• হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • ছোটো গল্প: শোধ

    Rezaul Karim লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১৮ জুলাই ২০২০ | ১৭৭ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • চৈত মাসের সাত-সকালে দোচালা ঘর থেকে বেরিয়ে উঠোনে দাঁড়াতেই গফুরের চোখে পড়ে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি; খাঁ খাঁ রোদ্দুরে স্বচ্ছ জলরাশি সফেদ বর্ণ ধারণ করেছে। হালকা বাতাসে জলরাশিতে মৃদু ঢেউ গফুরের মনে অতীতের অনেক স্মৃতি দোলা দিয়ে যায়। দশ বছর আগেও এখানে চোখে পড়ত আদিগন্ত সবুজের সমারোহ। সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগরগামী পাকা-সড়ক লাগোয়া ফুলেশ্বরী গ্রামে দুই বিঘে জমিতে গফুরের পৈত্রিক ভিটে ছিল। বাবা-মা ও তিন ভাই- পাঁচজনের সংসার চলে যেত বেশ ভালোই। গফুরের বাবা ছিলেন খুবই বুঝদার কৃষক। ভিটে ছিল সামান্য জমিতে; বাকিটুকুতে বছরে দুবার সবজির চাষাবাদ করে রোজগার মন্দ হতো না। সবজির উচ্ছিষ্ট খেয়ে সারা বছর গরুগুলো মোটাতাজা হয়ে উঠত; কোরবানী ঈদে ওগুলো বিক্রি করে ভালোই লাভ হতো। সবজি ক্ষেতের এখানে-সেখানে বসানো ছিল মৌঘর। কাছাকছিই সুন্দরবন- চাক ভাঙার সাথে সাথেই বাক্সগুলোতে মৌমাছির দল নতুন করে বসত গড়ে তুলত। ২০০৯ সালে আইলা ঘূর্ণীঝড়ের সাথে জলোচ্ছ্বাসে সাগরের নোনা পানি নদী উপচে’ গোটা জনপদ ভাসিয়ে দিল। বছর পেরোলে কোনও কোনও জায়গা থেকে পানি সরে গেলেও ফুলেশ্বরী গ্রামের ফসলের ক্ষেতে যেন স্থায়ীভাবেই থিতু হয়ে রইল।

    গরুগুলোকে ঘূর্ণীঘড় আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়েছিল কিন্তু জায়গা না হওয়ায় প্রাণিগুলোকে বাইরে রেখেছিল। ঝড় থামল, জলোচ্ছাসের পানি কিছুটা নেমে গেল; গরুগুলোকে আর পাওয়া গেল না। ভিটেবাড়িতে ফিরে দেখে ঝড়ে দূর্বল টিনের বাড়ি নেতিয়ে পড়ছে, মৌঘরগুলো কোথায় ভেসে গেছে, সবজি ক্ষেত তছনছ- গোটা ক্ষেত পানিতে টাইটুম্বুর। দুদিন কাটল খেয়ে, না খেয়ে; এর পরে ত্রাণের চাল-ডাল-তেল দিয়ে মাস দুয়েক চলল। ক্ষেতের পানি আর নামল না। গফুরের বাবা পৈত্রিক ভিটেসহ জমি বিক্রি করে অপেক্ষকৃত উঁচু এলাকা শ্যামনগরের রমজাননগরে চলে গেল। গফুরের ছোটো এক ভাই কাজের সন্ধানে ঢাকায় গেল, একবারে ছোটোটা গেল বাবার সাথে- রমজাননগর। জমি ক্রেতা রশিদ তালুকদার গফুরকে এখানেই থেকে যেতে বললেন। গফুরও থেকে গেল সদ্য বিবাহিত বউ নিয়ে। বছর দুয়েকের মধ্যে গাড়িওয়ালা পেটমোটা লোকটা এখানে প্রায় শত বিঘা জমি কিনে ফেলল; বিস্তীর্ণ জমিতে চিঙড়ির ঘের তৈরি হয়ে গেল। গফুরদের ভিটের ওপরে দোতলা দালান তৈরি হলো, দালানের বাইরেটা গ্লাস-টাইলসে সজ্জিত; দালানতো নয় যেন রাজপ্রাসাদ। ভবনের নাম দেয়া হলো ‘তালুকদার হাউস’। এক বিঘে জমির ওপরে বাড়ি; তার এক কোনায় গফুরকে একটা ঘর তুলে থাকার অনুমতি দিল তালুকদার; তবে সে ঘর থেকে বেরোবার পথ হলো মূল বাড়ির পেছন দিকে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গফুর একটা অটো কিনল, সেটাই হলো তার পেশা। তবে তালুকদার জমিতে থাকার মাশুল হিসেবে এ বাড়ির কেনাকাটা তাকেই করে দিতে হয়।

    তালুকদার গফুরকে জিজ্ঞেস করেছিল সে যখন আসে তখন গফুরের বউ তার রান্নাবান্নার কাজ করে দেবে কিনা? বিয়ের পরপরই গফুরের বউ সালেহা পোয়াতী হয়ে যাওয়ায় গফুর রাজি হয়নি। বছর না গড়াতেই গফুর বাবা হয়ে গেল, তবে বেশ ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হলো। পোয়াতী হয়েছে জানতে পেওে গফুর বউকে নিয়ে গিয়েছিল সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। ঔষধপত্তর দিয়ে ডাক্তার গফুরকে জানালেন বউ এর আরও বেশ কিছু মেয়েলী রোগ আছে। এ সময়ে সে যেন একেবারেই কাজ-কর্ম না করে, নিয়মিত ডাক্তার দেখাতে হবে। বাচ্চা হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখের সাত দিন আগে স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। গ্রামে আর দশজন হলে বলত- অসুখ্যা মেয়ে না জানিয়ে ছেলের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। কিন্তু গফুর বউটাকে ভালোবাসে; ডাক্তারের কথায় গফুর এও বুঝেছে পোয়াতী হওয়ার পরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দরুন সমস্যাগুলো বোঝা গেছে, মেয়ের অসুখের কথা তার বাবা-মায়ের আগে থেকে জানার কথা না। ডাক্তার যেমন যেমন পরামর্শ দিয়েছে গফুর তেমন তেমনই পালন করার চেষ্টা করেছে। নির্ধারিত দিনে হাসপাতালে সালেহার কোল জুড়ে এসেছে কন্যা-সন্তান। ওরা দুজনে মিলে নাম রেখেছে- আদুরী।
    তালুকদার এখানে আসে, থাকে কদাচিৎ; মাসে এক কী দুদিন। সে আসে কালো কাঁচঘেরা পাজেরো জিপে চড়ে, সাথে বাবুর্চী নিয়ে আসে; আরও থাকে তরুণী মেয়ে, কখনও একজন, কখনও-বা দুজন। ড্রাইভারকে বোঝা ভার; সে গাড়ি চালিয়ে আসে, তবে তালুকদার যতক্ষণ এ বাড়িতে থাকে ততক্ষণ সে বন্দুক হাতে সদর দরজায় থাকে। রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়া নীচতলায় হয়; তালুকদার থাকা অবস্থায় করোরই দোতলায় ওঠার অনুমতি নাই। রাতে দোতলায় হালকা নীলাভ অলো জ্বলে গভীর রাত অবধি, শোনা যায় গানের শব্দ। তালুকদার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়েও আসে, তবে খুব কমই; সে সময়ে তার সাথে অন্য কোনো মেয়ে থাকে না। তালুকদার এলে কেনাকাটার বহর বেড়ে যায় বলে গফুরও সে সময়ে অটো চালাতে পারে না, অটো নিয়ে কেনাকাটা করতে যেতে হয় হরহামেশা।

    ঘেরের আগাছা পরিষ্কার করা, রাতে ঘের পাহারা দেয়ার জন্য বেশ কজন লোক কাজ করে; বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে একজন বয়স্ক মানুষ আছে- ওহাব মিয়া, তালুকদারের দূর-সম্পর্কীয় চাচা। রশিদ তালুকদার না থাকলেও ঘরের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখতে হয়; ওহাব মিয়া সে কাজ করে, বাগান পরিচর্যা করে। ছাদের ওপরে সুইমিং পুল আছে, সেটারও পরিচর্যা করতে হয়। গফুর ওহাব মিয়ার সাথে তালুকদারের নৈশ অভিসার নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে, ওহাব মুখ খোলে না। ওহাব মুখে আঙুল দিয়ে ইশারা-ইঙ্গিতে উত্তর দেয়। ডান হাতটা গলায় নিয়ে জবাই করার ভঙ্গিমা দেখায়। এর পরে ঠোঁটের ওপরে আঙুল ধরে হিস্ করে শব্দ করে বোঝায় কিছু বলা যাবে না।

    মেয়েটা মায়ের বুকের দুধ পায়নি; গফুর দুধের খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম। মেয়ে বড়ো হওয়ার সাথে সাথে সংসারে খরচের বহরও বাড়তে থাকে। তালুকদারের জায়গাতে তৈরি বসতবাটিতে থেকে, অটো চালিয়ে সংসার নির্বাহ করা বড্ডো কঠিন হয়ে পড়ে। দু’চারটে পয়সা জমতে না জমতেই সালেহাকে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতলে, রাজ্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ঔষধ কিনতে তা শেষ হয়ে যায়। গফুর অনেক বার মনে করেছে, তালুকদারের বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে সে রমজাননগর চলে যাবে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তালুকদারের কাছ থেকে নেয়া ঋণের কথা মনে পড়ামাত্রই তার ইচ্ছা হয়ে পড়ে অবদমিত। শত টানাটানির মাঝেও গফুর আদুরীকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। গফুর, তার স্ত্রী দুজনেই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে; সেই কত বছর আগে, এতকাল পরে কী সে-সব মনে আছে? তবুও সন্ধ্যার পরে আদুরীর মা মেয়ের লেখাপড়ায় কিছুটা সহায়তা করার চেষ্টা করে। মেয়েও হয়েছে মা ভক্ত, মা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। দশ বছর বয়সী মেয়েটা মায়ের কাছ থেকে শুনে শুনে খিচুড়ি রান্না করে। কয়েক টুকরো আলু, পটল দিয়ে নরম খিচুড়ি রান্না করলে ওতেই খাওয়া হয়ে যায়, আলাদা তরকারি লাগে না।

    সেদিন সন্ধ্যে থেকেই সালেহা পেট ব্যাথার কথা বলছিল। রাতে ভাত খাওয়ার পরে এমনভাবে ঘরের মেঝেতে গড়াগড়ি দিতে থাকল যেন পানি থেকে মাছ ডাঙায় তোলা হয়েছে। গফুরের বুঝতে অসুবিধে হলো না, নিশ্চয় সাংঘাতিক কিছু হয়েছে, তা না হলে সালেহাকে কোনোদিন এমনটি করতে দেখেনি সে। আদুরীকে নিয়ে দৌড়ে যায় ওহাব মিয়ার কাছে। গফুরের ডাকে বৃদ্ধ দারোয়ান গেইট খুলে দিল। বাড়ির নীচতলায় সদর দরজায় বন্দুকধারীর পাহারা। বারবার ফোন করে ওহাব মিয়ার সাড়া মিলল। তালুকদার এসেছে, ওহাব মিয়া ব্যস্ত; তবুও কিছুক্ষণ পরে ওহাব মিয়ার দেখা পাওয়া গেল। গফুর তাকে জানাল সালেহাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হবে, অটোতে করেই নিয়ে যাবে। হয়ত রাতটা কেটে যাবে হাসপাতালেই; মেয়েটাকে তার কাছে রাখতে পারবে কিনা? কেউ যেন টের না পায় ওহাব সেভাবে মেয়েটাকে নিজের ঘরে নিয়ে গেল। ‘টা’ লাগবে না আচে?’ ওহাব মিয়ার প্রশ্ন। ‘থাহলি তুমি কিচু দেও। সরকারি হাসপাতলে নাত্তি বেলা দেকবিনে? পরীক্ষা-ঠোরিক্ষা না কুরি আজকাল কোনো ওষুদ দেয়? সরাকরি হাসপাতালেও ফি দুবা লাগে। খালি এট্টু কম টা’ নেয় আর কি।’
    ওহাব মিয়া হাজার খানেক টাকা দিল। গফুর আরও পাঁচশ টাকা নিয়ে সালেহাকে অটোতে তুলে হাসপাতালে রওনা দিল। এই টেস্ট, সেই টেস্ট হলো সকাল আটটার পরে। দশটার দিকে ডাক্তার জানালেন, পিত্ত-পাথর হয়েছেÑ আকারে ছোটো হলেও সংখ্যায় বেশি। ব্যাথা কমানোর ঔষধ দেয়া হয়েছে রাতেই। আরও দুই কী তিন দিন হাসপাতালেই থাকতে হবে।
    বেলা বারটার দিকে গফুর বাসায় এল মেয়েটাকে দেখার জন্য। তালুকদারের বাড়িতে সুনসান নীরবতা। দলবল নিয়ে তালুকদার চলে গেছে। বৃদ্ধ দারোয়ান গেট খুলে দিল, সদর দরজা বন্ধ। কলিং বেল টিপেও কোনো সাড়া নেই। এ রকমই হয়। ওহাব হয়ত তালুকদারের হুকুম-হাকাম শোনার জন্য সারারাত জেগে ছিল- এখন ঘুমোচ্ছে। গফুর ওহাবকে ফোন করল। বেশ কিছুক্ষণ পরে ওহাব মিয়া দরজা খুলে দিল। ওহাবের দিকে তাকিয়ে গফুর জিগ্যেস করল, ‘মেয়িডা কনে গো চাচা?’ ওহাব ফুঁপিয়ে উঠল যেন; বলল, ‘ঘরে আহ আমার সাত, ও গফুর আমি বুড়– মানুষ; দেখ দিন কী হুয়িচ?’

    ‘কানলি হবে না, উত্তর দেও চাচা- কও আমার মায়ির কী হুয়িছ?’

    ওহাবের মুখে কোনো কথা নেই। দুটো ঘর পেরিয়ে ওহাবের ঘরে ঢুকে গফুর দেখে মেয়েটা শুয়ে আছে, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু ছোটো আদুরীর চেহারা কাল রাতে যেমন ছিল এখন তো তেমন না! কোনো সাড়াশব্দ নেই কেন? কী হয়েছে মেয়েটার? কী ব্যাপার, ওর হাতের সাথে স্যালাইনের ব্যাগ ঝুলছে কেন? ওহাবের দুই কাঁধ চেপে ধরে গফুর জিগ্যেস করে, ‘চাচা কও আমার মায়ির কী হুয়িছ? ওর হাতে সিলাইন ক্যান? এ অবেলায় ও ঘুমাইতিচ ক্যান?’ গফুর ওহাবের কাঁধ ধরে ঝাঁকাতে থাকে। ওহাব মিয়ার চোখে তখন অশ্রুধারা। গফুর আবারও বলে, ‘তুমার কাচ মায়ি রেখি গিচ। তুমাকেই উত্তর দিতিবে। কও আমার মায়ির কী হুয়িচ?’

    ওহাবের কাছ থেকে য জানা যায় তা হচ্ছে, তালুকদারের দেহরক্ষীই বোধ হয় তাকে খবরটা দিয়েছে। গভীর রাতে সে গফুরের ঘর থেকে জোর করে আদুরীকে নিয়ে যায়, সে এসছিল পিস্তল হাতে। সকালে খুব অসুস্থ অবস্থায় ওকে নীচে নামিয়ে আনে, আদুরী তখন অচেতন। তালুকদারের ফোন পেয়ে বাসায় ডাক্তার এসেছিল, ডাক্তার ঘণ্টাখানেক ছিল; হাতে স্যালাইন লাগিয়ে, ঔষধ-পত্তর দিয়ে গেছে। তালুকদার বলে গেছে, এই ঘটনা কাকপক্ষীও যেন না জানে- চিকিৎসার সব খরচ সে দিবে। আপাতত গফুরের জন্য দশ হাজার টাকা দিয়ে গেছে, পরে আরও দেবে।

    গফুর ডুকরে কেঁদে উঠল। তার এত আদরের ছোট্ট আদুরীকে নরপিশাচ তালুকদার এই হাল করেছে? লোকটা এত মেয়ে নিয়ে আসে, তাতেও তার শখ মেটেনা? এই ছোট্ট মেয়েটাকেও উম্মত্ত পাশবিকতার নখরে ক্ষতবিক্ষত করল? গফুর টাকাটা ছুঁড়ে ফেলে দিল। তালুকদারের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে অটো নিয়ে চলল থানা অভিমুখে। হাতেনাতে প্রমাণসহ থানায় সে মামলা করতে চায়, তালুকদারের মুখোশ খুলে ফেলতে চায়। থানা গেটের সামনেই একটা মটরসাইকেল তার পথরোধ করল, মটরসাইকেলে ষ-ামার্কা চেহারার দুটো ছেলে বসা। অটোরিকশার চালকের আসনে গফুর বসা। মটরসাইকেলের সামনে বসা ছেলেটা জামা তুলে তার পিস্তল দেখাল; বলল, ‘হাসপাতাল নয়তে বাড়ি, এর বাইরি কুথাও যাবার চিষ্টা করলিই গুলি কুরি মেরি ফেলব।’ গফুরের এতক্ষণ খেয়ালই ছিল না যে তার বউ সালেহা হাসপাতলে রয়েছে। থানার সামনে দিয়ে কত মানুষ যে যার কাজে যাচ্ছে; কে দেখে এক নিরীহ অটোওয়ালার শিশুকন্যা ধর্ষিত হয়েছে, অসহায় পিতা এসেছে আইনের কাছে বিচার চাইতে; দুজন ভাড়া করা মাস্তান তাকে সে সুযোগটাও দেবে না? এদেরও তো মা-বোন আছে, এদেরও হয়ত কন্যা সন্তান হবে। টাকা পেয়ে এরা এত বড়ো পাশবিকতার বিচারটুকু চাইতে দেবে না?

    বেলা গড়িয়ে তখন শেষ-দুপুর। সূর্যের খরতাপ ¤্রয়িমান। এই বিশাল আকাশ, শুন্যে ঘুরে বেড়ানো পক্ষীকুল, থানার গেটে শীতলতার পরশ বুলিয়ে দেয়া দেবদারু গাছগুলো দেখল, আদুরী নামের এক আদরের কন্যার বাবা গফুর আইনের কাছে মেয়ের সম্ভ্রমহানির বিচারটুকু চাইতেও পাল না। একদিকে হাসপাতালে অসুস্থ স্ত্রীর চিন্তা, অপরদিকে নিজের জীবনহানির আশংকা।
    ওহাব মিয়ার সহযোগিতায় মেয়েকে অটোতে করে হাসপাতালে নিবে ভেবেছিল গফুর। কিন্তু তালুকদারের বাসায় ঢুকতেই ছেলে দুটো সেখানেও এসে হাজির। তারা জানিয়ে দিল, ‘মায়ির চিকিসসা তালুকদার বাড়িতেই হবে, হাসপাতালে না। দাক্তার দুপুরি আইল, মায়ি ভালো রইচ। তিনি আবার সুন্ধ্যা বিলাই এসি মায়ি দেখি যাবেন। মায়িডারে দেখি হাসপাতালে গে বউর সেবা কর গে। মেয়িকে হ্যানে ওহাব মিয়া দেকপেন। যা কলাম তার বরখিলাপ হলি, তুমার লাশ ঘেরের চিঙড়ি মাছে খাবে।’ ছেলেগুলো চলে গেল। গফুর ওহাব মিয়াকে সাথে করে তার ঘরে ঢুকল। তখনও আদুরীর হাতে স্যালাইন। যন্ত্রণাকিষ্ট চেহারা নিয়ে একটি হাত বাবার দিকে বাড়িয়ে দিল। গফুর শত যন্ত্রণা বুকে চেপে ধরে মেয়ের গালে নিজের গাল রাখল। মাথাটা তুলে দুই হাতে মেয়ের মুখটা দুই হাতে জড়িয়ে ধরে মুখের খুব কাছে গিয়ে বলল, ‘আম্মাজান’। মেয়েও বলল ‘আব্বা..., মা কনে?’ কথাটি জিগ্যেস করে মেয়েটি ঘরের ছাদের দিকে অভিব্যক্তিহীন দৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল, ঐ দৃষ্টিতে কত না শত প্রশ্ন?

    সালেহার অপারেশন করতে অনেক টাকা লাগবে। ব্যাথা কমায় তিনদিন পরে তাকে বাসায় নিয়ে এল গফুর। বাসায় এনে তবেই তাকে মেয়ের কথা বলল। সালেহার বুক চাপড়িয়ে কান্নার আওয়াজ পেছনে রেখে গফুর তালুকদারের বাসায় গেল মেয়েকে আনতে। তিনদিনের চিকিৎসায় আদুরী এখন অনেকটাই সুস্থ, তাকে কোলে করেই বাসায় নিয়ে এল সে।
    সেই থেকে গফুর তালুকদারের বাসার কাজ ছেড়ে দিল। তার যাওয়ার জায়গা বলতে বাপের বাড়ি। সাত-পাঁচ ভেবে আগের জায়গাতেই থেকে গেল, তবে তার মনের ভেতরে যে বহ্নি তা কম্মিনকালেও স্ত্রীকেও বলেনি। কখনও মনে হয়েছে তালুকদার মরে না কেন? কখনও-বা মনে হয়েছে, তাকে খুন করে ফাঁসিতে ঝোলাও ভালো; কিন্তু সাহসে কুলায় না। স্ত্রী, সন্তান অকুল পাথারে ভেসে যাবে। বাবার কাছ থেকে টাকা এনেছে, সালেহার বাবাও কিছু টাকা দিয়েছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে পিত্তথলির পাথর ফেলে দেয়া হয়েছে। বাসায় শাশুড়ী এসে ছিলেন মাস খানেক। এখন গফুর চিন্তা করে রমজাননগরে বাবার বাড়িতে চলে যাবে, তবু তালুকদারের জমিতে থাকা ঠিক না।

    মোবাইল ফোনের রিং টোনের শব্দে গফুরের ঘুম ভেঙে গেল। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে রাত তিনটা। প্রথমে সন্দেহ হচ্ছিল বাবার বাড়ি থেকে কোনো দুঃসংবাদ আসল কিনা? কদিন থেকে বাবার শরীরটা নাকি ভালো যাচ্ছে না। ঘুমজড়ানো চোখে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখে ওহাব মিয়া; ওহাব কেন এত রাতে ফোন করেছে? হ্যালো বলতেই ওহাব মিয়ার কণ্ঠ, ‘ও গফুর আমি এহন কী করব? তালুকদার সাবের তো জান যায় যায়। বুকি হাত দি বিতার কথা কতি কতি উঙ্গান হুয়ি গি। ব্যাথার কথা বলতি বলতি জ্ঞান হারায়চে।’

    ‘এ কতা জানাবার লোক তুমি অন্যু কারু পেলি না? সে উঙ্গান হুয়ি গে তু আমি কী করব, আমি কি দাক্তার? তার গাড়িতে তুলি হাসপাতালে নে যাও। আমারে মুবাইল করিচা ক্যান?
    ‘আমি তার নুন খাই তো। এই জন্ন্যিতি তুমার কাছে মুবাইল করিলাম; এত্ত বড়ো বাড়িতে আমি ইকাই বলা যায়। স্যার যে মায়্যি দুডু অ্যানিল, স্যারের অবস্থা দেইকি উরাও ডিরাইভারের নে বেরুই গেচ। ডিরাইভার কহন আসপে কিডা জানে। তুমার অটোত করি এট্টু হাসপাতালে নুবা যায় না?’

    ‘আমার অটো তো বৈকিল বিলাত্তি বিগড়ি রইচ, যার জন্ন্যি বাড়ি চলি আইলাম। এহন চিষ্টা কুরি দেখতে পারি, ইঞ্জিন চালু হয় কিনা?’ সালেহা ততক্ষণে বিছানায় উঠে বসেছে, গফুরের মাথায় ভিন্ন চিন্তা। সালেহাকে বলল, ‘তুমি থাও, আমি এট্টু ঘুরি আসতিচ। শুওরের বাচ্চার মরনের জ্বালাডা এট্টু দেহি আসি।’ সে রাতের আবহাওয়া বেশ খারাপ। সিগনাল দিয়েছে কিনা কে জানে? দিনভর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হয়েছে, সাথে হালকা দমকা বাতাস। রাতে দমকা বাতাসের তীব্রতা কিছুটা বেড়েছে। বৃষ্টি এখনও গুড়িগুড়িই হচ্ছে। ঝড়ের আগে এমনই হয়; সিগনাল দিয়েছে কাল শুনতে হবে। ঘোর বিভাবরী- গুড়িগুড়ি বৃষ্টি, দমকা বাতাস, ক্ষণিক পরপর মেঘের আর্তনাদ পরিবেশটা গা ছমছম করার মতো।

    গফুর সালেহার পিছুটানে আটকে না থেকে ছাতা আর চার ব্যাটারীর টর্চলাইটটা নিয়ে ঘর থেকে বের হলো। ঘরের সামনে রাখা অটোর রিকশার বডির নীচে জায়গা মতো হাত দিল। দাও’টা পেয়ে গেল মহূর্তেই; না দাও দিয়ে সে তালুকদারকে খুন করবে না। তালুকদারের বাড়ির পেছন থেকে দেয়ালের পাশ দিয়ে বড়ো রাস্তা পর্যন্ত এই অন্ধকার নিশিথে নিরাপদ না ভেবেই গফুর দাও’টা হাতে নিল। গেল তিন মাস গফুর এ-বাড়িতে পা দেয়নি। তিন মাস পরে গফুরের গলা শুনে দারোয়ান গেট খুলে দিল। সদর দরজায় কেউ নাই। গফুর দাও’টা দারোয়ানের হাতে দিল, দারোয়ান ইশারায় তাকে এগিয়ে যেতে বলল। তালুকদারের রাজকীয় ভবনের নীচতলায় সদও দরজা ভেড়ানো, তবে খোলা, ভেতরে ঢুকে দেখে বাবুর্চি হতভম্বের ন্যায় দাঁড়িয়ে; ইশারায় সে-ও গফুরকে ওপরে যেতে বলল। গফুর কোনোদিন এ বাড়ির ওপরতলায় ওঠেনি। নীচতলা থেকে প্যাঁচনো সিঁড়িগুলোর একপাশ দেয়ালের সাথে লেগে আছে, বাইরের পাশটাতে কোনো পিলার নেই, যেন ঝুলছে। সিঁড়ির রেলিং-এ বিদেশ থেকে আনা রঙ-বেরঙের কাপড়ের ফুল। গফুর হনহন করে ওপর তলায় উঠে দেখে আলীশান বিছানার পাশে সোফায় তালুকদার বুক চেপে শুয়ে আছে; ওহাব মাথা নেড়ে দিচ্ছে, ঘর ভেজা- তালুকদারের মাথায় সম্ভবত পানি ঢালা হয়েছে। গফুরকে দেখে ওহাব বলল, ‘গফুর আমি বুড়– মানুষ, দেখোদিন কী হুইচ?’ গফুর তালুকদারের দিকে চেয়ে রইল। তার মুখে যেন একটু হাসি, সে হাসি কি ক্রুর? নাকি ঘৃণার?

    ঘৃণা ও প্রতিশোধের মিশেলে ভিন্ন এক অনুভূতি নিয়ে গফুর বাসায় ফিরল। সালেহাকে বলল সব কথা। সালেহা বলল, ‘আঙ্গারা গরিপ লোক, আমাগ্যির এসবির মধ্যি যাবার দুরকার কী? যদি হে মরি যায়, আর তুমি যদি সেইখিনডাই থাও, তালি পুলিশির খাতায় তুমার নাম গে বুরুবেন ওলো। উরা টা আলা মানুষ, যদি কিছু এট্টা হুয়ি যায়, তুমি কিন্তুক ফাঁইসি যাইবে, দোষ তুমার উপুরি ঠিকই এসি পড়বেন। এই জন্ন্যিতি তুমরি যাতি নিষিধ করিলাম।’ দু’চার মিনিট পরপরই ওহাব মিয়ার ফোন আসতে লাগল। গফুর বিছানায় শুয়ে শুয়ে জানাল, ‘ইঞ্জিনের এট্টা তার জুড়া দিবার জন্ন্যি চিষ্টা করতিচ। দেরি করোদিন। বারবার মুবাইল করলি কাজে দেরি হুয়ি যাবেন।’ গফুর সালেহাকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে কেঁদে দিল, সাথে সালেহাও। গফুর শুয়েই থাকল, তার মনে তখন চিন্তা- দেরি করতে হবে।

    আরও আধা ঘণ্টা পর গফুর যখন ওহাব মিয়াকে ফোন করে বলল, ‘ইঞ্জিন চালু হুয়িছে। আমি অটো নিই সদর দরজায় আসতিচ। তুমরা তারে নামায় নেও।’ হাসপাতালে যখন পৌঁছল তখন ফজরের আযান হচ্ছে। গফুর আর ওহাব মিয়া ধরাধরি করে তালুকদারকে ইমারজেন্সিতে নিল। ডিউটি ডাক্তার অনেকক্ষণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জিগ্যেস করলেন, ‘আপনারা ওনার কে হন?’ ওহাব মিয়া উত্তর দিল। ডাক্তার জানালেন, ‘উনি মারা গেছেন। ওনার পরিবারকে খবর দেন। ওনার পরিবার না আসা পর্যন্ত লাশ এখানেই থাকবে, লাশের ময়নাতদন্ত হবে। আপনারা দুজনও এখানে আপাতত হাসপাতাল প্রহরায় নিযুক্ত আনসারের তত্ত্ববধানে থাকবেন।’ সকাল আটটার দিকে তালুকদারের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে আসল। পুলিশ তার আগেই এসেছে। সেদিনই ময়নাতদন্ত হলো।

    তার পরের দিন সাতক্ষীরা, খুলনা ও ঢাকার দৈনিক পেপারেও তালুকদারের মৃত্যুর খবর এল। ধনী মানুষ স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করলেও সেটা জাতীয় খবর, আর এটা অস্বাভাবিক মৃত্যু, খবর তো হবেই। খবর যা এল তা বেশ সরেস। একদিনের মধ্যেই সাংবাদিকরা তালুকদারের হাঁড়ির খবর বের করে ফেলেছে, তা প্রকাশও হয়েছে পত্র-পত্রিকায়। তালুকদার হাউসে রাতের বেলায় মেয়েদের নিয়ে তার রঙ্গলীলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরের চুম্বুক অংশ ছিল: সুরতহাল প্রতিবেদনে রশিদ তালুকদারের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার ঘরে বিদেশী বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ ও যৌন উত্তেজনা-বর্ধক ঔষধ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই তিনি মারা গেছেন। অতিরিক্ত মদ্যপান ও যৌন উত্তেজনা-বর্ধক ঔষধ খাওয়ার ফলেও এমনটি হতে পারে। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালীতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সময় উপস্থিত দুই রমনীকে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ড্রাইভার, বাড়ির কেয়ারটেকার ওহাব মিয়া ও অটো চালক গফুরকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য আপাতত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৮ জুলাই ২০২০ | ১৭৭ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত