• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • বিশ্বকাপ: আবেগের সাতকাহন

    Animesh Baidya
    বিভাগ : ব্লগ | ১৪ জুলাই ২০১৪ | ২৭ বার পঠিত
  • বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দেখানোর ফাঁকে একটা অদ্ভুত সুন্দর ছবি দেখিয়েছিলেন ক্যামেরাম্যান। সূর্যাস্তের গলে যাওয়া সোনার মতো মায়াবী রঙ আকাশ বেয়ে নামছে। আর আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন যীশু। এক সময় ক্যামেরার অদ্ভুত সুন্দর অবস্থানের ফলে তৈরি হল আরও একটা অদ্ভুত সুন্দর ফ্রেম। যীশু যেন বাড়িয়ে দেওয়া দু হাত দিয়ে আগলে রাখছেন ওই মায়াবী সূর্যটাকে। পরম আবেগে, পরম মমতায়।

    বিশ্বকাপ শেষ হলো। শেষ হলো আবেগের উৎসব। বরাবর আর্জেন্টিনা আর নেদারল্যান্ডসের সমর্থক। আকাশী, সাদা আর কমলা রঙে ডুবে থাকা আমার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। যে দেশ দুটোর হয়তো বিন্দুমাত্র কিছুই জানি না, সেই দেশ দুটোই চার বছর পর পর এক মাসের জন্য আমার স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে ওঠে। আমার মতো হয়তো আরও অনেকেই আছেন। স্বপ্নের রং বদলালেও তাদের আবেগটাও ঠিক আমারই মতো। নিজেদের দেশ পৃথিবীর এই সব থেকে সুন্দর উৎসবে নেই। জানি না কোনও দিন এই নানান রঙের ভেদাভেদ ভুলে কোনও একদিন আমরা সবাই মিলে বিশ্বকাপের কোনও এক ম্যাচে তিরঙ্গা পতাকা ওড়াতে পারবো কি না। সব্বাই মিলে এক সঙ্গে কাঁদতে, এক সঙ্গে তুমুল উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে পারবো কি না। তবু এই চার বছর পর পর আমরা বহু মানুষ প্রিয় পতাকার রঙে সেজে উঠে তৈরি করি আবেগের রামধনু।

    আসলে তো আমাদের নানান না পাওয়া, নানান ক্ষোভ, নানান যন্ত্রণা এই সব কিছুর সমাধান খুঁজি আমাদের ওই প্রিয় দলের কাছে, প্রিয় রঙের কাছে। যেন আমার হয়ে সবার সামনে জবাব দিয়ে যাবে আমাদের ওই দলেরাই। সব অপ্রাপ্তির কষ্ট ভুলিয়ে দেবে তারা, আমাদের সঙ্গে ঘটা রোজকার নানান অবিচারের জমে থাকা সব কিছুর জবাব দেবে মাঠের ওই এগারো জন। এ ভাবেই আমরা স্বপ্ন দেখি একটা দলকে ঘিরে। একটা পতাকাকে ঘিরে। স্বপ্নগুলো প্রত্যেকেরই একই রকম। কেবল স্বপ্নের রং-গুলো আলাদা। এ তো আসলে চার বছর পর পর আসা আমাদের ভালোবাসার উৎসব, আমাদের আবেগের উদযাপন। আমাদের রোজকার অপ্রাপ্তি আর প্রতিনিয়ত জমতে থাকা ক্ষোভে ভরা বর্ণহীন, একঘেয়ে জীবনে এ আসলে এক মাসের আবেগ আর স্বপ্নের আবির খেলা।

    এর পরে শুরু হবে নতুন ফুটবল মরশুম। কেউ কেউ ডুব দেবে নতুন আবেগে। কেউ কেউ অপেক্ষা করবে ফের চার বছরের পরের বিশ্বকাপের জন্য। ইপিএল, লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দেখবো ঠিকই তবু জানি এই বিশ্বকাপের সর্বব্যাপী আবেগের অবস্থান অনেক উঁচুতে। বাকি সব কিছু কারও কারও, কিন্তু বিশ্বকাপ যে সকলের। তাই তো এর নাম বিশ্বকাপ।

    শেষ হলো আমাদের এক মাসের আবেগ, আবেগ ঘিরে তৈরি হওয়া বন্ধুত্ব, নানা শত্রুতা। পেছনে লাগা, থ্রি চিয়ার্স, পরাজয়ের গাঢ় বিষন্নতা, কিংবা বিজয়ের তুমুল আলিঙ্গন। আগামী কিছুদিনও হয়তো থাকবে এই রেশ। যেমন দোলের পরেও কিছু দিন রাস্তায় থেকে যায় রঙের দাগ। কিংবা দশমীর পরেও কিছু দিন থেকে যায় নতুন জামার গন্ধ। তবু আমি নিশ্চিত, আমার মতো আরও অনেকেরই আগামী কাল ঘুমোতে যাওয়ার আগে টিভির দিকে তাকালে হু-হু করে কেঁদে উঠবে মন। আসলে ওই টিভিটা যেন পাড়ার প্যান্ডেলের একাদশীর একলা প্রদীপের মতো শূন্যতার আলো ছড়িয়ে যাবে।

    যা দিয়ে শুরু করেছিলাম লেখাটা সেখানে ফেরত যাই। আজ ওই অস্তগামী সূর্যটাকে যীশু যেমন পরম আদরে আগলে রেখেছিলেন দু হাতের মধ্যে, দেখেই মনটা কেমন করে উঠেছিল। আসলে ওই মুহূর্তই বলে দেয় আমাদের গভীরতম অনুভবের কথা। আসলে আমরাও প্রত্যেকে ঠিক ওই যীশুর মতোই পরম আবেগে, পরম মমতায় আগলে রাখি আমাদের প্রিয় দল, প্রিয় পতাকা। ওই মায়াবী আলো ছড়ানো সূর্যটাকে আগলে রাখার মতোই। দল, পতাকা আলাদা হলেও আমরা ঠিক একই মমতায় আগলে রাখি আমাদের আবেগ। আমাদের ফুটবল ভালোবাসা। আগলে রাখতে চাই প্রিয় দলকে ঘিরে আমাদের স্বপ্ন, দাবিদাওয়া। আজ ওই দৃশ্যটা দেখে বুঝলাম আমরা প্রত্যেকেই আসলে মমতা মাখা, আবেগ ঘন একেক জন যীশু। আগলে রাখি আমাদের ভালোবাসার ঠিকানা।
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৪ জুলাই ২০১৪ | ২৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • করোনা ভাইরাস

  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত