ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • কাদামাটির হাফলাইফ

    ইমানুল হক
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১৯ মে ২০২০ | ২৭৮ বার পঠিত
  • আরে, কাদা না থাকলে মানুষ তো বেঁচেই থাকতে পারতো না। শস্য সব্জি কিছুই কি তেমন মিলত? ফুল ফল অনেক কিছুই? কাদা আর বালির মিশেলেই তো জীবনের যত মার প্যাঁচ।

    পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের গ্রামজীবনের স্মৃতিচিত্রণ।


    ১৩

    আমাদের গ্রাম সরকারিভাবে দুটো।
    আউশাড়া উদগড়া।
    অ-সরকারিভাবে ১২টি পাড়ায় বিভক্ত। মিলে মিশে থাকা। তার মাঝেও একটা সূক্ষ্ম ব্যবধান রচনা করে গিয়েছিলেন অতীত প্রজন্ম। তাকে ভেঙেছিলেন উনিশ বিশ দশকের মানুষ।
    কিন্তু এখন? ভবিষ্যৎ বলবে।।

    উত্তরপাড়া, পণ্ডিতপাড়া, খাবড়িগড় (সাঁওতালপাড়া), মল্লিকপাড়া, বামুন/বেনেপাড়া, মাঝেরপাড়া, দাসপাড়া ( মুচিপাড়া), দখিনপাড়া, সেখপাড়া/কাজীপাড়া, রসপুকুর, দিঘিরপাড় ( চাঁড়ালপাড়া), কয়েতপাড়া ( আদমপুর)।
    উত্তরপাড়া সবাই জন্মসূত্রে মুসলিম। পণ্ডিতপাড়া সবাই তপশিলি জাতির মানুষ। পণ্ডিতপাড়ায় দুই গায়েই মুসলিম বসতি। খাবড়িগড় ( সাঁওতাল পাড়া) পণ্ডিতপাড়া থেকে ৫০০ মিটার দূরে। আদি বাসিন্দাদের বাস। ১৯২০ থেকে আমাদের পূর্বপুরুষদের জমিতে বাস শুরু। এখন নিজেরা জমি কিনে আরেকটি পাড়া করেছেন অনেকেই। পণ্ডিতপাড়ার উত্তরে মাঠ। ক্যানাল। দক্ষিণ দিকে মল্লিকপাড়া। মুসলিম বসতি। মল্লিকদের উচ্চবর্ণের মুসলিমরা একটু আলাদা চোখে দেখতেন। ওখানে খণ্ডঘোষের উখরিদ থেকে পাঠান পরিবারের কয়েকজন মহিলা বিয়ে হয়ে আসেন। তাঁদের বিশেষ্য ও সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ কিছু আলাদা ছিল। মল্লিকপাড়ায় দুটি ঘর বাদে কারো শৌচাগার ছিল না। ফলে ওই পাড়ায় রাস্তা পেরোতে সমস্যা হতো। পায়খানা আর পায়খানা। এখন সে সমস্যা একদম নেই।
    মল্লিকপাড়ার দক্ষিণপূর্ব দিকে বামুনপাড়া ও মাঝেরপাড়ার শুরু। হিন্দু মুসলিম এই দেওয়ালের এপিঠ ওপিঠ। দু বাড়ির কলতলায় মেয়েরা দেওয়াল ফুটো করে গল্প করতো। সবজি আদান-প্রদান করতো। রান্না তরকারি আদান প্রদান হতো কিনা আরো জানতে হবে।

    আমার মামার বাড়িতেই দেখেছি লাউ কুমড়ো, শাক দিতে নিতে।
    বামুনপাড়ায় বামুন কায়েত বেনে কলুদের বাস। কলুবাড়ির পরেই মুসলমান বসতি মাঝেরপাড়া। মূলত মধ্যবিত্ত। মাঝের পাড়ার পূর্ব দিকে তপশিলি জাতির বাস।
    পাশাপাশি বাড়ি হিন্দু মুসলমান।
    এক দেওয়ালের এপিঠ ওপিঠ।
    মাঝের পাড়া থেকে মাঝে ধান জমি। তারপর দাসপাড়া বা মুচিপাড়া। মুচিপাড়া লাগোয়া পূর্ব পশ্চিমে লম্বা দখিনপাড়া বা উদগড়া গ্রাম। এর পশ্চিমপ্রান্তে সেখপাড়া/কাজীপাড়া। আবার ৭০০--৮০০ মিটার ধান জমি। সেখানে তিনটি ছিটমহল। রসপুকুর। বাগদি সম্প্রদায়ের বাস। আউশাড়া ও উদগড়ার পশ্চিমদিকে একটা বড়ো দিঘি।
    তার পাড়ে তপশিলি জাতির মানুষ।
    আর উদগড়া ও আউশাড়ার মাঝে আদমপুর/ কয়েতপুর। ওখানে ১৯৮০খ্রিস্টাব্দে ৬ টি পরিবার ছিল। এখন ২২-২৩ টি।
    ওঁরা আদমপুর থেকে বন্যার কারণে এসেছিলেন বলে আদমপু বলা হতো।
    #
    আমাদের গ্রামে ১৯৮০ তে পোস্ট গ্রাজুয়েট দুজন। জন্মসূত্রে দুজনেই মুসলিম।
    গ্রাজুয়েট ৪ জন। তিনজন জন্মসূত্রে হিন্দু। একজন মুসলিম। । তিনজন চাকরি করতেন বা করেন স্কুলে ।
    শিক্ষক ছিলেন তিনজন । একজন রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নেন।

    উচ্চমাধ্যমিক পাশ ৫ জন। চারজন মুসলিম একজন হিন্দু।

    ম্যাট্রিক পাস পাঁচজন।
    ১৯৭৮ পর্যন্ত দুই গ্রামেই কোনো মাধ্যমিক পাস মহিলা নেই। এখন ঘরে ঘরে গ্রাজুয়েট।
    একজন ছিলেন নন-ম্যাট্রিক আদিবাসী পাড়ায়।
    পাঁচ জন ম্যাট্রিক পাসই সত্তর দশকে কংগ্রেস করতেন।

    এঁদের মধ্যে একজন ছিলেন আদিবাসী পাড়ার বৈদ্যনাথদা।
    সিপিএমের তীব্র সমালোচক। ননম্যাট্রিক। সিপিএম তাঁকে চাকরি দিল না, এই ছিল অভিযোগ। প্রতিবন্ধী ছিলেন।
    কাজকাম করতেন না তেমন। বোন ও বৌ রোজগার করে খাওয়াতো।
    পড়াশোনা করতেন। একটা আদিবাসী যাত্রাপালা লেখেন। জনপ্রিয় হয়।
    সত্তর দশকে ম্যাট্রিক পাসরা আশা করতেন কংগ্রেস করলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হবে। হয় নি। বৈদ্যনাথদাও কংগ্রেস করতেন।অঅঅঅঅঅঅঅ
    কংগ্রেসের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে দুজন অটো পান।
    অটো চলে নি। কারো চাকরি হয় নি, এক বর্গক্ষত্রিয় বড়োলোক যুবক ছাড়া।
    অটো চলে নি।
    কারণ চড়ার লোক কোথায়?
    লোকে তো হেঁটেই মেরে দিচ্ছে।
    একটাকা ভাড়া অনেক।
    তার জায়গায় একঘন্টা হাঁটবো-- এই মনোভাব।
    #
    ম্যাট্রিক পাস দুজন বামফ্রন্ট আমলে বেকার ভাতা পান। ৩৫ হাজার টাকা করে ঋণ পান।
    তাতে পোল্ট্রি খোলেন।
    কেউ কেউ ধান ব্যবসায় নামলেন। গ্রামের অর্থনীতির চাকা ঘুরতে লাগলো। গরিবি গ্রামে কমতে লাগলো।

    ---

    ১৪

    শ্যামা নৃত্যনাট্য দেখি নি আগে। শুনেছি। একটি গলা চমকে দেয়। 'তুমি ইন্দ্রমণির হার' বলে শুরু হয়ে যায় গান। গানের কথা ও সুরের চেয়ে গায়কী আমাকে মুগ্ধ করে দেয়।
    লং প্লে রেকর্ডে অনেক নাম ছিল। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসল নামটি জানতে সময় লাগে। সন্তোষ সেনগুপ্ত। কী অসাধারণ গায়কী। বেসুরো গলায় গুণগুণ করি। কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারি না। তখন তো আর ইউ টিউব গুগল দাদা ছিল না।
    বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখি কল্পনার শিল্পীকে। যেমন লুকিয়ে রাখি, গোরুর গাড়ি করে আলু বইতে যায় কালো টগর ভাইরা। গোরুর গাড়ির তলায় লন্ঠন বাঁধা থাকে। গোরুর গাড়িতেই বাস। সেখানেই দল বেঁধে রান্না। কী রোমান্টিক জীবন।
    সে জীবন যাপন করা হলো না।
    আমার কল্পনার গোরুর গাড়িতে একটা টেপ থাকতো। তাতে বাজতো কত কী?
    শ্যামা, শাপমোচন।
    সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, মুকেশ, গীতা দত্তের গান। চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের পাগল করা গান।
    চাঁদের সাম্পান ভাসিয়ে দেবেন শ্যামল মিত্র। তারপরই চিন্ময়।
    সুন্দর বটে তব অঙ্গদখানি তারায় তারায় খচিত।

    রাণার বাজবে ভোরের আগে। হুহম না হুহুম না করে পাল্কির গানের পর বাজবে নটী বিনোদিনী পালা।
    সিরাজউদ্দৌলা শুনতে হবে। হবেই।

    গোরুর গাড়ির জীবন হয় নি।
    তেমন হয় নি সমরেশ বসুর 'গঙ্গা' পড়ে নদীতে জেলেদের সঙ্গে বসবাস। কতবার ভেবেছি। এমনকী চন্দননগর সরকারি কলেজে পড়ানোর সময়।
    ইলিশ পাওয়া যেত টাটকা।
    ফিট করে ফেলেছিলাম এক মাঝিকে।
    এক সহকর্মী জানতে পেরে বলেছিলেন, পাগল হয়েছো।
    #
    পাগল হতে পারা কি সোজা।
    ছোটো বেলায় পাগলামি ছিল সাইকেল ঘিরে।
    কবে একটা নিজস্ব সাইকেল হবে।
    একদম একলার।
    যখন ইচ্ছে চড়ব।
    সাইকেলে ভারত ভ্রমণের ইচ্ছা আজো মরে নি।

    আমাদের সময় গ্রামে যানবাহন বলতে তিনটি।
    গোরুর গাড়ি।
    মোষের গাড়ি।
    আর সাইকেল।
    কারো নিজস্ব মোটর সাইকেল ছিল না।
    এখন তো ঘরে ঘরে দু চাকা চার চাকা।
    বিয়েতে পাল্কি ছিল বর কনের বাহন।
    পাল্কি ভাড়া পাওয়া যেত বৈঠারি গ্রামে।
    পালকির গায়ে দেখা থাকতো, হুগলির এক গ্রামের নাম।
    আমার খুব যেতে ইচ্ছে করত।
    নামটা পেটে আসছে মুখে আসছে না।
    ওখানেই খুব ভালো গোরুর গাড়ির চাকা হতো।
    বাবা তিনদিন থেকে চাকা বানিয়ে নিয়ে ফিরলেন।
    লোকে দেখতে এল। চা পানি খেল।
    তখন তো এগুলোই ছিল দেখার জিনিস।
    আনন্দের উপকরণ।
    গোরুর গাড়ির চাকায় জল ছিটানো হল।
    বামুনরা যেমন ছিটায়।
    নতুন গোরু বা মোষ কিনলেও তার পায়ে জল ঢালা হতো।
    গলায় মুখে জল দিতেন বাড়ির গিন্নি।
    তিনিই ঘরে ঢোকাতেন। এটাই ছিল সায়িত বা ভাগ্যের কাজ।
    গাই গোরুর খাতিরই আলাদা।

    শরৎকালে গোরুর বিয়ে দেওয়া হতো।
    গোয়াললতা বলে একটা লতা গাছ পড়িয়ে। গায়ে আলতাব ছোপ দেওয়া হতো আলু কেটে। ওটাই ছিল শিলমোহর।
    কারো গোরু মোষ কেনা হলে লোকে দেখতে আসতো। লোকে মিষ্টি খাওয়াতো আনন্দে।

    মিষ্টি তখন গাদা নয়।
    রসগোল্লা, মাখা সন্দেশ, বোঁদে, দানাদার, মন্ডা আর দরবেশ বা লাড্ডু। লাড্ডু কম দরবেশ বেশি।
    লোকে চিনির আস্তরণ দেওয়া দানাদার বেশি খাওয়াতো।
    চার আনা পিস।

    আজ পয়সা অনেক কিন্তু সমঝদারি নেই।
    এখন আপনার গর্ব পড়শির ঈর্ষা।
    আগে লোকে সাইকেল গোরুর গাড়ি মোষের গাড়ি গোরু মোষ নিয়ে আলোচনা করতো।
    কারটা সে রা।
    গোরু আর মোষের দৌড় হতো আগরাপুরার মাঠে।
    আর ছোটোরো তো গোরু ছাগল চরাতে গিয়ে আকছার কম্পিটিশন করতো।
    দেখ দেখ তোর... মুখে ফেনা তুলে দেবে।
    #

    গোরুর গাড়ির প্রতিযোগিতাও দেখেছি।

    হই হই হ্যাট হ্যাট করে গোরুর লেজ মুলে চলল গাড়োয়ানের দল।
    কিন্তু লাঠি পেটা চলবে নি।

    ---

    ১৫

    ছোটো বেলায় দুটি বিস্কুটের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ছিল। এক পলাশন স্কুল তলার নারকুলে বিস্কুট। ওখানেই ছিল বেকারি। পাঁউরুটি তৈরির গন্ধে ম ম করতো। গরম গরম পাঁউরুটি এই ইতর স্লাইস মার্কা নয়, সে চমৎকার স্বাদের সোয়াদের চিহ্নরেখা ভোলাই যায় না। আমার মা জীবনের শেষতক, স্লাইস রুটি খেতে পারেন নি। বলতেন, পানসে লাগে । স্বাদ সোয়াদ নেই।
    বেকারির নাম মনে নাই। বেকারি মালিকের মুখ মনে আছে। মাঝেসাঝে স্বপ্নে হানা দেন।
    হাটে যেতাম সপ্তাহে দুদিন। মঙ্গল আর শনিবার। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে হাটে যাই (১৯৭৩)। অবাক হবেন না, সেকালের দস্তুর এটাই। আড়াই কিলোমিটার হাঁটা পথ। সাইকেল মিললে হাফ প্যাডেলের মজাই আলাদা।
    তো, আমার পাওনা ১০-১৫ পয়সা। নারকুলে বিস্কুটের দাম ১০ পয়সা, কোয়ার্টার পাউন্ড পাঁউরুটি ১৫ পয়সা। পিছনের কালো অংশে ঘি জাতীয় কিছু মাখাতো। সেথেকেই সুবাস।
    আর একটি বিস্কুট এল বাইরে থেকে। দিলীপ কুমারের জায়গায় অমিতাভ বচ্চনের মতো। ক্রিম বিস্কুট। হালকা জাফরানি রঙ। মাঝে ডিমের কুসুমের হালান কমলালেবু স্বাদের ক্রিম। পাঁচ পয়সা না দশ পয়সায় একটি ঠিক মনে পড়ছে না।
    নারকুলি বিস্কুটকে পেড়ে ফেলল।
    বাজার থেকে ১০-১৫ পয়সার বেশি নেওয়া ন্যায্য নয়।
    কারণ আলু শীতকালে এক পাল্লা মানে পাঁচ কেজির দাম ১৫ থেকে ২০ পয়সা। বুঝছেন, তিন থেকে চার পয়সা কিলো। এখনকার মতো ৪০ টাকা কিলো নয়। ১৯৮১ তে আলু ৩৫ পয়সা কিলো হওয়ায় কংগ্রেস দেওয়াল লিখেছিল।

    'বিলিতি বেগুন' তখনও টমেটো পদবাচ্য হয় নি, ১০-১৫ পয়সা কিলো। কাঁচা লঙ্কা ফ্রি।
    পেঁয়াজ কুলীন বরাবর ২০ পয়সা কিলো। মুলোর দাম মনে পড়ছে। ৫-১০ পয়সা কিলো হবে। বেগুন দামী। ১৫ পয়সায় এক কেজি। মাছ কেনার ব্যাপার ছিল না। পুকুর যাদের আছে তাঁরা মাছ কিনবেন কেন? পলাশনের চাকুরিজীবীরা কিনতেন। ২-৩ টাকা কিলো। চুনোমাছ আসতো না। চিংড়ি থাকতো। কুচো চিংড়ি। ইলিশ কোনোদিন দেখি নি হাটে। দেখলাম বর্ধমান শহরে এসে। ১৯৮২তে। সপ্তাহে একদিন মাত্র, কেবল মঙ্গলবার মিলতো। তাও বছরে মাস পাঁচেক বর্ধমান হেড পোস্ট অফিসের উল্টোদিকে। ২০০--২৫০ টাকা কিলো। বিকেলে পাওয়া যেতো। সকালে নয়।‌কলকাতা থেকে ট্রেনে আসতো।।
    ধনেপাতা কেউ কিনতেন না। বেচতেনও না। লোকে চাষ করতো।
    বাঁধাকপি ফুলকপি সব‌ সিজন্যাল। ১৯ মাঘ গ্রামে ওলাইচণ্ডী পূজা উপলক্ষে মেলা বসতো‌। ঘরে ঘরে আত্মীয় কুটুম। মেলা ও যাত্রা দেখতে। ২০-২১ মাঘ গ্রামে মেলা শেষের পর লোকে ফুলকপি বাঁধাকপির খেতে গোরু ছেড়ে দিতো। ও এখন গোরুর খাদ্য। মুখ পচে গেছে গো বাঁধাকপি আর ফুলকপি খেয়ে খেয়ে-- লোকে বলাবলি খরতো। এই সময় উঠতো নতুন আলু। মধ্যবিত্ত বাড়িতে আলু পোস্ত রোজ। পোস্ত চার টাকা কিলো ছিল ১৯৭৩ এ। ১৯৮০-৮১তে হয় ছয় টাকা। ১৯৮০-৮১ তে সরষের তেল ২ টাকা ৪০ পয়সা কিলো। চিনি তিনটাকা কিলো।
    সজনে ডাঁটাও বিক্রি হতো না।
    আলু পটল পেঁয়াজ লঙ্কা লাউ কুমড়ো এইসব সামগ্রী। দু টাকার বাজার বয়ে আনা কঠিন হতো। অন্তত ১০-১৫ কেজি ওজন। সাইকেলে ঝুলিয়ে কিছুটা হাফ প্যাডেল কিছুটা হেঁটে সামলে আনা।
    কষ্ট একটু হতো।
    কিন্তু নারকুলে বিস্কুট এবং তার নতুন সতিন ক্রিম বিস্কুট সব ভুলিয়ে দিতো।
    #
    এবং ঝোলাগুড় ছাড়াই গরম পাঁউরুটি।

    বন্ধু অমিত বিশ্বাস প্রশ্ন করেছেন, আলুর দাম ৫ পয়সা কেজি? নারকুলি বিস্কুট ১০ পয়সা?

    অমিত বিশ্বাস লিখেছেন:
    আলু যেখানে ১৫ পয়সা পাল্লা, সেখানে নারকোলি বিস্কুট দশ পয়সা ? আমরা খিদিরপুর থেকে গরম খাস্তা বিস্কুট পেতাম ১০ পয়সায় ছ টা। ঐ গরম কোয়াটার পাঁউরুটি রোজ সন্ধ্যেবেলায় লোকে লাইন দিয়ে কিনতো। মাঝে রেশনিং হয়ে গেল। রেশন কার্ড দেখিয়ে কিনতে হতো। তবে যে গন্ধের কথা বললেন, সেটা যেন
    আজো ভুলতে পারিনি।
    নিউ মার্কেটের কেক পট্টি তে এমনিই ঘুরতাম ঐ গন্ধের জন্য। সেখানে ২৫ পয়সায় মাটন প্যাটি পাওয়া যেতো। গরম। মা খেতে দিতো না। বলতো খাসির ছাঁট দিয়ে বানানো। আর ছিল spiral shaped লজেন্স। সেটা বাবা শুধু বড়দিনে কিনে দিতো। তার গন্ধ ও স্বাদ অতুলনীয়।
    খাসি ছিল ৬ টাকা (৭২-৭৫ সাল) মুরগী খাওয়াটা ছিল বিলাসিতা কারন মুরগী ওজনে নয়, গোটা বিক্রি হতো। দেশী মুরগী।
    ১ টাকায় তিনটে ওমলেট। একটা ৩৫ পয়সা।
    আমরা শহুরে তাই শহরের দাম বললাম।

    আমার বিনীত জবাব:

    Amit Biswas চাষীর জিনিসের দাম কোথায়?
    ২০১৯ এ মহারাষ্ট্রের চাষী ৫ পয়সা ( হ্যাঁ পাঁচ পয়সা) কেজি পেঁয়াজ বেচেছিল। আনন্দবাজারে খবর ছিল। ছাগল গোরুকে দিয়ে পেঁয়াজ খাওয়ানোর ছবি ছিল। সেই পেঁয়াজ আমরা ২০০ টাকা কেজি কিনেছে ২০১৯ নভেম্বর ডিসেম্বরে।

    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

    Kunal Thakur Thakur লিখেছেন

    আ‌মি ছ‌য়ের দশ‌কেও ৪টাকা সের(তখন কেজির মাপ স‌বে ঢুক‌ছে)পাঁঠা/খাঁ‌সির মাংস,একটা মোরগ বড় হ‌লে তিন/চার টাকা আর টাকায় চার‌টে ডিম কি‌নে‌ছি ৷ অবশ‌্য তখন থাকতাম মধুপু‌রে ৷

    আমার সংযোজন:
    ১৯৮০ পর্যন্ত আমাদের গ্রামে খাসির মাংস ১০ টাকা কেজি।
    মুরগির দাম দ্বিগুণ। ২০ টাকা কেজি। পালকসহ।
    মানে খাসির মাংস ১০০ গ্রাম এক টাকা।
    মুরগির মাংস ১০০ গ্রাম কার্যত ৩ টাকা ১৬ পয়সা।
    এক টাকায় ১০ -১২ টি মুরগির ডিম পাওয়া যেতো।
    কয়লা টাকায় ১২ কেজি ৫০০ গ্রাম।
    নুন আট পয়সা কিলো।
    চাল ৫০/৬০/৮০ পয়সা কিলো।
    খাসচাল / গোবিন্দভোগ চাল দামী ২০ টাকা কেজি।
    ১২০০টাকা বস্তা। ৬০ কেজিতে বস্তা।

    @Shuva Roy লিখলেন

    আমরা খেতাম মাছ লজেন্স। পাঁচ পয়সা দাম। চেটে চেটে ফুরোতে আধ ঘন্টা লাগত। আর খেতাম বদল বিস্কুট। ছেঁড়া পুরনো জুতো দিয়ে বিস্কুট নিতাম। অনেক সময় রাস্তা থেকেও কুড়াতাম। বদল বিস্কুট ওলা ঘন্টি বাজিয়ে রাস্তা দিয়ে গেলেই জুতো নিয়ে পিছনে ছুটতাম। সেই বিস্কুট এর স্বাদ অতুলনীয় ছিল। অমন বিস্কুট আর পাই নি বড় হয়ে
    Dilip Banerjee লিখলেন

    অনেক কিছু মনে পড়ছে। সব কিছু মনে নেই। আমি হুগলি জেলার গ্রামে, মামার বাড়িতে থাকতাম। দুধ আর চাল কিনতে হয়, এটা একটু বড় হয়ে বুঝেছি, পুজোর ছুটিতে শিবপুরে এসে। খুব আশ্চর্য লেগেছিলো ঐটুকু একটা দুধের বোতল নিয়ে (হরিণ ঘাটার দুধের ডিপো) কজনে খাবে? বন্ধুর সাথে গেছি, আমি একটা বোতল চাইতে, খুকি দি বলেছিলো তোদের কার্ড নেই দুধ পাবি না। মা কে এসে খুকি দির নামে অভিযোগ করেছিলাম।
  • | বিভাগ : ধারাবাহিক | ১৯ মে ২০২০ | ২৭৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন