বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা

  • রাজধানী লোকাল - ৫

    Nirmalya Nag লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৪৪৫ বার পঠিত | রেটিং ৩.৫ (২ জন)
  •  

    মূল ছবিঃ নিখিল মানান 
     
    ।। পাঁচ ।।

    আচ্ছা, একটা কথা বলুন তো। পাঞ্জাব, সিন্ধু, গুজরাট, মারাঠা, দ্রাবিড়, উৎকল, বঙ্গ এতগুলো আলাদা জায়গার লোককে বিশ্বকবি এক ব্র্যাকেটে নিয়ে ফেললেন কি করে? ‘জন গণ মন’ লেখার সময়ে তিনি কি দিল্লির কোনও অফিসে কাজ করতেন? তা তিনি করুন আর নাই করুন, আমি নিজে এ গানের স্বরূপ বুঝলাম রাজধানীর অফিসে ঢুকে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, গুজরাট থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত প্রায় সব কটা রাজ্যের লোক রয়েছে এখানে। কলকাতায় থেকে কাজ করলে আমার ভারতীয়ত্ব মনের মধ্যে আবেগ হয়েই থেকে যেত, শারীরিক ভাবে সেটা কখনও উপলব্ধি করতাম না। 
    আসামের উৎপল, রাজস্থানের গোয়েলজী, কাশ্মীরের নাতাশা, মধ্যপ্রদেশের নাদিম, তামিলনাড়ুর জর্জ, ওড়িশার ভরতেন্দু, পাঞ্জাবের এস পি সিং, কেরালার গোপকুমার, গুজরাটের বন্দনা, বিহারের দ্বিজেন্দ্র, উত্তর প্রদেশের সঙ্গীতা, মহারাষ্ট্রের জেসিন্টা, বাংলার অলয় এবং আরও আরও অনেকে রাজধানীর ওই অফিসে এসে এক দেহে লীন হয়ে গেছে।
     
    ‘বিবিধের মাঝে’ কি ভাবে ‘মিলন মহান’ হয় তার এক অসাধারণ উদাহরণ হলেন বিমল শিবাজী। কর্ণাটকের লোক, তাঁর বাবা ছিলেন মারাঠা বীর শিবাজীর ভক্ত, আর মা বাঙ্গালী লেখক বিমল মিত্র-র। 
    “সুতরাং, আমি দক্ষিণ ভারতের লোক, নামের মধ্যে বয়ে বেড়াচ্ছি পূর্ব আর পশ্চিমের দুই আইকন-কে,” হাসতে হাসতে বললেন তিনি। “আর কাজ করতে এসেছেন উত্তর ভারতে,” আমি জানালাম। 
    না, ওনার কোনও পদবী নেই। যেমন যেমন নেই উদয়ভানু প্রেম-এর। তার বাবার নাম উদয়ভানু আর নিজের আসল নাম প্রেম। ভবিষ্যতে তার যখন ছেলেপুলে হবে তার নাম শুরু হবে ‘প্রেম’ দিয়ে। পদবী ছাড়াও যে নাম হতে পারে সেটা আগে কখনও মনেও হয়নি।
    ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া একটি ছোট মেয়ের বাবার সব চুল পেকে গেছে, ফলে তাঁর বয়স অনেক বেশি মনে হত। এক দিন ক্লাস টিচার মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ “ইজ হি ইয়োর গ্র্যান্ডফাদার?” মেয়েটি ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তর দিলঃ “নো, হি ইজ মাই রিয়্যাল ফাদার।” তার বাবা আমার সিনিয়র কলিগ। ঘটনাটা জানিয়ে দুঃখ দুঃখ মুখ করে বললেন, “মহা সমস্যা”। বললাম, “ডাই করতে পারেন তো।” ওনার গম্ভীর উত্তর এল, “চুল পাকার কথা বলিনি। ফাদারের আগে রিয়্যাল না বসালেই কি চলত না?”
    আমাদের সমস্যা আরো গম্ভীর। বাবা কোন্‌ ছাড়, ঠাকুর্দাকেও নাম ধরে ডাকতে হবে। অফিসে চল ছিল সবাইকে নাম ধরে ডাকা। বাংলার ছেলে, সবাইকে দাদা, দিদি, কাকু, কাকিমা বলে ডাকা অভ্যাস। তাই আমাদের ওই ‘কাঁচা’ বয়সে রিটায়ারমেন্ট-এর দিকে এক পা বাড়িয়ে রাখা মহিলাকে ‘হাই অনীতা’ বলে সম্বোধন করলে দিল্লির লোকের হয় তো কিছু হয় না, কিন্তু বাংলার মহাভারত অবশ্যই অশুদ্ধ হয়। শেষে কারুর নামের পিছনে ‘জী’-এর ল্যাজ লটকে, কাউকে আবার নামের বদলে ইনিসিয়াল ধরে ডাকা শুরু করলাম।
    এই ডবল ডোজের গোবর খেয়ে মহাভারতের শুদ্ধতা না হয় ফিরিয়ে আনা গেল, কিন্তু বাংলার পোড়া পেটের শুদ্ধতা বাঁচে কি করে? অফিসের ক্যান্টিনের খাবার – ব্রেড পকোরা, ইডলি, বড়া, পালক পকোড়া ইত্যাদি - টিফিন হিসেবে চলতে পারে, কিন্তু কালা ছোলে (আলকাতরার মধ্যে চাট্টি সেদ্ধ ছোলা ফেলে দিলে যেমন দেখায়) দিয়ে লাঞ্চ? অনেকে যেমন খায়, তেমনি পেপসি বা কোকাকোলা সহযোগে? নাঃ, অমন সাঙ্ঘাতিক ফিউশন আমার চলবে না। অতএব তিন কোর্সের লাঞ্চ চালু করলাম – ভাত, ডাল আর অমলেট। আমার আর তথাগতর সঙ্গেই এই অফিসে যোগ দিয়েছিলেন কলকাতার এক বাঙালি – দাশগুপ্ত। কালা ছোলে দিয়ে লাঞ্চ করতে বিরক্তি প্রকাশ করায় তাঁকে আমার মেনু সাজেস্ট করেছিলাম। তিনি নাক সিঁটকে বললেন, “অমলেট! সেটা তো লোকে ব্রেকফাস্টে খায়”। উনি যে এত বড় সাহেব সেটা জানা ছিল না। সপ্তাখানেক বাদে দেখি দাশগুপ্ত ‘সাহেব’ ভাত, ডাল আর অমলেট দিয়ে দ্বিপ্রাহরিক আহার সারছেন। ধরা পরে অত্যন্ত বিব্রত হলেন।

    দুর্জনেরা বলে মিশনারিদের কাছে শিক্ষা পেয়ে আফ্রিকার ‘অসভ্য’ মানুষেরা নাকি ছুরি আর কাঁটা চামচ দিয়ে নরমাংস খেতে শিখেছিল। তাতেও যখন কোন পক্ষ লজ্জা পায়নি তখন আমাদের ঘরের সাহেবটিরও অত লজ্জা পাওয়ার কোন কারণ ছিল না।
     
    ওদিকে ডাব্বাওয়ালার সঙ্গে আমাদের লেন-দেন চুকে গেল। দু-বাটির টিফিন ক্যারিয়ারে করে তার খানা আসত। কী খাবার? সেটা এখন বলেই দিই, দ্বিতীয় কিস্তিতে চেপে গেছিলাম। হাত রুটি বা ভাত, তার সাথে রাজমা বা ছোলার সবজি, আলুর দম, ফুলকপি বা বাঁধাকপির তরকারি, সাথে কখনও ডিম বা মুরগীর ঝোল। খাবারের মান কলকাতার ফুটপাথের ‘ভাতের হোটেল’-এর চেয়ে একটু ভাল। এক দিন রাত্রে দেখা গেল একটা টিফিন ক্যারিয়ারের এক বাটিতে ভাত, অন্যটায় উচ্ছিষ্ট। দুপুরে কাউকে খাবার দিয়েছিল, সেই বাটি আর ধোওয়া হয়নি, রাতে আমাদের কাছে এসে গেছে। এদের খাবারও আমাদের ভাল লাগছিল না, তাই সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হল। টাকা আগেই দেওয়া হয়ে গেছিল, দু-চার দিন ছুটোছুটি ঝগড়া ঝাঁটি করে সে টাকা উদ্ধার করা হল। তথাগতর সেই বন্ধু অধ্যাপক বাগচী বলেছিল যে দিন হিন্দিতে ঝগড়া করতে পারব, সে দিন বুঝব রাষ্ট্রভাষা শিখেছি। নিজেদের পারফরম্যান্সে নিজেরাই খুশী হয়ে উঠলাম।  
    রাতে খাওয়ার ব্যাবস্থা আপাততঃ দোকানে। দিল্লির প্রতিটি মহল্লায় বেশ কয়েকটা করে সস্তা খাবারের দোকান আছে, কিছু লোক বসে খায়, বেশির ভাগ বাড়ি নিয়ে যায়। সৈয়দ মুজতবা আলি ১৯২০-র দশকে কাবুলের রুটির দোকানে যে ধরণের ভিড় দেখেছিলেন, ৯০-এর দশকে আমিও একই জিনিস দেখলাম এ দেশের রাজধানীতে। সেই বুড়ো থেকে বাচ্চা, পুরুষ ও মহিলা, সবাই হাত বাড়িয়ে আছে, কর্মচারীরা তন্দুর থেকে রুটি দিতে দিতে ঘেমে যাচ্ছে, মালিক খাবার প্যাক করতে করতে হাঁফিয়ে উঠছে, আর বক-বক করে কখনও কর্মচারীকে ধমকাচ্ছে, কখনও খদ্দেরদের ঠান্ডা করছে। এস ওয়াজেদ আলি ‘সেই ট্রাডিশন সমানে চলছে’ দেখেছিলেন মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে, কলকাতার একই দোকানে। আর আমি দেখলাম ৭০ বছর বাদে, অন্ততঃ দেড় হাজার কিলোমিটারের তফাতে। 
    কী বলছেন? সত্তর বছর আগে কাবুলের দোকান আমি দেখেছি কিনা? মশাই, আলি সাহেবের ‘দেশে বিদেশে’ বইখানা এক বার পড়ে নিন, দেখবেন আপনি নিজেই দাঁড়িয়ে আছেন সেই পাঞ্জাবী রুটিওয়ালার দোকানে। স্পষ্ট দেখতে পাবেন তার পাগড়ি আলগা হয়ে এক দিকে ঝুলে পড়েছে, আর সে তিন-চারটে ভাষায় বকর বকর করে খদ্দের সামলাচ্ছে।
    অফিসের পরে কিম্বা ছুটির দিনে আমি আর তথাগত মাঝে মাঝে নগর দর্শনে বেরিয়ে পড়তাম। লুটিয়েন সাহেব রাজধানীর নকশা করেছিলেন ১৩০০ হেক্টর জমির ওপর, দুটি বিরাটকায় প্রাকৃতিক বস্তুর মাঝখানে – পূর্ব দিকে যমুনা নদী (যাকে এখানে যমনা বা ইয়ামুনা বলে) আর পশ্চিমে আরাবল্লীর শৈলশিরা। এই শৈলশিরা বা রিজ একটা পাহাড়ি পাথুরে জমি, হালকা জঙ্গলে ঢাকা, দূষণে ভরা মহানগরের ফুসফুস।
    এক দিন আমরা ঘুরতে ঘুরতে চলে গেছি রিজের অনেকটা ভেতরে, এটা সম্ভবত রিজের দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চল। দেখি সেখানে ক্যাম্প জাতীয় অস্থায়ী ঘর রয়েছে কয়েকটা। আর তেমনই একটা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘদেহী একটি লোক, পরনে শুধু একটা কালো শর্টস, চেহারা পুরো চাবুকের মত, বয়স আমাদের চেয়ে সামান্য বেশি। জিজ্ঞেস করে জানলাম কোনও একটা প্যারামিলিটারি ফোর্সের স্পোর্টস বিভাগে আছেন এনারা, উনি অ্যাথলিট। তথাগত ওনার সাথে কথা বলছে, আমি আশপাশ দেখছি, এমন সময়ে একটা ঘরের পেছন থেকে হেলেদুলে যিনি বেরিয়ে এলেন তাঁরই এক জাতভাইকে রাজস্থানে দেখে লালমোহনবাবু বলে উঠেছিলেন, “বাহ! ন্যাশনাল বার্ড।” আমি একটু জোরেই বলে ফেলেছি, “তথা, দেখ দেখ, ময়ূর।” ব্যাস, আমার চিৎকারে ময়ূর বাবাজী কঁ ক্যাঁ ক্যাঁ করে লাফিয়ে পালালেন, আর সেই সাথে লাফিয়ে উঠলেন চাবুক চেহারা। “আপনারা বাঙালি?!” পরিষ্কার বাংলায় বললেন এতক্ষণ ধরে হিন্দিতে কথা বলা ভদ্রলোক। বর্ধ্মান জেলায় বাড়ি, নাম হল ইয়াসিন। চা বিস্কুট খাইয়ে তিনি বিদায় দিলেন দেশোয়ালি ভাইদের।
     
    এমনই আর এক দেশোয়ালি ভাইকে পেয়েছিলাম পালিকা বাজারের কাছে পার্কে। পালিকা বাজার হল আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট, কনট প্লেসে। ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে লুটিয়েন গড়ে তুলেছিলেন কনট প্লেস। তবে এর বিষয়ে পরে আবার আসা যাবে। আপাততঃ দেশোয়ালি ভাই-এর কথা। আমি, তথাগত আর অধ্যাপক বাগচী সেদিন বিকেলে পার্কের সবুজ ঘাসের ওপর বসে আছি, আরও অনেক লোক ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে। ছোট ছোট ফ্লাস্ক হাতে ‘চায়, চায়’ বলে চা-ওয়ালারা ঘুরছে, আছে বাদামের ঝুড়ি নিয়ে মুংফলি বিক্রেতারাও। তথা এক চা-ওয়ালাকে ডাকল, তার সাথে কথা বলতে বলতে বাগচী হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, “বাঙালি?” লোকটা এক গাল হেসে বলল, “শিলিগুড়ি। আপনারা?”
    শিলিগুড়ির সনাতন সেলাই-এর কাজ জানত। বছর চারেক আগে দিল্লি এসেছে, ইচ্ছা ছিল কিছু দিন কারও কাছে কাজ করার পর নিজেই একটা দর্জির দোকান খুলে বসবে। কাজ করছিলও সে, তার পর সে দোকান উঠে যায়, নতুন ভাবে আর দর্জির দোকান পায়নি সে। “দোকান মালিক হতে চেয়েছিলাম দাদা, হয়ে গেলাম ফেরিওয়ালা, তাও চায়ের। কী করব বলুন, পেট তো চালাতে হবে। নাহ, বাড়ি যাইনি অনেক দিন। যাওয়ার খরচ আছে, খালি হাতেও তো যাওয়া যায় না। আর তা ছাড়া মুখ দেখাব কী করে?” তারই মত আর এক জন ফেরিওয়ালা তাকে ডেকে নিয়ে গেল। চায়ের দাম আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনা মাখা মুখ নিয়ে সন্ধ্যার আবছা অন্ধকারে মিলিয়ে গেল সনাতন। আমরা তিন জন বসে রইলাম। আমাদের থেকে সামান্য দূরে ঝাঁ-চকচকে আন্ডারগ্রাউন্ড বাজারের আলো ঝলমল করা খোলা মুখটা দেখা যাচ্ছিল, সেখানে নানা মনোহারি জিনিস বিক্রি হয়।
     
    সনাতনের গল্প সনাতনই, পৃথিবীর যে কোনও বড় শহরে ইতিহাসের যে কোনও সময়ে শয়ে শয়ে পাওয়া যাবে। আর এদের বিপরীতে অন্য এক চা-ওয়ালার গল্পও শোনানোর ইচ্ছে রইল পরে।
     
    এক নামী কফি চেন তাদের স্লোগানে বলে “এ লট ক্যান হ্যাপেন ওভার কফি”। আরে বাবা, চায়ের কাপে তুফান আমরা তুলছি সেই কোন যুগ থেকে। চা একটা সাংঘাতিক ডেমক্রেটিক ব্যাপার। আকবর বাদশা থেকে হরিপদ কেরানি সবাই চা খেতে পারে – সস্তা সাদামাঠা মাটির ভাঁড়ে হোক বা দামী বোন চায়নার কারুকার্য করা কাপে। চীন দেশের মিং রাজবংশের সময়কার একটা কাপের শুনেছি মিলিয়ন ডলার দাম। সে যাক, এ দেশের শেষতম গ্রামটির মোড়েও আপনি একটা চা দোকান ঠিকই পেয়ে যাবেন। কিন্তু সেখানে কফিশপ? পাবেন না। আসলে সেটা হল একটা ভয়ানক এলিট জিনিস। মাটির ভাঁড়ে কফি আমিই খাব না, তো আপনি!
     
    চায়ের সাথে একটু টা হলে ভাল হয়। পশ্চিম বাংলার বাড়িতে অতিথিকে চায়ের সাথে প্লেটে করে বিস্কুট বা চানাচুর দেয়। দিল্লিতে দেখলাম চায়ের সঙ্গে স্যুপ বোলের মত চার-পাঁচটা বাটি করে নানা ধরনের নোনতা খাবার দেওয়া হয়, বিস্কুটও থাকে অবশ্য তার মধ্যে। গৃহকর্তা বা কর্ত্রীর ইচ্ছা এবং/অথবা সামর্থ অনুযায়ী বাটির সংখ্যা কমে বা বাড়ে। প্রতিটা বাটিতে চামচ থাকে, যেটার থেকে খুশি, যতটা ইচ্ছে নিয়ে নিন।
     
    আমি ভালবাসি লাল চা, আর দূঃখের বিষয় দিল্লির চা মানেই হল গুচ্ছের দুধ, চিনি, তেজপাতা, দারচিনি, আদা – কে জানে ধনে-জিরে-শুকনো লঙ্কা এ সব মশলাও থাকে কিনা।

    এত কিছু মশলা আমাদের দেশে পাওয়া যায় যে কোন আদি কাল থেকে অন্য দেশের লোকেরা সাগর পেরিয়ে সে সব কিনতে আসছে; দেশের অর্থনীতি আর রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করতে আসছে। তাই এর রাজনীতি আর তার দোসর দুর্নীতিও নানা জাতের, নানা স্বাদের। কেমন তাদের স্বাদ? (ক্রমশঃ)
     
  • ধারাবাহিক | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৪৪৫ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নেতা - Nirmalya Nag
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2601:448:c400:9fe0:d147:199:1f5f:d574 | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৭:৫১511908
  • যথারীতি ভারী সরস। এই নামের ইনিশিয়াল ধরে ডাকার বুদ্ধিটা তোফা তো!
  • | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৮:০২511988
  • এহ আমি দিল্লি গিয়ে দাদা দিদি ডাকার হাত থেকে বেঁচে গিয়ে ভারী খুশী হয়েছিলাম। নাম ধরে ডাকতেই সুবিধে লাগে। কলকাতার পাবলিক ত আউট অব অফিসেও অমুকদা তমুকদি করে রাখে।
  • Nirmalya Nag | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২২:০৭511998
  • @ kk - ইনিশিয়াল ধরে তো আমি আপনি সবাই স্কুল কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাদের ডেকে এসেছি। টিকেসি স্যার কিম্বা ডিপি ম্যাম। কিছু কিছু অফিসেও (যেমন আমাদের) ইনিশিয়াল দিয়ে ডাকা খুব কমন। ইনিশিয়াল মাঝে মাঝে বেশ মজার ঘটনা ঘটায় ধ্বনিগত সাদৃশ্যের জন্য। মনে করুন একজনের ইনিশিয়াল DHS, তাঁর নাম হয়ে গেল 'ধুস'। আবার অন্য রকম ব্যাপারও ছিল। ধরুন একজন PK, আর অন্য একজন PKG। এই দ্বিতীয় জনকে নানা কারণে অনেকেই পছন্দ করে না। এবার এই PK-কে কেউ হয়তো PKজী বলে ডাকল, সঙ্গে সঙ্গে তাকে বলা হবে "উসকো গালি মৎ দো"। এখানে বলি ইনিশিয়াল সব সময়ে কিন্তু নাম আর পদবীর আদ্যাক্ষর দিয়ে নাও হতে পারে। আমার ইনিশিয়াল NN,  কিন্তু এটা NIN বা NNA হতেই পারে যদি স্বাভাবিকটি "already taken" হয়ে থাকে।
     
    @ দ - কাছাকাছি বয়সের সবাইকে অবশ্যই নাম ধরে ডাকতাম। দক্ষিণ ভারতের কেউ কেউ তাদের দীর্ঘ নামের জন্য আমরা যাওয়ার আগে থেকেই ইনিশিয়ালে পরিচিত ছিল। বাকিদের জন্য রইল জী এর ল্যাজ।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন