• বুলবুলভাজা  ভ্রমণ  যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে  খাই দাই ঘুরি ফিরি

  • ডেভিড লিভিংস্টোনের খোঁজে-৫৪

    হেনরি মর্টন স্ট্যানলে
    ভ্রমণ | যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে | ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৫১ বার পঠিত
  • ডেভিড লিভিংস্টোন। আফ্রিকায় বেপাত্তা। কিংবদন্তি মানুষটির খোঁজে আফ্রিকা পৌঁছেছেন মার্কিন সাংবাদিক হেনরি মর্টন স্ট্যানলে। জাঞ্জিবার থেকে শুরু হল আফ্রিকার গভীরে অভিযান। প্রথম লক্ষ্য বাগামোয়ো শহরে পৌঁছে পাক্কা দেড় মাস আটকে সেখান থেকে একে একে রওনা হয়েছে অভিযানের মোট পাঁচটি কাফেলা। চলছে অভিযানের মূল কাহিনি। স্ট্যানলের সেই বিখ্যাত সফরনামা ‘হাও আই ফাউন্ড লিভিংস্টোন’। এই প্রথম বাংলায়। গত অধ্যায় থেকেই স্ট্যানলে বর্ণনা করছেন উন্যানয়েম্বে রাজ্যের মানুষদের কথা। তরজমা স্বাতী রায়



    উন্যানয়েম্বে ১৯ শতকে একটি রাজ্য ছিল। মানচিত্রে সবুজ গোল দাগ দেওয়া অঞ্চলে। এখানে বাস করতেন মূলত নিয়ামওয়েজ়ি গোষ্ঠীর মানুষেরা। এই অঞ্চলেরই বর্ণনা করছেন হেনরি মর্টান স্ট্যানলে।


    এখানকার গুরুত্বপূর্ণ আরবদের থেকে সাহেবরা সহজেই পেঁয়াজ ও রসুন, লঙ্কা, শসা, টমেটো, বেগুন এইসব কিনতে পারেন। এই আরবেরা ভারি বিলাসপ্রিয়, অবশ্য তাঁদের নিজেদের মত করে। বছরে অন্তত একবার আরবদের দাসেরা উপকূল থেকে তাদের জন্য চা, কফি, চিনি, মশলা জেলি, কারি, ওয়াইন, ব্র্যান্ডি, বিস্কুট, সার্ডিন, স্যামন তো বটেই, এমনকি সূক্ষ্ম বস্ত্রাদি আর তাদের নিজস্ব ব্যবহারের সবকিছু নিয়ে আসে। প্রায় প্রত্যেক বিশিষ্ট আরবের বাড়িতেই পারস্যের গালিচা, অতি বিলাসবহুল বিছানা, চা-কফি পরিবেশনের সম্পূর্ণ সেট, দারুণ কারুকার্যখচিত টিন-আচ্ছাদিত তামার পাত্র বা পিতলের হাত-মুখ ধোয়ার পাত্র এসব থাকে। এদের মধ্যে অনেকেই সোনার চেন দেওয়া ঘড়ি পরে, প্রায় সবারই সঙ্গে কোনো না কোনো রকমের চেনসহ ঘড়ি। আর পারস্যে, আফগানিস্তানে ও তুরস্কের মতনই এখানেও হারেম হল প্রত্যেকটি আরবের পরিবারের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। প্রাচ্য দেশগুলোর মতন এখানেও মোহামেডানদের ইন্দ্রিয়পরায়ণতা বেশ প্রকট। নিজের নিজের ক্ষমতা অনুসারে প্রতিটি আরব নিজ পাশব প্রবৃত্তির কামাগ্নি নির্বাপণের জন্য এক দল উপপত্নী পোষে। প্রথম দর্শনে আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গীর অতিসাধারণ মুখশ্রীকে তুচ্ছ করলেও শীঘ্রই সুন্দর মুখ আর হাল্কা ফ্যাকাসে রঙের প্রতি আরবের টান কমতে থাকে; তখন নিগ্রো কন্যাদের ভারী, অসমঞ্জস দেহ-বল্লরী তার যথেচ্ছ কামনা মেটায়, তার ছড়ানো, নির্বোধ মুখ ও কুতকুতে চোখের দিকে আরব সপ্রেম তাকিয়ে থাকে- অথচ যে প্রেম সকল হতভাগা মানুষকে অপরূপ করে তোলে, সেই প্রেমের আলোতে কখনই এই মুখ-চোখ ঝলমলিয়ে ওঠে না।

    গতকাল যে যে আরবরা ভাল ভাল সব জিনিস পাঠিয়েছিল, তারা এখন আমার কুঁড়ের সামনের দরজায় ভিড় জমিয়েছে। তাদের তো সম্ভাষণ জানাতেই হবে। শেখ সৈয়দকে প্রথমে সেলাম জানালাম, তারপর কারাগওয়াতে জাঞ্জিবারের সুলতানের প্রতিনিধি শেখ বিন নাসিবকে অভিবাদন করলাম। তারপর আমি আরবদের মধ্যে মহোত্তম মানুষটিকে শুভেচ্ছা জানালাম, ইনি অর্থাৎ শেখ খামিস বিন আবদুল্লাহ আচারব্যবহারে যেমন মহৎ, সাহস ও পৌরুষেও অত্যুত্তম। এরপর সম্ভাষণ জানালাম যুবক আমরাম বিন মুসাউদকে, এ তখন উরোরির রাজা ও তার বদমেজাজি দলবলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে; তারপর সুদর্শন ও সাহসী সৌদকে শুভেচ্ছা জানালাম, এ হল সৈয়দ বিন মাজিদের ছেলে। তারপর থানি বিন আবদুল্লাহর সঙ্গে একটু আগডুম বাগডুম বকলাম; পরে মুসৌদ বিন আবদুল্লাহ ও তার খুড়তুতো ভাই আবদুল্লাহ বিন মুসৌদের সঙ্গে কথা হল, এঁদের বাড়িতেই আগে বার্টন এবং স্পেক ছিলেন; তারপর বুড়ো সু্লেমান, দোয়া, সৈয়দ বিন সাইফ ও তাবোরার পুরোনো সেনানায়ক, শেখ সুলতান বিন আলিকে সম্ভাষণ জানালাম।

    এই সকল আরব বিশিষ্টরাই শ্বেতাঙ্গ অভিযাত্রীদের যত্নআত্তি আর সুরক্ষার ব্যবস্থা করে। আমার সঙ্গে তাদের এই দেখা করতে আসা, তা সে যতই আন্তরিক আর রাজকীয় হোক না কেন, নেহাতই আরব শিষ্টাচার-সম্ভূত, তার সঙ্গে আমার স্বাস্থ্য বা তাদের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, আমার ধন্যবাদজ্ঞাপন, আর তাদের আমার প্রতি আনুগত্য জানানো - এসবের কোনো দরকার ছিল না। পারস্পরিক অভিনন্দন জানানোর পালা শেষ হলে আর অর্থহীন বাক্যালাপ ফুরালে তারা বিদায় নিল, আর যাওয়ার আগে বলে গেল যে আমি যেন তাদের সঙ্গে দেখা করতে তাবোরাতে যাই আর আমার উদ্দেশে তারা সেখানে যে ভোজসভার আয়োজন করছে, তাতে অংশগ্রহণ করি।

    তিন দিন পর আমি আঠেরো জন বীরসাজে সজ্জিত দেহরক্ষী নিয়ে তাবোরার উদ্দেশে রওনা হলাম। কুইহারার উপত্যকা থেকে যে রাস্তাটা তাবোরার দিকে গেছে সেই পথ ধরে যাচ্ছি। যে সমভূমিতে আরব বসতি অবস্থিত তা আমাদের সামনে ছড়ানো, আমাদের বাঁ দিকের পাহাড়ের শ্রেণির পায়ের থেকে গোম্বে নদীর উত্তর তীর অবধি প্রসারিত একটা বিস্তৃনত মেটে রঙের চারণভূমি- তাবোরা পেরিয়ে কয়েক মাইল দূরে এই সমভূমি বদলে গেছে বেগুনি রঙের পাহাড় আর নীল শৃঙ্গে।

    মিনিট পঁয়তাল্লিশের মধ্যেই পৌঁছে আমরা সুলতান বিন আলির ঘরের মাটির বারান্দায় বসেছিলাম। সৈয়দ বুরঘাসের ভয়-জাগানো সৈন্যদলের কর্নেল ছিল আলি। বয়স, ধনদৌলত আর পদমর্যাদার কারণে ছোট থেকে বড় সব দেশবাসীই তাকে সালিশি করতে ডাকে, আর পরামর্শদাতা হিসাবে মানে। তার বোমা বা ঘেরের মধ্যে বেশ কিছু মৌচাক আকৃতির ঘর আর বর্গাকার টেম্বে- সব মিলিয়ে প্রায় একটা গ্রামই বলা যায়। এখানে আমাদের এক কাপ করে মোকা কফি আর খানিকটা সরবত দেওয়া হল। এরপর আমরা গেলাম খামিস বিন আবদুল্লাহর বাড়িতে। আমরা আসব ধরে নিয়ে সে একটা ভোজের বন্দোবস্ত করেছিল আর সেই ভোজে নিজের বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ধপধপে সাদা লম্বা জোব্বা পরা সুদর্শন এক দল আরব মাথায় টিপটপ বরফ-সাদা টুপি পরে আমাকে তাবোরাতে স্বাগত জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে আছে- এই দৃশ্যটা আমার মনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। আমি যখন গিয়েছিলাম তখন তারা একটা যুদ্ধের বিষয়ে মন্ত্রণা করছিল, আমাকে সেই মন্ত্রণাসভায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করল- আমার আরব দোভাষী সেলিমকে মন্ত্রণাসভার একজন করা হল।

    খামিস বিন আবদুল্লাহ একজন সাহসী, সপ্রতিভ মানুষ। আরবদের অধিকার, বিশেষত বৈধ বাণিজ্যের জন্য যে কোন এলাকার মধ্যে দিয়ে তাদের যাতায়াতের অধিকার রক্ষায় সদা প্রস্তুত। স্পেকের নীলনদের উৎস আবিষ্কারের দিনলিপিতে এই খামিসের কথাই লেখা আছে - সে মৌলা নামের একজন বুড়ো সর্দারকে গুলি করেছিল- মৌলা ১৮৬০ এর যুদ্ধে মানওয়া সেরার পক্ষ নিয়েছিল। আর তারপর মানওয়া সেরার নিষ্ঠুর বাহিনীকে টানা পাঁচ বছর ধরে উগোগো ও উন্যামওয়েজির মধ্য দিয়ে উকোনোংগো অবধি তাড়া করার পরে খামিস তার মুণ্ডু কাটার তৃপ্তি পেয়েছিল। সে এখন উইয়েওয়েহের মিরাম্বো নামে একজন প্রধানের বিরুদ্ধে আরবদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ডাক দিচ্ছে- সামনেই একটা সঙ্কট ঘনিয়ে আসছে।

    উইয়েওয়েহের এই মিরাম্বো নামের লোকটার, মনে হয়, গত কয়েক বছর ধরেই আশেপাশের প্রধানদের সঙ্গে নিয়মনীতি নিয়ে একটা ঝামেলা লেগেই আছে। আগে লোকটা একজন আরবের কুলি ছিল। এখন রাজা হয়ে বসেছে, এর ধরণ ধারণ একেবারেই বিবেকহীন দুষ্কৃতীদের মত, কিভাবে ক্ষমতায় এল তা নিয়ে কোন মাথাব্যথাই নেই। ছিল উইলিয়ানকুরুর জঙ্গলের ডাকাতদলের সর্দার, উইয়েওয়েহের প্রধান মারা যেতে হঠাৎ করে সেখানে এসে গায়ের জোরে নিজেকে রাজা ঘোষণা করে বসল। নিজের চেলাচামুন্ডাদের সমৃদ্ধির জন্য কিছু কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল- আর তার ফলেই সে আরও গেঁড়ে বসতে পেরেছে। তবে এতো কেবল শুরু; উগারা থেকে উকোনোংগো, উসাগোজির মধ্যে দিয়ে উভিনজার সীমানা অবধি সে ঘোর যুদ্ধ শুরু করে দেয় আর তিন ডিগ্রি অক্ষাংশেরও বেশি জায়গা জুড়ে জন-ধ্বংস করার পর, এমকাসিওয়া বিরুদ্ধে তার গভীর ক্ষোভ জন্মায়। আর সেই সঙ্গে আরবদের বিরুদ্ধেও। এমকাসিওয়া আরবদের মিত্রপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি শান্তিতে বাস করা বন্ধুর বিরুদ্ধে মিরাম্বো যুদ্ধ ঘোষণা করলে সেই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে আরবরা তাকে সাহায্য করতে রাজী হয়নি। সেইজন্যেই আরবদের উপর তার রাগ।

    এই অপরিণামদর্শী লোকটা উজিজি-মুখো একটা কাফেলা থামিয়ে দিয়ে আর তাদের থেকে পাঁচ কেজি বারুদ, পাঁচটা বন্দুক ও পাঁচ গাঁটরি কাপড় নজরানা চেয়ে আরবদের বিরুদ্ধে প্রথম অত্যাচারটা করল। এই অশ্রুতপূর্ব দাবি নিয়ে এক দিনেরও বেশি ধরে তুমুল তর্ক বিতর্ক হওয়ার পরে তার দাবি মেটান হল। কিন্তু আরবরা যদি তাদের কাছ থেকে হুমকি দিয়ে এই ভয়ানক বেশি তোলা আদায় করায় অবাক হয়ে থাকে, তার থেকেও বেশি অবাক করার মত ঘটনা তাদের জন্য তোলা ছিল - আরবদের বলা হল যে পথ দিয়ে তারা এসেছে সে পথ দিয়েই ফিরে যেতে। আর এরপর থেকে কোন আরব কাফেলাই মিরাম্বোর মৃতদেহের উপর দিয়ে ছাড়া তার দেশের মধ্য দিয়ে উজিজির দিকে যেতে পারবে না।

    হতভাগ্য আরবরা উনানয়েম্বে ফিরে এসে আরব উপনিবেশের শাসনকর্তা শেখ সৈয়দ বিন সালিমকে ঘটনাটা জানায়। এই বৃদ্ধ মানুষটি যুদ্ধ করতে চায় নি। অবশ্যই আগের মত সব রকম ভাবে উপহার দিয়ে মিরাম্বোকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হল; কিন্তু এবার মিরাম্বো গোঁ ধরে রইল, আরবরা যদি উন্যাময়েম্বের ন্যামওয়েজিদের সুলতান, বুড়ো এমকাসিওয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাকে সাহায্য না করে তাহলে সে আরবদের সঙ্গেও যুদ্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    খামিস বিন আবদুল্লাহ জানাল, “এই হল অবস্থা। মিরাম্বো বলেছে যে সে বহু বছর ধরে প্রতিবেশী শেনসিদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে আর শেষে জয়ী হয়েছে; সে এও বলেছে যে এই বছরটা তার জন্য দারুণ একটা বছর; আরবদের সাথে যুদ্ধ করবে, আর উন্যানয়েম্বের ন্যামওয়েজিদের সঙ্গেও, আর যতক্ষণ না প্রত্যেকজন আরবকে উন্যানয়েম্বে থেকে তাড়ানো হচ্ছে আর এমকাসিওয়ার জায়গায় সে এই পুরো জায়গাটার অধীশ্বর হচ্ছে, ততক্ষণ সে কিছুতেই থামবে না। হে ওমানের সন্তানেরা, তাই হবে? হে সাইফের ছেলে সেলিম, বলুন, আমরা কি এই বর্বরটার সঙ্গে মোলাকাত করব নাকি সব ছেড়েছুড়ে নিজেদের দ্বীপে ফিরে যাব?”

    খামিস বিন আবদুল্লাহর কথা শেষ হতেই একযোগে সমর্থনের গুঞ্জন উঠল। উপস্থিত বেশির ভাগই যুবক, তারা দুর্বিনীত মিরাম্বোকে শাস্তি দিতে আগ্রহী। সাইফের ছেলে, সেলিম একজন বৃদ্ধ গোষ্ঠীপতি, তার কথাবার্তাও ধীর-স্থির- সেই এই সব মরুভূমির বেদুইন আর মাস্কাট-মুত্রাহের অভিজাত কুলতিলকদের আবেগকে প্রশমিত করার চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু খামিসের জোরালো কথাগুলো তাদের মনের উপর খুবই গভীর ছাপ ফেলেছিল।

    সৌদ নামের সুদর্শন আরবকে আমি আগেই সৈয়দের ছেলে আর মজিদের নাতি বলে লক্ষ্য করেছি। সে বলল, 'আমার বাবা আমাকে বলতেন যে তিনি সেই দিনগুলোর কথা মনে করতে পারেন যখন আরবরা বাগামোয়ো থেকে উজিজি, কিলওয়া থেকে লুন্ডা আর উসেনগা থেকে উগান্ডা পর্যন্ত শুধু একটা লাঠি হাতেই ঘুরে বেড়াতে পারত। সেসব দিন আর নেই। অনেক দিন ধরেই তো আমরা গোগোদের অসভ্যতা সহ্য করছি। উসুইয়ের স্বরুরু আমাদের কাছ থেকে যা ইচ্ছে তাই নজরানা নেয়; এবং এখন, এই মিরাম্বো কিনা একজনের কাছ থেকে পাঁচ গাঁটরি কাপড়ের থেকেও বেশি তোলা আদায় করার পরেও বলছে যে উজিজি-মুখো কোনো আরব কাফেলা তার মৃতদেহের উপর দিয়ে ছাড়া যেতে দেবে না! তবে কি শুধু একটা লোকের জন্য আমরা উজিজি, উরুন্ডি, কারাগওয়াহ, উগান্ডার হাতির দাঁত ছেড়ে দেব? আমি বলছি যুদ্ধ হোক- যতক্ষণ না আমাদের পায়ের নিচে তার দাড়ি গড়াগড়ি যায়, ততক্ষণ অবধি যুদ্ধ হোক- যতক্ষণ না পুরো উইয়েওয়েহ ও উইলিয়ানকুরু ধ্বংস হয়ে যায় ততক্ষণ যুদ্ধ চলুক- যতক্ষণ না আমরা আবার দেশের যে-কোনো এলাকা দিয়ে হাতে শুধু লাঠি নিয়ে ভ্রমণ করতে পারি, ততক্ষণ যুদ্ধ চলুক!

    সৌদের বক্তৃতাকে সবাই যেভাবে অনুমোদন করল তার থেকেই নিঃসংশয়ে বোঝা গেল যে একটা যুদ্ধ হতে চলেছে। আমি লিভিংস্টোনের কথা ভাবছিলাম। যদি তিনি সোজা উন্যানয়েম্বের দিকে চলে গিয়ে একেবারে যুদ্ধের মাঝে গিয়ে পড়েন?

    আরবদের কাছ থেকে জানা গেল যে তারা দ্রুতই যুদ্ধ শেষ করতে চায়- উইয়েওয়েহ যেহেতু মাত্র চারদিনের হাঁটাপথের দূরত্বে, তাই খুব বেশি হলে দিন পনেরোর মধ্যেই শেষ হবে। আমি স্বেচ্ছায় তাদের সঙ্গে যাব বললাম। আমার মাল-বোঝাই কাফেলা আমার সঙ্গে এমফুটো অবধি যাবে। সেখানে কয়েকজন প্রহরীর হাতে কাফেলা ছেড়ে বাকিদের সঙ্গে নিয়ে আমি আরব বাহিনীর সঙ্গে এগিয়ে যাব। আমার আশা ছিল যে মিরাম্বো আর তার রুগারুগা জংগল-দস্যুদের পরাজয়ের পর এখনকার বন্ধ রাস্তা ধরেই আমার অভিযান সরাসরি উজিজির দিকে রওনা দিতে পারবে। আরবরা নিশ্চিত ছিল যে তারা জিতবে, আর আমিও তাদের উৎসাহের ভাগীদার হলাম।

    (ক্রমশ)

     

  • বিভাগ : ভ্রমণ | ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৫১ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন