• খেরোর খাতা

  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ১

    Emanul Haque লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৩ জুলাই ২০২১ | ৪৫৩ বার পঠিত
  • #কাদামাটির_হাফলাইফ ১ থেকে ৩ 


    #কাদামাটির_হাফসেঞ্চুরি 


    নামে এটি তিন কিস্তি লিখি ২০১৫তে। তারপর দীর্ঘ বিরতি। 


    এবার আশা করি  নিয়মিত হবে।



    গ্রামে প্রচন্ড কাদা হতো। হাঁটু পর্যন্ত থাকতো প্রায় চার মাস। আষাঢ় থেকে আশ্বিন। আশ্বিনে একটু শুকোতে শুরু। এই কাদা নিয়ে ছোটবেলায় আমার বা আমাদের কোন বিরক্তি ছিল না। বেশ মজাই লাগতো। কাদা মাখা রাস্তায় কাদা দিয়ে কত কি গড়া হতো। গ্রামের একমাত্র সরকারি জলের কল ছিল আমাদের বাড়ি থেকে দেড়শো মিটার দূরে। মসজিদ তলার পাশে। ওই কলে দু তিন কিমি দূর থেকেও মেয়েরা জল নিতে আসতো -- খাবার জল। সেখানে ছিল চারমাথার মোড়। বাজার যাওয়া বা খেলার মাঠ বা পাশের গ্রাম যাওয়ার একমাত্র পথ তখন সেটা। ফলে ভালই কাদা জমতো। আর আমরা ছোট-র দল সেই কাদা দিয়ে বানাতাম কতকিছু । বাড়ি, জলের কল। আর আমার প্রিয় ছিল ব্রিজ বা সেতু বানানো। পাহাড়ি কলমির ডাল বাঁকিয়ে তার ওপর কাদা লেপে বাঁকানো চাঁদের মত সেতু। দামোদর নদে বর্ধমান যাওয়ার জন্য সদরঘাটের সেতু তখন হয় নি। শুধু গল্পগাছা তাকে ঘিরে। ১০-১২টা ছেলের রক্ত চায় নদী। না হলে নাকি ব্রিজ বাঁধতে দেবেই না সে! প্রায়-ই নাকি পিলার ভেঙ্গে যাচ্ছে বালি সরে। সেই জন্য সরকার ছেলে ধরা নিয়োগ করেছে, ছেলে ধরে আনতে। তা আমাদের কল্পনায় সেতু ছিল একটা বিরাট ঘটনা। বইয়ে ছবি দেখেছি টেমস নদীর সেতুর। আর চোখে দেখেছি গোপীনাথপুরে রেল স্টেশন গিয়ে বি ডি আর (বাঁকুড়া দামোদর রিভার রেলওয়ে) ট্রেন ধরতে যাওয়ার জন্য ক্যানেলের ধারে ক্লাবের ছেলেদের বানানো বাঁশের সেতু। সে সেতুতে শুরুতে তিনটে বাঁশ। শেষের দিকে একটা। পড়ে যাব পড়ে যাব ভাব নিয়ে পার হতে হতো—বাঁশের সেতু।


    আমি পরে বড় হয়েও বালি দিয়ে সেতু বানিয়েছি। আর বানাতে পছন্দ করেছি রান্নাঘর। কেন কে জানে! তিনতলা বালির সেতু আর আর তার পাশে পেল্লাই রান্নাঘর। তা কাদার সেতুর তলায় থাকত পেঁপের ডালের পাইপ। কুল কুল করে জল যেত এ সেতু দিয়ে। কি আনন্দ-ই যে হতো!


    ‘কাদা’ শব্দ শুনলেই ‘নাগর’-ইক মন পাঁক ঘাঁটতে চায়। আরে কাদা না থাকলে মানুষ তো বেঁচেই থাকতে পারতো না। শস্য সব্জি কিছুই কি তেমন মিলত? ফুল ফল অনেক। কাদা আর বালির মিশেলেই তো জীবনের যত মার প্যাঁচ। জমিতে যখন ধান রোয়ার আগে লাঙ্গল শেষে মই দিয়ে জমির কাদা সমান করা হতো তাতে চাপার জন্য সব ছেলের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যেত। কে পাবে সেই সুযোগ?


    বয়স তখন বোধহয় পাঁচ। এই কাদা মাটি খেলার সময় মিলে গেল গোটা একটা টাকা। নীলচে বাদামী রঙের চকচকে গোটা একটা নোট। দিলেন মণি মাস্টার। মণি মাস্টার এক আশ্চর্য মানুষ। সেকালের গ্র্যাজুয়েট। আমাদের গ্রামের প্রথম জুনিয়র হাইস্কুল গড়ে তোলার কান্ডারী। কিন্তু তার সে স্কুলে চাকরি করা হয় নি। ১৯৭০-এর দশক। কমিউনিস্ট বলে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। মণি মাস্টার আমাকে খুব ভালবাসতেন। কেন, জানি না।


    আমি দেখতে ছিলাম কালো। বাকি ভাইবোনেরা ফর্সা। ফর্সাদের আদর স্বভাবতই বেশি। আমাকে ডাকা হতো ‘কাল্টা’ বলে। কালোর আদর কম—সেটা সবাই জানেন। মানেন। আমিও মানতাম। তার ওপর ক্লাশের পড়াশোনায় আমার মন ছিল না, দাদা দিদিরা সবাই ক্লাশে ফার্স্ট হতো। আমি লাস্টদের দলে। আমার এ ব্যাপারে বিবেক এবং জবাব ছিল পরিষ্কার—কত ছেলে যে পাশ করে না। আমি তো পাশ করেছি।


    সত্য আমরা যখন ইনফ্যাণ্ট বা শিশু শ্রেণিতে পড়ি,  ১৯৭১-এ,  ক্লাশে ছাত্র সংখ্যা ছিল ১৫২ জন। প্রথম শ্রেণি বা ওয়ানে এলাম ৭৩ জন। ক্লাশ টু বা দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫২ জন। আমার রোল নং ৩৭। দারিদ্র্য আর ইংরেজির চাপে স্কুলছুট বহুজন। পড়ে আমার ক্রমিক সংখ্যা বদলে গেল। তৃতীয় শ্রেণিতে ছয়। আর চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু প্রথমের যন্ত্রণাকর এবং আনন্দময় পিঠে চেপে পড়া।


    এর মধ্যে আমি একদিন স্কুলে বেদম মার খেয়েছি উত্তরপাড়ার মাস্টার মশাইয়ের কাছে। (সে সময় মাস্টার মশাইয়ের জন্মবাড়ি/বাসস্থান দিয়ে ডাকাই ছিল রীতি। নাম নেওয়া অন্যায়। আমার অপরাধ , উনি স্কুল যাওয়ার পথে দেখেছেন আমি আমাদের দলিজের দাওয়ায় বসে ‘নব কল্লোল’ পড়ছি। আসলে আমি তখন মগ্ন ছিলাম, বিপ্লবী রফিক স্বদেশি ডাকাতি করে ফেরার পথে রেল স্টেশনে গিয়ে পুলিশকে প্রথম গুলি করে ফেলে বমি করে ফেলেছে—এই ভয়ানক কান্ডের ঘোরে। না হলে মাস্টার মশাই আসার আগেই বইখানি লুকিয়ে ফেলতে পারতাম। অন্যদিন তো তাই করেছি। বড়দের সামনে। গল্পের বই লুকিয়ে,  অঙ্ক খুলে বসা ছিল সেকালের দস্তুর, বড়ভাই হলে ইংরেজি।


    তবে মার খাওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল মারটা উনি আমাকে আমার জন্য নন - আমার বাবা্র জন্য মারছেন। কারণ আমার ছিলেন কমিউনিস্ট আর উনি কংগ্রেস। খুব ছোটবেলা থেকেই এই ব্যাপারটা আমরা খুব বুঝে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম -- কংগ্রেস আর সিপিএম।


    পুলিশ আসতো সিপিএম করার অপরাধে বাবাকে ধরতে। এসে হাতে গুঁজে দিত চকলেট। জিজ্ঞেস করতো—এই যে খোকা, বাবাকে দেখেছো? কোথায় আছে তুমি ঠিক জানো!


    বাচ্চারা যে মোটেই বাচ্চা নয়—পুলিশকে কে বোঝাবে? তাই, আমরা কোনদিন বাবাকে দেখিনি। এটাও অবশ্য সত্য। বাবাদের অনেক পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। মিথ্যা অভি্যোগে।


    বাবার অনেক বন্ধু আসতেন অনেক রাতে। এরা কেউ ঘরে শুতে চাইতেন না। গোয়ালে বা গরুর ছানি রাখার জায়গা ছানিশালে শুতেন। আমরা অবাক হতাম। গা কুটকুট করবে যে। আর গরুর পেচ্ছাপের গন্ধে ঘুমাবে কী করে? আসলে পুলিশের ভয়ে করতে হতো ওদের। বিশেষ করে মনে আছে প্রশান্ত কাকাকে। অনেক রাতে আসতেন। একটু খাবার খেতেন। তারপর ভোরে আলো ফোটার আগেই চলে যেতেন ছানিশাল থেকেই।


    বাড়ির চাকররা পাহারা দিত পুলিশ এলেই জানাবে। প্রশান্তকাকুর ছিল দেখার মতো গোঁফ আর ব্যাগের মধ্যে থাকতো একটা বড় আমুলের কৌটো। মা তাতে মুড়ি ভরে দিতেন। আজ ডাল ভাত খাওয়া জুটল কাল জুটবে কি না কে জানে? কবে জুটবে—সেই বা কে জানে। তো মুড়িই ভরসা। কেক তো সুদূর কল্পনা। মুড়ি নিয়ে উৎসবে প্রশান্তকাকারা নিশ্চিত বিদ্রূপ করতেন না। কেক নিয়ে যদি মাতামাতি হতে পারে মুড়ি নিয়ে কেন নয়?


    প্রশান্ত কোলে কাকা নাকি পার্টি করতে এসেছিলেন সরকারি চাকরি ছেড়ে। গ্রাজুয়েট। ভাল ছাত্র। কিন্তু দেশের মানুষের ভাল করবেন, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াবেন তাই কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান। প্রশান্তকাকু খুব কম কথা বলতেন। কিন্তু আমার খুব প্রাণের মানুষ ছিলেন। আর একজন ছিলেন মদন কাকা। মদন রায়। মদন কাকাকে দেখি প্রথম বামুনের ছেলে হয়ে প্রকাশ্যে সবার সামনে গরুর মাংস খেতে। আমার দাদি ঠাকুমা বলতেন, বাবা তোমাদের জ্যেঠুও ছিল এমন ধারার মানুষ। গরু শুয়োর সব খেত—কোন কথা শুনতো না। ঠাকুমার ধারণা ছিল, ওই ‘হারাম’ খেয়েই কলজে পচে মারা গেছেন দাদু। ছোটবেলায় ঠাকুর্দার মদের গ্লাসের যে বিপুল সংগ্রহ দেখেছি বাড়িতে, তা কেবল সিনেমার পর্দায় মাঝে মাঝে দেখা যায়। ঠাকুর্দা স্টার থিয়েটারে ১৯৩০ এর দশকে অভিনয় করেছেন। ‘বাংলার বগী’ ‘দেবলা দেবী’ নাটকে। তাঁর সহ-অভিনেত্রী ছিলেন আশালতা মুখার্জি। গভীর হৃদয় সম্পর্ক ছিল তাঁদের। সত্য মিথ্যা জানি না, ঠাকুর্দার মৃত্যুতে তিনি নাকি গায়ে পেট্রোল ঢেলে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় আমার ঠাকুর্দার বয়স ছিল ৪২। আর আমার বাবার আড়াই।


    তো আমাদের বাড়িতে অনেক কমিউনিস্টের যাতায়াত ছিল। এদের-ই একজন মণি মাস্টার। তিনি - দিয়েছিলেন এক টাকার চকচকে নোট। মনে রাখতে হবে সে সময় টাকায় ১২ টা ডিম কিংবা ১০ কেজি কয়লা বা দু কেজি চাল বা আড়াই কেজি আটা পাওয়া যেত গ্রামে।


    আমি তখন ইংলিশ প্যান্ট পরার সুযোগ পেয়েছি। ছেলেদের দু রকম প্যান্ট পাওয়া যেত। একটা দড়ি বা সরপি দেওয়া। অন্যটা বোতাম দেওয়া। আমার কেন জানি না দড়ি দেওয়া প্যান্টে ছিল ঘোর আপত্তি। আমি ওই ইংলিশ প্যান্টের পকেটে এক টাকার নোট ভরে রাজার মত সেতু বানাতে লাগলাম। বানানো শেষে বন্ধুদের বিজয় গর্বে মতিদাদুর  দোকানে লজেঞ্চুস খাওয়াতে যাবার সময় দেখি... টাকা বাবাজী ফুড়ুৎ।


    আমার দশা হল সেই টাকা হারানো টুনটুনি পাখির মতো।


    এক টাকার শোক কতদিন ছিল আজ আর মনে নেই।


    #কাদামাটির_হাফলাইফ ২



    নাম একটা চিহ্নমাত্র। তা পরিচয় নয়। কিন্তু নামকেই লোকে পরিচয় বলে ভুল করে।‘ নামের ফেরে মানুষ ফেরে’ এই আজব দুনিয়ায়। তা এই নামের জন্য নানা ঝামেলায় পড়েছি। তবে সেটা শহরে আসার পর। গ্রামে এ সমস্যা খুব একটা ছিল না। খুব একটা ছিল না বললে ভুল হবে—বলা উচিত ‘প্রায়’ ছিলই না। প্রায় কেন?


    কয়েকটা উদাহরণ দিই। আমদের বাড়ির লাগোয়া দুটি পুকুর তাঁতিগড় আর ধোবাগড়। ‘গড়’ মানে ‘দুর্গ’ নয়—গ্রামে বোঝাতো পুকুর। যেমন খাবড়িগড়, চাপড়াগড়। আবার ‘গড়’ বলতে এলাকাও বোঝাতেন মানুষ। আঁকড়গড়ের জমি বলতে মানুষ বুঝতেন আঁকড়গড় নামে মাঠের জমি। ্(নামে ডাকার একটি সামন্ততান্ত্রিক সু-অভ্যাস আছে গ্রামীণ বাংলায়। জমি জায়গা গরু বাছুর কুকুর বিড়াল পুকুর ঘাট—সবার নাম আছে। এরা কেবল নিছক সংখ্যা নয়।‘রক্তকরবী’র ৬৭ফ আর ৬৯ ঙ – এদের ভবিতব্য নয়)। তাঁতি ধোবা রাখা পূর্বপুরুষদের ব্যাপার। আমরা দেখিনি। তবে  বাড়ি থেকে ৭০০-৮০০ মিটার দূরে মামার বাড়ি। পাশের পাড়া। তাদের ব্যবহারের বা ঘাট সরার পুকুর ছিল কলুপুকুর। যৌথ ব্যবহার। মামার বাড়ির খামারের গায়েই কলুদের বাড়ি। ছোটবেলায় কলুর ঘানি দেখেছি। কলুদের মধ্যে মজার মানুষ ছিলেন মতিলাল প্রামাণিক। মোতিদাদুর মুদির দোকান । তাঁর দোকান ছিল গ্রামের মানুষের আড্ডা স্থল। দেওয়াল ছিল সব দলের পোস্টার মারার জায়গা। তবে শীতে বেশি থাকতো যাত্রা আর সিনেমার পোস্টার। ‘লেনিন’ ‘হোচিমিন’ ‘কার্লমার্কস’ বা ‘রক্তাক্ত তেলেঙ্গানা’র শান্তিগোপালের তরুণ অপেরার পাশেই পড়ে যেত সেকালের সুপার ডুপার হিট পালা ইন্দ্র লাহিড়ী আর ছন্দা চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘লায়লা মজনু’ বা ‘রোমিও জুলিয়েট’ পালার পোস্টার। প্রসঙ্গত, সেকালে (ভাবা যায়, আমিও লিখছি সেকাল, মরি মরি) মানে সত্তর দশকে যাত্রার টিকিট হতো ১ টাকা। গেস্ট ২ টাকা। সামনে বা পাশে চেয়ারে। লায়লা মজনু পালার টিকিট হয়েছিল ১০ টাকা দাম। তখন ধানের কেজি ৩৫ পয়সা। আর চাল ৮০ পয়সা কেজি। মানে সাড়ে ১২ কেজি চালের দামে আনন্দলোক অপেরার যাত্রার টিকিট। (ব্রাত্য বসুরা ৫০০ টাকা টিকিট করলে লোকের রাগ কেন? সেও তো সাড়ে ১২ কেজি চালের চেয়ে কম দাম)।


    তা মতিলাল দাদুর দোকানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলনা। বলা ভাল থাকতো না। মুদি দোকান লিটল ম্যাগাজিন আর চতুর্থধারার রাজনৈতিক দলের মতো জন্মেছে। মরেছে আরো তাড়াতাড়ি। আজো গ্রামের চালু প্রধান দুটি মুদিখানার দোকান তাঁর নাতি এবং পুতিদের। নাতি মেয়ের ছেলে । পুতি পুত্রের ছেলে। তা মতিলাল দাদুর ছেলে ছিল দুগোদা। দুগোদা—সবার দাদা। আমার  বাবা যেমন গ্রামের সবার ভাই—তেমন দুগোদা সবার দুগোদা। আমার মাসুতুতো ভাইরা আমার বাবাকে ভাই ডাকতেন। আমিও মাঝে মাঝে গলা নকল করে –সদর দরজা থেকে ডাকতাম—এনাম ভাই বাড়ি আছো? এনাম—এনামুল হক—আমার বাবা।


    দুগোদার মায়ের ছিল ছুঁইছুঁই বাতিক। ব্রাহ্মণ ছিলেন সাত ঘর। তাঁদের মধ্যে এক মহিলা ছাড়া কাউকে ছোঁয়াছুঁয়ির বাছ বিচার করতে কোনদিন দেখিনি। পরে সেই মামীমাও বদলে যান। হরেকৃষ্ণ মামার মৃত্যুর পর। হরেকৃষ্ণমামারা ছিলেন হালদার।পরে বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করতেন। মামা খুব মজার মানুষ।সকাল হলেই আসতেন আমাদের বাড়ি। চা খেতেন। অনেকেই আসতেন। পীরে কাকা (ব্রাহ্মণ সন্তান দিবাকর মজুমদার),শঙ্কর ধাঊড়ে [ জাতিতে বর্গক্ষত্রিয় (বাগদী) শঙ্কর কাকা ১৯৭৮ এর পর পঞ্চায়েত সদস্য হন—বাবার সঙ্গে], গ্রামের চৌকিদার, আরো অনেকে। পীরে কাকা, শঙ্কর কাকা সিপিএম। হরেকৃষ্ণ মামা প্রকাশ্যে কোন দল করতেন না। তবে বোধহয় সিপিএম ভোট দিতেন। মামী কী করতেন তা অজানা ছিল। আসতেন গ্রামের মার্কামারা কংগ্রেসি গুঁড়ুভাই। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কংগ্রেস থেকে গেছেন। তৃণমূলও হননি। ১৯৯৮ এ দাঁড়িয়ে ৫ টি ভোট পেয়েছেন। নিজের বউ-ও আমার বাবার পার্টিকে ভোট দিয়েছেন। গুঁড়ুভাইয়ের স্ত্রী ছিলেন আমদের ধর্মবুবু। সেকালে প্রথা ছিল বিয়ের পর মেয়ের বাবা জামাইয়ের গ্রামে সে আস্থাভাজন বিশ্বাসী মানুষকে ধর্মবাবা বানিয়ে যেতেন। এই ধর্মবাবা ও ধর্মকন্যার সম্পর্ক বংশ পরম্পরায় চলতো। এবং অদ্ভুত সে সব সম্পর্ক। আমাদের এরকম বেশ কিছু ধর্মদিদি ছিলেন। যাঁরা নিজের দিদির চেয়ে কম ছিলেন না। জন্মসূত্রে ‘হিন্দু’ এরকম  অনেক ধর্মদিদিও ছিলেন। সবচেয়ে বেশি মনে আছে  পলাশন গ্রামের হারু ভাগ্নার মা। দুধে আলতা গায়ের রং।ন্নকবিতা আর যাত্রা নাটকের বই পড়তে বড় ভালবাসতেন। বাবা তাঁর বিয়েতে শঙ্খ ঘোষের কবিতার বই দিয়েছিলেন। সেই বই পড়ে দিদি বাবাকে বাবা বলে ডাকতে শুরু করেন।পলাশন গ্রামে গেলে দিদির সঙ্গে দেখা করে না এলে অর্থাৎ কিছু খেয়ে না এলে ভারি রাগ করতেন। দুধে আলতা গায়ের রঙ ছিল দিদির। আর সে রকম লক্ষ্মী প্রতিমার মতো ব্যবহার। আজো লক্ষ্মী ঠাকুর দেখলে দিদির কথা মনে পড়ে। দিদিদের নাম ধরে ডাকার কোন রেওয়াজ ছিল না। তাই নাম জানা হয়নি। আমার মেজদিকে শ্বশুরবাড়ির মানুষ বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছিল। মেজদিকে বাবা নিজের মা ভাবতেন। বাবার মা বাবার দেড় বছর বয়সে মারা যান। মেজদিও মাত্র ১৫ বছর বয়সে শ্বশুরবাড়িতে মারা যায়। মেজদিকে স্কুলের মাস্টার মশাইরা বলতেন, চলন্ত ওয়ার্ডবুক। গোটা ইংরেজি ওয়ার্ডবুক ছিল নাকি তার মুখস্থ। বুঝতেই পারছেন, এ রকম দিদি থাকার ফলে আমাদের স্কুলে কী দুর্দশা হয়েছিল। মাস্টারমশাইরা কথায় দিদি আর বড়দার নাম করতেন—থাকতো যদি ওরা!


    পড়াশোনায় ভালদের ভাই বা বোন হওয়া যে কতো খারাপ এবং চাপের ব্যাপার সে আমার মতো ভুক্তভোগীরাই জানেন।


    কথায় কথায় চলে এসছি অনেকদূর। তাতে ক্ষতি কিছু হয়নি। আসল কথা তো সেকালের গপ্পো শোনা। তা কলুবাড়ির দিদিমা, সম্ভবত নামছিল সিদ্ধেশ্বরী,মতিদাদুর স্ত্রী,ইউনিভার্সাল দুগোদার মা ছিলেন ছুঁইছুঁই বাতিকগ্রস্ত। গ্রামে তখন বাথরুম আসেনি। টয়লেট নাম শোনেনি লোকে, পাইখানা বলে একটি বস্তু ছিল কিছু কিছু বাড়িতে। কিন্তু তাতে গেলে নাকি অনেকের বাহ্যি আটকে যেত। যাক কলুবাড়ির মহিলারা কলুপুকুর ব্যবহার করতেন। মামা বাড়ির বাসন-কোসন –গোমাংসের সমেত ধোয়া হতো। চান টানও লোকে করতো।আমি করতে চাইনি কোনো দিন। কারণ দুটি। আমাদের ঘাট সরা পুকুর তালপুকুর ছিল অনেক বড় আর জল ছিল ভাল। আরেকটা কারণ ছিল। কলু পুকুর ছিল রাস্তার গায়ে। স্কুল যাওয়ার একটা পথ। অন্য পাড়া যাওয়ার পথের ধারে। সেখানে কলুবাড়ির মহিলারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পেচ্ছাপ করতেন। সে নিয়ে অন্য গ্রাম থেকে পড়াতে আসা মাস্টারমশাইরা একটু ঠাট্টাও করতেন, আমাদের গ্রাম নিয়ে। এখন ভাবি উপায়হীন ছিলেন তাঁরা। তা কলুদিদিমা মুসলিম ধর্মে জন্মানো কাউকে স্নান করার পর দেখলেই সরে যেতে বলতেন। ছায়া লাগাবেন না। (আবার বলি, এটা কিন্তু গ্রামে আর কেউ করতেন না। উনি ব্যতিক্রম)। আমরাও একটু অল্প বয়সেই দুষ্টু হয়েছিলাম। ওনাকে চান/স্নান করে আসতে দেখলেই ডাকতুম, ও দিদিমা। দিদিমা আর কী করেন, আবার পুকুরে নামতেন। ( লোকে বলে, দিদিমাকে ডেকে পুকুরে নামানোর দুষ্টু বুদ্ধি শিখিয়েছিলেন, আমাদের এক মাস্টারমশাই। জন্মসূত্রে যিনি ‘হিন্দু’)। বিশেষ করে শীতকালে এ ঘটনা একটু বেশি ঘটতো। ছেলেদের দিদিমা প্রীতি আর দিদিমার স্নানের ঘটা। আজ খারাপ লাগে। দিদিমা যা করছেন করছেন, আমরা তক্কে তক্কে থেকে দিদিমা না ডাকলেই পারতাম বোধহয়।


    নামের প্রসঙ্গে বলি, গ্রামের সব মুসলিম ছেলেমেয়েদের একটা করে হিন্দু নাম থাকতো। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বাড়িতে। ভাল নাম কে জানতো। ডাকনাম শুনে কে হিন্দু কে মুসলমান বোঝার কোন উপায় থাকে না অনেক গ্রামেই। বহুকাল ধরে। বকুল, বাবলু, শান্ত, খোকন ইত্যাদি। আর যাত্রা সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক নায়িকার নাম তো ঘরে ঘরে। তপনকুমার উত্তমকুমার, তরুণকুমার, স্বপনকুমার—কৌমার্য হারাতেন মুসলিম পরিবারে। আর ‘হিন্দু’পরিবারে চির ব্রহ্মচর্য—কুমার চিরকালের সঙ্গী। শ্মশানে নয়। কারণ তখন কেউ ডেথ সার্টিফিকেটের নাম শোনেনি। বার্থ সার্টিফিকেট ??? জন্মতারিখ?? কে কতটা লম্বা আর মাস্টারমশাইয়ের চোখের আন্দাজ ঠিক করতো ছেলের বয়স। ছেলে মেয়ে কি চাকরি করবে না জজ ম্যাজিস্টার হবে যে তাদের আসল্ বয়সজেনে স্কুলের খাতায় লিখতে হবে? সব তো ঠেলবে বাঁকা কলম মানে লাঙ্গল। এই ছিল মনোভাব/


    আরে পড়তে হয় তাই পড়া। যা তো।


    ছেলে মেয়েকে ভর্তি করতে বাবা স্কুলে গেছে কারো? আমি দেখিনি । উচ্চ-মাধ্যমিকে শহরে পড়তে আসার আগে। আমাদের প্রজন্মে আমরাই ছিলাম আমাদের পরস্পরের অভিভাবক।


    বাবার নাম ঠিক থাকতো। কিন্তু কলেজেও কে যে কার বাবার সই করতো খোদায় মালুম। ভগবানের বাবার সাধ্যি ছিল না ---কার বাবার সই কে করেছে আর কখন করেছে, তা  ধরা। গার্জিয়ান কল? প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াতে না গেলে পেরেন্টস মিটিং  চাক্ষুস হতো না বোধকরি।


    গ্রামে দুর্গাপূজা হতো। গোটা থানা বা বিধানসভা এলাকায় হতো মাত্র ৫ -৬ টি জায়গায়। তার মধ্যে একটি ছিল রামবাটি গ্রামে এক সিপিএম নেতার বাড়িতে। তিনি এম এল এ-ও হয়েছিলেন ১৯৭৭-এ। ছিলেন পার্টির লোকাল কমিটির দাপুটে সম্পাদক। (তখন জোনাল শব্দের জম্ম হয় নি)। লক্ষ্মীপূজাও গ্রামে এল ১৯৭৭-র পর। পুজো বলতে ছিল মাঠে মনসা পুজো। মূর্তিছাড়া। শ্মশানে নাকি ডাকাতরা কালীপুজো করতো। শোনা কথা। কেউ দেখেনি। তবে গ্রামে আগে কালীপুজো হতো ধুমধাম করে প্রকাশ্যে। কাজীরা করতেন। কাজীরা জন্মসূত্রে মুসলিম। গ্রামে গল্পকথা চালু ছিল--


    তাঁদের কোন পূর্বপুরুষের নাকি কঠিন দন্ডের হুকুম হয়েছিল -- কোর্ট থেকে বাড়ি ফেরার পথে পড়ে দামোদর নদ। মাঝনদীতে ডুবু ডুবু উথাল-পাথাল স্রোতে নৌকায় দেখা দেন দেবী কালী। বলেন—আমার পুজো কর। পরিত্রাণ পাবি। পুজো করেন তিনি। শাস্তি মকুব হয়। জমি জিরেত বাড়ে। ওই বাড়িতে ফুকু পিসির মানসিক সমস্যা ছিল। হিন্দু মুসলিম—লোকজন আড়ালে বলতো : হবে না—কালীমায়ের পুজো বন্ধ করে দিয়েছে! তাই দেবী রেগে গেছেন! ফুকুপিসি ছিলেন খুব ভালো মেয়ে। সবার সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সব বাড়িতে অবাধ যাতায়াত। মিষ্টি মনের মহিলা। সবাই তাকে খুব ভালবাসত। এবং আশ্চর্য প্রায় সবাই তাকে নাম ধরে ডাকতো। ফুকু পিসি শিশু থেকে গিয়েছিল মনের দিক থেকে।


    কাজীদের সঙ্গে আমাদের যথেষ্ট সুসম্পর্ক ছিল। কাজীদের বড় তরফের কারো কারো সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্বাসে অমিল থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল অমলিন। এই পরিবারের পুরুষ মহিলারা সাধারণভাবে ছিলে রূপবান-রুপবতী।


    এমন ছিল আমাদের সুন্দর মেলানো মেশানো বিশ্বাসের গ্রাম।


    গ্রামে ঘটা করে পূজা হতো ওলাইচন্ডী দেবীর। প্রতি বছর ১৯ মাঘ।


    গ্রামের হিন্দু মুসলমান সবাই বাইরে থাকা ঘরবাসীকে বলতেন—পুজোয় আসবি তো?


    পুজো মানে দুর্গাপূজা নয়—ওলাইচন্ডী পূজা। আমাদের গ্রামে যতদূর জানি দুর্গাপুজা শুরু হয় ১৯৮৪-র পর।


    #কাদামাটির_হাফলাইফ ৩


    শীতকাল জুড়ে বর্ধমান জেলার দক্ষিণ প্রান্ত জুড়ে শুরু হতো মেলার ধুম। প্রথম মেলা হতো পাশের গ্রাম বোড়ায়। ‘হিন্দু’ অধ্যুষিত গ্রাম। সব গ্রামের মতোই তফশিলি জাতির মানুষ বেশি।


    সম্ভবত ৩০ অগ্রহায়ণ। মেলার চেয়ে বেশি আকর্ষণ ছিল যাত্রা। বোড়া গ্রামে অ্যামেচার যাত্রার দল ছিল বেশ শক্তিশালী। এলাকায় যাত্রার প্রথম আসর বোড়ার। ওই গ্রামে বাবার পার্টিতুতো  এবং যাত্রা তুতো অনেক বন্ধু ছিলেন। তাঁদের মধ্যে চন্ডীচরণ কেশ ছিলেন বেশ নাম করা অভিনেতা। কলকাতার দলেও অভিনয় করেছেন। কেশ পরিবার আগুড়ি। মানে উগ্রক্ষত্রিয়। পয়সাওয়ালা লোক আগুড়িরা। শিক্ষার দিকেও তখন আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের গ্রামে জুনিয়র হাইস্কুলে পড়ত আসত কয়েকজন। বেশিরভাগ যেত ৫ কিমি দূরের সেহারাবাজার সিকে ইন্সটিটিউশন। আমরাও ওখানে পড়েছি নবম-দশম শ্রেণি। আমরা মানে দাদা, আমি, আমার সেজভাই, ছোটবোন। সেহারা স্কুলে শিক্ষকতার মান ছিল ভাল। এই বিদ্যালয়ের কথা সবিস্তারে বলতেই হবে—নানা কারণে।


    যাক, বাড়া দিয়ে শুরু হতো এলাকার যাত্রা। আমাদের গ্রাম মুসলিম প্রধান। যাত্রা দেখে আসার পর কেঊ বলতো –বোড়াকে এবার হারাতে পারবেনি আউশাড়া। আরেক দল বলতো- দেখো না কাঁপিয়ে দেবো জাস্ট যাত্রার আসর কাঁপিয়ে দেবো। বোড়ার লোক দাঁড়াতেই পারবে না। প্রায়ই কথা উঠতো--


    দুই গ্রামের যাত্রা হবে—পরপর দুদিন। সে কথা কোনদিন কার্যকর হয়নি। তবে বোড়ার যাত্রা পর আমাদের গ্রামে রিহার্সালের বড় ধূম পড়ে যেত। যে আগে কামাই করতো—সেও কামাই করতো। অভিনেতাদের মধ্যে যাঁরা কলকাতায় কজা করতেন—তাঁদের কথা অবশ্য আলাদা। কলকাতাবাসী অভিনেতারা পরে একটি আলাদা যাত্রা দল করেন। এ দল বেশ সুনাম কুড়োয়।


    কাদা মাটির অর্ধ-জীবন/ হাফ সেঞ্চুরি


    পর্ব -৩


    ওলাইচন্ডী।।


    মেলা যাত্রা।।


    ইতিহাস


    পয়সার আকাল


  • ১৩ জুলাই ২০২১ | ৪৫৩ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • প্রতিভা | 115.96.149.150 | ১৪ জুলাই ২০২১ ০৫:৩৫495770
  • খুব ইন্টারেস্টিং লেখা। 

  • Emanul Haque | ১৪ জুলাই ২০২১ ১৯:২৭495787
  • ধন্যবাদ

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন