• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • রাগ দরবারী (৬ষ্ঠ পর্ব)

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৪ এপ্রিল ২০২১ | ১৯২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • রামাধীনের পুরো নাম বাবু রামাধীন ভীখমখেড়ভী । মানে ভীখমখেড়া নিবাসী। (যেমন হিন্দি সিনেমার অনেক গীতের রচয়িতা শাহির লুধিয়ানভী হলেন লুধিয়ানা নিবাসী শাহির)। ভীখমখেড়া ছিল শিবপালগঞ্জের সঙ্গে জোড়া লাগা একটা গাঁ যা প্রাচীন ‘গ্রীস-মিশর-রোম’ এর মতন আজকাল দুনিয়া থেকে গায়েব হয়ে গেছে। মানে ঠিক হাওয়ায় মিলিয়ে যায়নি, কিন্তু শিবপালগঞ্জের লোকজন বোকার মত ভাবে- ওটা গায়েব হয়ে গেছে ।ভীখমখেড়া গ্রাম আজও আছে; বেঁচে আছে গোটাকয় ঝুপড়ি, মালবিভাগের কাগজপত্তর আর রামাধীনের পুরনো কবিতায়। ছোটবেলায় বাবু রামাধীন ভীখমখেড়া গাঁ থেকে বেরিয়ে রেললাইন ধরে চলতে চলতে শহরে পৌঁছে গেছলেন। তারপর সেখান থেকে কোন একটা ট্রেনে চড়ার প্ল্যানিং করে শেষে এক বিনা প্ল্যানিংযাত্রায় কোলকাতা পৌঁছে গেলেন। সেখানে উনি প্রথমে কোন এক ব্যবসায়ীর আড়তের চিঠিপত্তর যথাস্থানে পৌঁছে দেয়ার কাজে জুটে গেছলেন। তারপর লেগে গেলেন ওনার মালপত্তর সাপ্লাই করার কাজে। এরপর উনি শেঠজির পার্টনার হয়ে গেলেন এবং শেষে ওঁর কারবারের একচ্ছত্র মালিক।

    কারবারটা ছিল আফিম সাপ্লাইয়ের। কোলকাতায় কাঁচা আফিম আসতো পশ্চিম দেশ থেকে, সেটা নানান কায়দায় সেখানকার বড় বড় ব্যবসায়ীদের গদীতে পোঁছে দেয়ার আড়তিয়া হলেন বাবু রামাধীন।তারপর এগুলো দেশের বাইরে পাচার করার কাজটাও উনি নিজের হাতে নিতে পারতেন। কিন্তু ওঁর কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। চুপচাপ নিজের আড়ত সামলাতেন আর বাকি সময় পশ্চিমা দেশোয়ালি ভাইদের সঙ্গে মশগুল থাকতেন।সেই সব আড্ডায় ভাই-বেরাদরদের মধ্যে ওনার ভারি নামডাক। লোকে ওঁর শিক্ষার অভাবের তারিফ করত আর অন্যদের উদাহরণ দিত যে আকবার বাদশা’ও তো অশিক্ষিত ছিলেন। কিন্তু কেমন মজবুত ও দক্ষ প্রশাসক!

    আফিমের কারবারে আমদানি বেশ ভালই ছিল, আর এটায় অন্যদের সঙ্গে বেশি কম্পিটিশনও ছিল না। তবে এই ব্যবসায় একটা ছোট্ট খারাপ ব্যাপার ছিল; তা’হল এই কারবারটা বে-আইনি। এ’নিয়ে কথা উঠলে রামাধীন ইয়ারদোস্তদের বোঝাতেন—আমি কী করব? আইন তো আমাকে জিজ্ঞেস করে পাশ হয়নি।

    একদিন যখন ধরা পড়ে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ হলেন, তখনও তাঁর সেই একই কথা, একই ভাব। উনি ইংরেজি আইনের নিন্দেমন্দ করে মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন যে বিদেশি আইন খামখেয়ালি ঢংয়ে বানানো হয়েছে। যত ছোট ছোট খামতি – সবই অপরাধ! বললেন, ‘জনাব, আফিম হয় একটা ছোট্ট চারাগাছ থেকে। চারাগাছ একটু মাথা তুললে তাতে খুব সুন্দর সাদা ফুল ফোটে—ইংরেজিতে বলে পপি। ওর একটু অন্যরকম চারা থেকে লাল ফুল বেরোয়।সাহেবরা ওগুলোকে বাঙলোর বাগানে লাগিয়ে থাকেন। এর একটা তিননম্বর জাতভাই আছে, যার নাম ‘ডবুল পপি’।হুজুর, এসব হল ফুল-পাতার কাহিনী, এর মধ্যে অপরাধটা কোথায়?ওই সাদারঙের পপির গাছ থেকে পরে কালো কালো একরকম জিনিস বেরোয়। সেটা ওষুধ বানাতে কাজে লাগে। এর ব্যবসা অপরাধ? হতেই পারে না। যে আইনে একে অপরাধ বলা হয়েছে সেটা কালা কানুন; আপনার আমার সর্বনাশের জন্যে তৈরি’।

    এই লেকচারের ফলে বাবু রামাধীনের দু’বছরের জেল হল। সেটা ইংরেজ জমানা, তখন এতে শাস্তি তো হতই। কিন্তু আসল সাজা হল এজলাসে ওই লেকচারটার জন্যে।বাবু রামাধীন জানতেন যে আদালতে এমন লেকচার দিয়ে অনেক বিপ্লবী এবং অহিংসাপন্থীরা এর আগে শহীদ হয়েছেন। ভাবলেন, উনিও লেকচারের সুবাদে চটপট শহীদ হবেন। কিন্তু জেল খেটে বেরিয়ে আসার পর বুঝতে পারলেন ভুল হয়ে গেছে।সহজে শহীদ হওয়ার জন্যে আফিম নয়, লবণ আইন ভাঙা উচিত ছিল। কিছুদিন কোলকাতায় ঘোরাঘুরি করে দেখলেন যে উনি বাজার থেকে আউট হয়ে গেছেন। শেষে মনের দুঃখে একটি ‘শের’(দ্বিপদী পদ্য) আউড়ে সোজা নিজের গাঁয়ে ফিরে এলেন, এবার রেলের টিকিট কেটে। তখন থেকে উনি শিবপালগঞ্জে শেকড় গেড়ে বসেছেন।

    লোকজনকে সত্যি কথাই বলেছিলেন—ওনার আড়ত বন্ধ হয়ে গেছে। এটুকু বলাই যথেষ্ট। এরপর উনি ছোটখাটো কাঁচাপাকা বাড়ি বানালেন, কিছু খেত কিনে চাষের কাজ শুরু করলেন, গাঁয়ের ছেলেছোকরাদের কড়ির বদলে তাসের জুয়ো খেলায় হাতেখড়ি দিলেন, তারপর দরজার কাছে খাটিয়ায় আধশোয়া হয়ে কোলকাতার কিসসা শুনিয়ে বিশেষ খ্যাতি কুড়োলেন। তখনই গ্রাম-পঞ্চায়েত শুরু হল। উনি কলকাত্তাই কেরামতি দেখিয়ে এক খুড়তুতো ভাইকে তার সভাপতি বানিয়ে দিলেন। গোড়াতে লোকে বোঝেনি যে সভাপতি ব্যাপারটা কী? তাই ওর ভাইকে কোন ইলেকশনে দাঁড়াতে হয়নি। কিছুদিন বাদে লোকজন জেনে গেল যে পঞ্চায়েতে সভাপতি দু’জন। জমির পাট্টা দেবার সভাপতি হল বাবু রামাধীন, আর তবিল তছরূপের দায়ে জেলে যাবার সভাপতি ওনার খুড়তুতো ভাই।

    একসময় বাবু রামাধীনের খুব বোলবোলাও ছিল। ওঁর ঘরের সামনে একটা খাপরা ছাওয়া বাংলোবাড়ি পড়ে ছিল, যার একপাশে গাঁয়ের নবযুবকেরা জুয়ো খেলত, অন্যদিকে চলত তাজা ভাঙের পাতা বেটে ভাঙ ঘোঁটার কাজ। একেবারে কবিত্বময় পরিবেশ। উনি ওই গাঁইয়ে প্রথম ক্যায়না, নেস্টারশিয়াম, লার্ক্সপার ইত্যাদি বিলেতি ফুল লাগিয়েছিলেন। ওর মধ্যে কিছু লাল রঙের ফুল ছিল। তাদের দেখে কখনও কখনও উনি অস্ফুটস্বরে বলতেন- এ হল পপি; আর ওটা সসালা ডবুল পপি।

    ভীখমখেড়ভী(ভীমখেড়ীওলা) নামের থেকেই স্পষ্ট যে উনি কবিও বটেন। এখন না হলেও কোলকাতা বাসের ‘অচ্ছে দিন’গুলোয় কখনও কখনও উনি ‘শায়র’ হয়ে যেতেন।

    উর্দূ কবিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল ওঁদের জন্মভূমির প্রতি ভালবাসা।এই জন্যেই বোম্বাই বা কোলকাতা গেলেও ওঁরা নামে পেছনে নিজের গাঁ বা মহল্লার নামের লেজুড় লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান, কোন অস্বস্তি হয়না।নিজেদের গোণ্ডভী, সলোনভী এবং অমরোহভী বলে ওঁরা বোম্বাই কোলকাতার কুয়োর ব্যাঙদের ইশারায় বুঝিয়ে দেন যে গোটা দুনিয়া খালি বোম্বাই নয়, যেখানে বোম্বাই আছে, সেখানেই গোন্ডাও রয়েছে।

    এক হিসেবে এটা ভাল, কারণ জন্মভূমি-প্রেম থেকেই দেশপ্রেম জন্মায়।যার বোম্বাইয়ের পথেঘাটে নিজেকে ‘স্যান্ডালভী’ বলতে সংকোচ হয়না, শুধু সেই পারে পাঞ্জাবী -পাজামা পরে মুখে চারটে পান আর চার লিটার পিক ঠুঁসে নিউ ইয়র্কের ফুটপাথে নিজের দেশের সভ্যতার পতাকা উঁচুতে তুলে ধরতে। যে কোলকাতায় এসে নিজেকে ‘বারাবাঁকিভী’ (বারাবাঁকিওয়ালে)বলে পরিচয় দিতে লজ্জা পায়, সে বিলেতে গিয়ে নিজেকে ‘হিন্দুস্থানী’ বলতে নিঘঘাৎ তোতলাবে।

    এই নীতি মেনে বাবু রামাধীন কোলকাতায় নিজের ইয়ারদোস্তের কাছে ‘রামাধীন ভীমখেড়ভী’ বলেই পরিচিত ছিলেন।

    এসব ছিল দানিশ টান্ডভীর সঙ্গে ওঠাবসার ফল। টান্ডভীর দেখাদেখি উর্দূ কবিতায় রুচি হল। আর কবিতায় রুচির প্রথম ধাপ হল কবিতা লেখা। তাই অন্যের দেখাদেখি উনি একদিন একটি শের লিখে ফেললেন। টান্ডভী সায়েব ওটা শুনে নিয়মমাফিক বললেন—বেশ বলেছ ভায়া!

    কিন্তু রামাধীন খাপ্পা,’ আমি শের বলিনি তো, লিখেছি।’

    --বাজে কথা, শের কেউ লেখে না, পড়ে বা বলে।

    --আমি তো লিখেছি।

    ----না, তুমি শের শুনিয়েছ, বা বলেছ। এটাই দস্তুর।

    এরপ্পর উনি রামাধীনকে শের পড়ার কিছু জরুরী নিয়মকানুন শেখালেন।

    এক, শায়রী (পদ্য) হবে মুহাবরার (প্রবাদের)হিসেবে, মুহাবরা শায়েরীর হিসেবে চলবে না। দুই, শায়রের উপনাম কী হবে? টন্ডবীর মতে ইমান শিবপালগঞ্জী কেমন হবে?না,না, ইমান-টিমান(নীতি ধর্ম)চলবেনা। কারণ, শব্দটির মানে রামাধীনের জানা নেই।‘শিবপালগঞ্জী’ কী করে হবে, ওনার গাঁয়ের নাম তো ভীখমখেড়া? আর উপনামের ব্যাপারটাই ওনার মনঃপুত নয়, কারণ আফিমের চোরাকারবারে এমনিতেই ওঁর অনেকগুলো উপনাম চলছে, আর সংখ্যা বাড়িয়ে কী হবে? শেষে উনি শের-শায়েরীর কাব্যময় দুনিয়ায় বাবু রামাধীন ভীখমখেড়ী হয়েই রয়ে গেকেন।

    “সাঁঝের বেলায় চোখ মেরে যায় কেলটে মেয়ের দল”,-- এমনি এক মুখড়ার কবিতা উনি আফিম কৌটোর উপর লিখে ফেললেন।(আসলে এটি সন্ধের সময় আফিমের কালো কালো দানার হাতছানির কাব্যিক মেটাফর!) তবে ওঁর কাব্যচর্চা দানিস টান্ডবীর আশেপাশেই থমকে রইল। ভেবেছিলেন জেলে গিয়ে অনেক মহান সাহিত্যিকের মত উনিও কোন অমর রচনা করে জেলে থেকে বেরিয়ে আসার পর এক লম্বা চওড়া ভুমিকা ফেঁদে জনতার দরবারে পেশ করবেন, কিন্তু দু’বছরের কারাবাসের দিনগুলো খাবার নিয়ে নালিশ, কয়েদিদের সঙ্গে ঠাট্টা তামাশা, এবং ওয়ার্ডারের গালি শুনে ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে কেটে গেল।

    শিবপালগঞ্জে ফেরার পর ‘গঞ্জহা’ লোকেদের সামনে নিজের দম দেখানোর উদ্দেশে উনি আবার নামের সঙ্গে ‘ভীখমখেড়ী’ উপাধিটি জুড়ে নিলেন। কিছুদিন পরে উনি যখন এই গাঁয়ের বা সমগ্র ভারতের সংস্কৃতির প্রভাবে দলবাজির শিকার হলেন, তখন দু’একবার দু’চার লাইন পদ্য লিখে লোকজনকে বুঝিয়ে দিলেন যে ‘ভীখমখেড়ী’ শব্দটি শুধু ভুগোলের নয়, কাব্যজগতেরও আত্মীয় বটে।

    কিছুদিন আগে বদ্রী পালোয়ান শিবপালগঞ্জের দশমাইল দূরে একটা গম পেষার কল লাগাল। যখন ওই আটা-চাক্কি ভালই চলতে লাগল, তখন বৈদ্যজীর বিরোধীরা বলতে লাগল যে এর সম্বন্ধ মনে হয় কলেজের বাজেটের সঙ্গে রয়েছে। রামাধীন ওই জনগণের ভাবনাটিকে এই দ্বিপদীর ছন্দে বাঁধলেন।

    দেখ ভীখমখেড়ী দেখ, ভগবানের ছল,

    খুলতে গেল কলেজ, খুলল আটা পেষার কল।।

    গাঁয়ের বাইরে কেউ বদ্রী পালোয়ানের রিকশা থামাতে বলছে। সন্ধ্যের আলোআঁধারিতে চেহারা চেনা যাচ্ছে না। পালোয়ান বলল, ‘কৌন হ্যায় বে?’

    --আবে -তাবে কোর না পালোয়ান, আমি রামাধীন।

    বলতে বলতে একজন এসে রিকশার হ্যান্ডল ধরে দাঁড়াল। রিকশাওলা রাস্তার ঠিক মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করিয়েছে। লোকটির পরনে ধুতি পাঞ্জাবি, কিন্তু আধো অন্ধকারে ওর মুন্ডিত মস্তক চেনা যাচ্ছে। ও বলল, ‘শুনেছ, আমার ঘরে নাকি ডাকাতি হবে?’

    পালোয়ান পিঠে এক আঙুলের খোঁচা মেরে এগিয়ে যাওয়ার ইশারা করল।তারপর বলল,’ এখন থেকেই কেন চিঁ-চিঁ শুরু করেছ? যখন হবে তখন আমায় ডেকে নিও’।

    রিকশাওয়ালা প্যাডলে চাপ দিল, কিন্তু রামাধীন এমন কষে হ্যান্ডল ধরে রেখেছে যে রিকশা নট নড়ন চড়ন, নট কিস্যু।

    পালোয়ান ভনভনিয়ে বলল, ‘আমি ভাবছিলাম -এটা আবার কে? মাঝরাস্তায় রিকশা আটকিয়ে রাঁড়ের মত নাকে কান্না জুড়েছে”!

    রামাধীন বলল, ‘ছিঁচকাদুনে নই, নালিশ করতে এসেছি’। বৈদ্যজীর পরিবারে তুমিই একমাত্র মানুষের মত, বাকি সব ফালতু। তাই তোমায় বলছি। একটা চিঠি এসেছে।তাতে ডাকাতেরা আমার থেকে পাঁচহাজার টাকা দাবি করেছে। বলেছে অমাবস্যার রাতে দক্ষিণদিকের টিলার উপরে রেখে আসতে হবে।‘

    বদ্রী পালোয়ান নিজের উরূতে চাপড় মেরে বলল,’ মন চায় তো দিয়ে এস, না চাইলে একটা ফুটো কড়িও দেবার দরকার নেই। এর বেশি আর কী বলব? চলো রিকশাওয়ালে।

    ঘর প্রায় এসে গেছে। এতক্ষণে নিশ্চয় বাইরের রোয়াকে ভাঙ ঘুঁটে তৈরি হয়ে গেছে।এক গেলাস মেরে দিয়ে, চানটান সেরে , কোমরে ল্যাঙট কষে গায়ে পাঞ্জাবি চড়িয়ে আড্ডায় জমিয়ে বসা যাবে। তারপর লোকেরা জানতে চাইবে, “পালোয়ান, কী করে এলে?”

    কিন্তু ও চোখ বুঁজে ভাঙের মৌতাত নেবে। উত্তর দেবে না। লোকজনকেই প্রশ্ন ও উত্তর দুটোই চালাতে দেবে। তখন দেহের শক্তি আর ভাঙের নেশায় সব কথাবার্তা মশার ভনভনানি মনে হবে।

    স্বপ্নের সাগরে গোঁত্তা খাওয়ার মাঝে মাঝরাস্তায় রিকশা থামানো? বদ্রীর খুব রাগ হল। ও আরেকবার রিকশাওলাকে ধমকে উঠল, “তোমাকে বলেছি না চলো”?

    কিন্তু চলো বললেই হয়না, রামাধীনের হাত এখনও রিকশার হ্যান্ডল শক্ত করে ধরে রেখেছে। ও বলল,’ দেখ, টাকা-পয়সার কথা নয়। আমার থেকে কে টাকা আদায় করবে?আমি চাইছি যে তুমি তোমার ভাই রূপ্পনকে ভাল করে কড়কে দাও।বড্ড মাথায় চড়েছে। মাটিতে পা রাখুক, আকাশে উড়তে—‘।

    বদ্রী পালোয়ান এবার নিজের উরূতে চাপ দিয়ে রিকশা থেকে লাফিয়ে নামল। তারপর রামাধীনকে টেনে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে বলল, “কেন খামোখা মুখ খারাপ করছ? রূপ্পন করেছেটা কী”?

    --আমার বাড়িতে ডাকাতির হুমকি ভরা চিঠিটা রূপ্পনই পাঠিয়েছে, প্রমাণ পেয়েছি।

    পালোয়ান গজগজ করতে লাগল,--দু’চার দিন বাইরে গেলেও মুশকিল। এদিকে আমি গেছি কি ওদিকে এই তামাশা শুরু’।

    তারপর একটু ভাবল, শেষে রামাধীনকে অভয়দান করে বলল,’যখন হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছ, তখন ঘাবড়াচ্ছ কেন?তোমার বাড়িতে ডাকাতি হবেনা। যাও, আরামে ঘুমোও গিয়ে। রূপ্পন ডাকাতি করার বান্দা নয়। চ্যাঙড়া বয়েস, একটু মজা করেছে, আর কি’।

    রামাধীন কড়া সুরে বলল, ‘ওটা আমিও বুঝি, রূপ্পন চ্যাঙড়ামি করেছে। কিন্তু এটা কী ধরণের চ্যাঙড়ামি’?

    পালোয়ান সায় দিল, ‘ঠিকই বলেছ, বড্ড বেশি ছ্যাবলামো’।

    একটা ট্রাক ভীমবেগে তেড়ে আসছে। তার হেডলাইটের আলোয় সবার চোখ ধাঁধিয়ে যেতে বদ্রী রিকশাওলাকে বলল, ‘ রিকশা সরাও, এটা তোমার বাপের রাস্তা নাকি’?

    রামাধীন বদ্রীর গলার স্বর চেনে। বলল,’ এটা রাগের কথা নয় পালোয়ান। ভেবে দেখ, এটা কোন কথা হল? ডাকাতির হুমকি দিয়ে চিঠি’!

    পালোয়ান রিকশায় উঠে পড়ল।‘ডাকাতি হবে না বললাম তো, ফের তক্কাতক্কি কিসের? চালাও রিকশাওলা’!

    রিকশা চলতে শুরু করলে ও বলল,’ রূপ্পনকে বলে দেব। বোঝাব, এসব ইয়ার্কি ভাল নয়’।

    রামাধীন চেঁচিয়ে উঠল, ‘ও আমার ঘরে ডাকাতির হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠাল আর তুমি ওকে শুধু বোঝাতে যাবে?বোঝানো না, ওকে ভাল করে জুতোপেটা করা উচিৎ’।

    রিকশা গড়গড়িয়ে চলতে লাগল। পালোয়ান মাথা না ঘুরিয়ে জবাব দিল,’ এক কাজ কর। খুব খারাপ লাগলে তুমিও আমার বাড়ির ঠিকানায় পালটা ডাকাতির চিঠি পাঠিয়ে দাও’।

    (চলবে)
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৪ এপ্রিল ২০২১ | ১৯২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শেখরনাথ মুখোপাধ্যায় | 117.194.229.158 | ০৫ এপ্রিল ২০২১ ০৯:৩১104489
  •  অসাধারণ। অরিজিনালটাও পড়তে ইচ্ছে করছে, কিন্তু বুঝতে পারব কি?

  • Ranjan Roy | ০৫ এপ্রিল ২০২১ ১৩:৫৫104494
  • পারবেন, যদি দেবনাগরী ফন্টে অসুবিধে না হয়।  এই বইটির  ভাষা সহজ বোলচালের হিন্দি; উর্দু কন্টকিত নয়।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন