• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • আজগুবি

    Animesh Baidya
    বিভাগ : ব্লগ | ২৯ মে ২০১৫ | ১৩ বার পঠিত
  • ১.
    'চোরের মায়ের বড় গলা'- এমনটা বলতে নেই।
    জিরাফেরা দুঃখ পায়।

    ২.
    ফেসবুকে আমরা সকলেই টিকটিকি।
    Wall-এ Wall-এ ঘুরে বেড়াই।

    ৩.
    এক সুন্দরী বান্ধবী সে দিন এসে বললো, আমায় কেমন লাগছে আজ?
    উত্তরে বললাম- 'কি উট'।
    সে রেগে বললো- মরূভূমির।

    'কি উট-কো' ঝামেলারে বাবা!

    ৪.
    একটা জলাশয়ের ধারে থাকে একটি মাছ এবং একটি ব্যাঙ। তাদের খুব বন্ধুত্ব।
    একদিন মাছটি আদর করে ডাকলো, ব্যাঙ গো....
    ব্যাঙ- হ্যাঁ, জানি জানি, আমায় নিয়ে তো ব্যাঙ্গই করবে। জানো, মানুষেরাও মেনে নেয় আমরাই রাজা। আমাদের ওপরেই ওদের ভরসা।
    মাছ- আরে আমি তো আদর করে ডাকলাম। কিন্তু তোমরাই রাজা কী ভাবে?
    ব্যাঙ- সে দিনই তো একজন পুকুরের ধার দিয়ে যেতে যেতে আরেকজনকে বললো, এই বাজারে ‘ব্যাং-কিং’-ই ভরসা। তারপর আমায় নিয়ে তাদের নানান ‘ইন্টারেস্ট’-এর কথা বললো।
    মাছ- বাপরে! তাই নাকি?
    ব্যাঙ- হ্যাঁ, তাই। আর আমাদের আদি পিতাই তো এই বিশ্বের জন্ম দিয়েছে। আমার কথা নয়, বিখ্যাত মানুষ বিজ্ঞানীদের কথা।
    মাছ- কী রকম?
    ব্যাঙ- আমাদের আদি পিতাকে আমরা ‘বিগ ব্যাঙ’ বলি। তাঁর হাত ধরেই বিশ্ব সৃষ্টির সূচনা।
    মাছ- বাবা!! তোমাদের তো হেব্বি ব্যাপার-স্যাপার।
    ব্যাঙ- সে তো হবেই। গ্রিক নাট্যকার আরিস্তোফানেস সেই কবে আমাদের নিয়ে নাটক লিখেছিলেন। নাম ‘ফ্রগস’। আমাদের নিয়ে এই বাংলায় বুদ্ধদেব বসু কবিতাও লিখেছেন। কবিতার নামই তো ‘ব্যাঙ’। পারলে পড়ে নিও। আর বলিউডে তো হৃত্বিক রোশনরা আমাদের নিয়ে ‘ব্যাঙ ব্যাঙ’ নামে সিনেমাই করে ফেললো।
    মাছ- মানুষেরা দেখছি তোমাদের নিয়ে বেশ ভাবে।
    ব্যাঙ- ভাবে তো বটেই। জানো, মানুষেরা যদি নিখুঁত ভাবে ঠিক লক্ষ্যে পৌঁছোয়, তাহলে তার ক্রেডিটও আমাদের দেয়। ভাবে আমরাই তাদের হয়ে কাজটা করে দিয়েছি।
    মাছ- কী ভাবে? কী ভাবে?
    ব্যাঙ- যাহ! এটাও শোনোনি? ওরা তখন বলে ‘ব্যাঙ অন টার্গেট’।
    মাছ- ও আচ্ছা। আরও কিছু আছে নাকি?
    ব্যাঙ- আছে বৈকি। এই যে রোদ বৃষ্টিতে মানুষেরা ছাতা নেয় সে তো আসলে আমাদেরই আবিষ্কার। কবিদের কাছেও তোমাদের থেকে আমাদের কদর বেশি।
    মাছ- কেন?
    ব্যাঙ- অন্তমিলের কবিতায় মাছের সঙ্গে গাছ আর মৎসের সঙ্গে বৎস, এ ছাড়া আর তো কোনও মিলের উপায় নেই। আর আমাদের ক্ষেত্রে কতো অপশন। ব্যাঙের সঙ্গে ঠ্যাং, ল্যাং, গ্যাং, হ্যাং-ত্যাং কতো কিছু হয়।
    মাছ- বুঝলাম। তা মানুষেরা মাছেদের কী চোখে দেখে?
    ব্যাঙ- খুব সত্যি বলতে তোমাদের মানুষেরা খুব সন্দেহের চোখে দেখে। তোমাদের সঙ্গে ওরা ষড়যন্ত্র দেখতে পায় সব সময়।
    মাছ- তাই নাকি? তা আবার কেমন করে?
    ব্যাঙ- কেন শোনোনি, সন্দেহজনক কিছু দেখলেই মানুষেরা বলে ‘ফিস-ই’। আর যড়যন্ত্র করার সময়ও মানুষেরা ‘ফিস ফিস’ করে কথা বলে।
    মাছ- মানুষেরা দেখছি আমাদের খুব ছোট করে দেখে আর তোমাদের বেশ সম্মান করে।
    ব্যাঙ- তবে একটা বিষয়েই দুঃখ। মানুষেদের আমাদের নিয়ে একটা বিষয়ের ব্যবহার ভালো লাগে না একদম।
    মাছ- কী সেটা?
    ব্যাঙ- ওরা সীমাবদ্ধতা অর্থে ‘কুয়োর ব্যাঙ’ বলে। ওরা জানেই না দোষটা ব্যাঙেদের নয়। দোষটা হলো ওই কুয়োটার। আমাদের কেউ কি কখনও ইচ্ছে করে কুয়ো-রানী(কিংবা রাজা) হয়ে থাকে?
    মাছ- এটা ঠিক বলেছো। তবু এতো যখন কদর করে এটুকু বরং ক্ষমা করে দাও।
    ব্যাঙ- আরও একটা ব্যাপার আছে। সেটা খুব লজ্জার। তোমাকেই গোপনে বলছি। কাউকে বলো না যেন।
    মাছ- সেটুকু ভরসা করতে পারো। কাউকেই বলবো না।
    ব্যাঙ- থাইল্যান্ড বলে একটা দেশ আছে। ওখানের লোকেরা খুব খারাপ। আমাদের নিয়ে অসভ্যতাও করে।
    মাছ- তাই নাকি? কী রকম?
    ব্যাঙ- আরে অসভ্য না হলে কেউ কোনও জায়গার নাম ‘ব্যাঙ-কক’ রাখে?
    মাছ- ধুর বাদ দাও। বাঙালিরা কিন্তু তোমাদের ভালোবাসে। আদর করে ‘সোনা ব্যাঙ’ বলেও তো ডাকে।
    ব্যাঙ- তা ঠিক বলেছো। নাহ! এ বার যাই গো বন্ধু। ব্যাঙাচিরা এতোক্ষণে নিশ্চয়ই কান্নাকাটি জুড়েছে। আবার দেখা হবে। দাঁড়াও আলসেমি কাটাতে একটা বড় লাফ দিই। ওই যে দূরে ইটের টুকরোটা পড়ে আছে, এক লাফে ওটার উপরে যেতে পারি কিনা দেখি।
    এই বলেই ব্যাঙটা লম্বা একটা লাফ দিলো। আর সোজা গিয়ে নামলো ইটের টুকরোটার উপরে। মাছটা পাখনা নাড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠলো, ‘ব্যাঙ অন টার্গেট’।
    দুজনেই হেসে উঠলো খুব জোরে। তারপরে মাছটা ডুব দিলো জলের গভীরে আর ব্যাঙ লাফাতে লাফাতে ছুটলো ব্যাঙাচিদের কাছে।
  • বিভাগ : ব্লগ | ২৯ মে ২০১৫ | ১৩ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • করোনা ভাইরাস

  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত