ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • কাদামাটির হাফলাইফ

    ইমানুল হক
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ০২ নভেম্বর ২০২০ | ৩০৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • আরে, কাদা না থাকলে মানুষ তো বেঁচেই থাকতে পারতো না। শস্য সব্জি কিছুই কি তেমন মিলত? ফুল ফল অনেক কিছুই? কাদা আর বালির মিশেলেই তো জীবনের যত মার প্যাঁচ।

    পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের গ্রামজীবনের স্মৃতিচিত্রণ।

    ১৯

    #আলুপোড়া ও আলুর ভবিষ্যৎ পোড়া

    ভারতের শস্যভাণ্ডার বলা হয় বর্ধমানকে। আবার বর্ধমানের শস্যভাণ্ডার রায়না। একদিকে দামোদর নদ অন্যদিকে নেহরু প্রচলিত দামোদর উপত্যকা নিগমের খালের জলে এই এলাকা সমৃদ্ধ। মাটিও অসাধারণ। কলকাতার লোক যাকে গোবিন্দভোগ চাল বলে চালায় তার আসল নাম খাস চাল। আসলে খোসবু চাল থেকে খোস চাল হয়ে লোক মুখে দাঁড়িয়ে গেছে খাস চাল। খাস মানে আসল এবং সুগন্ধি। এই খাস ধান দেখতে খুব সুন্দর। শিস দেখতেও দারুণ। আগে খাস ধানের খড়েরও গন্ধ ছাড়তো। এখনো গন্ধ আছে। অল্প। খাস চাল রান্না করলে বেশ খানিকটা দূর থেকে টের পাওয়া যেতো। এই ধান যে সে জমিতে হয় না। অল্পে অভিমানী। বেশি বা কম জল-- চলে না। পরিমিত।
    এই খাস ধান ছিল চাষীদের লাভের এক ঠিকানা। বাকি চাষে লাভ ছিল না। নিজেরা শ্রম দিলে ভিন্ন কথা।
    তবে এলাকায় ধান ছাড়াও আলু পেঁয়াজ গম সর্ষে তিল চাষ হতো দেদার। আর হতো কুমড়ো ও কুসুম বীজ চাষ।
    সব্জিও হতো। শীতকালে ফুলকপি বাঁধাকপি পালং। বিট গাজর করতেন কেউ কেউ শখে। আমার বাবা খেয়ালি মানুষ বার কয়েক বিট গাজর লাগান। রায়গঞ্জ থেকে নিয়ে আসেন বড়ো নরম বেগুনের বীজ। এক পিস বেগুন ভাজা গোটা প্লেট জুড়ে। তা দেখতে লাগতো। বড়দি-কে দেখতে এলে এই বেগুন ভাজা দেওয়া হয়েছিল। আর মনে আছে গোলাপ জল জাফরান মেশানো দুধের সরবত। বোধহয় তাতে কাজুও ছিল। এটা পরে ছিল জামাই স্পেশাল। মা-কে ঠাট্টা করে বলতাম, তোমার ছেলে না হয়ে জামাই হলে ভালো হতো।

    পাটচাষও কিছু চাষী করতেন। ভুট্টা গাজর যব চাষ করতে দেখেছি বাবাকে বার দুয়েক।
    বাবা তো নিজে চাষ করতেন না, মধ্যবিত্ত কৃষক খেতমজুরকে দিয়েই করান। কিন্তু বাঁধা কৃষাণ থাকতো। থাকতো বাগাল। কৃষাণের সঙ্গে ১ মাঘ চুক্তি হতো। সারা বছরের। নির্দিষ্ট টাকা এবং ধানের বিনিময়। এছাড়া লুঙ্গি গামছা জামা এবং অবশ্যই বিড়ির হিসেবও থাকতো।‌ কেউ চাইতো দিনে ১০ টি। কারো বা দাবি একতাড়া। মানে ২৫ টি।
    বংশানুক্রমিক ভাবে এই কৃষাণ প্রথাও দেখেছি। এঁরা ঠিক চাকর নন, বাড়ির একজন। ছোটদের শাসন করার পূর্ণ অধিকার থাকতো। বাড়িতে এদের কদর ছিল।
    তা আমার আলু চাষের প্রতি আগ্রহ ছিল দুটি কারণে। এক, আলু শাক, অপূর্ব খেতে। এতো ভালো শাক আর নেই। একটু সামান্য খ্যসখ্যাসে। সেটাই তার আকর্ষণ।
    মুসুর ডাল দিয়ে আলুশাকে দু থালা ভাত উড়িয়ে দিতে পারতাম। এতো প্রিয় ছিল আমার।
    আর আলু ওঠার সময় আলু পুড়িয়ে নুন দিয়ে খাওয়া।
    প্রত্যেকের জমিতেই ধানের খড় দিয়ে নতুন আলু পোড়ানো হতো। পোড়ালে বাইরেটা একটু শক্ত হতো। নুন দিয়ে খেতে অমৃত লাগতো। গ্যাসে পুড়িয়ে সে-স্বাদ মেলে না।
    আলু পেঁয়াজ সর্ষে গম তিল সব উঠে গেল। কারণ লাভ কম খরচ বেশি।
    আলু ঘরে চার পাঁচ মাসের বেশি রাখা যায় না। পচে যায়। হিমঘর কম। আলুর রাখার বন্ড পেতে হয় দালাল নয় নেতাদের ধরতে হয়।
    বহু হ্যাপা।
    আলু মূলত দু-ধরনের হতো নৈনিতাল আর লাল আলু। লালু ঠিক মিষ্টি নয়, লাল রঙের দেখতে। অপূর্ব স্বাদ ছিল। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে রাম্মাম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছের বাজারে এই আলু বহুকাল পরে দেখেছিলাম।
    আর ছিল ঠিকরে আলু। মানে ছোটো আলু। এর ডাল হতো অসামান্য। বাড়িতে একে বলতো খাগিনা। একটু আদা জিরে বাটা দিয়ে আলুর ডাল। সঙ্গে জিরে রসুন লঙ্কার ফুটন্ত তেলের ফোড়ন। রায়গঞ্জের কাছে বুনিয়াদপুরে এক চাষি পরিবারের ঘরে বহুদিন পর সে-ডালের স্বাদ পাই।
    খাদেমুল ইসলামের আমন্ত্রণে বক্তৃতা করতে গিয়ে। গাড়িতে যাচ্ছি। দেখি আলু তোলা হচ্ছে। পুরাতন স্মৃতি উস্কে উঠল। নেমে পড়লাম।
    ওঁরা বললেন, খেয়ে যান। টিনের বেড়া দিয়ে ঘর। স্বল্পবিত্ত মানুষের। দেখলাম, রান্না হচ্ছে। চা বিড়ি সিগারেট মদ খাই না বলে আমার ঘ্রাণশক্তি প্রবল। রান্না থেকে ছোটোবেলার গন্ধ। বললাম, ওটা খেতে পারি। আলুর ডাল।
    কী নাম বলেছিলেন, মনে পড়ছে না।
    এক গ্লাস ভর্তি করে খেয়ে মায়ের অভাব আরেকবার অনুভব করলাম। আমার খাওয়ার তৃপ্তি দেখে আরেক হাতা ঢেলে দিলেন। মুখে তো না না করতেই হল, চক্ষুলজ্জায়, মন কিন্তু ডালে। এবং গালে।
    আচ্ছা, মাকে কি ছেলেদের বয়স বাড়লে নোলার কারণে মনে পড়ে?

    নৈনিতাল শৌখিন আলু। বীজের দাম বেশি। আবার বেশি দিন টেকে না। তারপর চন্দ্রমুখীর রাজত্ব কায়েম হল। এর কিছুকাল পরে এলো জ্যোতি আলু। খ্যাসখেসে খেতে। বাবা বললেন, জ্যোতি একটা আলু হলো! এতো গোরুর খাবার। কিন্তু ফলন বেশি। টেকেও। জ্যোতিরাজ চললো। প্রথম প্রথম ভালো লাগতো না।
    কারণ বাবার দেখাদেখি আমি ছিলাম আলু ভর্তার ভক্ত। বিয়েবাড়ি খেয়ে এসেও আলুভর্তা আর একটা ডিমের পোচ ও ডিমের নুন ভাজা তেল মেখে একটু সাদাভাত না খেলে এই সে-দিনও মনে হতো, কিছু খাওয়া হয় নি।
    মধুমেহ এই মোহ কিছুটা ঘুচিয়েছে।

    এর মাঝে শুরু হলো বোরো চাষ। ১৯৭৮ নাগাদ পাশের গ্রামে হাজির হলো একদল তামিল। এসে তাঁবু গাড়লো।
    হইচই পড়ে গেল চারদিকে।
    কী ব্যাপার?
    ---

    ২০

    ছোটোবেলায় পাঠ্য বইয়ে গান্ধী সম্পর্কে যত ভালো ভালো কথাই লেখা থাক, গান্ধী মোটামুটি সবার কাছে গাল খেতেন। শুধু 'হিন্দু' সম্প্রদায়ের মানুষ নন, 'মুসলমান'রাও গান্ধীকে দেশভাগের জন্য দায়ী করে গালাগাল দিতেন। মোদ্দা বক্তব্য, উনি চাইলে দেশভাগ ঠেকাতে পারতেন। করেন নি। মৌনীবাবা হয়ে বসে রইলেন। না হলে মুসলমানদের এতো দুর্দশা হতো না। রাজ করতো। পরে মৌলানা আবুল কালাম আজাদের 'ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম', সহ অন্যান্য বই পড়ে বুঝেছি, এটা ঠেকানো কঠিন ছিল। কংগ্রেস মুসলিম লিগ হিন্দু মহাসভা -- সবাই নানা হিসাব কষছিল। ক্ষমতার হিসেব। নেতারা অনেকেই কে কোন পদে যেতে পারবেন, কী পাবেন, এই হিসেবে ব্যস্ত ছিলেন।
    ফাটল ভিতরে, বাইরে চুনকাম বা মেরামত করলেও ফাটল দেখা না গেলেও ফাটল বুজতো না।
    গান্ধীর সঠিক মূল্যায়ন আজো হয় নি। গান্ধী ভারতকে অনেকটাই বুঝেছিলেন। তাঁর মতো নেতা আর আসবে কি?
    গান্ধী ও তাঁর ভাবশিষ্য নেহেরু ভারতকে কতটা এগিয়ে দিয়েছিলেন, আজ তাকে পিছনের দিকে ঠেলে গান্ধীর হত্যাকারীদের সমর্থকদের নৃশংস রাজত্ব তা বুঝিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।
    তবে, গান্ধী যে সপ্রশংস গালাগাল সেটা বাবার উদ্দেশে প্রয়োগ দেখে বুঝতাম। পার্টির লোকজন বলতো, গান্ধীবাদী কমিউনিস্ট। বামপন্থী শব্দটা তখন কমিউনিস্টের বলা যোগ্য বিকল্প হয়ে ওঠে নি।
    বাবা মারধোরে বিশ্বাস করতেন না। তবে সেটা রাজনীতি এবং গ্রাম্য বিবাদ বা বিচারে।
    কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অহিংস থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভবত সম্ভব ছিল না। চড় চাপাটি ভালোই জুটতো।
    তবে, আমি একটু শরীরী ভাষা বোঝায় অতি অল্প বয়সেই পারঙ্গম হয়ে উঠেছিলাম, বাবার চোয়াল শক্ত হচ্ছে দেখলেই, দে ছুট। লিকপিকে পায়ে সীমান্ত পার।
    একবার নাকি বাজারের দু টাকা হারিয়ে ফেলে মারের ভয়ে ভূত প্রেতের আড্ডাখানা বলে পরিচিত কলাপুকুরের পাড়ে এক গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে কাদা হয়ে শুয়েছিলাম। দাদা খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসে ঘুমন্ত অবস্থায়।
    এ আমার শোনা কথা। মনে নেই। তবে তিন বছর বয়সের একটা ঘটনা স্পষ্ট মনে আছে। ১৯৬৯। যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে পার্টির লোকেরা ১০০ কিলোমিটার লংমার্চ করে কলকাতা গেছেন। বাবাও। হাতে সবার লাঠি। কারো হাতে টাঙ্গি। আদি বাসিন্দা কমরেডদের সঙ্গে তীর ধনুক। পথে বাধা এলে লড়াই করেই এগোবেন, এই মনোভাব।
    এ-কালে আজকাল আর এস এসের মিছিলে যেমন তরবারি বন্দুক পিস্তল দেখছেন, সে-কালে ছিল কমিউনিস্টদের লাঠি টাঙ্গি তীর ধনুক।আর ধামসা ।
    তবে তফাৎ আছে।
    অকারণ দাঙ্গা মারপিট বানাতো না, লুটপাট করতো না, ধর্মের বা জাতের নামে ভয় ছড়াতো না। জোতদার আর তাঁদের দল কংগ্রেসের আক্রমণ ঠেকানোর প্রস্তুতি ছিল ওটা।
    বাবা তো কলকাতা অভিযানে। সে-রাতেই আমাদের বাড়ির এক গোলা ধান চুরি হয়ে গেল। চোরদের বড়োরা দেখলেন। মুখে গামছা বাঁধা। কিন্তু গ্রামের লোকজন আসপাশের লোকজনদের মোটামুটি অল্প বিস্তর চেনেন। বুঝলেন সবই। কিন্তু কিছু বলার উপায় নাই।
    আমাদের পূর্বপুরুষদের আমলের একটা শখের বৈঠকখানা ছিল ২০ ইঞ্চি চওড়া দেওয়াল।
    বালিমাটি আর পাটের মিশেলে তৈরি। দেওয়াল ছিল সিমেন্টের চেয়েও মসৃণ। লালুপ্রসাদ যাদব বর্ণিত, হেমা মালিনীর গালের মতোই পেলব।
    শোনা কথা, ডিমের লালা দিয়ে পালিশ করা। পরে স্থাপত্যবিদ্যার বইয়ে এর সমর্থন মিলেছে।
    কাঠের কড়িবর্গায় ছিল সুদৃশ্য কারুকাজ।
    বৈঠকখানায় খড়ের চাল। সে চালেও বেতের কাজ। সেই বৈঠকখানায় পরদিন বিচার বসল। যাঁরা চুরির পরিকল্পক তাঁরাই বিচারক। ধানের গোলা থেকে নমুনা ধান নিয়ে তাঁদের বিচারে দোষী চোরদের বাড়ি অভিযানে চললেন।
    বাড়ির মেজো ছেলে হওয়ার সুবিধা অসুবিধা দুই ই আছে। অসুবিধা বাড়তি সমাদর নাই। তার উপরে বাকিরা মায়ের মতো না হলেও ফর্সা্। আমি কালো। আমাকে 'কাল্টা' বলেও ডাকা হতো।
    মনোযোগ কম।‌ ফলে স্বাধীনতা বেশি। আর আমার মতো সব বাচ্চারাই ঘুরতে ভালোবাসে।
    তা আমিও ওদের পিছু নিলাম।
    আমাদের বাড়িতে তখন তপশিলি জাতির মানুষ দুইভাই কাজ করতেন। আমাদের সবার প্রিয় তাঁরা। তদন্তকারী দল গেলো সেখানে। হম্বিতম্বা হল। তারপর তাদের ঘর খুলে দেখা গেল, ধানের কোন বস্তা নাই। সেখানে কিছু আমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া ধান ছিটিয়ে প্রমাণ করা হলো, ওরাই চোর।
    মারধোর হলো বিচারে।
    তাঁরা যতো বলেন, আমরা চুরি করি নি। ততো মার।
    ওঁরা কাঁদছেন আর বলছেন, ওই বাড়িতে আমরা কী করে চুরি করবো? ওঁরা আমাদের বাড়ির ছেলের মতো ভালবাসে। আমরাও ভালোবাসি।
    তখন শ্রদ্ধা কথার চল হয় নি গ্রামে।
    ভালোবাসাই ছিল বড়ো মাপকাঠি।
    এতে মার কমলো না।
    বাড়লো।
    এই দুই ভাই আমার খুব প্রিয় ছিল। চমৎকার জমিয়ে গল্প বলতেন। আমাকে একটু প্রশ্রয়ও দিতো। লুকিয়ে বিড়ি জোগাতাম।
    আমার কান্না এলো মার দেখে। কিন্তু লোকে বলে, ছোটো। ছোটোরাও বোঝে। ভালোই বোঝেন।
    আমি চুপচাপ দেখলাম। বুঝলাম, এখানে শব্দ করে কাঁদা নিষেধ।
    পরে রাতের অন্ধকারে ওই দুই ভাই আমাদের বাড়িতে এসে, মায়ের পা ধরে কী কান্না।
    ভাবি, বিশ্বাস করো চুরি করি নি আমরা। তোমাদের বাড়িতে চুরি করতে পারি বলো!
    মা বললেন, সব জানি রে। কারা চুরি করে কোথায় ধান বেচেছে, তাও জানি। কিন্তু এখন বলা বিপদ।
    তোদের ভাই আসুক।

    ওই ভাইয়েরা আর কাজ করতে চান নি, আমাদের বাড়িতে, বলেন, এবার যদি কাজ করি বলেছে, ডাকাতির কেস দিয়ে দেবে।
    আসলে, আমাদের বাড়িতে যাতে কেউ কাজ না করে, রাতে পাহারা না দেয় এবং আর্থিক সংকটে পড়ি, সেটাই ছিল লক্ষ্য।
    বাবা ফিরে এসে সব শুনলেন।
    কাউকে কিছুই বললেন না।
    মাঝে মাঝে দার্শনিক হয়ে যেতেন, বললেন, মনে করো ওগুলো মরাইয়ে ছিল না।

    ২ অক্টোবর ২০২০

    ---

    ২১

    স্মৃতিকথার নিয়মে এই অংশ লেখার কথা এখন নয়। কিন্তু একটু আগে আজ দুপুরে গায়ে ব্যথাময় স্বপ্নে একজনের সঙ্গে কথা হলো। না লিখলে ঘোর অন্যায় হবে। অভীক লাহিড়ী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। বাংলা নিয়ে। রোগা ছোটোখাটো শরীর। ইন্দ্রনীল মজুমদারের কল্যাণে এঁদের সঙ্গে চেনা। নীলোৎপল বসু তখন এস এফ আই রাজ্য কমিটির পক্ষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে। তাঁর সঙ্গেও এখানে আলাপ। আগে দেখেছি ১৯৮০তে।‌ শ্যামসুন্দর কলেজে এস এফ আই রাজ্য কমিটির দু'দিনের সভা হয়। গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাল ডাল সংগ্রহ করে জমা দিতে যাই শ্যামসুন্দর কলেজ ছাত্রাবাসে। তখন দেখি। সেখানেই ভালোভাবে কথা সাইফুদ্দিন চৌধুরী ও সুব্রত মুখোটি, মইনুল হাসানের সঙ্গে। ওঁদের লেখা পড়তাম 'ছাত্রসংগ্রামে'। যাদবপুরে যাতায়াতের সূত্রে চেনাজানা হয় অভীক লাহিড়ী, পল্লব পোদ্দার, জয়দেব বসু, দেবেশ দাস, শুভময়দা, শান্তনু বসু, মানস দাস, স্বাতীদি, সৌম্য দত্ত, বিদ্যুৎ মজুমদার, উৎপল দত্ত, সৌগত রায়, সৌগত রায়ের মেধাবী ভাই ( চেহারা মনে পড়ছে, নাম মনে পড়ছে না) , নীলাঞ্জনা গুপ্ত, গৌতম গুপ্তর সঙ্গে। পরে দেখা ইন্দ্রনীলদার মামা মামী ও সৌগতদার মা, বাবাকে। সাঙ্ঘাতিক বন্ধুত্ব হল খড়্গপুর আই আই টি ক্যাম্পাস থেকে আসা, সাহেব সিধুদা ( সিদ্ধার্থ), ঈশানী, সুপর্ণার সঙ্গে। আর ছিল শর্মিষ্ঠা, জয়তী, অনিন্দ্য। যাদবপুরে তখন বাংলা নিয়ে পড়তেন রাণিগঞ্জ টি ডি বি কলেজের অধ্যাপক ও কবি বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে প্রত্যয়দা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুগুণে গুণী অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই। অনিন্দ্যদাকে নিয়ে পৃথক একটা লিখতে হবে। আমার বাবা ছাড়া অতিপরিচিতদের মধ্যে এতো গুণ একসঙ্গে আর দেখি নি।
    পরে, সুপর্ণা ঈশানীরা বলতো, প্রত্যয়দার মতো বাংলা লিখতে পারবি? প্রত্যয়দা নেই। অভীক লাহিড়ীও। অকালে প্রয়াত দুজনেই। একজন কর্কট রোগে আর একজন হৃদরোগে।

    ১৯৮৪ তে। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছি। মনে মনে ঠিক করলাম, আর বর্ধমান নয়, কলকাতায় পড়বো। দু' একটি কলেজে আবেদন করেছিলাম। পেয়েও গেলাম। এইসময় মনে পড়ল ইন্দ্রনীলদার কথা। যাদবপুর। ওখানে পড়লে কেমন হয়? আবেদন তো করি নি। দেখি তবু একবার, বলে আমার যাতায়াত শুরু হল যাদবপুরে। পড়া হয়‌ নি, কলকাতায়। পুনর্মুষিকোভব করে রাজ কলেজেই পড়া।
    কিন্তু যাদবপুর আসাটা নেশা হয়ে গেল। সুযোগ পেলেই আসি। কলকাতায় কোন কাজ থাকলে পুরানো জায়গায় না থেকে যাদবপুরেই ছাত্রাবাসে বা কারো বাড়িতে থাকি। যাদবপুরে তিনটি আকর্ষণ, এক বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তা। দুই, পোস্টার লেখা। তিন, ইস্তেহার রচনার কৌশল। এ-ছাড়াও আকর্ষণ ছিল, গান্ধীভবন লাগোয়া ক্যান্টিনের এক টাকা দামের মোগলাই পরোটা।
    ঠিক, মোগলাই পরোটা নয়, ওর সঙ্গে দেয় আলুর একটা গুণ ছিল। কী গুণ জিভ জানে। আমি না। মিলনদার ক্যান্টিনের চেয়েও আমার আকর্ষণ গান্ধী ভবনের ক্যান্টিন। এক টাকায় এক গ্লাস ঘধ দুধ। চার টাকায় মাছ ভাত। হোস্টেলে মাংস ভাত ছিল চার টাকা।
    আরেকটা ব্যাপার আমি দেখেছি, ছাত্র রাজনীতির যা অনিবার্য গুণ, গোষ্ঠীবাজি-- এটা দেখি নি। প্রত্যেককে দেখতাম পরস্পরের গুণগ্রাহী। ইন্দ্রনীল মজুমদারের জনপ্রিয়তা যাঁরা চোখে দেখেন নি, বিশ্বাস হবে না। ছাত্র ছাত্রী অধ্যাপক শিক্ষা সহায়ক কর্মী এমনকী ক্যান্টিন বালকেরাও ইন্দ্রনীল বলতে অজ্ঞান।
    বর্ধমানের একজন, নীল নাম ছিল, ডি এস এফের অন্যতম নেতা। বুদ্ধিদীপ্ত মুখ। উন্নাসিক। পরে তাঁকে বর্ধমানের মোবারক বিল্ডিংয়ের তলায় নিজেদের ওষুধ দোকানে ওষুধ বিক্রি করতে দেখে কষ্ট পাই।
    যাদবপুরে দু'পক্ষই শক্তিশালী। বিজ্ঞান বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় জোর। এস এফ আই জেতে। প্রকৌশলী বিভাগ এখনকার মতো তখনো নকশালপন্থীদের দখলে। কলা বিভাগে এস এফ আই হারে। কিন্তু ‌সেবার এ জি এস পদে ইন্দ্রনীল মজুমদার একাই জিতে চমকে দিয়েছে। ইন্দ্রনীলদার ব্যাপারস্যাপার দারুণ। তামিল ছাত্রী ছাত্রী দেখলে বলতো, আমাকে একটু তামিল শেখাবে।
    তিনিও হেসে বললেন, অবশ্যই। কিন্তু তোমার সময় থাকবে কী? ইন্দ্রনীলদা যার যেটা পছন্দের বিষয় সে-বিষয়ে কথা বলতো। আমিও এখান থেকে কিছুটা শিখি। বর্ধমান শহরের ধনী পরিবারের মেয়েরা আমাদের বিরোধী ছিল। তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে আমি ম্যানিকিউর রূপসজ্জা সুগন্ধি ও সুগন্ধির ইতিহাস , নেলপলিশ তৈরির ইতিবৃত্ত, শাড়ি ও পোশাকের ইতিহাস, রান্না বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করি। সুফলও পাই।
    যাদবপুরে দেখতাম, প্রতিটি ভবনের সামনে দৈনিক নতুন পোস্টার। বর্ধমান রাজ কলেজে এটা অন্যভাবে চালু করা হল। কলেজ শুরুর ৩০ মিনিট আগে কর্মীদের আসতে বলতাম। সবাইকে কাগজ পড়ে আসতে হতো। কোন খবর আজ গুরুত্বপূর্ণ তা ঠিক হতো। শিরোনামটা দিয়ে, আমাদের পাল্টা বক্তব্য থাকতো পোস্টারে, সব জায়গায়। তাড়াতাড়ি পোস্টার লেখার অভ্যাস ছিল। আজও আছে অনেকটা।
    বলা হতো, কথাবার্তায় এই প্রসঙ্গগুলো বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। খবরের কাগজ পড়ার বিষয়টি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করতো কৌশিক চক্রবর্তীর দিদি বর্ণালী। শাড়ি পরে ঠিক কাঁটায় কাঁটায় হাজির হতো। বলা ভালো, আমাদের সময় মেয়েরা সবাই শাড়ি পরে আসতো। সালোয়ার কামিজ পরে প্রায় কাউকে কলেজে আসতে দেখি নি। জিন্স ইত্যাদির প্রশ্নই ছিল নি।
    একাদশ দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় দু'একজন‌ সালোয়ার কামিজ পরতো। যেমন ডোনা। সেন্ট জেভিয়ার্সের মেধাবী ছাত্রী। পরে প্রকৌশল বিদ্যা পড়তে চলে যায়। একাদশ বিজ্ঞানের সোমাও পরতো। আমাদের পছন্দ করতো না শুরুতে। তারপর ক্যুইজ বিতর্ক ইত্যাদি সূত্রে আমাদের সঙ্গে এলো। আশ্চর্যের বিষয় স্নাতক স্তরে উঠে ওইসব সালোয়ার কামিজের দল শাড়ি পরা প্রজাপতি হতো।

    ইন্দ্রনীলদা ছিল আমাদের মিউনিসিপ্যাল স্কুলের ছাত্র। মেমারিতে ছাত্র রাজনীতি করতো। এবং রাজনৈতিক পড়াশোনা। তখন রাজনৈতিক পড়াশোনা করাদের নিন্দা প্রশংসার মাঝামাঝি দৃষ্টিতে অতি বিপ্লবী বলা থেকে পাকা বলার উত্তরণের যুগ।
    মনে রাখবেন, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ বেশি দিন নয়। ১৯৮২তেই ইন্দ্রনীলদার সঙ্গে ভালো আলাপ। এর আগে দুর্গাপুরে স্কুল ছাত্র সম্মেলনে ১৯৮০ তে দেখা হয়েছে। তা ইন্দ্রনীলদার জনপ্রিয়তা দেখে, যাদবপুরে, অনেকেই এস এফ আই ( আই) বলতেন। 'আই' মানে ইন্দ্রনীল মজুমদার। ইন্দ্রনীলদা ও অভীক লাহিড়ী ভালো পোস্টার লিখতেন। তাঁর সঙ্গে ওই রকম স্বাদু তথ্যমূলক চাবুক ইস্তেহার বা লিফলেট লিখতে দ্বিতীয় কাউকে দেখি নি। বর্ধমানে ছাত্র রাজনীতি করার সময় আমার একটু খ্যাতি হয় লিফলেট লেখায়, তা অভীকদার অনুপস্থিত উপস্থিতিতে, শেখা।
    অভীকদা, এখন পরিচিত সিপিএম নেতা শমীক লাহিড়ীর দাদা। তখন শমীক দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে পড়ে। পরিচিত হয় নি তখন। শমীকের প্রাথমিক পরিচয় আমার কাছে ছিল, অভীকদার ভাই। উজ্জ্বল চোখ ছিল শমীকের। পরে সাংসদ হয়। এস এফ আইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদকও।

    একটা পংক্তি, আজ স্বপ্নে, অভীকদাকে বললাম, আমরা কেউ দস্তানা পরে হাত ধোব না, এই কথাটা মনে আছে তোমার। লিখেছিলে?
    পরে এই পংক্তিটি আমিও ভিন্নভাবে ব্যবহার করি।
    অভীকদাকে প্রশংসা করলে বলতেন, ছাড় না। ওঁদের লিফলেটটাও দেখ। কী ভালো লেখা রে।
    বিরোধী ডি এস এফ, ডিএস সি-র লিফলেটও ছিল পড়ার যোগ্য। ডি এস সি ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস। ওঁদের রাজনৈতিক সংগঠন ছিল, এস এস সি। শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি। পরে কৃষক সংগ্রাম কমিটিও গড়েন ওঁরা। রায়না থানায় এস এফ আই ছেড়ে অসীমদা, এমানুর এঁরা এই সংগঠনে যুক্ত হোন। সিপিএমের কাছে প্রচুর মার খান। থানা থেকে ঠেকে চমকেও দেয়। এ-সব ১৯৮০-৮১র ঘটনা।
    ডিএসএফের ইস্তাহার রসবোধে শ্লেষে ব্যঙ্গে ছিল ক্ষুরধার। কিন্তু অভীকদা অভীকদাই। তীক্ষ্ণ তীব্র একটা জবাব দিত ব্যক্তি আক্রমণ ছাড়াই। নীতিগত। পলুদা তাগাদা দিতেন, অভীক ছাড়। লেখাটা দে। ওঁদের তো বেরিয়ে গেছে।
    পলুদা ( পল্লব পোদ্দার) তখন ছাত্র শাখা সম্পাদক। কাজ বোঝে। সবসময় সিরিয়াস‌। এবং সময়ে কাজ চাই। নইলে বকুনি।
    তোরা কীরে! একটা কাজ সময়ে করিস না।
    দাদাসুলভ বকুনি।

    অভীকদা হচ্ছে হবে ধরন।
    একটা সিগারেট ছাড়। তবে তো লেখা পাবি।

    সবাই আড্ডা মারছে, এক দিকে বসে, অভীক সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে আধঘন্টাটাক পর বলতো, এই নে। তাঁর মাঝেই কাগজের পাতা হাতবদল হতো। একটু আধটু সংযোজন চলতো। সঙ্গে, সিগারেট উধাও, স্বাতীদি এলে। স্বাতীদির মা মা চেহারা। সবাইকে আগলে রাখা মুখ। স্বাতীদি অভীকদা এক ছাদের নীচে বাস করে পরে।

    অভীকদা লেখা সম্পর্কে একটি বিশেষ শব্দ ব্যবহার করতো। যতদূর সম্ভব, চোতা। নে, চোতা রেডি।

    আজ স্বপ্নে দেখলাম,, ধর্মতলায় বাসে, করোনা কালে সভায় যাচ্ছি। শঙ্খ ঘোষ আসার কথা। ফোনে জানলাম, আসতে পারছেন না, শারীরিক কারণে। গতকালও একটি সভায় যোগ দিয়েছেন। কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে। স্বপ্নে দেখছি। স্বপ্নেই কাগজ পড়ছি। বাসে লোহার রডে হেলান দিয়ে ।
    এমন সময় সাংবাদিক অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীর ফোন। এই কথা সেই কথার পর, বললাম, ভালো লিফলেটের বড়ো আকাল। অনিরুদ্ধদা বললেন, কেন, আজ অভীক লাহিড়ীর লেখাটা 'আজকালে' পড়ো নি। ওটাই ছাপিয়ে দাও।
    বললাম, অভীকদা তা লিখতো। আজকাল আর দেখেই না। বলল, লেখে। বে-নামে। 'আজকাল' সম্পাদকীয় দপ্তরে কাজ করে। ( বাস্তবে অভীকদা ছিল অধ্যাপক)।
    তারপর বলল, তাগাদা দাও তো ব্যাটাকে।
    স্বপ্নে কত কী কোথায় জুড়ে যায়। 'নন্দন' সম্পাদক অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী 'আজকাল'-এর লাইব্রেরিতে। অভীকদা দেখলাম, লম্বা এবং আরো রোগা হয়েছে। মুখে বিড়ি নিয়ে কথা বলছে, স্বপ্নে তো ফোনেও ভিডিও কল ছাড়াই দেখা যায়।
    অভীকদা বললেন, ফাটিয়ে সভাসমিতি কর।
    বেশি দেরি নেই, বিপ্লব হবেই।
    শ্লা এই কলম পেশা ছেড়ে গ্রামে চলে যাবো, কৃষকদের হয়ে লড়তে। চল, আর এই শৌখিন মজদুরি ভাল্লাগছে না।

    বিপ্লব হবে, অভীকদা? এই বাংলায়?
  • | রেটিং ৫ (১ জন) | বিভাগ : ধারাবাহিক | ০২ নভেম্বর ২০২০ | ৩০৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | 2600:1001:b00b:73db:4cf1:e1de:f814:538b | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:৫৫498673
  • baa:
  • বন মানুষ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৪৪498687
  • ভাল লাগল 
  • Emanul Haque | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:৪১498710
  • ধন্যবাদ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন