• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • রাগ দরবারীঃ ১৩শ পর্ব

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২৭ মে ২০২১ | ৪৭৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • এই পঞ্চতন্ত্র রচনার পেছনেও সেই একই গল্প। আজ ভাইস প্রিন্সিপাল হতে চাইছে, কাল প্রিন্সিপাল হতে আবদার করবে। তার জন্যে পরিচালন সমিতির মেম্বারদের হাত করবে। মাস্টারদের মধ্যে নিজের একটা দল বানাবে। ছাত্রদের মারপিট করতে উসকে দেবে। উপর মহলে নালিশ করবে। ব্যাটা বজ্জাত হাড় বজ্জাত হবে।

    বড় বড় কথা ভেতর-ফাঁকা,
    শাক দিয়ে মাছ যায় কি ঢাকা!

    বৈদ্যজীর কাছে রামাধীন ভীখমখেড়ভীজির চিঠি এসেছে। লেটারহেডের মোনোগ্রামের জায়গায় রয়েছে ওই দ্বিপদীটি। চিঠির সারমর্ম হল- গত তিনবছরে একবারও পরিচালক সমিতির বৈঠক হয়নি, আগামী দশদিনের মধ্যে বৈঠকটি ডাকা হোক। আর কলেজের সাধারণ সমিতির বার্ষিক সভা কলেজ শুরু হওয়ার দিন থেকে একবারও হয়নি। সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যাক। চিঠিতে এজেন্ডা আইটেমের মধ্যে ভাইস প্রিন্সিপাল পদ শুরু করার প্রস্তাবও রয়েছে।

    প্রিন্সিপাল সাহেব বৈদ্যজীর ঘর থেকে ফিরে আসার সময় চিঠিটি নিজের পকেটে ঢোকাতেই হঠাৎ বড্ড গরম গরম লাগল।মনে হোল গায়ের জামাটা পুড়ে যাচ্ছে এবং চারপাশ থেকে আগুনের হলকা আসছে। একটা হলকার চোটে কোটটা জ্বলতে শুরু করেছে, আরেকটা হলকা শার্টের ভেতর থেকে নীচের দিকে বইতে বইতে প্যান্টের ভেতরে নামছে। এরকম বোধ হতেই ওঁর চলার বেগ বেড়ে গেল। হলকার তৃতীয় ধারাটি ওঁর চোখ কান নাকে লাল লাল চিহ্ন ছড়িয়ে মাথার খুলির সেই কোটরে ঢুকে গেল যেখানে বুদ্ধিশুদ্ধি থাকে।

    কলেজের গেটের কাছে ওঁর রূপ্পন বাবুর সঙ্গে দেখা হল। উনি রূপ্পনের পথ আটকে বোঝাতে শুরু করলেন—’ দেখছ তো? খান্না এবার রামাধীনের খুঁটি ধরেছে। ভাইস প্রিন্সিপালগিরির শখ চড়েছে। শোন, একবার এক কোলাব্যাঙ দেখল কি ঘোড়ার পায়ে নাল লাগানো হচ্ছে, তখন ও ভাবল-’।

    কিন্তু রূপ্পনবাবুর একটু তাড়া ছিল। কলেজ পর্ব সেরে অন্য কোোঁথাও যাচ্ছিলেন।বললেন,’ হ্যাঁ, জানি তো।আর ব্যাঙের গল্পটা সবাই জানে। তবে আপনাকে একটা কথা স্পষ্টাস্পষ্টি বলে দিচ্ছি। খান্নার জন্যে আমার কোন মাথাব্যথা নেই। কিন্তু মনে হয়, কলেজে একজন ভাইস প্রিন্সিপাল হওয়া জরুরি। আপনি না থাকলে এখানকার মাস্টারগুলো কুকুরবেড়ালের মত খেয়োখেয়ি করতে থাকে। টিচার্স রুমে যা গুন্ডামি হয় তা আর কহতব্য নয়। ওই হ্যা-হ্যা, ঠ্যাঁ-ঠ্যাঁ, ফ্যাঁস-ফ্যাঁস’! এবার রূপ্পন একটু গম্ভীর হয়ে প্রায় আদেশের সুরে বললেন-‘প্রিন্সিপাল সা’ব! আমার মনে হয় আমাদের কলেজে একজন ভাইস প্রিন্সিপাল দরকার। খান্না সবচেয়ে সিনিয়র, ওকেই হ’তে দিন। সেরেফ নাম-কা-ওয়াস্তে, মাইনে তো বাড়বে না’।

    প্রিন্সিপাল সাহেবের বুকের ভেতর এত জোরে ধক্‌ করে উঠল যেন লাফিয়ে ফুসফুসে ঢুকে পড়বে। “ভুলেও অমন কথা মুখে এনো না রূপ্পন বাবু! এই খান্না-টান্না বলে বেড়াচ্ছে যে তুমি নাকি ওদের সঙ্গে রয়েছ! এটা শিবপালগঞ্জ; ইয়ার্কি করলেও একটু ভেবেচিন্তে মুখ খুলতে হয়’।

    “আমি যেটা উচিৎ সেটাই বলি। যাই হোক, পরে দেখা যাবে’খন”। বলতে বলতে রূপ্পনবাবু এগিয়ে গেলেন।

    প্রিন্সিপাল সাহেব হড়বড়িয়ে নিজের কামরার ঢুকলেন। বেশ ঠান্ডা পড়েছে, কিন্তু উনি কোট খুলে ফেললেন। লেখাপড়ার সামগ্রী সাপ্লাইয়ের কোন দোকানের একটা ক্যালেন্ডার ঠিক ওঁর নাক বরাবর সামনের দেয়ালে টাঙানো রয়েছে। তাতে নগ্নবদন স্বচ্ছবসনা এক ফিলিম- অ্যাকট্রেস জনৈক পুরুষকে একটি লাড্ডুমতন কিছু নিবেদন করছে। পুরুষটির লম্বা লম্বা চুল, এক তুলে চোখ ঢাকার ভান করে এমন মুখভঙ্গী করছে যেন ঐ লাড্ডুটি খেলে ওর বদহজম হবে। এরা মেনকা ও বিশ্বামিত্র। খান্নাকে

    প্রিন্সিপাল খানিকক্ষণ অপলক এদের দেখতে লাগলেন।হঠাৎ কলিংবেল না বাজিয়ে চেঁচিয়ে চাপরাশিকে ডাকলেন। ও এলে পরে বললেন-যাও, খান্নাকে ডেকে আন।

    চাপরাশি রহস্যময় ঢঙে বলল, ‘ফিল্ডের দিকে গেছে। সঙ্গে মালবীয়জি’।

    প্রিন্সিপাল চিড়বিড়িয়ে টেবিলের উপর রাখা কলমদানটাকে এক ধাক্কা মেরে আরেক মাথায় পাঠালেন। এই কলমদানটা কোন এডুকেশনাল এম্পোরিয়াম থেকে স্যাম্পল দিয়ে গেছল।কিন্তু প্রিন্সিপাল ওটাকে যেভাবে দুর দুর করলেন তাতে মনে হতে পারে এ’বছর এম্পোরিয়ামটা থেকে কলেজ কোন জিনিসপত্র কিনবে না।কিন্তু সেটা প্রিন্সিপালের উদ্দেশ্য ছিল না। উনি শুধু চাপরাশিকে এই মেসেজ দিতে চাইছিলেন যে এখন উনি চাপরাশির গুপ্তচরগিরির গোপন রিপোর্ট শুনতে উৎসুক নন। তাই উনি কড়া করে বললেন-আমি বলছি, খান্নাকে এক্ষুণি ডেকে আন।

    চাপরাশির পরনে ধবধবে পাঞ্জাবি ও সাফসুতরো ধুতি, পায়ে খড়ম এবং কপালে তিলক। ও শান্তভাবে বলল,’ যাচ্ছি; ডেকে আনছি খান্নাকে। এত রেগে যাও কেন’?

    প্রিন্সিপাল দাঁত কিটকিটিয়ে টেবিলের উপর রাখা একটি টিনের টুকরোর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। টুকরোটাকে পালিশ করে একটা লালরঙা গোলাপ বানিয়ে দেয়া হয়েছে।পন্ডিত নেহেরুর পছন্দের গোলাপ, নীচে জুড়ে দেয়া হয়েছে দিন-তারিখ-মাস দেখার ক্যালেন্ডার। এটা বানিয়েছে একটি বিখ্যাত মদের কোম্পানি। এই ক্যালেন্ডারটি চারদিকে বিনে পয়সায় উপহার দেয়া হচ্ছে এই ভরসায় যে লোকে পন্ডিত নেহেরুর আদর্শের সঙ্গে এই শরাব কোম্পানিকেও মনে রাখবে। কিন্তু এখন এই ক্যালেন্ডারটি দেখে প্রিন্সিপাল সাহেবের মনে কোন প্রতিক্রিয়া হল না।পন্ডিত নেহেরুর গোলাপ ওঁর মনের ভার কমাতে পারেনি, আর ফেনিল বীয়রের গ্লাস কল্পনা করেও কোন উৎসাহ কোন উদ্দীপনা এলনা। উনি দাঁত পিসতে লাগলেন, পিসেই চললেন। হঠাৎ, চাপরাশির খড়মের আওয়াজ খালি চৌকাঠ পেরিয়ে বাইরে গেছে কি উনি হিসহিসিয়ে উঠলেন,’রামাধীন ওকে ভাইস প্রিন্সিপাল করে দেবে?ছ্যাঁচড় কোথাকার’! চাপরাশি ঘুরে দাঁড়াল। দরজায় দাঁড়িয়ে কড়া আওয়াজে বলল,‘গালি দিচ্ছেন প্রিন্সিপাল সাহেব’’'?

    --‘ঠিক আছে, ঠিক আছে; যাও, নিজের কাজে যাও’।

    -- নিজের কাজই তো করছিলাম। আপনি বারণ করলে আর করছি না’।

    প্রিন্সিপালের কপালে ভাঁজ পড়ল। উনি উলটো দেয়ালে আরেকটা ক্যালেন্ডারের দিকে মন দিলেন।চাপরাশি একইভাবে বলে চলল, ‘বলেন তোঁ খান্নাকে চোখে চোখে রাখা বন্ধ করে দিই’?

    প্রিন্সিপালের মেজাজ চড়ে গেল, ‘চুলোয় যাও’!

    চাপরাশি তেমনই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে।ডাঁটের মাথায় বলল,’ আমাকে খান্না-টান্না ভাববেন না যেন!চব্বিশ ঘন্টা খাটিয়ে নিন, পুষিয়ে যাবে। কিন্তু এই আবে-তাবে, তুইতোকারি একদম বরদাস্ত হয় না’।
    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar



    প্রিন্সিপাল অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলেন। চাপরাশি ফের বলল,’ শুনুন,আপনি বামুন তোঁ আমিও বামুন।নুন দিয়ে নুন কাটা যায় না, বলে দিলাম’।

    প্রিন্সিপাল নরম পড়ে গেলেন।‘তোমার ভুল হয়েছে। তোমাকে না, খান্নাকে ছ্যাঁচড় বলেছি, মহা ছ্যাঁচড়! রামাধীনের সঙ্গে মিলে মিটিং ডাকার নোটিশ পাঠায়’? গালিটা যে খান্নাকে দেয়া সেটা বিশ্বাস করানোর উদ্দেশ ফের বললেন,’ছ্যাঁচড় কোথাকার’!

    ‘এখখুনি ডেকে আনছি’, চাপরাশিও নরম হল। খড়মের খট খট আওয়াজ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। প্রিন্সিপালের চোখ এবার তৃতীয় এক ক্যালেন্ডারে আটকে গেছে। ওতে পাঁচ বছুরে দুটো বাচ্চা ইয়াবড় সব রাইফেল নিয়ে বরফের ওপর শুয়ে আছে। বোধহয় চীনে সৈন্যের অপেক্ষায়। এভাবে বড় শিল্পসম্মত ভাবে বিজ্ঞাপন করা হচ্ছে যে ওই কোম্পানিটির চটের ব্যাগ সবচেয়ে ভাল।

    প্রিন্সিপাল ওই ক্যালেন্ডারটা দেখতে দেখতে ভাবছিলেন যে খান্নার ভাইস প্রিন্সিপালগিরির শখ না চাগিয়ে উঠলে জীবন কত সুন্দর হত।উনি ভুলে গেলেন যে সবারই কিছু-না-কিছু শখ থাকে। রামাধীন ভীখমখেড়ভীর শখ চিঠির গোড়ায় দু’লাইন উর্দু কবিতা লেখা। প্রিন্সিপালের নিজের শখ হোল অফিসের দেয়ালে নিত্যনতুন রঙীন ক্যলেন্ডার টাঙিয়ে রাখা। তেমনই চাপরাশির শখ হোল বুক চিতিয়ে বড় বড় কথা বলার। ক্লার্কের মতই ও বৈদ্যজীর দূরসম্পর্কের আত্মীয় হয় যে!

    প্রিন্সিপাল খান্না মাস্টারের আশার প্রতীক্ষায়। এরপর যা হবে তাকে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই দেবার প্রচেষ্টায় বারান্দায় ক্লার্ক সাহেব আড়ি পেতেছেন।দেয়ালের পেছনে জানলার ঠিক নীচে ড্রিল মাস্টার মৌজুদ। উনি পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পেচ্ছাপ করার বদলে বিড়ি ধরাতে ব্যস্ত। না, এরপর আর খান্না-প্রিন্সিপাল সংবাদের জনতার দরবারে পৌঁছনর আগে উপে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা রইলনা।

    রাত্তিরে রঙ্গনাথ আর বদ্রী ছাতের কামরায় খাটিয়ায় গড়াতে গড়াতে এতোল বেতোল কথা শুরু করেছে। রঙ্গনাথ কথা শেষ করতে করতে বলল,’ খান্না আর প্রিন্সিপালের মধ্যে কী কথা হয়েছিল সেটা জানা যায়নি। ড্রিল মাস্টার জানলার নীচেই ছিল। খান্না চেঁচাচ্ছিল,”এই আপনার মনুষ্যত্ব”? ব্যস, ওইটুকুই শুনতে পেয়েছে’।

    বদ্রীর হাঁই উঠছিল। বলল,’ প্রিন্সিপাল গালি দিয়ে থাকবে। জবাবে খান্না মনুষ্যত্ব -টত্ব বলে থাকবে। ও এভাবেই কথা বলে। শালা একনম্বরের বাঙরু’!

    রঙ্গনাথ বলল।‘গালির জবাব তো জুতা’।

    বদ্রী এর কোন উত্তর না দেওয়ায় ও ফের বলল,’ দেখছি- এখানে মনুষ্যত্বের কথা বলাই বেকার’।

    বদ্রী ঘুমুবে বলে পাশ ফিরলো। তারপর গুড নাইট বলার স্টাইলে বলল,’ সে তো বুঝলাম। এখানে যে দুটো ক-খ-গ-ঘ পড়ে ফেলে সেই উর্দূ ঝাড়তে শুরু করে।কথায় কথায় খালি মনুষ্যত্ব-মনুষ্যত্ব!গলায় জোর না থাকলে সবাই মনুষ্যত্বের দোহাই দেয়’।

    কথাটা ঠিক। শিবপালগঞ্জে আজকাল ‘মনুষ্যত্ব’এরই বাজার। দুকুরবেলা আমবনের ছায়ায় ছোঁড়াগুলো জুয়ো খেলে। যার জেতার সে জেতে, যে হারে সে চেঁচায়-এই বুঝি তোর মনুষ্যত্ব! জিততেই পেচ্ছাব চাগিয়ে উঠেছে? খালি ফোঁটা ফোঁটা টপকানোর অজুহাত খুঁজছিস?

    আবার জেতাপার্টিও কখনও কখনও ‘মনুষ্যত্ব’ নিয়ে হামলে পড়ে। ‘একেই বলে মনুষ্যত্ব? এক বাজি হারতেই পিলপিলিয়ে গেলি? চারদিন ধরে খেলছি, আজ প্রথমবার দাঁও লাগল তো আমার পেশাব বন্ধ করিয়ে দিবি”?

    তাড়ির দোকানে মজদুরের দল ডাইনে বাঁয়ে ঘাড় দোলাতে থাকে। ১৯৬২তে চীনের অপ্রত্যাশিত বিশ্বাসঘাতকতায় যেমন ঝটকা লেগেছিল, প্রায় তেমনি হাবভাব করে বলতে থাকে,’বুধুয়া পাকা মকান বানিয়েছে রে! আজকাল কারখানাওলাদের দিন। বললাম, বাড়িতে অতিথি এসেছে, তাড়ি কেনার জন্যে দুটো টাকা দে। ব্যাটা সোজাসুজি হ্যাঁ-না করে পেছন ফিরে পাছা দেখিয়ে চলে গেল। এই কি মনুষ্যত্ব? নাগেশ্বর, তুমিই বল’।

    অর্থাৎ রাজনীতিতে যেমন ‘নীতিবোধ’কে ধরা হয় তেমনই, ‘মনুষ্যত্ব’ শব্দটা শিবপালগঞ্জে চৌকস ও চালাক লোকদের লক্ষণ। তবে বদ্রী পালোয়ানের চোখে এটা গলার জোরের অভাব ছাড়া কিছু নয়। এইসব বকবক করতে করতে নৈতিকতা ব্যাপারটা রঙ্গনাথের ঘাড়ে চাপিয়ে বদ্রী ঘুমিয়ে পড়ল।

    রঙ্গনাথ কম্বল জড়িয়ে শুয়ে শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আকাশপাতাল ভাবছিল।ছাদের দরজাটা খোলা, বাইরে জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চরাচর। খানিকক্ষণ ও সোফিয়া লোরেন এবং এলিজাবেথ টেলরের ধ্যান করল। তারপর মনে হোল এসব ক্যারেক্টার খারাপ হওয়ার লক্ষণ।তাই ও পাড়ার ধোপার মেয়ের ধ্যান শুরু করল। সেদিন ধোয়া কাপড়ের গাঁঠরি থেকে ওর কাপড় খোঁজার সময় ওর চোখ মেয়েটির হাতকাটা ব্লাউজে আটকে গেছল। খানিক পরে মনে হোল এটা আরও নোংরা, ফিরে এল ফিল্মের দুনিয়ায়। কিন্তু এবার জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম জেগে ওঠায় ও লিজ টেলরদের চিন্তা ছেড়ে ওয়াহিদা রেহমান ও সায়রা বানুর চিন্তায় ডুবে গেল। দু’চার মিনিট পর বুঝতে পারল যে সব ব্যাপারে বিদেশ থেকে প্রেরণা নেওয়া ঠিক নয়। আর ঠিকমত ধ্যান করলে দেশপ্রেমেও বড় মজা। হঠাৎ ওর ঘুম এসে গেল এবং অনেক চেষ্টার পরও সায়রা বানুর সমস্ত শরীরের চেয়ে ওর ধ্যানবিন্দু ক্রমশঃ ছোট আরও ছোট হয়ে গেল। কোত্থেকে এসে গেল কিছু বাঘ ও ভাল্লুক। ও একবার চেষ্টা করল কি সায়রা বানুর পুরো শরীর চেপে ধরে হিঁচড়ে নিয়ে আনবে, কিন্তু সায়রা বানু ওর হাত থেকে বার বার পিছলে গেল। এর মধ্যে বাঘ-ভালুকও কোথায় চলে গেল। তখন ওর মাথায় খান্না মাস্টারের চেহারাটা ভেসে উঠে ভেঙেচুরে গেল। খালি কানের মধ্যে একটা শব্দ টিপ টিপ করতে লাগল – মনুষ্যত্ব! মনুষ্যত্ব!

    একবার মনে হোল— কেউ ফিসফিস করছে। তারপর মনে হোল এটা কেউ কোন মঞ্চের উপর থেকে গম্ভীর স্বরে উচ্চারণ করছে। এবার মনে হোল না, কোথাও দাঙ্গা লেগেছে, লোকজন ছোটাছুটি করছে আর বলছে- মনুষ্যত্ব! মনুষ্যত্ব!

    ঘুমটা ভেঙে গেল। জেগে উঠতেই শুনতে পেল বাইরে খুব চেঁচামেচি হচ্ছে- চোর! চোর! চোর! পালিয়ে না যায়! পাকড়ো! পাকড়ো! চোর! চোর!

    একটু পরে পরে আওয়াজ ফিরে ফিরে গানের ধুয়ো ধরছিল-চোর! চোর!

    যেন গ্রামোফোনের পিন মুখড়ায় আটকে গেছে। ও দেখল, আওয়াজটা আসছে গাঁয়ের আরেক প্রান্ত থেকে।বদ্রী পালোয়ান খাটিয়া থেকে লাফিয়ে নেমেছে। ‘ছোটে বলছিল বটে, আজকাল একটা চোরের দল এ তল্লাটে ঘোরাফেরা করছে। মনে হচ্ছে আজ আমাদের গাঁয়ে ঢুকেছে’।
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৭ মে ২০২১ | ৪৭৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ২৮ মে ২০২১ ০৯:০৫106497
  • এই লেখায় সকালটা আরও সুন্দর হলো। আর আজ থেকে "মনুষ্যত্ব" কথাটির অর্থ বদলে গেল! 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন