এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  গপ্পো

  • তোমার বাস কোথা যে... - ৯

    Nirmalya Nag লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | গপ্পো | ০৪ জুলাই ২০২৪ | ৩৯১ বার পঠিত
  • ।। নয় ।।

    [ এই কাহিনীর সব চরিত্র কাল্পনিক। জীবীত বা মৃত কোনো ব্যক্তির সাথে কোনও মিল যদি কেউ খুঁজে পান তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয়। ]
    স্থানীয় বাজারেই ভাল ইলিশ মাছ পেয়ে গেল বিনীতা, যেটা সাধারনত পাওয়া যায় না। ইলিশ পাওয়ায় খুশি হল সে, অরুণাভ এই মাছটা খেতে ভালবাসে। কাতলা মাছ আর নিল না, মুরগির মাংস কিনল। রবিবারের মেনু ঠিক করে ফেলেছে সে। ভাত, পেঁয়াজ আর রসুন ফোড়ন দিয়ে মসুর ডালটা ভাল বানায় সে, সঙ্গে আলু ভাজা থাকবে; এর পর আলু-ফুলকপির তরকারি, সর্ষে দিয়ে ইলিশ, হালকা মুরগির ঝোল, আমের চাটনি আর রসগোল্লা। 
    চাটনি আর মুরগির ঝোলটা শনিবার রাতেই করে নেওয়া হল। একটু মজলে স্বাদ ভাল হবে। চাটনি বানাল বিনীতা,ইলিশ আর মসুর ডাল এ দুটোও নিজেই করল সে পরের দিন। বাকিগুলোর দায়িত্বে রইল বিসপাতিয়া। মুরগির ঝোলটা আগের দিন রেঁধেছিল ও মাংসটা খুব ভাল রান্না করে।  
    ইন্দ্রনীলের কথাকে সত্যি প্রমাণ করে অরুণাভ ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছিল। ডাক্তার বলে দিয়েছে পরে রেডিওথেরাপিও শুরু করতে হবে, আর সেটা হয়তো নিতে হবে কেমোথেরাপির প্রায় সাথেসাথেই। তাতে অবশ্য দাস সাহেবের কোনও তাপউত্তাপ নেই। রবিবার সন্ধ্যায় ল্যাপটপ খুলে বসে কাজ করার সময়ে বার বার ঘড়ি দেখছিল সে। 
    ইন্দ্রনীল এসে গেল সাড়ে সাতটার একটু আগে। অরুণাভর কথার উত্তরে জানাল তার আসতে কোনই অসুবিধে হয়নি। মিস্টার শর্মার বাবা ওর পেশেন্ট ছিল, তার বাংলোও খুব দূরে নয়, একবার সেখানে গিয়েছিল সে। শর্মার ছেলে বিশালের জন্মদিনের পার্টিতেই অরুণাভদের দেখেছিল ইন্দ্রনীল।
    “শরীর ঠিক আছে আপনার?” ড্রইং রুমের সোফায় বসে জিজ্ঞেস করল ইন্দ্রনীল।
    “হানড্রেড পার সেন্ট,” বলল অরুণাভ।
    “চা না কফি?” প্রশ্ন করল বিনীতা।
    “চা, তবে দুধ-চিনি ছাড়া হলে ভাল হয়,” উত্তর দিল ইন্দ্রনীল।
    “ঠিক আছে।” ভিতরে চলে গেল বিনীতা। 

    ড্রইং রুমটা দেখছিল ইন্দ্রনীল। বেশ বড় ঘর, ছোট কার্পেটের ওপর সেন্টার টেবিল, তার দু দিকে সোফা। একটা তিন জনের বসার, আর দুটো সিঙ্গল। সোফার ওপর ছোট ছোট কুশন রাখা। বড় সোফাটার এক দিকে বসেছে ইন্দ্রনীল, তার বাঁদিকে প্রায় পুরো দেওয়াল জুড়ে বই-এর আলমারি, তার ওপর কয়েকটা ছবি - অরুণাভ, বিনীতা আর রঙিনের; একজনের আছে, গোটা পরিবারেরও। একটা পাহাড়ি অঞ্চলের ছবিও রয়েছে। আলমারি যেখানে শেষ হল সেখানে একটা বাহারি পর্দা ঝোলানো দরজা। ওই দরজা দিয়েই একটু আগে বিনীতা চা-এর জন্য বলতে গেছে। দরজার পাশে দেওয়ালের সামনে টেবিলের ওপর বেশ বড় একটা টেলিভিশন। টিভির সামনে টেবিলের ওপর সেট টপ বক্স, রিমোট, আর ওয়াইফাই রাউটার। টিভির মাথার ওপর দেওয়ালে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘার বড় বাঁধানো ছবি ঝুলছে। টিভির পাশে আবার একটা বই-এর আলমারি চলে গেছে দেওয়ালের শেষ পর্যন্ত। ডান পাশের দেওয়ালে বড় বড় জানলা, যার সামনে সিঙ্গল সোফা দুটো রয়েছে আর সোফার দু পাশে বড় আকারের দুটো বাঁকুড়ার ঘোড়া। তার প্রায় গা ঘেঁষে কোণের দিকে দেওয়ালে একটা বেমামান তাক, যে তাকের ওপর এই মুহূর্তে তার ল্যাপটপ ব্যাগটা রাখছে অরুণাভ। ওই খান থেকে দেওয়ালটা ঘুরেছে, সেখানে আবার একটা বড় জানলা; যার সামনে ট্রিপল সোফায় বসে আছে ইন্দ্রনীল, তার বাঁদিকে একটা দরজা যেখান দিয়ে সে ঢুকেছে। সব ক’টা দরজা জানলাতেই একই রকম ডিজাইনের ভারি পর্দা।  

    সামনের দরজার পর্দাটা একটু দুলে ওঠায় সেদিকে চোখ গেল ইন্দ্রনীলের। পর্দা আর দরজার ফ্রেমের মধ্যে একটু ফাঁক তৈরি হয়েছে আর সেখান দিয়ে উঁকি দিচ্ছে একটা কচি মুখ। এই নিশ্চয় রঙিন, ভাবল ইন্দ্রনীল। ততক্ষণে ল্যাপটপ ব্যাগ রেখে সিঙ্গল সোফায় বসেছে অরুণাভ। সেও তাকাল দরজার দিকে তারপর রঙিনকে ভেতরে ডাকল। গোল মুখ, মাথার দু-দিকে ঝুঁটি বাঁধা, মায়ের মুখের সঙ্গে মিল আছে মেয়ের। 
    “ডাক্তারবাবু, এই হল রঙিন,” বলল অরুণাভ।
    ইসারায় তার পাশে রঙিনকে বসতে বলল অরুণাভ। সে বসলে জিজ্ঞেস করল, “কোন ক্লাসে পড় তুমি?”
    “টু,” বলল রঙিন। তাকিয়ে দেখল মা ঢুকল ঘরে, আর একটা সিঙ্গল সোফায় বসল।
    “মায়ের স্কুলেই পড়?” ইন্দ্রনীলের প্রশ্ন।
    “না, আমার অন্য স্কুল।”
    “তুমি তো খুব ভাল আঁক, আমায় আঁকা দেখাবে না?”
    এই প্রশ্নের উত্তরে কী বলবে বুঝতে পারছিল না রঙ্গিন, মায়ের দিকে তাকাল সে।
    “ড্রইং খাতা নিয়ে এস, দেখাও ওনাকে,” বলল বিনীতা।
    উঠে ড্রইং খাতা নিয়ে এল বিনীতা। মন দিয়ে সেটা দেখতে লাগল ইন্দ্রনীল। এক কালে তারও মন ছিল আর্টের দিকে।
    দু-একটা স্টিল লাইফ ভাল লাগল তার। একটা ছবি ছিল আপেল, কমলা লেবু আর এক ছড়া কলা; বয়সের তুলনায় ভাল কাজ সেটা।
    “এটা কি সত্যিকারের আপেল কলা দেখে এঁকেছ?”
    “না, বই-এর ছবি দেখে।”
    “আচ্ছা,” বলে ফের পাতা ওলটায় ইন্দ্রনীল। এক সময়ে আসে সেই পাতাটা যেখানে রঙিন হাতির মাথা আঁকতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছিল। “আমি একটা আঁকব এখানে?”
    ঝুঁটি বাঁধা মাথা কাৎ করে হ্যাঁ জানাল রঙিন। পকেট থেকে কলম বার করে কয়েকটা টানে একটা হাতি এঁকে ফেলল ডাক্তারবাবু। রঙিন খুব খুশি, হাততালি দিয়ে উঠল সে।
    “আপনি তো চমৎকার আঁকেন। চর্চা করেন নাকি?” বলল অরুণাভ।
    পকেটে কলম রাখতে রাখতে হাসল ইন্দ্রনীল। “আঁকার ওপর ততটা নয়। আসলে স্কাল্পচার বানানোর ঝোঁক ছিল এক কালে। সে সব বহুদিন আগের কথা। রামকিঙ্কর বেইজ, পিলু পোচকানওয়ালা - এঁদের কাজ ভাল লাগত। সে ইচ্ছে বেশি দিন টেঁকেনি।”

    বিসপাতিয়া দরজায় আসে চায়ের ট্রে নিয়ে।  বিনীতা উঠে গিয়ে ইন্দ্রনীলের জন্য লিকার চা আর অরুণাভর দুধ-চিনি দেওয়া চা এগিয়ে দেয়। নিজের জন্যও একই রকম চা নেয় সে। সঙ্গে আছে দু রকমের বিস্কুট আর কলকাতার কোম্পানির বানানো টক-ঝাল-মিষ্টি চানাচুর। 
    “ভাল চা, কাপটাও খুব সুন্দর,” চায়ে একটা চুমুক দিয়ে বলল ইন্দ্রনীল।
    বিনীতা বলল, “সুগার আছে নাকি? দুধ চিনি ছাড়া চা খান?”
    “না। এভাবে খাওয়াই অভ্যাস হয়ে গেছে। দুধ ছাড়া চা আগেই খেতাম। দার্জিলিং বেড়াতে গিয়ে গাড়ির ড্রাইভারের পরামর্শে চিনিও বাদ দিই ঠিকঠাক ফ্লেভার পাওয়ার জন্য। ড্রাইভার ছেলেটি বলেছিল দু-দিন দুধ চিনি বাদ দিয়ে খান। স্বাদের তফাৎ বুঝতে পারবেন। সেই থেকে…” ফের কাপে ঠোঁট ছোঁয়াল সে। 
    যখন যে কথা বলছে রঙিনের মাথা তার দিকে ঘুরছিল। একটা মিষ্টি আর একটা নোনতা বিস্কুট মা দিয়েছে তাকে। বিনীতা তাকে বলল, “এবার যাও, বড়রা কথা বলছি।”
    “আমি কার্টুন দেখব?” বায়নার সুরে বলল রঙিন।
    “ঠিক আছে, ভেতরের ঘরে গিয়ে দেখ।”
    ড্রইং খাতা ফেরত নিয়ে কিৎকিৎ খেলার মত করে রঙিন ঘর ছাড়ে। তার যাওয়ার ভঙ্গিতে মজা পায় ইন্দ্রনীল। কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল সে, বিনীতার কথায় থেমে গেল।
    “আমাদের একটা ভুল হয়ে গেছে। আপনার মিসেসকেও বলা উচিত ছিল।”
    “কিছু ভুল হয়নি,” একটু থামল ইন্দ্রনীল, তারপর বলল, “আমার কোনও মিসেস নেই।”
    অরুণাভ জিজ্ঞেস করল, “আপনি ব্যাচেলর?”
    “ডিভোর্সি,” একটা শব্দে উত্তর দিল ডাক্তার।
    একটা অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এল ঘরে। সেটা ইন্দ্রনীলই কাটাল।
    “আপনাদের আসল বাড়ি কোথায়?”
    অরুণাভ বলতে লাগল। “আমি কালিম্পং-এর একটা স্কুলে পড়েছি। তারপর আই এস এম। বাবা দুর্গাপুরে স্টিল প্ল্যান্টে ছিলেন, মারা গেছেন, মাও। এক বোন আছে, মুম্বাইতে থাকে।”
    ইন্দ্রনীল বলল, “আমরা ছিলাম কলকাতার কাছেই, সোনারপুরের দিকে। বাবা-মা মারা গেছেন অনেক দিন। ভাই বোন কেউ নেই।” বিনীতার দিকে তাকাল সে। “আপনার?”
    “জলপাইগুড়ি। কেবল এক দাদা আছে, ওখানেই থাকে,” বলল বিনীতা।
    ইন্দ্রনীল বলল, “তাহলে আমাদের কারোরই বাবা-মা নেই। আপনার দাদা আছেন, আর আপনার বোন। আর আমার আগেপিছে কেউ না।”
    বিনীতার একটা পুরনো কথা মনে পড়ল। “আমি হওয়ার পর এক আত্মীয় মা-কে বলেছিলেন - একটি ছেলে, একটি মেয়ে; সোনার সংসার।"
    “এই টাইপের কথা আমিও দু-এক জনকে বলতে শুনেছি,” বলল ইন্দ্রনীল।
    অরুণাভর একটা অন্য কথা মনে হল। “ছেলে আর মেয়ে, মেল আর ফিমেল, দুইয়ে মিলে একটা কমপ্লিটনেস তৈরি হয় বলে বোধ হয় অনেকে ভাবেন।”
    ইন্দ্রনীল বলল, “হতে পারে। তবে ইনকমপ্লিটনেসও কিন্তু দারুণ জিনিস, অন্তত কিছু কিছু ক্ষেত্রে।”
    “কী রকম?”
    অরুণাভর প্রশ্নের উত্তরে ইন্দ্রনীল বলল, “রদ্যাঁর নাম শুনেছেন?”
    “স্কাল্পচার আর্টিস্ট?” অরুণাভর কথায় মাথা নেড়ে সায় দিল ডাক্তার।
    বিনীতা জানাল সে ওনার নামটুকুই শুনেছে, কোনও কাজ দেখেনি।
    “বলছি শুনুন। ফ্রান্সের স্কাল্পটর দিলেন অগাস্তে রদ্যাঁ। তিনি 'ক্যাথেড্রাল' নামের একটা সিরিজ করেছিলেন। এর প্রতিটি আইটেমে থাকত জাস্ট দুটো হাত, দুটো ডান হাত। একটা মেল, একটা ফিমেল। দেখে মনে হয় একটা হাত অন্য হাতটাকে ধরতে যাচ্ছে। ধরাটা তখনো হয়নি। এই না হওয়াটাই একটা ইনকমপ্লিটনেস তৈরি করেছে যেটা অসাধারণ। আপনি বাংলায় অসম্পূর্ণতা বা অপরিপূর্ণতা বলতে পারেন।”
    বিনীতা বলল, “দেখতে পারলে ভাল হত।”
    ইন্দ্রনীল মোবাইলে সার্চ দিতে যাচ্ছিল, অরুণাভ দাঁড়াতে বলল, তারপর নামিয়ে আনল তার ল্যাপটপ ব্যাগ।
    “নেট থেকে দেখাচ্ছি। এখানে বড় করে দেখা যাবে।” বলল দাস সাহেব। এক মিনিটের মধ্যে পর পর ক্যাথেড্রাল সিরিজের তিন-চারটে ছবি দেখা গেল। দুটো হাত কাছাকাছি থাকলে যে কতকিছু বলা যায় তা আগে কখনও মনেই হয়নি বিনীতার।
    “কালো পাথর, সাদা পাথর দিয়ে এই সিরিজ। এর মধ্যে আছে হ্যান্ড অফ গড, হ্যান্ড অফ দ্য ডেভিল, হ্যান্ড অফ লাভারস। প্রত্যেকটা জোড়া হাতের পিছনে নাকি একটা করে গল্প আছে। তবে সে গল্প এক একজনের জন্য এক একরকম হতেই পারে,” জানাল ইন্দ্রনীল।
    তারপর ক্যাথেড্রাল সিরিজের একটা ছবি দেখিয়ে বলল, “এইটার একটা প্রিন্ট গিফট পেয়েছিলাম। এখন খুঁজে পাচ্ছি না।”

    ছবিটা বড় করল অরুণাভ। শ্বেত পাথরে তৈরি পুরুষের হাতটা বেস থেকে সোজা উঠেছে, চারটে আঙুল মাঝখান থেকে সামান্য বেঁকে মহিলার হাতের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। মহিলার হাতটি কবজি থেকেই বেঁকে গিয়ে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে অন্যটিকে।
    বিনীতা বলল, “হাতদুটো যদি ধরা হয়ে যেতো, তাহলে ব্যাপারটা কমপ্লিট হয়ে যেত, আকর্ষণটা আর থাকত না।”
    “কাজ কমপ্লিট হয়ে গেলে আকর্ষণ তো কমে যায়ই,” জানাল অরুণাভ।
    বিনীতার মনে হল দুর্গাপুজো আসছে আসছে এটাই ভাল, এলেই খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। যে কোনও ভাল জিনিসই বোধ হয় দ্রুত ফুরিয়ে যায়, আর যা খারাপ তা চলতে থাকে। খারাপ সময়, খারাপ অসুখ, খারাপ সম্পর্ক…

    অরুণাভ বলল, “দুটো চুম্বক ঠেকে গেলে আকর্ষণের শেষ। বিয়ের আগে প্রেমিক প্রেমিকার যতটা অ্যাট্রাকশন থাকে, পরে সেটা ক্রমশঃ কমতে থাকে। তাই না, ডাক্তারবাবু?”
    ইন্দ্রনীল দুর্বলভাবে হাসল। অরুণাভ কি কিছু ইঙ্গিত করল? কিন্তু তার যে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল সেটা কি করে জানবে তার রোগী?
    বিনীতার মনে হল অন্য কথা। “আকর্ষণ কমার আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।”
    মাথা ঝাঁকাল অরুণাভ। “পারে, তবে একে অন্যকে পাওয়ার ব্যাপারটা কমপ্লিট হয়ে যাওয়াটাও বড় কারণ।
    ল্যাপটপে ছবিটা দেখছিল বিনীতা। “দুহাতের এই গ্যাপটা আরও একটা ব্যাপার বোঝাতে পারে।”
    “কী রকম,” জিজ্ঞাসা করল ইন্দ্রনীল।
    “কাছে থেকেও দু’জন মানুষ আসলে দূরেই রয়েছে,” বলল বিনীতা। তারপরেই “একটু কিচেনে যেতে হবে” জানিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

    রঙিন কিৎকিৎ খেলার ভঙ্গিতে এক পায়ে লাফাতে লাফাতে পর্দা সরিয়ে ঘরে এল, ঘরের দু’জনের দিকে তাকিয়ে একবার হাসল। তারপর আবার ওই ভাবেই বেরিয়ে গেল। (ক্রমশঃ)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ০৪ জুলাই ২০২৪ | ৩৯১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন