• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • শৈশবঃ কয়েক ফালি রোদ আর আমার না পাওয়া গভীর অন্ধকার

    Animesh Baidya
    বিভাগ : ব্লগ | ২৮ জুন ২০১৫ | ১১ বার পঠিত
  • রহস্যের সঙ্গে ভালো থাকার একটা সম্পর্ক আছে বলেই মনে হয়। রহস্য, কৌতুহল জীবনকে রঙীন করে তোলে। তাই হয়তো শৈশব এতো প্রিয় সময়। যতো বড় হয়েছি সব ততো ফর্মুলায় বসে গিয়েছে আর হারিয়ে গিয়েছে রঙের বৈচিত্র্য। আজ একটু শৈশব যাপন করা যাক।

    ছোটবেলায় গোটা পৃথিবীটাই ছিল রহস্যে মোড়া। বাড়ির মধ্যে সব থেকে রহস্যের ছিলো টেলিভিশন বস্তুটা। ছবি কী ভাবে আকাশে ভেসে ভেসে এসে টিভির মধ্যে ঢোকে!! অ্যান্টেনার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম কতো দিন। দেখার চেষ্টা করতাম ছবি ভেসে আসতে দেখা যায় কি না। আরেকটা জিনিস হতো, আমি বিশ্বাস করতাম টিভির মানুষেরাও আসলে আমাদের দেখতে পায়। বাড়ির বড়রা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে ওই ধারণাটা বেমালুম ভুল। কিন্তু তবু বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হতো না। আশেপাশে কেউ না থাকলেই টিভির লোকগুলোকে একা একা জিভ বের করে ভ্যাঙাতাম, চোখ কটমট করে তাকাতাম।

    ছোটবেলায় বাসে করে কোথাও যাওয়ার হলে আমার সব থেকে লোভনীয় জায়গাটা ছিলো ড্রাইভারের পাশে। কী ভাবে গোটা বাসটা সে চালিয়ে নিয়ে যায়। তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড জুড়ে রহস্য। কখন কোথায় হাত দিলো, কোনটা ধরে টানলো, কোথায় চাপ দিয়ে হর্ন দিলো। আমি অপলক হয়ে দেখতাম। ওই যন্ত্রপাতিগুলো গেটাটাই ছিলো রহস্যের আধার আমার কাছে। হয়তো বাকি সকলের মতোই।

    তুমুল কৌতুহল ছিল প্লেনের উপরে। কী ভাবে একটা জিনিস এতোগুলো মানুষ নিয়ে আকাশে উড়ে যেতে পারে! তুমুল আকর্ষণ ছিল প্যারাস্যুট জিনিসটার উপরে। আমরা তখন চার তলার উপরে একটা ফ্ল্যাটে থাকতাম। প্লাস্টিক চার কোণা করে কেটে তার চার প্রান্তে সুঁতো বেঁধে তৈরি করতাম প্যারাস্যুট। তারপরে তা ছেড়ে দিতাম চার তলার ব্যালকনি থেকে। অপলকে তাকিয়ে থাকতাম তার দিকে আর মনে মনে ভাবতাম ওই প্যারাস্যুটে যেন আমি নিজেই সওয়ার।

    মানুষখেকো গাছ নিয়ে ছিল তুমুল কৌতুহল আর রহস্য। এমন গাছ কি সত্যিই আছে? আমাদের স্কুলের পরে যে পুকুরটা তার ওপারে কি এমন গাছ থাকতে পারে? তারা কি ডালপালা দিয়ে জড়িয়ে ধরে গাছের পেটের মধ্যে নিয়ে নেয় মানুষকে? নাকি কেবল রক্ত শুষে নিয়ে ছেড়ে দেয়? আমাদের স্কুলের মাঠের পাশে একগাদা লজ্জাবতী গাছ ছিলো। তুমুল কৌতুহল আর রহস্য ছিলো সেই গাছের পাতাদের নিয়ে। এগুলোই কি খুব বড় হয়ে গেলে মানুষখেকো গাছ হয়ে যায়? ওমন পাতার মধ্যে ঢুকিয়ে নেয় মানুষদের।

    এমন হাজার কৌতুহল, হাজার প্রশ্ন দিয়ে ঘেরা ছিলো শৈশব, আমার ছোটবেলা। হয়তো আমাদের সকলেরই ছোটবেলা। আজ মনে হয়, যতো ক্রমশ হারিয়ে গিয়েছে রহস্য আর প্রশ্ন, ততো ফিকে হয়ে গিয়েছে জীবনটা, স্পষ্টতর হয়ে উঠেছে জীবনের কঙ্কাল।

    সব শেষে একটাই কথা। সেই অর্থে অভাবের সংসার ছিলো না আমাদের। ভারতবর্ষের হাজারো শিশুর থেকে অনেক অনেক আরামে বড় হয়েছি আমি। ওই হাজারো শিশুর রোজকার যে কৌতুহল এবং প্রশ্ন তা আমার দিকে ছুটে আসেনি কোনও দিন। পৃথিবীর কঠিনতম সেই প্রশ্ন-

    এতো এতো খিদে কেন পায় আমাদের?

    আগামী শিশুর গোটা শৈশব জুড়ে অন্তহীন রহস্য, অন্তহীন প্রশ্ন থাকুক। শুধু এই রহস্য আর প্রশ্নটা বাদে।
  • বিভাগ : ব্লগ | ২৮ জুন ২০১৫ | ১১ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • মনোজ | 24.96.75.36 (*) | ২৯ জুন ২০১৫ ১১:০৯67207
  • অনিমেষবাবু,

    ঐ কয়েক ফালি রোদের জন্যেই তো জগতের যত আবিস্কার ! যত আশ্চর্য লেখা ! প্রমিথিউস যখন স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে নিয়ে এলো - তখন থেকেই মানুষের মনে শুধু ঐ আলোটুকু পাবার জন্যে কী আকুতি !

    এক সময় আমরাও বিশ্বাস করতাম রেডিওর ভেতরে বসে শিল্পীরা গান গায় । একটা সিনেমাও দেখে ছিলাম টেলিভিশনের ভেতর থেকে দৈত্য বেরিয়ে এসে ঘরের ভেতর পায়চারি করছে । আবার একটা বাস্কেটবল টিম টি ভি থেকে বের হয়ে এসে ঘরের মধ্যে খেলছে !
    আবার ডিজনিতে গিয়ে দেখি - মানুষ ছোট্ট হয়ে পাখির মত তারের ওপর চলছে ! - এরকম আশ্চর্য আশ্চর্য মজার ব্যাপার দেখে আমরা এই বয়েসেও খুব অবাক হয়ে ভাবি কি করে এটা হল !
    আবার একটা সিনেমাতে দেখলাম - গাছের পাতা মানুষের মাথা থেকে মগজ খেয়ে নিচ্ছে ! এটা সত্যজিতের একটা গল্পও আছে !

    যত দেখি তত অবাক হই ! কি করে এসব হয় !

    মনোজ
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত