বেষ নেই। গ্রামে একজন মাত্র বাঙাল। তার উচ্চারণ নিয়ে মজা করে লোকে। কিন্তু বিদ্রূপ নয়। এমনিতেই খুব আমুদে ও মজাদার মানুষ।
    সবাই মোহনবাগান। কেন না, ইংরেজদের হারিয়েছে। দেশের গর্ব।
    একটার পর একটা গোল ঢুকছে মোহনবাগানের জালে।
    ধারাভাষ্যকার বলছেন, ভাস্কর গাঙ্গুলি কাঁদছেন।
    সবাই ভাস্কর গাঙ্গুলিকে গাল দিচ্ছে। ঠিক টাকা খেয়েছে ব্যাটা
    আমার খুব মায়া হল। খুব। আমি ভাস্কর গাঙ্গুলির জন্য কাঁদলাম। আহা রে বেচারা।
    আমি ভাস্কর গাঙ্গুলির ফ্যান হয়ে গেলাম ধীরে ধীরে।
    সে সময় গোলকিপার ভালো হলে লেভ ইয়াসিনের নামে নামকরণ হতো।
    আমাদের গ্রামের রাম-মামা যখন ছুটে আসা বল লম্বা হাত দিয়ে টেনে নিতেন-- আমার মনে হতো লেভ ইয়াসিন।
    আমার লেভ ইয়াসিন ভাস্কর গাঙ্গুলি পরের বছর ইস্টবেঙ্গলে গেলেন। আমিও ইস্টবেঙ্গল।
    সেখানে তখন পিন্টু চৌধুরি, গৌতম সরকারের রাজ। তাঁদের অনুরাগী আমি। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের লড়াকু মনোভাব আমাকে টানতো।
    ক্রিকেটে যেমন প্রিয় ছিলেন মহিন্দার অমরনাথ। বাদ পড়েন। আবার দলে ঢোকেন।
    তখন একজন সাংবাদিকের লেখা পড়ি আর কাঁদি। রূপক সাহা।
    অসহায় বঞ্চিত খেলোয়াড়ের কথা লেখেন। আর লিখতেন নির্মলকুমার সাহা। পরে 'আজকাল'-এ সহকর্মী।
    আরেকটি দল এই সময় খুব প্রিয় ছিল উয়াড়ি। বহু বড় বড় টিমকে নাকাল করে দিত।
    ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে খেলা থাকলে বিপদ। আমি দলপ্রেমী থেকে ক্রীড়াপ্রেমী বনে যেতাম।
    ভালো খেলা চাই।
    দলের চেয়ে খেলা বড়ো। এটা শিখিয়েছে উয়াড়ি।

    বর্ধমানের ঘটি পরিবারের সন্তান হয়েও ইস্টবেঙ্গল। চারপাশে সব বন্ধু আত্মীয় স্বজন মোহনবাগান। তবু কেন? শুধু ভাস্কর-মায়া? কিছুটা বাবার প্রভাব কিছুটা সমরেশ চৌধুরী, গৌতম সরকার, ভাস্কর গাঙ্গুলির আকর্ষণে এবং বাবার কথা ছিল, যাঁরা সংখ্যায় কম-- তাঁদের পাশে থাকবি: সবমিলিয়ে ইস্টবেঙ্গল। । তাঁদের ১০০ বছর। তাঁদের প্রকাশনা কাজের সঙ্গে সামান্য যুক্ত থাকার সুবাদে মঞ্চে ডেকে সম্মান জানালেন।
    মঞ্চে ছিলেন বাইচুং ভুটিয়া, সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ।
    এই করোনা বিষাদ কালে বিরাট পাওয়া।
    আজ বোধহয় ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মদিন।
    ১৩ আগস্ট সে-কারণেও আমার কাছে অন্যরকম।

    ছবি পাবো ভাবিনি । এক সুদর্শন তরুণ পথ আটকালেন।
    কিছু মনে করবেন না, আপনি কি ইমানুল হক? মুখোশে তো কিছুই চেনা যায় না।
    হ্যাঁ।
    আমি আপনাকে আজ প্রথম দেখলাম, প্রিয়াঙ্কার কাছে এত নাম শুনেছি। নাম শুনে, ওঁকে দেখানোর জন্য ছবি তুললাম।
    সুদীপবাবু নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামের প্রকৌশলী।
    প্রিয়াঙ্কা ১৯৯৯ এর কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজের ছাত্রী।
    ধন্যবাদ গোয়েঙ্কা কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ সুজিত রায়, ও ইস্টবেঙ্গলের সহ-সভাপতি রূপক সাহা। তাঁদের কারণেই আবার ইস্টবেঙ্গল যোগ। তাও ঐতিহাসিক ১০০ বছরে। এই রূপক সাহা সাংবাদিক নন। রূপবান পুরুষ। চমৎকার কথা বলেন। পেশায় স্বর্ণব্যবসায়ী।
    পুনশ্চ:
    আজকাল এইসব কথা বেশি হয় না। কিংফিসারের মালিক দুই ক্লাবে টাকা ঢালার পর আবেগ দেখানো কমে আসে।
    আমার প্রধান শিক্ষক ভাই মনে করালো, বাবার প্রভাবে তিন ভাই ইস্টবেঙ্গল। বড়দা মোহনবাগান। আরেকজন ক্রীড়াপ্রেমী নুরুল জানাল, সেও আমার বাবার প্রভাবে ইস্টবেঙ্গল হয়েছিল।
    #কাদামাটির_হাফলাইফ

    ---

    পর্ব ১১

    আমার জন্মভূমিতে দুটি উৎসব ছিল সবার। এক মাঘ মাসে ওলাইচণ্ডী পূজা তথা মেলা। সব বাড়িতে কুটুম আসার ধূম। তিন থেকে সাতদিন যাত্রা। আরেকটি চড়ক। বছরের শেষদিন। সমবেত হতেন গ্রামের সব পুরুষ। জন্মসূত্রে হিন্দু নারীরা তো বটেই কিছু মুসলিম নারীও। সবাই ধ্বনি দিতেন বাবা বুড়ো শিবের জয় হোক।। কাউকে আপত্তি করতে দেখিনি।

    গন্তা বেনে ছিলেন শিব পূজারী। আমাদের বাড়ি থেকেই তিনি তাঁর চড়ক পূজা আয়োজনের খরচ তোলা শুরু করতেন। বাবাকে বলতেন জ্যান্ত শিব। কারণ বাবা যখন নাবালক তখন তাঁর খুচরো অভিভাবকরা অনেক জমি বেচে দেন। গন্তা বেনে কাকুরা কেনেন ৭ বিঘা। সেই জমি সেটেলমেন্টে আইনত বাবার হয়ে যায়। কিন্তু বাবা ওদের আবার রেজিস্ট্রি করে দেন।

    যাই হোক গন্তা বেনে ছিলেন গ্রামের সবচেয়ে ধার্মিক ব্যক্তি। মাটির মানুষ। তিনি কোন মুসলিমকে দেখলেই বলতেন, সালাম।

    মুসলিমরা বলতেন, নমস্কার।

    #

    অন্যকে সম্মান জানানোই ছিল রীতি।

    জ্যোতি বসু শিখ গুরুদোয়ারায় গিয়ে মাথায় রুমাল দিয়েছিলেন ১৯৮৪ র শিখ দাঙ্গার পর।

    নরেন্দ্র মোদীও বোহরা মুসলিমদের কাছে গিয়ে টুপি পরেন।

    রাজনাথ সিং হামেশাই করেন।

    বাজপেয়ী তো সুবিদিত ছিলেন লক্ষ্ণৌয়ে। প্রচুর মুসলিম ভোট পেতেন তিনি।

    এই সেদিন নীতীশ কুমার, রবিশঙ্কর প্রসাদরা টুপি পরলেন ইফতারে গিয়ে।

    দুই বাংলার অদ্ভুত ব্যাপার।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঁদুর পরেন পূজা মণ্ডপে গিয়ে।

    সেজন্য জামাতিরা সমালোচনা করে। মিম বানায়‌। হাসি দেবী বলে।

    পশ্চিমবঙ্গে মমতা মাথায় ওড়না দিয়েছেন বলে সংঘ পরিবার আওয়াজ দেয় বুঝি।

    কিন্তু অতিপ্রগতিশীল নাট্যব্যক্তিত্ব তাঁকে সমালোচনা করলেন।

    আর বাংলার সারস্বত সমাজের একাংশের সামনে।

    কেউ প্রতিবাদ করলেন না।

    তার মানে সমর্থন করেন।

    'মমতাজ বেগম' বলাটা যে আর লজ্জার থাকতে দিলেন না।

    গপ্পো জমুক বাজনা বাজুক ড়াম ভামকীর্তনের!

    এবার মোদাইক যাবে যুদ্ধে।

    পুনশ্চ: আমি একটি পূজা কমিটির একজন কর্মকর্তা। প্রতিবেশী অঞ্জলি বা সন্ধি পূজার সময় জানতে আমাকে ফোন করেন।

    আমি মাঝে মাঝে অঞ্জলি দিই। অষ্টমীর পূজার পর আমার মাথায় আগুন ছোঁয়ান প্রতিবেশিনীরা। সিঁদুর খেলায় সিঁদুর দেন। আমার কোন ধর্ম নেই। থাকলেও বদলাত না।

    ১৯ জানুয়ারি ২০১৯

    ---

    পর্ব ১২

    আমার হাতে খড়ি হয়েছিল প্রভাকর মজুমদার ওরফে পটল ঠাকুর ওরফে পটল বামুনের হাতে। তাঁর কাছেই আমাদের ইনফিন ( ইনফ্যান্ট/ প্রাক প্রাথমিক) জীবন। অ আ থেকে নামতা ঘোষা। কাকিমা গোবর ন্যাতা দিয়ে রাখতেন। আমরা নিয়ে যেতাম তালপাতার চাটাই। কেউ আনতো চট। পটলকাকা ছিলেন জুনিয়র হাইস্কুলের পিওন। পূজা আর্চাও করতেন। এ গ্রাম সে গ্রাম। তাঁর ছেলে নিখিল ভাইপো দিলীপও পড়তো আমাদের সঙ্গে। পড়ার বাহানা শেষ হলেই ফুলপুকুরে ধারে আমের সময় আম খেজুরের সময় খেজুর গাছের তলায় ছোটা। একসঙ্গেই খাওয়া। ছোঁয়াছুঁয়ি ঘৃণা কখনও চোখে পড়েনি।
    যতদিন গ্রামে থেকেছি, দশম শ্রেণি পর্যন্ত কোন অষ্টমীতে বাড়িতে খাইনি। নিখিল দিলীপ তাপস জগন্নাথরাও কোন ইদে বাড়িতে খেতো না।
    দুপুর থেকে রাত বন্ধুদের বাড়ি বাড়ি লুচি ছোলার জিরে লঙ্কা সাঁতলানো ডাল নারকেল নাড়ু খেয়ে কাটতো।
    আজও জগন্নাথের মা ও পটলকাকার স্ত্রীর মতো ভালো ছোলার ডাল আমি খাইনি।
    গ্রামে গেলেই বারোয়ারি তলায় যাই। প্রতিটি বাড়ি বাড়ি যাই। মাসিমা কাকিমা দিদিমা মামিমাদের সঙ্গে কথা বলি। কিছুজনের সঙ্গে বাবার সম্পর্কে কথা। কিছু বাড়িতে মায়ের সম্পর্কে সম্বোধন। ওটা আমার মামার বাড়ির পাড়াও।
    পটলকাকিমা গেলেই মনে করান, তোর মনে আছে, তুই শুধু ডাল খেতে চাইতিস। লুচি খেতিস না। বলতিস, এত সুন্দর ডাল বানাও।
    আর বছরভর আমাদের আড্ডার জায়গা ছিল বারোয়ারিতলা। বৃষ্টি এলে শিবমন্দিরের চালের নীচে। বেশিজন হলে একটু দূরে মসজিদের বারান্দায়। মসজিদে প্রথমদিকে একটা রোয়াক ছিল। এখন নেই। শিবমন্দির পাকা হয়েছে। রেলিং দিয়ে ঘেরা। মসজিদেও এখন দরজা। পাঁচিল।
    গ্রামে তখন উৎসব তো চারটে। দুটো ইদ। রমজানের ইদ আর বকরিদ। রমজানে উৎসাহ কম। বকরিদে বেশি। একটা চৈত্র মাসে শিবের গাজন অন্যটা মাঘমাসে ওলাইচণ্ডী পূজার সময় মেলা।
    সেটাই সবচেয়ে বড়।
    হাতে পয়সা থাকে সবার।
    একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামে দুর্গাপূজা দেখি নি। মানুষের আর্থিক সঙ্গতি ছিল না।
    বাজারে গঞ্জে দুর্গা আসতেন।
    গ্রামে শিব আর ওলাইচণ্ডীর রাজত্ব।
    সেই রাজত্বে সবার সমান অংশ ছিল।
    শীতকালে পূজা। স্কুলের পরীক্ষা শেষ। ওলাইচণ্ডীর মূর্তি গড়া শুরু। রাতদিন পড়ে থাকা বারোয়ারি তলায়।
    খড় দিয়ে কাদা মাখা, কাদা তুলে মদনদাকে দেওয়া। মদনদা তখন আমাদের হিরো। ওই কাদা দিয়ে বাঁশের কাঠামোকে বানিয়ে তুলবে দেবী।
    রঙ দেওয়ার আগে আমরাও আবোল তাবোল মূর্তি গড়তাম। মদনদা দয়াপরবশ হয়ে রঙ দিত।
    আমার ছিল সিংহ গড়ার ঝোঁক। বছরের পর বছর এক মূর্তি বানানোর অক্ষম চেষ্টা। মদন চোখটা ঠিক করে দিতো তুলি দিয়ে।
    মদনদা বছরের অন্য সময় জেলে। মাছ ধরে। শীতে তাঁর আলাদা কদর। শিল্পী।
    এ বাড়ি সে বাড়ি থেকে জলখাবার আসতো।
    বারোয়ারি তলায় সাকুল্যে তখন ১৩ ঘরের বাস। কিন্তু কত নাম। কেউ বলতেন, বেনেপাড়া। দু ঘর পয়সাওয়ালা বেনে। কেউ বলতেন, বামুনপাড়া। সাত ঘর বামুন। একঘর কায়স্থ। কলু/ তেলি তিনঘর। কেউ বলতেন, কাছারিপাড়া। গাঁয়ে একাধিক জমিদার। মাদানগরের দাঁয়েদের জমি ছিল গ্রামে। তাঁদের কাছারিবাড়ি।
    সেখানে নাটক বা যাত্রার রিহার্সাল হতো।
    ছোটদের নাটক গ্রীষ্মে। বড়দের শীতে যাত্রা।
    নাটক রবীন্দ্র ও নজরুলজয়ন্তী ঘিরে। যাত্রা ওলাইচণ্ডী পূজা ও মেলাকেন্দ্রিক। ৮০ শতাংশ অভিনেতা মুসলিম।
    আমাদের খুব প্রিয় ছিলেন রামমামার মা। সবার দিদিমা। অন্নপূর্ণা দত্ত। রসিকা মানুষ। এখন ৯০ এর কাছাকাছি বয়স। খালি গা। গ্রামের আর পাঁচজনের মতোই। বড়লোকের বউ। স্বামী হাইকোর্টের কাজ করতেন। দাদু এবং দিদিমা দুজনেই অমায়িক ভদ্রলোক।
    দিদিমাকে প্রণাম করলেই গালে হাতে দিয়ে নিজের হাতে চুমু খান। সেটাই আশীর্বাদের ধরন। এক গ্লাস সরবত বা দুধ খেতেই হবে তাঁর বাড়ি গেলে।
    এখনও না গেলে অভিমান করেন।
    দিদিমাকে ভুলে যাচ্ছিস ভাই।
    সবজায়গাতেই ছিল বাবার জোরে খাতির। দিদিমার কাছে আমরা মায়ের ছেলে।
    ১২ বছর বয়সে বউ হয়ে আসেন। চারপাশ নির্জন। গাছপালা ঢাকা। পাশে বাড়ি বলতে আমার নানার বাড়ি। বলা ভালো নানির বাড়ি। আমার নানিও ওই গ্রামের মানুষ। নানি আর দিদিমা সই পাতান। তাঁর শাশুড়িই উদ্যোগ নেন। একা বউ কী করে থাকবে? বিধবা শাশুড়ি। কতদিকে নজর দেবেন।
    দিদিমা বলছিলেন, তোমার নানাই তোমার দাদুকে কলকেতায় নিয়ে গিয়ে কাজে লাগিয়ে দেয়। থাকার জায়গাও ঠিক করে দেয়।
    সে-কথা ভুলে যাওয়া কি মানুষের কাজ?
    আমার মায়ের সইমা রামমামার মা।
    নানির নাম সালমা খাতুন। দিদার নাম অন্নপূর্ণা দত্ত।
    সমবয়সী দুই সখী। দুজনেই গ্রামের নতুন বৌ।

    #

    আজ মা বাবা নানি কেউ নেই।
    রামমামার মায়ের কাছে শৈশবের গন্ধ পাই।

    #

    আমার মায়ের মৃত্যুর কদিন আগে অসুস্থ হয়ে সেবাকেন্দ্রে ছিলেন। সেবিকা জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি হিন্দু?
    কেন?
    না আপনার আমার কাছে জবাফুল চাইছিলেন।
    মা তখন আমাদের চিনতে পারছিলেন না। ছোটবেলার খেলার সাথীদের নামে ডাকছিলেন।
    মা ফিরে গিয়েছিলেন শৈশবে জবাফুল দিয়ে ঠাকুরপুজো খেলার দিনগুলিতে।

    #

    আমরাও তো কতো পুজো পুজো খেলেছি।
    দুভাই বাঁশের কঞ্চি দিয়ে রাম লক্ষ্মণ সেজেছি।

    #

    সেখানে ভয়ের হারামি লক্ষণ ছিল না।
    মনের আরাম ছিল।
    দূর্বাদলশ্যাম রামের প্রসন্ন মুখ।
    আমার বাবা যে রাম সেজে ছিলেন যাত্রায়।
    একবার রাম একবার শম্বুক হত্যার অন্যতম আয়োজক গুপ্তচর দুর্মুখ।

    #

    আমার বাবাকে রামরূপে দেখেছি।
    এ কাদের দেখছি দুর্মুখরূপে।

    ৬ আগস্ট ২০২০
  • ধারাবাহিক | ১০ এপ্রিল ২০২০ | ৪৭৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Krishna Malik (Pal ) | ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ১৭:৫৬503064
  • কী যে ভালো লাগল কী বলব! প্রতিবেশী গ্রামের প্রতিবেশী আপনি।  
  • reeta bandyopadhyay | ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ২২:৩৩503102
  • ফিরে প্রথম পর্ব থেকে শুরু করেছি আবার, আগের গুলো পড়া ছিলনা, একেবারে মানষভ্রমণ হচ্ছে।অনন্তকাল লিখে চলুন,কি সহজিয়া লেখার ভঙ্গি, অপূর্ব । 
  • touhid hossain | ০৬ এপ্রিল ২০২২ ২২:৪৪506090
  • মনের আরাম। মিশ্র ঐতিহ্য আমাদের। অনবদ্য❤
  • ><>< | 216.105.168.26 | ০৬ এপ্রিল ২০২২ ২২:৫৪506093
  • চোখে জল এল।
  • Emanul Haque | ০৬ এপ্রিল ২০২২ ২৩:২০506096
  • ধন্যবাদ সবাইকে
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন